৭:৪৪ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৮, ২০২১ ৮:১৪ অপরাহ্ন
কোম্পানীগঞ্জে “বিজ্ঞান ভিত্তিক মহিষ পালন ও খামার ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক ৩ দিনব্যাপী খামারী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন
প্রাণিসম্পদ

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি (নোয়াখালী) : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বিজ্ঞান ভিত্তিক মহিষ পালন ও খামার ব্যবস্থাপনা শীর্ষক ৩ দিনব্যাপী খামারী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে। মংগলবার সকালে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট এর বাস্তবায়নে ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়, কোম্পানীগঞ্জ এর সহযোগীতায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে সুফলভোগী ৫০ জন মহিষ খামারীদের নিয়ে ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ জিয়াউল হক মীর মোহদয়। এসময় সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আলমগীর মোহদয়, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী। মহিষ পালনের পটভূমি, উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক উপযোগীতা সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহদয় মহিষের দুধের গুণাগুণ সম্পর্কে খামারীদের মাঝে আলোচনা করেন এবং অত্র এলাকার মহিষের দই ব্র‍্যান্ডিং এর মাধ্যমে সারাদেশের জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে মহিষ খামারীদেরকে উদ্ভোদ্ধ করেন। খামারীদের মধ্যে মোঃ আনসার আলী ও মোঃ ছানাউল্লাহ সাহেব মহিষের গোচারণভূমির চরাঞ্চলে ঘাসের স্বল্পতার বিষয়ে অবহিত করেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহদয় খামারীদেরকে বালুয়ারচর নামক স্থানে মহিষের চারণভূমি হিসেবে ব্যাবহৃত করার জন্য অনুমতি প্রদান করেন।

8

মহিষের শ্রেণীবিভাগ ও বাংলাদেশে প্রাপ্ত মহিষের জাতসমূহ,দুধাল গাভী মহিষ,আদর্শ প্রজনন ষাঁড় মহিষ নির্বাচন, মহিষের রোগ প্রতিরোধে করণীয়, টিকা পরিচিতি,টিকা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা ও নিয়মাবলী, কৃমিমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ও উপায়, কৃমি প্রতিরোধে খামারীদের করনীয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ডাঃ অভিরুপ ভূষণ পাল, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্প, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট । মহিষের প্রজনন, গাভী মহিষের গরম হোয়ার লক্ষণ, প্রজনন সফল না হোয়ার কারণ ও করণীয় বিষয় সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেন ডাঃ আসাদুজ্জামান সওফী, প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।

৩ দিনব্যাপী খামারীবান্ধব এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খামারীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভিত্তিক মহিষ লালনপালন, উন্নত জাতের ঘাস সংরক্ষণ, কাঁচাঘাস প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি, চর ও হাওর এলাকায় কাঁচা ঘাস উৎপাদন পদ্ধতি, আদর্শ দানাদার খাদ্য মিশ্রণ পদ্ধতি, মহিষ হৃস্টপুষ্টকরণ, মহিষের প্রজননস্বাস্থ্য ব্যাবস্থাপনা ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারবেন। দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের কোর্স – কো অডিনেটর এর দায়িত্বে ছিলেন মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডাঃ অভিরুপ ভূষণ পাল।  

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৭, ২০২১ ৪:৩৬ অপরাহ্ন
উন্নয়নে কৃষক ও কৃষিবিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
প্রাণিসম্পদ

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান-বিপিএম(বার) বলেছেন, জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কৃষক ও কৃষিবিদরা উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।

সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাণিসম্পদ পালন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প কর্তৃক বেঙল জাতের ছাগল পালন ও উন্নয়ন, উন্নত প্রযুক্তি এবং প্রাণিসম্পদ মাঠ স্কুল (এলএফএস) বাস্তবায়ন শীর্ষক চুক্তিবদ্ধ খামারীদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ একটি উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। স্বাধীনতার শুরুর দিকে আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র আটাশি মার্কিন ডলার, আর আজ আমাদের মাথাপিছু আয় আড়াইহাজার মার্কিন ডলার। একটি ইউকে ভিত্তিক গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৪২তম।

আগামী ১৫ বছরের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে আমাদের অবস্থান হবে ২৪তম।

এ সময় পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, আমাদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশের সকল সেক্টরে কর্মরত আমাদের সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে যেতে হবে। তবেই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণের পথে আমরা এগিয়ে যাব।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (উৎপাদন) ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক, বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. নুরুল আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা ও চুক্তিবদ্ধ খামারিরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৭, ২০২১ ৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
ছাগল পালনে কাঁচা ঘাস খাওয়ানোর উপকারিতা
প্রাণিসম্পদ

গরু-ছাগল পালন এখন একাংশ মানুষ তাদের অর্থনৈতিক চাকা পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসাবে নিয়েছেন। বিশেষ করে কম দামে কিনতে পাওয়া যায় ছাগল। যা মোটামুটি গ্রামের প্রতিটা কৃষকের আছে। তারা ছাগল পালনে বড় কিছু করার প্রত্যাশায় এতে শ্রম দিয়ে থাকে। তবে এই শ্রমকে সফল করতে লাগবে অনেকগুলো পদ্ধতি। তম্মধ্যে অন্যতম হলো ছাগলকে খাওয়াতে হবে নিয়মিত কাঁচা ঘাস। কারণ ছাগলকে কাঁচা ঘাস খাওয়ালে ছাগল শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে। এছাড়াও ছাগলকে কাঁচা ঘাস খাওয়ালে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নানা উপকার পাওয়া যায়।

ছাগলকে কাঁচা ঘাস কেন খাওয়ানো প্রয়োজন:

  • মনে রাখবনে কাঁচা ঘাস কিনতে হয় না। এটি তৈরি হয় প্রাকৃতিক উপায়ে। যার কারণে এতে খরচ নেই বললেই চলে। আর তাই অর্থনৈতিক দিক বিবেচেনায় ছাগলকে কাঁচা ঘাস খাওয়ানো উচিত।
  • নিয়মিত ছাগলকে কাঁচা ঘাস খাওয়ালে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং ছাগলের শারীরিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় এবং ছাগল বেশি পরিমাণ দুধ প্রদান করতে সক্ষম হয়ে থাকে।
  • ছাগলকে কাঁচা ঘাস খাওয়ালে ছাগল বাচ্চা জন্ম দেওয়ার সময় বাচ্চা মৃত্যুর হার অনেকগুনে কমে যায়। নিয়মিত কাঁচা ঘাস খাদ্য হিসেবে ছাগলকে খাওয়ালে বাচ্চার মৃত্যু কম হয়।
  • ছাগলকে কাঁচা ঘাস খাওয়ালে ছাগলের শরীর সঠিক সময়ে প্রজননে সক্ষম হয়। এর ফলে ছাগলের প্রজননের জন্য কৃত্রিম পদ্ধতি প্রয়োগ করে সফল হওয়া যায়।
  • ছাগলকে কাঁচা ঘাস খাওয়ালে ছাগলকে দানাদার খাদ্য কম দেওয়া লাগে। সেজন্য ছাগলকে দানাদার খাদ্য প্রদান করতে হয় না। তাই ছাগলের জন্য দানাদার খাদ্য কেনার টাকা বেঁচে যায়।
  • ছাগলকে নিয়মিত কাঁচা ঘাস খাওয়ালে ছাগল যখন বাচ্চা জন্ম দেয় তখন বাচ্চার ওজন সঠিক পাওয়া যায়। বাচ্চা সুস্থ সবল হয়ে জন্ম নেয়।
  • কাঁচা ঘাস ছাগলকে নিয়মিত খাওয়ালে ছাগলের মৃত্যুর হার অনেকগুনে কমে যায়। কাঁচা ঘাস ছাগলকে নিয়মিত খাওয়ালে ছাগলের জীবনীশক্তি বৃদ্ধি পায়। আর এর ফলে ছাগল অকালে মরা থেকে রক্ষা পায়।
  • ছাগলকে কাঁচা ঘাস খাওয়ালে ছাগলের চিকিৎসা খরচ অনেক কমে যায়। কাঁচা ঘাস খাওয়ার ফলে ছাগল জটিল কোন রোগের দ্বারা আক্রান্ত হয়না। এর ফলে ছাগলের চিকিৎসার খরচ বেঁচে যায়।

ঘাস চাষ
ছাগলের জন্য ইপিল ইপিল, কাঁঠাল পাতা, খেসারি, মাসকলাই, দুর্বা, বাকসা ইত্যাদি দেশি ঘাসগুলো বেশ পুষ্টিকর। এছাড়া উচ্চফলনশীল নেপিয়ার, স্পেনডিডা, এন্ড্রোপোগন, পিকাটউলুম ইত্যাদি ঘাস চাষ করা যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৬, ২০২১ ৯:২৭ পূর্বাহ্ন
২টি দিয়ে শুরু, ২ বছরে ভেড়ার সংখ্যা ৬০টি
প্রাণিসম্পদ

মাত্র ২টি ভেড়া দিয়ে শুরু করে এখন ৫০ থেকে ৬০টি ভেড়ার মালিক জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের সনি মণ্ডল নামে এক বেকার যুবক। জানা যায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর এলাকার পশ্চিম বিহারপুর গ্রামের যুবক সনি মণ্ডল কয়েক বছর আগে একটি ব্যবসায় লোকসান গুনে সর্বস্বান্ত হয়েছিলেন। এরপরে ইউটিউবে দেখেন ভেড়া খামারের পদ্ধতি। ভাগ্য বদলের আশায় দেড় বছর আগে ১০ হাজার টাকা ধার নিয়ে মাত্র ২টি ভেড়া কিনে শুরু করেন খামার। লাভ হওয়ায় এরপর বাড়তে থাকে সংখ্যা। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমান তার খামারে রয়েছে ৬০টি ভেড়া। আর এর মাধ্যমে তিনি হয়েছেন স্বাবলম্বী।

সনি মণ্ডল জানান, আগে একটি ব্যবসা করতাম। হঠাৎ করে সেই ব্যবসায় লোকসান গুনি। এরপরে ইউটিউবে দেখি কীভাবে ভেড়া পালন করা যায়। প্রথমে দুইটি দিয়ে শুরু করি। এখন আমার খামারে ৫০-৬০টি ভেড়া। বেশ কয়েকটি বিক্রিও করেছি এতে আমার পরিবারে সচ্ছলতা এসেছে। আমি যদি সরকার থেকে কোনো সহযোগিতা পাই তাহলে আমি এ খামারকে আরো বড় করব।

জয়পুরহাট প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহফুজার রহমান জানান, গরু-ছাগলের চেয়ে কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় জেলায় এখন অনেকে ভেড়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আক্কেলপুরের সনি মণ্ডল।

তিনি আরো জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে ভেড়া পালনে চিকিৎসা, ব্যবস্থাপনা ওষুধসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও তাৎক্ষনিক চিকিৎসা বা পরামর্শের জন্য আমাদের একটি মেডিকেল টিম রয়েছে প্রতিটি উপজেলায়। যে কোনো মুহূর্তে তারা সেবা দিয়ে থাকে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৫, ২০২১ ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
ইসলামের মৌলিক কথা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

মোঃ ইফতেখার হোসেন : বর্তমান সরকার ইসলামের মৌলিক কথা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে নিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

‌‌শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলন ২০২১ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান। আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত সংস্থা (ইক্বরা) এ সম্মেলন আয়োজন করে।

আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত সংস্থার সভাপতি শাইখ আহমাদ বিন ইউসুফ আল আযহারীর সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের শেখ, পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত সংস্থার মহাসচিব সাখাওয়াত খান। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের প্রতিনিধিবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরো বলেন, “ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান। ইসলামকে যদি পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করা যায়, নিজের জীবনে চর্চা করা যায়, তাহলে আমরা নিজেরা যেমন ভাল থাকবো, তেমনি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে পারবো। আল্লাহর সকল সৃষ্টির জন্য আমাদের কর্তব্য রয়েছে। সেটাকে অনুসরণ করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অনিবার্য দায়িত্ব। এ জন্য দরকার ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে জানা। যত অসম্পূর্ণভাবে ইসলামকে আমরা জানবো, ততো আমাদের ভেতরে দীনতা থেকে যাবে। খন্ডিত ইসলাম প্রকৃত ইসলাম নয়। ইসলামের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টিকারীরা ইসলামের মঙ্গল কামনা করে না”।

ইসলামের উন্নয়নে শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে এ সময় মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী কোন আইনে দেশে পাস করবে না। তাঁর সরকার দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় মডেল মসজিদের নামে পরিচিত ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করছে। মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন করছে। মাদ্রাসার সর্বোচ্চ শিক্ষাকে এমএ পাসের মর্যাদা দিয়েছে। সরকারি অর্থে মাদ্রাসায় বহুতলবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আলেম-ওলামাদের সরকারি খরচে হজ পালনের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। মসজিদকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে”।

ইসলামের নামে যারা সন্ত্রাস ছড়ায়, বোমাবাজি করে, উগ্রতা সৃষ্টি করে, অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আক্রমণ করে তাদের কথায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য এ সময় আহ্বান জানান মন্ত্রী।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বিদায় হজের বাণীর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী এ সময় বলেন, “আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি ইসলামের দায়িত্ব রয়েছে, মুসলমানের দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস করলে, নিজের জীবন চর্চা করলে, আমার কাছে কেউই ক্ষতিকর নয়। আমার কাছে সব ধর্মের মানুষই নিরাপদ। এ জন্য কুরআনকে বুঝতে হবে। কুরআনের বক্তব্যকে নিজেদের জীবনে অনুধাবন করতে হবে”।

মন্ত্রী আরো যোগ করেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামের কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো, ইনশাল্লাহ। তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাও পরিপূর্ণভাবে ইসলামে বিশ্বাস করেন। তিনি ইসলামের উন্নয়নে নানা গ্রহণ করেছেন”।

কেরাত সম্মেলনে ইরান, আফগানিস্তান ও ফিলিপাইনের কারিগণ কুরআন তিলাওয়াতে অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৪, ২০২১ ৯:০০ পূর্বাহ্ন
ফেঞ্চুগঞ্জে বিজ্ঞান ভিত্তিক মহিষ পালন এবং খামার ব্যবস্থাপনা শীর্ষক খামারী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন
প্রাণিসম্পদ

সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বিজ্ঞানভিত্তিক মহিষ পালন ওখামার ব্যবস্থাপনা শীর্ষক তিন দিনব্যাপী খামারী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট এর বাস্তবায়নে ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়, ফেঞ্চুগঞ্জের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদের হল রুমে তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়।

সুফলভোগী ৫০ জন মহিষ খামারীদের অংশগ্রহণে উক্ত প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন করেন সিলেট বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ড. অমলেন্দু ঘোষ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিস্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রুস্তম আলী, প্রকল্প পরিচালক ড. গৌতম কুমার দেব, ফেঞ্চুগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল ইসলাম এবং ফেঞ্চুগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাখী আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাণিস্পদ কর্মকর্তা এ. কে. এম মিজানুর রহমান।

এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মহিষ খামারীগণ লাভজনক পদ্ধতিতে খামারে মহিষ লালন পালন, বয়সভিত্তিক বিভিন্ন মহিষের খাদ্য ব্যাবস্থাপনা, কাঁচা ঘাস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ভেজা খড় সংরক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তি, গর্ববতী,  প্রসূতী, দুগ্ধবতী ও বাছুরের স্বাস্থ্য ব্যাবস্থাপনা, প্রজনন স্বাস্থ্য ব্যাবস্থাপনা, মহিষের রোগ প্রতিরোধে করণীয়, টিকা প্রদান ও কৃমি মুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ও নিয়মাবলী, কৃমি প্রতিরোধে খামারীদের করনীয় সম্পর্কে জানতে পারবেন। বাংলাদেশে প্রাপ্ত মহিষের জাতসমূহ, দুধালো গাভী মহিষ, আদর্শ প্রজনন উপযোগি ষাঁড় মহিষ নির্বাচন সম্পর্কে খামারীরা সুনিপুণ ধারণা অর্জন করবেন। এছাড়াও খামারীদেরকে সুষম দানাদার খাবার মিশ্রণ প্রক্রিয়া, ইউএমএস, সাইলেজ বানানোর পদ্ধতি হাতে কলমে শেখানো ও ডেমোনেস্ট্রেশন মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করবেন।

খামারীবান্ধব এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার কোর্স কো-অর্ডিনেটরে দায়িত্বে ছিলেন মোঃ কামরুল হাসান মজুমদার, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্প, বিএলআরআই, সাভার, ঢাকা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৩, ২০২১ ৯:৫০ পূর্বাহ্ন
গবাদিপশুকে কৃমি মুক্ত রাখতে যা করবেন…
প্রাণিসম্পদ

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গবাদিপশু পালন লাভজনক ও বেকার সমস্যা সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হওয়ার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু আমাদের খামারিরা গবাদিপশু পালন করতে গিয়ে একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়, তা হলো পরজীবী বা কৃমি। কৃমি এক ধরনের পরজীবী যা পশুর ওপর নির্ভর করে জীবন ধারণ করে। তারা পশুর অন্ত্রে, ফুসফুসে, লিভারে, চোখে, চামড়ায় বাস করে ও পশুর হজমকৃত খাবারে ভাগ বসিয়ে পশুর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। অনেক কৃমি পশুর রক্ত চুষে ও আমিষ খেয়ে পশুকে দুর্বল ও স্বাস্থ্যহীন করে ফেলে।

পরজীবী সাধারণত দুই ধরনের-
১. দেহের ভেতরের পরজীবী
২. দেহের বাইরের পরজীবী।

একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের প্রাণিসম্পদ হাসপাতালগুলোতে গত বছর (২০১০) বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর (গরু, ছাগল, ভেড়া) মধ্যে ৫১.৩৬ ভাগ কৃমি বা পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত। এর মধ্যে আক্রান্ত গরুর মধ্যে ৬৮.৯২ ভাগ, আক্রান্ত গাভীর মধ্যে ৪৫.১৬ ভাগ, বাছুরের মধ্যে ৫০.০৭ ভাগ, ভেড়ার মধ্যে ৬১.৬৬ ভাগ এবং আক্রান্ত ছাগলের মধ্যে ৩৪.৭৯ ভাগ বিভিন্ন কৃমি বা পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হয়। সুতরাং কৃমি বা পরজীবী আমাদের গবাদিপশু পালনের প্রধান শত্রু। কৃমি বা পরজীবীগুলো হচ্ছে কলিজাকৃমি, পাতাকৃমি, গোলকৃমি, রক্তকৃমি, ফিতাকৃমি, প্রটোজয়া ও বিভিন্ন ধরনের বহিঃপরজীবী উকুন, আঠালী, মাইট ইত্যাদি গবাদিপশুকে আক্রান্ত করে। কৃমির কারণে গাভীর দুগ্ধ উত্পাদন ক্ষমতা কমে যায় অস্বাভাবিকভাবে এবং বাছুরগুলো পেট ফুলে গিয়ে স্বাস্থ্যহীন হয়ে পড়ে। ফলে দুগ্ধ ও মাংস উত্পাদন ক্ষমতা মারাক্তকভাবে ব্যাহত হয়। এর কারণে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস গবাদিপশুকে আক্রান্ত করার পরিবেশ তৈরি করে।

গবাদিপশুকে কৃমি বা পরজীবী থেকে মুক্ত রাখার উপায়গুলো হচ্ছে-
১) গবাদিপশুর বাসস্থানের জন্য নির্ধারিত স্থানের মাটি শুষ্ক ও আশপাশের জমি থেকে উঁচু হওয়া প্রয়োজন। সম্ভব হলে নদীনালা, খালবিল, হাওর-বাঁওড় থেকে দূরে করতে হবে।
২) গবাদিপশুর খামারের আশপাশে যেন বৃষ্টির পানি এবং অন্যান্য বর্জ্য জমে না থাকে ।
৩) খামারের জন্য নির্ধারিত স্থানের মাটিতে বালির ভাগ বেশি হওয়া প্রয়োজন যেন বর্ষাকালে খামারের মেঝে কর্দমাক্ত না হয় ।
৪) পশুর মলমূত্র ও আবর্জনা অল্প সময় পরপর পরিষ্কার করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ঘরে মলমূত্র ও আবর্জনা জমা না থাকে।
৫) খামারের অনেক দূরে পশুর মলমূত্র ও আবর্জনা পুঁতে রাখতে হবে।
৬) গবাদিপশুর বাসস্থান প্রতিদিন আদর্শ ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে এবং জীবাণুনাশক মেশানো পানি দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
৭) তিন মাস অন্তর গবাদিপশুকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে।

কলিজাকৃমি, পাতাকৃমি, গোলকৃমি, রক্তকৃমি, ফিতাকৃমি দ্বারা আক্রান্ত পশুকে অ্যালবেনডাজল ইউএসপি ৬০০ মি.গ্রা., হেক্সাক্লোরোফেন ইউএসপি ১ গ্রাম, লিভামিসোল হাইড্রোক্লোরাইড বিপি ৬০০ মি.গ্রা. এবং ট্রাইক্লাবেন্ডাজল আইএনএস ৯০০ মি.গ্রা. জাতীয় ওষুধ ভালো কাজ করে। কর্কসিডিয়াতে সালফোনামাইডস, স্ট্রেপটোমাইসিন ও মেট্রোনিডাজল ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।ট্রিপানোসোমা ও ব্যাবেসিওসিস তে ব্যাবকপ খাওয়ালে রোগ ভালো হয়। উঁকুন, আঠালী ও মাইটে আক্রান্ত গবাদিপশুর শরীরে আইভারমেকটিন, সেভিন, নেগুভান ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহার করলে ওইসব পরজীবী থেকে গবাদিপশুকে রক্ষা করা যায়।পরিশেষে আমাদের গবাদিপশুকে কৃমি বা পরজীবীমুক্ত রাখতে পারলে আমরা দুগ্ধ ও মাংস উত্পাদনের লক্ষ্যে পৌঁছাব।

আরও পড়ুনঃ গবাদি পশুর খাদ্যের কার্যকারিতা বৃদ্ধির পদ্ধতি উদ্ভাবন

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২১, ২০২১ ১:১৫ অপরাহ্ন
লোকসানে বন্ধ চট্টগ্রামের অনেক দুগ্ধ খামার
প্রাণিসম্পদ

দানাদার গোখাদ্যের অধিকাংশই আমদানিনির্ভর। সবুজ ঘাসের সংকটের কারণে খামারিরা দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভর হয়ে পড়েছেন। গত কয়েক মাস যাবৎ অব্যাহতভাবে দানাদার গোখাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ডেইরি খামারিরা।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, খাদ্যের উৎসের ব্যবস্হা না করে ডেইরি খামার করা হচ্ছে। গ্রামে কিছুটা সবুজ ঘাস থাকলেও শহরে তার ব্যবস্হা নেই। ফলে বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গোখাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে খামারিদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। গোখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য খামারিরা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের দায়ী করছেন।

ডেইরি খামারিরা জানান, গোখাদ্যের সংকটের কারণে ডেইরি খামারের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। গ্রামের খামারিরা স্হানীয়ভাবে সবুজ ঘাস ও বিভিন্ন মৌসুমি সবজি গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করলেও শহরের খামারিরা দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল। দানাদার গোখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে মহাবিপাকে পড়েছেন তারা। আর গোখাদ্যের দাম বাড়লেও দুধের দাম বাড়েনি। অন্যদিকে দুগ্ধ খামারিদের গাভি লালন-পালনে খরচ বেড়ে গেছে। ফলে অব্যাহত লোকসানের কারণে অনেক দুগ্ধ খামার ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। তারা দুধেল গাভি বিক্রি করে দিচ্ছেন।

দুগ্ধ খামারি মো. ওমর বলেন, গোখাদ্যের প্রতিটি আইটেমের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। আমাদের সবুজ ঘাসের কোনো ব্যবস্হা নেই। দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। সয়াবিন, ভুসি, ভুট্টা, চালের খুদসহ সবকিছুর মূল্য ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু তরল দুধের দাম বাড়েনি। গোখাদ্যের বাজার সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণ করছেন। বাজারে সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকলেও গত পাঁচ-ছয় মাস যাবত্ কয়েক দফায় মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই দুগ্ধ খামার বন্ধ করে দিয়েছেন।

ডেইরি খামারি ইকবাল হোসেন বলেন, গোখাদ্যের পুরো বাজার সিন্ডিকেট-নির্ভর হয়ে পড়েছে। মিলমালিকেরা সয়াবিনের দাম দফায় দফায় বাড়াচ্ছেন। আর রাইস মিল মালিকেরাও গোখাদ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। লোকসানের কারণে ছোট ছোট অনেক দুগ্ধ খামার বন্ধ হয়ে গেছে।

চট্টগ্রামের দুগ্ধ খামারি হারুন চৌধুরী বলেন, প্রকৃত খামারিরা এখন টিকতে পারছেন না। সয়াবিনের বাজার দেশের দুটি শিল্প গ্রুপ ভাগ করে নিয়ন্ত্রণ করছে। গোখাদ্যের পাশাপাশি শ্রমিক মজুরিও বেড়েছে। গোখাদ্যের খরচ, শ্রমিক মজুরি দিয়ে দুগ্ধ খামার লাভজনক অবস্হায় নেই।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২১, ২০২১ ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন
“নিরাপদ মাংসের চাহিদা পূরণে, গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে” আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্ট করণ প্রকল্প
প্রাণিসম্পদ

“আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ” অল্প সময়ের মাঝে দেশের ৪৯১টি উপজেলায় এই প্রকল্পটির কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে । এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারিগণ। প্রকল্পের ধারাবাহিক সাফল্য ছড়িয়ে পড়েছে খামারিদের মাঝে, আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে হাসি ফুটেছে খামারির মুখে । প্রাণিজ আমিষের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩০ এর অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে এই প্রকল্প ।

প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে ডাঃ প্রাণকৃষ্ণ হাওলাদার এগ্রিভিউ২৪ কে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ২৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা মোট সংশোধিত বরাদ্দের ৫৯.৮০ শতাংশ । প্রকল্পটির কাজ ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ করতে বাড়তি সময় প্রয়োজন হবে, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হবে ।

তিনি আরো বলেন, করোনার প্রকোপের শুরু থেকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রাণিসম্পদ মাঠ সহকারি ও উপসহকারি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা। মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খামারিদের পাশে থেকে কাজ করছেন। ফলে এ দুর্যোগের সময়ও সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

“নিরাপদ মাংসের চাহিদা পূরণে, গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে” ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের “আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ” প্রকল্পটি যাত্রা শুরু করে । ২০১৯ সালে তিন বছরের মেয়াদে একনেকে ৪৭ কোটি ৭৫ লাখ হাজার টাকা বরাদ্দে আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রকল্পটি পাশ হয়। শুরু থেকেই খামারীদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান, সুফল ভোগীদের মাঝে বিনামূল্যে টিকা সরবরাহ, কৃমিনাশক ও ভিটামিন-মিনারেলস প্রিমিক্স বিতরণ, গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ বিষয়ক প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ । সুফলভোগী খামারীদের মাঝে অনেক নারী খামারী রয়েছেন যারা এই প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে নিজের সামাজিক অবস্থান পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দারুণ ভূমিকা রাখছেন ।

এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী খামারি আমিনুল ইসলাম জানান, “আগে অন্যের দেখাদেখি গরু পালন করতাম, আধুনিক পদ্ধতিতে কিভাবে লালন পালন করতে হয় তা জানতাম না, ফলে অনেক সমস্যায় পড়তাম । বর্তমানে আমরা আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রকল্পের নির্দেশনায় গরু পালন করতে গিয়ে খুব কম খরচে ও সঠিক পরিচর্যায় গরু মোটাতাজা করতে সক্ষম হচ্ছি। এই প্রকল্প আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে ।”

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২০, ২০২১ ১২:২৬ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা প্রদানে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা প্রদানে আগ্রহী।

রোববার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সাথে তার দপ্তর কক্ষে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, বাংলাদেশ-এর এক প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাতকালে এ আগ্রহের কথা জানান।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, বাংলাদেশ-এ কর্মরত যুক্তরাষ্ট্র কৃষি বিভাগের বৈদেশিক কৃষি সেবার এগ্রিকালচারাল এটাচি মেগান এম ফ্রান্সিস, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের বৈদেশিক কৃষি সেবার কৃষি বিশেষজ্ঞ তানভীর মাহমুদ বিন হোসাইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের বৈদেশিক কৃষি সেবার কৃষি সহকারী মো. তানভীর আহমেদ ।

এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “আমরা ভাগ্যবান যে, আমরা শেখ হাসিনার মত দূরদর্শী নেতা পেয়েছি। বিশ্ব নেতারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করছেন। তিনি দেশের সীমিত সম্পদ দিয়ে সবকিছু ভালোভাবে ব্যবস্থাপনা করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব দেশের সাথে চমৎকার কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখায় বিশ্বাসী। বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ দেশ। আমরা জাতি হিসেবে কোন দেশের সাথে বৈরিতায় বিশ্বাসী নই”।

মন্ত্রী আরো বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দুদেশের মধ্যে ভালো সহযোগিতার সম্পর্কও রয়েছে। এক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একসাথে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে দুদেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এ খাতে দুদেশের মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময়েরও সুযোগ রয়েছে । বাংলাদেশ সরকার কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে অত্যন্ত উদার। এ বিষয়ে দুই দেশ যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে”।

এবছর অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা এসময় তুলে ধরেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো উন্নয়নের ব্যাপারেও এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, “পোল্ট্রি, লাইভস্টক ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।  এ খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মতো সম্পদশালী  ও বড় দেশসমূহকে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র ও ছোট দেশসমূহের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন”।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি দলের প্রধান ও যুক্তরাষ্ট্র কৃষি বিভাগের বৈদেশিক কৃষি সেবার এগ্রিকালচারাল এটাচি মেগান এম ফ্রান্সিস বলেন, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন দূরদর্শী নেতা। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।  যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ বাংলাদেশ সরকারের সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়ে একসাথে কাজ করতে পারে এবং এ সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় করতে পারে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পারিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ আছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ দেখে আমি অত্যন্ত মুগ্ধ। এ খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্র নির্ধারণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে”।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop