বগুড়ার নন্দীগ্রামে অসময়ের বৃষ্টিতে ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন
কৃষি বিভাগ
নন্দীগ্রাম উপজেলার রায়পুরের আলুচাষি কৃষক আব্বাস আলী, এ বছর তিনি ৩০ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেন। হঠাৎ মাঘের বৃষ্টিতে আলুর ক্ষেতে পানি জমেছে। এখন জমে থাকা পানি সেচ দিয়ে সরানোর ব্যবস্থা করছেন। আবারও বৃষ্টি হয় তাহলে আলুর আবাদে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা আলু চাষের জন্য বিখ্যাত।এই উপজেলায় প্রচুর আলু উৎপাদন হয়। কিন্তু তা সংরক্ষণ করার কোনো ব্যবস্থা নেই। অসময়ে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে আলুক্ষেতে পানি জমেছে। এসব ক্ষেতের আলু পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এ অবস্থায় যদি বৃষ্টি আরো বাড়ে, তাহলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন আলুচাষিরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ আলুর জমিতে বৃষ্টির পানি জমে আছে। আটকে থাকা পানি সরাতে জমির আল কেটে,সেচ দিয়ে,বালতি বা বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে জমির পানি সেচের কাজ করছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে আলুক্ষেতের যেদিকেই চোখ যায় একই অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।
কৃষকরা জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত নন্দীগ্রাম উপজেলায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। আলু তোলার জন্য কৃষকরা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ করে বৃষ্টিতে আলুর জমিতে পানি জমে যাওয়ায় মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন তারা। অসময়ে হঠাৎ বৃষ্টিপাতের কারণে আলু রক্ষায় ব্যাপক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আদনান বাবু জানান, কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা আলুর জমি থেকে দ্রুত পানি বের করে দেওয়ার জন্য আলুচাষিদের পরামর্শ প্রদান করছেন। জমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করলে আলুর ক্ষতি হবে না। তবে জমিতে পানি জমে থাকলে আলু আবাদে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি শীত মৌসুমে এই উপজেলায় আলুর চাষাবাদ হয়েছে তিন হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে। এবার আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ দুই হাজার মেট্রিক টন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে আলুর জমি থেকে দ্রুত পানি বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।