৯:৩৯ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ২০, ২০২৬ ৯:০৩ পূর্বাহ্ন
সংরক্ষিত ধানের ক্ষতি কমাতে র্স্মাট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন
কৃষি বিভাগ

দেশে ফসল উত্তোলন-পরবর্তী ক্ষতি কমিয়ে কৃষিকে আরও টেকসই ও আধুনিক করার লক্ষ্যে একটি উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আউয়াল।

সংরক্ষিত ধানকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে তিনি এই স্মার্ট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘গ্রেইন গার্ড’।

এটি এমন একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাইস, যা শ্রাব্যতার অতীত উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির শব্দতরঙ্গ তৈরি করে। এই তরঙ্গ ধানের ক্ষতিকর পোকা ‘রাইস উইভিল’-এর স্নায়ুতন্ত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং তাদের চলাচল, খাদ্য গ্রহণ ও প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। ফলে পোকাগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে শস্য থেকে সরে যায়। এতে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই শস্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

প্রধান গবেষক ড. মো. আব্দুল আউয়াল জানান, ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট আল্ট্রাসনিক পেস্ট কন্ট্রোল সিস্টেম ফর পোস্ট-হারভেস্ট লস রিডাকশন ইন স্টোরড প্যাডি’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় পাঁচ বছর আগে ২০২০ সালে এর গবেষণা শুরু হয়। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার (বাউরিক)-এর অধীনে এজ (ইডিজিই) সাব-প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় দেড় বছর মেয়াদি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। তার নেতৃত্বে এবং সহযোগী গবেষক অধ্যাপক ড. এহসানুল কবিরের অংশগ্রহণে একটি গবেষক দল ‘গ্রেইন গার্ড’ যন্ত্রটির উন্নয়ন, নকশা, পরীক্ষামূলক বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ে যাচাই সম্পন্ন করেছে।

ড. মো. আব্দুল আউয়াল জানান, এই স্মার্ট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তি কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই সংরক্ষিত ধানকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম। ফলে এটি পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর একটি সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তিনি বাসসকে জানান, যন্ত্রটি কয়েকমাস আগেই সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে গেছে। এখন বাণিজ্যিকভাবে বিপণনের অপেক্ষায় আছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যন্ত্রটি বাণিজ্যিকভাবে বিপণনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে এসিআই মোটরস লিমিটেড উল্লেখযোগ্য।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বাসসকে আরো জানান, খুবই কম খরছে এই ডিভাইসটি বাজারজাত করা সম্ভব হবে। বাণিজ্যিকভাবে এটি তৈরি করা গেলে খুবই কম খরচে বাজারজাত করা যাবে। উৎপাদক প্রতিষ্ঠান তাদের লাভ্যাংশ যুক্ত করে বাজারে ছাড়ার পরও এর দাম কোনোভাবেই দুই হাজার টাকার বেশি হবে না। বরং এর অনেক কম হবে।

তবে বাজারজাতের ক্ষেত্রে বড় বাধা হচ্ছে নকল করে ডিভাইস তৈরি করা। প্রতারক চক্র নকল ডিভাইস তৈরি করে বাজারে বিক্রির মাধ্যমে মানুষকে প্রতরাণার ফাঁদে ফেলে দেয়। প্রতিকার হিসেবে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে পেটেন্ট রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন বলেও জানিয়েছেন। আইপি আবেদনও সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন ড. মো. আব্দুল আউয়াল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্মার্ট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়ন হলে দেশে সংরক্ষিত ধানের ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং কৃষিখাতে টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ধানের সংরক্ষণকালীন সময়ে মোট ধানের প্রায় ৭ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হয়। এর প্রধান কারণ পোকামাকড়ের আক্রমণ। দেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া পোকা ও ছত্রাকের বিস্তারের জন্য অনুকূল হওয়ায় এই ক্ষতি আরও বেড়ে যায়।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যদি দেশের মোট ধান উৎপাদনের মাত্র ৫ শতাংশ ক্ষতিও রোধ করা যায়, তাহলে বছরে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকার সাশ্রয় সম্ভব। পাশাপাশি ধানের বীজের অঙ্কুরোদগম হার অন্তত ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন বীজ সাশ্রয় হবে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২৬ ৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
স্ট্রবেরি চাষে মামুনের সফলতায় উদ্বুদ্ধ টাঙ্গাইলের তরুণরা
কৃষি বিভাগ

আমেরিকান ফেসটিভ্যাল জাতের সুস্বাদু ফল স্ট্রবেরি চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন (২২)।

চলতি মৌসুমে খরচ বাদে ১০ লাখ টাকা লাভের প্রত্যাশা করছেন তিনি। মামুনের এ সফলতা দেখে এলাকায় অনেক যুবক স্ট্রবেরি চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বাজারে স্ট্রবেরি ফলের চাহিদা, ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় প্রতিনিয়ত কৃষকের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে স্ট্রবেরি চাষ।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গন্ধ, বর্ণ ও স্বাদে আকর্ষণীয় স্ট্রবেরি ফলের রস, জ্যাম, আইসক্রিম, মিল্কশেকসহ শিল্পজাত খাদ্য তৈরিতে স্ট্রবেরির সুগন্ধ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। স্ট্রবেরি শীত প্রধান দেশের ফল হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের যে-সব এলাকায় শীত বেশি, সে সব এলাকায় বিভিন্ন জাতের স্ট্রবেরি চাষ হচ্ছে। স্ট্রবেরি বিদেশি শীতকালীন ফল উত্তরের বিভিন্ন জেলায় আগে থেকেই চাষ হয়। তবে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এই প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরির চাষ শুরু হয়েছে। মামুনের সাফল্যের ফলে স্থানীয় যুবকদের মধ্যে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হচ্ছে।

সরেজমিনে মামুনের স্ট্রবেরি বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তৃত এলাকা জুড়ে টসটসে রসালো স্ট্রবেরি ঝুলে আছে। সারিবদ্ধ লাইনে স্ট্রবেরি গাছ। প্রতিটি গাছে শোভা পাচ্ছে টসটসে লাল পাকা স্ট্রবেরি। বিক্রির জন্য স্ট্রবেরি তুলছেন মামুন। মামুনের পরিবারের লোকজন স্ট্রবেরি বাজারজাতের জন্য প্যাকেজিং-এর কাজ করছেন। ওই এলাকায় নতুন এই ফলের আবাদ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয়রা। বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরির বাগান করতে আগ্রহী হচ্ছেন অনেক কৃষক।

মামুন বাসসকে বলেন, নিজস্ব চেষ্টায় তার বাড়ির পাশে ২০২২ সালে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে ১০০টি চারা দিয়ে শুরু করেন স্ট্রবেরির বাগান। ভালো ফলন পাওয়ায় পরের বছর শুরু করেন স্ট্রবেরির বাণিজ্যিক চাষ। বর্তমানে তিনি ২ বিঘা জমিতে ১০ হাজার স্ট্রবেরির চারা লাগিয়েছেন। প্রতিটি গাছ থেকে প্রায় আধা কেজি ফল পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি কেজি পাইকারি ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ বছর ফল ও চারা বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত স্ট্রবেরির চারা রোপণ করা যায়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল আসতে শুরু করে। জানুয়ারির মধ্যভাগ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফল আহরণ ও বিক্রি করা যায়। কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেলে ব্যাপকভাবে স্ট্রবেরি চাষ করে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব। তাই আগামীতে আরও বড় পরিসরে বাগান করার পরিকল্পনা আছে।

মামুন আরো বলেন, শুরুর দিকে পরিবারের সদস্যরা স্ট্রবেরি চাষের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে আগ্রহ দেখাননি কিন্তু এখন সবাই উৎসাহ দিচ্ছে। প্রতিটি গাছে লাল টকটকে ফল দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় যুবক ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

বাগান পরিদর্শনে আসা কলেজ ছাত্রী সুমি আক্তার জানান, বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে জানতে পেরে আমি স্ট্রবেরি বাগান দেখতে এসেছি। এখান থেকে চারা সংগ্রহ করে নিজের ছাদে রোপণ করবো। স্ট্রবেরি বাজারে দামি হওয়ায় উৎপাদন করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আত্মীয় স্বজনদের দিতে চাই।

স্থানীয় যুবক রুবেল মিয়া বলেন, মামুন ভাইয়ের স্ট্রবেরির বাগান দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। এ বছর স্ট্রবেরির ফলন ভালো হয়েছে। দেখতে টকটকে লাল, খেতেও সুস্বাদু এবং এ ফল দারুণ উপকারী। ভবিষ্যতে আমিও একটা বাগান করার চিন্তা করছি। সেই লক্ষ্যে এই বাগান পরিদর্শনে এসেছি।

ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বাসসকে জানান, স্ট্রবেরি উচ্চ পুষ্টি সমৃদ্ধ একটি বিদেশি ফল। স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় এটি সারা বিশ্বে সমাদৃত। সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং মাসের শেষ ভাগ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা যায়।

তিনি বলেন, মামুন নামের একজন তরুণ কৃষক ঘাটাইলে স্ট্রবেরি চাষ করে সফল হয়েছেন। স্ট্রবেরি চাষ করে তিনি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছেন। সে চাইলে কৃষি বিভাগ থেকে তাকে সহযোগিতা করা হবে। এছাড়া ঘাটাইলে কোনো কৃষক স্ট্রবেরির বাণিজ্যিক চাষাবাদে আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগ তাদেরও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৫, ২০২৬ ৯:১৯ পূর্বাহ্ন
দিনাজপুরে আমের বাম্পার ফলনে পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষীরা
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুর জেলায় আম বাগানে সবুজ পাতার ফাঁকে আমের গুটি দৃশ্যমান হচ্ছে।  জেলার সর্বত্র আম বাগানে মুকুল ও গুটির মৌ মৌ গন্ধ মুখরিত। আমের বাম্পার ফলন অর্জনের লক্ষে চাষীরা গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।

দিনাজপুর হটিকালচার বিভাগের উপপরিচালক মো. এজামুল হক বাসস’কে বলেছেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১০ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারের জেলায় বাম্পার আমের ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন নতুন প্রজাতির আমের চারা সৃজন করে চাষীরা ফলন পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ পেতে শুরু করেছে। আমের চারা রোপণের এক বছরের মধ্যে ওই চারা গাছে আম ধরতে শুরু করেছে। ৫ বছর বয়সের চারা গাছে যে পরিমাণ আম ঝুলে রয়েছে, চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। ফল নিয়ে গবেষণায় দেশের কৃষি বিশেষজ্ঞরা উন্নত ফলনশীল আমের প্রজাতি সৃষ্টি করেছে। দিনাজপুরে এসব নতুন প্রজাতির আম গাছে গত কয়েক বছর থেকে বিপুল পরিমাণ আমের ফলন হচ্ছে। নতুন প্রজাতির আম খেতে খুবই সুস্বাদু ও মিষ্টি। ফলে এসব আমের চাহিদা দিনাজপুরসহ সারা দেশেই ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

তিনি বলেন, গত বছর দিনাজপুর জেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল। ফলন হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ মেট্রিক টন। এই জেলার বাড়ির চারপাশে এবং পরিত্যক্ত জায়গাতে আমের গাছ গুলোতে ব্যাপকহারে আমের ফলন হচ্ছে। সব মিলিয়ে জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত, দিনাজপুর জেলায় আমের বাগান ও সর্বত্রই মুখরিতে থাকে পাকা আমের সরবরাহে।

চলতি বছর জেলায় গত বছরের তুলনায় ৮৭৫ হেক্টর জমিতে আমের চাষ বেশি হয়ে মোট ১০ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন প্রজাতির আম কাটিমন, ব্যানানা ম্যাংগো, বারি-১,বারি ২,বারি-৩ ও বারি-৪, ব্যাপকহারে চাষ করা হয়েছে। এসব প্রজাতির আমের বাগানে মৌসুমের শুরুতেই ব্যাপকহারে মুকুল ছেয়ে গেছে। অনেক গাছে আমের গুটি এসে গেছে। এখন চাষীরা তাদের আম গাছের ফল ধরে রাখতে পরিচর্যাসহ বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনের স্প্রে করছেন। এছাড়া দেশি জাতের আম রুপালি, হাড়িভাঙ্গা, ছাতাপরা, গোপালভোগ, মিশ্রিভোগ, ফজলিসহ বিভিন্ন ধরনের আমের চাষ এই জেলাতে ব্যাপকহারে চাষ হয়েছে।

তিনি জানান জেলা ১৩টি উপজেলাতেই এখন আম চাষের রমরমা অবস্থা। আমের ফলন যেমন ভালো হয়, তেমনি বাজারে চাহিদাও রয়েছে। এই জেলার আম দেশের সমগ্র এলাকাতেই মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাইকাররা নিয়ে যায়। এখানের আম বাগান গুলো থেকে রাজধানী ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলার আম ব্যবসায়ীরা বাগান গুলো ২ থেকে ৩ বছর ধরে ফল ক্রয় করে নিচ্ছে। এখন বাগান ক্রয় করা পাইকাররা মৌসুমের শুরু থেকে আম বাগানে পানি সেচসহ ভিটামিন ওষুধ প্রয়োগ ও আম গাছে ফল ধরে রাখতে স্প্রে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে।

মুন্সীগঞ্জ থেকে দিনাজপুর সদরে কর্ণাই গ্রামে আম বাগানের ফল ক্রয় করে নিয়েছে পাইকার রহমত আলী ও শরিফুল ইসলাম। তাদের দু’জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর ৩ বছর মেয়াদি তারা দু’জন মিলে ৫টি আম বাগানের ফল আগাম ক্রয় করে নিয়েছে। তারা ৫টি আম বাগান ৩ বছর মেয়াদি ১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে ফল ক্রয় করেছে। গত বছর ওই ৫টি বাগানে তাদের খরচ বাদে ১০ লক্ষ টাকা মুনাফা অর্জিত হয়েছে। আগামী দু’বছর তারা যে টাকা দিয়ে বাগান ক্রয় করেছে। তার দ্বিগুণ ৩০ লক্ষ টাকার আম বিক্রি করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বাগানের পরিচর্যা শুরু করেছেন।

একইভাবে জেলার বিরল, সদর বোচাগঞ্জ, কাহারোল, বীরগঞ্জ, পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর, ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ এলাকার প্রায় দু’হাজার আম-বাগান বিভিন্ন জেলার পাইকাররা আগাম দু’তিন বছরের জন্য ফল ক্রয় করে নিয়েছেন। এখন এসব পাইকাররা তাদের ক্রয় করে নেয়া আম বাগান গুলোতে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তারা সকলেই ভাল ফলনের জন্য সব ধরনের ভিটামিন ও স্প্রে প্রয়োগ করে বাগানের সফলতা অর্জনে সক্ষম হবে বলে আশা করছেন।

জেলার ১৩টি উপজেলার বিভিন্ন আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে, ফাল্গুনের শুরুতেই পরিবর্তন শুরু হয়েছে প্রকৃতির এবং চৈত্র মাসে গাছে আমের গুটি দৃশ্যমান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গাছের পুরোনো পাতা ঝরে বের হচ্ছে নতুন পাতা। আর সেই পাতার ফাঁকে বেরিয়ে আসছে আম, লিচু, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলের মুকুল।

জেলার হাকিমপুর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমার বাড়িতে একটা ফজলি ও একটি ন্যাংড়া জাতের আম গাছ আছে। গাছ দু’টির বয়স প্রায় ১২/১৩ বছর হবে। প্রতি বছর পর্যাপ্ত পরিমাণ আম ধরে। এবারও গাছ দু’টিতে প্রচুর মুকুল এসেছে। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তাহলে অনেক আমের ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের আম চাষী মো. জিয়াব উদ্দিন বলেন, ‘আমার ৫ একর জমির ওপর ৩টি আম বাগান রয়েছে। বাগানে ফজলি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, নাগ ফজলিসহ কয়েক জাতের আমের গাছ রয়েছে। বাগানের বয়স প্রায় ১৫/১৬ বছর, প্রতিটি গাছ কলম করা। তাই ছোট থেকেই আম ধরেছে। আশা করছি আবহাওয়া ভালো থাকলে এবারও আমের ভালো ফলন পাব।’

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোছা. আরজেনা বেগম জানান, চলতি বছর আমের মৌসুমে এবার এই উপজেলায় ৩২৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। বাগানের সংখ্যা ২৪৮টি। এছাড়াও উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িসহ বিভিন্নস্থানে আমের গাছ রয়েছে। প্রায় গাছে আমের মুকুল এসেছে। আমরা বাগান চাষীসহ বসত-বাড়িতে থাকা আম গাছ মালিকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। এছাড়াও গাছের যত্ন নেয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করেছি।

দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘জেলায় চলতি আমের মৌসুমে ১০ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। আম চাষীদের যাতে আমের ভাল ফলন হয়, সেই জন্য কৃষি অধিদপ্তর থেকে তাদের বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আম চাষীরা ভালো ফলন পাবেন।

তিনি বলেন, গত বছর দিনাজপুর থেকে দেশের বাইরে বিদেশে বেশ কয়েকটি দেশে এই জেলার আম প্যাকেটিং পদ্ধতিতে রপ্তানি করা হয়েছে। এখনকার আম রপ্তানিতে বেশ ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। আশা করছি চলতি বছরেও এই জেলার আম বিদেশে রপ্তানি করার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১, ২০২৬ ৩:৩২ অপরাহ্ন
নরসিংদীর চরাঞ্চলে বাড়ছে বাদাম চাষ
কৃষি বিভাগ

স্বল্প খরচ ও কম পরিশ্রমে অধিক ফলন এবং ভালো বাজারদরের কারণে দিন দিন বাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন নরসিংদীর চরাঞ্চলের কৃষক। এখানে উৎপাদিত বাদামের গুণমান ভালো হওয়ায় দেশব্যাপী এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হচ্ছে। আবাদের পরিধি আরও বাড়াতে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের বীজ সহায়তা, প্রণোদনা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের বাদাম চাষে সহযোগিতা ও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেঘনা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বাড়ছে বাদাম চাষ। বাদামের দাম আগের তুলনায় অনেকটা বেশি হওয়ায় প্রতি বছর চরাঞ্চলে এ ফসলের চাষ বাড়ছে। এখানে উৎপাদিত বাদামের মান ভালো হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে চাহিদা।

চলতি মৌসুমে নরসিংদীর রায়পুরার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের চাঁনপুর, মাঝের চর, মৌহিনিপুর, সদাগর, কান্দির চরে ও সদর উপজেলার চরদিঘলদী, আলোকবালী এবং বেলাবো উপজেলার চর বেলাবোতে বাদামের চাষ বেশি হয়েছে।

কৃষকরা জানান, তুলনামূলক লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে বাদামের আবাদ। বাদাম চাষে সার প্রয়োজন হয় না। বিষও লাগে না। ফলন ভালো পাওয়া যায়। আবার জমিতে বাদামের আবাদ শেষে সেখানে অন্যান্য চাষ করা যায়। এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখান থেকে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করা সম্ভব।

রায়পুরা উপজেলার মাঝের চর গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন,  ‘এ বছর প্রায় ১০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি দুই লাখ টাকা খরচ পড়েছে। আল্লাহ যদি দেন, ফসল ঠিকমতো উঠাতে পারি, পানি যদি মাইর না দেয়, ৫ লাখ টাকার বিক্রয় আসবে বলে আশা করছি।’

এদিকে, বাদাম রোদে শুকানো থেকে শুরু করে বাছাই করা পর্যন্ত নানা প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে স্থানীয় নারী ও পুরুষদের কর্মসংস্থান।

বাদাম চাষের পরিধি বৃদ্ধি, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণসহ নানা বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সালাউদ্দিন টিপু বলেন, ‘যে মাটিতে অন্য কোনো ফলন হয় না সেখানে বাদাম চাষ করা হচ্ছে। ফলে আমরা পতিত জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসতে পারছি। আমাদের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষক লাভবান হচ্ছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি জানান, জেলায় এ বছর ২৯০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৩১০ হেক্টর।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৬, ২০২৬ ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
চায়ের সাথী ফসল হিসেবে আম, বাড়ছে আয়
কৃষি বিভাগ

পঞ্চগড় সদর উপজেলার দেওয়ানহাট এলাকার মহানপাড়া গ্রামে চায়ের সাথী ফসল হিসেবে আম চাষ করে বাড়তি আয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বসিরুল আলম প্রধান। চা বাগানের ফাঁকা জমি কাজে লাগিয়ে সেখানে বিভিন্ন জাতের আম গাছ লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন সমন্বিত কৃষির একটি লাভজনক মডেল।

স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘আলম চেয়ারম্যান’ নামেই পরিচিত। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই হলেও কৃষিকাজে এখনো সমানভাবে সক্রিয় তিনি। বাড়ির পাশের এক সময়ের পড়ে থাকা উঁচু ২২ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন চা বাগান। চা চাষে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ক্ষুদ্র চা চাষী হিসেবে ২০২৪ সালে জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।

চা বাগানের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে সেখানে সাথি ফসল হিসেবে বিভিন্ন জাতের আম গাছ রোপণ করেন বসিরুল আলম প্রধান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার ‘ব্যানানা ম্যাংগো’ গাছ। এছাড়া ৫০টি আম্রপালিসহ আরও শতাধিক বিদেশি জাতের আমের গাছ রয়েছে।

চলতি মৌসুমে তার বাগানের আম গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। মুকুল আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে পরিচর্যার কাজ। শ্রমিকরা দিনভর বাগানে কাজ করে গাছগুলোর যত্ন নিচ্ছেন। পরিকল্পিতভাবে সাজানো এই বাগান এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছেও অনুপ্রেরণার জায়গা হয়ে উঠেছে।

বাসস’র সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন,আম উৎপাদনেও  ভালো সাফল্য পেয়েছেন। ২০২৪ সালে তার বাগান থেকে আম বিক্রি করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় হয়। পরের বছর ২০২৫ সালে আম বিক্রি করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় করেন। চলতি বছর আরও বেশি ফলনের আশা করছেন তিনি।

চা উৎপাদনেও রয়েছে ধারাবাহিক উন্নতি। ২০২৪ সালে তার বাগানে চা উৎপাদন হয়েছিল এক লাখ ৬৭ হাজার ৬৭১ কেজি। ২০২৫ সালে সেই উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ পাঁচ হাজার ৪৮৯ কেজিতে। চলতি মৌসুমে সবুজ চা পাতা তোলা শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি চা পাতা ৩৬ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি, যা তার আয়ের অন্যতম উৎস।

বসিরুল আলম প্রধান বলেন, কৃষিকে আমি শুধু পেশা হিসেবে নয়, ভালোবাসা থেকে করি। শুরুতে চা বাগানে শেড ট্রি হিসেবে আম গাছ লাগাই। ভালো ফলন পাওয়ায় ধীরে ধীরে বাগানের ফাঁকা জায়গাগুলোতে বিভিন্ন জাতের আম গাছ রোপণ করি। এখন চায়ের পাশাপাশি আম থেকেও ভালো আয় হচ্ছে। অনেকেই আমার বাগান দেখতে আসেন এবং উৎসাহ পান। আমি চাই তরুণ কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিতে এগিয়ে আসুক।

ব্র্যাক নার্সারির ম্যানেজার আশিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, চা বাগানের সঙ্গে আম চাষের এই সমন্বিত পদ্ধতি কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। আলম সাহেব উদ্ভাবনী চিন্তার একজন কৃষক। আমরা নিয়মিত তাকে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড়ের উপপরিচালক আব্দুল মতিন বাসস’কে বলেছেন, চা বাগানের মাঝখানে সাধারণত ফাঁকা জায়গা রাখা হয়। অনেক চাষী সেখানে শেড ট্রি হিসেবে বিভিন্ন গাছ লাগান। সেখানে যদি আম বা অন্য ফলজ গাছ লাগানো যায়, তাহলে সেখান থেকে বাড়তি আয় পাওয়া সম্ভব। সবুজ চা পাতার দাম কমে গেলেও ফলের আয় দিয়ে সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা যায়।

তিনি আরও বলেন, বসিরুল আলম প্রধানের সমন্বিত চা ও আম বাগানটি আমরা পরিদর্শন করেছি। তিনি খুব যত্ন সহকারে বাগানটি পরিচালনা করছেন। সঠিক পরিচর্যা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এখান থেকে আরও ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১২, ২০২৬ ৯:৪১ পূর্বাহ্ন
রক্তদহ বিল পুনঃখননে বছরে ১৭০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব
কৃষি বিভাগ

নওগাঁর ঐতিহাসিক রক্তদহ বিল পুনঃখনন করা হলে বছরে প্রায় ১৭০ কোটি টাকার অতিরিক্ত কৃষি উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষকরা।

নওগাঁর রানীনগর ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার মাঝামাঝি এলাকায় রক্তদহ বিলের অবস্থান। প্রায় ২২০ হেক্টর আয়তনের এ বিলটি ২২টি প্রবেশ খালের সঙ্গে যুক্ত। এসব খালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার। আর বিলের নিষ্কাশন খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ কিলোমিটার।

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে আশপাশের প্রায় সড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে বছরে মাত্র একটি ফসল চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ২৩টি গ্রামের প্রায় ৭ হাজার কৃষক পরিবারের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ নিয়মিত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-এর কর্মকর্তারা জানান, বিল ও সংযুক্ত খালগুলো পুনঃখনন করা হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। তখন কৃষকেরা বছরে আইআরআরআই-বোরো ও রোপা আমন—এই দুই ধরনের ধান চাষ করতে পারবেন। এতে বছরে প্রায় ১৭০ কোটি টাকার অতিরিক্ত কৃষি উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঐতিহাসিকভাবে রক্তদহ বিল এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ফসল উৎপাদন কমে গেছে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রজাতির মাছও এখন পাওয়া যাচ্ছে না।

সিম্বা গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন ফকির, মোস্তাক হোসেন ও জয়েদ ফকির এবং খাগড়া গ্রামের আবদুল হোসেন বাসসকে জানান, বিল এলাকায় তাদের জমি রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে তারা প্রতিবছরই ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তারা আরও জানান, বিল খনন করা হলে বছরে অন্তত দুটি ফসল চাষ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মাছের উৎপাদনও বাড়বে। এতে আশপাশের গ্রামের কৃষক ও জেলেদের জীবিকা উন্নত হবে।

নওগাঁয় বিএমডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম বাসসকে জানান, রক্তদহ বিল ও এর আশপাশের খালগুলো পুনঃখনন হলে প্রতি হেক্টরে প্রায় ১২ মেট্রিক টন হিসেবে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৫৪ হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭০ কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, খননকৃত মাটি ব্যবহার করে বিল ও খালের পাড় ঘেঁষে ১০ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি ভাঙন রোধে রিটেইনিং ওয়াল, কংক্রিট ব্লক ও প্যালিসেডিং নির্মাণ করা সম্ভব। এতে দুর্গম এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হবে।

এ ছাড়া গ্রামীণ সড়ক ও খালের পাড়ে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগালে পাখির জন্য নিরাপদ আবাস তৈরি হবে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশও উন্নত হবে।

রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বাসসকে জানান, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে রক্তদহ বিল পর্যটন এলাকা ও বার্ড ভিলেজ গড়ে তোলা হয়েছে। বিলের নিষ্কাশন খাল রতনদাড়াতে মাছের অভয়ারণ্য তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পর্যটন সুবিধা আরও উন্নত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর বেশিরভাগ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

কর্মকর্তারা জানান, বিলের সংরক্ষিত পানি সেচের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং পানির স্তর পুনরুদ্ধারেও সহায়তা করবে।

প্রাকৃতিক এ সম্পদের যথাযথ ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে রক্তদহ বিল পুনঃখননের প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১০, ২০২৬ ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
কৃষি বিভাগ

কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদের সঙ্গে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত  জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি।

সোমবার সচিবালয়স্থ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের কৃষি, মৎস ও প্রাণিসম্পদ খাতের অগ্রগতি ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। শুরুতে মন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। প্রতিনিধিদলের প্রধান ড. জিয়াওকুন শি সংস্থাটির মহাপরিচালকের পক্ষে মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তা হস্তান্তর করেন এবং অভিনন্দন জানান।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী দেশের কৃষিখাত নিয়ে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেন। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি পণ্য প্রক্রিজাতকরণ, রপ্তানী, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ভিত মজবুত করণে এফএও- এর যে কোনো সহযোগিতাকে স্বাগত জানাবেন বলে মন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন।

ড. শি তার সংস্থার বাস্তবায়িত বিভিন্ন বিষয়ে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। কৃষি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য চাষে তার সংস্থা কাজ করছে বলে জানান।

এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ  উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৮, ২০২৬ ২:১৬ অপরাহ্ন
ফসলের বাম্পার ফলনে রংপুরের চরাঞ্চলে আগাম ঈদের আমেজ
কৃষি বিভাগ

ফসলের বাম্পার ফলন ও উৎপাদিত পণ্যের ভালো বাজারমূল্যের কারণে রংপুর অঞ্চলের নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলে যেনো আগাম ঈদের আমেজ বইতে শুরু করেছে। চরের বাসিন্দারা এখন ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে পরিবারের জন্য পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
রংপুর বিভাগের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার নদীসংলগ্ন বালুকাময় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা একদিকে যেমন চাষ করা ফসল সংগ্রহ করছেন, অন্যদিকে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।

চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলে বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন, উৎপাদিত পণ্যের ভালো দাম, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ায় চরের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

এর ফলে তারা নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যেই ঈদের কেনাকাটা করতে পারছেন।

একসময় চরের মানুষের জীবন ছিল চরম দারিদ্র্য ও নানা সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত। বাল্যবিবাহ, যৌতুক, কুসংস্কার, অপুষ্টি, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার অভাব তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চরাঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

বর্তমানে চরাঞ্চলের মানুষ কৃষিকাজ, পশুপালন এবং অন্যান্য আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভালো আয় করছেন। ফলে উৎসবমুখর পরিবেশে তারা আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রংপুরভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘নর্থ বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’র চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ শামসুজ্জামান বাসসকে বলেন, প্রতিকূল জলবায়ু ও ভৌগোলিক পরিবেশে বসবাস করলেও চরাঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড এবং প্রায় ৮২ হাজার হেক্টর চর জমিতে ফসল চাষের ফলে রংপুর অঞ্চলের চরবাসীর জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে।

ফলস্বরূপ, চরাঞ্চলে ঈদের পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেকেই ঈদকে সামনে রেখে পোশাকসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনছেন। সেখানে স্থানীয় মানুষ অর্থনৈতিক ভিত্তি এবং উন্নত জীবিকা অর্জন করতে শুরু করেছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারী সংস্থার সহায়তা এবং ফসল চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সামাজিক অভিশাপও দূর করেছে।

এসব উদ্যোগের ফলে চরাঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার চর তালুক শাহবাজ গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে তিস্তা নদীর শুকিয়ে যাওয়া তলদেশের চর জমিতে চাষ করা ফসল থেকে তিনি বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তিনি বলেন, আমি চীনাবাদাম, কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন ও বিভিন্ন শাকসবজির ভালো ফলন পেয়েছি। বাজারদরও ভালো। তাই সন্তানদের জন্য ঈদের পোশাকসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পেরেছি।

গঙ্গাচড়া উপজেলার চর পূর্ব মহীপুর গ্রামের শাহিনুর ইসলাম ও তার স্ত্রী ফ্যান্সি বেগম জানান, তারা তিস্তার শুকনো চর জমির আড়াই একর জমিতে খিরা, আলু, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করেছেন। এই দম্পতি জানান, ইতোমধ্যে তারা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার খিরা, আলু ও অন্যান্য ফসল বিক্রি করেছেন। মে মাসের মধ্যে সব ফসল বিক্রি শেষ হলে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকা নিট মুনাফা পাওয়ার আশা করছেন। শাহিনুর ইসলাম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সন্তানদের জন্য ঈদের পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে ফেলেছি।
গঙ্গাচড়া উপজেলার পশ্চিম মহিপুর গ্রামের চরবাসী আব্দুল জলিল, মহসিন আলী, নুর ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মকবুল হোসেন ও কফিল উদ্দিন জানান, ফসল বিক্রির অর্থ দিয়ে তারা পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার পরিকল্পনা করছেন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) বুড়িরহাট উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রের উপ-পরিচালক ড. মো. আবু সায়েম বলেন, প্রতি বছরই রংপুর অঞ্চলের চরাঞ্চলে কৃষকেরা বিভিন্ন ফসল চাষ করে ভালো লাভবান হচ্ছেন। তিনি বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ এখন ফসল সংগ্রহ ও ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। সেখানে ইতোমধ্যে ঈদের উৎসবমুখর আমেজ তৈরি হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৫, ২০২৬ ৯:০০ পূর্বাহ্ন
চুয়াডাঙ্গায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে, ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি
কৃষি বিভাগ

চুয়াডাঙ্গা জেলার সব ধরনের সবজির দাম কমেছে । এতে স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মাঝে। রমজান মাস শুরু হওয়ার পূর্বে সবজির দাম বেড়ে ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যায়। আবার রমজান মাস শুরুর কয়েকদিনের মধ্যে কমতে থাকে সবজিসহ মসলার দাম।

রমজানের শুরুর দিকেও যেসব সবজির দাম ছিল আকাশছোঁয়া তা এখন ক্রেতা সাধারণের নাগালের মধ্যে। তবে দেশি ও বিদেশী ফলের দাম বেড়েই চলেছে। প্রকার ভেদে বিভিন্ন ফলের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন রমজান উপলক্ষে ফলের চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে।

বুধবার চুয়াডাঙ্গা শহরের বড়বাজার, নিচের বাজার ও রেলবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের শীতকালীন ও বারোমাসি সবজির দাম কমেছে। রমজানের শুরুতে যেখানে কাগুজে লেবু বিক্রি হচ্ছিল ৬০ টাকা হালি এবং শসা ছিল ১২০ টাকা কেজি। সেখানে বর্তমানে লেবু ৪০ টাকা হালি এবং শসা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারী বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজ ৩০/৩৫ টাকা, রসুন ৫০/৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ৭০/৭৫ টাকা, আদা ১৩০/১৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০/৪৫ টাকা, সজনে ডাটা (চিকন) ৩৫০/৪০০ টাকা, বেগুন ৩০/৪০ টাকা, শিম ২০ টাকা, লাল শাক ১০ টাকা আটি, কাঁচাকলা ২০ টাকা, টমেটো ১০/২০ টাকা, ফুলকপি ২০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, লাল গোল আলু ২৫ টাকা, পালং শাক ৫ টাকা, করলা ১০০ টাকা ও আলু ১২/১৩ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু সবজির দাম রমজানের শুরুতে দ্বিগুনের বেশি ছিলো।

অন্যদিকে শহরের বড়বাজার ও রেলবাজার ফলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, আপেল ৩৫০ টাকা, আঙ্গুর ৪০০ টাকা, কমলা চাইনা ৩৩০ টাকা, আনারস প্রতি পিস ৫০/৬০ টাকা, ৫/৬ কেজি ওজনের একটি তরমুজ ৪০০/৪৫০ টাকা, কুল ৫০/৬০, পাকা কলা প্রতি হালি ২০/৩০ টাকা ও পেয়ারা ৯০/১০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। এসব ফলের দাম রমজানের শুরুতে কিছুটা কমে পাওয়া যেত।

এ বিষয়ে কাঁচামাল আড়ৎদার ডিউক বলেন, রমজান মাসের শুরুর দিকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা চড়া ছিল। কিন্তু এখন বাজারে প্রচুর সবজি আসছে, ফলে দাম আগের চেয়ে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ক্রেতারা এখন পছন্দমতো কেনাকাটা করতে পারছেন। আমরাও স্বাচ্ছন্দের সাথে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সবজি বিক্রি করতে পারছি।

সবজি ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই আছে। সামনের দিনে সবজির দাম আরও কমতে পারে। বর্তমানে কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা কম। রমজানের শুরুর দিকে অনেকে একবারেই এক মাসের বাজার করায় সবজির চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল যার কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল।

সবজি বাজার করতে আসা শিপন বলেন, রমজান মাসের শুরুর দিকে বাজার করেছিলাম তখন প্রতিটা সবজির দাম ছিল বেশি। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। তবে লেবুর দামটা বরাবরই বেশি।

সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও রোজাদাররা ফল কিনতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ছে। আপেল, আঙুর, কমলা ও মাল্টার দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফল বিক্রেতা রিয়াজ জানান, দেশি ফলের পাশাপাশি আমদানিকৃত কমলা, আঙুর ও আপেলের দাম প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩, ২০২৬ ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন
রাঙ্গামাটিতে কৃষকদের মধ্যে হলুদ বীজ ও সার বিতরণ
কৃষি বিভাগ

রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ (১) মৌসুমি হলুদ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে হলুদ বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃষকদের মধ্যে বীজ ও সার বিতরণ করেন লংদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিফ রহমান, এলজিইডি কর্মকর্তা প্রকৌশলী শামসুল আলম, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা রতন চৌধুরী, মাইনীমুখ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান (বাবু) প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ কর্মসূচির আওতায় ৩৫ জন কৃষকের প্রত্যেককে একশ’ কেজি করে ‘বারি’ জাতের হলুদ বীজ এবং ১০ কেজি করে সার প্রদান করা হয়।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop