১১:৪৯ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ২ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৩:৫৭ অপরাহ্ন
ঝালকাঠিতে বাড়ছে আমড়ার চাষ ; বাম্পার ফলনে কৃষকরা খুশী
কৃষি বিভাগ

ঝালকাঠিতে জমে উঠেছে আমড়ার হাট বাজার। ভিমরুলীর ভাসমান হাটে এখন তাজা আমড়ার সমারোহ। কৃষি বিভাগ বলছে, অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় এই জেলায় দিন দিন বাড়ছে আমড়ার চাষ।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঝালকাঠি জেলার চার উপজেলার ৬০৫ হেক্টর জমিতে এই বছর আমড়ার চাষ হয়েছে। ৪ হাজার ৫শ’ ৯০ (৪৫৯০) মেট্রিক টন আমড়া উৎপাদন হয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬০২ হেক্টর জমিতে আমড়ার আবাদ করা হয়েছিল। ওই সময়ে উৎপাদন হয়েছিল ৪ হাজার ৭০ (৪০৭০) মেট্রিক টন। দুই বছরের ব্যবধানে আমড়ার আবাদ বেড়েছে তিন হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন বেড়েছে ৫২০ মেট্রিক টন।

দেশব্যাপী বিপুল চাহিদা রয়েছে বরিশাল অঞ্চলের আমড়ার। সুস্বাদু এই ফলের চাহিদার বেশিরভাগই পূরণ হচ্ছে ঝালকাঠি থেকে। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন হাটে চলে আমড়ার বেচাকেনা। এরমধ্যে ভিমরুলী গ্রামের ভাসমান হাটটি সবচেয়ে বড়। এই হাট থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে সরবরাহ করা হয় পুষ্ঠিকর এ ফল। বিপুল চাহিদা থাকায় ও লাভজনক হওয়ায় জেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে আমড়ার আবাদ। এই বছর আমড়ার ভালো ফলন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা ভিমরুলীর ভাসমান হাট থেকে আমড়া কিনছেন ১ হাজার থেকে ১৬শ’ টাকা মণ দরে।

আমড়া চাষী ও পাইকারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আমড়ার আকার ও কালারভেদে দর নির্ণয় করা হয়। এজন্য ১ হাজার থেকে ১৬’শ টাকা পর্যন্ত দামে প্রতি মণ আমড়া বিক্রি করা হয়।

আমড়া চাষী অনিমেষ হালদার জানান, ৬বিঘা জমিতে আমড়ার চাষ করেছি। মৌসূমী ফল হিসেবে এবছর আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। জমিতে থাকা প্রতিটি গাছ থেকে ৪ হাজার টাকার আমড়া নামবে। সর্বসাকুল্যে ৬বিঘা জমি থেকে ৬লাখ টাকা অর্জন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কির্ত্তিপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ভবেন্দ্রনাথ হালদার বাসস’কে জানান, পেয়ারা চাষে এখন আর লাভ নেই। এবছর অনাবৃষ্টির কারণে পেয়ারার ফলন ভালো হয়নি। যা হয়েছে তাতে আবার অ্যানথ্রাক্স (কালো ছিট পড়া) রোগ দেখা দিয়েছে। পেয়ারা পাকতে শুরু করলে প্রতিদিনই গাছ থেকে নামিয়ে বাজারে আনতে হয়। একজন শ্রমিক খরচ ৭শ’ টাকা দিতে হয়, কিন্তু পেয়ারা বিক্রি হয় ৪শ’ টাকার। এরচেয়ে জমিতে আমড়ার আবাদ করলে লাভ বেশি হয়। দু’জন শ্রমিক নিয়োগ করলে তারা ১০/১২টি গাছের আমড়া নামাতে পারে। প্রতিদিন আমড়া নামাতে হয় না, পরিপক্ক হলে একদিনেই সব নামানো সম্ভব। তাছাড়া একটি বাতাবী লেবু (জাম্বুরা) গাছ লাগালেও সেখান থেকে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব।

স্বরূপকাঠির পাইকার নোমান খান বলেন, ‘ফলন মোটামুটি ভালো। আমরা এখানে চাষীদের থেকে আমড়া কিনে ঢাকায় চালান করি। প্রতিমণ আমড়াতে ২শ’ টাকা লাভ থাকে। এরমধ্যে আমাদের শ্রমিক, পরিবহন, খাবার খরচ শেষে একশ’ টাকা লাভ হয়।’

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বাসস’কে বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় বিভিন্ন ধরণের কার্যক্রমের মাধ্যমে এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এই জেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে আমড়ার আবাদ। ফলে শিক্ষিত ও বেকার যুব সমাজের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে ব্যবসার। বর্তমানে আমড়া একটি অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৯:২২ পূর্বাহ্ন
পদ্মার চর জলমগ্ন, ক্ষতির মুখে কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

কয়েকদিন আগেও পদ্মার চরগুলো ছিল সবুজ ও শ্যামল। কৃষকরা ব্যস্ত ছিলেন পটল, শসা, করলা, লাউ, ফুলকপি ও টমেটোর ক্ষেত পরিচর্যায়। সেখানে এখন কোথাও কোমর সমান পানি, আবার কোথাও পচে গেছে ফসলের চারা।

শেষ চেষ্টা হিসেবে কৃষকদের কেউ পানি সেচে ক্ষেত শুকানোর চেষ্টা করছেন, আবার কেউ উপড়ে ফেলছেন পচে যাওয়া ফসলের গাছ।   কাক্সিক্ষত ফলন বা ফসল তোলার আগেই এ ক্ষতি হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পবা উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা। কীভাবে উঠাবে তাদের পুঁজি— সেই দুশ্চিন্তায় কৃষকের কপালে ভাঁজ।

পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আলিমগঞ্জ ও কসবা চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। আগেভাগে চাষ করা ফুলকপি, বাঁধাকপি ও টমেটোর চারাগাছ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। পানিতে ডুবে থাকার কারণে পটল, করলা, লাউ ও শসার ক্ষেতও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অনেক কৃষককে জমি পরিষ্কার করার জন্য মরে যাওয়া ও পচে যাওয়া গাছ তুলে ফেলতে দেখা গেছে। কসবা গ্রামের কৃষক আকবর আলী তার একটি জমি থেকে পচে যাওয়া পটলের গাছ উপড়ে ফেলতে দেখা যায়। তিনি জানান, বানের পানিতে তার ১ বিঘা জমির পটল, ১০ কাঠার শসা এবং ৫ কাঠার ঝিঙে ক্ষেত একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। পটল গাছগুলো পচে গেছে, তাই সব তুলে ফেলতে হচ্ছে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘যে পটল গাছগুলো এখনও কোনোমতে টিকে আছে, সেগুলোও মরতে বসেছে। এভাবে চললে তো আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব। পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব?’

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কসবা এলাকার চরের ভেতর প্রায় সাতদিন ধরে পানি জমে ছিল। ফলে বেশিরভাগ ফসলই পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, তার প্রায় ১০ কাঠা জমির করলা, ১০ কাঠা জমির শসা, ১০ কাঠা জমির লাউ, ১.৫ বিঘা জমির বিভিন্ন জাতের বাঁধাকপি, ১৫ কাঠার পটল ও ৫ কাঠা জমির টমেটো  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নজরুল ইসলামের হিসাব মতে, তিনি টমেটো চাষে প্রায় ১০ হাজার টাকা, পটলে ৩০ হাজার টাকা, করলায় ১০ হাজার টাকা, শসায় ২০ হাজার  টাকা, লাউয়ে ১৫ হাজার টাকা এবং বাঁধাকপিতে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। এসব ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তিনি বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

আরেক কৃষক শাহরিয়ার রহমান রাসেল হারিয়েছেন তার প্রায় ১০ হাজার ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা। ফসল ভালো থাকলে তিনি ক্ষেত থেকে ৩ লাখ থেকে  সাড়ে ৩ লাখ  টাকার ফসল বিক্রি করতে পারতেন। কিন্তু সে আশা এখন ঘোর অনিশ্চয়তায় ঢেকে গেছে।

রাসেল বলেন, ‘আমরা তো কৃষক, আমরা তো কোনো ফসলই নষ্ট হতে দিতে চাই না। ফসলগুলো বাঁচানোর জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।’

পটল চাষি শামীম আল মামুনও চরের বানে হারিয়েছেন তার ১৫ কাঠা জমির পটল। তিনি জানান, তার ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ২ লাখ টাকা।

তিনি আরও বলেন, এখন ছিল পটল তোলার মূল সময় (পিক সিজন)। ফলে এই সময় ক্ষেত ডুবে যাওয়াতে তার ক্ষতির পরিমাণ বহু বেড়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হঠাৎ বন্যায় রাজশাহী জেলার পবা, বাঘা ও গোদাগাড়ী উপজেলার মোট ৩০৯.৫৯ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৫.২৪ হেক্টর সবজি, ৮৫.৩৯ হেক্টর মাষকলাই, ১১.৪৬ হেক্টর রোপা আমন, ২৫ হেক্টর রোপা আউশ, ১০২ হেক্টর হলুদ, ২৫ হেক্টর পেঁপে, ১০ হেক্টর পেয়ারা এবং ৫.৫০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা।

শুধু পবা উপজেলাতেই ৭.২৪ হেক্টর সবজি, ৬.৩৯ হেক্টর মাষকলাই এবং ০.৪৬ হেক্টর রোপা আমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গোদাগাড়ীতে ১০ হেক্টর সবজি, ১৭ হেক্টর মাষকলাই এবং ২৫ হেক্টর রোপা আউশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে বাঘা উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৮ হেক্টর সবজি, ৬২ হেক্টর মাষকলাই, ১১ হেক্টর রোপা আমন, ১০২ হেক্টর হলুদ, ২৫ হেক্টর পেঁপে, ১০ হেক্টর পেয়ারা এবং ৫.৫০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা।

পবা উপজেলার আলিমগঞ্জ ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহুরুল হক কসবা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করেছেন।

তিনি জানান, উজান থেকে আসা পানিতে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে শাকসবজির কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে আইল বেঁধে এবং ক্ষেত থেকে সেচের মাধ্যমে পানি বের করে দিয়ে কৃষকরা প্রায় ৬০ শতাংশ ফসল রক্ষা করতে পেরেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

পানি নেমে যাওয়ার পর কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের যত্ন নিতে হবে, সে ব্যাপারেও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন জানান, পদ্মা নদীবেষ্টিত এলাকায় হঠাৎ পানি বাড়ায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন চলছে, তালিকা চূড়ান্ত হলেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৯:৪৩ পূর্বাহ্ন
শেরপুরে পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে
কৃষি বিভাগ

চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও অধিক ফলনে জেলায় সোনালি আঁশে সুদিন ফিরেছে। বিগত বছরের থেকে এ বছর বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পাটের অধিক উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। শেরপুরে উৎপাদিত পাটের বাজারমূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলার মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। চাষিরা কোথাও পাট কাটছেন, কোথাও আঁটি বেঁধে পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ জাগ দেয়া পাটের আশঁ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়া জলাশয়ের পাশে খাটানো বাঁশ ও বিভিন্ন কাঠের আড়ায় পাটের আঁশ ছাড়িয়ে শুকানো ও পাটকাঠি সংগ্রহের কাজ করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ার আশায় বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময়ে মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা বেড়েছে দিগুণ। তাই গ্রামীণ জনপদে কৃষক-কৃষাণীরা মেতে উঠেছেন পাট উৎসবে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এক যুগ আগেও জেলায় পাট চাষির সংখ্যা ছিল অনেক কম। বর্তমানে হেক্টর প্রতি পাটের গড় উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছর বেড়েছে পাট চাষিদের সংখ্যা। তাই চলতি বছর ১ হাজার ৯১১ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে পাটের আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৯১২ হেক্টরে। এসব জমি থেকে ৪ হাজার ১৫ মেট্রিক টন পাট উৎপাদন হবে।

ইতোমধ্যে জেলায় ৯০ শতাংশ জমির পাট কাটা শেষ হয়েছে। যেখানে বিঘা প্রতি পাটের গড় ফলন ১০ থেকে ১২ মণ। কৃষকরা বলছেন, বিঘা প্রতি পাট চাষে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয় এবং মুনাফা থাকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতি পাটখড়ির আঁটি ৮০ থেকে ১শ’ টাকা দরে বিক্রি করে বাড়তি আয় হচ্ছে।

এদিকে, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পাটের কেনাবেচা জমে উঠেছে। কৃষকের কাছ থেকে পাট কিনছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে এসব পাট যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। তাই বাজারে পাটের চাহিদা থাকায় উৎপাদিত পাটের ন্যায্য মূল্য নিয়ে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।

তবে কৃষকেরা জানান, সিন্ডিকেট করে মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ীরা যেন পাটের দাম কমাতে না পারে সেদিকে সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে একদিকে যেমন কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ কমবে। অন্যদিকে পাটের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হবেন পাট চাষিরা।

সদরের কামারেরচরের সাহাব্দির চরের পাটচাষি কাদের মিয়া বাসস’কে বলেন, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। রোগবালাইও তুলনামূলক অনেক কম ছিল। এছাড়া প্রতি বিঘায় আগের বছরের চেয়ে বেশি পাটের উৎপাদন পেয়েছি। বাজারে ন্যায্য দাম পেলে এবছর আমরা বেশ লাভবান হতে পারব।

সদরের চরমোচারিয়া ইউনিয়নের মুন্সিরচর গ্রামের পাট চাষি সাইদুর রহমান বাসস’কে বলেন, পাট চাষে এবার ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি পাটের আঁশের মানও ভালো হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি পাওয়ায় সেচ খরচও কমেছে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্য দাম নিশ্চিত হলে কৃষকরা আগামীতে পাট চাষে বেশি আগ্রহী হবেন। এজন্য সরকার ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু বাসস’কে বলেন, চলতি বছর পাটের চাষ বৃদ্ধিতে জেলা পাট অধিদপ্তর থেকে প্রায় ৮ হাজার কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১ কেজি করে পাট বীজ প্রদান করা হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, পরিবেশ বান্ধব বলে বাংলাদেশে পাটের বহুমুখী ব্যবহার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে দেশে ও বিদেশে পাটের চাহিদা বাড়ছে। বাড়তি মূল্য পাওয়ার কারণে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন এবং পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৯:২০ পূর্বাহ্ন
উত্তরাঞ্চলে আমন চাষে কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন
কৃষি বিভাগ

অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে চলতি আমন মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা আমন চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মাঠে মাঠে আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কাদা-জলে একাকার হয়ে বীজতলা থেকে ফসলের মাঠে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ।

প্রকৃতি আর মানুষের পরিশ্রম মিলে উত্তরাঞ্চলে লেখা হচ্ছে, আমন চাষে সম্ভাবনার গল্প। আমন মৌসুমে সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় চারা রোপণ নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয় কৃষকদের।

তবে এবার অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে স্বস্তিতে রয়েছেন উত্তরের কৃষকরা। বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে সারিবদ্ধভাবে চলছে রোপণ।

কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি ভালো ফলন ও লাভবান হবেন কৃষকরা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে রংপুরের ৮ জেলায় ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৪ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ লক্ষ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ধান।

ইতোমধ্যে বেশিরভাগ জমিতে ধানের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। বাকি জমিগেুলোতে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে আমনের চারা রোপণ শেষ হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে ফসলের মাঠে কাজ করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। কেউ জমির আইল কোদাল দিয়ে ঠিক করছেন। কেউ আবার মই দিয়ে জমি সমান করার কাজ করছেন। অনেক কৃষক বীজতলা থেকে চারা তুলছেন। একসাথে সারিবদ্ধ হয়ে জমিতে চারা রোপণ করছেন। আবার কেউ মাথায় গামছা বেঁধে চিরচেনারুপে জমিতে সার দিচ্ছেন। এভাবেই নানান কাজে কর্মব্যস্ততায় সরগরম বিস্তৃত ফসলের মাঠ। যে মাঠে কৃষকের ঘাম আর কাদা-জল একাকার হয়ে বীজতলা ভিজছে, সেই মাঠই ভরে উঠবে সোনালি ধানের শীষে। সেই সোনালি রং হয়ে উঠবে কৃষকের হাসি, স্বপ্ন ও সাফল্যের প্রতীক।

তিস্তা এলাকার কৃষক নজরুল ইসলামের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, এবার তিনি ২ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আমন ধানের চারা রোপণ করেছেন। কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম পাওয়া নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন।

তিনি বলেন, হাড় ভাঙ্গা খাটুনি আর খরচাপাতি মিলিয়ে ধান চাষ করে তেমন একটা লাভ নেই। বরং লোকসানের হার বেশি। তারপরেও এ অঞ্চলে অন্য কোন কাজ না থাকায় প্রায় ৫০ বছর ধরে কৃষিকাজ করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

রংপুর সদর এলাকার কৃষক আব্দুল বারী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। এ মৌসুমে প্রকৃতি অনেকটাই সহায় হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি পাওয়ায় চাষাবাদে কোন অসুবিধা হয়নি। সেচ খরচও করতে হয়নি। ব্যয়ও আগের চেয়ে কম হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বেশ ভালো ফলন হবে।

মিঠাপুকুরের রানীপুকুর এলাকার কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, গত বোরো ধানের ন্যায্য দাম পেয়েছেন। এবার সেই আশায় ৫ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ শুরু করেছেন। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে তার সব জমিতে ধানের চারা লাগানো শেষ হবে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, উত্তরের কৃষকদের রোপা আমন ধান চাষে আগ্রহ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশা করছি ঠিকঠাক মতো রোপা আমন আবাদ শেষ হবে।

তিনি বলেন, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন ধানের চাষাবাদ হবে বলে আশা করছি। প্রান্তিক কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শসহ যেকোনো সেবায় কৃষি কর্মকর্তারা নিয়োজিত আছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৩০, ২০২৬ ৯:৫০ পূর্বাহ্ন
সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বেশি দাম না দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে না-এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আজ (শনিবার) ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত ফরিদপুর জেলার পেঁয়াজ ও পাটচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সারের সংকট প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয় এবং সমপরিমাণ সারের নিরাপত্তা মজুদ থাকে। ফলে দেশে সার সংকট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে কিছু দুষ্কৃতকারী ও ষড়যন্ত্রকারী পরিকল্পিতভাবে সারের দাম বাড়িয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু খুচরা সার বিক্রেতা বাজারে সার নেই বলে প্রচার করছেন। অথচ অতিরিক্ত টাকা দিলে তারাই আবার সার সরবরাহ করছেন। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষিপণ্যের আমদানি-নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পাট ও পেঁয়াজের বীজ যাতে ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে আমদানি করতে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। কৃষিতে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা।
তিনি বলেন, আগামীতে কোনো কৃষিপণ্য আমদানি করতে না হয়, বরং রপ্তানি করা যায়-সেটাই কৃষিতে সরকারের লক্ষ্য। আমরা নিজেরাই উৎপাদন করার চেষ্টা করছি। কাঁচামরিচ, আদা, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। এই সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করেছে।

সভায় ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৫, ২০২৬ ৯:০৮ পূর্বাহ্ন
আমন ধান রোপণে ব্যস্ত নাটোরের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

নাটোর জেলার কৃষকরা রোপা আমন ধান চাষে ব্যস্ত সময় অতিক্রম করছেন। অনুকূল আবহাওয়া, উপকরণের সহজলভ্যতা, নতুন জাতের ধানের সম্প্রসারণ, কৃষি বিভাগের প্রণোদনা ও পরামর্শ প্রদান এবং প্রদর্শনী খামার স্থাপন পরিকল্পনার মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে আমন মৌসুম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে ৪৫ হাজার ৮৬১ হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। এরমধ্যে উফশী জাতের ৪৩ হাজার ৭৮৩ হেক্টর, হাইব্রীড জাতের এক হাজার ৯০২ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ১৭৬ হেক্টর। চলতি বছর জেলায় ৭৭ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নাটোর সদর উপজেলার মোহনপুর এলাকার কৃষক আহমেদুল কবীর বাসস’কে জানান, আমন ধান চাষের অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে। বীজতলায় চারা নিজেই তৈরি করে চার বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপণ করেছি। এরমধ্যে দুই বিঘাতে মিনিকেট এবং দুই বিঘাতে কাজললতা। তিনবার করে জমি চাষ দিয়ে জমি প্রস্তুত এবং রোপণে বিঘা প্রতি কৃষি শ্রমিকের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা।

শস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিল এলাকার কৈগ্রামের কৃষক মো. তৌফিকুজ্জামান জানান, জমিতে সুগন্ধী জাতের ব্রি ধান-৩৪ এবং ব্রি ধান-৪৯ রোপন কাজ সম্পন্ন করেছি। এসব ধানের ফলন একটু কম হলেও বাজার মূল্য অনেক বেশী।

চলনবিলের কুমিড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক জুলফিকার আনাম জানান, বিলে পানি নেমে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি। ১২ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

সিংড়া উপজেলা কৃষি অফিসার খন্দকার ফরিদ হাসান বাসস’কে জানান, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। বিলের পানি নেমে যাচ্ছে, অনেক কৃষক আউশ ধান কাটার পরে রোপা আমন ধান চাষ করবেন। অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত চাষাবাদ চলবে। চলনবিলের কৃষকরা উচ্চ মূল্যের কারণে পোলাও চাল অর্থাৎ সুগন্ধী ধান চাষাবাদে ঝুঁকেছেন। এছাড়া পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ জিংক ধান যেমন বিনাধান-৯০, বিনাধান-১০৩ ধান আবাদ করছেন। আমরা এসব ধান চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলার ১৪ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের প্রত্যেককে এক বিঘা করে জমিতে রোপা আমন ধান চাষে প্রয়োজনীয় ৫ কেজি বীজ ও  ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার বিনামূল্যে প্রণোদনা হিসেবে প্রদান করেছে সরকার।

এছাড়া পুষ্টিগুণে ভরপুর জিংক বায়োফর্টিফাইড জাতের বিনাধান-২০ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জেলার চারটি উপজেলায় মোট ৮শ’ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে বীজ প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বীজতলায় চারা তৈরি করে চারা রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি উপজেলায় এক একর করে জমিতে বিনাধান-২০ প্রদর্শনী খামার স্থাপন করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বাসস’কে জানান, রোপা আমন ধান চাষে অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে। ধানের চারা, সার, সেচসহ অন্যান্য সকল উপকরণের সহজলভ্যতা রয়েছে। সরকার কৃষকদের ধান চাষে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার প্রদান করেছে। প্রদর্শনী খামারও স্থাপন করা হচ্ছে। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা ও জেলা কৃষি দপ্তর সকল কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তত্ত্বাবধান করছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৩, ২০২৬ ৯:১১ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীতে পাটের অধিক ফলনে কৃষকের মুখে হাসি, ৫৪৯ কোটি আয়ের সম্ভাবনা
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ঐতিহ্য সোনালি আঁশ খ্যাত পাটের অধিক ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিছে। চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় রাজশাহী জেলায় এবার শুধু অধিক ফলনই নয়, বাজারে পাটের বর্তমান ভালো দাম এবং রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন স্থানীয় কৃষকদের মনে আশার আলো জেগেছে। এ বছর জেলার উৎপাদিত পাট বিক্রি করে প্রায় ৫৪৯ কোটি টাকা আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলাতেই কমবেশি পাটের আবাদ হয়েছে। জেলায় এবার মোট ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। এ বিশাল পরিমাণ জমি থেকে ৪৯ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে গত বছর (২০২৫ সালে) ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল ৪৮হাজার ৬৭৭ মেট্রিক টন। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতবারের তুলনায় এবার যেমন আবাদি জমির পরিমাণ বেড়েছে, তেমনি উৎপাদন ও আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি মৌসুমে পাট কাটা, জাগ দেয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

কৃষি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে জেলার মোট আবাদি জমির ৮২ শতাংশ পাট কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আর এই কর্তনকৃত জমি থেকেই উৎপাদিত হয়েছে ৪৮ হাজার ২শ’ মেট্রিক টন পাট। বাকি ১৮ শতাংশ জমির পাট কাটা শেষ হলে মোট উৎপাদনের পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে সহজেই ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর পাটের বাজারদর অত্যন্ত সন্তোষজনক। বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতি মণ (৪০ কেজি) পাট বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার ৩শ’ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার মোট প্রত্যাশিত উৎপাদন থেকে স্থানীয় বাজারে পাট বিক্রি করে প্রায় ৫৪৮ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা আয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ রেকর্ড পরিমাণ অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিতে সচল করবে এক বিশাল গতিশীলতা।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম এলাকার পাটচাষি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গতবার পাটের দাম কিছুটা কম থাকায় আমাদের মনে হতাশা ছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এবার ফলনও ভালো হয়েছে আর বাজারে দামও পাচ্ছি খুব ভালো। প্রতি মণ পাট ৪ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি করতে পারছি। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে এ দাম পাওয়ায় ভালো লাভ থাকছে।

মোহনপুর উপজেলার কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, ‘এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাট জাগ দেয়া ও ধোয়া নিয়ে তেমন কোনো বিপাকে পড়তে হয়নি। বর্তমান বাজারে পাটের যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। এ বছর পরিবারের সব খরচ মিটিয়ে বেশ কিছু টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব হবে।’ মৌসুমের প্রথম দিকে বৃষ্টি না হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। পরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় আমরা বেশ উপকৃত হয়েছি।

রাজশাহীতে উৎপাদিত এ সোনালি আঁশ শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটাতেই সীমিত নয়। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এখানকার পাট দেশের বিভিন্ন বড় বড় পাটজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া এসব পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের পর বিভিন্ন পাটপণ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা, সময়মতো উন্নত বীজ ও সারের সহজলভ্যতা এবং বর্তমান বাজারদর এভাবেই বজায় থাকলে আগামী দিনে রাজশাহী অঞ্চলে পাটের আবাদ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বাসস’কে বলেন, রাজশাহী জেলায় এবার মোট ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। এ জমি থেকে ৪৯ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে গত বছর ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল ৪৮হাজার ৬৭৭ মেট্রিক টন। এখন ৪৩০০ টাকা দরে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে। সে অনুযায়ী এবছর পাট বিক্রি করে ৫৪৯ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এ পাট স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাটজাত পণ্য তৈরিকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১০, ২০২৬ ৯:৫১ পূর্বাহ্ন
রাসায়নিক সারের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতে কৃষি বিভাগকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর পরামর্শ
কৃষি বিভাগ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন রাসায়নিক সারের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগকে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। আমন ধান চাষে কোন ধরনের সার ও কৃষি উপকরণের সংকট সৃষ্টি করা যাবে না।

আজ দিনাজপুর জেলা প্রশাসক হলরুম কাঞ্চনে জেলা প্রশাসকের মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সারাদেশের মধ্যে দিনাজপুর একটি সীমান্তবর্তী জেলা। ফলে খুব সহজেই পাশ্ববর্তী দেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য এ জেলায় প্রবেশ করে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক দৃষ্টি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে দেশে মাদক প্রবেশ কঠোর হাতে রোধ করতে হবে।

মাদকের ব্যাপারে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা উল্লেখ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে কঠোর অভিযান চালানোর নির্দেশ নেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদক কারবারি, পরিবহনকারি, মজুদদার, ও মাদক সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, দিনাজপুর খাদ্য উৎপাদনের একটি জেলা, আসন্ন আমন মৌসুমে ধান রোপন কার্যক্রম এখনো চলছে। দেশে সারের কোন সংকট নেই, পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। রাসায়নিক সার সঠিক ব্যবহারের জন্য কৃষি বিভাগকে তিনি নির্দেশ দেন। ধানের জমিতে যে পরিমাণ সার ব্যবহার করা প্রয়োজন, ঠিক সে পরিমাণ সার ব্যবহার করলে ধানের ফলন ভাল হবে। তিনি জেলা প্রশাসককে চাহিদা অনুযায়ী সার প্রাপ্তির জন্য তথ্য প্রেরণের পরামর্শ দেন। সঠিক সময়ের মধ্যেই সারের চাহিদা পূরণ করা হবে বলে, তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে আশ্বস্ত করেন।

জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আইন শৃঙ্খলা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এমপি, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি ও এজেডএম রেজওয়ানুল হক এমপি এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল ও জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।

সভায় পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. গোলাম রসুল রাখি, চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি মো. আবু বকর সিদ্দিক, দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-রিচালক শেখ হাফিজুর রহমান, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান বাবু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২, ২০২৬ ৯:২১ পূর্বাহ্ন
নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা মোকাবিলায় নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে সরকার গবেষণাভিত্তিক কৃষি উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আগামী মৌসুমে হাওর অঞ্চলের জন্য ব্রি ধান-১১৮ অবমুক্ত করা হবে। শীত সহনশীল এ জাতের ধান আগাম রোপণ ও আগাম কর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ফলে আকস্মিক বন্যার আগেই কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন এবং ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

আজ শনিবার কুমিল্লা সার্কিট হাউসে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা জেলার সকল দপ্তর বা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ একথা জানানো হয়।

মাছ রপ্তানি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা

করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী বছর লবণাক্ততা সহনশীল নতুন একটি ধানের জাত অবমুক্ত করা হবে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উপযোগী ফসলের জাত উদ্ভাবনে নিরলসভাবে কাজ করছেন।

মৎস্য বিপণন অবকাঠামো প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা অঞ্চলে মাছের ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। উপযুক্ত সরকারি জমি পাওয়া গেলে ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশের ভোক্তারা সাধারণত মিঠাপানির মাছ তাজা অবস্থায় কিনতে আগ্রহী। তাই সংরক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক বাজারজাতকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ খাতের ভ্যাকসিন উৎপাদন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র সম্প্রসারণে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গবাদিপশুর পাশাপাশি হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিনও অধিক পরিসরে দেশে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং প্রাণিসম্পদ খাত আরও শক্তিশালী হবে।

খাল পুনঃখনন কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর আওতায় চলমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী বছরও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বীজ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে বন্যা-পরবর্তী সময়ে রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ আধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৮, ২০২৬ ৯:২১ পূর্বাহ্ন
চাকরি ছেড়ে ড্রাগন চাষে সাবলম্বী ঝিনাইদহের আবু সাঈদ
কৃষি বিভাগ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর গ্রামের সফল কৃষি উদ্যোক্তা আবু সাঈদ সরকার। চাকরি ছেড়ে ড্রাগন ফল চাষ করে পেয়েছেন ব্যাপক সফলতা। চারা উৎপাদন, ফল বিক্রি ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে সফল উদ্যোক্তার পাশাপাশি আবু সাঈদ এখন সফল ব্যবসায়ী। তবে আবু সাঈদের এই যাত্রা প্রথম দিকে এতটা সহজ ছিল না। পরিচিত লোকজনের কটু কথা ও কয়েক দফা লোকসান গুনেও ড্রাগনের আবাদ চালিয়ে গেছেন এই তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। তার উৎপাদিত ফল এখন সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহরে। এই ফল রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর বাজারে ড্রাগন ফলের শতাধিক পাইকারি আড়ত রয়েছে। এসব আড়তের মধ্যে অন্যতম একটি আবু সাঈদের ফলের আড়ত। ২০২২ সালে প্রথম ‘আয়ান ফল ভান্ডার’ নামে ফলের আড়ত করেন তরুণ আবু সাঈদ সরকার। পরে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আড়তের বেচাকেনা বেড়ে যাওয়ায় তাঁর সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত হন তার বড় ভাই। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

তরুণ এই কৃষি উদ্যোক্তা আবু সাঈদ সরকার বাসস’কে জানান, তিনি একটি এনজিও সংস্থায় ভালো পদে চাকরি করতেন। কিন্তু দেশের বাজারে বিদেশী ফলের চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকায় তার ভেতরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত বিদেশী ফলের আবাদ করার আগ্রহ তৈরি হয়। সেই ভাবনা থেকে ২০২১ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। নিজের দেড় বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করেন। একই সময় নিজের জমিতে কাজ করার পাশাপাশি চাচাতো ভাইয়ের জমিতেও শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন আবু সাঈদ সরকার। ২০২২ সালের শেষদিকে তিনি গৌরীনাথপুর বাজারে ফলের আড়ত চালু করেন। নিজের বাগানের ফল বিক্রির পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকদের কাছ থেকে ফল কিনে তা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ শুরু করেন।

আবু সাঈদ সরকার বাসস’কে বলেন, আমার প্রথম যাত্রা অনেক কঠিন ছিল। অন্যের জমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছি। দিনে চারশ’ টাকা মজুরি পেতাম। কিন্তু তা দিয়ে আমার সংসার চলতো না। তাই, চাকরি ছেড়ে কৃষি কাজ শুরু করায় মানুষ আমাকে নিয়ে নানা রকম কথা বলেছে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। ২০২১ সালের অক্টোবরে ড্রাগন চাষ শুরুর পর থেকে নিজেই চারা উৎপাদন শুরু করি। ভ্যানে করে সেই সব চারা আমি ঝিনাইদহ শহর, কালীগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গায় বিক্রি করতাম। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় আমি ড্রাগনের চারা পাঠাতাম।

তরুণ এই উদ্যোক্তা আরও বলেন, ড্রাগনের চারা বিক্রি করতে গিয়ে অনেক সময় দিনশেষে লোকসান মাথায় নিয়ে ঘরে ফিরতাম। কিন্তু আমি হতাশ হইনি। এভাবে বছর দুয়েক কষ্ট করেছি। তারপর আড়ত চালু করলাম। বেচাকেনা বেড়ে গেল। আড়ত ও ফল বাগানের বিভিন্ন ধরণের ভিডিও বানিয়ে আমি ফেসবুকে ছাড়তাম। মানুষ আমার ভিডিও দেখে ড্রাগন ফলের চারা ও ফল কিনতো। এভাবেই আমার শুরু।

আবু সাঈদ সরকার আরও বলেন, এখন আমার প্রায় ১২ বিঘা জমিতে ড্রাগনের আবাদ রয়েছে। আমার দেয়া চারা থেকে গাজীপুরের মাওনা, চাঁদপুর, কুমিল্লার নিমসার, খাগড়াছড়ি, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ড্রাগন বাগান গড়ে উঠেছে। এখন আমার আড়তে গড়ে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার কেজি ড্রাগন ফলের বেচাকেনা হয়। বাগানেও ড্রাগনের ফলন ভালো এসেছে।

আড়তের বেচাকেনা প্রসঙ্গে তরুণ এই কৃষি উদ্যোক্তা বাসস’কে বলেন, আমি মনে করি, বেকার বলে কিছু নেই। মানুষ কখনো বেকার থাকে না। চাকরির পেছনে না ছুটে অল্প পুঁজি নিয়ে নিজের মতো করে কিছুর করার উদ্যোগ নিলেই তরুণরা সফল হতে পারে। মনে রাখতে হবে, শুরুটা কখনো বড় কিছু দিয়ে হয় না। ছোট কিছু দিয়ে, অল্প অল্প করে শুরু করতে হয়। এভাবে একদিন বড় হওয়া যায়। উদ্যোক্তা হলে বরং আরও মানুষের কাজের সুযোগ করে দেয়া যায়। আমার আড়তে ও ফলের বাগানে অনেকেই এখন কাজ করে। তাদেরও কর্মসংস্থান হয়েছে। মিল, কলকারখানা বা শিল্প নির্ভর ব্যবসায় উদ্যোক্তা হওয়ার চেয়ে কৃষি উদ্যোক্তা হওয়া আমার কাছে নিরাপদ ও গৌরবের। আলহামদুলিল্লাহ এখন অনেক ভালো আছি।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop