৯:২২ পূর্বাহ্ন

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৯:২০ পূর্বাহ্ন
উত্তরাঞ্চলে আমন চাষে কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন
কৃষি বিভাগ

অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে চলতি আমন মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা আমন চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মাঠে মাঠে আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কাদা-জলে একাকার হয়ে বীজতলা থেকে ফসলের মাঠে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ।

প্রকৃতি আর মানুষের পরিশ্রম মিলে উত্তরাঞ্চলে লেখা হচ্ছে, আমন চাষে সম্ভাবনার গল্প। আমন মৌসুমে সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় চারা রোপণ নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয় কৃষকদের।

তবে এবার অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে স্বস্তিতে রয়েছেন উত্তরের কৃষকরা। বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে সারিবদ্ধভাবে চলছে রোপণ।

কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি ভালো ফলন ও লাভবান হবেন কৃষকরা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে রংপুরের ৮ জেলায় ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৪ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ লক্ষ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ধান।

ইতোমধ্যে বেশিরভাগ জমিতে ধানের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। বাকি জমিগেুলোতে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে আমনের চারা রোপণ শেষ হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে ফসলের মাঠে কাজ করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। কেউ জমির আইল কোদাল দিয়ে ঠিক করছেন। কেউ আবার মই দিয়ে জমি সমান করার কাজ করছেন। অনেক কৃষক বীজতলা থেকে চারা তুলছেন। একসাথে সারিবদ্ধ হয়ে জমিতে চারা রোপণ করছেন। আবার কেউ মাথায় গামছা বেঁধে চিরচেনারুপে জমিতে সার দিচ্ছেন। এভাবেই নানান কাজে কর্মব্যস্ততায় সরগরম বিস্তৃত ফসলের মাঠ। যে মাঠে কৃষকের ঘাম আর কাদা-জল একাকার হয়ে বীজতলা ভিজছে, সেই মাঠই ভরে উঠবে সোনালি ধানের শীষে। সেই সোনালি রং হয়ে উঠবে কৃষকের হাসি, স্বপ্ন ও সাফল্যের প্রতীক।

তিস্তা এলাকার কৃষক নজরুল ইসলামের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, এবার তিনি ২ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আমন ধানের চারা রোপণ করেছেন। কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম পাওয়া নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন।

তিনি বলেন, হাড় ভাঙ্গা খাটুনি আর খরচাপাতি মিলিয়ে ধান চাষ করে তেমন একটা লাভ নেই। বরং লোকসানের হার বেশি। তারপরেও এ অঞ্চলে অন্য কোন কাজ না থাকায় প্রায় ৫০ বছর ধরে কৃষিকাজ করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

রংপুর সদর এলাকার কৃষক আব্দুল বারী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। এ মৌসুমে প্রকৃতি অনেকটাই সহায় হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি পাওয়ায় চাষাবাদে কোন অসুবিধা হয়নি। সেচ খরচও করতে হয়নি। ব্যয়ও আগের চেয়ে কম হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বেশ ভালো ফলন হবে।

মিঠাপুকুরের রানীপুকুর এলাকার কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, গত বোরো ধানের ন্যায্য দাম পেয়েছেন। এবার সেই আশায় ৫ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ শুরু করেছেন। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে তার সব জমিতে ধানের চারা লাগানো শেষ হবে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, উত্তরের কৃষকদের রোপা আমন ধান চাষে আগ্রহ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশা করছি ঠিকঠাক মতো রোপা আমন আবাদ শেষ হবে।

তিনি বলেন, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন ধানের চাষাবাদ হবে বলে আশা করছি। প্রান্তিক কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শসহ যেকোনো সেবায় কৃষি কর্মকর্তারা নিয়োজিত আছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৩০, ২০২৬ ৯:৫০ পূর্বাহ্ন
সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বেশি দাম না দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে না-এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আজ (শনিবার) ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত ফরিদপুর জেলার পেঁয়াজ ও পাটচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সারের সংকট প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয় এবং সমপরিমাণ সারের নিরাপত্তা মজুদ থাকে। ফলে দেশে সার সংকট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে কিছু দুষ্কৃতকারী ও ষড়যন্ত্রকারী পরিকল্পিতভাবে সারের দাম বাড়িয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু খুচরা সার বিক্রেতা বাজারে সার নেই বলে প্রচার করছেন। অথচ অতিরিক্ত টাকা দিলে তারাই আবার সার সরবরাহ করছেন। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষিপণ্যের আমদানি-নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পাট ও পেঁয়াজের বীজ যাতে ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে আমদানি করতে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। কৃষিতে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা।
তিনি বলেন, আগামীতে কোনো কৃষিপণ্য আমদানি করতে না হয়, বরং রপ্তানি করা যায়-সেটাই কৃষিতে সরকারের লক্ষ্য। আমরা নিজেরাই উৎপাদন করার চেষ্টা করছি। কাঁচামরিচ, আদা, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। এই সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করেছে।

সভায় ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৫, ২০২৬ ৯:০৮ পূর্বাহ্ন
আমন ধান রোপণে ব্যস্ত নাটোরের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

নাটোর জেলার কৃষকরা রোপা আমন ধান চাষে ব্যস্ত সময় অতিক্রম করছেন। অনুকূল আবহাওয়া, উপকরণের সহজলভ্যতা, নতুন জাতের ধানের সম্প্রসারণ, কৃষি বিভাগের প্রণোদনা ও পরামর্শ প্রদান এবং প্রদর্শনী খামার স্থাপন পরিকল্পনার মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে আমন মৌসুম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে ৪৫ হাজার ৮৬১ হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। এরমধ্যে উফশী জাতের ৪৩ হাজার ৭৮৩ হেক্টর, হাইব্রীড জাতের এক হাজার ৯০২ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ১৭৬ হেক্টর। চলতি বছর জেলায় ৭৭ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নাটোর সদর উপজেলার মোহনপুর এলাকার কৃষক আহমেদুল কবীর বাসস’কে জানান, আমন ধান চাষের অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে। বীজতলায় চারা নিজেই তৈরি করে চার বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপণ করেছি। এরমধ্যে দুই বিঘাতে মিনিকেট এবং দুই বিঘাতে কাজললতা। তিনবার করে জমি চাষ দিয়ে জমি প্রস্তুত এবং রোপণে বিঘা প্রতি কৃষি শ্রমিকের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা।

শস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিল এলাকার কৈগ্রামের কৃষক মো. তৌফিকুজ্জামান জানান, জমিতে সুগন্ধী জাতের ব্রি ধান-৩৪ এবং ব্রি ধান-৪৯ রোপন কাজ সম্পন্ন করেছি। এসব ধানের ফলন একটু কম হলেও বাজার মূল্য অনেক বেশী।

চলনবিলের কুমিড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক জুলফিকার আনাম জানান, বিলে পানি নেমে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি। ১২ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

সিংড়া উপজেলা কৃষি অফিসার খন্দকার ফরিদ হাসান বাসস’কে জানান, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। বিলের পানি নেমে যাচ্ছে, অনেক কৃষক আউশ ধান কাটার পরে রোপা আমন ধান চাষ করবেন। অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত চাষাবাদ চলবে। চলনবিলের কৃষকরা উচ্চ মূল্যের কারণে পোলাও চাল অর্থাৎ সুগন্ধী ধান চাষাবাদে ঝুঁকেছেন। এছাড়া পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ জিংক ধান যেমন বিনাধান-৯০, বিনাধান-১০৩ ধান আবাদ করছেন। আমরা এসব ধান চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলার ১৪ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের প্রত্যেককে এক বিঘা করে জমিতে রোপা আমন ধান চাষে প্রয়োজনীয় ৫ কেজি বীজ ও  ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার বিনামূল্যে প্রণোদনা হিসেবে প্রদান করেছে সরকার।

এছাড়া পুষ্টিগুণে ভরপুর জিংক বায়োফর্টিফাইড জাতের বিনাধান-২০ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জেলার চারটি উপজেলায় মোট ৮শ’ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে বীজ প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বীজতলায় চারা তৈরি করে চারা রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি উপজেলায় এক একর করে জমিতে বিনাধান-২০ প্রদর্শনী খামার স্থাপন করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বাসস’কে জানান, রোপা আমন ধান চাষে অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে। ধানের চারা, সার, সেচসহ অন্যান্য সকল উপকরণের সহজলভ্যতা রয়েছে। সরকার কৃষকদের ধান চাষে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার প্রদান করেছে। প্রদর্শনী খামারও স্থাপন করা হচ্ছে। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা ও জেলা কৃষি দপ্তর সকল কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তত্ত্বাবধান করছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৩, ২০২৬ ৯:১১ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীতে পাটের অধিক ফলনে কৃষকের মুখে হাসি, ৫৪৯ কোটি আয়ের সম্ভাবনা
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ঐতিহ্য সোনালি আঁশ খ্যাত পাটের অধিক ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিছে। চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় রাজশাহী জেলায় এবার শুধু অধিক ফলনই নয়, বাজারে পাটের বর্তমান ভালো দাম এবং রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন স্থানীয় কৃষকদের মনে আশার আলো জেগেছে। এ বছর জেলার উৎপাদিত পাট বিক্রি করে প্রায় ৫৪৯ কোটি টাকা আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলাতেই কমবেশি পাটের আবাদ হয়েছে। জেলায় এবার মোট ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। এ বিশাল পরিমাণ জমি থেকে ৪৯ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে গত বছর (২০২৫ সালে) ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল ৪৮হাজার ৬৭৭ মেট্রিক টন। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতবারের তুলনায় এবার যেমন আবাদি জমির পরিমাণ বেড়েছে, তেমনি উৎপাদন ও আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি মৌসুমে পাট কাটা, জাগ দেয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

কৃষি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে জেলার মোট আবাদি জমির ৮২ শতাংশ পাট কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আর এই কর্তনকৃত জমি থেকেই উৎপাদিত হয়েছে ৪৮ হাজার ২শ’ মেট্রিক টন পাট। বাকি ১৮ শতাংশ জমির পাট কাটা শেষ হলে মোট উৎপাদনের পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে সহজেই ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর পাটের বাজারদর অত্যন্ত সন্তোষজনক। বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতি মণ (৪০ কেজি) পাট বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার ৩শ’ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার মোট প্রত্যাশিত উৎপাদন থেকে স্থানীয় বাজারে পাট বিক্রি করে প্রায় ৫৪৮ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা আয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ রেকর্ড পরিমাণ অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিতে সচল করবে এক বিশাল গতিশীলতা।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম এলাকার পাটচাষি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গতবার পাটের দাম কিছুটা কম থাকায় আমাদের মনে হতাশা ছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এবার ফলনও ভালো হয়েছে আর বাজারে দামও পাচ্ছি খুব ভালো। প্রতি মণ পাট ৪ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি করতে পারছি। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে এ দাম পাওয়ায় ভালো লাভ থাকছে।

মোহনপুর উপজেলার কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, ‘এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাট জাগ দেয়া ও ধোয়া নিয়ে তেমন কোনো বিপাকে পড়তে হয়নি। বর্তমান বাজারে পাটের যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। এ বছর পরিবারের সব খরচ মিটিয়ে বেশ কিছু টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব হবে।’ মৌসুমের প্রথম দিকে বৃষ্টি না হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। পরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় আমরা বেশ উপকৃত হয়েছি।

রাজশাহীতে উৎপাদিত এ সোনালি আঁশ শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটাতেই সীমিত নয়। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এখানকার পাট দেশের বিভিন্ন বড় বড় পাটজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া এসব পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের পর বিভিন্ন পাটপণ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা, সময়মতো উন্নত বীজ ও সারের সহজলভ্যতা এবং বর্তমান বাজারদর এভাবেই বজায় থাকলে আগামী দিনে রাজশাহী অঞ্চলে পাটের আবাদ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বাসস’কে বলেন, রাজশাহী জেলায় এবার মোট ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। এ জমি থেকে ৪৯ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে গত বছর ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল ৪৮হাজার ৬৭৭ মেট্রিক টন। এখন ৪৩০০ টাকা দরে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে। সে অনুযায়ী এবছর পাট বিক্রি করে ৫৪৯ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এ পাট স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাটজাত পণ্য তৈরিকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১০, ২০২৬ ৯:৫১ পূর্বাহ্ন
রাসায়নিক সারের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতে কৃষি বিভাগকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর পরামর্শ
কৃষি বিভাগ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন রাসায়নিক সারের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগকে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। আমন ধান চাষে কোন ধরনের সার ও কৃষি উপকরণের সংকট সৃষ্টি করা যাবে না।

আজ দিনাজপুর জেলা প্রশাসক হলরুম কাঞ্চনে জেলা প্রশাসকের মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সারাদেশের মধ্যে দিনাজপুর একটি সীমান্তবর্তী জেলা। ফলে খুব সহজেই পাশ্ববর্তী দেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য এ জেলায় প্রবেশ করে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক দৃষ্টি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে দেশে মাদক প্রবেশ কঠোর হাতে রোধ করতে হবে।

মাদকের ব্যাপারে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা উল্লেখ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে কঠোর অভিযান চালানোর নির্দেশ নেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদক কারবারি, পরিবহনকারি, মজুদদার, ও মাদক সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, দিনাজপুর খাদ্য উৎপাদনের একটি জেলা, আসন্ন আমন মৌসুমে ধান রোপন কার্যক্রম এখনো চলছে। দেশে সারের কোন সংকট নেই, পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। রাসায়নিক সার সঠিক ব্যবহারের জন্য কৃষি বিভাগকে তিনি নির্দেশ দেন। ধানের জমিতে যে পরিমাণ সার ব্যবহার করা প্রয়োজন, ঠিক সে পরিমাণ সার ব্যবহার করলে ধানের ফলন ভাল হবে। তিনি জেলা প্রশাসককে চাহিদা অনুযায়ী সার প্রাপ্তির জন্য তথ্য প্রেরণের পরামর্শ দেন। সঠিক সময়ের মধ্যেই সারের চাহিদা পূরণ করা হবে বলে, তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে আশ্বস্ত করেন।

জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আইন শৃঙ্খলা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এমপি, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি ও এজেডএম রেজওয়ানুল হক এমপি এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল ও জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।

সভায় পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. গোলাম রসুল রাখি, চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি মো. আবু বকর সিদ্দিক, দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-রিচালক শেখ হাফিজুর রহমান, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান বাবু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২, ২০২৬ ৯:২১ পূর্বাহ্ন
নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা মোকাবিলায় নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে সরকার গবেষণাভিত্তিক কৃষি উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আগামী মৌসুমে হাওর অঞ্চলের জন্য ব্রি ধান-১১৮ অবমুক্ত করা হবে। শীত সহনশীল এ জাতের ধান আগাম রোপণ ও আগাম কর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ফলে আকস্মিক বন্যার আগেই কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন এবং ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

আজ শনিবার কুমিল্লা সার্কিট হাউসে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা জেলার সকল দপ্তর বা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ একথা জানানো হয়।

মাছ রপ্তানি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা

করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী বছর লবণাক্ততা সহনশীল নতুন একটি ধানের জাত অবমুক্ত করা হবে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উপযোগী ফসলের জাত উদ্ভাবনে নিরলসভাবে কাজ করছেন।

মৎস্য বিপণন অবকাঠামো প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা অঞ্চলে মাছের ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। উপযুক্ত সরকারি জমি পাওয়া গেলে ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশের ভোক্তারা সাধারণত মিঠাপানির মাছ তাজা অবস্থায় কিনতে আগ্রহী। তাই সংরক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক বাজারজাতকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ খাতের ভ্যাকসিন উৎপাদন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র সম্প্রসারণে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গবাদিপশুর পাশাপাশি হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিনও অধিক পরিসরে দেশে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং প্রাণিসম্পদ খাত আরও শক্তিশালী হবে।

খাল পুনঃখনন কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর আওতায় চলমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী বছরও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বীজ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে বন্যা-পরবর্তী সময়ে রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ আধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৮, ২০২৬ ৯:২১ পূর্বাহ্ন
চাকরি ছেড়ে ড্রাগন চাষে সাবলম্বী ঝিনাইদহের আবু সাঈদ
কৃষি বিভাগ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর গ্রামের সফল কৃষি উদ্যোক্তা আবু সাঈদ সরকার। চাকরি ছেড়ে ড্রাগন ফল চাষ করে পেয়েছেন ব্যাপক সফলতা। চারা উৎপাদন, ফল বিক্রি ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে সফল উদ্যোক্তার পাশাপাশি আবু সাঈদ এখন সফল ব্যবসায়ী। তবে আবু সাঈদের এই যাত্রা প্রথম দিকে এতটা সহজ ছিল না। পরিচিত লোকজনের কটু কথা ও কয়েক দফা লোকসান গুনেও ড্রাগনের আবাদ চালিয়ে গেছেন এই তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। তার উৎপাদিত ফল এখন সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহরে। এই ফল রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর বাজারে ড্রাগন ফলের শতাধিক পাইকারি আড়ত রয়েছে। এসব আড়তের মধ্যে অন্যতম একটি আবু সাঈদের ফলের আড়ত। ২০২২ সালে প্রথম ‘আয়ান ফল ভান্ডার’ নামে ফলের আড়ত করেন তরুণ আবু সাঈদ সরকার। পরে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আড়তের বেচাকেনা বেড়ে যাওয়ায় তাঁর সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত হন তার বড় ভাই। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

তরুণ এই কৃষি উদ্যোক্তা আবু সাঈদ সরকার বাসস’কে জানান, তিনি একটি এনজিও সংস্থায় ভালো পদে চাকরি করতেন। কিন্তু দেশের বাজারে বিদেশী ফলের চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকায় তার ভেতরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত বিদেশী ফলের আবাদ করার আগ্রহ তৈরি হয়। সেই ভাবনা থেকে ২০২১ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। নিজের দেড় বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করেন। একই সময় নিজের জমিতে কাজ করার পাশাপাশি চাচাতো ভাইয়ের জমিতেও শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন আবু সাঈদ সরকার। ২০২২ সালের শেষদিকে তিনি গৌরীনাথপুর বাজারে ফলের আড়ত চালু করেন। নিজের বাগানের ফল বিক্রির পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকদের কাছ থেকে ফল কিনে তা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ শুরু করেন।

আবু সাঈদ সরকার বাসস’কে বলেন, আমার প্রথম যাত্রা অনেক কঠিন ছিল। অন্যের জমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছি। দিনে চারশ’ টাকা মজুরি পেতাম। কিন্তু তা দিয়ে আমার সংসার চলতো না। তাই, চাকরি ছেড়ে কৃষি কাজ শুরু করায় মানুষ আমাকে নিয়ে নানা রকম কথা বলেছে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। ২০২১ সালের অক্টোবরে ড্রাগন চাষ শুরুর পর থেকে নিজেই চারা উৎপাদন শুরু করি। ভ্যানে করে সেই সব চারা আমি ঝিনাইদহ শহর, কালীগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গায় বিক্রি করতাম। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় আমি ড্রাগনের চারা পাঠাতাম।

তরুণ এই উদ্যোক্তা আরও বলেন, ড্রাগনের চারা বিক্রি করতে গিয়ে অনেক সময় দিনশেষে লোকসান মাথায় নিয়ে ঘরে ফিরতাম। কিন্তু আমি হতাশ হইনি। এভাবে বছর দুয়েক কষ্ট করেছি। তারপর আড়ত চালু করলাম। বেচাকেনা বেড়ে গেল। আড়ত ও ফল বাগানের বিভিন্ন ধরণের ভিডিও বানিয়ে আমি ফেসবুকে ছাড়তাম। মানুষ আমার ভিডিও দেখে ড্রাগন ফলের চারা ও ফল কিনতো। এভাবেই আমার শুরু।

আবু সাঈদ সরকার আরও বলেন, এখন আমার প্রায় ১২ বিঘা জমিতে ড্রাগনের আবাদ রয়েছে। আমার দেয়া চারা থেকে গাজীপুরের মাওনা, চাঁদপুর, কুমিল্লার নিমসার, খাগড়াছড়ি, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ড্রাগন বাগান গড়ে উঠেছে। এখন আমার আড়তে গড়ে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার কেজি ড্রাগন ফলের বেচাকেনা হয়। বাগানেও ড্রাগনের ফলন ভালো এসেছে।

আড়তের বেচাকেনা প্রসঙ্গে তরুণ এই কৃষি উদ্যোক্তা বাসস’কে বলেন, আমি মনে করি, বেকার বলে কিছু নেই। মানুষ কখনো বেকার থাকে না। চাকরির পেছনে না ছুটে অল্প পুঁজি নিয়ে নিজের মতো করে কিছুর করার উদ্যোগ নিলেই তরুণরা সফল হতে পারে। মনে রাখতে হবে, শুরুটা কখনো বড় কিছু দিয়ে হয় না। ছোট কিছু দিয়ে, অল্প অল্প করে শুরু করতে হয়। এভাবে একদিন বড় হওয়া যায়। উদ্যোক্তা হলে বরং আরও মানুষের কাজের সুযোগ করে দেয়া যায়। আমার আড়তে ও ফলের বাগানে অনেকেই এখন কাজ করে। তাদেরও কর্মসংস্থান হয়েছে। মিল, কলকারখানা বা শিল্প নির্ভর ব্যবসায় উদ্যোক্তা হওয়ার চেয়ে কৃষি উদ্যোক্তা হওয়া আমার কাছে নিরাপদ ও গৌরবের। আলহামদুলিল্লাহ এখন অনেক ভালো আছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২, ২০২৬ ৯:২৯ পূর্বাহ্ন
রংপুর অঞ্চলে বাণিজ্যিক কলা চাষে নীরব বিপ্লব
কৃষি বিভাগ

স্বল্প খরচে অধিক লাভের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রংপুর কৃষি অঞ্চলে বাণিজ্যিক কলাচাষে এক নীরব বিপ্লব ঘটেছে। এর মাধ্যমে অনেক কৃষক আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন। উপযোগী মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া, বারবার বাম্পার ফলন এবং সন্তোষজনক বাজারমূল্যের কারণে এ অঞ্চলে কলা চাষ ইতোমধ্যেই অত্যন্ত লাভজনক ও জনপ্রিয় কৃষি উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। তবে যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাবে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কলা নষ্ট হচ্ছে, যা এ সম্ভাবনাময় খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)’র তথ্য অনুযায়ী, রংপুর কৃষি অঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী—এই পাঁচ জেলাতেই কলার চাষ হয়। এ অঞ্চলে সাগর, মালভোগ, চিনি চম্পা ও মেহের সাগরসহ বিভিন্ন জাতের কলার ব্যাপক আবাদ হচ্ছে।

স্বল্প পুঁজি ও কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় অনেক তরুণ ও শিক্ষিত উদ্যোক্তাও এখন কলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তবে সমস্যা দেখা দেয় ফসল সংগ্রহের পর। কলা দ্রুত নষ্ট হওয়া ফল হওয়ায় মাঠ থেকে সংগ্রহের পর দ্রুত বাজারজাত করা না গেলে তা পচে যায়।

ডিএই সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ অঞ্চলের ৪ হাজার ২০৮ হেক্টর জমিতে কলা চাষ করে ১ লাখ ১২ হাজার ৩৫৭ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ হাজার ৩৫৬ হেক্টর জমি থেকে উৎপাদিত হয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ২২৭ মেট্রিক টন কলা।

আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৪ হাজার ৭৭ হেক্টর জমিতে চাষ করে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৬ মেট্রিক টন কলা উৎপাদন করেন কৃষকরা।

উৎপাদিত এসব কলা প্রতিদিন কোটি কোটি টাকায় বিক্রি হয় রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শঠিবাড়ী হাট, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী হাট, ফাঁসিতলা হাট, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন বাজার এবং অন্যান্য স্থানে।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার টাকেয়া গ্রামের কৃষক হামিদুর রহমান, বকুল মিয়া ও আনোয়ার হোসেন জানান, গত কয়েক বছরে কলাচাষ করে তারা ভাগ্য বদলানোর সুযোগ পেয়েছেন।

তবে অধিক পরিমাণে কলা উৎপাদিত হলে কোল্ড স্টোরেজ বা বিশেষায়িত সংরক্ষণাগারের অভাবে বাধ্য হয়ে কম দামে মধ্যস্বত্বভোগী ও ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করতে হয়।
কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘একটু দেরি হলেই কলা নষ্ট হতে শুরু করে। এতে প্রত্যাশিত লাভ পাওয়া যায় না।’

বছরের বিভিন্ন মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে বাম্পার কলা উৎপাদন হলেও এখনো এ অঞ্চলে কোনো প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র বা বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ গড়ে ওঠেনি।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার পাইকানটারী গ্রামের কৃষক মাসুদুর রহমান, সাজু মিয়া ও হাবিবুর রহমান জানান, এক একর জমিতে কলাচাষে এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়।

এক একর জমিতে প্রায় এক হাজারটি কলার চারা রোপণ করা যায়। ফলন ভালো হলে প্রতিটি কাঁদি ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়।

এতে এক একর জমি থেকে বছরে সাড়ে তিন লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

রংপুর সদর উপজেলার কাঠিহারা গ্রামের কৃষক ইসহাক আলী বলেন, কলার পুষ্টিগুণ ও বহুমুখী ব্যবহার বিবেচনায় প্রতিটি বড় কলার হাটের পাশে কোল্ড স্টোরেজ বা বিশেষায়িত সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করা উচিত।

তিনি বলেন, ‘এতে শুধু কৃষক ও ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবেন না, ভোক্তারাও সারা বছর ন্যায্যমূল্যে রাসায়নিকমুক্ত ও টাটকা কলা পাবেন।’

এ বিষয়ে বাসসকে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু বলেন, রংপুর অঞ্চলে আধুনিক কলা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে তা জাতীয় ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য স্বল্পসুদে ব্যাংক ঋণ, কলা সংরক্ষণের উপযোগী তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত কোল্ড স্টোরেজ, কলাভিত্তিক খাদ্যপণ্য উৎপাদনের কারখানা, আধুনিক প্যাকেজিং ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক উপায়ে কলা পাকানোর প্রযুক্তি চালু করা প্রয়োজন।

রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বাসসকে জানান, প্রতিবছরই এ অঞ্চলে কলা চাষের পরিধি বাড়ছে।

তিনি বলেন, ডিএইর উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের ফলে কৃষকরা আত্মনির্ভরশীল হওয়া, নিজেদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কলা চাষ সম্প্রসারণ করছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৯, ২০২৬ ৯:৪২ পূর্বাহ্ন
কৃষিকে পেশা করে সফল উদ্যোক্তা বাউফলের মেহেদী হাসান
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার মেহেদী হাসান (৩০) একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে স্থানীয় মানুষের কাছেও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। তার গড়ে তোলা নার্সারি ও আমবাগানে এ বছর বিভিন্ন জাতের আমের অধিক ফলন হয়েছে। এ বাগানের আম দিয়ে তিনি নিজের পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদেরও আপ্যায়ন করছেন। উদ্বৃত্ত আম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাজারজাত করে ভালো আয় করছেন। কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে তিনি শুধু নিজের ভাগ্যই বদলাননি, এলাকায় সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছেন।

সরেজমিনে উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা মেহেদী হাসানের আমবাগান ও নার্সারি ঘুরে দেখা যায়, গাছে গাছে ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা আমের থোকা। পরিচর্যার কারণে প্রতিটি গাছই বেশ স্বাস্থ্যবান।

বাসসে’র সঙ্গে আলাপকালে মেহেদী হাসান বলেন, তিনি বাউফল সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চাকরির চেষ্টা করেন। কিন্তু চাকরি পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়েন। তাই তিনি চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। তার এ সিদ্ধান্তকে পরিবারের সদস্যরাও সমর্থন করেন। তার বাবা একজন কৃষক ছিলেন। ফলে কৃষিকাজ সম্পর্কে ছোটবেলা থেকেই কিছুটা ধারণা ছিল, যা এ পেশায় মনস্থির করতে সাহস জুগিয়েছে।

মেহেদী জানান, কৃষি খাতে যাত্রার শুরুটা সহজ ছিল না। প্রথম দুই বছর তাকে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। লোকসানও গুনতে হয়েছে কয়েকবার। তবে হাল না ছেড়ে তিনি নার্সারিতে দেশীয় ফলজ ও বনজ গাছের চারা উৎপাদন শুরু করেন। পাশাপাশি মাছ চাষেও মনোযোগ দেন। ধীরে ধীরে তার পরিশ্রমের ফল মিলতে শুরু করে। বর্তমানে তার মাসিক আয় এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে। কৃষিকাজের মাধ্যমে তিনি এখন স্বাবলম্বী জীবনযাপন করছেন।

তার নার্সারি ও আমবাগানে বর্তমানে দুইজন স্থায়ী দিনমজুর কাজ করেন। এছাড়া কৃষি মৌসুমে আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিককে কাজের সুযোগ দেয়া হয়। এতে স্থানীয় অনেক পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। মেহেদী মনে করেন, কৃষি শুধু ব্যক্তিগত আয়ের উৎস নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করারও একটি কার্যকর মাধ্যম।

মেহেদীর বাগানে বিভিন্ন জাতের আমের সমাহার রয়েছে। এর মধ্যে আম্রপালি, বারি-৪, বারি-১১, গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, আশ্বিনা, কাটিমন, মল্লিকা, হারিভাঙ্গা, ব্যানানা ম্যাংগো ও থাই জাতের আম উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন সময় পাকার কারণে এসব আম দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হয়। ফলে তিনি ভালো দামও পান।

স্থানীয় বাজারে তার বাগানের উৎপাদিত আমের কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম বিক্রি করেছেন এবং বাগানে এখনও ৫০ থেকে ৬০ মণ আম রয়েছে বলে জানান তিনি। মৌসুম শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এসব আম বিক্রি করে আরও ভালো আয় হবে বলে আশা করছেন।

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির পাশাপাশি নিজের বাগানের ফল আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বিলিয়ে দেন। প্রতিবেশীদেরও নিয়মিত উপহার হিসেবে আম দেন। এতে সামাজিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয় এবং মানুষ দেশীয় ফল চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তার মতে, কৃষির প্রকৃত আনন্দ শুধু লাভে নয়, নিজের উৎপাদিত ফল অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করাতেও রয়েছে।

মেহেদী জানান, জেলা কৃষি অফিস ও বাউফল উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তিনি নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা পান। সার, বীজ ও রোগবালাই দমন বিষয়ে পরামর্শ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ তাকে আরও দক্ষ করে তুলেছে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

মদনপুরা গ্রামের বাসিন্দা আলতাফ ব্যাপারী (৫৫) বাসস’কে বলেন, মেহেদীকে ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমী ছেলে হিসেবে চিনি। চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে সে যে সফলতা অর্জন করেছে। তিনি আমাদের গ্রামের জন্য গর্বের বিষয়। তার বাগান ও নার্সারি দেখে অনেকেই এখন কৃষিকাজে আগ্রহী হচ্ছেন।

মদনপুরা গ্রামের বাসিন্দা হেলাল মৃধা (৪৫) বলেন, মেহেদী আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করে ভালো ফলন পাচ্ছে। নিয়মিত পরিচর্যা ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুসরণ করে সে যে সফল হয়েছে, তা এলাকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা। তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ইতোমধ্যে অনেকেই নতুন করে ফল চাষ শুরু করেছেন।

মদনপুরা ইউনিয়নের ইমরান হোসেন (৩০) বলেন, মেহেদীর সফলতা আমাকে কৃষিকাজে উদ্বুদ্ধ করেছে। তার পরামর্শে আমি বাণিজ্যিকভাবে মরিচ চাষ শুরু করেছি। এখন ভালো ফলন পাচ্ছি এবং আগের তুলনায় আয়ও বেড়েছে। তরুণদের জন্য তিনি একজন অনুকরণীয় উদ্যোক্তা।

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বাসস’কে বলেন, মেহেদী হাসান একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা। তিনি নার্সারিতে বিভিন্ন দেশীয় ফলজ ও বনজ গাছের চারা উৎপাদনের পাশাপাশি প্রায় ১০০ টি আমগাছের একটি বাগান গড়ে তুলেছেন।

তিনি বলেন, গত বছরের মতো এবারও তিনি আম উৎপাদনে সফল হয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও পরামর্শমূলক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তার এই সাফল্য এলাকার অন্যান্য কৃষকের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ।

 

(বাসস)

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৫, ২০২৬ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
কৃষিতে নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছে ‘কৃষি তথ্য সার্ভিস’
কৃষি বিভাগ

দেশের কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার এবং কৃষকদের দোরগোড়ায় তথ্য সেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ‘কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)’।

প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন এবং মাল্টিমিডিয়া গণমাধ্যমের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে এক নীরব বিপ্লব সৃষ্টি করেছে।

১৯৬১ সালে কৃষি তথ্য সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে ১৯৮৮ সালে এটি ‘কৃষি তথ্য সার্ভিস’ নামে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ফার্ম ম্যাগাজিন ‘মাসিক কৃষিকথা’, আধুনিক ‘কৃষি কল সেন্টার (১৬১২৩)’, ‘কৃষি তথ্য বার্তা’ এবং ডিজিটাল ওয়েব পোর্টাল ও সোশ্যাল মিডিয়াসহ বহুমাত্রিক সেবার মাধ্যমে দেশের কোটি কৃষকের বিশ্বস্ত তথ্যসহযোগীতে পরিণত হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত কৃষি তথ্য সার্ভিস অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ম্যাগাজিন ‘মাসিক কৃষিকথা’র ৮ লাখ ৮৭ হাজার কপি বিতরণ করা হয়েছে। মাত্র ১০ টাকা মূল্যের এই প্রকাশনাটির বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৯৬ হাজার এবং অনলাইন পাঠক ১৫ লক্ষাধিক।

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ প্রদানের কৃষি কল সেন্টার তথ্য পুলে এ সময়ে ৬৯ হাজার ৫৫৫টি কল রিসিভ করে তাৎক্ষণিক সেবা দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ কল আসে।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও চাষিদের জন্য এক লাখ তিন হাজার কৃষি ডায়েরি এবং ২৪ হাজার কপি ‘কৃষি তথ্য বার্তা’ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

আলোচ্য কয়েক মাসে কৃষকদের সচেতনতা বাড়াতে ২ লাখ ৫ হাজার কপি বিভিন্ন লিফলেট, ফোল্ডার, ফেস্টুন ও স্টিকার মাঠ পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে।এ সময়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ওপর তৈরি ৭৫০টি ফিল্ম ও সিনেমা শো প্রদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে ৪২টি কৃষিভিত্তিক পডকাস্ট বা রিলস তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে।

এছাড়াও এআইএস-এর নিজস্ব ওয়েবসাইট (ais.gov.bd) এবং ডিজিটাল ভিডিও পোর্টাল ‘এআইএস টিউব’ (www.aistube.com)-এর মাধ্যমে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি, সফল কৃষকদের গল্প এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্ভাবনসমূহ নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ বেতারের ১৮টি কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) নিয়মিত ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান ‘বাংলার কৃষি’ সমন্বয়ের দায়িত্বও পালন করছে এই সংস্থাটি।

কাজের অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে এআইএস এ পর্যন্ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার লাভ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ জাতীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী পদক (২০১০ ও ২০১১), ই-ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা পুরস্কার (২০১১-১২), আন্তর্জাতিক ‘দি মন্থন অ্যাওয়ার্ড সাউথ এশিয়া’ (২০১২), এম-বিলিয়নথ অ্যাওয়ার্ড (২০১৮), ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ড (২০২০) উল্লেখযোগ্য।

কৃষি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করতে স্মার্ট কৃষির বিকল্প নেই। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে কৃষি তথ্য সার্ভিসকে (এআইএস) আধুনিকায়ন করা, নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন এবং বাজেট বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক মো. মসীহুর রহমান বাসস’কে বলেন, সীমাবদ্ধতা ও কিছু কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের তথ্য সেবা সচল রাখতে শতভাগ আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আমরা ‘মাসিক কৃষিকথা’ বা ‘কৃষি কল সেন্টার’ এর মতো সেবাগুলোকে প্রান্তিক চাষিদের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে পেরেছি। প্রযুক্তির এই যুগে আমরা ডিজিটাল ও স্মার্ট প্ল্যাটফর্মের ওপর জোর দিচ্ছি, যেন দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে একজন কৃষক মুহূর্তেই তার সমস্যার সমাধান পেতে পারেন।

পরিচালক আশা প্রকাশ করে বলেন, চলমান শূন্যপদগুলো পূরণ হলে এবং আমাদের আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেলে আমরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্মার্ট কৃষি রূপান্তরে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক  মো. আব্দুর রহিম বাসস’কে বলেন, কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) দেশের কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের একটি অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ। মাঠ পর্যায়ে আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা যে নতুন প্রযুক্তি বা উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করেন, এআইএস তা গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে কোটি কোটি কৃষকের কাছে সহজবোধ্য করে পৌঁছে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘কৃষি কল সেন্টার’ এবং কৃষি ডায়েরি ও প্রকাশনাগুলো আমাদের মাঠ পর্যায়ের কাজের গতি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

মহাপরিচালক আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ের এই কাজগুলো নিখুঁত সমন্বয়ের ফলেই বাংলাদেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখতে পারছে। উদ্ভূত যেকোনো চ্যালেঞ্জ বা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় এবং আগামী দিনে ‘স্মার্ট কৃষি’ বিনির্মাণে কৃষি তথ্য সার্ভিসের প্রচার ও আইসিটি সক্ষমতা আরও জোরদার করা হবে, যা সামগ্রিক কৃষি খাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop