৪:৫২ পূর্বাহ্ন

মঙ্গলবার, ২৩ জুন , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুন ১৪, ২০২৬ ৯:২৫ পূর্বাহ্ন
সাতক্ষীরায় আঙুর চাষে সফল কৃষক হেলাল উদ্দীন
কৃষি বিভাগ

বিদেশি ফল আঙুর চাষ করে সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কৃষি উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন। পেশায় ট্রাক ড্রাইভার ছিলেন হেলাল উদ্দীন (৪৫)। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা বাইপাস সড়কের বাসিন্দা জিন্নাত মোল্লার পুত্র।

হেলাল উদ্দীন শখের বশে আঙুর চাষ শুরু করলেও তা এখন পরিণত হয়েছে লাভজনক ব্যবসায়। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আঙুর চাষ করাটা অনেকটা অবাস্তব মনে হলেও তিনি তাতে সফল হয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশে আঙুর চাষ করলে তা টক হয় এমন প্রচলিত ধারণাকেও তিনি ভুল প্রমাণ করেছেন। আর তার এই কাজে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী আলেয়া বেগম।

সরজমিনে দেখা যায়, মাচার নিচে সারি সারি ঝুলে আছে থোকা থোকা আঙুর। সবুজ পাতার ফাঁকে কোথাও লাল, কোথাও কালো, কোথাও হলুদ, কোথাও আবার সবুজ রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো বাগান। দেখতে যেমন : অপরূপ সুন্দর, স্বাদেও তেমনি মিষ্টি।

হেলাল উদ্দীন জানান, তিন বছর আগে ইউটিউব দেখে শখের বশে বাড়ির আঙিনায় দুটি আঙুরের চারা রোপণ করেছিলেন। প্রথম বারেই সেখানে ভালো ফলন পাওয়ায় আঙুর চাষে তার আগ্রহ বাড়ে। দ্বিতীয় বছরেও ভালো ফলন পান। এরপরই সাতক্ষীরা শহরের বাইপাস এলাকায় ১৫ কাঠা জমিতে গড়ে তুলেছেন এই আঙুর বাগান। বর্তমানে তার বাগানে আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ইউক্রেন ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০ প্রজাতির আঙুর চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আঙুর চাষ করলে ফল টক হয় এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন হেলাল উদ্দিন।

সরেজমিনে দেখা যায়, হেলাল উদ্দীনের এই আঙুর বাগান দেখতে ভিড় করছেন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন আঙুর চাষের। হেলাল উদ্দিনের মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরে সাতক্ষীরায় কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্যও তৈরি হতে পারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।

হেলাল উদ্দীনের স্ত্রী আলেয়া বেগম জানান, প্রথমে ইউটিউব দেখে আমার স্বামী দুটি আঙুরের চারা দুই হাজার টাকা দিয়ে কিনে তা বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেছিলেন। এরপর আমি তাকে বকাবকি করেছিলাম, আঙুর কী বাংলাদেশে হয়? এত টাকা দিয়ে কেনার কী প্রয়োজন? তবে, আমার স্বামী এসময় আমাকে বলেন, দেখি না কী হয়। একপর্যায়ে কিছুদিন পর ওই গাছে ফল আসলে আমাদের ধারণাই পরিবর্তন হয়ে যায়। ওই ফল খুবই মিষ্টি এবং সুস্বাদু হয়। এরপর বাইপাসে ১৫ কাঠা জমিতে এই আঙুর বাগান করেছি। এই বাগানের বয়স ৯ মাস। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১২৬ টি গাছ রয়েছে। এখানে আমি আমার স্বামীর সাথে বাগান পরিচর্যা করি। মাশাল্লাহ, আমাদের বাগানে ভালো আঙুর হয়েছে এবং তা খুব মিষ্টি ও সুস্বাদু।

কৃষি উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দীন বলেন, আজ থেকে তিন বছর আগে শখের বশে বাড়ির আঙিনায় দুটি আঙুর গাছের চারা লাগাই। ওই চারা থেকে আমি ভালো ফলনও পাই। এরপর সিদ্ধান্ত নিই বাণিজ্যিকভাবে আঙুরের চাষ করবো। সেই ভাবনা থেকেই ৯ মাস আগে শহরের বাইপাস এলাকায় বছরে ১৫ হাজার টাকা করে দিয়ে ১৫ কাঠা জমি বর্গা (লিজ) নিয়ে আঙুর চাষ শুরু করি। সেখানে আমার মোট খরচ হয়েছিল প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। আল্লাহর রহমতে বর্তমানে আমার বাগানে আঙুরের যথেষ্ট ভালো ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে আঙুরের প্রথম চালান বিক্রি করে আমার খরচ উঠে গেছে। আঙুর চাষে প্রথম একবারই খরচ করতে হয়। এরপর গাছের পরিচর্যা ছাড়া আর কোনো খরচ নেই। এই গাছ ৪০ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে এবং ১২ মাস ফল দেয়।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে আঙুরের ফলন বেশি হয়। দেশের বর্তমান আবহাওয়ায় এই ফল চাষে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়েনি। তাই আমার মতো যে কেউ এখন বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করতে পারেন। আমার এখানে বর্তমানে কালো, লাল, সবুজ ও হলুদসহ ২০ প্রজাতির আঙুর গাছ রয়েছে। আমি আরো ১ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে সেখানে কাজ শুরু করেছি। সঠিক জাত নির্বাচন ও পরিচর্যার মাধ্যমে দেশীয় মাটিতেও উন্নত মানের মিষ্টি আঙুর উৎপাদন সম্ভব বলে জানান তিনি।

আঙুরের বাগান দেখতে আসা সাতক্ষীরা শহরের একরামুল ইসলাম জনি বলেন, সাতক্ষীরায় এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ হয়েছে। তাই আমার বন্ধু আবির হোসেনকে নিয়ে এই বাগানটি দেখতে এসেছি। বাগানটি দেখে খুবই ভালো লেগেছে আমাদের। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই বাগান থেকে কিছু চারা নিয়ে আঙুরের বাগান করবো। এখানে আঙুরের ভালো ফলন হয়েছে। আমরা খেয়েও দেখেছি, এখানকার আঙুর খুব মিষ্টি ও সুস্বাদু। কৃষি বিভাগ যদি আঙুর চাষীদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করে, তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এই আঙুর বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মনির হোসেন বলেন, আঙুর একটি নতুন ফসল হিসেবে সাতক্ষীরায় এর আবাদ শুরু হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার দুই জন কৃষক প্রাথমিকভাবে এই আঙুর চাষ শুরু করেছেন। এখানে ২০ থেকে ৮০ জাতের আঙুর চাষ হচ্ছে। আমাদের যে পতিত জমিগুলো রয়েছে সেখানে আঙুর চাষ করা গেলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

তিনি বলেন, জেলায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর উৎপাদন করতে পারলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলায় আঙুর বিক্রি করা যাবে। আবহাওয়া ও মাটির গুনগুনের ভিত্তিতে সাতক্ষীরার আম ও কুলের যেমন : স্বাদ রয়েছে, ঠিক তেমনি আঙুরের স্বাদ যদি আমরা একইভাবে আনতে পারি, তাহলে আঙুরেরও ব্যাপক চাহিদা থাকবে। সাতক্ষীরার পতিত জমিগুলো ব্যবহার করে আঙুর চাষ করা গেলে কৃষিতে আরো একধাপ উন্নতি হবে বলে আমি মনে করি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১০, ২০২৬ ৯:১৫ পূর্বাহ্ন
পটুয়াখালীতে কাঁঠাল চাষে পুষ্টি ও অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠালকে ঘিরে পটুয়াখালী জেলায় তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। পুষ্টিগুণে ভরপুর ও অর্থকরী এ ফলের চাষ দিন দিন কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির কারণে জেলায় কাঠাল চাষ সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া গেলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হতে পারবেন জেলার কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো. আমানুল ইসলাম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে বলেন, বর্তমানে জেলায় ৫২৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হয়েছে। এ বছর জেলায় মোট কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৬২ মেট্রিক টন। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন হচ্ছে ৮ দশমিক ৩ মেট্রিক টন।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে কাঁঠাল গাছের সংখ্যা ৪৭ হাজার ২৫০টি। জনসংখ্যা ২৭ লাখ ৫১ হাজার ১৫০ জন। সেই হিসেবে বছরে একজন মানুষের সম্ভাব্য কাঁঠালের চাহিদা ধরা হয়েছে ১০ কেজি। এতে জেলায় বছরে মোট কাঁঠালের চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ২৭ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন। অথচ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৪ হাজার ৩৬২ মেট্রিক টন। ফলে প্রতি বছর প্রায় ২৩ হাজার ১৪৯ মেট্রিক টন কাঁঠালের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

তবে এই ঘাটতিকেই সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষিবিদদের মতে, জেলার পতিত জমি, বসতভিটা ও রাস্তার পাশের খালি জায়গাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে কাঁঠাল গাছ রোপণ করা গেলে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

ড. মো. আমানুল ইসলাম বলেন, ‘কাঁঠাল শুধু সুস্বাদু ফলই নয়, এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক।

বর্তমানে বাজারে কাঠালের চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি কাঁঠালের চিপস, জুস ও প্রক্রিয়াজাত বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের বাজারও তৈরি হচ্ছে। তাই কৃষকদের এখন থেকেই বাণিজ্যিকভাবে কাঁঠাল চাষে আগ্রহী হওয়া প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘পটুয়াখালীর মাটি ও জলবায়ু কাঁঠাল চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও পরিচর্যা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।’

জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য অনেক ফলের তুলনায় কাঁঠাল গাছের পরিচর্যায় খরচ কম। একবার গাছ বড় হয়ে গেলে দীর্ঘদিন ফলন পাওয়া যায়। ফলে এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক ফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে বাড়ির পাশে কয়েকটি কাঁঠাল গাছ ছিল। এখন বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় নতুন করে আরও গাছ রোপণ করেছি। কাঁঠালের চাহিদা প্রতি বছর বাড়ছে।’

পুষ্টিবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঁঠাল মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং শরীরের পুষ্টি ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কৃষি বিভাগ মনে করছে, জাতীয় ফল হিসেবে কাঁঠালের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সচেতনতা ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন জরুরি। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে চারা বিতরণ, কৃষক প্রশিক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা গেলে পটুয়াখালীতে কাঁঠাল হতে পারে সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল।

সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কৃষকদের আগ্রহ বাড়লে আগামী কয়েক বছরে পটুয়াখালী জেলায় কাঁঠালের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এতে একদিকে যেমন জেলার পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে কৃষকদের আয়ও বাড়বে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২, ২০২৬ ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
নীলফামারীতে বোরো ধান সংগ্রহ শুরু
কৃষি বিভাগ

নীলফামারী জেলার সদর উপজেলায় আজ বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে খাদ্য বিভাগ। সোমবার বিকেলে নীলফামারী খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আলফারুক আব্দুল লতীফ।

এ সময় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সৈয়দ আতিকুল হক, উপজেলা খাদ্য নিযন্ত্রক মো. সোহেল রানা, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক আহমেদ, নীলফামারী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের মো. আব্দুর রহমান নামের এক কৃষকের কাছ থেকে ৩ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করে মূল্য পরিশোধ করা হয়।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সোহেল রানা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সদর উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে দুই হাজার চারশ’ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হযেছে। এজন্য লটারীর মাধ্যমে ৮৪৫ জন কৃষককে নির্বাচিত করা হয়েছে। লটারীতে নির্বাচিত প্রত্যেক কৃষক সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন করে ধান সরকারি খাদ্য গুদামে সরবরাহ করতে পারবেন। এ ছাড়া চলতি মৌসুমে মিল মালিকদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৭১ মেট্রিক টন চাল এবং ৭৭১ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৭, ২০২৬ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
নাটোরে অভ্যন্তরীণ খাদ্য শস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু
কৃষি বিভাগ

নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলায় আজ অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল এবং গম সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার উপজেলার বনপাড়া খাদ্যগুদামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের জাহাঙ্গীর, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মাহাবুবা পারভীন, উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সম্পাদক কিশোর কুন্ডু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ডালিম কাজী জানান, চলতি মৌসুমে বড়াইগ্রাম উপজেলায় চালকল মালিকদের কাছ থেকে ৪৯ টাকা কেজি দরে নয়হাজার ২৩৮ মেট্রিক টন বোরো চাল, প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ৩৬ টাকা দরে পাঁচশ’ মেট্রিক টন বোরো ধান এবং ৩৬ টাকা দরে ৮২০ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ সময় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, অভ্যন্তরীণ খাদ্য শস্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার ফলে কৃষকদের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি সরকারী গুদামে খাদ্য মজুত থাকায় অভ্যন্তরীণ বাজার মূল্য স্থিতিশীল থাকবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১১, ২০২৬ ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীতে ১৫ মে থেকে আম সংগ্রহ শুরু
কৃষি বিভাগ

রাজশাহী জেলায় চলতি মৌসুমে আগামী ১৫ মে থেকে আম সংগ্রহ শুরু হচ্ছে। এ দিন থেকে গুটি জাতের আম বাজারে আনা যাবে। এরপর ধাপে ধাপে জেলায় উৎপাদিত বিভিন্ন সুস্বাদু আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় আজ বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ সময় আমচাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ, ৩০ মে থেকে হিমসাগর বা খিরসাপাত বাজারজাত করা যাবে। এছাড়া ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও বানানা ম্যাংগো, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি সংগ্রহের অনুমতি থাকবে।

পরবর্তী ধাপে ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম নামানো যাবে। অন্যদিকে কাটিমন ও বারি আম-১১ জাতের আম সারা বছরই সংগ্রহ করা যাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় আরও জানানো হয়, কিছু গুটি আম আগেই পেকে যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে সেসব আম নির্ধারিত সময়ের আগেও সংগ্রহ করা যাবে।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, অপরিপক্ব আম বাজারে আসা ঠেকাতে এবং ভোক্তাদের নিরাপদ ও মানসম্মত আম নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে গাছ থেকে আম নামিয়ে বাজারজাত করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৬, ২০২৬ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীতে ধান কাটা মাড়াই শুরু, ভাল ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
কৃষি বিভাগ

রাজশাহীর বিস্তৃত বরেন্দ্র অঞ্চলজুড়ে এখন বইছে সোনালি ধানের সুবাস। তীব্র দাবদাহ আর তপ্ত রোদকে উপেক্ষা করে জেলার কৃষকরা মেতে উঠেছেন চলতি মৌসুমের বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের উৎসবে। গত প্রায় এক সপ্তাহ আগে জেলায় ধান কাটার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। বর্তমানে পুরোদমে চলছে ফসল ঘরে তোলার কাজ। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, পুরো মে মাসজুড়ে চলবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলা এবং মেট্রোপলিটন এলাকার বোয়ালিয়া ও মতিহার থানা এলাকায় মোট ৬৮ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় ফসলের অবস্থা বেশ সন্তোষজনক। কৃষি বিভাগ এবার জেলায় মোট ৩,২৭,৫৪৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, হেক্টর প্রতি গড় ফলন পাওয়া যাচ্ছে ৪.৭০ মেট্রিক টন। রাজশাহীর মাঠে এবার ধানের জাতের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। কৃষকরা তাদের পছন্দ এবং জমির ধরন অনুযায়ী মোট ৩৫টি ভিন্ন ভিন্ন জাতের ধানের চাষ করেছেন। এরমধ্যে উচ্চ ফলনশীল ব্রি-ধান এবং বিভিন্ন আধুনিক হাইব্রিড জাতের প্রাধান্য বেশি।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করার ফলে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি যেমন কমেছে, তেমনি পর্যায়ক্রমে ধান পাকায় শ্রমিক ব্যবস্থাপনাও সহজ হচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জেলার মোট আবাদের প্রায় ১০ শতাংশ ধান কাটা ও মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। শুরুতে যেসব জাতের ধান কাটা হয়েছে, সেগুলোর ফলন ‘মোটামুটি’ হলেও কৃষি বিভাগ এবং সাধারণ কৃষকদের আশা-দিন বাড়ার সাথে সাথে ফলনের হার আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে যখন দীর্ঘমেয়াদী এবং উচ্চ ফলনশীল জাতগুলো পুরোপুরি কাটা শুরু হবে, তখন গড় ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, ভোরের আলো ফুটতেই কাস্তে আর পান্তা ভাত নিয়ে মাঠে ছুটছেন কৃষকরা। কোথাও সনাতন পদ্ধতিতে কাস্তে দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে।

আবার কোথাও কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের সাহায্যে দ্রুত ধান কাটা ও মাড়াই চলছে। মাড়াইয়ের পর ধান রোদে শুকানো এবং গোলাজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাড়ির কৃষাণীরাও।

সাইমন নামের এক কৃষক বাসস’কে বলেন, ধান কাটতে শুরু করেছি। আশা করছি ঝড় ও বৃষ্টি না হলে সব ধান ভালভাবে ঘরে উঠবে। ফলন ভালই হচ্ছে।

পবা ও গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষকরা জানান, গত এক সপ্তাহের আবহাওয়ায় তারা স্বস্তিতে আছেন। যদি এই মাস জুড়ে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ঝড়-বৃষ্টি না হয়, তবে নির্বিঘ্নে সোনালি ফসল ঘরে তুলতে পারবেন তারা।

জেলা কৃষি কর্মকর্তারা বাসস’কে জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ে ধান কাটা তদারকি এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে তারা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। মে মাসের শেষ নাগাদ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সিংহভাগ ধান কৃষকের গোলায় উঠবে বলে তারা আশাবাদী। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল হলে রাজশাহীর খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বাসস’কে বলেন, গত সপ্তাহ থেকেই রাজশাহীতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। বোরো ধান কোন সমস্যা ছাড়াই ঘরে তুলতে পেরে খুশি কৃষকরা। ফলন ভালো হচ্ছে। সামনের যে ধানগুলো কাটা বাকি রয়েছে সেগুলোতে আরো ভালো ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভালো ফলন পেতে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পুরো মাস জুড়েই বোরো ধান কাটার কার্যক্রম চলবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৩, ২০২৬ ৯:২২ পূর্বাহ্ন
ঝড়-বৃষ্টিতে বোরোর ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় ঝিনাইদহের ধান চাষিরা
কৃষি বিভাগ

ঝিনাইদহ জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাাচ্ছে পাকা বোরো ধান। দিগন্ত জোড়া ধান ক্ষেতের আলোয় ছড়িয়ে পড়েছে সোনালি আভা। মৃদু বাতাসে মাঠ জুড়ে দুলছে চকচকে সোনালী ধানের শীষ। চলতি মৌসুমে ধানের ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে প্রশান্তির হাসি।

আগামী তিন সপ্তাহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো ধানের ব্যাপক ফলন হবে বলে আশা করছেন ঝিনাইদহের ধান চাষিরা। তবে গত কয়েকদিনের মাঝারি বৃষ্টিতে অনেক মাঠে ধানের গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এতে লোকসান ও ফসলহানীর আশঙ্কায় আছেন তারা।

সরেজমিনে জেলার কোটচাঁদপুর, সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল, কালীগঞ্জ ও মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন মাঠে বোরো ধানের ব্যাপক ফলন দেখা গেছে। এরই মধ্যে কিছু কিছু এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে।

কয়েকদিন ধরে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকার পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় আছেন কৃষকেরা। অনেক মাঠে পড়ে আছে কাটা ধানের গোছা। মাঠ ভেজা থাকায় ফসল বাড়িতে নিতে বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা। আগামী কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টি আরও বাড়লে শেষ মুহুর্তেও ফসলহানী হতে পারে ।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ৯০ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বোরো ধানের আবাদ কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে জেলার ৬টি উপজেলায় মোট প্রায় ৯০ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আবহাওয়ার প্রতিকূল পরিস্থিতি কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

সূত্র জানায়, এরই মধ্যে জেলার ২১ হাজার ২১০ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। যা মোট আবাদি জমির প্রায় ২৪ শতাংশ। আগামী দুই সপ্তাহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ ধান কর্তন ও অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন কৃষকরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সাথে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী কয়েকদিন ঝিনাইদহ জেলার অধিকাংশ এলাকার ওপর দিয়ে হালকা দমকা হাওয়ার সাথে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মহেশপুর উপজেলার হুদা শ্রীরামপুর গ্রামের বোরো চাষি নাজমুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ধান পেকে গেছে। পাকা ধান এখনো মাঠে রয়েছে। বৃষ্টির আশঙ্কায় কাটতে পারছিনা। কাটা ধান বৃষ্টির পানিতে বেশি নষ্ট হয়। শেষ বেলায় এসে ধান নিয়ে খুব চিন্তায় পড়েছি।

সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের কৃষক শামীম হোসেন ও কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের শেখ জসিম উদ্দিন জানান,  আর ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে তাদের মাঠের ধান কাটা শুরু হবে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মাঠে এখনো পানি জমে আছে। ধানের ফলন এবার খুব ভালো। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টি হলে ধান ঘরে তোলা কষ্ট হয়ে যাবে। শেষ সময়ে ধানের ক্ষতি হয়ে গেলে কৃষকের কষ্টের শেষ থাকবে না।

কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের গুড়পাড়া গ্রামের কৃষক রশিদ হোসেন বাসসকে বলেন, ‘একদিকে মাঠে পাকা ধান, আরেক দিকে হাড়েফাড়ে মেঘ। কি দিয়ে কি করব বুঝতে পারছিনা। ধানের ফলন দারুণ হয়েছে। কিন্তু সেই ধান ভালো ভাবে ঘরে তুলতে না পারলে কোনো লাভ নেই। সেই সাথে ধানকাটা শ্রমিকও কমে গেছে। নিচু জমির ধান হারভেস্টার মেশিন দিয়ে অনেকেই কেটে নিয়ে আসছে। কিন্তু ডাঙার জমির ধান হারভেস্টার দিয়ে কাটলে তো হবে না।’

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বাসসকে বলেন, চলতি মৌসুমে জেলার সব উপজেলায় বোরো ধানের ব্যাপক ফলন হয়েছে। আশা করছি, কৃষক এবার ধানের ভালো দামও পাবেন।

তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে জেলা জুড়ে বোরো ধান কাটার তোড়জোড় শুরু হবে। তবে আবহাওয়ার পরিস্থিতিই এখন কৃষকের চিন্তার বড় কারণ। ঝড়-বৃষ্টি বা টানা বৃষ্টিপাত হলে বোরো ধান নিয়ে কৃষকের কষ্ট বাড়বে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষক পর্যায়ে জানাতে আমাদের মাঠকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৩০, ২০২৬ ৯:০১ পূর্বাহ্ন
সার্ককে শক্তিশালী করে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষির উন্নয়ন সম্ভব: নজরুল ইসলাম খান
কৃষি বিভাগ

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সার্ককে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। তিনি বলেন, কৃষি এ অঞ্চলের অর্থনীতির মূলভিত্তি এবং এর টেকসই উন্নয়নে আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই।

আজ মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘ডেভেলপমেন্ট পার্টনারস অ্যান্ড ইনভেস্টরস’ সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি এ লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

সার্ক কৃষি কেন্দ্র (এসএসি), গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশন (গেইন) বাংলাদেশ এবং ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই)- দক্ষিণ এশিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সভায় তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিএনপি সরকার দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের সকল দেশের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তারই অংশ হিসাবে সার্ক কার্যক্রম পুনরিজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সার্ক ও বিমসটেক) এ কে এম শহীদুল করিম। বক্তব্য রাখেন আইএফপিআরআই দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক ড. শহিদুর রশীদ, সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার, গেইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার এবং সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (লাইভস্টক) ড. মো. ইউনুস আলী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ৯:১৬ পূর্বাহ্ন
তিস্তা প্রকল্পে ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয়, সুফল পাচ্ছেন ১০ লাখ কৃষক
কৃষি বিভাগ

উত্তরের চার জেলার কৃষকদের জন্য তিস্তা সেচ প্রকল্প আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সমস্যায় যখন ভুগছিলেন কৃষকরা তখন তাদের আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে এই সেচ প্রকল্প। নির্বিঘ্নে পানি পাওয়ায় উৎপাদন বাড়ার প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা। চলমান বোরো মৌসুমে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দেশের অনেক স্থানে সেচ কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। আর এই সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান।

তবে উত্তরের নীলফামারী, দিনাজপুর, বগুড়া ও রংপুর এ ৪ জেলায় কোনো ধরনের বাড়তি বিড়ম্বনা ছাড়াই তিস্তা সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবহার করে নিরবচ্ছিন্নভাবে বোরো আবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রায় ৪ জেলার ১০ লাখ কৃষক। ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত সেচের তুলনায় সাশ্রয়ী ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হওয়ায় প্রতি বছরই এ প্রকল্পের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। ফলে প্রতিবছরই বাড়ছে আবাদি জমির সংখ্যা। যদি তিস্তা খনন করে এই ক্যানেলগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়, তাহলে উৎপাদন বাড়বে আরও কয়েক গুণ বলে দাবি কৃষকদের।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রধান সম্প্রসারণ কর্মকর্তার (কমি.ডেভো) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি (২০২৫-২৬) বোরো মৌসুমে উত্তরের চার জেলার মোট ১২ উপজেলার ৫০ হাজার হেক্টর জমি তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় এসেছে। প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী জেলার পাঁচটি উপজেলায় (সদর, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর) ৩২ হাজার হেক্টর, দিনাজপুর জেলার তিনটি উপজেলায় (খানসামা, চিরিরবন্দর ও পার্বতীপুর) ছয় হাজার হেক্টর, বগুড়ায় ২৩ হাজার হেক্টর এবং রংপুর জেলার চারটি উপজেলায় (সদর, গংগাচড়া, তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ) ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে। তিস্তা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে বিভিন্ন খালের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সম্প্রতি সরজমিনে দেখা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার সয়রা বাড়ি ও বাকপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার খালের (এস আটটি) মাধ্যমে তিস্তা নদীর পানি এনে প্রায় ১৩০ একর জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে নদীতে ৮-৯ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছে, যা গত বছরের এ সময়ে ছিল মাত্র তিন হাজার কিউসেক। তিস্তা প্রকল্পের এমন সেচ ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট স্থানীয় কৃষকেরা।

গংগাচড়ার বড়বিল ইউনিয়নের কৃষক আব্দুস সালামের সঙ্গে আপলাপকালে বলেন, অন্য উৎস থেকে এক একর জমিতে সেচ দিতে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে তিস্তা প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে মাত্র ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় সেচ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি এক একর জমিতে ৮৫-৯০ মণ ফলনের আশা করছেন।
কৃষকদের মতে, তিস্তার পানিতে থাকা পলি মাটির উর্বরতা বাড়ায়।

আলমবিদিতর ইউনিয়নের পানি ব্যবস্থাপনা দলের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী বলেন, ‘তিস্তার পানিতে পলি থাকায় জমিতে একটি আস্তরণ তৈরি হয়, যা দীর্ঘক্ষণ পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত হওয়ায় রাসায়নিক সারের ব্যবহার অনেকাংশে কমে আসে। ফলে অন্য সেচ ব্যবস্থার তুলনায় এখানে বিঘা প্রতি ৩-৪ মণ ফলন বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

তবে সুফল থাকলেও কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বাকপুর পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মালেক জানান, ফেব্রুয়ারির আগে পানি না পাওয়ায় অনেককে বীজতলা তৈরির সময় বিকল্প উৎস ব্যবহার করতে হয়েছে। এছাড়া কাঁচা খালে ইঁদুরের গর্ত এবং উঁচু-নিচু জমিতে পানি পৌঁছানোর সমস্যা তো রয়েছেই।

এছাড়া নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় কিছু খালের সংস্কারকাজের জন্য সাময়িকভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জানুয়ারির শুরু থেকেই পানি সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ বিদ্যমান সমস্যা দূর করার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় কৃষকরা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. মিজানুর রহমান বাসস’কে বলেন, ‘তিস্তা সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে। চৈত্র মাসে আগাম বৃষ্টির কারণে এবার নদীতে পানি বেশি, জলবায়ু পরিবর্তনের সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা।’

সেচের সময় এগিয়ে আনার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ধান, তামাক, ভুট্টাসহ ভিন্ন ভিন্ন ফসলের কারণে সেচের সময় সমন্বয় করতে হয়। কৃষকরা যদি একই ধরনের ফসল আবাদ করেন, তবে এ সমস্যা নিরসন সম্ভব। বেশকিছু খালের সংস্কারকাজ চলায় এ বছর জমির পরিমাণ আর বাড়ানো সম্ভব হয়নি, তবে আগামী দুই মাস এ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২০, ২০২৬ ৯:০৩ পূর্বাহ্ন
সংরক্ষিত ধানের ক্ষতি কমাতে র্স্মাট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন
কৃষি বিভাগ

দেশে ফসল উত্তোলন-পরবর্তী ক্ষতি কমিয়ে কৃষিকে আরও টেকসই ও আধুনিক করার লক্ষ্যে একটি উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আউয়াল।

সংরক্ষিত ধানকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে তিনি এই স্মার্ট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘গ্রেইন গার্ড’।

এটি এমন একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাইস, যা শ্রাব্যতার অতীত উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির শব্দতরঙ্গ তৈরি করে। এই তরঙ্গ ধানের ক্ষতিকর পোকা ‘রাইস উইভিল’-এর স্নায়ুতন্ত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং তাদের চলাচল, খাদ্য গ্রহণ ও প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। ফলে পোকাগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে শস্য থেকে সরে যায়। এতে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই শস্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

প্রধান গবেষক ড. মো. আব্দুল আউয়াল জানান, ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট আল্ট্রাসনিক পেস্ট কন্ট্রোল সিস্টেম ফর পোস্ট-হারভেস্ট লস রিডাকশন ইন স্টোরড প্যাডি’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় পাঁচ বছর আগে ২০২০ সালে এর গবেষণা শুরু হয়। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার (বাউরিক)-এর অধীনে এজ (ইডিজিই) সাব-প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় দেড় বছর মেয়াদি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। তার নেতৃত্বে এবং সহযোগী গবেষক অধ্যাপক ড. এহসানুল কবিরের অংশগ্রহণে একটি গবেষক দল ‘গ্রেইন গার্ড’ যন্ত্রটির উন্নয়ন, নকশা, পরীক্ষামূলক বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ে যাচাই সম্পন্ন করেছে।

ড. মো. আব্দুল আউয়াল জানান, এই স্মার্ট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তি কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই সংরক্ষিত ধানকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম। ফলে এটি পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর একটি সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তিনি বাসসকে জানান, যন্ত্রটি কয়েকমাস আগেই সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে গেছে। এখন বাণিজ্যিকভাবে বিপণনের অপেক্ষায় আছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যন্ত্রটি বাণিজ্যিকভাবে বিপণনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে এসিআই মোটরস লিমিটেড উল্লেখযোগ্য।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বাসসকে আরো জানান, খুবই কম খরছে এই ডিভাইসটি বাজারজাত করা সম্ভব হবে। বাণিজ্যিকভাবে এটি তৈরি করা গেলে খুবই কম খরচে বাজারজাত করা যাবে। উৎপাদক প্রতিষ্ঠান তাদের লাভ্যাংশ যুক্ত করে বাজারে ছাড়ার পরও এর দাম কোনোভাবেই দুই হাজার টাকার বেশি হবে না। বরং এর অনেক কম হবে।

তবে বাজারজাতের ক্ষেত্রে বড় বাধা হচ্ছে নকল করে ডিভাইস তৈরি করা। প্রতারক চক্র নকল ডিভাইস তৈরি করে বাজারে বিক্রির মাধ্যমে মানুষকে প্রতরাণার ফাঁদে ফেলে দেয়। প্রতিকার হিসেবে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে পেটেন্ট রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন বলেও জানিয়েছেন। আইপি আবেদনও সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন ড. মো. আব্দুল আউয়াল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্মার্ট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়ন হলে দেশে সংরক্ষিত ধানের ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং কৃষিখাতে টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ধানের সংরক্ষণকালীন সময়ে মোট ধানের প্রায় ৭ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হয়। এর প্রধান কারণ পোকামাকড়ের আক্রমণ। দেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া পোকা ও ছত্রাকের বিস্তারের জন্য অনুকূল হওয়ায় এই ক্ষতি আরও বেড়ে যায়।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যদি দেশের মোট ধান উৎপাদনের মাত্র ৫ শতাংশ ক্ষতিও রোধ করা যায়, তাহলে বছরে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকার সাশ্রয় সম্ভব। পাশাপাশি ধানের বীজের অঙ্কুরোদগম হার অন্তত ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন বীজ সাশ্রয় হবে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop