বন্যায় গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে সুনামগঞ্জের চাষী-খামারিরা!
কৃষি বিভাগ
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মানুষ গবাদিপশুগুলোকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে। বন্যাকবলিত মানুষ কোনোরকমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করলেও গবাদিপশুদের নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে রেখে আসছে।
উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহখানেক ধরে থেমে থেমে চলা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে প্রবল বেগে নদ–নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে।
গতকাল রাত ৯টার মধ্যেই এ উপজেলার বেশির ভাগ সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে সড়কপথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষের ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকেই নিজ গ্রাম ছেড়ে পাশের বিদ্যালয়গুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।
মাইজবাড়ী গ্রামের আলী আজগরের (৫৮) বাড়িতেও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। কোনোরকমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরের ভেতরে থাকলেও গবাদিপশুগুলোকে পাশের বিদ্যালয়ের বারান্দায় রেখেছেন।
ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বীর দক্ষিণ গ্রামের কৃষক ছোটন মিয়া (৩৫)। মাসখানেক আগে বাড়ির গোয়ালঘরে মাচা করে সেখানে ৪০ মণ শুকনা ধান রেখেছিলেন। তবে বন্যার পানিতে তাঁর গোয়ালঘর ও বসতঘরে পানি ঢুকেছে। তড়িঘড়ি করে কোনোরকমে ধান, গবাদিপশুগুলোকে পাশের একটি বিদ্যালয়ে আশ্রয় রেখেছেন।
উপজেলার মধ্যনগর বাজারের বাসিন্দা আলা উদ্দিন বলেন, যত সময় যাচ্ছে বন্যা পরিস্থিতির ততই অবনতি হচ্ছে। উপজেলার মধ্যে মধ্যনগর বাজারটি সবচেয়ে বড় বাজার। এই বাজারের রাস্তাসহ সবস্থানেই এখন হাঁটুসমান পানি। এই বাজারের ধানের আড়তগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় হাজার হাজার মণ ধান বন্যার পানিতে নষ্ট হচ্ছে। বন্যাকবলিত মানুষদের জন্য দ্রুত শুকনা খাবার ও ত্রাণ পাঠানোর জন্য দাবি জানান তিনি।












