৩:৩০ অপরাহ্ন

শনিবার, ১৪ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ১২, ২০২২ ৩:৫০ অপরাহ্ন
পেয়ারার এক ফলনে মেহেদীর লাভ ১০ লাখ টাকা
কৃষি বিভাগ

মেহেদী হাসান। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের একজন তরুণ। সম্প্রতি পেয়ারা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বদলে গেছে তার ভাগ্যের চাকা। এবারের ফলনে বিঘাপ্রতি দেড় লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি করেছেন তিনি। খরচ বাদ দিয়ে লাখ টাকা করে লাভ হয়েছে তার। 

ঘোড়াঘাট উপজেলার রাণীগঞ্জের মহাসড়কের পাশ দিয়ে তৈরি হয়েছে ১০ বিঘা জমির উপর একটি পেয়ারা বাগান। এটি তৈরি করেছেন মেহেদী হাসান, নিজেকে স্বাবলম্বী করার আশায় তার পেয়ারা চাষ। দেড় বছর আগে তিনি এই ১০ বিঘা জমিতে সাড়ে ৪ হাজার থাই জাতের পেয়ারার চারা লাগান। চারা লাগানোর ৬ মাসের মধ্যে প্রতিটি গাছে পেয়ারা ধরতে থাকে। আবার ৬ মাসের মধ্যে পেয়ারা বাজারজাত করেছেন তিনি। প্রায় ১৫ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি করেন। খরচ হয়েছে মাত্র ৫ লাখ টাকা।

এদিকে গাছ থেকে পেয়ারা পেড়ে বাজারজাত করার সাথে সাথে আবার নতুন করে প্রতিটি গাছে প্রচুর পেয়ারা ধরতে শুরু করেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব নতুন পেয়ারা বিক্রি করবেন বাগান মালিক মেহেদী হাসান।

বর্তমান তার বাগানে কাজ করছেন ১০ জন শ্রমিক। তারা সারাবছর পরিচার্যা করে থাকেন। গাছের পেয়ারা পলিথিন ব্যাগ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। এতে পোকার আক্রমণ থেকে রেহাই পাবে। পেয়ারা বাগানে দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর পর পানি সেচ ও স্প্রে দিতে হয়।

বাগান শ্রমিক মিলন হোসেন বলেন, আমরা প্রায় ১০ জন এই বাগান পরিচর্যার কাজ করি। বর্তমানে পলিথিন দিয়ে পেয়ারাগুলো ঢেকে দিচ্ছি। আবার মাঝেমধ্যে পানি ও স্প্রে দিয়ে আসছি।

খোকন নামে আরেকজন শ্রমিক বলেন, এই বাগানে আমি সারাদিন কাজ করি। কাজ শেষে যে টাকা পাই, তা দিয়ে আমার বাবা-মা ও ভাই-বোনদের নিয়ে চলি।

বাগান মালিক মেহেদী হাসান বলেন, অনেক আশা করে নিজেকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্য এই পেয়ারা বাগানটি করেছি। আজ আশা পূরণ হয়েছে। বিঘাপ্রতি ২২০টি করে পেয়ারার চারা লাগিয়েছিলাম। ১০ বিঘার বাগানে এবার প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। নিজেকে আজ অনেক স্বাবলম্বী মনে হচ্ছে।

এবিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার এখলাস হোসেন সরকার বলেন, চলতি বছরে এই উপজেলায় পেয়ারা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। আম লিচুর ভালো ফলন হয়ে থাকে এখানে। এবার পেয়ারার চাষেও মানুষ ঝুঁকে পড়েছেন। উপজেলার রাণীগঞ্জের মেহেদী হাসান একটি বড় পেয়ারার বাগান করেছেন। তার বাগান প্রতিনিয়ত আমরা পরিদর্শন করে আসছি। তিনি একটি পেয়ারার চালান তুলেছেন, তাতে ভালো লাভবান হয়েছেন। উপজেলায় আরও অনেকেই পেয়ারা চাষে উৎসাহী হয়ে উঠছে। ৫ হেক্টর জমিতে উপজেলায় পেয়ারার চাষ হচ্ছে। আমরা সব পেয়ারা চাষিকে সুপরামর্শসহ সেবা দিয়ে আসছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১২, ২০২২ ৩:০২ অপরাহ্ন
জয়পুরহাটে স্কোয়াস চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

জয়পুরহাট উন্নত মানের পুষ্টি গুনাগুণ সমৃদ্ধ সবজি স্কোয়াস চাষ করে লাভবান হচ্ছেন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা কৃষকরা।

জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে স্কোয়াস চাষিদর সঙ্গে কথা বলে জানান যায়, স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কারিগরি সহায়তায় পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের লকমা গ্রামের মিঠু হোসেন , পশ্চিম কড়িয়া গ্রামের আনিসুর এবং সদর উপজেলার ধলাহার ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুস সোবহান ৫০ শতাংশ জমিতে এবার স্কোয়াস চাষ করেছেন।

৫০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াসের জন্য চারা লাগে এক হাজার ৮০০টি । চারা সংগ্রহ, লেবার , জমি প্রস্তুতিসহ ৫০ শতাংশ জমিতে খরচ পড়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা। ৮০/৮৫ দিনের ফসল হিসাবে স্কোয়স চাষ অতি লাভজনক। বাজারে প্রতিটি স্কোয়াস বিক্রি হচ্ছে ২৫/৩০ টাকা পিস। প্রতিটি গাছ থেকে ৫/৬ টি করে স্কোয়াস সংগ্রহ করা যায়। ইতোমধ্যে ৮৫০ টি স্কোয়াস ২১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান, কৃষক মিঠু হোসেন।

জমিতে থাকা স্কোয়াস আরও ৪০/৪৫ হাজার টাকা বিক্রি হবে এমন প্রত্যাশার কথা জানান তিনি। ৫০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াস চাষ করে ৫৫/৬০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব বলে জানান কৃষকরা। কীটনাশক ব্যবহার না করে ফেরোমন ফাঁদ দিয়ে পোকা দমন করা হয়। ফলে বিষমুক্ত ভাবে এখানে সবজি স্কোয়াস চাষ করছেন কৃষক মিঠু হোসেন, আনিসুর ও সোবহান। গত বছর স্কোয়াস চাষ করে লাভবান হওয়ায় এবারও চাষ করছেন বলে জানান ।

সবজির জন্য উৎকৃষ্ট মানের স্কোয়াস খেতে কিছুটা মিষ্টি কুমড়ার মতো হলেও মিষ্টতা অনেক কম। স্কোয়াস চাষ লাভজনক হওয়ায় নিজ উদ্যোগে প্রতিবেশী কৃষকরাও তাদের জমিতে স্কোয়াস চাষ করছেন । পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন পিকেএসএফ কৃষি ইউনিটের সহযোগিতায় স্থানীয় বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ”জাকস ফাউন্ডেশন” স্কোয়াস চাষে কৃষকদের কারিগরি ও ঋণ সহায়াতা প্রদান করছেন বলে জানান, নির্বাহী পরিচালক নূরুল আমিন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো: শফিকুল ইসলাম জানান, স্কোয়াসে কোলেস্টেরল নেই বললেই চলে। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম হার্টের জন্য উপকারী। ওজন কমাতে সাহায্য করা স্কোয়াস স্থ’লতারোধে বিশেষ উপকারী এতে ক্যালোরির আধিক্য নেই । স্কোয়াস ক্যান্সার প্রতিরোধী , এতে রয়েছে প্রচুর পরিমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের ফ্রিরেডিকেল দূও করে। বেটাক্যারোটিন ক্যান্সারের ক্ষতিকর পদার্থ থেকে আমাদের দূরে রাখে । স্কোয়াসে থাকা ভিটামিন সি অকালে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে । হাড় মজবুত করাসহ স্কোয়াসে থাকা ম্যাঙ্গানিজ মজবুত হাড় গঠনে সহায়তা করে থাকে। বেটাক্যারোটিন ও লুটেইন চোখের দৃষ্টি বাড়াতে সহায়তা করে । এক কাপ স্কোয়াসে ২৪০০ মাইক্রোগ্রাম লুটেইন রয়েছে।

স্কোয়াস হচ্ছে আঁশ জাতীয় খাবারের চমৎকার উৎস কোষ্ঠ্যকাঠিন্য রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। খনিজ পদার্থের উৎস স্কোয়াসে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ ম্যাগনেসিয়াম, ফোলেট, কপার, রিবোফ্লাবিন, ফসফরাস, ক্যারোটিনয়েডস, পটাশিয়াম ম্যাঙ্গানিজ, বেটাক্যারোটিন রয়েছে। ডায়বেটিস , উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রনে রাখাসহ অ্যাজমা প্রতিরোধ ও ত্বকের যত্নে অত্যন্ত কার্যকর স্কোয়াস।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১২, ২০২২ ২:৩৩ অপরাহ্ন
টমেটোর ফলনে খুশি কৃষক
কৃষি বিভাগ

রূপসার বিভিন্ন গ্রামে মৎস্য ঘেরের পাড়ের জমিতে এ বছর ব্যাপক টমেটোর আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। স্থানীয় আড়তে ব্যবসায়ীদের কাছে ন্যায্যমূল্যে টমেটো বিক্রি করতে পেরে কৃষকেরা অনেক খুশি।

রূপসা উপজেলার আনন্দনগর গ্রামের চাষি জুম্মান লস্কর বলেন, এ বছর মৎস্য ঘের পাড়ে দেড় বিঘা জমিতে মিন্টু সুপার নামক হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ করেছি। এতে বীজ, সার, মাদা তৈরি, শ্রমিক ও কীটনাশক বাবদ প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ মণ টমেটো (প্রতি মণ এক হাজার টাকা দরে) স্থানীয় আড়তে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আরও অন্তত ১৫ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।

ঘাটভোগ ইউনিয়নের পুটিমারি গ্রামের কৃষক কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘেরের পাড়ে এক বিঘা জমিতে বিপুল প্লাস জাতের টমেটো চাষ করতে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ৮০০ টাকা মণ দরে এ পর্যন্ত ২০ মণ টমেটো ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এ রকম দাম থাকলে আরও ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারব বলে মনে করছি।’

রফিকুল ইসলাম আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার টমেটোর ফলন ভালো হয়েছে এবং দামও ভালো পাচ্ছি। কৃষকেরা বলেন, রূপসা উপজেলার আলাইপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান আমাদের পাশে থেকে শসা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

জুম্মান লস্কর ও রফিকুল ইসলাম ছাড়াও আনন্দনগর গ্রামের নূরু শেখ, চাঁন মিয়া, নাসিম মোল্লা, হামজা মোল্লা, শাহীন শেখ, মুরাদ লস্কর, শানু লস্কর, হামিদুল বিশ্বাসসহ দুই শতাধিক কৃষক মাছের ঘের পাড়ে হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, রূপসার দুর্জ্জনীমহল, ডোমরা, চন্দনশ্রী, ভবানীপুর গ্রামের ঘেরের পাড়ে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে এ বছর টমেটো চাষ হয়েছে। তবে ঘাটভোগ ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে সবচেয়ে বেশি জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে।

ঘের পাড়ে উৎপাদিত টমেটো কেনাবেচার জন্য গ্রামে গ্রামে গড়ে গড়ে উঠেছে টমেটোর মৌসুমি আড়ত। তাই টমেটো বিক্রি করতে সাধারণত পরিবহন খরচ লাগে না। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ট্রাকযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে এখানকার টমেটো।

রূপসা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ফরিদুজ্জামান বলেন, অন্য ফসলের তুলনায় ঘেরের পাড়ে টমেটো চাষ লাভজনক। তাই এ উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে টমেটো চাষ। ঘেরের পাড়ে টমেটো চাষের বিষয়ে জন্য এ উপজেলার প্রতিটি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে চলেছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১২, ২০২২ ২:০৪ অপরাহ্ন
ডি-৮ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ
কৃষি বিভাগ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে আজ বুধবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকায় শুরু হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশের জোট বা ডি-৮ মন্ত্রিপর্যায়ের দুই দিনব্যাপী সম্মেলন। করোনার কারণে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সপ্তম ডি-৮ সম্মেলনটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে। এবারের মিটিংয়ের মূল আলোচনার বিষয় হলো কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষির উন্নয়ন।

বাংলাদেশ এখন ডি-৮ ফোরামের সভাপতি। এ কারণে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার অংশ হিসেবে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বাংলাদেশ বর্তমানে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামেরও (সিভিএফ) সভাপতি। এ মিটিংয়ে ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচারের প্রমোশন নিয়ে আলোচনা হবে, সেজন্যও মিটিংটি গুরুত্বপূর্ণ।

মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান। ব্রিফিংকালে কৃষি সচিব সায়েদুল ইসলাম ও অতিরিক্ত সচিব রুহুল আমিন তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, এ উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে জোটের সদস্য দেশ— বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কের কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রীরা এবং সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া, আইডিবি, এফএও, আইএফএডি, আইআরআরআইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করবেন।

মন্ত্রী আর জানান, এবারের সম্মেলনের মূল আলোচনার বিষয় হলো— কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষির উন্নয়ন। এক্ষেত্রে জোটভুক্ত দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচিত হবে। কৃষির উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে করণীয়, যৌথ কৃষি গবেষণা, যান্ত্রিকীকরণ, এঅ্যাগ্রো-প্রসেসিং, ব্লু ইকোনমি, সার উৎপাদন, বীজ, অ্যানিমেল ফিড, ভ্যালু চেইন উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোকপাত করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১২, ২০২২ ১:১১ অপরাহ্ন
নাটোরে সবজির দামে সন্তুষ্ট কৃষক
কৃষি বিভাগ

গত সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে নাটোরের বিভিন্ন হাটে বেড়েছে শীতকালীন সবজির সরবরাহ। এতে দামও কিছুটা কমায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মাঝে। তবে এ দামে লোকসান না গুনলেও আরও মূল্যহ্রাস ঠেকাতে বাজার মনিটরিংয়ের দাবি চাষিদের।

ভোরে শীতের তীব্রতার মধ্যেই ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে নাটোরের পাইকারি এ সবজির বাজার জমজমাট। গত সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে সব ধরনের সবজির সরবরাহ বেড়েছে। ফলে প্রকারভেদে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।

এ বাজারে কেজি প্রতি শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ২০ থেকে ২৫ টাকা (পিস), বরবটি ২০ থেকে ২৫ টাকা, মূলা ১৫ থেকে ১৭ টাকা, টমেটো ২২ থেকে ২৫ টাকা, বেগুন ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ১০ থেকে ১২ টাকা, লাউ ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে তুলনামূলক দাম কমলেও ক্রেতাদের অভিযোগ, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার সবজির দাম চড়া। তারা জানিয়েছেন, এবছর অন্যান্য বছরের তুলনায় দাম স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। তবে গত বছরের তুলনায় সবজির দাম কমেছে। কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কমেনি।

সব ধরনের সবজির দাম কমলেও উৎপাদন ভাল থাকায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। তবে দাম আরও কমে যাওয়া ঠেকাতে বাজার মনিটরিংয়ের দাবি তাদের।

সবজির দাম নিয়ে কৃষকরা জানিয়েছেন, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি। চলমান দাম থেকে কমে গেলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর নাটোরে সবজির উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১২, ২০২২ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন
আলু চাষ করে লোকসানের মুখে কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

জয়পুরহাটে আগাম আলুর ফলন ভালো হলেও দাম কম হওয়ায় লোকসানের মুখে চাষিরা। তারা জানালেন, বিক্রি করে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত মৌসুমের আলুর মজুদ শেষ না হওয়ায় নতুন জাতের আলুর দাম কম। তবে কৃষি কর্মকর্তারা জানালেন, কিছুদিন পরই আগাম এই আলুর দাম বাড়বে। 

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আলু উৎপাদনকারী জেলা জয়পুরহাট। অনুকুল আবহাওয়া আর রোগবালাই কম থাকায় এবার সেখানে আগাম জাতের আলুর ফলন হয়েছে বেশ ভাল। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এই জাতের আলু উত্তোলন।

কিন্তু ফলন ভালো হলেও মন ভালো নেই কৃষকের। তারা জানালেন, প্রকারভেদে প্রতি মণ আলু বিক্রি করে ২৮০টাকা থেকে ৩০০ টাকা পাচ্ছেন। ফলে উৎপাদন খরচও উঠছে না।

কৃষকের লোকসানের কথা স্বীকার করছেন আলু ব্যবসায়ীরাও। তারা বলছেন, হিমাগারে গত মৌসুমের আলু এখনও মজুদ থাকায় বাজারে নতুন আলুর দাম কম। তবে আগাম এই আলুর দাম কিছুদিন পর বাড়বে বলে মনে করেন কৃষি কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, আলু চাষিরা লোকসান সামলে নিতে পারবেন।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ি, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটে আলুর চাষ হয়েছে ৪০ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১১, ২০২২ ৪:৩২ অপরাহ্ন
কুয়াশায় বোরোর বীজতলা রক্ষায় পরামর্শ দিলেন কৃষি কর্মকর্তা
কৃষি বিভাগ

সপ্তাহজুড়ে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় চলতি মৌসুমের বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা।

চলমান তীব্র শীত ও কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখাসহ কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ এই পরামর্শ দিয়েছেন।

দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় ঠাকুরগাঁও জেলায় শীতের তীব্রতা, কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ বেশি হয়ে থাকে। এই পরিস্থিতি থেকে বোরো বীজতলা ও রোপণ করা চারা রক্ষা করার জন্য পরামর্শগুলো এসেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সুূত্র জানায়, শীত ও কুয়াশার কারণে বোরো ধানের চারা ক্রমশ হলদে হয়ে একপর্যায়ে মারা যায়। এই সময়ে যাতে বীজতলা ও চারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এ জন্য স্বচ্ছ ও পাতলা পলিথিন দিয়ে বীজতলা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢেকে রাখতে হবে।

বীজতলায় তিন থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে বলা হয়েছে। প্রতিদিন সকালে আগের পানি বের করে নতুন পানি দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করা ভালো।

শীত ও কুয়াশায় চারা হলুদ হলে প্রতি শতক জমিতে ২৮০ গ্রাম ইউরিয়া সার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইউরিয়া সার দিয়েও যদি চারা সবুজ না হয় তাহলে প্রতি শতকে ৪০০ গ্রাম জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে। আর পোড়া বা ঝলসানো রোগ দেখা দিলে পানিতে এজোক্সিস্ট্রোবিন বা পাইরাক্লোস্ট্রোবিন জাতীয় ছত্রাকনাশক মিশিয়ে দুপুরের পর ছিটিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ৩৫ থেকে ৪৫ দিন বয়সের চারা রোপণ করার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, বেশি বয়সের চারা রোপণ করলে শীত ও কুয়াশায় মারা যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। চারা রোপণের পর ৫ থেকে ৭ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। চারা রোপণের সময় শীত ও কুয়াশা বেশি হলে একটু দেরি করে রোপণ করলেও ক্ষতি হবে না। প্রতিদিন সকালে চারায় জমে থাকা কুয়াশা ঝরিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের মন্ডলপারা গ্রামের কৃষক মুন্জর হোসেন বলেন, ‘তীব্র শীত ও কুয়াশায় বীজতলার চারাগুলো হলুদ রং ধারণ করেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে বীজতলা পরিচর্যা করছি, কিন্তু চারা সেভাবে বড় হচ্ছে না।’

রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ জানান, কৃষি বিভাগ থেকে ইতিমধ্যে কৃষকদের বিভিন্ন তথ্য প্রদানসহ সহযোগিতা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত শীতের কারণে কোল্ড ইনজুরিতে বোরো বীজতলার তেমন একটা ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখাসহ বিভিন্ন পরিচর্যার পদ্ধতি অনুসরণ করায় কৃষকদের প্রশংসা করেন তিনি।

শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের বীজতলার চারা হলদে হয়ে গেলে প্রতি শতক জমিতে ২৮০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। এ ছাড়া ১০ লিটার পানিতে ৬০ গ্রাম পটাশ ও ৬০ গ্রাম জিপসাম সার মিশিয়ে বীজতলায় স্প্রে করতে বলা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, অতিরিক্ত শীতে বীজতলার চারার গোড়া বা পাতা পচা রোগ দেখা গেলে ব্যাভিস্টিন বা মেনকোজেব গ্রুপের যেকোনো একটি ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। যত দিন শৈত্যপ্রবাহ থাকে, তত দিন এ পদ্ধতি প্রয়োগ করলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১১, ২০২২ ৪:১৬ অপরাহ্ন
কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বদলে গেছে কুমিল্লার কৃষির চিত্র
কৃষি বিভাগ

আধুনিক প্রযুক্তি, সময়োপযোগী কৃষিনীতি আর কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বদলে গেছে কুমিল্লার কৃষির চিত্র। দেড় যুগ ধরে কৃষিক্ষেত্রে কুমিল্লা জেলায় সবজি চাষে নীরব বিপ্লব ঘটেছে। সবজির উৎপাদন দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের আয়ও বেড়েছে।

কুমিল্লার চান্দিনা, বুচিড়ং, বরুড়া, দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলতি বছর ব্যাপক শীলকালীন সবজি চাষ হয়েছে। উল্লেখযোগ্য হল ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক, লাউ, শিম, বেগুন, পটল, মূলা, আলু, টমেটো, পালংশাকসহ হরেক রকমের কাঁচা তরিতরকারি। এসব সবজি শীতল আবহাওয়ায় সবচেয়ে ভাল হয়। কৃষকরা এসব সবজি কম সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার দিন দিন চাহিদা বেড়েই চলছে। এসময় শীতকালীন শাক-সবজির দাম বেশি হয়ে থাকে। সেই কারণে কৃষকরা সবজি চাষে ব্যস্ত সময় কাটায়। মুনাফার আশায় কৃষকরা এবছরও প্রচুর পরিমান সবজি চাষ করছেন। আভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন ও সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থার কারণে কৃষকরা এখন সহজেই উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারছে। এ কারণে কৃষি কাজ এখন লাভজনক পেশায় পরিণত হয়েছে। তবে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আরও অধিক জমিতে সবজি চাষে আগ্রহী হবে বলে জানান এলাকার কৃষকগণ। আর তা সম্ভব হলে উপজেলার কৃষিখাত আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। বর্তমানে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার ছায়কোটের চাষিরা , সবজি চাষে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

সবজির মধ্যে বর্তমানে শিম, লাউ, পটল, বেগুন অধিক লাভজনক। শিম ও বেগুন চাষে লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই এতে উৎসাহিত হচ্ছেন। মিষ্টি কুমড়া, কচু, আলু ইত্যাদি ফসলের প্রতিও কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কম সময়ে সবজি চাষে বেশী লাভ হয় বলে অনেকে ঝুঁকে পড়ছেন সবজি চাষে।

শ্রীমন্তপুর গ্রামের কৃষক রমজান আলী জানান, এক কানি জমিতে বেগুন চাষ করলে খরচ হয় ১৫-২০ হাজার টাকা। উৎপাদিত ফসল হয় প্রায় ২ থেকে আড়াইশত মণ বেগুন হয় ক্ষেতে। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ আসে। এ বছর সবজির দাম বেশি পাওয়ায় অনেক কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সুরজিত চন্দ্র দত্ত বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের নজরদারি ও উপজেলা পর্যায়ে চাষিদেরকে কৃষি কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ, পরামর্শসহ সবধরণের লজিষ্টিক সার্পোট দেওয়াতে এবং আবহাওয়া সম উপযোগী হওয়ায় এবারে লক্ষ্যমাত্রা অনেক ছাড়িয়ে যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১১, ২০২২ ৩:৫৮ অপরাহ্ন
লাভের আশায় আলু চাষ, দাম না পেয়ে হতাশ চাষি
কৃষি বিভাগ

গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার দিনাজপুরের কৃষকরা দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে আলু চাষ শুরু করেন। কিন্তু আলুর বর্তমান বাজারদরে লাভ তো দূরের কথা খরচও তুলতে পারছেন না তারা। ফলে হতাশা কাজ করছে তাদের মধ্যে।

জানা গেছে, প্রতি বছর নতুন আলু ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এবার শুরুতেই দাম ছিল অর্ধেক। এ বছর প্রতি কেজি নতুন আলু ৪০-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বর্তমানে আগাম আলুর দাম আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এখন প্রতি কেজি আলু পাইকারি ৭-৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, সাধারণত নভেম্বরের ১৫ তারিখ পর্যন্ত আগাম আলু লাগানো হয়। এ বছর জেলায় ১০ হাজার ২৩২ হেক্টর জমিতে আগাম আলুর চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১৭ দশমিক ২৮ মেট্রিক টন। আর গড়ে প্রতি কেজিতে উৎপাদন খরচ সাড়ে সাত টাকা। এ পর্যন্ত মোট আবাদের ৪০ শতাংশ জমির আলু তোলা হয়েছে।

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আউলিয়াপুকুর গ্রামের কৃষক মোহসিন আলী বলেন, এ বছর দুই বিঘা জমিতে আগাম আলু লাগিয়েছি। বীজ, সার, শ্রমিকের খরচ, সেচ বাবদ প্রতি বিঘা জমিতে ১৫-১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর এক বিঘা জমির আলু বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ১৪-১৬ থেকে হাজার টাকা। ফলে গুনতে হচ্ছে লোকসান।

খুনিয়াদীঘি গ্রামের কৃষক মোকসেদুল বলেন, উচ্চ মূল্যে বীজ কিনে আলু চাষ করেছি। এখন বিক্রির সময় ভালো দাম পাচ্ছি না। দুই মাস আগে প্রতি কেজি আলু ৫৫-৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছিল। আর এখন জমি থেকে ৭ টাকা থেকে সাড়ে ৯ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

বড়গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এ বছর দুই একর জমিতে আলুর আবাদ করেছি। ফলনও মোটামুটি ভালো হয়েছে। কিন্তু আলুর বাজার দর ভালো না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। সরকার যদি আলুচাষিদের দিকে না তাকায় তাহলে আমরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলব।

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা বলেন, কৃষকরা এখন আগাম জাতের আলু তুলছে। এবার আগাম আলুর ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে দাম কম পাচ্ছেন কৃষক। খুচরা বাজারে আলুর যে দাম পাইকারি বাজারে তার থেকেও অনেক কম। কৃষি অধিদফতর মনে করছে, এই আগাম আলু যদি আরও ১০-১৫ দিন আগে তোলা হতো তাহলে কৃষকরা দাম মোটামুটি ভালো পেতেন।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. খালেদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত আগাম আলুর মাত্র ৪০ শতাংশের মতো উৎপাদন করা হয়েছে। বর্তমান বাজারদরে কাঙ্ক্ষিত লাভ হচ্ছে না। তবে সামনের দিকে দাম কিছুটা বাড়লে চাষিদের লোকসানে পড়তে হবে না।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১০, ২০২২ ৪:২৮ অপরাহ্ন
তালতলীর গোলের গুড় যাচ্ছে ভারতে
কৃষি বিভাগ

চলছে ভরা শীত মৌসুম। প্রতিবছর এই মৌসুমের শুরু থেকে উপকূলীয় জেলা বরগুনার তালতলীর গাছিরা গোলের রস সংগ্রহ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

এবছর গাছিদের মাঝে যুক্ত হয়েছে ভিন্ন মাত্রা। তালতলীর গোলের রস থেকে তৈরি গুড় যাচ্ছে ভারতে। হতদরিদ্র গোল গাছিদের জন্য তৈরি হয়েছে ৫ মাসের কর্মসংস্থান। উপজেলার অন্তত ৩ হাজার এই পেশার মানুষ ভোর রাত থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত রস সংগ্রহ করেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, তালতলী উপজেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে গোল গাছের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। সব চেয়ে বেশি গুড় আসে বেহালা ও গেন্ডামারা গ্রাম থেকে। এক মৌসুমে প্রায় ১২ হাজার টন গুড় উৎপাদিত হয়।

বেহালা গ্রামের গাছি সুকদেব বিশ্বাস বলেন, প্রতিদিন ৩০০ গাছ থেকে রস সংগ্রহ করি। গোলের এ রস প্রতি কলস ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ও গুড় প্রতি কেজি ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। এক কলস রস দিয়ে ৩ কেজি গুড় তৈরি হয়।

আরেকজন গাছি সুজন সমাদ্দার বলেন, ভোর ৪টায় রস সংগ্রহ করা শুরু করি। প্রথমে গোলের রসের চাহিদা কম থাকলেও এখন চাহিদা বেড়েছে, দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রথমে ভারতের কলকাতায় থাকা তাদের কিছু স্বজনদের উপহার হিসেবে পাঠান গোলের গুড়। এরপর সেখানে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই গুড়। এরপর সেই স্বজনরা তাদের কাছে গুড় কেনার কথা জানালে তারা বিক্রি শুরু করেন। প্রতি কেজি ২৫০ টাকা বিক্রি করলেও এখন ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেন।

গেন্ডামারা এলাকার গাছি মো. রহমাতুল্লাহ বলেন, ডিসেম্বরে গাছ কাটা শুরু করলেও রস আসা শুরু করে জানুয়ারি থেকে। বাগানে আমি এবং আমার ছেলে প্রতিদিন ৭০০ গাছ থেকে রস সংগ্রহ করি। পরে বাড়িতে আমার স্ত্রী ও ছেলের বউয়ের সহায়তায় প্রতিদিনই রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করি। শীতের এ কয়েক মাসে গোল রস ও গুড় বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকার মতো আয় হয়। ভারতে ব্যক্তি উদ্যোগে গুড় না পাঠিয়ে যদি সরকার বাণিজ্যিকভাবে গুড় ব্যবসা করার সুযোগ করে দিতো, তাহলে বেশি লাভ করা যেতো। সরকারও রাজস্ব পেতো।

গাছি আবুল কালাম বলেন, আমরা অনভিজ্ঞ চাষি, আমাদের কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ দিলে আমরা আরও পরিচ্ছন্নভাবে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করতে পারি। এক সময়ে এই এলাকার অনেক মানুষ হতদরিদ্র ছিল। আজ আমরা গুড় বিক্রি করে অভাব কাটিয়ে সচ্ছল হয়েছি। এতে কেউ সহায়তা করেনি। কৃষি অফিস থেকে আমাদের প্রশিক্ষণের দাবি জানাই।

তালতলী উপজেলা কৃষি অফিসার রেজাউল করিম জানান, গোল গাছের সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে, এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন তিনি। ইতোমধ্যেই উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথাও হয়েছে। গাছিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অভিজ্ঞ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি সুস্বাধু এই গুড় প্যাকেটজাত করে দেশের চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি দেশের বাইরেও বাণিজ্যিকভাবে পাঠানোর বিষয়ে সুপারিশ করেছেন তিনি।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop