৯:১৬ অপরাহ্ন

শুক্রবার, ১৩ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২২ ১:১৩ অপরাহ্ন
মাদারীপুরে বোরো ধানের চারা সংকট
কৃষি বিভাগ

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে বীজতলার ক্ষতি, জমিতে জলাবদ্ধতা ও চারা সংকটে মাদারীপুরের বোরো আবাদে পিছিয়ে পড়েছে কৃষকরা। অন্য বছর এসময়ে বোরো আবাদ শেষ পর্যায়ে হলেও, এ বছর অনেক জমিতে চারা রোপন করতে পারেননি। কৃষি শ্রমিকের মজুরি ও ডিজেলের দাম  বেশি হওয়ায় আবাদে খরচ পড়ছে বেশি। 

মাদারীপুর সদর, কালকিনি, রাজৈর, ডাসার ও শিবচর উপজেলায় ব্যাপকভাবে বোরো ধানের চাষ হয়। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে বীজতলার ক্ষতি হওয়ায় ধানের চারার  সংকট দেখা দেয়। এছাড়া জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে অনেক জমি। এতে আবাদে পিছিয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এখন তড়িঘড়ি আবাদ করতে গিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

প্রতিবছর এসময় বেশিরভাগ জমিতে চারা রোপন হয়ে যায়। শেষ সময়ে কৃষি শ্রমিক ও ডিজেলের দাম বেশি খরচও পড়ছে বেশি। কৃষকরা জানালেন, অন্য বছর বোরো আবাদে যেখানে বিঘা প্রতি পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা খরচ হয়, এবার সেখানে খরচ হচ্ছে দশ থেকে বারো হাজার টাকা।

এদিকে, বোরোর বীজতলা তৈরি ও চাষাবাদে কৃষকদের প্রণোদনা, কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের  উপ-পরিচালক মো: মোয়াজ্জেম হোসেন। এবার মাদারীপুরে ৩৩ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২২ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন
সূর্যমুখী ফুলে সফলতা পাচ্ছে চাষিরা
কৃষি বিভাগ

বর্তমানে দেশে সূর্যমুখী পরিচিত একটি ফুল। এর তেল মানে-গুণে অনন্য। সারাবিশ্বেই এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশেও সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয়েছে ব্যাপক হারে। বাণিজ্যিকভাবে সুফল পাচ্ছে চাষিরা।

সিরাজগঞ্জ জেলায় সূর্যমূখী ফুলের চাষ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। ফুলে ফুলে ভরে গেছে ফসলের মাঠ। গত কয়েক বছরে সুর্যমূখী ফুল চাষে সাফল্য পেয়েছে ফুল চাষীরা। ফুলের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার সদর, কামারখন্দ, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর, তাড়াশ, কাজীপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ উপজেলায় ২৬৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে। যেটার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৮০ হেক্টর।

কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কৃষককে বীজ বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি গাছে একটি করে ফুল আসে। বীজ বপনের পর ফসল সংগ্রহ করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। হেক্টরপপ্রতি ১.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। সূর্যমুখীর তেল অন্যান্য রান্নার তেল হতে ভাল এবং হৃদরোগীদের জন্য বেশ কার্যকর।

সূর্যমুখী চাষ করে শুরু থেকেই সফলতার মুখ দেখছেন কৃষকরা। যদি কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে সুর্যমুখী চাষ করে দ্বিগুণ লাভ করতে পারবেন। ফলে একদিকে উপকৃত হবে কৃষক অপর দিকে মিটবে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা।

সদর উপজেলার বহুলী ইউপির ধীতপুর আলাল গ্রামের কৃষক আলী আকবর বলেন, আমি সারা বছর ধান, গম, ও সবজিরর চাষ করি। গত দুই বছর হলো সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছি। এবারো ১ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ শুরু করেছি। আমার সূর্যমুখী ক্ষেত ফুলে ফুলে ভরে গেছে। জমিতে এক একটি ফুল যেন হাসিমুখে সুর্যের আলো ছড়াচ্ছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে গত বছরের চেয়ে এবারও ভাল লাভের আশা করছি।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা চরের ইউসুফ আলী বলেন, যমুনার চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। আমার পতিত ৪ বিঘা জমিতে এবার সূর্যমূখী ফুল চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও পেয়েছেন ভালো। প্রতি বিঘা জমিতে ৪ হাজার টাকা খরচ করে বিঘা প্রতি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

কাজীপুর উপজেলার ভানুডাঙ্গা গ্রামের ফুল চাষী আনোয়ার হোসেন বলেন, আগে ধান, গম, ভুট্রা, চাষ করতাম। খুব একটা লাভ হতো না। গত ৫ বছর যাবত ফুল চাষ করি। সূর্যমুখী ফুলের খুব চাহিদা, ফলনও ভাল হয়। ধান গমের তুলনায় অনেক লাভ পাই। আগামীতেও ফুলের চাষ করব আশা করছি।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আবু হানিফ জানান, জেলায় জমি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী, এ বছর সূর্যমুখী ফুলের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৮০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ২৬৪ হেক্টর। এবার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হয়নি। বর্তমানে সূর্যমুখী ক্ষেতের যে অবস্থা তাতে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছে কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২, ২০২২ ৪:৪২ অপরাহ্ন
বিষমুক্ত সবজি চাষ করেন ছোটমৌশা গ্রামের ২৫ চাষি
কৃষি বিভাগ

মানুষকে বিষমুক্ত শাকসবজি খাওয়ানোর সংকল্পে এক জোট হয়েছেন একটি গ্রামের ২৫ জন চাষি। গত শীত মৌসুম থেকে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব, রাসায়নিক সার ও রাসায়নিক বালাইনাশক ছাড়া সবজি আবাদ করছেন তাঁরা। এতে উৎপাদন একটু কম হলেও মানুষকে অন্তত বিষমুক্ত শাকসবজি খাওয়াতে পারছেন তাঁরা। এক জোট হওয়া চাষিরা টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের ছোটমৌশা গ্রামের বাসিন্দা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, অর্গানিক কৃষি গ্রাম হচ্ছে একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। দেশের প্রতিটি উপজেলায় এ ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কৃষিকে বিষমুক্ত করতেই এই উদ্যোগ। এতে কৃষকদের সাড়া মিলছে প্রচুর।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের চারদিক সবুজ সবজির খেত। গ্রামের সাত একর জমিতে চাষ হয়েছে বিষমুক্ত নানা রকম সবজি। জমিতে আছে শিম, শসা, কাঁকরোল, করলা, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, ধনেপাতা, বেগুন ইত্যাদি।

ওই কৃষক দলের একজন ককেন চন্দ্র। তিনি ৪৫ শতক জমিতে শিম চাষ করেছেন। ১ মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১০০ কেজি করে শিম বাজারে বিক্রি করছেন। ককেন বলেন, ‘আগে আমরা জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতাম। এর মাধ্যমে বহু বছর হাইব্রিড জাতের শাকসবজি আবাদ করেছি। এতে ফলন বেশ ভালো হতো। তবে আমরা জানতাম না, এসব ফসল বিষাক্ত এবং এসব খেয়ে মানুষ নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। কৃষি বিভাগ থেকে জানতে পারি, রাসায়নিক সার, কীটনাশক প্রয়োগে জমির ফসল বিষে পরিণত হয় এবং মাটি উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলে। আমরা গেল বছর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, আর মানুষকে বিষ খাওয়াব না। বর্তমানে আমাদের গ্রামের সবাই নিরাপদ সবজি আবাদে সংকল্পবদ্ধ হয়েছেন।’

গ্রামের চাষিরা সম্মিলিতভাবে গর্ত খুঁড়ে গৃহস্থালি বর্জ্য দিয়ে তৈরি করছেন কম্পোস্ট সার। কেউ কেউ ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সারও তৈরি করছেন। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে জৈব বালাইনাশক। এসব ফসলের জমিতে প্রয়োগ করে মিলছে ভালো ফলন। ওই গ্রামের কিষানি শ্যামলী রানী কেঁচো সার তৈরিতে বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছেন। মাত্র ১৫ দিনের মাথায় জৈব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করেন তিনি। এই সার জমিতে প্রয়োগ করলে অনেক ভালো ফলন মেলে বলে জানান শ্যামলী রানী।

গ্রামের আরেক নারী কৃষক রত্না বেগম বলেন, তিনি এবার ৫০ শতাংশ জমিতে শিম ও কাঁকরোল আবাদ করেছেন। শিম শেষ হলে একই মাচাতেই তিনি কাঁকরোল আবাদ করবেন। কৃষি বিভাগ থেকে জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন তিনি।

গ্রামের সোহেল রানা নামের এক শিক্ষিত যুবক দেড় একর জমিতে মিষ্টিকুমড়ার আবাদ করেছেন। তাঁর খেতের মাঝে স্থাপন করেছেন ‘সেক্স ফেরোমন ফাঁদ’। এটি হচ্ছে কীটপতঙ্গ দমনের জৈব পদ্ধতি। এই ফাঁদ ব্যবহারে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, এটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি, যা মানুষ বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না। সুতরাং এটি পরিবেশবান্ধব। এই পদ্ধতিতে প্লাস্টিক বক্স ব্যবহার করা হয়। যার দুই পাশে তিন কোনা ফাঁক থাকে। পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট করতে স্ত্রী পোকার শরীর থেকে নিঃসৃত একরকম প্রাকৃতিক রাসায়নিক পদার্থ বা স্ত্রী পোকার গন্ধ ব্যবহার করা হয় ফাঁদে। এর আকর্ষণে পুরুষ পোকা ফাঁদের দিকে ধেয়ে আসে এবং ফাঁদে পড়ে মারা যায়। এতে জমির ফসল নিরাপদ থাকে।

নিরাপদ সবজি গ্রাম ছোটমৌশার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, অতীতে এসব কীটদমনে ব্যবহৃত হতো বিষাক্ত কীটনাশক। সেক্স ফেরোমন ফাঁদ বা গন্ধ ফাঁদ ব্যবহার করায় জমির ফসল নিরাপদ থাকছে। খাদ্যমান ও পুষ্টি সঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মানুষ নিরাপদ সবজি খেতে পারছে।

এ নিয়ে কথা হয় সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিয়ন্তা বর্মণের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিষমুক্ত সবজি চাষাবাদে গ্রামের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। আগ্রহী ২৫ জনের একটি দল গঠন করা হয়েছে। ওই দলের নামকরণ করা হয়েছে সমন্বিত বালাই দমন দল। এই কার্যক্রমে গ্রামের কৃষকেরা শতভাগ সফল হয়েছেন। উপজেলার ছোটমৌশা নামের গ্রামটি এখন বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে হবে বিষমুক্ত সবজির আবাদ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২, ২০২২ ৪:০০ অপরাহ্ন
কৃষকের হাতে পাট বীজ সত্তা সংরক্ষণে কাজ করছে শরীয়তপুর কৃষি বিভাগ
কৃষি বিভাগ

আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে কৃষকের হাতে পাট বীজ সত্তা সংরক্ষণে কাজ করছে শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

বাংলাদেশের পাট আবাদের সময় কৃষকদেরকে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ বীজ আমদানী নির্ভর। যে কারণে অনেক সময় মান সম্মত বীজের অভাবে উৎপাদন আশানুরুপ পাওয়া যায় না বলে বলছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। তাই পাটের বীজ সত্তা কৃষকের হাতে রাখতে ও মান সম্মত বীজ নিশ্চিতসহ আমদানী নির্ভরতা কমাতে কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি অধিদপ্তর আধুনিক ও উন্নত মানের ধান,গম-পাট বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্প এবং প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় নাবী পাট বীজ উৎপাদন কর্মসূিচ বাস্তবায়ন করছে।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো: আব্দুস সাত্তার জানান, শরীয়তপুরে প্রতি বছর দুই হাজার ৭’শ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়। এর জন্য আমাদের প্রায় ২১৬ মেট্রিক টন পাট বীজের প্রয়োজন হয়। আর এর অধিকাংশই আমদানী নির্ভর। ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমদানীকৃত বীজের সঠিক মান নিশ্চিত না হওয়ায় কৃষকরা উৎপাদন ঘাটতিতে পড়েন। এ সংকট দূও করতে বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার উন্নত মানের পাট বীজ উৎপাদনের মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। এতে করে কৃষকের হাতে বীজ সত্তা সংরক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি মানও নিশ্চিত হয়।

তিনি বলেন,কৃষকের নিজের হাতে বীজ থাকলে সঠিক সময় পাট আবাদ করতে পারলে বাড়বে উৎপাদনও। জেলায় এ বছর ৩৬ হেক্টর জমিতে কৃষক উন্নত মানের নাবী পাট বীজ উৎপাদন করছেন। আমরা আশা করছি ৩৬ হেক্টর থেকে আমরা ১৮ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদন করতে পারব। যা চাহিদার ১৬ শতাংশ পূরণ করবে। আমরা আশা করছি এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে আগামী ৫-৬ বছরের মধ্যে আমাদের পাট বীজের চাহিদার অনেকটাই নিজেদের বীজে পূরণ হওয়ার পাশাপাশি কমবে আমদানী নির্ভরতা। যা আমাদের কৃষিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

জাজিরা উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের কৃষক মো: আবুল হোসেন বলেন, অনেক সময় আমদানী করা প্যাকেট বীজ দিয়ে পাট আবাদ করে আমরা কাংখিত ফলন পাই না। আমরা যদি ভালো মানের বীজ উৎপাদন করতে পারি, তা হলে সঠিক সময়ে ভাল বীজ বপন করে ফলনও পাব ভালো।

একই উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের কৃষক আবুল মোল্লা বলেন, অনেক সময় আমরা বাইরের বীজ দিয়ে পাট আবাদ করলে ঠিক মতো গজায় না। আবার যে জাতের পাট আবাদ করি তাও ঠিক থাকে না। গত দুই বছর যাবত আমরা কৃষি বিভাগের কাছ থেকে পাওয়া বীজ দিয়ে তাদের পরামর্শে উন্নত মানের বীজ উৎপাদন করে আবাদ করে ভালো ফলন পাচ্ছি। এতে করে নিজেও আবাদ করতে পারছি এবং অন্য কৃষক ভাইকেও দিতে পারছি। এতে করে আমরা সঠিক সময়ে পাট আবাদ করতে এবং পারছি বীজ সত্তাও আমাদের হাতে থাকল।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২, ২০২২ ৩:২৩ অপরাহ্ন
যে চরের জমি অনাবাদি থাকে না
কৃষি বিভাগ

রাজশাহীর পদ্মার চর এখন কৃষকদের স্বপ্নপল্লী। বছরে তিন ফসলের আবাদ হচ্ছে এ চরে। শক্তিশালী হচ্ছে চরাঞ্চলের অর্থনীতি। পলিমিশ্রিত ঊর্বর এই ভূমিতে ফলছে মসুর, গম, সরিষা, শাক-সবজি, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, মাসকালাই, ধনিয়া ও বাদামসহ অর্থকারী আরও অনেক ফসল।

জানা গেছে, জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত বৃহৎ আয়তনের চর রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার ৮৫৬ হেক্টরজুড়ে। এর মধ্যে আবাদ হয় এমন চরের পরিমাণ ৮৮ হাজার ৬৬০ হেক্টর।

বছরে একবার আবাদ করা যায় এমন জমি আছে ১৪ হাজার ৯১২ হেক্টর। বছরে দুটি ফসলের আবাদ করা যায় এমন চর ৩৬ হাজার ৩১৩ হেক্টর।

এ ছাড়া বছরজুড়ে সোনালি ধান ফলে ২১ হাজার ২৮ হেক্টরে। তবে এখনও মোট চরের প্রায় ৫৩৩ হেক্টর জমি চাষাবাদের বাইরে রয়েছে। এসব জমি আবাদযোগ্য করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।

কৃষকরা বলছেন, চরে আবাদ করা কষ্টকর হলেও এটাই তাদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাচ্ছে। চরের মাটি এখন পড়ে থাকে না। তবে সরকারি সহায়তা পেলে তারা আরও উপকৃত হবেন।

রাজশাহীর মতিহার, বোয়ালিয়া, পবা, গোদাগাড়ী, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার চরে প্রায় ১০ হাজার ১৮৭ হেক্টর জমিতে গত বছর প্রায় ১৩টি ফসলের চাষ হয়েছে। ওই বছর এই চর থেকে দুই হাজার ৩১৮ মেট্রিক টন মসুর, ৯ হাজার ৮৩৭ টন গম, ৫১৮ টন সরিষা, ৩২ হাজার ১০৫ টন সবজি, ৬ হাজার ২৫০ টন ভুট্টা, দুই হাজার ২০০ টন বোরো, সাত হাজার ৬৫০ টন পেঁয়াজ, পাঁচ হাজার ৭৭৫ টন রসুন, ১১ হাজার ৮৮২ টন আলু, তিন হাজার ৮২৫ টন আম, ৭২৮ দশমিক ৭ টন মাসকলাই, ৪৪৬ টন চিনাবাদাম ও ২৮৫ টন ধনিয়া পাতা উৎপাদন হয়েছে।

চরে এখন বোরো ধানের বীজতলা পরিচর্যা ও লাগানোর কাজে ব্যস্ত কৃষকরা। শ্রীরামপুরের কৃষক কালাম হোসেন বলেন, প্রতি বছর আমরা কয়েকজন মিলে চরের প্রায় ২০ থেকে ৩০ বিঘা আবাদ করি। গত বছর ধান, খেসারি ও মাসকলাইসহ সবজির চাষ করেছিলাম। চরের মাটি উর্বর। তাই চাষাবাদ খরচও কম। গত বছর বিঘা প্রতি ২২ থেকে ২৫ মণ ধান পেয়েছি। এবারও ধানের আবাদ করছি।

কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, চরের প্রায় চার বিঘা জমি লিজ নিয়ে আবাদ করেছি। প্রতি বছরই লিজ নিয়ে আবাদ করি। চার বিঘায় পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ও খেসারির আবাদ আছে। মসুরের আবাদটা তেমন ভালো হয়নি। তবে অন্যান্য আবাদ ভালো আছে। আশা করছি, এবারও লাভবান হবো।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীর চরাঞ্চলে প্রতি বছরই আবাদ বাড়ছে। যে চর প্রতি বছর ডুবে যায় সেখানে পলি জমে। তবে চরের কিছু জমিতে দেখা যাচ্ছে ক্ষতিকর মেডিসিনের ব্যবহার হচ্ছে। এটা মূলত পোকা দমনে ব্যবহার করা হয়। এসব আবার ফসল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। যদিও এর ব্যবহার কম।

তিনি আরও বলেন, চরের কৃষকদের চাষাবাদে উৎসাহিত করতে ও সমস্যা সমাধানে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া আছে। এ ছাড়া সরকারের কৃষিবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল চরাঞ্চলের কৃষকরাও পাচ্ছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২, ২০২২ ২:১৪ অপরাহ্ন
সয়াবিন উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ছে সরকারের
কৃষি বিভাগ

সয়াবিন তেল নিয়ে অনেকটাই বিব্রত সরকার। আমদানিনির্ভর পণ্যটির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দেশীয় বাজারে এর দাম নিয়ে সারা বছরই অস্বস্তিতে থাকতে হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। এখনও এ নিয়ে নানা সংকট সামলাতে হচ্ছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে। যে কারণে সয়াবিন উৎপাদনে আগ্রহ বেড়েছে সরকারের। কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেলো এ তথ্য।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ২০ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত হয় ২ লাখ টন। এর মধ্যে সরিষা, তিল, তিশি উল্লেখযোগ্য। আমদানির মধ্যে সয়াবিন ও পামই বেশি। এর মধ্যে আবার বেশি আমদানি হয় পাম তেল। যদিও এর সঙ্গে একমত নন অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানিকারকরা। তাদের ভাষ্য, চাহিদার ১৮ লাখ টন ভোজ্যতেলের মধ্যে ১৩ থেকে ১৪ লাখ টন সয়াবিন তেল আমদানি হয় ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনা থেকে।

বর্তমানে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায়। এ দাম আরও বাড়াতে সরকারের সঙ্গে দেনদরবার চলছে আমদানিকারকদের। ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থাকলেও সরকারের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে নিজেদের মতো প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে।

এ সব কারণেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাধ্যমে সয়াবিন উৎপাদনে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, সয়াবিন বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেলবীজ ফসল। বর্তমানে বাংলাদেশে যা সয়াবিন উৎপাদিত হয় তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। তাই বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা উন্নত জাত উদ্ভাবনের চেষ্টার অংশ হিসেবে সয়াবিনের একটি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন। জাতের নাম ‘বিনা সয়াবিন-২’। বাণিজ্যিকভাবে সারা বছর চাষাবাদের জন্য এটাকে ছাড়পত্র দিয়েছে জাতীয় বীজ বোর্ড।

এ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এর প্রধান উদ্ভাবক উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, ‘গাছটির উচ্চতা রবি মৌসুমে ২৭-৪০ সেন্টিমিটার এবং খরিফ-২ মৌসুমে ৩৫-৪২ সেন্টিমিটার হয়। প্রাথমিক শাখার সংখ্যা ৩-৫টি। প্রতি গাছে ফলের সংখ্যা ৪০-৫০টি। বীজ মাঝারি আকারের হয়। ১০০ বীজের ওজন ১৩ গ্রামের মতো হয়। বীজে আমিষ, তেল এবং শর্করার পরিমাণ যথাক্রমে ৪৩, ১৯ এবং ২৬ শতাংশ।’

তিনি আরও জানান, ‘রবি এবং খরিফ-২ মৌসুমে এ জাতের জীবনকাল ১১৫ এবং ১১৭ দিন। এ দুই মৌসুমে প্রতি হেক্টরে যথাক্রমে ২.৫-২.৮ এবং ২.৭-৩.৩ টন ফলন পাওয়া যায়।’

সম্প্রতি সয়াবিন সাপ্লাই চেইন উন্নয়ন শীর্ষক একটি পলিসি সভায় অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে সয়াবিন উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন। ‘সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া’র উদ্যোগে ঢাকাস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত পলিসি সভায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন ও গবেষণা সংস্থা প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে সয়াবিন উৎপাদন ও বাজার উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।

পাশাপাশি খাবার, পশুখাদ্য, মাছের খাদ্য এবং তৈল শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদানেও জোর দিয়েছেন তারা।

টেকসই পদ্ধতিতে সয়াবিনের উৎপাদন, সরবরাহ এবং ভ্যালু চেইন উন্নয়নের জন্য সমন্বিত ও বহু-অংশীজনভিত্তিক উদ্যোগে গুরুত্বারোপ করেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশিদ ভুঁইয়া। উন্নত জিনগত বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ সয়াবিনের জাত নিয়ে আরও গবেষণার আহ্বান জানান তিনি।

উত্তরাঞ্চলেও শুরু হয়েছে:

এতদিন নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল ও ফরিদপুরে সয়াবিনের চাষ হতো। এবার শুরু হয়েছে নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, ও ঠাকুরগাঁও জেলায়।

উত্তরাঞ্চলের এ সাত জেলার দেড় হাজার বিঘা জমিতে সয়াবিনের চাষ হয়েছে। আগামী বছর ৫০ হাজার বিঘায় চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সয়াবিনের উৎপাদন বাড়াতে পারলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) নোয়াখালী অঞ্চলের সরেজমিন গবেষণা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্তত ৩৩ জেলার ৭২টি উপজেলায় তিন থেকে চার লাখ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের চাষ হচ্ছে। এখান থেকে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদন হয়। যার শতকরা ৬০ ভাগই হয় লক্ষ্মীপুরে।

উদ্যোক্তারা জানান, সয়াবিন উৎপাদনের প্রধান সমস্যা ছিল বীজ। এবার চরে উৎপাদিত সয়াবিনের মাধ্যমে বীজ সমস্যার সমাধানও হবে।

এ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সয়াবিন চাষের উপযোগী জমি রয়েছে। ক্রমান্বয়ে কৃষকরাও আগ্রহী হচ্ছেন। প্রয়োজনে সরকারি সহায়তার পরিমাণ বাড়বে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, ‘পেঁয়াজ উৎপাদন বেড়েছে বলে গতবছর পেঁয়াজ নিয়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। আশা করছি দেশে সয়াবিনের উৎপাদন বাড়লে এ নিয়ে আর আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২, ২০২২ ১:০১ অপরাহ্ন
কুমারখালীতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজের চাষ
কৃষি বিভাগ

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে গতবারের চেয়ে খরচ কম, সময়মতো প্রণোদনা প্রাপ্তি, অনুকূল আবহাওয়া, চারার পর্যাপ্ততা ও লাভজনক ফসল হওয়ায় এ বছর ৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করেছেন চাষিরা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫৫ হেক্টর বেশি।

অপরদিকে, ভালো ফসল ঘরে তোলার জন্য পেঁয়াজের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। দিনব্যাপী সময় নিয়ে আঁকড়ানো, নিংড়ানো, সার ও স্প্রে দেওয়ার কাজ করছেন তাঁরা।

উপজেলার যদুবয়রা, পান্টি, চাদপুর, বাগুলাট ও চাপড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা দলবদ্ধভাবে শ্রমিক নিয়ে পেঁয়াজের আঁকড়ানো, নিংড়ানো, সার ও স্প্রে দেওয়ার কাজ করছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেঁয়াজের বীজ গত বছর খোলা ৬ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর তা কমে বিক্রি হয়েছে ৩ থেকে ৬ হাজার টাকায়। পেঁয়াজের চারা গত বছর ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। বীজ, চারা, সার, পরিচর্যাসহ এবার বিঘাপ্রতি পেঁয়াজ উৎপাদনে চাষিদের খরচ হবে ২৮ থেকে ৩২ হাজার টাকা। এ বছর মাঠে মাঠে বিদেশি কিং জাতীয় চারা রোপণ করা হচ্ছে। এতে বিঘায় ৪৫ থেকে ৬০ মণ পেঁয়াজ উৎপন্ন হবে। যার বাজার মূল্য হবে ৪০ থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের চাষি আমিরুল ইসলাম বলেন, ৩ বিঘা জমিতে চারা রোপণ করেছি। এখন আঁকড়ানো, নিংড়ানো, সার ও স্প্রে করার কাজ চলছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে গত বছরের চেয়ে অর্ধেক খরচে পেঁয়াজ ঘরে তুলতে পারব।

পান্টি ইউনিয়নের নগরকয়া গ্রামের চাষি আবুল হোসেন বলেন, পেঁয়াজ চাষে খরচ কমেছে। এবার বিঘাপ্রতি খরচ হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করেছি। নিয়মিত পরিচর্যা করছি। আশা করছি ফলন ভালো হবে।

আরও কয়েকজন চাষি বলেন, কৃষি অফিস থেকে এবার সময়মতো বীজ পেয়েছি। তাঁদের দিকনির্দেশনায় চারা ভালো হয়েছিল। সময়মতো চারা রোপণ করেছিলাম। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে পরিচর্যা করছি। গাছ ভালো হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া পেলে ভালো ফলন হবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট কৃষি জমির পরিমাণ ১৮ হাজার ২৪০ হেক্টর। এ বছর পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার ১০ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫৫ হেক্টর বেশি জমি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দেবাশীষ কুমার দাস বলেন, পেঁয়াজ চাষিদের অর্থকারী ফসলের মধ্যে অন্যতম। এ অঞ্চলের মাটি পেঁয়াজ চাষে উপযোগী। কৃষি কর্মকর্তারা সব সময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছে। অনুকূল আবহাওয়া, গতবারের চেয়ে খরচ কম ও সময়মতো প্রণোদনার বীজ ও সার প্রদান এবং লাভজনক হওয়ায় পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষি অফিসার আরও বলেন, এ বছর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৫ হাজার ১০ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫৫ হেক্টর বেশি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২, ২০২২ ১২:২৭ অপরাহ্ন
নড়াইলে সরিষার বাম্পার ফলন
কৃষি বিভাগ

নড়াইলে এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশীয় উন্নত জাতের সরিষা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। লাভও ভালো পাবার আশা করছে তারা।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, সরিষার ভালো ফলনে ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে।

নড়াইল জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন হলুদ রঙের ছড়াছড়ি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং রোগ বালাই কম হওয়ায় এবার সরিষার আবাদ ভালো হয়েছে। জেলায় এবছর বিনা-সাত,বারি চৌদ্দ, ষোলসহ উন্নত জাতের সরিষার আবাদ করেছে কৃষকরা।

কৃষকরা বলছেন, দেশীয় উন্নত জাতের এসব সরিষা প্রতি একরে পাওয়া যায় ১৫ থেকে ২০ মন। আর প্রতি মন সরিষার বিক্রি হয় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায়। এবার ভালো ফলনে অধিক লাভের আশা করছে কৃষকরা।

নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার রায় জানালেন, সরিষা চাষে কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে।

বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকে এখন রান্নায় সরিষার তেল ব্যবহার করছেন। এতে সয়াবিন তেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে বলেও মনে করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২২ ৪:৪২ অপরাহ্ন
জয়পুরহাটে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ক্যাপসিকাম চাষ করে সফল মোশারফ
কৃষি বিভাগ

খাদ্য উপাদানে ভরপুর ও পুষ্টিগুণাগুন সমৃদ্ধ ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন জয়পুরহাট জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের কৃষক মোশারফ হোসেন।

ক্যাপসিকাম চাষি মোশারফ হোসেন জানান, গত বছর অল্প পরিষরে চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ায় এবার বাণিজ্যিক ভাবে ১৬ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন। এতে চারা রোপণ করতে হয়েছে এক হাজার ১০০ টি। চারা রোপণের ৪৫ দিনের মাথায় প্রতিটি গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করেছে। ২০০ টাকা কেজি দরে বাজারে ৫ কেজি বিক্রি করেছেন গত সপ্তাহে। সাধারণ সবজির তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় তিনি বেশ আনন্দিত।

পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় জয়পুরহাটের স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ’জাকস ফাউন্ডেশন’ ক্যাপসিকাম চাষে চারাসহ কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করছে বলে জানান, মাঠ পর্যায়ে তদারকি করা জাকস ফাউন্ডেশনের কৃষি কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন শাহিন। বেলে দো’আঁশ মাটি ক্যাপসিকাম চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সে কারণে জয়পুরহাটের মাটি ক্যাপসিকাম চাষের জন্যও উপযোগী।

সরেজমিন ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্যাপসিকাম এলাকার সাধারণ মানুষের নিকট মিষ্টি মরিচ নামে পরিচিত। আগে তেমন কদর না থাকলেও খাদ্য উপাদানে ভরপুর ও পুষ্টিগুণাগুন সমৃদ্ধ হওয়ায় এর কদর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুষ্টিমানের দিক থেকেও প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ’সি’ থাকা ক্যাপসিকাম অত্যন্ত মূল্যবান একটি সবজি।

আয়মারসুলপুর গ্রামের ক্যাপসিকাম চাষি মোশারফ হোসেন জানান, ১৬ শতাংশ জমিতে চাষ করা ক্যাপসিকাম আগামী ৬/৭ মাস ব্যাপি ফলন পাবেন। এতে খরচ বাদে ৭০ থেকে ৮০হাজার টাকা লাভ থাকবে এমন প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

জাকস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো: নূরুল আমিন জানান, সরকারের পাশাপাশি পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহায়তায় পুষ্টিগুণ বিবেচনায় সময় উপযোগী ও চাহিদা মোতাবেক নানা ফসল উৎপাদনে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২২ ৪:১৩ অপরাহ্ন
রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সাহায্যে বোরো ধানের চাষ শুরু
কৃষি বিভাগ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের গজভাগ গ্রামের ৫০ একর এক ফসলি জমিতে চলিত অর্থবছরে হাইব্রিড জাতের বোরো ধান চাষের প্রকল্প নিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।

সোমবার (৩১ জানুয়ারি) সমলয়ে চাষাবাদ (Synchronize Cultivation) ব্লক প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে চারা রোপন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কৃষিকাজে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে ২০২১-২২ অর্থবছরের রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্সূচির আওতায় জেলা কৃষি বিভাগ বড়লেখার গজভাগ গ্রামের ৬৬ জন প্রান্তিক কৃষককে উদ্বুদ্ধ করে আধুনিক পদ্ধতিতে হাইব্রিড জাতের বোরো ধান চাষের প্রকল্প নিয়েছে। প্রায় দেড়শ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। এতে সরকারের প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলীর সভাপতিত্বে ও উপজেলা কৃষি অফিসার দেবল সরকারের সঞ্চালনায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে চারা রোপন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে গজভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী, বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামছুদ্দিন আহমেদ, কৃষি প্রকৌশলী সোনিয়া শাহানিয়া, বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম সরদার, উপজেলা কৃষকলীগের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন প্রমুখ।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম হোসেন, হাবিবুর রহমান, বিপুল দাস, ছাত্রলীগ নেতা মাছুম আজির, কৃষক ফখরুল ইসলাম, লালই মিয়া, নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তাই আমাদেরকেও কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে খুব দ্রুত সময়ে ধানের চারা রোপন করা সম্ভব। তাছাড়াও খরচ এবং লোকবলের প্রয়োজনও অনেক কম।আর এই পদ্ধতিতে ধান রোপন করলে ধানের ফলনও অনেক ভালো হয়।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop