৮:৪২ পূর্বাহ্ন

শনিবার, ১৪ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ১৮, ২০২২ ৩:৪৪ অপরাহ্ন
বরেন্দ্রের মাঠজুড়ে শুধুই রবিশস্য
কৃষি বিভাগ

রাজশাহীর তানোর উপজেলার একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চল একটি গ্রামের নাম গৌরাঙ্গাপুর। এ গৌরাঙ্গাপুর মৌজার প্রায় ৩০০ একর উঁচু-নিচু ঢেউ খেলানো বরেন্দ্রের পটভূমি। পুরো মৌজা জুড়ে চাষ হয়েছে রবিশস্য। কেউ পেঁয়াজ, রসুন, আবার কেউ বা গম, সরিষা, মসুর ও ছোলা চাষাবাদ করছেন।

অন্যদিকে একই উপজেলা পাঁচন্দর ইউপি, কলমা, তালান্দ, সরমজাই ও চান্দুরিয়া ইউনিয়নের মাঠগুলোতে যতদূর চোখ যায় শুধু আলুতে ভরপুর।

বরিশস্যর এমন চিত্র শুধু তানোর উপজেলার মাঠই নয়, চলতি মৌসুমে বরেন্দ্র অঞ্চলের হাজার হাজার মাঠে রবিশস্য চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা।

বরেন্দ্র অঞ্চলে এক দশকের বেশি সময় ধরে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নীচে নেমে যাচ্ছে। এ কারণে কৃষিতে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। বরেন্দ্র অঞ্চলে ধানসহ সেচনির্ভর চাষাবাদ কমেছে। অপরদিকে কম পানি সেচে চাষ করা সম্ভব গম, ছোলা, আলু, মসুর, পেঁয়াজসহ অন্য রবিশস্যের চাষ বেড়েছে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রাসরণের অফিসের তথ্য মতে, জেলায় কৃষি আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ এক লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে গত বছর রবিশস্য চাষাবাদ হয়েছিল এক লাখ ৩৭ হাজার ৪৫৮ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর রবি-শস্য চাষাবাদ হচ্ছে এক লাখ ৫০ হাজার ৪৫৮ হেক্টর জমিতে।

গত বছর মাঠে আলু আবাদ হয়েছিল ৩৮ হাজর ৩২৫ হেক্টর জমিতে, চলতি বছর ৫ হাজার হেক্টর বেড়ে হয়েছে ৪৩ হাজার ৪৮১ হেক্টর জমিতে। মিষ্টি আলু ২৬৯ হেক্টর থেকে বেড়ে চলতি বছর চাষ হচ্ছে ৩১২ হেক্টর জমিতে। ভুট্টা এক হাজার ৫৮৭ হেক্টর থেকে বেড়ে চাষ হচ্ছে দুই হাজার ৪৭৮ হেক্টর জমিতে।

এছাড়াও শীতকালীন বিভিন্ন সবজি চাষ হচ্ছে ১২ হাজার ৮৪৪ হেক্টর, ছোলা এক হাজার ১২৮, মসুর ২৫ হাজার ২৯৬ হেক্টর, চিনা বাদাম ৬০৬ হেক্টর, সরিষা ১৯ হাজার ৪৯৬ হেক্টর, মুগ ডাল ১৫ হেক্টর, খেসারি ডাল ৫০৮ হেক্টর, মটর ২০৬ হেক্টর, পেঁয়াজ ৭ হাজার ৩০ হেক্টর, রসুন ৩ হাজার ৫৪৬ হেক্টর, আখ ৬ হাজার ৪৪৩ হেক্টর জমিতে।

তবে গমের আবাদ কমেছে। গত বছর গম ২৯ হাজার ৮০০ হেক্টর চাষাবাদ হলেও চলতি বছর ৩ হাজার হেক্টর কমে ২৬ হাজার ৮৪১ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ রোগবালাই।

রাজশাহীর তানোর উপজেলা পাঁচন্দর মৌজার গভীর নলকূপ অপারেটর মাসুদ রানা জানান, গত ৫ বছর আগে তার গভীর নলকূপের আওতায় বোরো চাষ হয়েছিল ১৮০ বিঘা, রবি শস্য গম, সরিষা, পিঁয়াজ হয়েছিল ৬০ বিঘা। কিন্তু চলতি বছর তার গভীর নলকূপে পানি কম উঠায় এবার বোরো চাষ হবে মাত্র ৫০ বিঘায় তবে গম, সরিষা চাষ হয়েছে ২৫০ বিঘা।

তিনি আরও জানান, এক দশক আগে এ অঞ্চলে শুধু ধানের আবাদ হতো। কিন্তু এখন ধানের চাষ কমেছে। বেশি পানি লাগার কারণে মানুষ অন্য আবাদে ঝুঁকছেন।

তানোর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শমসের আলী জানান, তানোরসহ বরেন্দ্র অঞ্চলজুড়ে পুরো ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। পানি উত্তোলনে নানা সমস্যায় চাষিরা কম সেচের আবাদে ঝুঁকছেন। রবিশস্যতে একদিকে পানি খরচ কম, অন্য দিকে রবিশস্যতে লাভ বেশি হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৮, ২০২২ ৩:০৫ অপরাহ্ন
শিবচরে বোরো ধান চাষে ব্যস্ত কৃষক
কৃষি বিভাগ

জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশায় ঘর থেকে বের হওয়াই যেন দায়। শিবচরে বোরো বীজতলা থেকে চারা তুলে এক ফসলি জমিতে রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক। কনকনে শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমি প্রস্তুত, পানি সেচ, হালচাষ, সার প্রয়োগ ও বীজ তুলছেন তারা। কেউ জমিতে হাল দিচ্ছেন, কেউ তৈরি জমি ভিজিয়ে রাখছেন সেচ দিয়ে। সব কাজ শেষ করে অনেকে বীজতলা থেকে চারা তুলে রোপণ করছেন খেতে। চারা রোপণসহ প্রতিটি কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করলেও শান্তি নেই কৃষকের মনে। হতাশা সবার মধ্যে। কারণ ধানের ন্যায্য দাম না পেলে লোকসান গুনতে হবে।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) উপজেলার চরজানাজাত, কাঠালবাড়ি, মাদবরেরচর, বন্দরখোলা, সন্যাসীরচরসহ আশপাশ এলাকা ঘুরে দেখা যায় ধান চাষের জন্য জমি প্রস্তুত, বীজতলা থেকে বোরো ধানের চারা তুলে রোপণ করা হচ্ছে। আবার জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত অনেকে।

বন্দরখোলা এলাকার ধান চাষি কালাম হাওলাদার বলেন, তেলের দাম বাড়ায় টিলার মেশিন দিয়ে হালচাষের খরচ বাড়ছে। কৃষি কাজই আমাদের পেশা। অন্য কাজ জানি না। কয়েক বছর ধরে লোকসান গুনছি, তবু আশায় বুক বেঁধে বোরো আবাদ করছি।’

একই এলাকার কৃষক আলোমগীর বলেন, ‘আমাদের এলাকা কৃষিনির্ভর। এ অঞ্চলের প্রায় সব কৃষক বর্গাচাষি। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অন্যের জমি চাষ করেন অনেকে।’

চরজানাজাত এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘বোরো ধান চাষ করতে বীজতলা তৈরি করেছি। বীজ বড় হয়েছে। জমি প্রস্তুত করা শেষ। দুই এক দিনের মধ্যে জমিতে বীজ রোপণ করবো।

মাদবরের চর এলাকার কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, এক ২ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বোরো ধান চাষ করতে সার ও বীজ পেয়েছি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ইতিমধ্যে ৩ হাজার কৃষকের মধ্যে প্রণোদনার সার, বীজ বিতরণ করেছে। চলতি বছর শিবচরে ৩ হাজার ২শ ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

শিবচর উপজেলা কৃষি অফিসার অনুপম রায় বলেন, কৃষকদেরকে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতিসহ সকল প্রকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উপজেলায় এবার ৩ হাজার ২শ ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলনও ভালো হওয়ার আশা করছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৮, ২০২২ ২:১৭ অপরাহ্ন
নীলফামারীতে চাষ হচ্ছে নতুন ফসল ‘কিনোয়া’
কৃষি বিভাগ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া মাস্টারপাড়া গ্রামে চাষ হচ্ছে হাইপ্রোটিন সমূদ্ধ নতুন ফসল ‘কিনোয়া’। এটি দানাদার শস্য, যা আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই, পটাসিয়াম এবং ফাইবারের একটি উৎস। 

শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর সুপার ফুড কিনোয়া, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী।

কিনোয়াতে অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে এবং লাইসিন সমৃদ্ধ, যা সারা শরীরে স্বাস্থ্যকর টিস্যু বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া কিনোয়া চাষে উপযোগী।

কৃষকের দাবি স্বল্প খরচে ধানসহ অন্যান্য রবি ফসলের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ। কিন্তু এখনও সেইভাবে বাজার গড়ে ওঠেনি।

এ চাষ পদ্ধতি অতিসাধারণ। লাইনটেনে কিংবা বীজ ছিটিয়ে বপন করা যায়। এর চাষবাদে তেমন কোনও পরিচর্যা, রোগবালাই নেই। রাসায়নিক সারের প্রয়োজন ছাড়াই শুধুমাত্র জৈব সার ব্যবহার করে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায়। কম খরচে প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৫ মণ শস্যদানা ঘরে তোলা যাবে। এর পাতা মুখরোচক সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়ার জুড়ি নেই।

কৃষি অফিস জানায়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাস দীর্ঘ ৫ বছর গবেষণা করে বাংলাদেশের আবহাওয়া সহনশীল সুপার ফুড কিনোয়া-১ জাত উদ্ভাবন করে মাঠে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে এক বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে উচ্চমূল্যের কিনোয়া। মাগুড়া মাস্টারপাড়া গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া পরীক্ষামূলকভাবে ১২ শতাংশ, পাশের গ্রামের বিহারী রায় ২০ শতাংশ জমিতে কিনোয়া চাষ করেছেন।

মাগুড়া মাস্টারপাড়া গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া বলেন, কিনোয়া এ অঞ্চলে নতুন ফসল। তাই এটি সম্পর্কে কোনও ধারণা ছিল না। কিনোয়া রবি মৌসুমের শীতকালীন ফসল। যা ৭৫ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যাবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, কিনোয়াসহ উচ্চমূল্যের নিত্যনতুন ফসল চাষে তৃণমূল পর্যায়ে কৃষককে আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে। এ চাষাবাদ ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের মানুষের পুষ্টিহীনতা দূর হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৮, ২০২২ ১২:১৮ অপরাহ্ন
শ্রীমঙ্গলে প্রায় ৫০ বিঘা জমির ধান চাষ অনিশ্চিত
কৃষি বিভাগ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আগাছানাশক ওষুধ ছিটিয়ে বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ৫০/৬০ বিঘা জমির ধান চাষ। স্থানীয়দের ধারণা, নির্বাচনী প্রতিহিংসার জেরে ধানের বীজতলা নষ্ট করেছে প্রতিপক্ষরা। 

বোরো মৌসুমের শুরুতেই ধারদেনা করে ধানের বীজতলা তৈরি করেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরের ইছবপুর গ্রামের দরিদ্র চার কৃষক। জমিতে বীজ বপনের পাশাপাশি নিজেদের ভালো থাকার স্বপ্ন বুনেছিলো তারা। কিন্তু বীজতলার সাথে তাদের সেই স্বপ্নও পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রাতের আঁধারে আগাছানাশক ওষুধ ছিটিয়ে প্রায় একবিঘা জমির বীজতলা নষ্ট করে দিয়েছে কে বা কারা।

বুধবার হঠাৎ সব ধানের চারা পুড়ে যাওয়া দেখে হতবাক এই কৃষকরা। কীভাবে এখন বোরোর আবাদ করবেন, এনিয়ে দিশেহারা তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রামবাসী ও কৃষি কর্মকর্তা। তাদের আশঙ্কা, স্থানীয় বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটাতে পারে প্রতিপক্ষরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা জানালেন, আগাছা মারার ওষুধ ছিটিয়ে চারা নষ্ট করা হয়েছে, এগুলো আর রোপন করা যাবে না। কৃষকদের সহায়তা ও দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি গ্রামবাসীর।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৭, ২০২২ ৫:৩৬ অপরাহ্ন
মেহেরপুরে ভ্রাম্যমাণ কৃষি হাসপাতাল
কৃষি বিভাগ

গাছেরও প্রাণ আছে। সেসব গাছের রোগ-বালাই দূর করতে মেহেরপুরের গ্রামে গ্রামে ভ্রাম্যমাণ কৃষি হাসপাতাল কৃষাণ-কৃষাণীদের পরামর্শ দিয়ে ফিরছেন এক উপ-সহকারী কৃষি অফিসার। শুধু কী মানুষেরই রোগ বালাই হয় , এমন প্রশ্নর সহজ উত্তর কৃষিবিদদের। যার প্রাণ আছে তারই রোগ আছে।

তাই মাটিরও প্রাণ আছে। আছে শাক সবজি, ফল মুল ও গাছের রোগ। এসব রোগেরও ওষুধ আছে। দেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। কৃষি বিজ্ঞানী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ পুষ্টি নিয়ে ভাবছে। এ ভাবনাতেই মেহেরপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ কৃষি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ হাসপাতালে কৃষির উৎপাদন, রোগ-বালাই রোধে দেয়া হচ্ছে চিকিৎসা। কৃষকরা সুফলও পাচ্ছে।  মেহেরপুর জেলায় দেশে প্রথম   ভ্রাম্যমাণ কৃষি হাসপাতাল।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার অলিনগর গ্রামে দেখা মেলে ভ্রাম্যমাণ কৃষি হাসপাতালের। উপ-সহকারী কৃষি অফিসার বকুল হোসেন গ্রামের কৃষাণীদের তাদের সবজির রোগ প্রতিরোধে করণীয় ও রোগাক্রান্ত সবজির রোগ প্রতিরোধে পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রতিদিনই কৃষাণীরা বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষের পরামর্শ ও বালাইনাশক ওষুধ নিচ্ছেন। চাষিরাও আসছে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালে।

সেখানে চিকিৎসা সহায়তা নিতে আসা কৃষাণী মোছাঃ মাজেদা খাতুন, শেফালী, শ্যামলী, রুমা, চায়না অভিন্নসুরে জানান- ভ্রামমাণ কৃষি হাসপালের  মাধ্যমে ফল ও সবজির  পোকা মাকড় দমনের জন্য বিষটোপ তৈরি, অন্যান্য ক্ষতিকর পোকা দমনের জন্য জৈব বালাইনাশক তৈরির কৌশল শিখেছি। এ সকল পোকা দমন পদ্ধতির মাধ্যমে রোগমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে পারছেন। রাসায়নিক সারের ব্যবহার বন্ধ করে জৈব সারে সবজি উৎপাদন করতে পারছেন।

অলিনগর গ্রামের সুফিয়া খাতুন বলেন- আমাদের কৃষি হাসপাতালের ডাক্তার প্রথমে বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষে গ্রামের কৃষাণীদের উদ্যোগী করেন। গত জুন মাসের পর থেকে প্রতি সপ্তাহে গ্রামে আসেন। বাড়ির আঙ্গিনার সবজির রোগ-বালায় প্রতিরোধে করনীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেন। রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈবসার তৈরী ও তার ব্যবহারবিধি শিখিয়েছেন। রোগ-বালাই হলে কোন সময় কোন ওষুধ দিতে হবে সেই পরামর্শ দেন।

একই গ্রামের রাহেলা খাতুন বলেন- তাদের বাড়ির আঙ্গিনায় উৎপাদিত রোগ ও  বিষমুক্ত সবজি কেনার জন্য অনেক লোকজন আসে। কিন্তু আমরা বাইরের চাহিদা মেটাতে পারিনা। গ্রামের মানুষের চাহিদা মেটাতে পারি। তিনি আরও বলেন- আগামীতে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে বিষমুক্ত জৈবসারের মাধ্যমে সবজি চাষ করবো।

ভ্রাম্যমাণ কৃষি হাসপাতালের চিকিৎসক উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ বকুল হোসেন বলেন- জৈব কৃষির বিস্তার অতিদ্রুত গ্রামীণ জনগষ্ঠীর দারপ্রান্তে পৌছানোর লক্ষ্যে পরামর্শ প্রদান করেন। হাত-কলমে ব্যবহার বিধি শেখানো হয়। ফলে গ্রাম অঞ্চলের মানুষ কম খরচে বিষমুক্ত নতুন নতুন জাতের ফল উৎপাদন করছেন। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে কালেকশন পয়েন্টের মাধ্যমে বাজার জাত করে কৃষক কৃষাণীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে।  কৃষিণীরা তাদের উৎপাদিত সবজি এ হাসপাতালে নিয়ে আসে। এখান থেকেই ভোক্তারা রোগমুক্ত সবজি ক্রয় করেন।

তিনি আরও বলেন- নতুন নতুন ফলের জাত আলু বোখারা, জাবাটিকাবা, শরিফা, এলাচ চাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এখন গাংনীতে এলাচফল চাষ শুরু হয়েছে। আগামী দু‘চার বছরের মধ্যে মেহেরপুরের মাটিতে এলাচ উৎপাদন হবে। তেরাইল ব্লকের বসত ভিটায়  ৫৫ হেক্টর অব্যবহৃত জায়গায় পুষ্টিকর সবজি বাগান করা হয়েছে। হরেক রকমের ফল ও শাকসবজি উৎপাদন হচ্ছে। চলতি মৌসুমে বাড়ির আঙ্গিনার  ৮০০ টন লাউ, ১০০ টন করলা, ২০০ টন শসা, ৫০০ টন টমেটো, ২৪৫ টন মূলা, ১৮০ টন পালং ৬০ টন বরবটি, ৬০ টন লালশাক, ৩৫০ টন পেপে, ৪০ টন গাজর উৎপাদন হয়েছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন- মেহেরপুরের মাটিতে সব ধরনের ফসল উৎপাদন হয়। কৃষি নিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয় সবসময়। মেহেরপুরের কৃষিতে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালের মাধ্যমে কৃষকদেরকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে জেলার সব ব্লকেই ভ্রাম্যমাণ কৃষি হাসপাতালের মাধ্যমে পরামর্শ দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৭, ২০২২ ৫:১১ অপরাহ্ন
কৃষকের ১০ হাজার তরমুজগাছ উপড়ে ফেললেন পাউবো প্রকৌশলী!
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দেলোয়ার খলিফা নামে এক কৃষকের ১০ হাজার তরমুজ গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।

রোববার দুপুরে কুয়াকাটা পৌরসভার পশ্চিম ধুলাসার গ্রামে ওই চাষির প্রায় ১৫ হাজার তরমুজগাছের মধ্যে ১০ হাজার গাছ উপড়ে ফেলা হয়।

কৃষক দেলোয়ার জানান, গত কয়েক বছর ধরে তিনি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঢালে বিভিন্ন সবজি চাষ করে আসছে। এখানে বন বিভাগের ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে গত দুই মাস আগে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করে তরমুজের চাষ শুরু করেন। শুরুতে বন বিভাগের স্থানীয় বিট অফিসার মোশাররফকে ১০ হাজার টাকাও দিয়েছেন। তারা প্রতিদিন সেখানে গিয়ে চাষের খোঁজখবরও নিতেন।

কৃষকের অভিযোগ, রোববার হঠাৎ কুয়াকাটা পাউবোর প্রকৌশলী মনির এবং তার সহযোগী সার্ভেয়ার হাসানসহ ৬-৭ জন এসে তার প্রায় ১০ হাজার গাছ একযোগে উপড়ে ফেলেন।

কৃষক দেলোয়ার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মুই হ্যাগো আতপাও ধইরা অনেক কানছি, কিন্তু হ্যারা আমার কোনো কতাই হোনে নাই। আমারে একটা মাস সময় দিলেই এই সর্বনাশটা মোর অইতে না। আমি এইয়ার বিচার চাই।’

দেলোয়ারের স্ত্রী সালমা বেগম জানান, তার স্বামীর সঙ্গে তিনি ওই জমিতে তরমুজ চাষে সহযোগিতা করেছেন। আর্থিক জোগান দিতে তিনটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে স্বামীকে দিয়েছেন। এখন এই ঋণ কি উপায় পরিশোধ দেবেন এই চিন্তায় তিনি অস্থির।

প্রতিবেশী নাসির মৃধা বলেন, তরমুজের গাছগুলো উপড়ে ফেলতে নিষেধ করে আমরা গ্রামবাসী সবাই অনুরোধ করেছি। আগামী এক মাসের মধ্যে এই গাছ থেকে ফলন পেতাম। কিন্তু প্রকৌশলী এবং তার লোকজনকে কোনো কথা শোনাতে পারিনি।

টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বন বিভাগের দায়িত্বে থাকা গঙ্গামতি ফরেস্ট বিটের মোশাররফ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো টাকাপয়সা নিইনি, এগুলো সব মিথ্যা। তাকে তরমুজ চাষে নিষেধ করার পরও তিনি গাছ লাগিয়েছেন। ওখানে ঘাস নষ্ট হওয়ার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী গাছ উপড়ে ফেলেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজে নিয়োজিত প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ওখানে তরমুজগাছ লাগিয়েছে আগে দেখিনি। সরেজমিন গিয়ে দেখে তরমুজগাছগুলো আমার লোকজনকে তুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন জানান, ওই স্থানে এখন প্রকল্প আওতাধীন কাজ চলমান। এ বিষয়ে তারা করণীয় নির্ধারণ করবেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক জানান, বিষয়টি জেনেছি। বিস্তারিত খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৭, ২০২২ ৪:৫৭ অপরাহ্ন
শিবচরে কৃষকদের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ
কৃষি বিভাগ

মাদারীপুর শিবচরে ২০২১-২২ অর্থবছরে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় ৫০% ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার পরিষদ চত্তরে ৫০% ভর্তুকির আওতায় বাছাইকৃত উপকারভোগী কৃষকদের মাঝে ৭টি মেইজ শেলার ও ২টি পাওয়ার থ্রেসার দেয়া হয়েছে।

মেশিন প্রাপ্ত কৃষকরা হলেন, উপজেলার শিবচর ইউনিয়নের আজিজ মাদবর, ভদ্রাসন ইউনিয়নের সোরোয়ার আলী, ভান্ডারিকান্দি ইউনিয়নের খোকন হাওলাদার, দত্তপাড়া ইউনিয়নের ফতে আলী, কাদিরপুর ইউনিয়নের আতাউর রহমান, বাঁশকান্দি ইউনিয়নের সেলিম পন্ডিত ও মাদবরেরচর ইউনিয়নের তৈয়ব আলী, কাঁঠাল বাড়ি ইউনিয়নের আব্দুল জলিল ও দেলোয়ার হোসেন।

শিবচর উপ‌জেলা নির্বাহী অ‌ফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান এর সভাপ‌তি‌ত্বে শিবচর উপজেলা কৃ‌ষি কর্মকর্তা অন‌ুপম রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপ‌স্থিত ছি‌লেন শিবচর উপ‌জেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম‌্যান বিএম আতাউর রহমান।

এসময় আরো উপ‌স্থিত ছি‌লেন, উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত উপকারভোগী কৃষক ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুপম রায় জানান, উপজেলায় ৭ জন কৃষকদের মাঝে ৭ টি মেইজ শেলার বিতরণ করা হয়। ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে যাবে এবং কৃষকের আয় বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৭, ২০২২ ৪:৩০ অপরাহ্ন
কৃষিতে স্বপ্ন বুনছেন মানিকগঞ্জের যুবকরা
কৃষি বিভাগ

কৃষিতে স্বপ্ন বুনছেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গিলন্ড এলাকার শিক্ষিত যুবকরা। উপজেলার গিলন্ড এলাকার যুবকরা উচ্চ শিক্ষিত হয়েও চাকুরির পিছনে না ছুটে কর্মস্থান করে নিয়েছেন। দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা। শুরুতেই ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে কুল ও পেয়ারার আবাদ শুরু করেন। কুলের ভাল ফলন ও সঠিক মূল্য পেয়ে কৃষিকর্মের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। 

তারা জানান, এখন আর চাকুরি করার ইচ্ছা নেই। আমাদের বাগানেই ১০ জন লোক চাকুরি করছেন। গিলন্ড এলাকার সানি কৃষি খামার এন্ড নার্সারি এর স্বত্বাধিকারী সানি রহমান মিন্টু বলেন, সরকারি কলেজ থেকে মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেও চাকুরির ব্যবস্থা হয়নি। অবশেষে কয়েক বন্ধু মিলে কৃষি কাজে নেমে পড়েছি। ১০ একর জমি লিজ নিয়ে কুল এবং পেয়ারার আবাদ করেছি। বাগান থেকেই কুল বিক্রি শুরু হয়েছে। ভাল দামও পাচ্ছি। কুল বিক্রি শেষ হলে সাথী ফসল হিসেবে শশা, বাঙ্গী, লাল শাকসহ অন্যান্য ফসল রোপন করা হবে।

অর্থনীতি বিষয়ে মাস্টার্স করা মোঃ ফরহাদ জানান, আগে একটি সরকারি চাকুরির লোভ ছিল। এখন কোন ধরনের চাকুরির ইচ্ছা নেই। মনে হচ্ছে এখান থেকেই আমাদের উজ্জল ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে। আমাদের বাগানে বলসুন্দরী, কাশ্মিরী, টকমিষ্টি, বাউকুলসহ বিভিন্ন জাতের কুল রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এগুলোর চারা আনা হয়েছে চুয়াডাঙ্গা থেকে। এখন থেকে আমরাই কলম করে চারা সারা জেলায় ছড়িয়ে দিতে পারবো। এবার আরোও বেশি করে  জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদের পরিধি বাড়ানো হবে। আগে যারা আমাদের পাগল বলতো সফলতা দেখে তারা এখন প্রতিদিন বাগানে এসে উৎসাহ দিচ্ছেন। আমাদের দেখে অনেকের মধ্যেই আগ্রহ দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের লোকজন সবসময় খোঁজখবর নিচ্ছেন। ফোন দিলে বাগানে চলে আসেন।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর কুল ও পেয়ারার আবাদ বাড়ছে। এ বছর জেলায় ৮১ হেক্টর জমিতে কুল ও ২৩২ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৭, ২০২২ ৪:০২ অপরাহ্ন
ঝিনাইদহে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে রবিশস্যের চাষ
কৃষি বিভাগ

ঝিনাইদহে মৌসুমের শুরুতেই বৈরি আবহাওয়া এবং অতি বৃষ্টির কারণে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে রবিশস্যের চাষ। ডিসেম্বরের শুরুতে অতি বৃষ্টির জন্য নষ্ট হয়েছে জেলার শতকরা ৮০ ভাগ জমির ফসল। এতে করে চরম লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। আগামীতে খেসারি, মশুরি, গম, মটরসহ অন্যান্য রবিশস্যের অস্বাভাবিক ঘাটতির আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলার ছয় উপজেলার মাঠে চাষ হওয়া গম ৪৩৫৪ হেক্টরের মধ্যে ৪০০৭ হেক্টর, সরিষা ৯১৭১ হেক্টরের মধ্যে ৭৮৩৮, মশুর ৭৫৭৩ হেক্টরের মধ্যে ৬৭৫৫, খেসারি ৫৮৯ হেক্টরের মধ্যে ৪৯৫, মটর ৪৩৩ হেক্টরের মধ্যে ৩৮৮, মরিচ ৫৮৮ হেক্টরের মধ্যে ৪৫৫ এবং আলু ১৩৭৩ হেক্টরের মধ্যে ৯৮৬ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও ক্ষতির তালিকায় অন্যান্য ফসলও রয়েছে। রবিশস্য আবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলার ৪৯ হাজার ৪৪৭ জন কৃষক। গত ৫ ডিসেম্বরের ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে পানি জমে থাকায় এসব ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলছে কৃষি বিভাগ বলছে।

সাধারণত ১৬ অক্টোবর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময়কালকে রবি মৌসুম বলা হয়। এই সময়ের মধ্যে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হয় রবিশস্যের আবাদ। এই আশায় যথারীতি কৃষকরা ভালো ফলনের আশায় কেউ জমি চাষ করে গম বপন করেছিলেন, কেউবা মশুরি, সরিষা কিংবা আমন ধানের ক্ষেতে ছিটিয়ে ছিলেন খেসারির বীজ। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ায় তা নষ্ট হলে আবার তারা ক্ষেতে বীজ বপন করলেও অধিকাংশ ফসলই নষ্ট হয়ে যায়। কোনো কোনো এলাকায় কিছুটা মশুরি থাকলেও পাতা হলুদ হয়ে মরে যাচ্ছে গাছ। তবে খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি সরিষা ক্ষেত।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার যুগনী গ্রামের কৃষাণী রিনা বেগম জানান, অন্যের জমি লিজ নিয়ে ফসল চাষ করে চালান নিজের সংসার। রবি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় এক বিঘা জমিতে খেসারির বীজ ছিটিয়ে ছিলেন। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে পানি জমে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। পানি সরে গেলে পরে আবার খেসারির বীজ ছিটালেও মাটি ভেজা থাকায় তা আর অঙ্কুরিত হয়নি।

একই গ্রামের কৃষক তরিকুল জোয়ার্দার বলেন, ছয় বিঘা জমিতে দুইবার করে খেসারি আর কলই বীজ ছিটিয়ে ছিলেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু ফসল নষ্ট হয়ে তার পুরো টাকা লোকসানে গেছে।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আজগর আলী জানান, মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা বৈরি আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানি সরে গেলে পরে অনেকেই আবার নতুন করে আবাদ করলেও সময় পার হওয়ায় সেখানেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৭, ২০২২ ৩:১৮ অপরাহ্ন
কালাইয়ে গাছে গাছে আমের মুকুল
কৃষি বিভাগ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে গাছে গাছে মুকুল দেখা দিতে শুরু করেছে। এখন সময়ের ব্যবধানে তা আরও বাড়ছে। গতবছর চেয়ে এবছর আমগাছে মুকুলের পরিমাণ কিছুটা বেশি। গাছে গাছে ফুটছে আমের ছোট বড় অনেক মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের ঘ্রাণ। 

আমচাষি এবং সংশ্লিষ্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবার আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তবে আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছর আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আর একারণেই আশায় বুক বেধে আমচাষিরা শুরু করেছেন পরিচর্যা। তাদের আশা, চলতি মৌসুমে তারা আম থেকে অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হবেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আম বাগানের সারি সারি গাছে শোভা পাচ্ছে কেবলই ছোট বড় অনেক মুকুল। ঐসব আমগাছে পুরো মুকুল ফুটতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। আমগাছের ফুলের সৌরভ ছড়াচ্ছে আমেরমুকুলে। এযেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে মুকুলে আছে গাছের প্রায় প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। মুকুলের সেই সুমিষ্ট সুবাস আন্দোলিত করে তুলছে মানুষের মন। এবার মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে আমবাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলোতে। আম আম্রপালি, নেংড়া, হাড়িভাঙ্গা, বারি-৪,বারি-৫, বারি-২, ফজলি ও আশ্বিনা জাতেরই গাছ রয়েছে। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে আমচাষিরা চোখে ভাসছে স্বপ্ন।

উপজেলার মাত্রাই গ্রামের মিলন, জয়পুর-বহুতি গ্রামের এনামুল ও রাঘবপুর গ্রামের তাজুলসহ অনেকেই আম চাষি জানান, এবার আগেভাগে মুকুল এসেছে। এখন আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ আম গাছে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের বাগানের অধিকাংশ গাছ-ই এরইমধ্যে মুকুলে ছেয়ে গেছে। এবার কুয়াশা কম থাকায় মুকুল ভালোভাবে ফুটছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর তারা আমের বাম্পার ফলন পাবেন বলে তারা আশা করছেন।

কালাই উপজেলার কৃষি অফিসার মোছা.নীলিমা জাহান বলেন, আমের মুকুল আসার আগে-পরে যেমন আবহাওয়ার প্রয়োজন, এ বছর তা বিরাজ করছে। জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত আম গাছে মুকুল আসার আদর্শ সময়। এ সময়ে মুকুলের প্রধান শত্রু হচ্ছে কুয়াশা। এখন পর্যন্ত কুয়াশা কম এবং আকাশে উজ্জ্বল রোদ থাকায় আমের মুকুল ভালো ফুটছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আম চাষিরা সময়মতো আমগাছে পরিচর্যা করলে চলতি মৌসুমে আমের ভালো ফলন পাবেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop