১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

রবিবার, ৮ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : নভেম্বর ২৭, ২০২১ ৪:১৭ অপরাহ্ন
চন্দ্রমহল ইকোপার্ক থেকে উদ্ধার বন্যপ্রাণী সুন্দরবনের করমজলে অবমুক্ত
প্রাণ ও প্রকৃতি

বাগেরহাটের চন্দ্রমহল ইকোপার্ক থেকে উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীগুলোকে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রে অবমুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে সুন্দরবনের করমজলে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার র‌্যাব-০৬, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অবমুক্ত করা প্রাণীগুলোর মধ্যে ছিলো ১টি কুমির, ২টি চিত্রা হরিণ, ৫টি বানর, ২টি কচ্ছপ, ৭টি বক ও ২টি মাছমুড়াল পাখি। এছাড়া চন্দ্রমহল ইকোপার্ক থেকে জব্দ হওয়া ১টি হনুমান যশোরের কেশবপুরে, ১টি ময়ুর, ৫টি অস্ট্রেলিয়ান ঘুঘু ও ২টি উট পাখি সাফারি পার্কে অবমুক্ত এবং ১টি তিমির কংকাল, ৬টি হরিণের শিং, ৬টি হরিণের চামড়া, ১টি ভাল্লুকের চামড়া ও ১টি ক্যাঙ্গারুর চামড়া বনভিাগের বিভাগীয় দপ্তরে সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন এ বন কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর বাগেরহাটের চন্দ্রমহল ইকোপার্কে অভিযান চালিয়ে ১১ প্রজাতির ২৪টি বন্যপ্রাণী ও ১৫টি ট্রফি (কংকাল, চামড়া, শিং) উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৭, ২০২১ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন
বিলুপ্তপ্রায় নীলগাই উদ্ধারের পর মৃত্যু
প্রাণ ও প্রকৃতি

ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা মিনাপুর গ্রামে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির একটি মাটিয়া ধূসর রঙ্গের পুরুষ নীলগাই আটক করে হরিপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) বিকালে এলাকাবাসি বিলুপ্ত প্রজাতির নীলগাই দেখতে পায়। পরে হরিপুর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশসহ আশপাশের লোকজনকে নিয়ে সেটিকে ধরা হয়।

খবর পেয়ে স্থানীয় কারিগাও বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয় ও বিজিবির নিকট হস্তান্তর করা হয়। সন্ধ্যায় কারিগাও ক্যাম্পে চিকিৎসা দেয়া অবস্থায় নীলগাইটি মারা যায়।

হরিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম নীলগাই উদ্ধারের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সাথে সাথেই কারিগাও বিজিবি’র নিকট প্রাণীটি হস্তান্তর করা হয়েছে। ধরার সময় জখম হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নীলগাইটি মারা যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৫, ২০২১ ৫:০১ অপরাহ্ন
নাসিরনগরে সাপের আতঙ্ক থেকে মুক্ত কৃষকরা
প্রাণ ও প্রকৃতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগের গত ৪ দিনে অভিযান চালিয়ে ২৬টি পদ্ম-গোখরা সাপের ডিমের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে উপজেলা সদরে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। তবে এখন কিছুটা আতঙ্ক মুক্ত।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাপ আতঙ্কে প্রেস বিফ্রিংয়ের আয়োজন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও হালিমা খাতুন বলেন, সাপ আতঙ্কের খবর পেয়ে আমরা উইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশকে খবর দেয়। তারা ঘটনাস্থলে এসে ৪ দিন অভিযান চালিয়ে দত্ত বাড়ির ইটের স্তূপ থেকে ২৬টির পদ্ম গোখরা সাপের ডিমের খোসা উদ্ধার করে। তবে এখন সাধারণ মানুষ অনেকটা আতংক মুক্ত। এখন চলাফেরা করতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

এ সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রাফি উদ্দিনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৪, ২০২১ ২:৫৩ অপরাহ্ন
এক সপ্তাহেই হত্যা করা হয়েছে ৭টি বন্য হাতি
প্রাণ ও প্রকৃতি

দিনকে দিন বাড়ছে হাতি নিধনের ঘটনা। চলতি সপ্তাহেই হত্যা করা হয়েছে ৭টি বন্য হাতি। বনাঞ্চল দখল, চাষাবাদ আর হাতির দাঁত বিক্রির জন্য একটি সংঘবদ্ধ চক্র কখনও বিদ্যুস্পৃষ্ট কখনও বা গুলি করে, ফাঁদ পেতে হত্যা করছে হাতি। শেরপুর, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে হাতি হত্যার ঘটনায় উদ্বিগ্ন পরিবেশবাদীরা। 

সারাদেশে এশিয়ান হাতি রয়েছে ২৬৮টি। এদের দুই তৃতীয়াংশের বসবাস কক্সবাজার, শেরপুর ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে। হাতি চলাচলের জন্য রয়েছে ১২টি করিডোর।

বনাঞ্চল ধ্বংস, রোহিঙ্গা বসতি, পর্যাপ্ত খাদ্যাভাবসহ চলাচলের করিডোর চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় লোকালয়ে হানা দিচ্ছে হাতি। নষ্ট করছে ফসলের ক্ষেত, বাড়িঘর।

লোকালয়ে হাতি আসা ঠেকাতে দুর্বৃত্তরা ফসলের ক্ষেতে পল্লী বিদ্যুতের তারের সংযোগ বসিয়ে, কখনো বা  গুলি করে হত্যা করছে হাতি। গত এক বছরে কক্সবাজার অঞ্চলে ১০টি ও শেরপুরে গত ২৬ বছরে ৩১টি হাতি হত্যা করা হয়।

এভাবে ফাঁদ পেতে হাতি হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশবাদীরা।

এনভায়রনমেন্ট পিপল প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, কক্সবাজারে হাতি নিরাপদে নেই, আমাদের জীববৈচিত্র্য ও হাতিগুলো রক্ষার জন্য পরিকল্পিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বনবিভাগ জানায়, মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি বনাঞ্চলে হাতির করিডোর ও আবাসস্থল বৃদ্ধিসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের কর্মকর্তা মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, “হাতির জায়গায় মানুষ চলে আসছে। হাতি যেসব জায়গায় ফ্রিভাবে চলাচল করতো সেখানে মানুষ ঘর উঠাচ্ছে, ধান চাষ করছে। যার ফলে এগুলো দেখে হাতির সাথে মানুষের কনফ্লিকটা হচ্ছে।”

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের কর্মকর্তা মো: সারওয়ার আলম বলেন, “আমরা প্রায় ২০টি এলিফেন্ট রেসপন্স টিম গঠন করেছি। এই টিম স্থানীয় বনবিভাগ, স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে কিছু কৌশল অবলম্বন করে ঢোল পিটিয়ে, পটকার আওয়াজ দিয়ে তাদেরকে আবার বনাঞ্চলে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে।”

একের পর এক বন্যহাতির মৃত্যুতে এশিয়ান হাতি বিলুপ্ত হওয়ার আশংকা আরও তীব্র হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৪, ২০২১ ১১:০৩ পূর্বাহ্ন
গাজীপুরে রিসোর্টে মিলল চারটি মায়া হরিণ ও ৫৬টি শিং
প্রাণ ও প্রকৃতি

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার ভাংনাহাটি গ্রামের গ্রিন ভিউ গলফ রিসোর্ট নামের একটি অবকাশ কেন্দ্র থেকে চারটি মায়া হরিণ ও ৫৬টি চিত্রা হরিণের শিং জব্দ করেছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বন বিভাগের সহায়তায় বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট এ অভিযান চালিয়ে প্রাণী ও শিং উদ্ধার করা হয়। এসময় রিসোর্টের মালিক ফকির মনিরুজ্জামান ভবিষ্যতে তার এই অবকাশ কেন্দ্রটি বন্যপ্রাণী মুক্ত রাখার অঙ্গীকার করেন।

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক নার্গিস সুলতানা বলেন, গোপন সংবাদের ভিক্তিতে এ অবকাশ কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে এসব বন্যপ্রাণী পাওয়া যায়। পরে কর্তৃপক্ষকে বন্যপ্রাণী আইন সম্পর্কে অবহিত করলে তারা এসব প্রাণী ও শিং সেচ্ছায় হস্তান্তর করেন। চারটি মায়া হরিণ গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে হস্তান্তর করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, জুনিয়র ওয়াইন্ড লাইফ স্কাউট সাদেকুল ইসলাম, বন কর্মকর্তা হাসান আল তারেক,ঢাকা বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মীর বজলুর রহমান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৩, ২০২১ ৬:৪৫ অপরাহ্ন
চাকরি ছেড়ে মুক্তা চাষে স্বাবলম্বী নাজিম উদ্দিন
প্রাণ ও প্রকৃতি

নাজিম উদ্দিন। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদরপুর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় ছিলেন একজন এনজিও কর্মী। এনজিওতে কাজ করার সময় পরিচয় হয় ময়মনসিংহের কয়েকজন মুক্তা চাষির সঙ্গে। তাদের চাষ দেখে আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় নিজের ৪০ শতাংশ জায়গার পুকুরে ৫০০ ঝিনুক দিয়ে মুক্তা চাষ শুরু করেন।

নাজিম বছর শেষে দেখেন অধিকাংশ মুক্তা মারা গেছে। হতাশ না হয়ে মুক্তা চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে আবার শুরু করলে সফল হন। আয় হয় ৭০ হাজার টাকা। এরপর থেকে তার আর পেছনে থাকাতে হয়নি। তিনি এখন সফল মুক্তা চাষি। সিলেট, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারের পাশাপাশি ভারতেও বিক্রি করছেন তার উৎপাদিত মুক্তা। খামারে বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলছেন তিনি।

মুক্তা চাষি নাজিম উদ্দিন বলেন, মাছের পাশাপাশি মুক্তা চাষ শুরু করি শখের বসে। আমাদের এখানে ঝিনুক কিনতে হয় না। হাওরসহ নদ-নদী থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করে অপারেশনের মাধ্যমে মুক্তা চাষ করতে হয়। মুক্তা চাষ করে প্রথমে লোকসান হলেও এখন মুক্তা চাষে লাভবান আছি।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, নাজিম উদ্দিন মুক্তা চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে চাষ করছেন। আমরা তাকে আমাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করে থাকি। প্রথম দুই বছর তিনি অনেক কষ্ট করেছেন, লাভের মুখ দেখতে পারেননি। কিন্তু বর্তমানে তিনি মুক্তা চাষ করে সফল হয়েছেন।

জানা যায়, ২০১৭ সালে শখের বশে নিজের পুকুরে মাছের পাশাপাশি ৭ হাজার টাকা খরচ করে ঝিনুক দিয়ে চাষ শুরু করেছিলেন। শুরুতেই অধিকাংশ মুক্তা মারা যায়। এরপর ২০১৮ সালে ময়মংসিংহ মুক্তা গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অরুণ চন্দ্র বর্মণের কাছে গিয়ে আবারও প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তা চাষের কিছু যন্ত্রপাতি নিয়ে আসেন। ২০১৯ সালে হাওরসহ বিভিন্ন নদ-নদী থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করে ৮০০ ঝিনুক দিয়ে চাষ শুরু করে সফল হন। এবার ৫-৬ লাখ টাকা বিক্রি করার আশা করছেন তিনি। পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৩, ২০২১ ১১:২৩ পূর্বাহ্ন
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জন্ম নিলো বিলুপ্ত প্রজাতির সাম্বার হরিণ
প্রাণ ও প্রকৃতি

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জন্ম নিলো ‘বিলুপ্ত প্রজাতির’ সাম্বার হরিণ। নতুন জন্ম নেওয়া শাবকটিসহ সাম্বার হরিণের মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ছয়। দেশের চিড়িয়াখানাগুলোর মধ্যে একমাত্র চট্টগ্রামেই সাম্বার হরিণ নতুন শাবকের জন্ম দিয়েছে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কিউরেটর ও চিকিৎসক শাহাদাত হোসেন শুভ জানান, সোমবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে শাবকটির জন্ম হয়েছে। বর্তমানে শাবক ও তার মা সুস্থ আছে। তবে মায়ের সাথে থাকায় শাবকটির এখনও লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায়নি বলেও জানান তিনি।

শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, সাম্বার হরিণ এ উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় হরিণ। বর্তমানে এ প্রজাতির হরিণ প্রায় বিলুপ্ত।

প্রসঙ্গত, তিন বছর বয়সে প্রজননক্ষম সাম্বার হরিণের গড় আয়ু ২৫ বছর। সাত থেকে আট মাস গর্ভধারণের পর এটি বাচ্চা প্রসব করে। এ শাবকগুলো ছয় মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করে। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে একটি সাম্বার হরিণের জন্ম হয়েছিল।

সাম্বার হরিণ ছাড়াও চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আরও চারটি মায়া হরিণ ও ২৭টি চিত্রা হরিণ রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২১, ২০২১ ৩:৫৯ অপরাহ্ন
কক্সবাজারে ড্রেনে পড়ে হাতির মৃত্যু
প্রাণ ও প্রকৃতি

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলাবাদ ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকার এক ড্রেনে পড়ে আছে একটি বন্যহাতির মরদেহ। মূলত খাবারের সন্ধানেই হাতিটি এসেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ড্রেনে পড়ে থাকলেও হাতিটির শরীরে বেশকিছু আঘাতের চিহ্ন পেয়েছে চিকিৎসকরা।

রোববার (২১ নভেম্বর) দুপুরে হাতিটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে কক্সবাজার উত্তর বন-বিভাগ।

স্থানীয় লোকজন ও বন-বিভাগ জানায়, রাতের কোনো এক সময় ইসলাবাদ ইউনিয়নের ভুমরিয়াঘোনা রেঞ্জের গজালিয়ায় বন্য হাতিটি লোকালয়ে চলে আসে। বনাঞ্চল থেকে মূলত খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে এসেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ড্রেনে উল্টে পড়ে গিয়ে হাতিটি আর উঠতে পারেনি। সে কারণে হয়তো তার মৃত্যু হতে পারে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার উত্তর বন-বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক প্রাণতোষ চন্দ্র রায় বলেন, হাতিটি ময়না তদন্তের জন্য আলামত সংগ্রহ শেষে পুতে ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা হাতিটির শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন পেয়েছেন। এ কারণে ড্রেনে পড়ে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে নাকি কেউ হত্যা করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন-বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুতে ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান ও ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২১, ২০২১ ১:৫৬ অপরাহ্ন
তামাটে কাঠকুড়ালি
প্রাণ ও প্রকৃতি

কাঠঠোকরা বা কাঠকুড়ালি বর্ণিল রঙের লম্বা ঠোঁটের আকর্ষণীয় পাখি। গাছের কাণ্ডে ও শাখায় জোড়া পায়ে হেঁটে বা ছোট লাফ দিয়ে বিচরণ করে। বাংলাদেশে ১৯ প্রজাতির কাঠঠোকরার দেখা মেলে। কয়েকটি প্রজাতি আমাদের গ্রামীণ বনে, শহরের পার্কে ও উদ্যানে চরে বেড়ায়। তবে অধিকাংশ প্রজাতির বাস গহিন বনে।

দেশের মধ্যাঞ্চলের শালবন, সিলেট, চট্টগ্রামের বন ও সুন্দরবনেই কেবল অন্য প্রজাতিগুলোর বসবাস। কিছু প্রজাতির বসবাস রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের গহিন বনে। এসব বনে পাখিশুমারি ও গবেষণা কম হওয়ার কারণে এর সঠিক সংখ্যা নিয়ে কোনো তথ্য নেই। দেশের কয়েকজন পাখি গবেষকের কারণে বিরল কিছু কাঠঠোকরার সন্ধান পাওয়া গেছে। তার মধ্যে জানামতে তামাটে কাঠকুড়ালি কেবল কাপ্তাই, সাঙ্গু মাতামুহুরী ও পাবলাখালী অরণ্যে দেখা গেছে।

তামাটে কাঠকুড়ালি পালকের রং অনিন্দ্য, ডাক আকর্ষণীয়।

পৃথিবীর পাখির তথ্য সংগ্রহকারী বিখ্যাত ওয়েবসাইট ই-বার্ড ডেটাবেইসের (নভেম্বর ২০২১) দেওয়া তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে এ পাখিকে মাত্র ১২ বার দেখা গেছে এবং অন্য দেশের প্রাকৃতিক বনের মধ্যে ভুটানে ৫৮৭ বার, ভারতে ১ হাজার ৩৩৫, মিয়ানমারে ১৩৮, চীনে ৯৮২, ভিয়েতনামে ৬৮২, লাউসে ২৬, থাইল্যান্ডে ১ হাজার ৫২, কম্বোডিয়াতে ৭৬, নেপালে ৫৮, মালয়েশিয়াতে ৩২২ বার দেখা গেছে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২১, ২০২১ ১:২৪ অপরাহ্ন
দুই সপ্তাহে সাতটি হাতির মৃত্যু, বিলুপ্তির আশঙ্কা
প্রাণ ও প্রকৃতি

গেল দুই সপ্তাহে সাতটি হাতির মৃত্যুর ঘটনায় বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন এভাবে চলতে থাকলে খুব দ্রুত বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে এই প্রাণীটি।

সর্বশেষ শুক্রবার উত্তরে সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের নালিতাবাড়ি থেকে ৪-৫ বছর বয়সী এক হাতির শাবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে বন বিভাগ। এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে শেরপুর ও চট্টগ্রামে সাতটি হাতির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল।

সম্প্রতি শেরপুর ও চট্টগ্রামে হাতির বিচরণক্ষেত্রগুলোতে বন কেটে সবজি কাজ করছেন স্থানয়িরা। এ জন্য হাতির বিচরণক্ষেত্র দখল হয়ে যাচ্ছে।

একইসঙ্গে হাতিরা যেন সবজির ক্ষেত নষ্ট করতে না পারে সেজন্য ক্ষেতের চারপাশে জিআই তারের বেড়া দিয়ে তা বিদ্যুতায়িত করে রাখা হচ্ছে। এই বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়েও মারা যাচ্ছে হাতি।

স্থানীয়রা বলছেন, সন্ধ্যা নামতেই হাতিদের উৎপাত বেড়ে যায়। তাদের তাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে টর্চ লাইট সরবরাহ করা হলেও, হাতিরা এখন আর লাইট, আগুন বা মশালে ভয় পায় না, বলছেন স্থানীয়রা।

এমন অবস্থায় নিজেদের জানমাল রক্ষায় হাতির বিরুদ্ধে চড়াও হন তারা।

এমনটা চলতে থাকলে এই প্রাণীটি বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তাফা ফিরোজ।

তিনি জানান, “এ ধরণের বড় স্তন্যপায়ী প্রাণীর নতুন পপুলেশন গ্রোথ কম, মানে একটা মা হাতি কয়েক বছর পর পর বাচ্চা জন্ম দেয়। সে হিসেবে শেরপুরের হাতির গ্রোথ ভালো হলেও যেভাবে হাতি মারা হচ্ছে, তাতে এই প্রজাতির টিকে থাকা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।”

বন্যপ্রাণী বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা- আইইউসিএন এর হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশের এশীয় প্রজাতির পূর্ণাঙ্গ বয়সী হাতির সংখ্যা ২৫০টির কম।

এজন্যে এই প্রাণীটিকে বাংলাদেশে মহা-বিপন্ন বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

বর্তমান আইনে হাতি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি দুই থেকে ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং এক থেকে ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সেইসঙ্গে হাতির হামলায় কেউ মারা গেলে তিন লাখ টাকা, আহত হলে এক লাখ টাকা এবং ফসলের ক্ষতি হলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের বিধানও রয়েছে। কিন্তু এই মামলার কোন প্রয়োগ নেই বলে অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের।

এ নিয়ে বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এ এস এম জহির উদ্দিন আকনের দাবি, স্থানীয়দের আইন ভাঙার প্রবণতা এবং জনবল সংকটের কারণে তাদের পক্ষে এতো বিশাল এলাকা নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না।

“একজন ফরেস্ট গার্ডকে দুই হাজার হেক্টর জায়গা দেখাশোনা করতে হয়। আর ঘটনাগুলো তো নির্দিষ্ট স্থানে ঘটছে না। সব বনাঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে হচ্ছে। রাতের আঁধারে কেউ যদি বিদ্যুতের তার পাতে সেটা বের করা অসম্ভব ব্যাপার।“

হাতির জন্য আরেকটি বড় বিপদ হিসেবে দেখা হচ্ছে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজারের পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প।

রেলপথটি ২৭ কিলোমিটার জুড়ে হাতির তিনটি বিচরণক্ষেত্রের ভেতর দিয়ে গিয়েছে। মহা-বিপন্ন এই প্রাণীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে দেশব্যাপী হাতির এই বিচরণক্ষেত্রগুলো দখলমুক্ত করার পাশাপাশি হাতির নিরাপত্তার স্থানীয় মানুষদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

 

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop