৮:৩০ অপরাহ্ন

শনিবার, ১৪ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ৪, ২০২২ ১:৩৩ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জে বোরো আবাদের ধুম
কৃষি বিভাগ

হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে রোপা আমন তোলা শেষে বোরো ধানের আবাদ শুরু হয়েছে। ভোরের আলো ফুটতেই কোমর বেঁধে ফসলের মাঠে নেমে পড়ছেন কৃষকরা। আর এ কাজে পরিবারের সদস্যরাও চাষিদের পুরোদমে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি জেলার কয়েকটি হাওড় ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে কৃষকরা আবাদের সরঞ্জাম নিয়ে হাওড়ে যাচ্ছেন। কেউ বীজতলা তৈরি করছেন, কোথাও কোথাও পুরোদমে চলছে রোপনের কাজ। পুরুষের সঙ্গে নারী ও শিশুরা কাজে যোগ দেওয়ায় নেই শ্রমিক সঙ্কটও।

কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর হবিগঞ্জ জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিকে। তবে আমনের জমিতেও বোরোর চাষ শুরু হওয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফসল উৎপাদন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ৪৯ হাজার, উফসী ৭৩ হাজার ২২০ ও স্থানীয় জাতের ধান ৮০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হবে।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কৃষক সবুজ মিয়া, আলম মিয়া, তাহের মিয়া, আলী হোসেন, রমিজ মিয়া ও শফিক মিয়া বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সফলভাবে রোপা আমন ধান তোলা শেষ হয়েছে। শুরুতে ধানের ন্যায্যমূল্য থাকলেও শেষের দিকে দাম অনেকটা কমে যাওয়ায় কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বোরো চাষে গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

বানিয়াচং উপজেলার তৌফিক মিয়া জানান, ইতোমধ্যেই হাওড়ের নীচু জমিতে চারা রোপন শেষ। এখন উঁচু জমিতে সেচের মাধ্যমে আবাদ চলছে। এবার রোপা আমনের জমিতেও বোরো চাষ হচ্ছে। এতে আবাদের পরিমাণ বেড়েছে।

কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলার সদর ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় ১২ হাজার ৪০০, মাধবপুরে ১১ হাজার ৭০, চুনারুঘাটে ১০ হাজার ৮৯৫, বাহুবলে ৮ হাজার ৬১০, নবীগঞ্জে ১৯ হাজার ৫৮০, লাখাইয়ে ১১ হাজার ১২০, বানিয়াচংয়ে ৩৩ হাজার ৬৮৫ এবং আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১৪ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এসব জমি থেকে ৫ লাখ ২২ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তমিজ উদ্দিন খান বলেন, এখন পর্যন্ত হাওড়ের অবস্থা ভালো। সামনের দিনে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আবাদ ও উৎপাদন  লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৪, ২০২২ ১:০৪ অপরাহ্ন
উখিয়ায় আগাম তরমুজের চাষে সাফল্য পেয়েছে চাষীরা
কৃষি বিভাগ

কক্সবাজারের উখিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের আগাম তরমুজ চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে মুখে হাসি ফুটেছে চাষীদের।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে , উখিয়ার ৫ টি ইউনিয়নে চলতি রবি মৌসুমে ৬০ একর জমিতে তরমুজ চাষের আবাদ হয়েছে । যা গত বছরের লক্ষ্য মাত্রা ১০ একর বেশী।

সরজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, উপজেলার জালিয়া পালং ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া, ছেপট খালী, ছোয়াংখালী মনখালী, ইনানী ও রাজা পালং ইউনিয়নের কুতুপালং হাংগর গোনা, দরগাহ বিল, ডিগলিয়া পালং সহ হলদিয়া পালং, রত্না পালং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তরমুজ চাষের আবাদ হয়েছে।

উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিউটন চৌধুরী জানান, স্হানীয় চাষীরা উন্নত জাতের হাইব্রিড বীজ দিয়ে তরমুজের চাষ করেছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমদের মতে , আগাম চাষ করে অধিক লাভবান হওয়ায় স্হানীয় চাষীরা তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

কোটবাজার বীজ ভান্ডারের মালিক সুজিত চৌধুরী বলেন, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও থাইল্যান্ডের উৎপাদিত হাইব্রিড জাতের তরমুজ বীজের চাহিদা বেশী। এ সব বীজ সংগ্রহ করে বোপন করেছে চাষীরা।

মাদারবুনিয়া ও ছেপট খালী এলাকার চাষী আবদুল কাদের মুফিজুর রহমান বলেন, আবহাওয়ার পরিবেশ অনুকূল থাকায় এবারে ভালো তরমুজ উৎপাদন হয়েছে । বিশেষ করে আগাম চাষ করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় বেশ লাভবান হয়েছে চাষীরা।

মাদার বুনিয়া এলাকার চাষী আবদুল খালেক জানান, মৌসুমের শুরুতে তরমুজের বেশ চাহিদা রয়েছে। বাজারে প্রতিটি তরমুজ ৪ শত টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার জানান, তরমুজ চাষে জমি তৈরী , উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ, রোপণ পদ্ধতি পরিচর্যা , প্রযুক্তি ব্যবহার ও ফলন উৎপাদন সম্পর্কে স্থানীয় সাথীদেরকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৪, ২০২২ ১২:৩৪ অপরাহ্ন
সেচ পরিবহন শ্রমিক সংকটে বিপন্ন সন্দ্বীপের কৃষি সম্ভাবনা
কৃষি বিভাগ

অনুন্নত যোগাযোগ কাঠামো, সেচ ও শ্রমিক সংকটের কারণে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার কৃষি এখন ধুঁকছে। বর্তমানে এখানকার স্থানীয় অধিবাসীরা কৃষিপণ্যের প্রয়োজনীয় সরবরাহের জন্য বাইরের অঞ্চলগুলোর ওপরই নির্ভরশীল। যদিও একসময় অঞ্চলটিকে ধরা হতো কৃষিতে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে।

কয়েক শতাব্দী ধরেই কৃষি, মত্স্য, লবণ বা জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য সুখ্যাতি অর্জন করেছে সন্দ্বীপ। এছাড়া এখানকার বাসিন্দাদের দক্ষ নাবিক হিসেবেও সুখ্যাতি রয়েছে। বর্তমানে এখানকার স্থানীয়দের বড় একটি অংশ প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে বিদেশে কাজ করছেন।

চারদিকে সমুদ্রবেষ্টিত হওয়ায় উপজেলাটিতে বেড়িবাঁধের বাইরের কৃষিজমি লবণাক্ত। এসব জমিতে বছরে শুধু একবার প্রাকৃতিক সেচের ওপর নির্ভর করে কৃষকরা লবণাক্ততা সহনশীল জাতের ধান চাষ করেন। বছরের বাকি সময় অনাবাদি থাকে এসব জমি। বেড়িবাঁধের ভেতরের সিংহভাগ জমিতেও সেচ সংকটে বছরে একটির বেশি ফসল আবাদ করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। দু-তিন ফসলি জমি দেখা যায় শুধু বসতি এলাকার আশপাশে। ২০১৮ সালে এখানে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে। তবে তা সেচ ব্যবস্থাকে পুরোদমে চালু করার জন্য যথেষ্ট নয়। বর্তমানে চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোর মধ্যে সেচ ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে পিছিয়ে সন্দ্বীপ।  কৃষি শ্রমিকেরও তীব্র সংকট রয়েছে এখানে।

বর্তমানে এখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের মারাত্মক সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এসব পণ্যের চাহিদা মেটাতে স্থানীয়দের নির্ভর করতে হয় চট্টগ্রাম, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সরবরাহকৃত পণ্যের ওপর। এমনকি মাছ, ডিম, মুরগির জন্যও দেশের স্থল ভূখণ্ডের সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল সন্দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে তাদের এসব পণ্যের জন্য মূল্যও পরিশোধ করতে হয় অনেক বেশি। এছাড়া অনুন্নত যোগাযোগ কাঠামো হওয়ায় এখানে পরিবহন খরচও বেশি। বাড়তি এ ব্যয়ও স্থানীয় ভোক্তাদেরই বহন করতে হয়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সন্দ্বীপের মোট ফসলি জমির পরিমাণ ৪২ হাজার ৭০০ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদযোগ্য জমি ৬৫ শতাংশ বা ২৭ হাজার ৯০০ হেক্টর। যদিও এর মধ্যে আবাদ হয় ২৪ হাজার ৪০০ হেক্টর। নানা সংকটে বাকি সাড়ে তিন হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি পড়ে থাকে অনাবাদি অবস্থায়। আবাদযোগ্য জমির মধ্যে আবার ১১ হাজার হেক্টর এক ফসলি। লবণাক্ততা ও সেচ সংকটের কারণে এখানকার শস্য নিবিড়তা দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেক কম।

এছাড়া রবিশস্য উৎপাদনেও দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে পিছিয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা। ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর এখানে খাদ্য ঘাটতি থাকে গড়ে ৫৭ হাজার ৩০৫ টন।

জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল বাসেত বলেন, সেচের পানির অভাব ও প্রবাসী অধ্যুষিত হওয়ায় এখানে কৃষি শ্রমিকের সংকট রয়েছে। আবার যারা রয়েছে, তাদের পেছনে কৃষকদের ব্যয়ও করতে হয় অনেক বেশি। ফলে সন্দ্বীপের কৃষি উন্নয়ন থমকে আছে। কৃষকদের মধ্যে আর্থিক সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও রবি মৌসুমেও বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি থেকে যায়। এ কারণে সন্দ্বীপে প্রধান খাদ্যশস্য চাল ছাড়া প্রায় সব কৃষিপণ্যই বাইরে থেকে আনতে হয়। এছাড়া উদ্যান ফসল উৎপাদনেও পিছিয়ে রয়েছে উপজেলাটি। তবে পরিকল্পিত সেচ সুবিধা বৃদ্ধি ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন করা গেলে সন্দ্বীপের কৃষিকে আবারো পুনরুজ্জীবন দেয়া সম্ভব।

সন্দ্বীপের কৃষক, শ্রমিক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দেয়া তথ্য বলছে, সমুদ্রতীরবর্তী উপজেলা হওয়ার কারণে সন্দ্বীপে সেচযোগ্য ও সুপেয় পানির উৎস খুবই সীমিত। ফলে আমন মৌসুম ছাড়া সন্দ্বীপে ধান আবাদ হয় না। সম্ভাবনাময় সন্দ্বীপ কৃষি অঞ্চলে এখন অকৃষি কর্মকাণ্ডই সম্প্রসারিত হচ্ছে বেশি। স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করতে না পারলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে এখানকার জীবনযাত্রার মান না বাড়লেও ব্যয় অনেকখানি বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আমিন মাসুম জানান, সন্দ্বীপের বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি হিসেবে পড়ে থাকলেও কৃষিতে ব্যবহার হয় না। মান্ধাতা আমলের কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার, সেচ সমস্যা ছাড়াও শ্রমিক মজুরি বেশি হওয়ায় কৃষিতে লাভের চেয়ে লোকসানের পরিমাণ বেশি থাকে। তবে কয়েক বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ আসায় সন্দ্বীপের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ছে। তরুণদের একটি অংশ খামারভিত্তিক কৃষি, বিদ্যুৎ সুবিধা কাজে লাগিয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিতে মনোযোগী হতে প্রচারণা চালালে সন্দ্বীপের কৃষির হারানো গৌরব ফিরে আসবে বলে আশা করা যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৪, ২০২২ ১২:০২ অপরাহ্ন
তিস্তার রূপালি চরে সবুজের বিপ্লব
কৃষি বিভাগ

এক সময় গরু-ছাগলের বিচরণ ভূমি ছিল তিস্তা নদীর চর। তিস্তার মাছই ছিল চরের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা। মাছ ছাড়া জীবিকার কোনো পথ ছিল না। মাছ ধরার পাশাপাশি কেউ কেউ ধান আবাদ করে সংসারের চাহিদা মেটাত। এখন সেই চরের জমি আর পতিত নেই। পাল্টে গেছে চরের দৃশ্যপট।

তিস্তার বুকে জেগে উঠা রূপালী বালু চর এই শীত মৌসুমে ঢাকা পড়েছে সবুজের চাদরে। বন্যার ধকল কাটিয়ে শত শত কৃষকের ফসলের মাঠে চলছে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার প্রাণান্তর চেষ্টা। তবে ব্যাংক থেকে সুদবিহীন শষ্য ঋণ না পাওয়ায় তাদের দ্বারস্থ হতে হয় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে। তাদের লাভের অংশ গিলে খায় দাদন ব্যবসায়ীরা। সবকিছু ঠিক থাকলে নীলফামারীর ডিমলা আর জলঢাকা উপজেলায় জেগে ওঠা তিস্তা নদীর ২৩টি চরে এই মৌসুমে উৎপাদন হবে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ফসল।

বর্ষায় সর্বগ্রাসী হয়ে উঠে তিস্তা। আবার শীত মৌসুমে বিশাল বালুর প্রান্তর হিসাবে ধরা দেয় সবার দৃষ্টিতে। তিস্তা এখন আর নদী নেই যেন বিস্তীর্ণ বালুচর। বর্ষায় ভাঙ্গা আর শীতকালে গড়া এ দু নিয়ে থাকতে হয় তিস্তা পাড়ের মানুষদের। তিস্তার আর্শীবাদে বেঁচে থাকতো অসংখ্য পরিবার কিন্তু অনাকাঙ্খিত বন্যা আর অসম্ভব শুষ্কতার কারণে তিস্তার বুকে তারা আর আহার খুঁজে পায় না। অভাব, বন্যা, খরা, শীতের মত শত্রুর সাথে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয় সেখানে। কিন্তু তবুও তারা ছাড়তে পারে না তিস্তার কোল। ছাড়বেই বা কি করে কারণ ঐ পাড়ের সাথে রয়েছে তাদের নাড়ির সর্ম্পক। গেল বন্যায় কাটা ধানসহ সহায় সম্বল হারানো মানুষগুলো এখন ঘুরে দাঁড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সম্ভবনার ফসল উৎপাদনে।

আর সেখানেই আগামীর স্বপ্ন বুনছেন নদী পাড়ের মানুষ। চরগুলোতে ভুট্টা, সরিষা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচসহ প্রায় ১০ ধরনের ফসল চাষ করছে কৃষকেরা। ডিমলা আর জলঢাকা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী, খালিশা চাপানী, টেপাখরিবাড়ী, পূর্ব ছাতনাই, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ২৩টি চরে প্রায় ৩হাজার ২৭৩ হেক্টর জমিতে আবাদ হচ্ছে এসব ফসল।

তবে ডিজেল ও সারের দাম বেশী হওয়াসহ দাদন ব্যবসায়ীদের সুদ পরিশোধের পরে কাঙ্খিত লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা। উর্বর চরে স্বাচ্ছন্দে বিভিন্ন ফসল ফলাতে সরকারি প্রণোদনা ও সুদবিহীন শষ্য ঋণের দাবি করেন।

ঝুনাগাছ চাপানী চরের আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘গত আমন মৌসুমে হঠাৎ বন্যার কারণে ধান ঘরে তুলতে পারি নাই। জমির ধান বন্যার পানিত ভাসি গেইছে। ভাত খাওয়ার মত কোন ধান ঘরত তুলিবার পাই নাই। ভুট্টা লাগার পরে এখন সার আর তেলের দাম বেশী। কাটা মাড়াইর সময় যদি ভুট্টার দাম না বাড়ে তাহইলে এবারও হামরা মরি যামো। তার ওপর এই আবাদ করছি দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থাকি সুদের টাকা নিয়া।’

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, গত বর্ষায় তিস্তার উজানের ঢলে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ২টি বাঁধ ভেঙ্গে ৮২৬ হেক্টর জমিতে পানি প্রবেশ করে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকার কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রণোদনার আওতায় আনা হচ্ছে তাদের। কৃষকেরা যে ভাবে ফসলের পরিচর্যা করছে তাতে এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আশানুরূপ ফসল উৎপাদন হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৩, ২০২২ ১২:৩৪ অপরাহ্ন
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে নতুন কৃষি সচিব এর শ্রদ্ধা
কৃষি বিভাগ

কৃষি মন্ত্রণালয় এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। রবিবার (০২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে গিয়ে প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো. বখতিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. বেনজীর আলম, কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক মো. শাহজাহান আলী বিশ্বাস ছাড়াও বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: সায়েদুল ইসলাম ০২ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে সচিব হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১০ম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯১ সালে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন।  কৃষি মন্ত্রণালয়ে যোগদান করার পূর্বে সচিব হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর চেয়ারম্যান, নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ হাই কমিশনের কাউন্সিলার (লেবার), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে কর্মরত ছিলেন। মাঠ পর্যায়ে টাংগাইল জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ ও গাজীপুর জেলায় এনডিসি নেজারত ডেপুটি কালেক্টর হিসেবেও  দায়িত্ব পালন করেন। মো: সায়েদুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলার বেলঘরিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৬৪ সালের ০১ জানুয়ারি তারিখে জন্মগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২, ২০২২ ৪:৪৮ অপরাহ্ন
অ্যাপে ধান কিনছে সরকার
কৃষি বিভাগ

চাঁদপুরে মোবাইল অ্যাপে ধান ক্রয় শুরু হলেও, প্রচার-প্রচারণার অভাবে তা জানেন না অনেক কৃষক। ফলে অনলাইনেও নিবন্ধনও করেননি তারা। তাই সরকারের কাছে ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করতে পারছেন না অনেক কৃষক। জেলা খাদ্য বিভাগ বলছে, এই প্রক্রিয়ায় কৃষকদের সম্পৃক্ত করতে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

গত ২০শে ডিসেম্বর থেকে চাঁদপুর সদর, কচুয়া, শাহরাস্তি ও ফরিদগঞ্জে অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকের কাছ থেকে আমন ধান কেনা শুরু হয়। প্রত্যেকে তিনটন পর্যন্ত ধান বিক্রির সুযোগ থাকলেও, বেশিরভাগ কৃষকেরই এতো ধান নেই। যার ফলে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।

এদিকে অ্যাপে ধান বিক্রি করতে এখনো অনেক কৃষক অনলাইনে নিবন্ধন করেননি। প্রচার-প্রচারণার অভাবে অ্যাপের বিষয়টি জানেন না তারা।

অনলাইনে কেউ কেউ নিবন্ধন করেননি বলে স্বীকার করেছে কৃষি বিভাগ। তবে ধান বিক্রয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করা হবে বলে জানান চাঁদপুরের কৃষি কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন।

অন্যদিকে খাদ্য বিভাগের দাবি, অ্যাপে ধান বিক্রির বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে। ধান ক্রয়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবার আশাও করছেন তারা।

এবছর চাঁদপুরের চার উপজেলায় কৃষি অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে মোট ৬৪৩ টন ধান কিনবে সরকার।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১, ২০২২ ৪:৫০ অপরাহ্ন
কুমিল্লায় তিন প্রজাতির লাল টমেটোতে মুনাফা পাচ্ছে চাষিরা
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা জেলায় টমেটোর অধিক ফলনে কৃষকসহ তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে। ক্ষেত থেকে তুলে এনে কুমিল্লার অন্যতম বারোমাসি সবজি বাজার নিমসারে আনা হচ্ছে টনে টনে টমেটো

তিন প্রজাতির লাল টমেটো বিক্রিতে এবারে মুনাফাও পাচ্ছে টমেটো চাষিরা। এবারে কুমিল্লায় অনুকূল আবহাওয়া টমেটোর বাম্পার ফলন কৃষকদের জন্য আশির্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। কুমিল্লায় উৎপাদিত টমেটো এখানকার প্রায় ১৫ লাখ পরিবারের চাহিদা মেটানোর পরও রাজধানী ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ করে থাকে।

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এবারে টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে । ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে কুমিল্লার উৎপাদিত টমেটো বাজারে সয়লাব হয়ে যাবে। বর্তমানে কুমিল্লা অঞ্চলের উঁচু জমিতে উৎপাদিত টমেটোতে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। কুমিল্লার চান্দিনা, বরুড়া, দাউদকান্দি, হোমনা, বুড়িচং, ও দেবিদ্বারে উৎপাদিত টমেটো স্থান পেয়ে থাকে দেশের অন্যতম সবজি বাজার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের নিমসারে। অন্যদিকে কুমিল্লা সদরের পাঁচথুবি, আমড়াতলী, জগন্নাথপুর, দূর্গাপুর ইউনিয়নে এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে উৎপাদিত টমেটো কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ বাজার ও চকবাজারের সবজি আড়তে স্থান পেয়ে থাকে। এখান থেকে নগরীর অন্যান্য বাজারের সবজি ব্যবসায়ীরা টমেটো পাইকারি দরে কিনে নিয়ে থাকেন। কুমিল্লার হাট-বাজারগুলো এখন টমেটোতে ঠাসা। বর্তমানে বাজারে বড়, মাঝারি ও ছোট আকারের প্রতি কেজি টমেটো খুচরা ৩৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে টমেটোর বাজার দর ছিল কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। এবার টমেটোর বিক্রি দরও তুলনামূলক বেশি হওয়ায় টমেটো চষিরা খুশী।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, কুমিল্লায় ১ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রা অনেক ছাড়িয়ে গেছে। কুমিল্লার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের নজরদারি ও উপজেলা পর্যায়ে চাষিদেরকে কৃষি কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ, পরামর্শসহ সবধরণের লজিষ্টিক সার্পোট দেওয়ায় এবারে লক্ষ্যমাত্রা অনেক ছাড়িয়ে গেছে।

কুমিল্লা জেলায় বিভিন্ন উপজেলার চেয়ে চান্দিনায় সবচেয়ে বেশি টমেটো চাষ হয়ে থাকে। চান্দিনা উপজেলায় উঁচু ও নিচু জমিতে পৃথকভাবে দুইবার টমেটো চাষ হয়ে থাকে।

কুমিল্লার চান্দিনার টমেটো চাষিরা জানান, সব মৌসুমেই চান্দিনায় ব্যাপক পরিমান সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। টমেটোর চাষ এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এবছর টমেটোর ব্যাপক ফলন হয়েছে। টমেটো পাকার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে নিয়ে আসতে হয়। কাঁচা মাল ঘরে রাখা যায় না। তাই সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে হিমাগারের ব্যবস্থা করা হলে চাষিরা তাদের ফসলের ভালো দাম পাবেন। আর এজন্য তারা কৃষিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১, ২০২২ ৪:০২ অপরাহ্ন
‘লালিমা’ বদলে দিয়েছে কৃষক বেলালের ভাগ্য
কৃষি বিভাগ

‘লালিমা’ বদলে দিয়েছে কৃষক বেলাল হোসেনের ভাগ্য। সারা বছর অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি এবার নতুন বীজ রোপণ করেছেন। ফলন ভালো দামেও ভালো। এরই মধ্যে ২ লাখ টাকার ‘লালিমা’ বিক্রি হয়েছে তার।

বেলাল হোসেন বলেন, লালিমার প্রকৃত পরিচয় হচ্ছে- লাল বাঁধাকপি।

গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ভাষারপাড়ায় বাড়ি কৃষক বেলাল হোসেনের। দুই মেয়ে আর স্ত্রীসহ ৫ জনের সংসার। নিজের জমি বলতে সামান্য। তাই অন্যের জমি নিয়ে চাষাবাদ করেন।

কৃষক বেলাল বলেন, জমিতে কাজ করি আমি, আমার স্ত্রী শিল্পী বেগম, মেয়ে সিনথি আখতার, বন্যা বেগম, ছেলে সিহাব আলী সহ সবাই। সময় হলে মেয়েরা বই খাতা নিয়ে কলেজে যায়। তারপর আবার জমির আইলে বাপের সাথে কাজ করে। সে কারণে আমার কামলা খরচটা কম হয়। একটার পর একটা সবজি চাষ করেন জমিতে। কখনো ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মরিচ , আলু, টমেটো, লাউ, সিম, ক্যাপসিক্যাম, মিষ্টি কুমড়াসহ বারো মাস সবজির চাষ করে প্রতিবছর অন্তত বাড়তি ২ লাখ টাকা ঘরে তোলেন। লাভের টাকায় তিনি বাড়িঘর করেছেন। মেয়েদের কলেজে পড়ালেখা শেখাচ্ছেন। আর নিজের পকেট খরচ, বাজার হাট করে রাজার হালে সংসার চালিয়ে হাতে রাখেন নগদ টাকা।

ঢাকায় গিয়ে বিভিন্ন বীজ ভান্ডারে খোঁজ করেন ভিন্ন কিছু চাষ করা যায় কিনা। মনে মনে ভাবেন জমিতে এবার ভিন্ন কিছু চাষ করতে হবে। এবার তাক লাগিয়ে দিতে চান মানুষকে। সেই সাথে নিজের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। তারপর বীজ ভান্ডার থেকে খুঁজে পেয়েছেন লাল বাঁধাকপি ‘লালিমা’র। তার কাছেই শোনা গেলো এই বাঁধাকপির জন্ম নাকি জাপানে ।

কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আকবর হোসেন জানান, গাইবান্ধায় এর আগে কখনো লাল বাঁধাকপি দেখা যায়নি কোথাও। তারপর তিনি বীজ বপন করেন তার জমিতে । জমি থেকে চারা বড় হলে ১০ হাজার চারা বপন করেন তার দুটি জমিতে। অল্প সময়ে সারিসারি লাল বাঁধাকপি জমি জুড়ে বেড়ে ওঠে। উপরের পাতা ছিড়ে ফেললেই বের হয়ে আসে লাল টকটকে বাঁধাকপি। জমি দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। সবুজের ভেতরে লাল কপি গাইবান্ধায় এই প্রথম। লাল বাঁধাকপি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন।

ভাষারপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান জানান, কৃষক বেলাল আমাদের গ্রামের গর্ব। বেলাল বারো মাসে ১৩ ফসলের আবাদ করেন। সে শুধু সবজি চাষ করেই নিজেকে কৃষক হিসাবে পরিচিতি করতে পেরেছে। লোকজনের মুখে মুখে বেলালের নাম । এ মাসের শেষ দিকে কৃষক বেলালের কপি বিক্রির উপযোগী হয়েছে। প্রতিদিন বস্তায় ভরে কপি নিয়ে যায় ভ্যানে করে। আড়তে নিয়ে যেতেই প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা হিসাবে পাইকারি বিক্রি করেন। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই জমি থেকে তুলে লালিমা বিক্রি করে অন্তত ১২শ থেকে ২ হাজার টাকা আয় হচ্ছে তার।

কৃষক বেলাল হোসেন জানান, এই লালিমা বিক্রি করে টাকা জমিয়ে মেয়ের বিয়েতে খরচ করবেন বলে ভাবছেন ।

ফুলছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সেলিম পারভেজ জানান, বন্যাদুর্গত এলাকা ফুলছড়ির মাটি সোনার মতো। এই মাটিতে সোনা ফলে। তিনি বলেন, আমার জনমে আমি আর লাল বাঁধাকপি দেখিনি। আমার বাপ দাদাও দেখেনি কিন্তু আমি দেখলাম আমাদের ফুলছড়ির মাটিতে হয়েছে লাল বাঁধাকপি। কৃষক বেলাল হোসেনের মুখে শুনেছি এর নাম ‘লালিমা’ । তার সংসারের সচ্ছলতা ফিরেছে লাল বাঁধাকপি বিক্রি করে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১, ২০২২ ৩:৪৭ অপরাহ্ন
কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন হাওরের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

কিশোরগঞ্জের হাওরে বোরো ধানের আবাদকে কেন্দ্র করে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাজার হাজার কৃষক। হাওরের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় ধানের বীজতলা তৈরির পাশাপাশি চলছে, জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজ।

পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বোরো ধানের আবাদ নিয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন হাওরের কৃষকরা। চলছে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি, জমি চাষের উপযোগী করাসহ ধানের চারা রোপণের কাজ।

কৃষকরা বলছেন, বাজারে ডিজেলের দাম বেশি। সার-কীটনাশকসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ চড়া দামে ক্রয়ে হিমশিম অবস্থায় তারা। তারওপর নেই বাজারে ধানের দাম। সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা তো আছেই। এতে সারা মৌসুমে ঘাম ঝরানো পরিশ্রম করেও খুব একটা লাভের আশা দেখতে না পেরে হতাশায় চাষিরা।

তারা বলছেন, সারের দাম বেশি। এ ছাড়া তেলের দাম বেশি। পানিও পাওয়া যায় না। ধানের দাম কম। এমন হলে হতাশাই বলা যায়।

তবে, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস কৃষি বিভাগের। কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. ছাইফুল আলম বলেন, কৃষকরা যেন স্বল্প মূল্যে চাষাবাদ করতে পারে, সে জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ যেমন- সার, পানির ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। 

জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৫টি আংশিক ও তিনটি সম্পূর্ণ হাওর অধ্যুষিত। এর মধ্যে তিন হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি বোরো ধানের আবাদ হয়ে থাকে। জেলায় এবার এক লাখ ৬৪ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১, ২০২২ ২:২০ অপরাহ্ন
ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলে আখ মাড়াই শুরু
কৃষি বিভাগ

ঋণ ও লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে আখ মাড়াই শুরু করেছে ঠাকুরগাঁও সুগার মিল। তবে এ থেকে উত্তরণের উপায় না খুঁজে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের খেয়ালখুশি মতো মিলটি পরিচালনা করছেন বলে মিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন।

জানা যায়, চলতি মৌসুমে ২০২১-২২ অর্থ বছরে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মিল কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ৩৫০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৬ কোটি টাকা। সুগার মিলের ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব ফার্মে এক হাজার একর লিজ নেয়া জমিতে আখ উৎপাদন করা হয়েছে। এছাড়াও আগামী মার্চ পর্যন্ত ৪-৫ হাজার চাষি প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে আখ রোপণ করে। এ পর্যন্ত ১৪০০ একর জমিতে আখ রোপণ করা হয়েছে। এ মৌসুমে প্রায় ১২০০ কৃষক মিলে আখ সরবরাহ করবে।

ঠাকুরগাঁওয়ের কয়েকজন আখচাষি জানান, মিল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে চাষিরা আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। যদি উন্নত জাতের আখ সরবরাহ করা হতো তাহলে তারা ফলন ভালো পেতেন। ফলে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই মিল আর বন্ধ হতো না। এখন যে আখ চাষ হচ্ছে তাতে ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। একবার আখ রোপণ করলে প্রায় দেড় বছর অন্যান্য ফসল ফলানো যায় না।

এদিকে অধিক লাভের আশায় কিছু আখচাষি পাওয়ার ক্রেশার মেশিন দিয়ে আখ মাড়াই করে গুড় উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করে। তাদের মতে, যে আখ মিলে দিলে পাওয়া যায় ১০-১১ হাজার টাকা, সেই আখ নিজেরা মাড়াই করলে পাওয়া যায় ২১-২৪ হাজার টাকা। তাছাড়া মিল সময়মতো টাকা পরিশোধ করে না।

ঠাকুরগাঁও সুগার মিল সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩১ হাজার টাকা। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে লোকসান হয়েছে ৭৬৩ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। মিলটিতে স্থায়ী জনবল ৪৮৩ জন, মৌসুমী ৩৪৩ জন, মাস্টাররোলে আছেন ২৩৯ জন। এই জনবলকে প্রতি মাসে মৌসুমে বেতন দেয়া লাগে ২ কোটি ৭১ লাখ ৯২ হাজার টাকা, আর মৌসুম ছাড়া ১ কোটি ৭১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। সবমিলে বছরে বেতন-বোনাস ২৬ কোটি ৬৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। বেতন-বোনাস দিয়ে আরও লোকসান হবে প্রায় ৭৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকাসহ মোট ৭৬৪ কোটি ১০ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, মিলটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর লাভেই চলছিল। এখন যতদিন যাচ্ছে ততই লোকসানের দিকে ধাবিত হচ্ছে। লোকসান থেকে বাঁচাতে হলে মিলটিকে আধুনিকায়ন করতে হবে। কৃষকরা উন্নত জাতের আখের আবাদ করলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হবে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, এটা আসলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্পত্তি, শিল্প মন্ত্রণালয় দেখাশুনা করে। মিলটি ঋণ ও লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে আমার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। আর যে সমস্ত আখচাষি পাওয়ার ক্রেশার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে আখ মাড়াই করে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop