১২:১৫ পূর্বাহ্ন

শনিবার, ৭ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : নভেম্বর ২৭, ২০২৫ ৪:০৪ অপরাহ্ন
গ্রীষ্মকালীন উচ্চ ফলনশীল টমেটো চাষে সফল জীবননগরের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

মাচা পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন উচ্চ ফলনশীল টমেটো চাষ করে ব্যাপক সাফল্য লাভ করেছে জেলার জীবননগর উপজেলার টমেটো চাষিরা। অল্প সময়ে বেশি লাভজনক হওয়ায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে। এদিকে বাজারে থাইল্যান্ডের উচ্চ ফলনশীল বর্ষা, কুইন ও বারি-৮ জাতের টমেটোর চাহিদা থাকায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। ৪ মাসের এ আবাদে খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের বিঘা প্রতি লাভ হয় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। প্রতি বিঘায় উৎপাদন ১০০ থেকে ১১০ মণ টমেটো।

জীবননগর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা স্বল্পমেয়াদে উচ্চ ফলনশীল টমেটো চাষ করছেন। বর্ষা কুইন জাতের অধিক ফলনশীল এ টমেটো গাছ রোপণের ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়। এই জাতের টমেটোর সাইজ বেশ বড় হয়। এ কারণে অন্য জাতের টমেটোর চেয়ে বেশি দরে বিক্রি হয়। শীত এগিয়ে আসায় বর্তমান বাজারে টমেটোর চাহিদা বেড়ে গেছে। জুন-জুলাই মাসে গ্রীস্মকালীন হাইব্রিড জাতের টমেটোর চারা রোপণ করা হয়। রোপণের ২ মাস পর অক্টোবর মাস থেকে এটা বাজারজাত করা হয়। বর্তমানে বাজারে এ টমেটোর পাশাপাশি শীতকালীন টমেটো উঠতে শুরু করেছে।

উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পশ্চিম বাড়ান্দী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আমি প্রতিবছর হাইব্রিড টমেটো চাষ করি। এবার একবিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছি। মাচা পদ্ধতিতে টমেটো চাষে করলে একদিকে যেমন : ফলন বেশি পাওয়া যায়, অন্যদিকে টমেটো নষ্ট হয় না বললেই চলে। এ পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করলে কীটনাশক, সার ও সেচ দেওয়া সহজ হয়। টমেটো উত্তোলন, বাগানের মধ্যে চলাফেরা এবং পরিচর্যা করতেও সুবিধা হয়।

তিনি বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করতে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত বিক্রি করে টাকা ঘরে তুলেছি প্রায় ২ লাখ টাকা। বর্তমানে জমিতে যে পরিমাণ টমেটো আছে সেটা বিক্রি করে আরো লাখ টাকা পাবো বলে আশা করছি।’

টমেটো চাষি তরিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, মাচা পদ্ধতিতে ৩ বিঘা জমিতে থাইল্যান্ড হাইব্রিড, বর্ষা কুইন টমেটো চাষ করেছি। বাজারে বর্ষা কুইন টমেটো প্রতিকেজি ১০০-১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিন বিঘা জমি চাষে খরচ হয়েছে ৪ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ৫ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছি। মাঠে যে পরিমাণে টমেটো আছে সেটা বিক্রি করলে ৪ লাখ টাকা পাবো বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, ‘জুন মাসে হাইব্রিড বর্ষা কুইন টমেটোর বীজ সংগ্রহ করি। এরপর পাতু দিই। পাতু দেওয়ার ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে বেডে চারা লাগানোর উপযোগী হয়। এবার আমি টমেটোর চারা বিক্রি করেও ৮০ হাজার টাকা লাভ করেছি। ’

চাষি আশরাফুল বলেন, ‘আমি বর্ষা কুইন টমেটো চাষ করেছি, দেড় বিঘা জমিতে দেড় বিঘা টমেটো আবাদে চারা লেগেছে সাড়ে ৪ হাজার পিস। এখন পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। ১ বিঘায় ১২০ মণ টমেটো পাওয়া যাবে।’

জীবননগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পাভেল রানা বাসসকে বলেন, ‘উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন বর্ষা কুইন টমেটো চাষ হয়েছে। এ জাতের টমেটো অধিক ফলনশীল হওয়ায় কৃষকেরা বেশি দরে বিক্রি করতে পারছে। এতে বেশি লাভ হচ্ছে। আগামীতে তারা যাতে আরো বেশি জমিতে বর্ষা কুইন জাতের টমেটো চাষ করতে পারে তার জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।’

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপর-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, জেলার ৪ উপজেলার মধ্যে জীবননগরে টমেটোসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ বেশি হয়। এবার ৩২ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল বর্ষা, কুইন ও বারি-৮ জাতের টমেটোর চাষ হয়েছে। জুন-জুলাই মাস এ জাতের টমেটো রোপণের উপযুক্ত সময়। এ আবাদে যেমন : খরচ বেশি হয়, লাভের পরিমাণটাও অনেক বেশি থাকে। বিঘাপ্রতি ফলন হয় ১১০ থেকে ১১৫ মণ।

তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে ১ হাজার ১০০ বিঘা জমিতে শীতকালীন টমেটো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৪, ২০২৫ ৯:০৫ পূর্বাহ্ন
কৃষি প্রতিবেশ সুরক্ষায় জৈব কৃষি সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি: বিশেষজ্ঞরা
কৃষি বিভাগ

দেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর উদ্যোগে আজ ‘বাংলাদেশে ফসলের উৎপাদন হ্রাস না করে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব জৈব কৃষিতে রূপান্তর’ শীর্ষক এক পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের লাগামহীন ব্যবহার মাটির উর্বরতা হ্রাস, পরিবেশ দূষণ, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, আমাদের কৃষকরা অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিব্যবহার কমাতে কৃষকদের সামাজিক আচরণ পরিবর্তনে আমাদের কাজ করতে হবে। জৈব কৃষি পদ্ধতিতে (অ্যাগ্রোইকোলজিক্যাল) উৎপাদন কমে না বরং ক্ষেত্রবিশেষে উৎপাদন বাড়ে। তবে জৈব কৃষি সম্প্রসারণে আমাদের একটি রোডম্যাপ করা দরকার। এটি রাতারাতি সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিন বলেন, এক সময় দেশের কৃষকরা উৎপাদন বাড়াতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সারের ব্যবহারের দিকে ঝুঁকেছিল। কৃষিতে দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা নিশ্চিত করতে জৈব কৃষি পদ্ধতির বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. বেগম সামিয়া সুলতানা বলেন, বর্তমানে দেশব্যাপী মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ল্যাবে পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থার আওতাভুক্ত কৃষকরা সহজে মাটি পরীক্ষা করে সার সুপারিশ কার্ড সংগ্রহ করতে পারে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. শেখ তানভীর হোসেন।

তিনি বলেন, দেশে গত ৫০ বছরে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার মাটি ও পরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। গত অর্থবছরে সরকার মোট ২৪ হাজার কোটি টাকা কৃষিতে ভর্তুকি দিয়েছে, যার ৭৫ শতাংশই ব্যয় হয়েছে রাসায়নিক সারে।

এছাড়া, খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিবেশ, সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত অপ্রদর্শিত ব্যয় দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১৩ শতাংশ। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তিনি জাতীয় কৃষি নীতি পুনর্বিবেচনা, নীতিগত দ্বৈততা দূরীকরণ এবং জৈব কৃষি সম্প্রসারণে নীতি কাঠামো প্রণয়নের সুপারিশ এবং জৈব সার উৎপাদনে বৃহত্তর বিনিয়োগে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কৃষি সম্প্রসারণে নিয়োজিত গবেষক এবং কৃষিখাতে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ১৬, ২০২৫ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
সরকারের আরও বেশি আমন ধান কেনার আহ্বান রংপুরের কৃষকদের
কৃষি বিভাগ

কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে চলতি আমন মৌসুমে সরকারকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে চালের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ ধান কেনার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের নেতারা ।

এবার আমন মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ৫০ হাজার টন ধান, ৬ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ৫০ হাজার টন আতপ চাল কেনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

কৃষক নেতারা বলেন, ৬ লাখ টন চালের তুলনায় মাত্র ৫০ হাজার টন ধান কেনা খুবই কম। কৃষকরা ধান উৎপাদন করেন, চাল নয়। তাই সরকারের উচিত তাদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কাচারী বাজারে সংগঠনের রংপুর জেলা শাখা আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এই আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা প্রতিটি বাজারে ধান সংগ্রহ কেন্দ্র চালু এবং চালের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ ধান কেনার দাবি জানান।

কৃষক নেতারা বলেন, সরকার ২০ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি কেজি ধান ৩৪ টাকা এবং চাল ৫০ টাকা দরে কেনার পরিকল্পনা করেছে।

তারা আরও দাবি জানান, আলু চাষিদের ক্ষতিপূরণ ও সহজ ঋণ প্রদান এবং রংপুর অঞ্চলে বিশেষায়িত সরকারি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করতে হবে।

সংগঠনটির জেলা আহ্বায়ক কমরেড আনোয়ার হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে সমাবেশে কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক কমরেড আহসানুল আরেফিন টিটু, কৃষক প্রতিনিধি রানা মিয়া ও আবুল হোসেন বক্তব্য রাখেন।

কৃষক নেতারা বলেন, সরকার ২০ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি কেজি ধান ৩৪ টাকা এবং চাল ৫০ টাকা দরে কেনার পরিকল্পনা করেছে।

আহসানুল আরেফিন টিটু বলেন, চালের তুলনায় এত অল্প পরিমাণ ধান কেনার ঘোষণাকে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।

তিনি বলেন, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এবং বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে সময়মতো বোরো ও আমন ধান সংগ্রহ নীতি প্রণয়ন জরুরি।

তিনি প্রস্তাব দেন, সরকার যেন কৃষকদের কাছ থেকে আরও বেশি ধান কিনে এবং সংগ্রহকৃত ধান নির্ধারিত হারে মিলারদের দিয়ে ভাঙিয়ে নেয়, যাতে সরকার বাজারে ভর্তুকি মূল্যে চাল সরবরাহ করতে পারে। এতে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙবে এবং ভোক্তারা সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলু চাষিদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন বাবলু বলেন, গত বছর কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছিল। ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আলু সংরক্ষণ করতে পারেননি। এর ফলে শত শত টন আলু ঘরে পচে যায়।

সমাবেশ শেষে সংগঠনটি তাদের দাবিসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে জেলা প্রশাসক এবং আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ৫, ২০২৫ ৪:৫৮ অপরাহ্ন
রংপুর অঞ্চলে ধানক্ষেতের পোকা দমনে জনপ্রিয় হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পার্চিং পদ্ধতি
কৃষি বিভাগ

রংপুর কৃষি অঞ্চলে ধানক্ষেতের ক্ষতিকর পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহারের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পার্চিং পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

পার্চিং পদ্ধতিতে কৃষকরা ধানক্ষেতের ওপর নির্দিষ্ট দূরত্বে বাঁশের খুঁটি বা গাছের ডাল স্থাপন করেন। সেখানে শিকারি পাখিরা বসে ধানগাছের ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলে। এতে ফসল সুরক্ষা পায় এবং কীটনাশকের ব্যবহারের বেশি প্রয়োজন হয় না।

পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার এই পদ্ধতিকেই পার্চিং বলা হয়। রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (ডিএই) কৃষিবিদ মুহাম্মদ আলী বলেন, পার্চিং পদ্ধতি ব্যয়বিহীন এবং পরিবেশবান্ধব। রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট এবং নীলফামারী এ পাঁচটি জেলার আমন ধানের জমিতে ডেড পার্চিং, লাইভ পার্চিং ও হালকা ফাঁদ পদ্ধতি গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা ধানগাছকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ডেড পার্চিং ও লাইভ পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। ফলে উন্নত ধানের ফলন হচ্ছে।

তিনি বলেন, বোরো ও আমন ধানগাছে পোকা আক্রমণ প্রতিরোধে কৃষকরা সবচেয়ে সহজ ও পরিবেশবান্ধব পার্চিং পদ্ধতি গ্রহণ করে ব্যাপকভাবে উপকৃত হচ্ছেন। এতে পোকা দমনে খরচ কম হচ্ছে, কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস পাচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসম্মত ধান উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে কৃষকরা ৬ লাখ ২১ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে।

রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার ৩,৬৯,১৬০ হেক্টর আমন ধানক্ষেতে কৃষকরা ইতোমধ্যে বাঁশের খুঁটি বা গাছের ডাল স্থাপন করেছেন এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এই অঞ্চলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে এবং ব্যাপক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এতে কৃষকরা কম খরচে, কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব পার্চিং পদ্ধতি গ্রহণ করে বোরো ও আমন ধানগাছকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করছেন এবং স্বাস্থ্যসম্মত ধান উৎপাদন করছেন।

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পিএইচডি ফেলো মো. মামুনুর রশীদ বলেন, কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি। এর ফলে অনেক দেশীয় মাছ, উপকারী পোকা ও পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পরিচালিত উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি কৃষকদের ধানগাছকে পোকা আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এবং পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে অর্থ সাশ্রয় করতে প্রশিক্ষিত করছে। কারণ এই পদ্ধতির প্রয়োগ বাস্তবিক অর্থে ফলপ্রসূ ও লাভজনক।

মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ধানক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতির ব্যবহার অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত সুবিধা রয়েছে। এ পদ্ধতিতে বাঁশের খুঁটি বা গাছের ডাল ব্যবহার করে শিকারি পাখিকে আকৃষ্ট করা হয়, যারা ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলে। এতে কীটনাশকের প্রয়োজন কমে যায় এবং স্বাস্থ্যসম্মত ধান উৎপাদন সম্ভব হয়।

বাসসের সঙ্গে আলাপকালে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামের কৃষক হামিদুর রহমান এবং সদর উপজেলার কাথিহারা গ্রামের কৃষক ইসহাক আলী বলেন, তারা প্রতি বছর তাদের বোরো ও আমন ধানক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি গ্রহণ করছেন।

ইসহাক আলী বলেন, ধানক্ষেতে পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি গ্রহণ করে কীটনাশকের খরচ কমিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত ধান উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার হচ্ছে।

তারাগঞ্জ উপজেলার দোলাপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন এবং কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া গ্রামের কৃষক বদিউল আলম বলেন, তারা প্রতি বছর ধানক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি প্রয়োগ করে সুফল পাচ্ছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২, ২০২৫ ৯:২২ পূর্বাহ্ন
নওগাঁয় হঠাৎ বৃষ্টিতে আমন ধানসহ সবজিতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা
কৃষি বিভাগ

কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলার আমন ধানসহ শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত একটানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকার ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সরিষা, ফুলকপি, আলু, পেঁয়াজের বীজতলা, গাজর ও অন্যান্য সবজির জমি। এতে স্থানীয় কৃষকরা পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, কার্তিক মাসে সাধারণত হালকা বৃষ্টি হয়। তবে এ বছরের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক।

এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আলু আবাদের জন্য কোথাও কোথাও প্রস্তুত করা হয়েছিল জমি।

কোথাও সদ্য রোপণ করা হয়েছে বীজ। বৃষ্টিতে বেশিরভাগ জমিতেই পানি জমেছে। ফসল বাঁচাতে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন কৃষকরা। শুধু আলু ক্ষেত নয়, আগাম জাতের শীতকালীন ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, মরিচ, বেগুন, মূলাসহ বিভিন্ন শাক-সবজির গাছও মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। যে-সব ক্ষেতের সবজি এখনো ভালো রয়েছে, তা রক্ষায় প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন কৃষকেরা। এ ছাড়াও মাঠের আধা-পাকা ধান হেলে পড়েছে। গড়াগড়ি খাচ্ছে পানিতে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কয়েদিনের বৃষ্টিতে ফসলি জমিতে পানি জমেছে। যে-সব জমিতে আগাম আলু বপন করা হয়েছে, সেসব জমিতে পানি জমায় রোপণ করা আলুর বীজ পচে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে আলু চাষিদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। এ ছাড়াও রোপা আমন ধান ও আগাম শীতকালীন শাক-সবজিরও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলার মান্দা উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক অমল চন্দ্র সরকার বাসসকে বলেন, ‘গত ২৫-৩০ বছরে কার্তিক মাসে এত বৃষ্টি দেখিনি। প্রবল বৃষ্টিতে আমার কয়েক বিঘা জমির আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।’

মান্দা উপজেলার পশ্চিম নুরুল্লাবাদ গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল জানান, গেল বছর আলুর ভালো দাম না পাওয়ায় এ বছর ভাল লাভের আশায় আগাম আলু চাষ শুরু করেন কৃষকরা। তবে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আলুর জমিতে পানি জমে। বৃষ্টির পানিতে একদিকে রোপণকৃত বীজ পচে গেলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। অন্যদিকে অনাবাদি জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের পর বীজ রোপণ কবে করা যাবে তা নিয়েও সংশয়  দেখা দিয়েছে। শীতকালীন শাক-সবজির জমিতেও শিকড় পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানি দ্রুত না নামলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকেরা।

তিনি আরো বলেন, ধান সবে পাকতে শুরু করেছিল। এখন গাছ নুয়ে পড়ে পানির নিচে গেছে। বোরো ধানে ক্ষতির পর এবার আমন চাষেও লোকসান গুনতে হবে।

নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল এলাকার কৃষক রতন মোল্লা বাসসকে বলেন, সবেমাত্র আলুর বীজ রোপণ করেছি।

এরই মধ্যে বৃষ্টি। এখনও মাঝে মাঝে আকাশ মেঘে ঢেকে আসছে। ঝিরঝির করে বৃষ্টিও পড়ছে। মাটির নিচে রোপণ করা আলুর বীজ একটু পানি পেলে পচে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ক্ষেতের অধিকাংশ আলু পচে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

নওগাঁ সদর হাপানিয়া এলাকার সুশীল মিস্ত্রি বলেন, ধান পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় আমন ধানের গাছ মাটিতে নুয়ে গেছে। এখনো ফসলের ক্ষেতে অনেক পানি জমে আছে। দ্রুত পানি সরাতে না পারলে অনেক ক্ষতি হবে।

পত্নীতলার কৃষক সালেহ মামুন বলেন, ধান পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় আমন ধানের গাছ মাটিতে নুয়ে গেছে। এখনো ফসলের ক্ষেতে অনেক পানি জমে আছে। দ্রুত পানি সরাতে না পারলে অনেক ক্ষতি হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হোমায়রা মন্ডল বাসসকে বলেন, হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিতে আমন ধান ও সবজি চাষে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

তিনি বলেন, বৃষ্টি হলেও ভারী বর্ষণ হয়নি। সবেমাত্র আলু রোপণ শুরু হয়েছে। যে-সব জমিতে আলু লাগিয়ে ৮-১০ দিন হয়েছে, সেগুলোর ক্ষতি হবে না। এছাড়া শীতকালীন সবজি ও ধানের খুব বেশি ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। ধানের জন্য বৃষ্টি কিছুটা আশীর্বাদ। ক্ষেত থেকে পানি সরে গেলে কোনো সমস্যা হবে না।

তিনি জানান, জেলায় এবছর আমন ধান চাষ হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর জমিতে। আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে ১ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে। আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার হেক্টর জমিতে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৬, ২০২৫ ৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
নাটোরে আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে
কৃষি বিভাগ

নাটোর জেলায় সমৃদ্ধির জানান দিচ্ছে আমনের মৌসুম। ৭৬ হাজার ৮৮৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে জেলায় ৭৬ হাজার ৯৯৭ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। অর্থাৎ ১১২ হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খরিপ-২ মৌসুমে জেলায় রোপা আমনের মোট ৭৬ হাজার ৯৯৭ হেক্টর আবাদী জমির মধ্যে সর্বোচ্চ সিংড়া উপজেলায় আবাদ হয়েছে ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে।

এছাড়া বড়াইগ্রামে ১৬ হাজার ৭৫৪ হেক্টর, নাটোর সদর উপজেলায় ১০ হাজার ৬১০ হেক্টর, লালপুরে নয় হাজার ১৮৫ হেক্টর, বাগাতিপাড়ায় ছয় হাজার ৩৭৩ হেক্টর, গুরুদাসপুরে ছয় হাজার ৭৮০ হেক্টর এবং নলডাঙ্গা উপজেলায় তিন হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে।

আবার আবাদী জমির মধ্যে ৭০ হাজার ৬৪৬ হেক্টরে উচ্চ ফলনশীল জাত, পাঁচ হাজার ৭৪৬ হেক্টরে হাইব্রিড এবং ৬০৫ হেক্টরে স্থানীয় জাতের আমন ধান চাষ করা হয়েছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, কৃষকদের প্রণোদিত করতে রাজস্ব খাতের আওতায় ২০২ জন কৃষককে এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ছয়জন কৃষককে তাদের এক বিঘা জমি চাষে প্রয়োজনীয় বীজ ও সার সরবরাহ করে প্রদর্শনী খামার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া পার্টনার প্রকল্পের আওতায় ১৬ জন কৃষকের দুই একর জমিতে প্রদর্শনী খামার স্থাপন করা হয়েছে। এসব খামারে উপকারভোগী কৃষকবৃন্দ ছাড়াও পাশের এলাকার কৃষকবৃন্দ ব্রি-৯০, বিনা-২৬ ছাড়াও প্রায় নতুন উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্রি-১০৩ জাতের ধানের উৎপাদন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন নিবিড়ভাবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার দু’ধারে, বিলের মধ্যে এখন শুরু সবুজ ধানের গাছ আর সদ্য সোনালী বর্ণ ধারণ করা ধানের সমারোহ। দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ-সোনালীর মাঠ সমৃদ্ধির জানান দিচ্ছে। সবুজ ক্ষেতে গাছের পাতা ভেদ করে ধানের গুচ্ছ কুশি উঁকি দেওয়ার অপেক্ষায় আছে। আর আগাম জাতের ধানের ক্ষেত সোনালী বর্ণ ধারণ করে ধানের ভাড়ে নুব্জ হয়ে পড়ছে। এসব ধান দুই সপ্তাহ পর থেকে কাটা শুরু হবে। তবে বিলের চাষাবাদ দেরিতে শুরু হওয়ায় এসব ধান কাটাও হবে দেরিতে। চলতি মৌসুমে ধানের ফলন চার লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

হালতি বিল অধ্যুষিত বাশিলা এলাকার কৃষক এম আরিফুল ইসলাম চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান আবাদ করেছেন। এর মধ্যে তিন বিঘা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে বিনষ্ট হয়েছে। অবশিষ্ট দুই বিঘাতে আছে উচ্চ ফলনশীল ব্রি-৭৫ এবং স্থানীয় জাতের জিরাশাইল।

নাটোর সদর উপজেলা পৌরসভার মোহনপুর এলাকার আদর্শ কৃষক আহমেদুল কবীর দুই বিঘাতে হাইব্রিড ও দুই বিঘাতে শম্পাকাটারি ধান আবাদ করেছেন। উঁচু জমি হওয়াতে আগাম ধান করতে পেরেছেন তিনি। আগামী সপ্তাহে ধান কাটা যাবে বলে জানান।

শষ্য ভাণ্ডার খ্যাত চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলার আদর্শ কৃষক জুলফিকার আনাম তারা কুমিড়া এলাকায় সতের বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন। চাষাবাদকৃত জমির বেশীর ভাগটাই উন্নতমানের সুগন্ধি ধান। কিছুদিনের মধ্যে ধানের কুশি বের হবে বলে জানান কৃষক তারা। এবারের চাষাবাদে আবাদের পরিবেশ আর আবহাওয়া অনুকূলে, ফলনও ভালো হবে বলে আশাবাদী তিনি।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ হাসান বলেন, সমৃদ্ধ ফলনের জন্য কাজ করছে কৃষি বিভাগ। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ ব্লকগুলোতে সরেজমিনে যেয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বাসস’কে বলেন, উন্নত জাতের বীজের প্রচলন, সহজলভ্যতা এবং ধানের চড়া দামের কারণে কৃষকরা আমন ধানের আবাদ বাড়িয়েছেন। প্রত্যাশিত ফলন পেতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ করছে। আশাকরি এবারের ফলন হবে আশাতীত।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৫ ৯:৫৬ পূর্বাহ্ন
খুলনায় টেকসই কৃষিতে আশার আলো দেখাচ্ছে সবুজ সার
কৃষি বিভাগ

খুলনার কৃষকরা রাসায়নিক সারের টেকসই বিকল্প হিসেবে সবুজ সার গ্রহণ করছেন। এতে উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশবান্ধব এবং কম খরচে চাষাবাদে নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দিক-নির্দেশনায় কৃষকরা রাসায়নিক ব্যবহার না করে সফলভাবে ধান চাষে সবুজ সার প্রয়োগের মতো ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি নতুন করে ফিরিয়ে এনেছেন। এই পদ্ধতি কেবল মাটির স্বাস্থ্যেরই উন্নতি করে না, বরং উৎপাদন খরচ ও রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতাও হ্রাস করে।

বটিয়াঘাটা উপজেলার শুড়িখালী গ্রামের কৃষক মো. শাহজাহান হোসেন এ বছর ৭০ শতাংশ জমিতে কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার না করেই রোপা আমন ধান চাষ করেছেন। জমিতে রাসায়নিকের বদলে তিনি সবুজ সার হিসেবে ধৈইঞ্চা গাছ ব্যবহার করেছেন।

তিনি বলেন, বোরো ধান কাটার পর আমি ধৈইঞ্চা বীজ বপন করি। প্রায় ৪৫ দিনের মধ্যে গাছগুলো বেড়ে উঠলে সেগুলোসহ জমি চাষ করি।

শাহজাহান বাসস’কে বলেন, কোনো রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই আমার ধান ভালোভাবে বেড়ে ওঠে, যার ফলে আমার প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়।

পার্শ্ববর্তী গঙ্গারামপুর ও চক্রখালী গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ ও হারুন-উর-রশিদ এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন এবং আশাব্যঞ্জক ফলাফল পেয়েছেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সবুজ সার মাটিতে জৈব পদার্থ বৃদ্ধি করে এবং নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ করে। কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের গবেষণায় দেখা গেছে, এক হেক্টর জমির ধৈইঞ্চা গাছ ৬০ থেকে ৮০ কেজি পর্যন্ত নাইট্রোজেন প্রদান করতে পারে। এটি ইউরিয়া সারের দারুণ বিকল্প।

কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, প্রথমবারের মতো আমি ইউরিয়া ছাড়াই ধান চাষ করতে দেখলাম এবং ফলনও ভালো হচ্ছে। আমি আগামী বছর ১২ বিঘা জমিতে ধৈইঞ্চা বুনে তারপর চাষ করার পরিকল্পনা করছি।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জীবনানন্দ রায় বলেন, লবণাক্ততা এবং দীর্ঘমেয়াদী রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। আমরা ধৈইঞ্চা চাষ পদ্ধতিকে উৎসাহিত করছি। ইতোমধ্যেই শুড়িখালীতে প্রায় ১১০ বিঘা জমি সবুজ সারের মাধ্যমে চাষের আওতায় আনা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা জোনের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে ৩ হাজারেরও বেশি কৃষক ৪৭৪ হেক্টর জমিতে ধৈইঞ্চা বুনেছিলেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তরমুজ চাষের পর একটি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আমরা ২১০ জন কৃষককে ৫ কেজি করে ধৈইঞ্চা বীজ বিতরণ করেছি। ৪৫ দিন পর গাছগুলো চাষের মাধ্যমে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে উৎপাদন খরচ কম হয় এবং ভালো ফলন নিশ্চিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশ বছরে ৫০ থেকে ৫৫ লাখ টন রাসায়নিক সার ব্যবহার করে। যার মধ্যে ২৬ থেকে ২৭ লাখ টন ইউরিয়া সার। এতে সরকারের ওপর ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির বোঝা চেপে বসে। সবুজ সার এই খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে এবং পরিবেশও ভালো হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৫ ৩:৩২ অপরাহ্ন
কম খরচে আনারকলি চাষ করে মিলবে লাখ টাকা মুনাফা
কৃষি বিভাগ

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ হাসান স্ট্যালিন (৩৬) বিদেশি আনারকলি ফল চাষ করে সফল হয়েছেন। বিদেশি ফল হলেও আনারকলি স্বাদে গন্ধে অনন্য। দেশের পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ে কয়েক বছর আগেই এই ফলটির চাষ শুরু হয়। তবে এই প্রথম সমতলে আনারকলির বাণিজ্যিক চাষ করেছেন মাহমুদ হাসান স্ট্যালিন। তরুণ এই কৃষি উদ্যোক্তা মহেশপুরের পান্তাপাড়া ইউনিয়নের ঘুঘরি গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, মৃদু টক মিষ্টি স্বাদের আনারকলি বাংলাদেশে ট্যাং ফল নামেও পরিচিত। তবে বিদেশে এর নাম ‘প্যাসন ফ্রুট’। এই ফলটির জনপ্রিয়তাও বাড়ছে দিন দিন। প্রতি পিস আনারকলি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে আনারকলি বা ট্যাং ফল চাষ করা যায়। যে কারণে এর উৎপাদন খরচও কম। ফলে নেই কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি।

তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ হাসান স্ট্যালিন জানান, প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর আগে থেকে তিনি কৃষি কাজ শুরু করেন। আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের  মাধ্যমে চমকপ্রদ ফল উৎপাদনের ইচ্ছা থেকেই তিনি এই কাজ বেছে নেন। প্রথম দিকে প্রায় ৬ বিঘা জমিতে ড্রাগন, মাল্টা, পেয়ারা ও আঙুর চাষ শুরু করেন।

পরে গণমাধ্যমের খবর দেখে তিনি প্যাসন ফ্রুট বা আনারকলি আবাদের বিষয়ে আগ্রহী হন। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে ২ শতাংশ জমিতে আনারকলি চাষ করেন। বর্তমানে আড়াই বিঘা জমিতে তিনি আনারকলি বা প্যাসন ফ্রুট লাগিয়েছেন। গাছ লাগানোর দুই বছর পরেই পেয়েছেন উচ্চ ফলন। ফল বিক্রি করে পেয়েছেন উচ্চ মূল্য।

বাসসের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, প্রথম দুই শতক জমিতে ২০টি আনারকলি গাছ লাগিয়েছিলেন। দুই বছর পরে তার গাছে ফল উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পিস। প্রতি পিস আনারকলি পাইকারি বিক্রি করেছেন ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে। সব মিলিয়ে দুই শতক জমি থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন। দুই শতক জমিতে এই ফল চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। বছরে মাত্র দুই শতক জমিতে আনারকলি চাষ করে তিনি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন।

স্ট্যালিন জানান, বিঘাপ্রতি আনারকলি চাষে খরচ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা৷ ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘা জমি থেকে ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। প্রতিটি গাছ থেকে বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৮ মাস একাধারে ফল পাওয়া যায়।

প্রথমে দুই শতক জমিতে আনারকলি চাষ করে ভালো আয় হওয়ায় তিনি বাগানের পরিধি বাড়িয়েছেন। লাভের টাকা দিয়ে আড়াই বিঘা জমিতে শুরু করেছেন আনারকলির আবাদ। এই ফল বিক্রির টাকা দিয়ে ড্রাগন, পেয়ারা ও মাল্টার বাগান গড়ে তুলেছেন তিনি।

মাহমুদ হাসান স্ট্যালিন বাসসকে বলেন, এখন আড়াই বিঘা জমিতে এই ফলের গাছ লাগিয়েছি। বাগানের প্রতিটি গাছে ফল ধরতে শুরু করেছে। প্রতিটি গাছে নানা আকারের ফল, ফুল ও কুঁড়ি রয়েছে। বাগান দেখে আমার মন ভরে যায়।

তিনি আরও বলেন, যখন এই ফলের আবাদ শুরু করি, অনেকেই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করত। এখন আর কেউ মশকরা করে না। প্রতিটি গাছের ডগায় প্রচুর ফল ধরে। এই ফলের চাহিদাও বাড়ছে। দামও ভালো।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আনারকলি ফল বিদেশে প্যাসন ফ্রুটস নামে পরিচিত হলেও দেশে এটাকে আনারকলি বা ট্যাং ফল বলা হয়ে থাকে। ভিটামিন সি, আয়রণ, জিংক, ভিটামিন সমৃদ্ধ এই ফল। এই ফল চাষ করতে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। জৈব পদ্ধতিতে এটি আবাদ করা যায়। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কাও নেই।

ঝিনাইদহের মহেশপুরের ঘুঘরি গ্রামের মানিক হোসেন মিয়াজি বাসসকে বলেন, স্ট্যালিন ভাইয়ের আনারকলি ফলের বাগান দেখতে প্রতিনিয়ত দূরদূরান্ত থেকে উদ্যোক্তারা ছুটে আসছেন। বাগানে যে পরিমাণ ফল ধরে, তা দেখে আমরা অবাক। প্রচুর ফল ধরে, স্বাদও অসাধারণ।

এই এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, প্রথমে এই ফল আমরা চিনতাম না। স্ট্যালিন ভাই লাগানোর পরে অনেকেই মশকরা করত। কিন্তু ফল ধরা শুরু হওয়ার পর আমাদের সবার ভুল ভেঙেছে। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ফল ও চারা কিনতে আসছেন।

উদ্যোক্তা মাহমুদ হাসান বলেন, ১০ কাঠা জমিতে আনারকলি চাষ করলে কয়েক লাখ আনারকলি ফল পাওয়া সম্ভব। এই ফল পিস হিসেবে বিক্রি হয়। উৎপাদন খরচ খুবই কম, তবে দাম ভালো পাওয়া যায়।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঝিনাইদহের মাটি অত্যন্ত উর্বর। এই মাটিতে নানা জাতের দেশি বিদেশি ফল উৎপাদন হচ্ছে। কৃষকরাও উদ্যমী ও পরিশ্রমী। কৃষকরা জেলার প্রতিটি এলাকায় দারুণ সফলতা পাচ্ছেন। বিশেষ করে, মহেশপুরের স্ট্যালিন বিদেশি প্যাসন ফ্রুট চাষ করে যে সাফল্য দেখিয়েছেন, তা অনন্য। তরুণ যুবকরা চাইলে অল্প বিনিয়োগে উন্নত পদ্ধতিতে কৃষি কাজে আত্মনিয়োগ করলে তারাও সাবলম্বী হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৫ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
কিশোরগঞ্জে গাছ আলু সবজি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে
কৃষি বিভাগ

কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায় গাছ আলু (সবজি) চাষ বাণিজ্যিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। এ এলাকায় এ সবজিটি পান আলু বা গাছ আলু নামে পরিচিত। গাছ আলু আগেকার দিনে বাসাবাড়ি এবং পরিত্যক্ত জমিতে রোপণ করা হোত। কিন্তু ইদনিংকালে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এ সবজি আলুর চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। লতানো এ আলু গাছটি মাচা, ঝোপঝাড় এবং গাছে বেয়ে ওঠে। গাছ আলু মাটির নিচে নয়, বরং মাচা এবং গাছ গাছালিতে ঝুলে থাকে।

সরেজমিনে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠে সবুজ ক্ষেতে কৃষকের বোনা মাচায় ঝুলছে গাছ আলু। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন কোনো সবুজ জঙ্গল ঠায় দাঁড়িয়ে আছে।

কৃষকদের দাবি, গাছ আলু চাষে খরচ অনেক কম। সার বা কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না। ধুন্দল বা চিচিঙ্গা তোলার পর একই মাচায় এ আলুর চারা রোপণ করা হয়। মাত্র তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়।
কৃষক আব্দুল কাদেরের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘এক বিঘা জমিতে আমার খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। আলু বিক্রি করে পেয়েছি এক লাখ টাকার মতো। খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হয়েছে।’

স্থানীয় রহিম মিয়া বলেন, বর্ষার শেষে বাজারে যখন সবজির সরবরাহ কম থাকে, তখন এ গাছ আলুর ফলন হয়। বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকে, তাই দামেরও কমতি নেই। এখন কেজি প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছি।
বর্তমানে সাধারণ আলু যেখানে কেজি প্রতি ২৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে গাছ আলুর দাম প্রায় দেড়গুণ বেশি। কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে এক মৌসুমে লাখ টাকা লাভ হচ্ছে। অতিরিক্ত লাভের কারণেই প্রতিদিন নতুন নতুন কৃষক গাছ আলুর আবাদে ঝুঁকছেন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা গাছ আলুর বিষয়ে তাদের মত, এটি শুধু একটি নতুন সবজি নয়, বরং দেশের কৃষি খাতের জন্য এক নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা শেষে জমিতে তেমন কোনো ফসল ভালো ফলন হয় না। আর তাই ওই সময়ে কৃষকের জন্য গাছ আলু একটি লাভজনক বিকল্প হিসেবে কাজ করছে।

চরফরাদী ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, “গাছ আলু এ এলাকার কৃষকদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনা হয়ে উঠেছে। খুব অল্প খরচে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে, আবার বাজারেও এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সঠিক সময়ে চারা রোপণ এবং মাচার যত্ন নিতে আমরা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। এ ফসল শুধু কৃষকের আয় বাড়াবে না, বরং পাকুন্দিয়া উপজেলাকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও একটি আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে কৃষকের জীবনমান আরও উন্নত হবে।”

পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার নূর-ই-আলম বলেন, “গাছ আলু একটি পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু সবজি। বর্ষার শেষে অন্য ফসল না থাকলেও এটি ভালো ফলন দেয়। আমরা ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলায় এর আবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছি। যেহেতু এটি দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য, তাই বিদেশেও রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে।”

চলতি মৌসুমে পাকুন্দিয়ায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে গাছ আলুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০০ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের আশা, এ গাছ আলু শুধু স্থানীয় কৃষকের জীবনমান উন্নত করবে না, ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় উৎস হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।

পাকুন্দিয়ার কৃষকরা বলছেন, গাছ আলু এখন তাদের জন্য নতুন আশার প্রতীক। একদিকে কম খরচ, অন্যদিকে বেশি দাম এ দুয়ের সমন্বয়ে তারা পাচ্ছেন স্বস্তি। ফলে গাছ আলুর কারণে কৃষকের ঘরে ফিরছে হাসি, আর গ্রামীণ অর্থনীতিতেও আসছে গতি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫ ৮:৫৬ পূর্বাহ্ন
উন্নত জাতের ফুলকপি চাষে ঝুঁকছেন রাজশাহীর কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

রাজশাহী, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : ফুলকপি চাষের বাইরে গ্রীষ্মকালেও কৃষকরা ফুলকপি চাষ করে প্রচুর লাভের মুখ দেখছেন। এতে তাদের আয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে।

ফুলকপি শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত হলেও গ্রীষ্মকালেও সফলভাবে চাষ করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গাপুর, গোদাগাড়ী, পবা ও পুঠিয়া উপজেলায় এটি চাষ করা হচ্ছে। বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি ও অসময়ে উৎপাদনে ভালো লাভ হওয়ায় এ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা বাণিজ্যিক ও গৃহস্থালী উভয় পদ্ধতিতে ফুলকপি চাষ করছেন। অনেকেই পানির ওপর নির্ভরশীল ফসল ধান থেকে সরে এসে অসময়ে সবজি চাষে ঝুঁকছেন। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহায়তা এই পরিবর্তনকে আরো উৎসাহিত করেছে, যা টেকসই ও লাভজনক কৃষির দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য সহায়ক।

ধামিলা গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম পাঁচ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষ করছেন এবং ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সেগুলো বাজারে বিক্রির আশা করছেন।

তিনি বলেন, চাহিদা প্রচুর, দামও ভালো। খুচরা বাজারে বর্তমানে কেজি প্রতি ফুলকপি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা।  তবে, এক সপ্তাহ আগে দাম আরো বেশি ছিল।

গোদাগাড়ী উপজেলার গোলাই গ্রামের ৪৫ বছর বয়সী মুহাম্মদ মিলন ইতোমধ্যেই লাভবান হতে শুরু করেছেন। তিনি ১২ বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। গত সপ্তাহেই এক বিঘা জমি থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ফুলকপি বিক্রি করেছেন।

তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। প্রথম দিকের ফসলের ফলন অনেক ভালো হয়।

মিলন জুন মাসে ৩০ বিঘা জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি রোপণ শুরু করেন এবং শীতকালে একাধিক পর্বে চাষ করার পরিকল্পনা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, প্রথম দিকের ফসল শীত বা গরম যেটাই হোক সবসময় বেশি লাভজনক হয়।

শুধু দেওপাড়া ইউনিয়নে ছয়টি গ্রামের প্রায় ৪৫ জন কৃষক এখন প্রায় ৩৫০ বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করছেন।

কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা অতনু সরকার বলেন, গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের প্রতি কৃষকের আগ্রহ বেশি দেখতে পাচ্ছি। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ কৃষকদের সর্বাধিক মুনাফা অর্জনে সহায়তা করার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে চাষ করে আসা শস্য ধানের তুলনায় সবজি চাষ বেশি লাভজনক প্রমাণিত হচ্ছে।

দুর্গাপুরের চুনিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক শাতাহার আলী (৪৬) তার গ্রামের অন্য কৃষকদের উৎসাহিত করছেন। তিনি দেড় বিঘা জমিতে উন্নত জাতের ফুলকপি চাষ করেছিলেন ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে এবং ইতোমধ্যে ৮৫ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন।

দুর্গাপুরের চুনিয়াপাড়া গ্রামের ৪৬ বছর বয়সী কৃষক শাতাহার আলীর মতো কৃষকরা তাদের সম্প্রদায়ের অন্যদের অনুপ্রাণিত করছেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি ফুলকপি সরাসরি ক্ষেত থেকে ৮৫-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং খুচরা বাজারে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এই মৌসুমে আমি দেড় লাখ টাকারও বেশি ফুলকপি বিক্রি করার আশা করছি।

রাজশাহীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক উম্মে সালমার মতে, বর্তমানে জেলায় প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করা হচ্ছে। তিনি এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক চাষ ও গৃহস্থালি বাগান উভয়ের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, কৃষকরা উন্নত, উচ্চ-ফলনশীল জাতের দিকে ঝুঁকছেন। এতে ভালো দাম পাওয়া যায়। অনেকেই এখন কেবল শীতকালেই নয়, গ্রীষ্মকালেও ফুলকপি চাষ করছেন। যার ফলে তাদের লাভ বেশি হচ্ছে।

শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য পরিচিত বরেন্দ্র অঞ্চল এখন রূপান্তরের সাক্ষী। সেচনির্ভর ফসলের ওপর কম নির্ভরতা এবং কৃষি কর্মসূচি থেকে ক্রমবর্ধমান সহায়তার মাধ্যমে কৃষকরা বৈচিত্র্যময় ফসল ফলানোর দিকে ঝুঁকছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করছে।

উম্মে সালমা বলেন, সবজি চাষ জীবন বদলে দিচ্ছে। এটি প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop