৪:৩৯ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ১২, ২০২৬ ৯:৪১ পূর্বাহ্ন
রক্তদহ বিল পুনঃখননে বছরে ১৭০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব
কৃষি বিভাগ

নওগাঁর ঐতিহাসিক রক্তদহ বিল পুনঃখনন করা হলে বছরে প্রায় ১৭০ কোটি টাকার অতিরিক্ত কৃষি উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষকরা।

নওগাঁর রানীনগর ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার মাঝামাঝি এলাকায় রক্তদহ বিলের অবস্থান। প্রায় ২২০ হেক্টর আয়তনের এ বিলটি ২২টি প্রবেশ খালের সঙ্গে যুক্ত। এসব খালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার। আর বিলের নিষ্কাশন খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ কিলোমিটার।

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে আশপাশের প্রায় সড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে বছরে মাত্র একটি ফসল চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ২৩টি গ্রামের প্রায় ৭ হাজার কৃষক পরিবারের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ নিয়মিত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-এর কর্মকর্তারা জানান, বিল ও সংযুক্ত খালগুলো পুনঃখনন করা হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। তখন কৃষকেরা বছরে আইআরআরআই-বোরো ও রোপা আমন—এই দুই ধরনের ধান চাষ করতে পারবেন। এতে বছরে প্রায় ১৭০ কোটি টাকার অতিরিক্ত কৃষি উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঐতিহাসিকভাবে রক্তদহ বিল এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ফসল উৎপাদন কমে গেছে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রজাতির মাছও এখন পাওয়া যাচ্ছে না।

সিম্বা গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন ফকির, মোস্তাক হোসেন ও জয়েদ ফকির এবং খাগড়া গ্রামের আবদুল হোসেন বাসসকে জানান, বিল এলাকায় তাদের জমি রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে তারা প্রতিবছরই ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তারা আরও জানান, বিল খনন করা হলে বছরে অন্তত দুটি ফসল চাষ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মাছের উৎপাদনও বাড়বে। এতে আশপাশের গ্রামের কৃষক ও জেলেদের জীবিকা উন্নত হবে।

নওগাঁয় বিএমডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম বাসসকে জানান, রক্তদহ বিল ও এর আশপাশের খালগুলো পুনঃখনন হলে প্রতি হেক্টরে প্রায় ১২ মেট্রিক টন হিসেবে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৫৪ হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭০ কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, খননকৃত মাটি ব্যবহার করে বিল ও খালের পাড় ঘেঁষে ১০ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি ভাঙন রোধে রিটেইনিং ওয়াল, কংক্রিট ব্লক ও প্যালিসেডিং নির্মাণ করা সম্ভব। এতে দুর্গম এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হবে।

এ ছাড়া গ্রামীণ সড়ক ও খালের পাড়ে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগালে পাখির জন্য নিরাপদ আবাস তৈরি হবে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশও উন্নত হবে।

রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বাসসকে জানান, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে রক্তদহ বিল পর্যটন এলাকা ও বার্ড ভিলেজ গড়ে তোলা হয়েছে। বিলের নিষ্কাশন খাল রতনদাড়াতে মাছের অভয়ারণ্য তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পর্যটন সুবিধা আরও উন্নত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর বেশিরভাগ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

কর্মকর্তারা জানান, বিলের সংরক্ষিত পানি সেচের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং পানির স্তর পুনরুদ্ধারেও সহায়তা করবে।

প্রাকৃতিক এ সম্পদের যথাযথ ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে রক্তদহ বিল পুনঃখননের প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১০, ২০২৬ ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
কৃষি বিভাগ

কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদের সঙ্গে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত  জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি।

সোমবার সচিবালয়স্থ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের কৃষি, মৎস ও প্রাণিসম্পদ খাতের অগ্রগতি ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। শুরুতে মন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। প্রতিনিধিদলের প্রধান ড. জিয়াওকুন শি সংস্থাটির মহাপরিচালকের পক্ষে মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তা হস্তান্তর করেন এবং অভিনন্দন জানান।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী দেশের কৃষিখাত নিয়ে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেন। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি পণ্য প্রক্রিজাতকরণ, রপ্তানী, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ভিত মজবুত করণে এফএও- এর যে কোনো সহযোগিতাকে স্বাগত জানাবেন বলে মন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন।

ড. শি তার সংস্থার বাস্তবায়িত বিভিন্ন বিষয়ে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। কৃষি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য চাষে তার সংস্থা কাজ করছে বলে জানান।

এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ  উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৮, ২০২৬ ২:১৬ অপরাহ্ন
ফসলের বাম্পার ফলনে রংপুরের চরাঞ্চলে আগাম ঈদের আমেজ
কৃষি বিভাগ

ফসলের বাম্পার ফলন ও উৎপাদিত পণ্যের ভালো বাজারমূল্যের কারণে রংপুর অঞ্চলের নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলে যেনো আগাম ঈদের আমেজ বইতে শুরু করেছে। চরের বাসিন্দারা এখন ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে পরিবারের জন্য পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
রংপুর বিভাগের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার নদীসংলগ্ন বালুকাময় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা একদিকে যেমন চাষ করা ফসল সংগ্রহ করছেন, অন্যদিকে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।

চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলে বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন, উৎপাদিত পণ্যের ভালো দাম, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ায় চরের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

এর ফলে তারা নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যেই ঈদের কেনাকাটা করতে পারছেন।

একসময় চরের মানুষের জীবন ছিল চরম দারিদ্র্য ও নানা সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত। বাল্যবিবাহ, যৌতুক, কুসংস্কার, অপুষ্টি, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার অভাব তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চরাঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

বর্তমানে চরাঞ্চলের মানুষ কৃষিকাজ, পশুপালন এবং অন্যান্য আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভালো আয় করছেন। ফলে উৎসবমুখর পরিবেশে তারা আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রংপুরভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘নর্থ বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’র চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ শামসুজ্জামান বাসসকে বলেন, প্রতিকূল জলবায়ু ও ভৌগোলিক পরিবেশে বসবাস করলেও চরাঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড এবং প্রায় ৮২ হাজার হেক্টর চর জমিতে ফসল চাষের ফলে রংপুর অঞ্চলের চরবাসীর জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে।

ফলস্বরূপ, চরাঞ্চলে ঈদের পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেকেই ঈদকে সামনে রেখে পোশাকসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনছেন। সেখানে স্থানীয় মানুষ অর্থনৈতিক ভিত্তি এবং উন্নত জীবিকা অর্জন করতে শুরু করেছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারী সংস্থার সহায়তা এবং ফসল চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সামাজিক অভিশাপও দূর করেছে।

এসব উদ্যোগের ফলে চরাঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার চর তালুক শাহবাজ গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে তিস্তা নদীর শুকিয়ে যাওয়া তলদেশের চর জমিতে চাষ করা ফসল থেকে তিনি বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তিনি বলেন, আমি চীনাবাদাম, কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন ও বিভিন্ন শাকসবজির ভালো ফলন পেয়েছি। বাজারদরও ভালো। তাই সন্তানদের জন্য ঈদের পোশাকসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পেরেছি।

গঙ্গাচড়া উপজেলার চর পূর্ব মহীপুর গ্রামের শাহিনুর ইসলাম ও তার স্ত্রী ফ্যান্সি বেগম জানান, তারা তিস্তার শুকনো চর জমির আড়াই একর জমিতে খিরা, আলু, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করেছেন। এই দম্পতি জানান, ইতোমধ্যে তারা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার খিরা, আলু ও অন্যান্য ফসল বিক্রি করেছেন। মে মাসের মধ্যে সব ফসল বিক্রি শেষ হলে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকা নিট মুনাফা পাওয়ার আশা করছেন। শাহিনুর ইসলাম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সন্তানদের জন্য ঈদের পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে ফেলেছি।
গঙ্গাচড়া উপজেলার পশ্চিম মহিপুর গ্রামের চরবাসী আব্দুল জলিল, মহসিন আলী, নুর ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মকবুল হোসেন ও কফিল উদ্দিন জানান, ফসল বিক্রির অর্থ দিয়ে তারা পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার পরিকল্পনা করছেন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) বুড়িরহাট উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রের উপ-পরিচালক ড. মো. আবু সায়েম বলেন, প্রতি বছরই রংপুর অঞ্চলের চরাঞ্চলে কৃষকেরা বিভিন্ন ফসল চাষ করে ভালো লাভবান হচ্ছেন। তিনি বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ এখন ফসল সংগ্রহ ও ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। সেখানে ইতোমধ্যে ঈদের উৎসবমুখর আমেজ তৈরি হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৫, ২০২৬ ৯:০০ পূর্বাহ্ন
চুয়াডাঙ্গায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে, ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি
কৃষি বিভাগ

চুয়াডাঙ্গা জেলার সব ধরনের সবজির দাম কমেছে । এতে স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মাঝে। রমজান মাস শুরু হওয়ার পূর্বে সবজির দাম বেড়ে ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যায়। আবার রমজান মাস শুরুর কয়েকদিনের মধ্যে কমতে থাকে সবজিসহ মসলার দাম।

রমজানের শুরুর দিকেও যেসব সবজির দাম ছিল আকাশছোঁয়া তা এখন ক্রেতা সাধারণের নাগালের মধ্যে। তবে দেশি ও বিদেশী ফলের দাম বেড়েই চলেছে। প্রকার ভেদে বিভিন্ন ফলের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন রমজান উপলক্ষে ফলের চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে।

বুধবার চুয়াডাঙ্গা শহরের বড়বাজার, নিচের বাজার ও রেলবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের শীতকালীন ও বারোমাসি সবজির দাম কমেছে। রমজানের শুরুতে যেখানে কাগুজে লেবু বিক্রি হচ্ছিল ৬০ টাকা হালি এবং শসা ছিল ১২০ টাকা কেজি। সেখানে বর্তমানে লেবু ৪০ টাকা হালি এবং শসা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারী বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজ ৩০/৩৫ টাকা, রসুন ৫০/৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ৭০/৭৫ টাকা, আদা ১৩০/১৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০/৪৫ টাকা, সজনে ডাটা (চিকন) ৩৫০/৪০০ টাকা, বেগুন ৩০/৪০ টাকা, শিম ২০ টাকা, লাল শাক ১০ টাকা আটি, কাঁচাকলা ২০ টাকা, টমেটো ১০/২০ টাকা, ফুলকপি ২০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, লাল গোল আলু ২৫ টাকা, পালং শাক ৫ টাকা, করলা ১০০ টাকা ও আলু ১২/১৩ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু সবজির দাম রমজানের শুরুতে দ্বিগুনের বেশি ছিলো।

অন্যদিকে শহরের বড়বাজার ও রেলবাজার ফলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, আপেল ৩৫০ টাকা, আঙ্গুর ৪০০ টাকা, কমলা চাইনা ৩৩০ টাকা, আনারস প্রতি পিস ৫০/৬০ টাকা, ৫/৬ কেজি ওজনের একটি তরমুজ ৪০০/৪৫০ টাকা, কুল ৫০/৬০, পাকা কলা প্রতি হালি ২০/৩০ টাকা ও পেয়ারা ৯০/১০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। এসব ফলের দাম রমজানের শুরুতে কিছুটা কমে পাওয়া যেত।

এ বিষয়ে কাঁচামাল আড়ৎদার ডিউক বলেন, রমজান মাসের শুরুর দিকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা চড়া ছিল। কিন্তু এখন বাজারে প্রচুর সবজি আসছে, ফলে দাম আগের চেয়ে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ক্রেতারা এখন পছন্দমতো কেনাকাটা করতে পারছেন। আমরাও স্বাচ্ছন্দের সাথে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সবজি বিক্রি করতে পারছি।

সবজি ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই আছে। সামনের দিনে সবজির দাম আরও কমতে পারে। বর্তমানে কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা কম। রমজানের শুরুর দিকে অনেকে একবারেই এক মাসের বাজার করায় সবজির চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল যার কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল।

সবজি বাজার করতে আসা শিপন বলেন, রমজান মাসের শুরুর দিকে বাজার করেছিলাম তখন প্রতিটা সবজির দাম ছিল বেশি। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। তবে লেবুর দামটা বরাবরই বেশি।

সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও রোজাদাররা ফল কিনতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ছে। আপেল, আঙুর, কমলা ও মাল্টার দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফল বিক্রেতা রিয়াজ জানান, দেশি ফলের পাশাপাশি আমদানিকৃত কমলা, আঙুর ও আপেলের দাম প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩, ২০২৬ ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন
রাঙ্গামাটিতে কৃষকদের মধ্যে হলুদ বীজ ও সার বিতরণ
কৃষি বিভাগ

রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ (১) মৌসুমি হলুদ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে হলুদ বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃষকদের মধ্যে বীজ ও সার বিতরণ করেন লংদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিফ রহমান, এলজিইডি কর্মকর্তা প্রকৌশলী শামসুল আলম, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা রতন চৌধুরী, মাইনীমুখ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান (বাবু) প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ কর্মসূচির আওতায় ৩৫ জন কৃষকের প্রত্যেককে একশ’ কেজি করে ‘বারি’ জাতের হলুদ বীজ এবং ১০ কেজি করে সার প্রদান করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২৬ ৯:৫০ পূর্বাহ্ন
পঞ্চগড়ে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা
কৃষি বিভাগ

পঞ্চগড় জেলায় কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে তিনদিন ব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করা হয়। ‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে ‘দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় এ মেলার আয়োজন করেছে উপজেলা কৃষি অফিস।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষি প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন করেন জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মতিন।

এসময় ‘দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’র প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ আবু রেজা মো. আসাদুজ্জামান, জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুবোধ চন্দ্র রায়, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আসাদুন্নবী, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অর্জুন চন্দ্র রায় প্রমুখ।

কৃষি প্রযুক্তি মেলায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত শাকসবজি, ফলমূলসহ নানা ধরনের কৃষিপণ্য দিয়ে স্টলগুলো সাজানো হয়েছে। এসব স্টলে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, উন্নত জাতের বীজ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমন সম্পর্কে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কাছে কৃষকদের পরামর্শ পাবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২৬ ৯:০৪ পূর্বাহ্ন
গোপালগঞ্জে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের
কৃষি বিভাগ

গোপালগঞ্জ, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): সরকারি প্রণোদনা ও ভালো দাম পেয়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে পেঁয়াজ চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে পেঁয়াজের আবাদের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বছর আবাদ খরচ দ্বিগুণ বাড়লেও লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এ অঞ্চলে পেঁয়াজের চাষ বাড়ছে।

কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে মাত্র ৮৪২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছিল। এ বছর সেখানে ১ হাজার ৫১৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অঞ্চলে বারি-৪ ও তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজ চাষ করে থাকেন কৃষকরা।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, গত ৩ থেকে ৪ বছর আগেও উপজেলার কৃষকরা পেঁয়াজ আবাদ করে উৎপাদন খরচ তুলতে পারেনি। কিন্তু পেঁয়াজের বাজার চড়া। এ কারণে তারা অন্যান্য ফসল ছেড়ে পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন।

কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের ব্যাসপুর গ্রামের কৃষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গতবছর আমি ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলাম। ভাল দাম পাওয়ায় এ বছর তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছি।

একই উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রামের কৃষক তুহিন মোল্যা বলেন, এ বছর আমি প্রথম ৪০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়েছি। ভালো দাম পেলে আগামীতে আরও বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করবো।

ধোপড়া গ্রামের সাধন মজুমদার বলেন, পাঁচ বছর আগে বাজারে পেঁয়াজের দাম ভালো ছিল না। আমি পেঁয়াজ বাদ দিয়ে অন্য ফসল চাষ করেছিলাম। তবে দুই-তিন বছর ধরে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশ চড়া যাচ্ছে। এরপর থেকে আবার পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছি।

কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. এজাজুল করিম বলেন, ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলার ১ হাজার ৫১৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করি আগামীতেও পেঁয়াজের আবাদে ঝুঁকবেন কৃষকরা। এসব অঞ্চলের মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বেলে দোআঁশ মাটিতে উৎপাদন বেশ ভালো হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৮, ২০২৬ ১:৫০ অপরাহ্ন
দেশের শস্য ভাণ্ডারে যুক্ত হলো দুটি হাইব্রিডসহ ছয়টি নতুন ধানের জাত
কৃষি বিভাগ

দেশের শস্য ভাণ্ডারে যুক্ত হলো দুটি হাইব্রিডসহ আরো ছয়টি নতুন ধানের জাত। ৫ ফেব্রুয়ারি কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় বাংলাদেশ ধান গবেষেণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত নতুন এই ছয়টি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত সারা দেশজুড়ে চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্রি মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্ভাবিত জাতগুলোর মধ্যে একটি ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ, ১টি লবণাক্ততা সহনশীল, একটি ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী, একটি হাওরাঞ্চলের উপযোগী ও ঠান্ডা সহনশীল এবং দুটি লজিং টলারেন্ট বা ঢলে পড়া প্রতিরোধী হাইব্রিড জাত রয়েছে। সর্বশেষ-এ ৬টি জাতসহ বিআরআরআই উদ্ভাবিত জাতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২৭টিতে।

নতুন উদ্ভাবিত ব্রি ধান ১১৫ একটি ভিটামিন-ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জাত। এটি বাংলাদেশের প্রথম উচ্চ ফলনশীল কালো চালের জাত, যা এন্ডের কালচার পদ্ধতি ব্যবহার করে উদ্ভাবন করা হয়। এ জাতের গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৭.৪ টন এবং জীবনকাল ১৩৭-১৪২ দিন। পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০০ সে. মি.। ধান লম্বা ও চিকন। এই ধান কালচে বাদামি রঙের এবং ধানের দানার রং কালো। ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ১৭.৮ গ্রাম। এ ধানের অ্যামাইলোজ ২৩ শতাংশ। ধানের দানায় ভিটামিন ই এবং সায়ানিডিন-৩- গ্লুকোসাইডের (সি৩জি) পরিমাণ যথাক্রমে ১৪.৯৮ মিলিগ্রাম/কেজি এবং ২৯.১২ মিলিগ্রাম/কেজি। এছাড়াও ধানের দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে ৫৩৬.৬১ ইউএম এএই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান।

ব্রি ১১৬ বোরো মৌসুমের উচ্চ ফলনশীল একটি নাবি জাত ধান। ব্রি ১১৬ জাতটি ব্রি ধান ৯২ এর সমসাময়িক একটি দীর্ঘ জীবনকালের জাত। গড় জীবনকাল ১৫৪ দিন। এ জাতের চালের আকার আকৃতি মাঝারি চিকন এবং ব্রি ধান ৯২ এর চালের চেয়ে সরু। গাছ শক্ত এবং মজবুত বিধায় এ জাতটি সহজে হেলে পড়ে না। এর ডিগ পাতা খাড়া ও লম্বা বিধায় ধানের শীষ উপর থেকে দেখা যায় না। ধান পাকলেও এর পাতা সবুজ থাকে। প্রস্তাবিত জাতের ফলন পরীক্ষায় দশটি অঞ্চলে ব্রি ৯২ এর চেয়ে প্রায় ১৩.৭৫ শতাংশ বেশি ফলন দিয়েছে। এ জাতের ধান হেক্টরে গড় ফলন ৮.৫৯ টন। উপযুক্ত পরিবেশে সঠিক ব্যবস্থাপনা করলে এ জাতটি হেক্টরে ১০.৩৬ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এর চাষাবাদ পদ্ধতি ব্রি ধান ৯২ এর অনুরূপ বিধায় এটি বিকল্প হিসেবে আবাদ করা যাবে।

ব্রি ১১৭ বোরো মওসুমের স্বল্প জীবনকালীন লবণাক্ততা সহনশীল ও ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত। এ জাতের গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৮.৬ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে এর ফলন হেক্টর প্রতি ৯.৯০ টন পর্যন্ত পাওয়া যায়। এ জাতের দানা মাঝারি মোটা এবং সোনালী বর্ণের। এ জাতের জীবনকাল ১২৯-১৩৫ দিন (গড় জীবনকাল ১২৯ দিন), যা বোরো মওসুমের জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান-২৮ এর সমান জীবনকাল। ধানের দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৪.২ ভাগ এবং প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৯.৩ ভাগ। ভাত ঝরঝরে। জাতটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো লবণাক্ততা সহনশীলতা ছাড়াও ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী এবং আর্টিফিশিয়াল ইনোকুলেশনে উচ্চ মাত্রার ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী (স্কোর-০-৩) ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

ব্রি ১১৮ জাতটি হাওর অঞ্চলের উপযোগী ঠান্ডা সহনশীল ধানের জাত। এ জাতটি প্রজনন পর্যায়ে ঠান্ডা সহনশীল হওয়ায় হাওরে আকস্মিক বন্যায় আধাপাকা থেকে পাকা পর্যায়ে ধান ডুবে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এড়ানোর জন্য এ জাতটি আগাম বপন (২৫ অক্টোবর-১ নভেম্বর) করলেও ধান চিটা হবেনা এবং কমপক্ষে ৬.০ টন ফলন দিতে সক্ষম, তবে স্বাভাবিক সময়ে অর্থাৎ ১৫-২০ নভেম্বর বপনে ১৪৫ দিনে ৬.৯-৮.৫ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এ ধানের চালের আকার আকৃতি মাঝারি মোটা। ভাত ঝরঝরে এবং সাদা। এ ধানের চালে অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৮.৩ ভাগ। এছাড়া প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৯.১ ভাগ। প্রস্তাবিত জাতের ফলন পরীক্ষায় দশটি অঞ্চলে ব্রি ধান ২৮ এর চেয়ে প্রায় ২২.৮৩ শতাংশ বেশি ফলন দিয়েছে।

ব্রি হাইব্রিড ধান ৯ লজিং টলারেন্ট বা ঢলে পড়া প্রতিরোধী এবং মাঝারি মাত্রায় লবণাক্ততা সহনশীল। এটি চারা থেকে পরিপক্ব অবস্থা পর্যন্ত ৪-৮ ডিএস মাত্রায় লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। এর দানার আকৃতি মাঝারি ও দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৩.৬ শতাংশ। এক হাজার দানার ওজন ২৫.৫ গ্রাম ও দানায় প্রোটিনের পরিমাণ ৯.৩ শতাংশ। জীবনকাল ১৪৫-১৪৭ দিন। কৃষকের মাঠে স্বাভাবিক অবস্থায় ফলন ৯.৫-১০.৫ টন। উপকূলীয় অঞ্চলে ফলন ৬.৫-৭ টন।

ব্রি হাইব্রিড ধান ১০ লজিং টলারেন্ট বা ঢলে পড়া প্রতিরোধী। দানার আকৃতি চিকন ও দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৩.৫ শতাংশ। এক হাজার দানার ওজন ২৩.৭ গ্রাম ও দানায় প্রোটিনের পরিমাণ ৯.১ শতাংশ। জীবনকাল ১৪৫-১৪৭ দিন। কৃষকের মাঠে স্বাভাবিক অবস্থায় ফলন ৯.৭-১০.৭ টন।

নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলোসহ ব্রি’র ৩৯টি জাত রয়েছে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন বৈরী পরিবেশ সহনশীল। ব্রি উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ফলেই বর্তমানে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়। যেখানে স্বাধীনতার আগে ১৯৭১ সালে মাথাপিছু জমির পরিমাণ ছিল ২০ শতাংশ, এখন তা ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। এ সময়ে লোকসংখ্যা আড়াই গুণ বেড়েছে কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২৬ ৮:৫৮ পূর্বাহ্ন
সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের
কৃষি বিভাগ

সাতক্ষীরা জেলার একটি প্রসিদ্ধ ফলের নাম ‘কুল’। এ জেলার নামকরণে গাণিতিকভাবে যে সাতটি জিনিস প্রসিদ্ধ তার মধ্যে অন্যতম ফল কুল। সাতক্ষীরা জেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন জাতের কুল।

সাতক্ষীরার বেলে-দোঁয়াশ মাটি ও নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু কুল চাষের উপযোগী। অনুকূল আবহাওয়া আর কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে সাতক্ষীরার কৃষকদের। ফলে দিন দিন সাতক্ষীরায় কুলের আবাদ বাড়ছে। খেতে সুস্বাধু হওয়ায় সাতক্ষীরার কুলের চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। তবে সাতক্ষীরার আমের পাশাপাশি সু-স্বাধু এই কুল বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে মনেকরে কৃষি বিভাগ।

সাতক্ষীরায় অন্যান্য ফসলের তুলনায় কুল চাষে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকরা এদিকে ঝুঁকে পড়েছেন । ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা কুল চাষের সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার কুলের চাষ হয়েছে। যা থেকে ১৫ হাজার মেট্রিকটন কুল উৎপাদন হবে এবং যার বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

সাতক্ষীরার মাটি কুল চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় দিন দিন কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে সাতক্ষীরার কৃষকদের।

ভাল ফলন, কম খরচ আর লাভ বেশি হওয়ায় এ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ শুরু করে চাষীরা। অন্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় সাতক্ষীরার বেশির ভাগ অনাবাদি জমি এখন সারি সারি কুল গাছে ছেয়ে গেছে। গাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে বল সুন্দরী, ভারত সুন্দরী, থাই, আপেল, বাউ কুল, তাইওয়ান কুল, নারিকেল কুল, ঢাকা নাইনটি, টক কুলসহ নানা জাতের কুল।

সদর উপজেলার বাঁশদহা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের কৃষক ইমদাদুল হক জানান, তার ভবানীপুর মাঠে ২ বিঘা কুলের বাগানে তিন রকমের কুল রয়েছে। সেগুলো হলো ভারত সুন্দরী, বল সুন্দরী ও টক কুল। গত বছরের তুলনায় তার বাগানে ফলন অনেক ভালো হয়েছে এবং দামও ভালো পাচ্ছেন। তবে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কারণে বিশেষ করে কীটনাশক ও সারের যে পরিমাণে দাম তাতে চাষে খরচ বেশী পড়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, তার ২ বিঘা জমিতে কুল চাষে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১ লাখ টাকার কুল বিক্রি করবেন বলে আশাবাদী। তবে, সার কীট নাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার লাভটা কম হবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

একই এলাকার কুলচাষী মোরশেদুল আলম জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে চার প্রকারের কুল চাষ করেছেন।

টক, থাই আপেল, বল আপেল ও বিলাতি কুল।

তিনি জানান, বিলাতি কুল ১৭০-১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অন্যগুলো ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কুল বাগানের শ্রমিক আকছেদ আলী জানান, সারাদিন কুল বাগানে কাজ করে তিনি প্রতিদিন সাড়ে ৩ থেকে ৪’শ টাকা পান।

বাঁশদহা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তা কামরুল হাসান ডালিম জানান, এই ইউনিয়নে প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে এবার কুল চাষ হয়েছে। এসব জমিতে থাই কুল, আপেল কুল, নারিকেল কুল ও টক কুল চাষ হয়েছে।

কৃষি বিভাগ থেকে এসব কুল চাষীদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মনির হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার কুলের আবাদ হয়েছে। যা থেকে ১৫ হাজার মেট্রিকটনের উপরে কুল উৎপাদন হবে এবং যার বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। ইতোমধ্যে এসব কুল বাজারে আসা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরার নামকরণে যে সাতটি প্রসিদ্ধ জিনিস রয়েছে তার মধ্যে কুল একটি অন্যতম ফল।

সাতক্ষীরার নামের সঙ্গে কুলের যে ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে, সে ঐতিহ্যকে ধারণ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এ জেলায় উৎপাদিত কুল মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২৬ ৩:৫০ অপরাহ্ন
নড়াইলে শীতকালীন সবজির ব্যাপক ফলনের সম্ভাবনা
কৃষি বিভাগ

চলতি মৌসুমে নড়াইল জেলার তিনটি উপজেলায় শীতকালীন সবজির ব্যাপক  উৎপাদনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষিবিদরা।

নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, অনুকূল জলবায়ু, প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশকের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় শীতকালীন সবজির ব্যাপক উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, সদর, লোহাগড়া এবং কালিয়া উপজেলায় শীতকালীন সবজির চাষ সম্পূর্ণ সফল করার জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক পর্যাপ্ত কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে। শীতকালীন সবজির চাহিদা মেটাতে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের চাষযোগ্য জমিতে সবজি চাষে প্রণোদনা ও সহায়তা প্রদান করছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের কম জমিতে বেশি সবজি উৎপাদনের পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরা আশা করছি, এই মৌসুমে জেলায় শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হবে।

ডিএই অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় জেলার ৩ হাজার ১৪০ হেক্টর জমি থেকে ৭৪ হাজার ৭৩ টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার সদর উপজেলায় ১ হাজার ২৮৫ হেক্টর, লোহাগড়া উপজেলায় ৬৯৫ হেক্টর এবং কালিয়া উপজেলায় ১ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করা হয়েছে।

নড়াইল ডিএইর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিপু মজুমদার বলেন, জেলার কৃষিজমি সবজি চাষের জন্য উপযুক্ত হওয়ায় কৃষকরা বেগুন, ফুলকপি, লাউ, শিম, টমেটো, বাঁধাকপি, মূলা, ব্রকলি, শসা, কুমড়া, লাল ও সবুজ শাক, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি শীতকালীন সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। উৎপাদিত এসব সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে তারা সহজেই বেশি নগদ অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop