৫:০৮ পূর্বাহ্ন

সোমবার, ৩ অগাস্ট , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মে ৬, ২০২৬ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীতে ধান কাটা মাড়াই শুরু, ভাল ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
কৃষি বিভাগ

রাজশাহীর বিস্তৃত বরেন্দ্র অঞ্চলজুড়ে এখন বইছে সোনালি ধানের সুবাস। তীব্র দাবদাহ আর তপ্ত রোদকে উপেক্ষা করে জেলার কৃষকরা মেতে উঠেছেন চলতি মৌসুমের বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের উৎসবে। গত প্রায় এক সপ্তাহ আগে জেলায় ধান কাটার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। বর্তমানে পুরোদমে চলছে ফসল ঘরে তোলার কাজ। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, পুরো মে মাসজুড়ে চলবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলা এবং মেট্রোপলিটন এলাকার বোয়ালিয়া ও মতিহার থানা এলাকায় মোট ৬৮ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় ফসলের অবস্থা বেশ সন্তোষজনক। কৃষি বিভাগ এবার জেলায় মোট ৩,২৭,৫৪৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, হেক্টর প্রতি গড় ফলন পাওয়া যাচ্ছে ৪.৭০ মেট্রিক টন। রাজশাহীর মাঠে এবার ধানের জাতের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। কৃষকরা তাদের পছন্দ এবং জমির ধরন অনুযায়ী মোট ৩৫টি ভিন্ন ভিন্ন জাতের ধানের চাষ করেছেন। এরমধ্যে উচ্চ ফলনশীল ব্রি-ধান এবং বিভিন্ন আধুনিক হাইব্রিড জাতের প্রাধান্য বেশি।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করার ফলে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি যেমন কমেছে, তেমনি পর্যায়ক্রমে ধান পাকায় শ্রমিক ব্যবস্থাপনাও সহজ হচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জেলার মোট আবাদের প্রায় ১০ শতাংশ ধান কাটা ও মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। শুরুতে যেসব জাতের ধান কাটা হয়েছে, সেগুলোর ফলন ‘মোটামুটি’ হলেও কৃষি বিভাগ এবং সাধারণ কৃষকদের আশা-দিন বাড়ার সাথে সাথে ফলনের হার আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে যখন দীর্ঘমেয়াদী এবং উচ্চ ফলনশীল জাতগুলো পুরোপুরি কাটা শুরু হবে, তখন গড় ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, ভোরের আলো ফুটতেই কাস্তে আর পান্তা ভাত নিয়ে মাঠে ছুটছেন কৃষকরা। কোথাও সনাতন পদ্ধতিতে কাস্তে দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে।

আবার কোথাও কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের সাহায্যে দ্রুত ধান কাটা ও মাড়াই চলছে। মাড়াইয়ের পর ধান রোদে শুকানো এবং গোলাজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাড়ির কৃষাণীরাও।

সাইমন নামের এক কৃষক বাসস’কে বলেন, ধান কাটতে শুরু করেছি। আশা করছি ঝড় ও বৃষ্টি না হলে সব ধান ভালভাবে ঘরে উঠবে। ফলন ভালই হচ্ছে।

পবা ও গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষকরা জানান, গত এক সপ্তাহের আবহাওয়ায় তারা স্বস্তিতে আছেন। যদি এই মাস জুড়ে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ঝড়-বৃষ্টি না হয়, তবে নির্বিঘ্নে সোনালি ফসল ঘরে তুলতে পারবেন তারা।

জেলা কৃষি কর্মকর্তারা বাসস’কে জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ে ধান কাটা তদারকি এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে তারা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। মে মাসের শেষ নাগাদ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সিংহভাগ ধান কৃষকের গোলায় উঠবে বলে তারা আশাবাদী। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল হলে রাজশাহীর খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বাসস’কে বলেন, গত সপ্তাহ থেকেই রাজশাহীতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। বোরো ধান কোন সমস্যা ছাড়াই ঘরে তুলতে পেরে খুশি কৃষকরা। ফলন ভালো হচ্ছে। সামনের যে ধানগুলো কাটা বাকি রয়েছে সেগুলোতে আরো ভালো ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভালো ফলন পেতে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পুরো মাস জুড়েই বোরো ধান কাটার কার্যক্রম চলবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৩, ২০২৬ ৯:২২ পূর্বাহ্ন
ঝড়-বৃষ্টিতে বোরোর ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় ঝিনাইদহের ধান চাষিরা
কৃষি বিভাগ

ঝিনাইদহ জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাাচ্ছে পাকা বোরো ধান। দিগন্ত জোড়া ধান ক্ষেতের আলোয় ছড়িয়ে পড়েছে সোনালি আভা। মৃদু বাতাসে মাঠ জুড়ে দুলছে চকচকে সোনালী ধানের শীষ। চলতি মৌসুমে ধানের ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে প্রশান্তির হাসি।

আগামী তিন সপ্তাহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো ধানের ব্যাপক ফলন হবে বলে আশা করছেন ঝিনাইদহের ধান চাষিরা। তবে গত কয়েকদিনের মাঝারি বৃষ্টিতে অনেক মাঠে ধানের গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এতে লোকসান ও ফসলহানীর আশঙ্কায় আছেন তারা।

সরেজমিনে জেলার কোটচাঁদপুর, সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল, কালীগঞ্জ ও মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন মাঠে বোরো ধানের ব্যাপক ফলন দেখা গেছে। এরই মধ্যে কিছু কিছু এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে।

কয়েকদিন ধরে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকার পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় আছেন কৃষকেরা। অনেক মাঠে পড়ে আছে কাটা ধানের গোছা। মাঠ ভেজা থাকায় ফসল বাড়িতে নিতে বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা। আগামী কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টি আরও বাড়লে শেষ মুহুর্তেও ফসলহানী হতে পারে ।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ৯০ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বোরো ধানের আবাদ কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে জেলার ৬টি উপজেলায় মোট প্রায় ৯০ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আবহাওয়ার প্রতিকূল পরিস্থিতি কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

সূত্র জানায়, এরই মধ্যে জেলার ২১ হাজার ২১০ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। যা মোট আবাদি জমির প্রায় ২৪ শতাংশ। আগামী দুই সপ্তাহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ ধান কর্তন ও অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন কৃষকরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সাথে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী কয়েকদিন ঝিনাইদহ জেলার অধিকাংশ এলাকার ওপর দিয়ে হালকা দমকা হাওয়ার সাথে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মহেশপুর উপজেলার হুদা শ্রীরামপুর গ্রামের বোরো চাষি নাজমুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ধান পেকে গেছে। পাকা ধান এখনো মাঠে রয়েছে। বৃষ্টির আশঙ্কায় কাটতে পারছিনা। কাটা ধান বৃষ্টির পানিতে বেশি নষ্ট হয়। শেষ বেলায় এসে ধান নিয়ে খুব চিন্তায় পড়েছি।

সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের কৃষক শামীম হোসেন ও কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের শেখ জসিম উদ্দিন জানান,  আর ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে তাদের মাঠের ধান কাটা শুরু হবে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মাঠে এখনো পানি জমে আছে। ধানের ফলন এবার খুব ভালো। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টি হলে ধান ঘরে তোলা কষ্ট হয়ে যাবে। শেষ সময়ে ধানের ক্ষতি হয়ে গেলে কৃষকের কষ্টের শেষ থাকবে না।

কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের গুড়পাড়া গ্রামের কৃষক রশিদ হোসেন বাসসকে বলেন, ‘একদিকে মাঠে পাকা ধান, আরেক দিকে হাড়েফাড়ে মেঘ। কি দিয়ে কি করব বুঝতে পারছিনা। ধানের ফলন দারুণ হয়েছে। কিন্তু সেই ধান ভালো ভাবে ঘরে তুলতে না পারলে কোনো লাভ নেই। সেই সাথে ধানকাটা শ্রমিকও কমে গেছে। নিচু জমির ধান হারভেস্টার মেশিন দিয়ে অনেকেই কেটে নিয়ে আসছে। কিন্তু ডাঙার জমির ধান হারভেস্টার দিয়ে কাটলে তো হবে না।’

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বাসসকে বলেন, চলতি মৌসুমে জেলার সব উপজেলায় বোরো ধানের ব্যাপক ফলন হয়েছে। আশা করছি, কৃষক এবার ধানের ভালো দামও পাবেন।

তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে জেলা জুড়ে বোরো ধান কাটার তোড়জোড় শুরু হবে। তবে আবহাওয়ার পরিস্থিতিই এখন কৃষকের চিন্তার বড় কারণ। ঝড়-বৃষ্টি বা টানা বৃষ্টিপাত হলে বোরো ধান নিয়ে কৃষকের কষ্ট বাড়বে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষক পর্যায়ে জানাতে আমাদের মাঠকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৩০, ২০২৬ ৯:০১ পূর্বাহ্ন
সার্ককে শক্তিশালী করে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষির উন্নয়ন সম্ভব: নজরুল ইসলাম খান
কৃষি বিভাগ

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সার্ককে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। তিনি বলেন, কৃষি এ অঞ্চলের অর্থনীতির মূলভিত্তি এবং এর টেকসই উন্নয়নে আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই।

আজ মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘ডেভেলপমেন্ট পার্টনারস অ্যান্ড ইনভেস্টরস’ সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি এ লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

সার্ক কৃষি কেন্দ্র (এসএসি), গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশন (গেইন) বাংলাদেশ এবং ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই)- দক্ষিণ এশিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সভায় তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিএনপি সরকার দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের সকল দেশের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তারই অংশ হিসাবে সার্ক কার্যক্রম পুনরিজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সার্ক ও বিমসটেক) এ কে এম শহীদুল করিম। বক্তব্য রাখেন আইএফপিআরআই দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক ড. শহিদুর রশীদ, সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার, গেইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার এবং সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (লাইভস্টক) ড. মো. ইউনুস আলী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ৯:১৬ পূর্বাহ্ন
তিস্তা প্রকল্পে ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয়, সুফল পাচ্ছেন ১০ লাখ কৃষক
কৃষি বিভাগ

উত্তরের চার জেলার কৃষকদের জন্য তিস্তা সেচ প্রকল্প আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সমস্যায় যখন ভুগছিলেন কৃষকরা তখন তাদের আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে এই সেচ প্রকল্প। নির্বিঘ্নে পানি পাওয়ায় উৎপাদন বাড়ার প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা। চলমান বোরো মৌসুমে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দেশের অনেক স্থানে সেচ কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। আর এই সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান।

তবে উত্তরের নীলফামারী, দিনাজপুর, বগুড়া ও রংপুর এ ৪ জেলায় কোনো ধরনের বাড়তি বিড়ম্বনা ছাড়াই তিস্তা সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবহার করে নিরবচ্ছিন্নভাবে বোরো আবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রায় ৪ জেলার ১০ লাখ কৃষক। ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত সেচের তুলনায় সাশ্রয়ী ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হওয়ায় প্রতি বছরই এ প্রকল্পের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। ফলে প্রতিবছরই বাড়ছে আবাদি জমির সংখ্যা। যদি তিস্তা খনন করে এই ক্যানেলগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়, তাহলে উৎপাদন বাড়বে আরও কয়েক গুণ বলে দাবি কৃষকদের।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রধান সম্প্রসারণ কর্মকর্তার (কমি.ডেভো) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি (২০২৫-২৬) বোরো মৌসুমে উত্তরের চার জেলার মোট ১২ উপজেলার ৫০ হাজার হেক্টর জমি তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় এসেছে। প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী জেলার পাঁচটি উপজেলায় (সদর, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর) ৩২ হাজার হেক্টর, দিনাজপুর জেলার তিনটি উপজেলায় (খানসামা, চিরিরবন্দর ও পার্বতীপুর) ছয় হাজার হেক্টর, বগুড়ায় ২৩ হাজার হেক্টর এবং রংপুর জেলার চারটি উপজেলায় (সদর, গংগাচড়া, তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ) ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে। তিস্তা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে বিভিন্ন খালের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সম্প্রতি সরজমিনে দেখা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার সয়রা বাড়ি ও বাকপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার খালের (এস আটটি) মাধ্যমে তিস্তা নদীর পানি এনে প্রায় ১৩০ একর জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে নদীতে ৮-৯ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছে, যা গত বছরের এ সময়ে ছিল মাত্র তিন হাজার কিউসেক। তিস্তা প্রকল্পের এমন সেচ ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট স্থানীয় কৃষকেরা।

গংগাচড়ার বড়বিল ইউনিয়নের কৃষক আব্দুস সালামের সঙ্গে আপলাপকালে বলেন, অন্য উৎস থেকে এক একর জমিতে সেচ দিতে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে তিস্তা প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে মাত্র ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় সেচ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি এক একর জমিতে ৮৫-৯০ মণ ফলনের আশা করছেন।
কৃষকদের মতে, তিস্তার পানিতে থাকা পলি মাটির উর্বরতা বাড়ায়।

আলমবিদিতর ইউনিয়নের পানি ব্যবস্থাপনা দলের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী বলেন, ‘তিস্তার পানিতে পলি থাকায় জমিতে একটি আস্তরণ তৈরি হয়, যা দীর্ঘক্ষণ পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত হওয়ায় রাসায়নিক সারের ব্যবহার অনেকাংশে কমে আসে। ফলে অন্য সেচ ব্যবস্থার তুলনায় এখানে বিঘা প্রতি ৩-৪ মণ ফলন বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

তবে সুফল থাকলেও কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বাকপুর পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মালেক জানান, ফেব্রুয়ারির আগে পানি না পাওয়ায় অনেককে বীজতলা তৈরির সময় বিকল্প উৎস ব্যবহার করতে হয়েছে। এছাড়া কাঁচা খালে ইঁদুরের গর্ত এবং উঁচু-নিচু জমিতে পানি পৌঁছানোর সমস্যা তো রয়েছেই।

এছাড়া নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় কিছু খালের সংস্কারকাজের জন্য সাময়িকভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জানুয়ারির শুরু থেকেই পানি সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ বিদ্যমান সমস্যা দূর করার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় কৃষকরা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. মিজানুর রহমান বাসস’কে বলেন, ‘তিস্তা সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে। চৈত্র মাসে আগাম বৃষ্টির কারণে এবার নদীতে পানি বেশি, জলবায়ু পরিবর্তনের সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা।’

সেচের সময় এগিয়ে আনার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ধান, তামাক, ভুট্টাসহ ভিন্ন ভিন্ন ফসলের কারণে সেচের সময় সমন্বয় করতে হয়। কৃষকরা যদি একই ধরনের ফসল আবাদ করেন, তবে এ সমস্যা নিরসন সম্ভব। বেশকিছু খালের সংস্কারকাজ চলায় এ বছর জমির পরিমাণ আর বাড়ানো সম্ভব হয়নি, তবে আগামী দুই মাস এ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২০, ২০২৬ ৯:০৩ পূর্বাহ্ন
সংরক্ষিত ধানের ক্ষতি কমাতে র্স্মাট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন
কৃষি বিভাগ

দেশে ফসল উত্তোলন-পরবর্তী ক্ষতি কমিয়ে কৃষিকে আরও টেকসই ও আধুনিক করার লক্ষ্যে একটি উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আউয়াল।

সংরক্ষিত ধানকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে তিনি এই স্মার্ট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘গ্রেইন গার্ড’।

এটি এমন একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাইস, যা শ্রাব্যতার অতীত উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির শব্দতরঙ্গ তৈরি করে। এই তরঙ্গ ধানের ক্ষতিকর পোকা ‘রাইস উইভিল’-এর স্নায়ুতন্ত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং তাদের চলাচল, খাদ্য গ্রহণ ও প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। ফলে পোকাগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে শস্য থেকে সরে যায়। এতে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই শস্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

প্রধান গবেষক ড. মো. আব্দুল আউয়াল জানান, ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট আল্ট্রাসনিক পেস্ট কন্ট্রোল সিস্টেম ফর পোস্ট-হারভেস্ট লস রিডাকশন ইন স্টোরড প্যাডি’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় পাঁচ বছর আগে ২০২০ সালে এর গবেষণা শুরু হয়। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার (বাউরিক)-এর অধীনে এজ (ইডিজিই) সাব-প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় দেড় বছর মেয়াদি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। তার নেতৃত্বে এবং সহযোগী গবেষক অধ্যাপক ড. এহসানুল কবিরের অংশগ্রহণে একটি গবেষক দল ‘গ্রেইন গার্ড’ যন্ত্রটির উন্নয়ন, নকশা, পরীক্ষামূলক বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ে যাচাই সম্পন্ন করেছে।

ড. মো. আব্দুল আউয়াল জানান, এই স্মার্ট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তি কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই সংরক্ষিত ধানকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম। ফলে এটি পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর একটি সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তিনি বাসসকে জানান, যন্ত্রটি কয়েকমাস আগেই সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে গেছে। এখন বাণিজ্যিকভাবে বিপণনের অপেক্ষায় আছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যন্ত্রটি বাণিজ্যিকভাবে বিপণনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে এসিআই মোটরস লিমিটেড উল্লেখযোগ্য।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বাসসকে আরো জানান, খুবই কম খরছে এই ডিভাইসটি বাজারজাত করা সম্ভব হবে। বাণিজ্যিকভাবে এটি তৈরি করা গেলে খুবই কম খরচে বাজারজাত করা যাবে। উৎপাদক প্রতিষ্ঠান তাদের লাভ্যাংশ যুক্ত করে বাজারে ছাড়ার পরও এর দাম কোনোভাবেই দুই হাজার টাকার বেশি হবে না। বরং এর অনেক কম হবে।

তবে বাজারজাতের ক্ষেত্রে বড় বাধা হচ্ছে নকল করে ডিভাইস তৈরি করা। প্রতারক চক্র নকল ডিভাইস তৈরি করে বাজারে বিক্রির মাধ্যমে মানুষকে প্রতরাণার ফাঁদে ফেলে দেয়। প্রতিকার হিসেবে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে পেটেন্ট রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন বলেও জানিয়েছেন। আইপি আবেদনও সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন ড. মো. আব্দুল আউয়াল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্মার্ট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়ন হলে দেশে সংরক্ষিত ধানের ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং কৃষিখাতে টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ধানের সংরক্ষণকালীন সময়ে মোট ধানের প্রায় ৭ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হয়। এর প্রধান কারণ পোকামাকড়ের আক্রমণ। দেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া পোকা ও ছত্রাকের বিস্তারের জন্য অনুকূল হওয়ায় এই ক্ষতি আরও বেড়ে যায়।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যদি দেশের মোট ধান উৎপাদনের মাত্র ৫ শতাংশ ক্ষতিও রোধ করা যায়, তাহলে বছরে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকার সাশ্রয় সম্ভব। পাশাপাশি ধানের বীজের অঙ্কুরোদগম হার অন্তত ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন বীজ সাশ্রয় হবে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২৬ ৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
স্ট্রবেরি চাষে মামুনের সফলতায় উদ্বুদ্ধ টাঙ্গাইলের তরুণরা
কৃষি বিভাগ

আমেরিকান ফেসটিভ্যাল জাতের সুস্বাদু ফল স্ট্রবেরি চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন (২২)।

চলতি মৌসুমে খরচ বাদে ১০ লাখ টাকা লাভের প্রত্যাশা করছেন তিনি। মামুনের এ সফলতা দেখে এলাকায় অনেক যুবক স্ট্রবেরি চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বাজারে স্ট্রবেরি ফলের চাহিদা, ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় প্রতিনিয়ত কৃষকের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে স্ট্রবেরি চাষ।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গন্ধ, বর্ণ ও স্বাদে আকর্ষণীয় স্ট্রবেরি ফলের রস, জ্যাম, আইসক্রিম, মিল্কশেকসহ শিল্পজাত খাদ্য তৈরিতে স্ট্রবেরির সুগন্ধ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। স্ট্রবেরি শীত প্রধান দেশের ফল হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের যে-সব এলাকায় শীত বেশি, সে সব এলাকায় বিভিন্ন জাতের স্ট্রবেরি চাষ হচ্ছে। স্ট্রবেরি বিদেশি শীতকালীন ফল উত্তরের বিভিন্ন জেলায় আগে থেকেই চাষ হয়। তবে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এই প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরির চাষ শুরু হয়েছে। মামুনের সাফল্যের ফলে স্থানীয় যুবকদের মধ্যে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হচ্ছে।

সরেজমিনে মামুনের স্ট্রবেরি বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তৃত এলাকা জুড়ে টসটসে রসালো স্ট্রবেরি ঝুলে আছে। সারিবদ্ধ লাইনে স্ট্রবেরি গাছ। প্রতিটি গাছে শোভা পাচ্ছে টসটসে লাল পাকা স্ট্রবেরি। বিক্রির জন্য স্ট্রবেরি তুলছেন মামুন। মামুনের পরিবারের লোকজন স্ট্রবেরি বাজারজাতের জন্য প্যাকেজিং-এর কাজ করছেন। ওই এলাকায় নতুন এই ফলের আবাদ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয়রা। বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরির বাগান করতে আগ্রহী হচ্ছেন অনেক কৃষক।

মামুন বাসসকে বলেন, নিজস্ব চেষ্টায় তার বাড়ির পাশে ২০২২ সালে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে ১০০টি চারা দিয়ে শুরু করেন স্ট্রবেরির বাগান। ভালো ফলন পাওয়ায় পরের বছর শুরু করেন স্ট্রবেরির বাণিজ্যিক চাষ। বর্তমানে তিনি ২ বিঘা জমিতে ১০ হাজার স্ট্রবেরির চারা লাগিয়েছেন। প্রতিটি গাছ থেকে প্রায় আধা কেজি ফল পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি কেজি পাইকারি ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ বছর ফল ও চারা বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত স্ট্রবেরির চারা রোপণ করা যায়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল আসতে শুরু করে। জানুয়ারির মধ্যভাগ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফল আহরণ ও বিক্রি করা যায়। কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেলে ব্যাপকভাবে স্ট্রবেরি চাষ করে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব। তাই আগামীতে আরও বড় পরিসরে বাগান করার পরিকল্পনা আছে।

মামুন আরো বলেন, শুরুর দিকে পরিবারের সদস্যরা স্ট্রবেরি চাষের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে আগ্রহ দেখাননি কিন্তু এখন সবাই উৎসাহ দিচ্ছে। প্রতিটি গাছে লাল টকটকে ফল দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় যুবক ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

বাগান পরিদর্শনে আসা কলেজ ছাত্রী সুমি আক্তার জানান, বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে জানতে পেরে আমি স্ট্রবেরি বাগান দেখতে এসেছি। এখান থেকে চারা সংগ্রহ করে নিজের ছাদে রোপণ করবো। স্ট্রবেরি বাজারে দামি হওয়ায় উৎপাদন করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আত্মীয় স্বজনদের দিতে চাই।

স্থানীয় যুবক রুবেল মিয়া বলেন, মামুন ভাইয়ের স্ট্রবেরির বাগান দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। এ বছর স্ট্রবেরির ফলন ভালো হয়েছে। দেখতে টকটকে লাল, খেতেও সুস্বাদু এবং এ ফল দারুণ উপকারী। ভবিষ্যতে আমিও একটা বাগান করার চিন্তা করছি। সেই লক্ষ্যে এই বাগান পরিদর্শনে এসেছি।

ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বাসসকে জানান, স্ট্রবেরি উচ্চ পুষ্টি সমৃদ্ধ একটি বিদেশি ফল। স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় এটি সারা বিশ্বে সমাদৃত। সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং মাসের শেষ ভাগ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা যায়।

তিনি বলেন, মামুন নামের একজন তরুণ কৃষক ঘাটাইলে স্ট্রবেরি চাষ করে সফল হয়েছেন। স্ট্রবেরি চাষ করে তিনি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছেন। সে চাইলে কৃষি বিভাগ থেকে তাকে সহযোগিতা করা হবে। এছাড়া ঘাটাইলে কোনো কৃষক স্ট্রবেরির বাণিজ্যিক চাষাবাদে আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগ তাদেরও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৫, ২০২৬ ৯:১৯ পূর্বাহ্ন
দিনাজপুরে আমের বাম্পার ফলনে পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষীরা
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুর জেলায় আম বাগানে সবুজ পাতার ফাঁকে আমের গুটি দৃশ্যমান হচ্ছে।  জেলার সর্বত্র আম বাগানে মুকুল ও গুটির মৌ মৌ গন্ধ মুখরিত। আমের বাম্পার ফলন অর্জনের লক্ষে চাষীরা গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।

দিনাজপুর হটিকালচার বিভাগের উপপরিচালক মো. এজামুল হক বাসস’কে বলেছেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১০ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারের জেলায় বাম্পার আমের ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন নতুন প্রজাতির আমের চারা সৃজন করে চাষীরা ফলন পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ পেতে শুরু করেছে। আমের চারা রোপণের এক বছরের মধ্যে ওই চারা গাছে আম ধরতে শুরু করেছে। ৫ বছর বয়সের চারা গাছে যে পরিমাণ আম ঝুলে রয়েছে, চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। ফল নিয়ে গবেষণায় দেশের কৃষি বিশেষজ্ঞরা উন্নত ফলনশীল আমের প্রজাতি সৃষ্টি করেছে। দিনাজপুরে এসব নতুন প্রজাতির আম গাছে গত কয়েক বছর থেকে বিপুল পরিমাণ আমের ফলন হচ্ছে। নতুন প্রজাতির আম খেতে খুবই সুস্বাদু ও মিষ্টি। ফলে এসব আমের চাহিদা দিনাজপুরসহ সারা দেশেই ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

তিনি বলেন, গত বছর দিনাজপুর জেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল। ফলন হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ মেট্রিক টন। এই জেলার বাড়ির চারপাশে এবং পরিত্যক্ত জায়গাতে আমের গাছ গুলোতে ব্যাপকহারে আমের ফলন হচ্ছে। সব মিলিয়ে জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত, দিনাজপুর জেলায় আমের বাগান ও সর্বত্রই মুখরিতে থাকে পাকা আমের সরবরাহে।

চলতি বছর জেলায় গত বছরের তুলনায় ৮৭৫ হেক্টর জমিতে আমের চাষ বেশি হয়ে মোট ১০ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন প্রজাতির আম কাটিমন, ব্যানানা ম্যাংগো, বারি-১,বারি ২,বারি-৩ ও বারি-৪, ব্যাপকহারে চাষ করা হয়েছে। এসব প্রজাতির আমের বাগানে মৌসুমের শুরুতেই ব্যাপকহারে মুকুল ছেয়ে গেছে। অনেক গাছে আমের গুটি এসে গেছে। এখন চাষীরা তাদের আম গাছের ফল ধরে রাখতে পরিচর্যাসহ বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনের স্প্রে করছেন। এছাড়া দেশি জাতের আম রুপালি, হাড়িভাঙ্গা, ছাতাপরা, গোপালভোগ, মিশ্রিভোগ, ফজলিসহ বিভিন্ন ধরনের আমের চাষ এই জেলাতে ব্যাপকহারে চাষ হয়েছে।

তিনি জানান জেলা ১৩টি উপজেলাতেই এখন আম চাষের রমরমা অবস্থা। আমের ফলন যেমন ভালো হয়, তেমনি বাজারে চাহিদাও রয়েছে। এই জেলার আম দেশের সমগ্র এলাকাতেই মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাইকাররা নিয়ে যায়। এখানের আম বাগান গুলো থেকে রাজধানী ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলার আম ব্যবসায়ীরা বাগান গুলো ২ থেকে ৩ বছর ধরে ফল ক্রয় করে নিচ্ছে। এখন বাগান ক্রয় করা পাইকাররা মৌসুমের শুরু থেকে আম বাগানে পানি সেচসহ ভিটামিন ওষুধ প্রয়োগ ও আম গাছে ফল ধরে রাখতে স্প্রে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে।

মুন্সীগঞ্জ থেকে দিনাজপুর সদরে কর্ণাই গ্রামে আম বাগানের ফল ক্রয় করে নিয়েছে পাইকার রহমত আলী ও শরিফুল ইসলাম। তাদের দু’জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর ৩ বছর মেয়াদি তারা দু’জন মিলে ৫টি আম বাগানের ফল আগাম ক্রয় করে নিয়েছে। তারা ৫টি আম বাগান ৩ বছর মেয়াদি ১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে ফল ক্রয় করেছে। গত বছর ওই ৫টি বাগানে তাদের খরচ বাদে ১০ লক্ষ টাকা মুনাফা অর্জিত হয়েছে। আগামী দু’বছর তারা যে টাকা দিয়ে বাগান ক্রয় করেছে। তার দ্বিগুণ ৩০ লক্ষ টাকার আম বিক্রি করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বাগানের পরিচর্যা শুরু করেছেন।

একইভাবে জেলার বিরল, সদর বোচাগঞ্জ, কাহারোল, বীরগঞ্জ, পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর, ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ এলাকার প্রায় দু’হাজার আম-বাগান বিভিন্ন জেলার পাইকাররা আগাম দু’তিন বছরের জন্য ফল ক্রয় করে নিয়েছেন। এখন এসব পাইকাররা তাদের ক্রয় করে নেয়া আম বাগান গুলোতে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তারা সকলেই ভাল ফলনের জন্য সব ধরনের ভিটামিন ও স্প্রে প্রয়োগ করে বাগানের সফলতা অর্জনে সক্ষম হবে বলে আশা করছেন।

জেলার ১৩টি উপজেলার বিভিন্ন আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে, ফাল্গুনের শুরুতেই পরিবর্তন শুরু হয়েছে প্রকৃতির এবং চৈত্র মাসে গাছে আমের গুটি দৃশ্যমান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গাছের পুরোনো পাতা ঝরে বের হচ্ছে নতুন পাতা। আর সেই পাতার ফাঁকে বেরিয়ে আসছে আম, লিচু, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলের মুকুল।

জেলার হাকিমপুর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমার বাড়িতে একটা ফজলি ও একটি ন্যাংড়া জাতের আম গাছ আছে। গাছ দু’টির বয়স প্রায় ১২/১৩ বছর হবে। প্রতি বছর পর্যাপ্ত পরিমাণ আম ধরে। এবারও গাছ দু’টিতে প্রচুর মুকুল এসেছে। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তাহলে অনেক আমের ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের আম চাষী মো. জিয়াব উদ্দিন বলেন, ‘আমার ৫ একর জমির ওপর ৩টি আম বাগান রয়েছে। বাগানে ফজলি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, নাগ ফজলিসহ কয়েক জাতের আমের গাছ রয়েছে। বাগানের বয়স প্রায় ১৫/১৬ বছর, প্রতিটি গাছ কলম করা। তাই ছোট থেকেই আম ধরেছে। আশা করছি আবহাওয়া ভালো থাকলে এবারও আমের ভালো ফলন পাব।’

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোছা. আরজেনা বেগম জানান, চলতি বছর আমের মৌসুমে এবার এই উপজেলায় ৩২৭ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। বাগানের সংখ্যা ২৪৮টি। এছাড়াও উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িসহ বিভিন্নস্থানে আমের গাছ রয়েছে। প্রায় গাছে আমের মুকুল এসেছে। আমরা বাগান চাষীসহ বসত-বাড়িতে থাকা আম গাছ মালিকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। এছাড়াও গাছের যত্ন নেয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করেছি।

দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘জেলায় চলতি আমের মৌসুমে ১০ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। আম চাষীদের যাতে আমের ভাল ফলন হয়, সেই জন্য কৃষি অধিদপ্তর থেকে তাদের বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আম চাষীরা ভালো ফলন পাবেন।

তিনি বলেন, গত বছর দিনাজপুর থেকে দেশের বাইরে বিদেশে বেশ কয়েকটি দেশে এই জেলার আম প্যাকেটিং পদ্ধতিতে রপ্তানি করা হয়েছে। এখনকার আম রপ্তানিতে বেশ ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। আশা করছি চলতি বছরেও এই জেলার আম বিদেশে রপ্তানি করার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১, ২০২৬ ৩:৩২ অপরাহ্ন
নরসিংদীর চরাঞ্চলে বাড়ছে বাদাম চাষ
কৃষি বিভাগ

স্বল্প খরচ ও কম পরিশ্রমে অধিক ফলন এবং ভালো বাজারদরের কারণে দিন দিন বাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন নরসিংদীর চরাঞ্চলের কৃষক। এখানে উৎপাদিত বাদামের গুণমান ভালো হওয়ায় দেশব্যাপী এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হচ্ছে। আবাদের পরিধি আরও বাড়াতে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের বীজ সহায়তা, প্রণোদনা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের বাদাম চাষে সহযোগিতা ও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেঘনা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বাড়ছে বাদাম চাষ। বাদামের দাম আগের তুলনায় অনেকটা বেশি হওয়ায় প্রতি বছর চরাঞ্চলে এ ফসলের চাষ বাড়ছে। এখানে উৎপাদিত বাদামের মান ভালো হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে চাহিদা।

চলতি মৌসুমে নরসিংদীর রায়পুরার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের চাঁনপুর, মাঝের চর, মৌহিনিপুর, সদাগর, কান্দির চরে ও সদর উপজেলার চরদিঘলদী, আলোকবালী এবং বেলাবো উপজেলার চর বেলাবোতে বাদামের চাষ বেশি হয়েছে।

কৃষকরা জানান, তুলনামূলক লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে বাদামের আবাদ। বাদাম চাষে সার প্রয়োজন হয় না। বিষও লাগে না। ফলন ভালো পাওয়া যায়। আবার জমিতে বাদামের আবাদ শেষে সেখানে অন্যান্য চাষ করা যায়। এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখান থেকে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করা সম্ভব।

রায়পুরা উপজেলার মাঝের চর গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন,  ‘এ বছর প্রায় ১০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি দুই লাখ টাকা খরচ পড়েছে। আল্লাহ যদি দেন, ফসল ঠিকমতো উঠাতে পারি, পানি যদি মাইর না দেয়, ৫ লাখ টাকার বিক্রয় আসবে বলে আশা করছি।’

এদিকে, বাদাম রোদে শুকানো থেকে শুরু করে বাছাই করা পর্যন্ত নানা প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে স্থানীয় নারী ও পুরুষদের কর্মসংস্থান।

বাদাম চাষের পরিধি বৃদ্ধি, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণসহ নানা বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সালাউদ্দিন টিপু বলেন, ‘যে মাটিতে অন্য কোনো ফলন হয় না সেখানে বাদাম চাষ করা হচ্ছে। ফলে আমরা পতিত জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসতে পারছি। আমাদের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষক লাভবান হচ্ছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি জানান, জেলায় এ বছর ২৯০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৩১০ হেক্টর।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৬, ২০২৬ ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
চায়ের সাথী ফসল হিসেবে আম, বাড়ছে আয়
কৃষি বিভাগ

পঞ্চগড় সদর উপজেলার দেওয়ানহাট এলাকার মহানপাড়া গ্রামে চায়ের সাথী ফসল হিসেবে আম চাষ করে বাড়তি আয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বসিরুল আলম প্রধান। চা বাগানের ফাঁকা জমি কাজে লাগিয়ে সেখানে বিভিন্ন জাতের আম গাছ লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন সমন্বিত কৃষির একটি লাভজনক মডেল।

স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘আলম চেয়ারম্যান’ নামেই পরিচিত। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই হলেও কৃষিকাজে এখনো সমানভাবে সক্রিয় তিনি। বাড়ির পাশের এক সময়ের পড়ে থাকা উঁচু ২২ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন চা বাগান। চা চাষে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ক্ষুদ্র চা চাষী হিসেবে ২০২৪ সালে জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।

চা বাগানের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে সেখানে সাথি ফসল হিসেবে বিভিন্ন জাতের আম গাছ রোপণ করেন বসিরুল আলম প্রধান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার ‘ব্যানানা ম্যাংগো’ গাছ। এছাড়া ৫০টি আম্রপালিসহ আরও শতাধিক বিদেশি জাতের আমের গাছ রয়েছে।

চলতি মৌসুমে তার বাগানের আম গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। মুকুল আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে পরিচর্যার কাজ। শ্রমিকরা দিনভর বাগানে কাজ করে গাছগুলোর যত্ন নিচ্ছেন। পরিকল্পিতভাবে সাজানো এই বাগান এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছেও অনুপ্রেরণার জায়গা হয়ে উঠেছে।

বাসস’র সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন,আম উৎপাদনেও  ভালো সাফল্য পেয়েছেন। ২০২৪ সালে তার বাগান থেকে আম বিক্রি করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় হয়। পরের বছর ২০২৫ সালে আম বিক্রি করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় করেন। চলতি বছর আরও বেশি ফলনের আশা করছেন তিনি।

চা উৎপাদনেও রয়েছে ধারাবাহিক উন্নতি। ২০২৪ সালে তার বাগানে চা উৎপাদন হয়েছিল এক লাখ ৬৭ হাজার ৬৭১ কেজি। ২০২৫ সালে সেই উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ পাঁচ হাজার ৪৮৯ কেজিতে। চলতি মৌসুমে সবুজ চা পাতা তোলা শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি চা পাতা ৩৬ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি, যা তার আয়ের অন্যতম উৎস।

বসিরুল আলম প্রধান বলেন, কৃষিকে আমি শুধু পেশা হিসেবে নয়, ভালোবাসা থেকে করি। শুরুতে চা বাগানে শেড ট্রি হিসেবে আম গাছ লাগাই। ভালো ফলন পাওয়ায় ধীরে ধীরে বাগানের ফাঁকা জায়গাগুলোতে বিভিন্ন জাতের আম গাছ রোপণ করি। এখন চায়ের পাশাপাশি আম থেকেও ভালো আয় হচ্ছে। অনেকেই আমার বাগান দেখতে আসেন এবং উৎসাহ পান। আমি চাই তরুণ কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিতে এগিয়ে আসুক।

ব্র্যাক নার্সারির ম্যানেজার আশিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, চা বাগানের সঙ্গে আম চাষের এই সমন্বিত পদ্ধতি কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। আলম সাহেব উদ্ভাবনী চিন্তার একজন কৃষক। আমরা নিয়মিত তাকে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড়ের উপপরিচালক আব্দুল মতিন বাসস’কে বলেছেন, চা বাগানের মাঝখানে সাধারণত ফাঁকা জায়গা রাখা হয়। অনেক চাষী সেখানে শেড ট্রি হিসেবে বিভিন্ন গাছ লাগান। সেখানে যদি আম বা অন্য ফলজ গাছ লাগানো যায়, তাহলে সেখান থেকে বাড়তি আয় পাওয়া সম্ভব। সবুজ চা পাতার দাম কমে গেলেও ফলের আয় দিয়ে সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা যায়।

তিনি আরও বলেন, বসিরুল আলম প্রধানের সমন্বিত চা ও আম বাগানটি আমরা পরিদর্শন করেছি। তিনি খুব যত্ন সহকারে বাগানটি পরিচালনা করছেন। সঠিক পরিচর্যা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এখান থেকে আরও ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১২, ২০২৬ ৯:৪১ পূর্বাহ্ন
রক্তদহ বিল পুনঃখননে বছরে ১৭০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব
কৃষি বিভাগ

নওগাঁর ঐতিহাসিক রক্তদহ বিল পুনঃখনন করা হলে বছরে প্রায় ১৭০ কোটি টাকার অতিরিক্ত কৃষি উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষকরা।

নওগাঁর রানীনগর ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার মাঝামাঝি এলাকায় রক্তদহ বিলের অবস্থান। প্রায় ২২০ হেক্টর আয়তনের এ বিলটি ২২টি প্রবেশ খালের সঙ্গে যুক্ত। এসব খালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার। আর বিলের নিষ্কাশন খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ কিলোমিটার।

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে আশপাশের প্রায় সড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে বছরে মাত্র একটি ফসল চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ২৩টি গ্রামের প্রায় ৭ হাজার কৃষক পরিবারের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ নিয়মিত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-এর কর্মকর্তারা জানান, বিল ও সংযুক্ত খালগুলো পুনঃখনন করা হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। তখন কৃষকেরা বছরে আইআরআরআই-বোরো ও রোপা আমন—এই দুই ধরনের ধান চাষ করতে পারবেন। এতে বছরে প্রায় ১৭০ কোটি টাকার অতিরিক্ত কৃষি উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঐতিহাসিকভাবে রক্তদহ বিল এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ফসল উৎপাদন কমে গেছে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রজাতির মাছও এখন পাওয়া যাচ্ছে না।

সিম্বা গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন ফকির, মোস্তাক হোসেন ও জয়েদ ফকির এবং খাগড়া গ্রামের আবদুল হোসেন বাসসকে জানান, বিল এলাকায় তাদের জমি রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে তারা প্রতিবছরই ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তারা আরও জানান, বিল খনন করা হলে বছরে অন্তত দুটি ফসল চাষ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মাছের উৎপাদনও বাড়বে। এতে আশপাশের গ্রামের কৃষক ও জেলেদের জীবিকা উন্নত হবে।

নওগাঁয় বিএমডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম বাসসকে জানান, রক্তদহ বিল ও এর আশপাশের খালগুলো পুনঃখনন হলে প্রতি হেক্টরে প্রায় ১২ মেট্রিক টন হিসেবে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৫৪ হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭০ কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, খননকৃত মাটি ব্যবহার করে বিল ও খালের পাড় ঘেঁষে ১০ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি ভাঙন রোধে রিটেইনিং ওয়াল, কংক্রিট ব্লক ও প্যালিসেডিং নির্মাণ করা সম্ভব। এতে দুর্গম এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হবে।

এ ছাড়া গ্রামীণ সড়ক ও খালের পাড়ে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগালে পাখির জন্য নিরাপদ আবাস তৈরি হবে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশও উন্নত হবে।

রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বাসসকে জানান, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে রক্তদহ বিল পর্যটন এলাকা ও বার্ড ভিলেজ গড়ে তোলা হয়েছে। বিলের নিষ্কাশন খাল রতনদাড়াতে মাছের অভয়ারণ্য তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পর্যটন সুবিধা আরও উন্নত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর বেশিরভাগ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

কর্মকর্তারা জানান, বিলের সংরক্ষিত পানি সেচের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং পানির স্তর পুনরুদ্ধারেও সহায়তা করবে।

প্রাকৃতিক এ সম্পদের যথাযথ ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে রক্তদহ বিল পুনঃখননের প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop