৩:৩৩ পূর্বাহ্ন

শনিবার, ১৪ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ২৯, ২০২২ ১২:৩০ অপরাহ্ন
এক জমিতেই ১১ ফসল
কৃষি বিভাগ

একই জমিতে ১১ প্রকারের ফসল চাষ করে এলাকাজুড়ে চমক সৃষ্টি করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বারঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা কৃষক আমিরুল ইসলাম।

জানা যায়, বছর দু’য়েক আগে নিজ জমিতে মাল্টার গাছ লাগিয়েছেন আমিরুল ইসলাম। গাছগুলোর ফাঁকা অংশগুলোতে গম, লাউ, আলু, মরিচ, পেয়াজ ও শিমসহ ১১ প্রকারের ফসল চাষ করে লাভবান হয়েছেন তিনি। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে৷

আমিরুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসের আওতায় তিনি দুই বছর আগে তিন বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান করেন।

বাগানে ফাঁকা জায়গা গুলোতে গম, আলু, শিম, লাউ, পেয়াজ মরিচসহ ১১টি ফসল আবাদ করেন। একসাথে ১১টি ফসল পেয়ে অনেকটা লাভবান হয়েছেন বলে জানান তিনি।

রাণীশংকৈল উপজেলার কৃষি অফিসার সঞ্জয় দেবনাথ জানান, লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ ও ব্যবস্থাপনার আওতাধীন আমরা কৃষক আমিরুল ইসলাম মাল্টা বাগান করার জন্য ১২০টি চারা দিয়েছিলাম। আর একই জমিতে কিভাবে ১১টি ফসল পাওয়া যায় সে বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২৯, ২০২২ ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
টিউলিপ ফুলে নতুন সম্ভাবনা
কৃষি বিভাগ

হিমালয় কন্যা খ্যাত পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় চাষ হচ্ছে শীতপ্রধান দেশের ফুল টিউলিপ এর। হাজারো ফুলে ছেয়ে আছে বাগান। খুলে দিয়েছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। চাষীরা বলছেন, টিউলিপ ফুলের চাষ করে ভালো লাভের প্রত্যাশা করছেন তারা। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও জানালেন, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে এই ফুল চাষের। 

শীত প্রধান দেশের বসন্তকালীন ফুল হিসেবে পরিচিত টিউলিপ এবার ফুটেছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেতুঁলিয়ায়। পরীক্ষামূলকভাবে ভিনদেশি এই ফুল চাষ করছেন জেলার ৮জন ক্ষুদ্র চাষি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৪০ শতক জমিতে ৬ প্রজাতির ৪০ হাজার টিউলিপের বীজ বপন করা হয়। বর্তমানে ফুল ফোটা শুরু হয়েছে। বেগুণী রঙ সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে বাগানজুড়ে । চাষীরা বলছেন, এই ফুল চাষে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অনেক।

টিউলিপের এই বিশাল বাগান দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। ভিনদেশি এই ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ তারা।

পল্লি কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় চাষিদের মাধ্যমে এই টিউলিপ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোস্যাল ডেভলেপমেন্ট অর্গানাইজেশন। সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানালেন, ফুলের বাজারজাতকরণেও তারা সহযোগিতা করবেন।

তেতুলিয়ায় টিউলিপ চাষের বেশ সম্ভাবনা দেখছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। তিনি বললেন, এই ফুলের বাণিজ্যিক সম্ভবনা নিয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন।

তিনি জানালেন, টিউলিপ চাষে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২৮, ২০২২ ৪:৫৮ অপরাহ্ন
বান্দরবানের পাহাড়ে চাষ হচ্ছে কফি
কৃষি বিভাগ

পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে চাষ হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয় কফি। পাহাড়ের আবহাওয়া আর মাটি কফি চাষের উপযোগী হওয়ায় এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে ঝুঁকছেন কফি চাষে, পাচ্ছেন সফলতাও।

চা এর পরপরই কফির চাহিদা। সেই কফি চাষ হচ্ছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে। জেলার সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের চিম্বুক ওয়াইজংশন পাহাড়ে মেনয়াং ম্রো নামে এক স্কুলশিক্ষক চাষ করছেন অ্যারাবিকা ও রোবাস্টা জাতের কফি, এতে তিনি পাচ্ছেন সফলতাও।

কফি চাষি মেনয়াং ম্রো জানান, সঠিকভাবে কফি চাষ করতে পারলে ভালো ফলন হয় আর বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায়।

তিনি বলেন, শুরুতে আমি এক হাজার ২০০ গাছ লাগালেও এখন তিন একর জমিতে প্রায় তিন হাজার কফির গাছ রোপণ করেছি। শুস্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি পেলে এ কফির চারার সঠিক যত্ন নেওয়া যায় আর এতে ফলন ভালো হয়, দাম পাওয়া যায় বেশি।

কফি চাষি মেনয়াং ম্রো  বলেন, বান্দরবানের চাহিদা ও দেশের চাহিদা মিটিয়ে এ কফি এক সময় দেশের বাইরেও রপ্তানি হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

মেনয়াং ম্রোর সাফল্যের সংবাদে এলাকার অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কফি চাষে। এরই মধ্যে জেলার চিম্বুক পাহাড়, লাইমি পাড়া, ফারুক পাড়া, কুহালং, রোয়াংছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়িসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে কফি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকেই। চিম্বুক পাহাড়ে এখন কফি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে জাল বুনে চলেছেন বাগান চাষি ঙুই ইন ম্রো, ইয়াঙ সম ম্রো, রুম ক্লাম ম্রো, মেন রুম ম্রো, রেন নক ম্রোসহ অনেক চাষি।

চিম্বুকের কফি চাষি রুম ক্লাম ম্রো বলেন, মেনয়াং ম্রো যখন কফির চারা লাগালেন, তখন আমরা তাকে নিষেধ করেছি লাগাতে, পরে যখন দেখি, তার বাগানে ভালো ফলন হয়েছে, তখনই তার দেখাদেখি আমরা বেশ কয়েকজন কফির চারা লাগালাম।

রুম ক্লাম ম্রো আরো বলেন, বান্দরবারের পাহাড়ের মাটি আর আবহাওয়া কফি চাষ করার জন্য উপযুক্ত আর যদি আমরা সঠিক পরিচর্যা করতে পারি, তবে প্রচুর কফি উৎপাদন হবে। আর এর ভালো দাম পাওয়া সম্ভব হবে।

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ২০১০ সাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয় কফি চাষ, আর তাতে দিনে দিনে সফলতা আসায় একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে কৃষি কর্মকর্তারা।

বান্দরবান সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক জানান, বান্দরবানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কফি চাষ বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের চারা, সার ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শুকানোর পর প্রতি কেজি কফি ৩২০-৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় আর এতে কৃষকরা ভালোই লাভবান হন।

তিনি আরও জানান, ঢাকার কফি ক্রয়-বিক্রয় প্রতিষ্ঠান নর্থএন্ড কোম্পানি বান্দরবানের এ কফি সংগ্রহ করে। ফলে দুর্গম পাহাড়ে চাষিদের উৎপাদিত কফি বিক্রিতে তেমন কোনো সমস্যাই হয় না।

বান্দরবান সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক আরও জানান, বান্দরবানের আবহাওয়া জলবায়ু মাটি ভালো হওয়ায় এখানকার বেশিরভাগ জায়গাই কফি চাষের উপযোগী। আর কৃষকদের আগ্রহ দেখে কৃষি বিভাগও তাদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গেল বছর বান্দরবানে ১৩৮ হেক্টর জমিতে কফির আবাদ হয়েছিল আর উৎপাদন হয়েছিল ২৬ মেট্রিক টন। আর এ বছর ১৪৫ হেক্টর জমিতে আবাদের বিপরীতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮ মেট্রিক টন। জেলায় কফি চাষের সঙ্গে জড়িত আছেন প্রায় ছয়শ’ চাষি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২৮, ২০২২ ৪:১৩ অপরাহ্ন
মোরেলগঞ্জে ফসলি জমিতে লবণাক্ত পানি, উৎপাদন হ্রাস
কৃষি বিভাগ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জমিতে খালের পানি ঢুকে লবণাক্ততার কারণে দুই ইউনিয়নের ৪০০ একর জমির ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। নিরুৎসাহিত হচ্ছে চাষাবাদ থেকে।

সরেজমিনে জানা গেছে, প্রমত্তা পানগুছি নদীর সংযোগ বহরবুনিয়ার সূর্যমুখী খালের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দ খালের ত্রি-মোহনা থেকে লবণাক্ত পানি ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে। এ লবণাক্ততার কারণে বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ৩০০ একর ও বারইখালী ইউনিয়নের ১০০ একর জমির ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন ব্যাপকহারে হ্রাস পেয়েছে।

এ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাহাদুর খান জানান, খালের ভাঙনের ফলে জমিতে পানি ঢুকে লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে ফসলের উৎপাদন অনেক কমে গেছে। ইতোপূর্বে যে জমিতে ২০ মণ ধান উৎপাদিত হতো সে জমিতে পাঁচ-আট মণ ধান উৎপাদিত হচ্ছে। অনেক জমিতে ধানই হয়নি।

অপরদিকে ত্রি-মোহনার খালে ভাঙনে দুই পাড়ের কমপক্ষে ১০টি বাড়ি বিলীন হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ জানান, ত্রি-মোহনার আনন্দ খাল ভেঙে বহরবুনিয়ার ৩০০ একর ও বারইখালী ইউনিয়নের ১০০ একর ফসলি জমির ক্ষতি হচ্ছে।

ইউপি চেয়ারম্যান রিপন হোসেন তালুকদার জানান, লবণাক্ততা ঠেকাতে এলাকাবাসীর সহায়তার খালে বাঁধ দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তবে এ খালে স্থায়ীভাবে কালভার্ট কাম স্লুইস গেট নির্মাণ করা একান্ত জরুরি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কৃষ্ণেন্দু বিকাশ সরকার বলেন, স্লুইস গেট নির্মাণের মাধ্যমে এ সমস্যার নিরসন হতে পারে। তবে এটা একটা দাপ্তরিক প্রক্রিয়া।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২৮, ২০২২ ৩:৪২ অপরাহ্ন
ব্রিতে “আধুনিক ধান উৎপাদন প্রযুক্তি” বিষয়ক প্রশিক্ষণ উদ্বোধন
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) “আধুনিক ধান উৎপাদন প্রযুক্তি” বিষয়ে দুই মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে ব্রির মহাপরিচালক ড. মো: শাহজাহান কবীর প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন।গাজীপুরে ব্রি সদর দপ্তরের প্রশিক্ষণ ভবনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রশিক্ষণ বিভাগ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রশিক্ষণ বিভাগের মুখ্যবৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (চ.দা.) ও প্রধান ড. মো:শাহাদাত হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ব্রির পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. মো: আবু বকর ছিদ্দিক। অনুষ্ঠানে ব্রির সকল বিভাগীয় প্রধানগণ এবং ব্রি বিজ্ঞানী সমিতির সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে ড. মো: শাহজাহান কবীর বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব কৃষিবিজ্ঞানীদের হাতধরেই বাস্তবায়ন হবে।আপনাদের হাত ধরেই দেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। সুতরাং এই প্রশিক্ষণটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক ধান উৎপাদন প্রযুক্তিসম্পর্কে নতুন অনেক জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি।এই অর্জন ধরে রাখা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান দিয়ে আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আরও সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

অনুষ্ঠানে ব্রির মহাপরিচালক দেশও জাতির কল্যাণে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহবান জানান।এ সময় তিনি প্রশিক্ষণে যারা ভাল ফলাফল করবেন তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং ডিজি (মহাপরিচালক) এ্যাওয়ার্ড দেয়ার ও ঘোষণা দেন।

প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন ব্রির নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত বিজ্ঞানীসহ মোট ৩৪ জন বিজ্ঞানীর প্রশিক্ষণ চলবে ২৭ জানুয়ারি থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২৮, ২০২২ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিবচরে শঙ্কা কাটিয়ে ভালো ফলনের আশা সরিষা চাষির
কৃষি বিভাগ

মাদারীপুর শিবচরে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায় হলুদ আর হলুদ। সরিষা ফুলের হলুদ রঙের আভায় ছেয়ে গেছে গোটা ফসলের মাঠ। শিবচর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সরিষার ব্যাপক চাষ হয়েছে।

তবে চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ জাওয়াদের প্রভাবে কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছেন সরিষা চাষিরা। তবে যথাসময়ে সরিষা ঘরে তুলতে পারলে ও ভালো দাম পেলে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করছেন শিবচর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

শিবচর উপজেলার সন্যাসীচর, কাদরিপুর, চরজানাজাতইউনিয়নসহ বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে সরিষাখেত। দূর থেকে দেখলে মনে হবে বিশাল এক হলুদের চাদরে ঢেকে আছে ফসলের মাঠ।

সরিষাচাষি মিন্টু হাওলাদার বলেন, সরিষা চাষে শ্রম ও খরচ দুই-ই কম। তাই সরিষা চাষ করেছি। তবে এ বছর ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।

চাষি আলমগীর হোসেন বলেন, সরিষা এবার ভালোই হইছিল। মাঝে টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি মজে অনেক গাছ মরে গেছে। তাই এবার সরিষা কম উৎপাদন হবে।

তবে অনেক চাষিই আশা করছেন শেষ পর্যন্ত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

শিবচর উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ২শ ৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। গত বছর এ উপজেলায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। গত বছরের চেয়ে এবার ২শ ৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ বেশি হয়েছে। একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল ফলাতে কৃষিতে সকল ফসলের প্রণোদনার অংশ হিসেবে সরিষা ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুপম রায় বলেন, উপজেলার কৃষকদের মাঝে সরকারিভাবে সরিষা বীজ প্রদান করাসহ উপজেলা বিভিন্ন গ্রামে বা ক্ষেত পরিদর্শনসহ ভালো ফলন পেতে কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি। এ বছরে ৩ হাজার ২শ ৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। ফলে শিবচর উপজেলার তৈল জাতীয় শস্য উৎপাদনে নিবিড়তা বৃদ্ধি করতে সরিষা চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২৬, ২০২২ ৪:৫৯ অপরাহ্ন
কুমিল্লায় সবুজ খিরা গাছে ভরে গেছে কৃষকের ক্ষেত
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা জেলায় খিরা চাষের উপযোগী আবহাওয়া থাকায় এবার সবুজ খিরা গাছে ভরে গেছে কৃষকের ক্ষেত । খিরা চাষ করে বাম্পার ফলন ও আশাতীত ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। প্রতিমণ খিরা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে আটশ’ থেকে এক হাজার টাকায়। যা উৎপাদন খরচের চেয়ে তিন গুণ বেশি। অল্প সময়ে স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় প্রতিবছরই খিরা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন নতুন নতুন কৃষক।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় এ বছর প্রায় ৫শ’ হেক্টর জমিতে খিরা চাষাবাদ করা হচ্ছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়। উপজেলার মাঠে মাঠে কৃষকরা এখন খিরার জমিতে পরিচর্যায় ব্যস্ত। পরিবারে ছোট থেকে বড় সবাই অবিরাম খিরার জমিতে কেউ পরিচর্যায় ব্যস্ত, কেউবা খিরা তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

দাউদকান্দি উপজেলার গঙ্গাপ্রসেদ, বাহেরচর, হাসনাবাদ, গোলাপিরচর, চাঙ্গকান্দি, চরবাউইসা মাঠের পর মাঠ খিরার চাষাবাদ করা হয়েছে। সবুজ খিরা গাছে ভরে গেছে কৃষকের ক্ষেত। ইতোমধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে খিরা উঠতে শুরু করেছে। দামও বেশ ভালো। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে চাষিদের নিয়ে আসা খিরা ক্রয় করে ব্যাপারীরা ট্রাকযোগে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করে তারা লাভবান হচ্ছেন। আগাম শীতকালীন ফসল হিসেবে খিরা চাষাবাদ করে কয়েক হাজার কৃষক এখন সচ্ছল স্বাবলম্বী।

সরেজমিন উপজেলার বাহেরচর, হাসনাবাদ খিরার মাঠে গিয়ে কথা হয় খিরা চাষি জাবেদ মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, অন্য ফসলের চেয়ে খিরা চাষে অধিক লাভ হওয়ায় এ চাষাবাদের প্রতি তার ঝোঁক। একবিঘা জমিতে খিরার চাষ করতে তার ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাজারজাত করতে শ্রমিক খরচ আরও ৮ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে ২০ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে। তবে ক্ষুদ্র বর্গাচাষিরা প্রতিবিঘা জমি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় বর্গা নিয়ে আবাদ করায় তাদের খরচ আরও বেশি হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০ দিনে তিনি প্রায় ৫৫ হাজার টাকার খিরা বিক্রি করেছেন। ক্ষেত থেকে তোলা যাবে আরও প্রায় ৩৫-৪০ হাজার টাকার খিরা।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, খিরা চাষে দ্বিগুন লাভ। আমরা কৃষি অফিস থেকে খিরা চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার কারনে এ এলাকায় দিন দিন খিরা চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২৬, ২০২২ ৪:০৭ অপরাহ্ন
ব্রহ্মপুত্র চরে বাদামের বাম্পার ফলন
কৃষি বিভাগ

ব্রহ্মপুত্র কখনো কেড়ে নেয় ভিটামাটি। কখনো এর পানি ভাসিয়ে নিয়ে যায় ঘরবাড়ি, দেয় দুঃখ-কষ্ট, করে নিঃস্ব। আবার এর চর কখনো দেখায় সুখের স্বপ্ন, মুখে ফোটায় হাসি। এবারো তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। দুঃখ-কষ্টের পর এবার ব্রহ্মপুত্রের চর কৃষকদের দেখাচ্ছে সুখের স্বপ্ন। ফুটিয়ে তুলেছে কৃষকের মুখে হাসি। ব্রহ্মপুত্রে ধু-ধু বালুচর। চিকচিক বালুকণার বুকে লতানো সবুজ গাছ।

গাছের মুঠি ধরে টান দিলেই উঠে আসে থোঁকা থোঁকা বাদাম। যার রং সোনালি। যেন বালুর নিচে লুকানো মুঠোভরা সোনা। অক্লান্ত পরিশ্রমে ফলানো হয়েছে এই ফসল। এবার বালুচরে এই ফসলের হয়েছে বাম্পার ফলন। হাসি ছড়িয়ে পড়েছে কৃষকের চোখে-মুখে।

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলের বালি, পলি দো-আঁশ মাটিতে এ বছর বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। চিনাবাদাম তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে বাদামের দাম ও ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি।

চিলমারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র নদীবেষ্টিত চর এলাকায় ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা ছড়িয়ে ১ হাজার ৪০৬ হেক্টরে ছড়িয়েছে জানান, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. জাহিদ হোসেন আনছারী।

চরের বালুতে প্রতি হেক্টর জমিতে বাদাম হচ্ছে ২০-২৫ মণ। আর প্রতিমণ কাঁচা বাদাম ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। এবং শুকানোর পর ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা ধানের চেয়ে অনেক লাভজনক জানান কৃষকরা। দেশের বিভিন্ন এলাকার বাদাম ব্যবসায়ীরা এখন চিলমারীর চর থেকেই বাদাম কিনছেন। এ বছর চিলমারী, নয়ারহাট, অষ্টমীর চর, পাত্রখাতা চরে বাদামের চাষ করা হয়েছে।

নয়ারহাট, চিলমারী ও অষ্টমীর চরের বাদাম চাষিরা জানান, এ বছর কোনো রোগ বালাই না থাকায় বাদামের গাছ নষ্ট হয়নি। তাই আগাম জাতের চিনাবাদাম অনেক ভালো হয়েছে। দামও বেশ ভালো।

তারা আরও জানায় কিছুদিন আগে এই ব্রহ্মপুত্র ভয়ঙ্কর রূপ কেড়ে নিয়েছে ভিটামাটি, ফসল, ফসলি জমিসহ ঘরবাড়ি আর এখন তার আরেক রূপ আমাদের দিচ্ছে সুখের হাসি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কুমার প্রণয় বিষান দাশ বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বাদামের ফলন ভালো হয়েছে। এবং ধীরে ধীরে বাদাম চাষ বৃদ্ধিও পাচ্ছে। ইতিমধ্যে চিনাবাদাম তোলা শুরু করেছেন কৃষকরা। এতে চরাঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার কৃষক পরিবারে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২৬, ২০২২ ৩:৫০ অপরাহ্ন
দিনাজপুরে ভারতীয় জাতের পেঁয়াজ চাষ
কৃষি বিভাগ

দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়িয়ে আদমানি নির্ভরতা কমানোর জন্য শুরু হয়েছে এন-ফিফটি থ্রি নামের একটি ভারতীয় জাতের পেঁয়াজের চাষ। দিনাজপুরসহ কয়েকটি জেলায় এবার উচ্চফলনশীল জাতের এই পেঁয়াজের আবাদ শুরু হয়েছে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে।

কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন অনেক বাড়বে। পেঁয়াজের নতুন এই জাত নিয়ে আশাবাদী চাষীরাও।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী প্রতিবছর দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ৩৫ লাখ মেট্রিক টন। আর দেশে উৎপাদন হয় ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন, যা চাহিদার ৫৭ শতাংশ। বাকী চাহিদা পূরণের জন্য আমদানির উপরই নির্ভর করতে হয়। ফলে বাজারে কখনও কখনও অস্থিরতা দেখা দেয়।

কৃষি নির্ভর দেশে পেঁয়াজের এমন সংকট কাটাতে এন-ফিফটি থ্রি নামে ভারতীয় একটি উচ্চ ফলনশীল জাতের পেঁয়াজের আবাদ শুরু করেছে কৃষি বিভাগ। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি জেলায় চলছে আবাদ। তবে সবচেয়ে বেশী হচ্ছে দিনাজপুরে। জেলায় এবার ২২’শ বিঘা জমিতে আবাদ করা হচ্ছে এই পেঁয়াজ। কৃষকরা  বলছেন, অন্যান্য পেঁয়াজের তুলনায় এর ফলন ভালো।

ফলন ভালো হওয়ায় আগামীতে এই পেঁয়াজের আবাদ বাড়বে বলে জানালেন রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক মতিউর রহমান।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুরুল হক জানালেন, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৮০ মণ করে এই পেঁয়াজ উৎপাদিত হবে। যা অন্যান্য পেঁয়াজের তুলনায় দ্বিগুন।

তিনি জানালেন, দিনাজপুরে পরীক্ষামূলকভাবে এই পেঁয়াজ আবাদ করতে জেলার ২২’শ কৃষককে সার ও বীজ দেয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২৬, ২০২২ ৩:৩০ অপরাহ্ন
বগুড়ায় শীত উপেক্ষা করে বোরো রোপণ ও ক্ষেত প্রস্তুত করছেন কৃষক
কৃষি বিভাগ

কনকনে শীত উপেক্ষা করে বগুড়ায় বোরো রোপণ ও ক্ষেত প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক। পুরো জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ জুড়ে থাকবে কৃষকদের এ ব্যস্ততা। মাঠ থেকে কৃষক আলু উত্তোলন করে সেই ক্ষেত বোরো চাষের জন্য প্রস্তুতি চলছে। যে সব জমিতে আগাম আলু চাষ হয়েছিল সেখানে বোরা চাষ শুরু হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো: এনামুল হক জানান, মাঠে এখনও বেশীর ভাগ জমিতে আলু ,সরিষা ও ভূট্টা আছে। মাঠের ফসল উঠলে বোরা ধান রোপণ পুরোমাত্রায় শুরু হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র জানান, এবার জেলায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হযেছে। তা থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে (চাল আকারে) ৮ লাখ ৭ হাজার ৬২৩ মেট্রিকটন । কৃষি বিভাগ আশা করছে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভব হবে। এ পর্যন্ত বোরো রোপণ হয়েছে ১০ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে।

তিনি আরো জানান,গত বছর ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে চাষে উৎপাদন পাওয়া গেছে (চাল আকারে) ৮ লাখ ১ লাখ ১২ হাজার ৩৪২ মেট্রিক টন।

এ দিকে জেলায় মোটা চালের চাহিদ কমে যাওয়ায় সরু চালের চাষ বেড়েছে। কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী জেলা সরু উচ্চ ফলনশীল ধান শীর্ষ স্থান করে নিয়েছে। জেলায় উচ্চ ফলনশীল কাটারী ভোগ ধান বিঘাতে ২২ থেকে ২৬ মণ কখনও তা ২৮ মণ পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। অন্য ধান বিঘাতে ১৬ থেকে ২০ মণ পাওয়া যায় বলে জানান জেলার কৃষি কর্মকর্তারা।

বোরো চাল এক দিকে সরু ও জনপ্রিয়তা অর্জন করায় এ ধানের চাষ বেড়েছে। জেলায় এবার ১ লাখ ৬৯ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সরু উচ্চ ফলনশীল ধান, ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিট (মোটা) ধান, ও স্থানীয় জাত ৮৬৫ হেক্টর জমিতে চাষ হবে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানান।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop