১২:১৬ অপরাহ্ন

বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ১৩, ২০২২ ৪:২৯ অপরাহ্ন
সমুদ্রতীর ঘেঁষে সবুজ তরমুজের চাষ
কৃষি বিভাগ

কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার সাগরপাড়ে তরমুজ চাষে ভালো ফলনে খুশি চাষিরা। তারা বলছেন, আগাম চাষে মুনাফাও বেড়েছে। আর মাঠে গিয়ে নানা পরামর্শ দেওয়ার কারণে এবার একরপ্রতি লাখ টাকার বেশি মুনাফা পাবেন চাষিরা বলে আশা কৃষি অফিসারের।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাশে সমুদ্রের তীর ঘেঁষে এক একটি সবুজ তরমুজ ক্ষেত। যেখানে লতার ভাঁজে ভাঁজে ধরেছে নানা আকৃতির তরমুজ। এসব ক্ষেতে এখন পানি দেওয়ার পাশাপাশি পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত চাষিরা। তারা বলছেন, অসময়ে বৃষ্টির কারণে কিছুটা ক্ষতি হলেও ফলন ভালো হয়েছে।

চাষিরা জানান, এ তরমুজ গাছ থেকে আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়।

ইতোমধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে তরমুজ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছুটা উচ্চমূল্য হলেও ক্রেতাদের রয়েছে চাহিদা।

বিক্রেতারা বলছেন, তরমুজের দাম আছে মোটামুটি। আনুমানিক কেজি ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

টেকনাফের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, মাঠে গিয়ে চাষিদের নানা পরামর্শ প্রদানের কারণে এবার আগাম তরমুজ চাষে ভালো ফলন হয়েছে এবং চাষিরাও লাভবান হচ্ছে।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩১০ একর জমিতে হয়েছে তরমুজ চাষ। এসব তরমুজ চাষে জড়িত রয়েছে দু’উপজেলার প্রায় ৩ শতাধিক চাষি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৩, ২০২২ ৩:২৬ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আধা ঘণ্টা ধরে শিলাবৃষ্টি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
কৃষি বিভাগ

তুষারের মতো পড়েছে শিলা। সঙ্গে ছিল বাতাস ও বৃষ্টি । শীতের রাতে এমন বিরল ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বুধবার (১২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, পৌষের এই ব্যাপক বৃষ্টি, ঝড় ও শিলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমের আগাম মুকুল নষ্ট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি উপকারী হলেও অতিরিক্ত শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের ক্ষতি বলছেন আমবিজ্ঞানী ও কৃষি বিভাগ।

এর আগে বুধবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত গোমস্তাপুর উপজেলায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। কয়েক জায়গায় জলাবদ্ধতা ছাড়াও শীত জেঁকে বসেছে।

বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের আকাশ সকাল থেকেই মেঘাচ্ছন্ন ছিল। দিনব্যাপী সূর্যের দেখা মিলেনি। সদর উপজেলা, শিবগঞ্জ ও নাচোলেও হঠাৎ গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বৃষ্টি থামেনি বলে জানা গেছে।

গোমস্তাপুরের বাসিন্দা জুলকার নাইন বলেন, সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বিকেল ৪টা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। সন্ধ্যার আগে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে গোমস্তাপুরের অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যার দিকে গোমস্তাপুরেও শিলাবৃষ্টি হয়েছে।

শিবগঞ্জের বাসিন্দা সাজিদুল হক জানান, সন্ধ্যার দিকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু রাত সাড়ে ৯টার দিকে ব্যাপকভাবে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। দিনব্যাপী মেঘলা আকাশ থাকলেও কেউ বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বৃষ্টির আশঙ্কা বা পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে বের হয়নি। ফলে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

ব্যবসায়ী রনি আলী বলেন, জীবনেও এমন শিলাবৃষ্টি দেখিনি। শিবগঞ্জের ছত্রাজিতপুর থেকে রানিহাটি বাজার পর্যন্ত এক হাঁটু শিলা রাস্তার ওপর পড়ে আছে। এমন দৃশ্য কোনো দিন দেখেনি। রাস্তার পাশের বাড়িগুলোর সামনে দেখি কোথাও মাটি দেখা যায় না। আগাম জাতের আমের কিছু মুকুল এসেছিল। তার সবকিছুই শেষ।

আলামিন জুয়েল নাম এক বাসিন্দা বলেন, বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শিলাবৃষ্টিতে। এতে আমের আগাম মুকুল ও ডগার ব্যাপক ক্ষতি হবে। এছাড়া ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে গেছে অনেক জায়গায়। স্থানীয় প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব (আম) গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, এখনও আমের মুকুল ফুটতে শুরু করেনি। ফলে শিলাবৃষ্টি হলেও তেমন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির পর আমগাছে ব্যাপক ছত্রাকের আক্রমণ হয়ে থাকে। এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তবে শিলাবৃষ্টিতে আগাম আমের মুকুল নষ্ট হয়ে যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, এই সময়ে হালকা বৃষ্টি হলে তা আমসহ বিভিন্ন ফসলের জন্য উপকারী। মশুর, সরিষা, ছোলা, গমের জন্য সামান্য বৃষ্টি আর্শীবাদ। কারণ এই সময়ে একটু পানির প্রয়োজন হয়। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাছাড়া বৃষ্টির পরদিন যদি রোদ না উঠে তাহলে সেই ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৩, ২০২২ ২:৫৪ অপরাহ্ন
ব্রকলি চাষ করে বিপাকে কৃষক হারুন
কৃষি বিভাগ

ব্রকলি পুষ্টিকর ও ক্যানসার প্রতিরোধক সবজি। সারাদেশে ব্রকলি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক। তবে অপরিচিত হওয়ায় সবজি হিসেবে এটি কিনতে মানুষ আগ্রহী নয়। এতে বিপাকে পড়েছেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের কৃষক মো. হারুন। তার খেতে প্রায় আড়াই হাজার ব্রকলি উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু বিক্রি করতে না পারায় বিপাকে রয়েছেন তিনি।

এদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ বাংলাদেশ কৃষক হারুনের উৎপাদিত ব্রকলি বিক্রি করতে সহযোগিতা করছে। তাদের উদ্যোগেই বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলা শহরের চকবাজার জামে মসজিদের সামনে ব্রকলি বিক্রির কথা রয়েছে।

জানা যায়, প্রথমবারের মতো কমলনগর উপজেলার চর লরেন্স ইউনিয়নের লরেন্স গ্রামের ৮ শতক জমিতে এসএসিপির উচ্চ মূল্যের ফসল (সবজি) উৎপাদন প্রদর্শনী হিসেবে ‘ব্রকলি’ চাষ করা হয়। গত নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে ব্রকলির বীজ রোপন করেন কৃষক হারুন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী তিন মাসেই ভালো ফলন এসেছে। তবে পুষ্টি সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এ সবজি কিনতে নারাজ মানুষ।

কৃষক হারুন জানান, ব্রকলি চাষে সফলতা এসেছে। কিন্তু বিক্রি করতে না পারায় এখনো উৎপাদিত ফসল নিয়ে বিপাকে পড়েছি। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকরা এটি চাষে আশা হারাবে। এটি উৎপাদনের পাশাপাশি মফস্বলসহ গ্রামাঞ্চলে পরিচিতি বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তবে ব্রকলি চাষে কৃষি অফিসাররা মাঠে এসে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। এটি উৎপাদনে পরিমাণ অনুযায়ী সার ও কীটনাশক ব্যবহার করলেই চলে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর অফিস সূত্রে জানা যায়, ব্রকলির পুষ্টিগুণ প্রচুর। গবেষকরা ব্রকলিকে বলছেন, আল্টিমেট ক্যানসার ফুড। প্রতিদিন ব্রকলি খেলে তা ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করে। ভিটামিন ‘কে’, ভিটামিন ‘সি’, ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম ও ফাইবারে পরিপূর্ণ এটি। ব্রকলির মধ্যে রয়েছে সালফোরাফেন যা ক্যানসার রুখতে সাহায্য করে। লো-ক্যালরির এই সবজি হার্ট ভালো রাখতেও সাহায্য করে। এটি দেখতে ফুলকপির মতো হলেও ফুলগুলো সাদার পরিবর্তে পাতার রংয়ের মতো গাঢ় সবুজ।

অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বীজতলায় ব্রকলির বীজ বপন করতে হয়। পরে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় মূল ক্ষেতে রোপন করা হয়। ৭৫ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে এতে ফুল আসে। মেধা-বিকাশ, চোখের দৃষ্টি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধিসহ মানবদেহের স্বাভাবিক পুষ্টি বজায় রাখার পাশাপাশি ব্রকলি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ফসল। এটি চাষ করার জন্য স্থানীয় কৃষকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাবু বলেন, হারুন তার উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারছেন না। এজন্য আমরা তাকে সহযোগিতার কথা বলেছি। আমাদের একটি টিম তার সঙ্গে থেকে সবজিগুলো বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে।

কমলনগর উপজেলা কৃষি অফিসার আতিক হাসান বলেন, ব্রকলি এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পরিচিত নয়। এর অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। এগুলো জানতে পারলে ভোক্তাদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি হবে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের মাধ্যমে এসব সবজির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা চালানো সম্ভব।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, কমলনগরে প্রথমবারের মতো উপযোগিতা যাচাইয়ের জন্য গ্রীন ক্রাউন জাতের ব্রকলি চাষ করা হয়েছে। কৃষক হারুনের পরিশ্রমে ব্রকলির ভালো ফলন পাওয়া গেছে। আশা করি কৃষক হারুনকে দেখে অন্য কৃষকরাও এ সবজি চাষে ঝুঁকবে। আমরা মার্কেটিং বিভাগ তার ফসল বাজারজাত করতে সহযোগিতা করছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৩, ২০২২ ১২:১৯ অপরাহ্ন
সরিষা ফুলে ঢেকে গেছে বিস্তীর্ণ চলনবিল
কৃষি বিভাগ

শীত মৌসুমের এই সময়ে সরিষার হলুদ ফুলে ঢাকা চলনবিল। মৌ মৌ গন্ধ চারদিক মাতিয়ে তুলেছে। হলুদ ফুলের মাঠে পাখা মেলেছে মৌমাছির দল। দৃষ্টিনন্দন এমন দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই চলনবিলে ভিড় জমাচ্ছে প্রকৃতিপ্রেমিরা। এদিকে, সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের জন্য সেখানে ব্যস্ত সময় কাটছে পাঁচশ’রও বেশি সংগ্রহকারীর। আহরণকৃত এসব মধু প্রক্রিয়াজাত করার জন্য প্লান্ট স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। 

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলার ৮টি উপজেলাজুড়ে বিস্তার চলন বিলের। শীত মৌসুমে এই বিলে পানি না থাকায় কৃষকরা নানা রকম ফসল বপন করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। চলনবিলে এবার প্রায় ৫৪হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে সরিষার। দিগন্ত জুড়ে ফুল ফুটেছে সেখানে। বয়ে যাচ্ছে হলুদ বর্ণের ঢেউ।

প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে দিনভর সরিষা ক্ষেতের পাশে ভিড় জমাচ্ছেন সববয়সী মানুষ।

এদিকে, সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করতে এরইমধ্যে চলনবিলে এসেছে পাঁচশ’রও বেশি মধু সংগ্রাহক। এই মৌসুমে কয়েক শ’ টন মধু আহরণ করবেন তারা।

জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে সবচেয়ে বেশি সরিষার চাষ হয় চলনবিলে। তাই হাজার হাজার মৌমাছির বাক্স স্থাপন করা হয় এই এলাকায়। সেখান থেকে আহরণ করা হয় মধু। এসব মধু প্রক্রিয়াজাত করার জন্য একটি প্লান্ট স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হানিফ।

তিনি জানালেন, মধু প্রক্রিয়াজাত করার এই প্লান্ট স্থাপন সম্পন্ন হলে অনেক কর্মসংস্থানও হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৩, ২০২২ ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
ঘনকুয়াশায় নষ্ট হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা
কৃষি বিভাগ

লালমনিরহাটে একটানা ঘনকুয়াশার কারণে, নষ্ট হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা। এরিমধ্যে অনেক চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া বীজ, সার ও জ্বালানি তেলের দাম বেশি হওয়ায়, আর্থিক সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। এতে চলতি মৌসুমে বোরোর আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। এদিকে, মাগুরায় ইরি ও বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত কৃষকরা। 

চলতি বোরো মৌসুমে লালমনিরহাট জেলায় ধানচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। এ লক্ষ্যে ২ হাজার ৩৯৫’ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। বীজতলা পরিচর্যার পাশাপাশি জমি প্রস্তুতের কাজ করছেন কৃষকরা।

তবে এবছর অতিরিক্ত মাত্রায় ঘনকুয়াশা ও বৈরী আবহাওয়ায় অন্তত ২৫ ভাগ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। পাতা হলুদ হয়ে পচন ধরায়, দুর্বল হয়ে পড়েছে ধানের চারা। সেইসাথে বীজ, সার ও জ্বালানি তেলের দাম বেশি হওয়ায় আর্থিক সংকটে কৃষকরা। ফলে চলতি মৌসুমে বোরোর আবাদ নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা।

ধানের চারা রক্ষায় কৃষকদের পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখাসহ বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

এদিকে, মাগুরায় ইরি-বোরোর বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ভালো ফলনের আশায় মানসম্মত চারা উৎপাদনে জোর দিচ্ছেন তারা। চলতি মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে বীজতলা বানানো হয়েছে। কুয়াশা থেকে বীজতলা রক্ষায় পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

মাগুরায় এবছর ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে রোবো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১২, ২০২২ ৪:২৮ অপরাহ্ন
অভয়নগরে সরকারি সার ওজনে কম দিয়ে বস্তাজাত
কৃষি বিভাগ

যশোরের অভয়নগর উপজেলা শিল্প শহর নওয়াপাড়া বাজার ফেরিঘাট সংলগ্ন শংকরপাশায় কার্গো থেকে সরকারি ইউরিয়া সার ওজনে কম দিয়ে বস্তাজাত করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সরকারি ইউরিয়া সার কার্গোতে শ্রমিক দিয়ে ডিজিটাল স্কেলের মাধ্যমে ওজন দিয়ে বস্তাজাত করে ড্যাম্পিং করা হচ্ছে। স্কেলে ওজন দেয়ার সময় দেখা যায় বস্তায় সার কম দেয়া হচ্ছে। প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি দেয়ার কথা থাকলেও ৪৮-৪৯ কেজি সার বস্তাজাত করে বস্তার মুখ সেলাই করে কার্গো থেকে ঘাটের উপরে ড্যাম্পিং করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিমত, বস্তাপ্রতি এভাবে কম দেওয়ার ফলে এ এলাকার কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব‍্যবস্থা না নিলে দুর্নীতিপরায়ন ব‍্যবসায়ীরা অঢেল অর্থের মালিক হবেন।

এ বিষয়ে শ্রমিকদের কাছে বস্তায় সার কম দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা জানি না, সার ক্যারিং কর্তৃপক্ষ যে ওজন বেঁধে দিয়েছে আমরা সে অনুযায়ী বস্তাজাত করছি। কম দেয়ার বিষয়ে অভয়নগর ট্রান্সপোর্টের মালিক হাজী খোকন সাহেব বলতে পারবেন। আমাদের যেভাবে বলেছে আমরা সেভাবে করছি।

এ বিষয়ে অভয়নগর ট্রান্সপোর্টের মালিক খোকন হাজীর সঙ্গে ফোনে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। সরকারি সার কম দিয়ে বস্তাজাত করা হচ্ছে জানতে চাইলে খোকন বলেন, ওজন কম দিয়ে সার বস্তাজাত করার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি কী কারণে বস্তায় সার কম দেয়া হচ্ছে।

ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, ‘এটা কৃষি কর্মকর্তা বলতে পারবেন, তার সঙ্গে কথা বলেন।’

অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সামদানী বলেন, ‘বস্তায় সরকারি সার কম দেয়ার কোনো নিয়ম নেই। আপনারা বিসিআইসির সঙ্গে যোগাযোগ করুন। না হলে ক্যারিং কন্ট্রাক্টারের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন। আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

পোটন ট্রেডার্সের খুলনা অঞ্চলের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আতাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, নির্ধারিত ওজনের বাইরে বস্তাজাত করা বেআইনি। এজন্য সংশ্লিষ্ট ব‍্যক্তি দায়ী, প্রতিষ্ঠান নয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১২, ২০২২ ৩:৫০ অপরাহ্ন
পেয়ারার এক ফলনে মেহেদীর লাভ ১০ লাখ টাকা
কৃষি বিভাগ

মেহেদী হাসান। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের একজন তরুণ। সম্প্রতি পেয়ারা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বদলে গেছে তার ভাগ্যের চাকা। এবারের ফলনে বিঘাপ্রতি দেড় লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি করেছেন তিনি। খরচ বাদ দিয়ে লাখ টাকা করে লাভ হয়েছে তার। 

ঘোড়াঘাট উপজেলার রাণীগঞ্জের মহাসড়কের পাশ দিয়ে তৈরি হয়েছে ১০ বিঘা জমির উপর একটি পেয়ারা বাগান। এটি তৈরি করেছেন মেহেদী হাসান, নিজেকে স্বাবলম্বী করার আশায় তার পেয়ারা চাষ। দেড় বছর আগে তিনি এই ১০ বিঘা জমিতে সাড়ে ৪ হাজার থাই জাতের পেয়ারার চারা লাগান। চারা লাগানোর ৬ মাসের মধ্যে প্রতিটি গাছে পেয়ারা ধরতে থাকে। আবার ৬ মাসের মধ্যে পেয়ারা বাজারজাত করেছেন তিনি। প্রায় ১৫ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি করেন। খরচ হয়েছে মাত্র ৫ লাখ টাকা।

এদিকে গাছ থেকে পেয়ারা পেড়ে বাজারজাত করার সাথে সাথে আবার নতুন করে প্রতিটি গাছে প্রচুর পেয়ারা ধরতে শুরু করেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব নতুন পেয়ারা বিক্রি করবেন বাগান মালিক মেহেদী হাসান।

বর্তমান তার বাগানে কাজ করছেন ১০ জন শ্রমিক। তারা সারাবছর পরিচার্যা করে থাকেন। গাছের পেয়ারা পলিথিন ব্যাগ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। এতে পোকার আক্রমণ থেকে রেহাই পাবে। পেয়ারা বাগানে দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর পর পানি সেচ ও স্প্রে দিতে হয়।

বাগান শ্রমিক মিলন হোসেন বলেন, আমরা প্রায় ১০ জন এই বাগান পরিচর্যার কাজ করি। বর্তমানে পলিথিন দিয়ে পেয়ারাগুলো ঢেকে দিচ্ছি। আবার মাঝেমধ্যে পানি ও স্প্রে দিয়ে আসছি।

খোকন নামে আরেকজন শ্রমিক বলেন, এই বাগানে আমি সারাদিন কাজ করি। কাজ শেষে যে টাকা পাই, তা দিয়ে আমার বাবা-মা ও ভাই-বোনদের নিয়ে চলি।

বাগান মালিক মেহেদী হাসান বলেন, অনেক আশা করে নিজেকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্য এই পেয়ারা বাগানটি করেছি। আজ আশা পূরণ হয়েছে। বিঘাপ্রতি ২২০টি করে পেয়ারার চারা লাগিয়েছিলাম। ১০ বিঘার বাগানে এবার প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। নিজেকে আজ অনেক স্বাবলম্বী মনে হচ্ছে।

এবিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার এখলাস হোসেন সরকার বলেন, চলতি বছরে এই উপজেলায় পেয়ারা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। আম লিচুর ভালো ফলন হয়ে থাকে এখানে। এবার পেয়ারার চাষেও মানুষ ঝুঁকে পড়েছেন। উপজেলার রাণীগঞ্জের মেহেদী হাসান একটি বড় পেয়ারার বাগান করেছেন। তার বাগান প্রতিনিয়ত আমরা পরিদর্শন করে আসছি। তিনি একটি পেয়ারার চালান তুলেছেন, তাতে ভালো লাভবান হয়েছেন। উপজেলায় আরও অনেকেই পেয়ারা চাষে উৎসাহী হয়ে উঠছে। ৫ হেক্টর জমিতে উপজেলায় পেয়ারার চাষ হচ্ছে। আমরা সব পেয়ারা চাষিকে সুপরামর্শসহ সেবা দিয়ে আসছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১২, ২০২২ ৩:০২ অপরাহ্ন
জয়পুরহাটে স্কোয়াস চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

জয়পুরহাট উন্নত মানের পুষ্টি গুনাগুণ সমৃদ্ধ সবজি স্কোয়াস চাষ করে লাভবান হচ্ছেন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা কৃষকরা।

জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে স্কোয়াস চাষিদর সঙ্গে কথা বলে জানান যায়, স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কারিগরি সহায়তায় পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের লকমা গ্রামের মিঠু হোসেন , পশ্চিম কড়িয়া গ্রামের আনিসুর এবং সদর উপজেলার ধলাহার ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুস সোবহান ৫০ শতাংশ জমিতে এবার স্কোয়াস চাষ করেছেন।

৫০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াসের জন্য চারা লাগে এক হাজার ৮০০টি । চারা সংগ্রহ, লেবার , জমি প্রস্তুতিসহ ৫০ শতাংশ জমিতে খরচ পড়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা। ৮০/৮৫ দিনের ফসল হিসাবে স্কোয়স চাষ অতি লাভজনক। বাজারে প্রতিটি স্কোয়াস বিক্রি হচ্ছে ২৫/৩০ টাকা পিস। প্রতিটি গাছ থেকে ৫/৬ টি করে স্কোয়াস সংগ্রহ করা যায়। ইতোমধ্যে ৮৫০ টি স্কোয়াস ২১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান, কৃষক মিঠু হোসেন।

জমিতে থাকা স্কোয়াস আরও ৪০/৪৫ হাজার টাকা বিক্রি হবে এমন প্রত্যাশার কথা জানান তিনি। ৫০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াস চাষ করে ৫৫/৬০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব বলে জানান কৃষকরা। কীটনাশক ব্যবহার না করে ফেরোমন ফাঁদ দিয়ে পোকা দমন করা হয়। ফলে বিষমুক্ত ভাবে এখানে সবজি স্কোয়াস চাষ করছেন কৃষক মিঠু হোসেন, আনিসুর ও সোবহান। গত বছর স্কোয়াস চাষ করে লাভবান হওয়ায় এবারও চাষ করছেন বলে জানান ।

সবজির জন্য উৎকৃষ্ট মানের স্কোয়াস খেতে কিছুটা মিষ্টি কুমড়ার মতো হলেও মিষ্টতা অনেক কম। স্কোয়াস চাষ লাভজনক হওয়ায় নিজ উদ্যোগে প্রতিবেশী কৃষকরাও তাদের জমিতে স্কোয়াস চাষ করছেন । পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন পিকেএসএফ কৃষি ইউনিটের সহযোগিতায় স্থানীয় বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ”জাকস ফাউন্ডেশন” স্কোয়াস চাষে কৃষকদের কারিগরি ও ঋণ সহায়াতা প্রদান করছেন বলে জানান, নির্বাহী পরিচালক নূরুল আমিন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো: শফিকুল ইসলাম জানান, স্কোয়াসে কোলেস্টেরল নেই বললেই চলে। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম হার্টের জন্য উপকারী। ওজন কমাতে সাহায্য করা স্কোয়াস স্থ’লতারোধে বিশেষ উপকারী এতে ক্যালোরির আধিক্য নেই । স্কোয়াস ক্যান্সার প্রতিরোধী , এতে রয়েছে প্রচুর পরিমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের ফ্রিরেডিকেল দূও করে। বেটাক্যারোটিন ক্যান্সারের ক্ষতিকর পদার্থ থেকে আমাদের দূরে রাখে । স্কোয়াসে থাকা ভিটামিন সি অকালে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে । হাড় মজবুত করাসহ স্কোয়াসে থাকা ম্যাঙ্গানিজ মজবুত হাড় গঠনে সহায়তা করে থাকে। বেটাক্যারোটিন ও লুটেইন চোখের দৃষ্টি বাড়াতে সহায়তা করে । এক কাপ স্কোয়াসে ২৪০০ মাইক্রোগ্রাম লুটেইন রয়েছে।

স্কোয়াস হচ্ছে আঁশ জাতীয় খাবারের চমৎকার উৎস কোষ্ঠ্যকাঠিন্য রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। খনিজ পদার্থের উৎস স্কোয়াসে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ ম্যাগনেসিয়াম, ফোলেট, কপার, রিবোফ্লাবিন, ফসফরাস, ক্যারোটিনয়েডস, পটাশিয়াম ম্যাঙ্গানিজ, বেটাক্যারোটিন রয়েছে। ডায়বেটিস , উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রনে রাখাসহ অ্যাজমা প্রতিরোধ ও ত্বকের যত্নে অত্যন্ত কার্যকর স্কোয়াস।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১২, ২০২২ ২:৩৩ অপরাহ্ন
টমেটোর ফলনে খুশি কৃষক
কৃষি বিভাগ

রূপসার বিভিন্ন গ্রামে মৎস্য ঘেরের পাড়ের জমিতে এ বছর ব্যাপক টমেটোর আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। স্থানীয় আড়তে ব্যবসায়ীদের কাছে ন্যায্যমূল্যে টমেটো বিক্রি করতে পেরে কৃষকেরা অনেক খুশি।

রূপসা উপজেলার আনন্দনগর গ্রামের চাষি জুম্মান লস্কর বলেন, এ বছর মৎস্য ঘের পাড়ে দেড় বিঘা জমিতে মিন্টু সুপার নামক হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ করেছি। এতে বীজ, সার, মাদা তৈরি, শ্রমিক ও কীটনাশক বাবদ প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ মণ টমেটো (প্রতি মণ এক হাজার টাকা দরে) স্থানীয় আড়তে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আরও অন্তত ১৫ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।

ঘাটভোগ ইউনিয়নের পুটিমারি গ্রামের কৃষক কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘেরের পাড়ে এক বিঘা জমিতে বিপুল প্লাস জাতের টমেটো চাষ করতে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ৮০০ টাকা মণ দরে এ পর্যন্ত ২০ মণ টমেটো ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এ রকম দাম থাকলে আরও ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারব বলে মনে করছি।’

রফিকুল ইসলাম আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার টমেটোর ফলন ভালো হয়েছে এবং দামও ভালো পাচ্ছি। কৃষকেরা বলেন, রূপসা উপজেলার আলাইপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান আমাদের পাশে থেকে শসা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

জুম্মান লস্কর ও রফিকুল ইসলাম ছাড়াও আনন্দনগর গ্রামের নূরু শেখ, চাঁন মিয়া, নাসিম মোল্লা, হামজা মোল্লা, শাহীন শেখ, মুরাদ লস্কর, শানু লস্কর, হামিদুল বিশ্বাসসহ দুই শতাধিক কৃষক মাছের ঘের পাড়ে হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, রূপসার দুর্জ্জনীমহল, ডোমরা, চন্দনশ্রী, ভবানীপুর গ্রামের ঘেরের পাড়ে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে এ বছর টমেটো চাষ হয়েছে। তবে ঘাটভোগ ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে সবচেয়ে বেশি জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে।

ঘের পাড়ে উৎপাদিত টমেটো কেনাবেচার জন্য গ্রামে গ্রামে গড়ে গড়ে উঠেছে টমেটোর মৌসুমি আড়ত। তাই টমেটো বিক্রি করতে সাধারণত পরিবহন খরচ লাগে না। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ট্রাকযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে এখানকার টমেটো।

রূপসা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ফরিদুজ্জামান বলেন, অন্য ফসলের তুলনায় ঘেরের পাড়ে টমেটো চাষ লাভজনক। তাই এ উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে টমেটো চাষ। ঘেরের পাড়ে টমেটো চাষের বিষয়ে জন্য এ উপজেলার প্রতিটি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে চলেছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১২, ২০২২ ২:০৪ অপরাহ্ন
ডি-৮ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ
কৃষি বিভাগ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে আজ বুধবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকায় শুরু হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশের জোট বা ডি-৮ মন্ত্রিপর্যায়ের দুই দিনব্যাপী সম্মেলন। করোনার কারণে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সপ্তম ডি-৮ সম্মেলনটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে। এবারের মিটিংয়ের মূল আলোচনার বিষয় হলো কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষির উন্নয়ন।

বাংলাদেশ এখন ডি-৮ ফোরামের সভাপতি। এ কারণে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার অংশ হিসেবে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বাংলাদেশ বর্তমানে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামেরও (সিভিএফ) সভাপতি। এ মিটিংয়ে ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচারের প্রমোশন নিয়ে আলোচনা হবে, সেজন্যও মিটিংটি গুরুত্বপূর্ণ।

মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান। ব্রিফিংকালে কৃষি সচিব সায়েদুল ইসলাম ও অতিরিক্ত সচিব রুহুল আমিন তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, এ উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে জোটের সদস্য দেশ— বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কের কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রীরা এবং সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া, আইডিবি, এফএও, আইএফএডি, আইআরআরআইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করবেন।

মন্ত্রী আর জানান, এবারের সম্মেলনের মূল আলোচনার বিষয় হলো— কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষির উন্নয়ন। এক্ষেত্রে জোটভুক্ত দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচিত হবে। কৃষির উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে করণীয়, যৌথ কৃষি গবেষণা, যান্ত্রিকীকরণ, এঅ্যাগ্রো-প্রসেসিং, ব্লু ইকোনমি, সার উৎপাদন, বীজ, অ্যানিমেল ফিড, ভ্যালু চেইন উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোকপাত করা হবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop