২:২৭ অপরাহ্ন

বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ৯, ২০২২ ৩:১৮ অপরাহ্ন
তিতায় জীবন মিঠা
কৃষি বিভাগ

করলা অনেকেরই অপছন্দ কারণ তিতা বলে। কিন্তু এ তিতাই জীবন মিঠা করে দিলো জালাল হাওলাদারের।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে রয়েছে করলা। বাজারে দাম বেশি পাবার আশায় এলাকার কৃষকরা ধান আলুর পাশাপাশি বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন সবজি চাষ করে আসছে। তার মধ্যে অন্যতম করলা। তবে উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগীতায় দেশী করলার চাষের পাশাপাশি উন্নত জাতের করলা চাষে উৎসাহী হয়ে উঠেছে কৃষকরা।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগীতায় উচ্চ মূল্যের ফসল (সবজি) উৎপাদন প্রদর্শনী ও স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার উত্তর দেউলী গ্রামে ৫০ শতক জমিত উন্নত জাতের পায়রা-২ করলার চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন জালাল হাওলাদার।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে করলার চাষ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক করলার চাষ হয়েছে। স্থানীয় করলাসহ বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড করলা চাষ করে থাকে কৃষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে ব্যাপক করলার চাষে সবুজের সমারাহ। অনেক কৃষকই এই করলা চাষ করে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। এদের মধ্যে জালাল হাওলাদার একজন। তিনি ব্যাপকভাবে করলার চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

জালাল বলেন, গত ভাদ্র মাসের শেষের দিকে জমি প্রস্তুত করে করলার চারা রোপণ করেন। মাঝেমাঝে বৃষ্টিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। সুযোগ বুঝে এরই মাঝে মাচা তৈরি করে চারা রোপণ করেন। ৫০ শতক জমিতে বাঁশ ও সুতা দিয়ে মাঁচা তৈরিতে এবং শ্রমিকসহ খরচ হয়েছে ১০-১২ হাজার টাকা। চারা রোপণের ২০ দিনের মধ্যে ফুল এবং ৩৫-৪০ দিনের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে। করলা ক্ষেত থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ মন করলা বিক্রি করেছি এবং করলার দাম বাজারে খুব ভালো থাকায় ২৮ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। সর্বোচ্চ আরো দেড় মাস পর্যন্ত এ মাচায় করলা থাকবে। এর পাশাপাশি লাউ, টমেটো, গাজর, হাইব্রিড মরিচ, কুমড়ো চাষ করা হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিয়ে করলায় এ মৌসুমে সাড়ে ৩৫ হাজার টাকা লাভ থাকবে।

তিনি বলেন, করলা শেষ হওয়ার পর অন্য ফসল মাচায় উঠে যাবে। একই মাচায় অন্য ফসল আবাদ করা হলে মাচা তৈরির খরচটা লাগবে না।

তিনি আরো বলেন, পৌত্রিক সূত্রে যে পরিমাণ জমি পেয়েছি। তারপরও আরো ২০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে বিভিন্ন প্রকারের সবজি চাষ করছি। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে করলা চাষের জন্য সার, ওষুধ ও বীজ দিয়েছেন এবং অধিক ফসল উৎপাদনে উপজেলা কৃষি অফিসার স্যার প্রতিনিয়ত ক্ষেতে এসে পরিক্ষা-নীরিক্ষা করেন, যাতে ফসলের কোনো ক্ষতি না হয়। আমার সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস সবজি চাষ। দুই ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে সুখের সংসার আমাদের। ছোট মেয়েটা এবার ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠছে আর বড় ছেলে দশম শ্রেণীতে পড়ার পাশাপাশি সবজি চাষে আমাকে সহযোগীতা করে।

জালাল হাওলাদার মনে করেন, ধানের আবাদের চেয়ে সবজির আবাদ লাভজনক। স্বল্প সময়ে সবজি বাজারজাত করা যায় এবং নিয়মিত টাকা পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আরাফাত হোসেন বলেন, এ মৌসুমে মির্জাগঞ্জে প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে করলার সাথে বিভিন্ন সবজির চাষ করা হয়েছে। হাইব্রিড জাতের করলা পায়রা-২ প্রায় সারা বছরই আবাদ করা যায়। জমিতে পানি নিষ্কাশন সুবিধা আছে, এমন এটেল দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি এই করলা চাষে উপযোগী। কৃষি অফিসের পরামর্শে উপজেলার অনেকেই এখন দেশি, হাইব্রিড, সোনামুখীসহ বিভিন্ন জাতের করলা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তবে জালালের করলার ক্ষেত দেখে অনেক চাষী আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আগামীতে উপজেলায় অধিক জমিতে করলার চাষ করা হবে। যাতে স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়েও অন্য এলাকাতে বিক্রি করতে পারে কৃষকরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৯, ২০২২ ২:৩৮ অপরাহ্ন
মাল্টাবাগানে মিশ্র ফসল চাষে আমিরুলের সফলতা
কৃষি বিভাগ

তিন বছর আগে নিজের এক একর জমিতে ২৮৪টি মাল্টার চারা রোপণ করেন কৃষক আমিরুল ইসলাম। এরপর সেই বাগানেই মাল্টার চারাগুলোকে ঘিরে চাষ করেছেন ১১ রকম ফসল। এসব ফসল ফলিয়ে বাজারজাত করে ভালো আয় করেন তিনি, দেখেছেন সফলতার মুখ। আমিরুলের এমন ব্যতিক্রমী আবাদ এবং সফলতা দেখে অবাক এলাকার মানুষ।

এখন তার বাগানে মাল্টার ফলনও আসতে শুরু করেছে। ফলে ভালো আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের ক্ষুদ্র বাঁশবাড়ী গ্রামের আমিরুল ইসলাম। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ওই ক্ষুদ্র বাঁশবাড়ী গ্রামের প্রবেশপথেই স্থানীয় পাকা সড়কঘেঁষা মাল্টাবাগানে গমের চাষাবাদ হচ্ছে।

সড়ক থেকে নেমেই এরপর ক্ষেতের ভেতরে যেতেই চোখে পড়ে গমের পাশাপাশি আলাদা করে আলুর চাষ। আর একটু এগোতেই দেখা যায় লাউয়ের মাচা। তার পাশেই পটোল ও শিমের চাষাবাদ। আরও একটু সামনে এগোতেই ফসল পেঁয়াজ, রসুন ও হলুদের আবাদ। এছাড়া কাঁচা মরিচ, পুঁইশাক, লাপাশাক ও লেবুর আবাদও করা হচ্ছে ওই বাগানে।

আমিরুল বলেন, ‘শুরুটা ছিল তিন বছর আগে। রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথের আগ্রহে এবং তার সার্বিক সহযোগিতায় এক একর আবাদি জমিজুড়ে ২৮৪টি মাল্টার গাছ রোপণ করি। এসব গাছের বয়স এক বছর হলে দেখি প্রতিটি মাল্টা গাছ থেকে আরেক গাছের মাঝখানে প্রায় ১০ বর্গফুট জায়গা ফাঁকা থাকছে। পরে চিন্তা করি, ছোট হাল দিয়ে চাষ দিলে এখানে আবাদ করা যাবে। প্রথমে আবাদ করলাম বোরো ও আমন ধান, পরের বছর আলু ।‘

তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর বোরো-আমনের পর জমিটাকে বিভিন্নভাবে ভাগ করলাম। প্রথম ভাগে রোপণ করলাম গম, দ্বিতীয় ভাগে আলু এবং তৃতীয় ভাগে লাউ, শিম, হলুদসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও মসলাজাতীয় ফসল। মাল্টা চাষ করলেই যে অন্য ফসল অচাষযোগ্য, তা কিন্তু নয়। আপনি চেষ্টা করলেই পারবেন। এতে আপনার মাল্টাগাছেরই উপকার বেশি হবে। অন্যান্য ফসলে দেওয়া সারগুলো মাল্টাগাছও পাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, মাল্টাগাছের শিকড় যেন কাটা না যায়।’

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় আমিরুলই প্রথম এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা সেখানে মাল্টা চারা সরবরাহ করেছি। সেইসঙ্গে কৃষি অফিস থেকে তাদের বাগানে প্রযুক্তিগত সকল সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। বাগান থেকে প্রথম বছরই তিনি লক্ষাধিক টাকার মাল্টা বিক্রয় করতে পারবে এমনটা আশা করা যায়।

এলাকাবাসী বলেন, ‘আমিরুল ইসলাম ডিগ্রি পাস করা শিক্ষিত ছেলে। সে যে এভাবে এ এলাকার নতুন ফসল মাল্টাবাগান করতে পারবে এবং পাশাপাশি মাল্টাবাগানের মধ্যেই আবার বুদ্ধি করে এতগুলো ফসল ফলাতে পারবে, তা আমাদের বিশ্বাস হয়নি প্রথমে। সরেজমিন দেখে আমরা অবাক হয়েছি। আসলে চেষ্টা করলে সবই সম্ভব।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, ‘সমগ্র উপজেলা মিলিয়ে মোট ১৬ হেক্টর জমিতে ৩০০ জন মাল্টাচাষি রয়েছেন। এর মধ্যে ক্ষুদ্র বাঁশবাড়ী গ্রামের আমিরুল ইসলাম মাল্টার বাগানেই গম, আলুসহ বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করছেন। এতে আমরাও অবাক হয়েছি, তার চেষ্টা দেখে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৯, ২০২২ ১:৩৬ অপরাহ্ন
হানিকুইন জাতের আগাম আনারস যেন মৌসুমী ফলনকে ছাড়াচ্ছে
কৃষি বিভাগ

পার্বত্য অঞ্চলের নানিয়ারচরের হানিকুইন জাতের আগাম আনারস যেন মৌসুমী ফলনকে হার মানাচ্ছে। জ্যৈষ্ঠমাস আনারসের মাস হলেও বর্তমানে রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচরে প্রতিবছরই উৎপাদিত হয় উচ্চ ফলনশীল হানিকুইন আনারস। যা দেশের অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।

তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে নানিয়ারচর উপজেলা হচ্ছে আনারসের জন্মস্থান। আবার অনেকে বলে আনারসের রাজধানী নানিয়ারচর। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে আনারসের জন্য বিখ্যাত নানিয়ারচর উপজেলা। নানিয়ারচর উপজেলার মধ্যে প্রায় ৬০ ভাগ মানুষ আনারসের আবাদ করে থাকে। তবে বেশীর ভাগই বাঙালি জনবসতি এলাকায় আনারসের চাষ করা হয়েছে। আর এ আনারসের চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে ওই এলাকার মানুষ।

আনারস চাষী সোবহান জানান, আনারস চাষে অনেক পরিশ্রম। যদি কারও অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে সে ভালো করে তা করতে পারবেনা। তিনি জানান, অক্টোবর মাসের আগেই আনারস চাষের জন্য পাহাড়ের ঢালুগুলো প্রস্তুত করতে হয়। প্রায় ১ মাস লেগে যায় জমি ঠিকঠাক করে আনারস চাষের উপযোগি করে তুলতে। এর আগে আনারসের চারা তুলে তা প্রস্তুত করে রাখতে হয়। তারপর সারি সারি করে পাহাড়ের বুকে লাইন ধরে রোপন করতে হয়।

তিনি আরো জানান, চারা রোপনের পর প্রায় ১২-১৩ মাস অপেক্ষার পর তাতে আনারস আসে। বাগানের সেবাযত্ন ও পরিচর্যা করতে হয়। তাতেই ভাল ফলন আসা করা যায়। অনেকে বলেন আনারসের জন্ম নানিয়ারচরে আবার অনেকে বলেন আনারসের রাজধানী নানিয়ারচর। এটা শতভাগ সত্য। আনারসের সঙ্গে এখানকার অর্থনৈতিক ভারসাম্য চলমান রয়েছে। বর্তমান হাইব্রিড আনারসে বছরে ২ বার ফলন আসে। ফলে শীত মৌসমের আগেই আনারস বাজারে দেখতে পায় লোকজন।

জানা যায়, নানিয়ারচরের বউ বাজার এলাকার শাহিন, সোবহান ও ফারুক প্রচুর পরিমানে আনারসের চাষ করেন। রীতিমত আনারস চাষ করে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। তাদের আনারস দেশ এবং দেশের বাহিরেও রপ্তানি হচ্ছে। তারা ট্রাক ভর্তি করে আনারস ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাইকারি হিসেবে চালান দিয়ে থাকেন। আবার যারা ছোট খাটো আনারসের বাগান করে থাকেন তারা স্থানীয়ভাবে খুচরা দরে আনারস বিক্রি করে ফেলেন। এছাড়া ঘিলাছড়ির ১৭ বা ১৮ মাইল এলাকা জুড়ে উপজাতিরাও বেশ কিছু আনারস বাগান করছেন।

আনারস চাষী ফারুক জানান, আনারস চাষে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। পরিশ্রমের ফলে ভালো আনারস আবাদ করা সম্ভব। একটি আনারসে প্রায় ৫-৭ টাকা ব্যয় হয়। ভালো ফলন উৎপাদন হলে তা বিক্রি করা হয় ১০-১৫ টাকা।

তিনি আরো জানান, কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের কারনে গত ২ বছর আনারসে তেমন লাভবান হতে পারেনি আনারস চাষীরা। অনেকে ব্যাংক লোন নিয়ে আনারস চাষে পুঁজি দিয়েছেন। কিন্তু করোনার জন্য লোকসান গুনতে হয়েছে। আর ব্যাংকের সুদের বোঝা এখনো টানতে হচ্ছে।

নানিয়ারচরের আনারস প্রাণ কেড়ে নিয়েছে আগত পর্যটকদের। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা ঘুরতে এসে একবার হলেও একটি আনারস খেয়ে যাবে। পর্যটকদের লোভ আনারসের প্রতি। তারা জানে নানিয়ারচরের আনারসে ফরমালিন নাই। অনেকে আবার ঘুরে ফিরে মুগদ্ধ হয়ে যাওয়ার সময় আনারস নিয়ে যায় পরিবার পরিজনের জন্য।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রতন কুমার পাল বলেন, রাঙ্গামাটি জেলার মধ্যে প্রায় ২১৩ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ করা হয়। তবে নিজ নিজ মালিকানাধীন জমিতেই চাষারা এই সব আনারসের চাষ করে থাকেন। তারা যদি মনে করে কৃষি সম্প্রসারণের সহযোগিতার প্রয়োজন আছে তাহলে আমরা বিনামূল্যে সহযোগিতা দিয়ে থাকি। তবে জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় প্রচুর আনারস জন্মায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৯, ২০২২ ১:০১ অপরাহ্ন
শসা চাষ করে তিন মাসে মুনাফা ৩ লাখ টাকা
কৃষি বিভাগ

শীতের হিমেল হাওয়া বইছে। সবজির জমিতে ব্যস্ত চাষি। মাচায় ঝুলছে সারি সারি শসা। কেউ শসা সংগ্রহ করছেন, আবার কেউবা সেই শসাগুলো এক স্থানে স্তূপ করছেন। অন্যদিকে পাইকাররা মেপে মেপে গাড়ি বোঝাই করছেন।

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বলরামপুর গ্রামের যুবক কাজী আনোয়ার হোসেনের শসার জমিতে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। স্বল্পমেয়াদে ফলন পাওয়া যায় এমন উন্নত জাতের শসা চাষ করেছেন তিনি। মাত্র তিন মাসেই শসা বিক্রি করে তিনি ৩ লাখ টাকা আয় করেছেন। শসার এমন আশাতীত ফলনে আনোয়ারের চোখে-মুখে ফুটে আছে হাসির ঝিলিক। এর আগেও কৃষক আনোয়ার হলুদ তরমুজ ও মরুর ফল সাম্মাম চাষ করে সফলতা অর্জন করে বেশ আলোচনায় আসেন। মুদি দোকানি থেকে আনোয়ার এখন কৃষি উদ্যোক্তা, কৃষিতেই তিনি তার জীবনের সচ্ছলতার দুয়ার খুলেছেন।

আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি ১৮০ শতক জমিতে শসার বীজ রোপণ করেছেন। চারা যখন মাটি ভেদ করে আকাশে উঁকি দেয় তখন মাচা তৈরি করেন। ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে শসাগাছ। মাচায় আঁকড়ে ধরে ফুল দেয় গাছগুলো। সেই ফুল থেকে শসা হয়। আনোয়ার আরও জানান, জমি তৈরি, বীজ সংগ্রহ ও সার মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা।

এ পর্যন্ত ৪ লাখ টাকার শসা বিক্রি করেছেন, খরচ ১ লাখ বাদ দিয়ে তার ৩ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। পোকামাকড় দমনে সেক্স ফেরোমন ও আলোর ফাঁদ তৈরি করেছেন। কীটনাশক ব্যবহার করেন না। তাই তার শসাগুলো স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। নগরীর রাজগঞ্জ বাজারের পাইকার ময়নাল হোসেন জানান, গত এক মাসে অনেক বিয়ে-শাদির অনুষ্ঠান ছিল। শসার বেশ চাহিদা রয়েছে। ক্রেতারা দুই-তিন মণ করে শসার অর্ডার করত, আনোয়ারকে জানাতাম। পরে তার জমি থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে শসা এনে ৫০ টাকা দরে আমরা বিক্রি করতাম। এদিকে তার দেখাদেখি আশ-পাশের যুবকৃষকেরাও শসা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, ‘আনোয়ার হোসেন একজন কৃষি উদ্যোক্তা। নতুন কৃষি ফসল উৎপাদনে আনোয়ার কাজ করে যাচ্ছেন। চলতি বছরের শুরুতে তরমুজ ও সাম্মাম চাষ করে সফল হয়েছেন। আমরা তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছি। আমরা কৃষির উন্নয়নে উদ্যোক্তা ও কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করে থাকি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৯, ২০২২ ৯:৫৯ পূর্বাহ্ন
বঙ্গবন্ধুর মাজারে ডিএই মহাপরিচালকের শ্রদ্ধা নিবেদন
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক মো. বেনজীর আলম ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেই সাথে তাঁর আত্নার মাগফেরাত কামনা করা হয়। এ সময় সফর সঙ্গি ছিলেন ডিএই বরিশালের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম, বরিশাল এটিআই’র অধ্যক্ষ হৃদয়েশ্বর দত্ত, ফরিদপুরের অতিরিক্ত পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক, খুলনা এটিআই’র সাবেক অধ্যক্ষ চিন্ময় রায়, সদর দপ্তরের হর্টিকালচার উইংয়ের উপপরিচালক মো. সফিউজ্জামান, বরিশালের উপপরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ, রাজবাড়ির উপপরিচালক এস এম সহীদ নূর আকবর, শরীয়তপুরের উপপরিচালক আব্দুস সাত্তার, তেলজাতীয় ফসলের মনিটরিং অফিসার রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস, পটুয়াখালীর অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন তালুকদার, বরিশালের অতিরিক্ত উপপরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন, উজিরপুরের উপজেলা কৃষি অফিসার মো. তৌাহিদ, খুলনার আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার শারমিনা শামীম, কৃষি তথ্য সার্ভিস বরিশালের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক প্রমুখ।

এর আগে মহাপরিচালক উজিরপুরের উপজেলা কৃষি অফিসে বরিশাল অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি মাদারীপুরের হর্টিকালচার সেন্টারে নার্সারি তত্ত্বাবধায়ক এবং উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের দুই দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৪, ২০২২ ৪:৪১ অপরাহ্ন
আবারও বেড়েছে চালের দাম
কৃষি বিভাগ

উত্তরাঞ্চলের শস্যভান্ডারখ্যাত দিনাজপুরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের বেড়েছে চালের দাম। প্রতি বস্তায় দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৫ টাকা।

চালের দাম বাড়ার পেছনে আড়তদাররা মিল মালিকদের দায়ী করেছেন। তবে মিল মালিকদের দাবি বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় চালের দাম বেড়েছে। একইসঙ্গে খুচরা ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা প্রবণতার অভিযোগও তাদের।

দিনাজপুর বাহাদুর বাজার চাল আড়ত ঘুরে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও যেখানে সবচেয়ে ব্যবহৃত গুটি স্বর্ণা চালের কেজিপ্রতি দাম ছিল ৩৬-৩৭ টাকা কেজি। বর্তমানে সেই চালের দাম ৪০-৪১ টাকা। একইভাবে পাইজাম চাল ৪২-৪৩-এর স্থলে ৪৫-৪৬ টাকা। বিআর উনত্রিশ ৪৬-৪৭-এর স্থলে ৪৮-৪৯ টাকা। বিআর আটাশ ৫১-৫২ এর স্থলে ৫৩-৫৪ টাকা, মিনিকেট ৫৫-৫৬-এর স্থলে ৫৭-৫৮ টাকা, উন্নত মিনিকেট ৫৯-৬০-এর স্থলে ৬০-৬১ টাকা। নাজিরশাইল ৬২-৬৩ এর স্থলে ৬৬-৬৭ টাকা, সিদ্ধ কাটারী ৯০-৯২-এর স্থলে ৯৩-৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বস্তা হিসেবে এক সপ্তাহ আগের দাম (৫০ কেজির বস্তা) গুটি স্বর্ণা চাল ১৮০০-১৮৫০-এর স্থলে ২০০০-২০৫০ টাকা। পাইজাম চাল ২১০০-২১৫০-এর স্থলে ২২৫০-২৩০০ টাকা, বিআর উনত্রিশ চাল ২৩২০-২৩৫০-এর স্থলে ২৪০০-২৪৫০ টাকা, বিআর আটাশ চাল ২৫৫০-২৬০০-এর স্থলে ২৬৫০-২৭০০ টাকা, মিনিকেট ২৭৫০-২৮০০-এর স্থলে ২৮৫০-২৯০০ টাকা, উন্নত মিনিকেট চাল ২৯৫০-৩০০০-এর স্থলে ৩০০০-৩০৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৩১০০-৩১৫০-এর স্থলে ৩৩০০-৩৩৫০ টাকা এবং সেদ্ধ কাটারি চাল ৪৫০০-৪৬০০-এর স্থলে ৪৬৫০-৪৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজার করতে আসা আবু তাহের মন্ডল বলেন, প্রতি বস্তায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে। সরকারি নজরদারির অভাবে এই দাম বৃদ্ধি করেছে আড়তদাররা। আমাদের আয় বাড়ছে না, বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম। এটি কৃত্রিম সংকট বলে জানান তিনি। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে বাইরে থেকে চাল আমদানি করা প্রয়োজন।

শ্রীভবন বসাক নামে এক ক্রেতা বলেন, সম্পা কাটারি চাল কিনলাম ২ হাজার ৯৫০ টাকা বস্তা দরে। গত মাসেই এই দাম ছিল ২৮৫০ টাকা বস্তা। এতে করে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

খুচরা চাল ব্যবসায়ী রতন মিয়া বলেন, আগের চেয়ে দাম বেড়েছে। এ কারণে ক্রেতাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হচ্ছে। এখানে আমাদের তো করার কিছুই নেই।

আরেক খুচরা চাল ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, নতুন ধানের চাল কম আছে, বেড়েছে পুরাতন চালের দাম। একটি চালের বস্তায় ২০ থেকে ৩০ টাকা লাভ হয়। নতুন চালের দাম কম, বাজার যাচাই করতে পারেন।

চাল আড়তদার এরশাদ ট্রের্ডাসের স্বত্বাধিকারী এরশাদ হোসেন বলেন, পুরাতন চালের দাম বেশি। মিনিকেট, স্বর্ণা, আটাশ ও উনত্রিশ জাতের চালের দাম বেড়েছে। চাহিদা বেশি থাকলে চালের দাম বাড়ে, চাহিদা কম থাকলে চালের দাম কম থাকে। চাহিদা ও সরবরাহের ওপর এই চালের দাম নির্ভর করে।

বিকে ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ কুন্ডু বিষু বলেন, ধাপে ধাপে চালের দাম বাড়ছে। ধানের দাম ৫০ টাকা বাড়লে চালের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেড়ে যায়। মিলাররা এই দাম বৃদ্ধি করে।

বাংলাদেশ মেজর ও অটো মেজর হাসকিং মিল মালিক সমিতির সহসভাপতি শহীদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন বলেন, খুচরা বাজারে অতি মুনাফার কারণে চালের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে ধানের দামও বস্তাপ্রতি ১০০-১৫০ টাকা বেড়েছে। আমরা মিলাররা উৎপাদন খরচও উঠাতে পারছি না। চাল আমদানি হলেই ধানের বাজার ও চালের বাজার পড়ে যাবে। চাল আমদানি শুরু হলে কৃষকরাও ধান বিক্রি বেশি করবেন। ফলে দাম আরও কমে যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৪, ২০২২ ১:৩৩ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জে বোরো আবাদের ধুম
কৃষি বিভাগ

হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে রোপা আমন তোলা শেষে বোরো ধানের আবাদ শুরু হয়েছে। ভোরের আলো ফুটতেই কোমর বেঁধে ফসলের মাঠে নেমে পড়ছেন কৃষকরা। আর এ কাজে পরিবারের সদস্যরাও চাষিদের পুরোদমে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি জেলার কয়েকটি হাওড় ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে কৃষকরা আবাদের সরঞ্জাম নিয়ে হাওড়ে যাচ্ছেন। কেউ বীজতলা তৈরি করছেন, কোথাও কোথাও পুরোদমে চলছে রোপনের কাজ। পুরুষের সঙ্গে নারী ও শিশুরা কাজে যোগ দেওয়ায় নেই শ্রমিক সঙ্কটও।

কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর হবিগঞ্জ জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিকে। তবে আমনের জমিতেও বোরোর চাষ শুরু হওয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফসল উৎপাদন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ৪৯ হাজার, উফসী ৭৩ হাজার ২২০ ও স্থানীয় জাতের ধান ৮০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হবে।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কৃষক সবুজ মিয়া, আলম মিয়া, তাহের মিয়া, আলী হোসেন, রমিজ মিয়া ও শফিক মিয়া বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সফলভাবে রোপা আমন ধান তোলা শেষ হয়েছে। শুরুতে ধানের ন্যায্যমূল্য থাকলেও শেষের দিকে দাম অনেকটা কমে যাওয়ায় কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বোরো চাষে গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

বানিয়াচং উপজেলার তৌফিক মিয়া জানান, ইতোমধ্যেই হাওড়ের নীচু জমিতে চারা রোপন শেষ। এখন উঁচু জমিতে সেচের মাধ্যমে আবাদ চলছে। এবার রোপা আমনের জমিতেও বোরো চাষ হচ্ছে। এতে আবাদের পরিমাণ বেড়েছে।

কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলার সদর ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় ১২ হাজার ৪০০, মাধবপুরে ১১ হাজার ৭০, চুনারুঘাটে ১০ হাজার ৮৯৫, বাহুবলে ৮ হাজার ৬১০, নবীগঞ্জে ১৯ হাজার ৫৮০, লাখাইয়ে ১১ হাজার ১২০, বানিয়াচংয়ে ৩৩ হাজার ৬৮৫ এবং আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১৪ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এসব জমি থেকে ৫ লাখ ২২ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তমিজ উদ্দিন খান বলেন, এখন পর্যন্ত হাওড়ের অবস্থা ভালো। সামনের দিনে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আবাদ ও উৎপাদন  লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৪, ২০২২ ১:০৪ অপরাহ্ন
উখিয়ায় আগাম তরমুজের চাষে সাফল্য পেয়েছে চাষীরা
কৃষি বিভাগ

কক্সবাজারের উখিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের আগাম তরমুজ চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে মুখে হাসি ফুটেছে চাষীদের।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে , উখিয়ার ৫ টি ইউনিয়নে চলতি রবি মৌসুমে ৬০ একর জমিতে তরমুজ চাষের আবাদ হয়েছে । যা গত বছরের লক্ষ্য মাত্রা ১০ একর বেশী।

সরজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, উপজেলার জালিয়া পালং ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া, ছেপট খালী, ছোয়াংখালী মনখালী, ইনানী ও রাজা পালং ইউনিয়নের কুতুপালং হাংগর গোনা, দরগাহ বিল, ডিগলিয়া পালং সহ হলদিয়া পালং, রত্না পালং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তরমুজ চাষের আবাদ হয়েছে।

উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিউটন চৌধুরী জানান, স্হানীয় চাষীরা উন্নত জাতের হাইব্রিড বীজ দিয়ে তরমুজের চাষ করেছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমদের মতে , আগাম চাষ করে অধিক লাভবান হওয়ায় স্হানীয় চাষীরা তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

কোটবাজার বীজ ভান্ডারের মালিক সুজিত চৌধুরী বলেন, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও থাইল্যান্ডের উৎপাদিত হাইব্রিড জাতের তরমুজ বীজের চাহিদা বেশী। এ সব বীজ সংগ্রহ করে বোপন করেছে চাষীরা।

মাদারবুনিয়া ও ছেপট খালী এলাকার চাষী আবদুল কাদের মুফিজুর রহমান বলেন, আবহাওয়ার পরিবেশ অনুকূল থাকায় এবারে ভালো তরমুজ উৎপাদন হয়েছে । বিশেষ করে আগাম চাষ করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় বেশ লাভবান হয়েছে চাষীরা।

মাদার বুনিয়া এলাকার চাষী আবদুল খালেক জানান, মৌসুমের শুরুতে তরমুজের বেশ চাহিদা রয়েছে। বাজারে প্রতিটি তরমুজ ৪ শত টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার জানান, তরমুজ চাষে জমি তৈরী , উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ, রোপণ পদ্ধতি পরিচর্যা , প্রযুক্তি ব্যবহার ও ফলন উৎপাদন সম্পর্কে স্থানীয় সাথীদেরকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৪, ২০২২ ১২:৩৪ অপরাহ্ন
সেচ পরিবহন শ্রমিক সংকটে বিপন্ন সন্দ্বীপের কৃষি সম্ভাবনা
কৃষি বিভাগ

অনুন্নত যোগাযোগ কাঠামো, সেচ ও শ্রমিক সংকটের কারণে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার কৃষি এখন ধুঁকছে। বর্তমানে এখানকার স্থানীয় অধিবাসীরা কৃষিপণ্যের প্রয়োজনীয় সরবরাহের জন্য বাইরের অঞ্চলগুলোর ওপরই নির্ভরশীল। যদিও একসময় অঞ্চলটিকে ধরা হতো কৃষিতে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে।

কয়েক শতাব্দী ধরেই কৃষি, মত্স্য, লবণ বা জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য সুখ্যাতি অর্জন করেছে সন্দ্বীপ। এছাড়া এখানকার বাসিন্দাদের দক্ষ নাবিক হিসেবেও সুখ্যাতি রয়েছে। বর্তমানে এখানকার স্থানীয়দের বড় একটি অংশ প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে বিদেশে কাজ করছেন।

চারদিকে সমুদ্রবেষ্টিত হওয়ায় উপজেলাটিতে বেড়িবাঁধের বাইরের কৃষিজমি লবণাক্ত। এসব জমিতে বছরে শুধু একবার প্রাকৃতিক সেচের ওপর নির্ভর করে কৃষকরা লবণাক্ততা সহনশীল জাতের ধান চাষ করেন। বছরের বাকি সময় অনাবাদি থাকে এসব জমি। বেড়িবাঁধের ভেতরের সিংহভাগ জমিতেও সেচ সংকটে বছরে একটির বেশি ফসল আবাদ করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। দু-তিন ফসলি জমি দেখা যায় শুধু বসতি এলাকার আশপাশে। ২০১৮ সালে এখানে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে। তবে তা সেচ ব্যবস্থাকে পুরোদমে চালু করার জন্য যথেষ্ট নয়। বর্তমানে চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোর মধ্যে সেচ ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে পিছিয়ে সন্দ্বীপ।  কৃষি শ্রমিকেরও তীব্র সংকট রয়েছে এখানে।

বর্তমানে এখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের মারাত্মক সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এসব পণ্যের চাহিদা মেটাতে স্থানীয়দের নির্ভর করতে হয় চট্টগ্রাম, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সরবরাহকৃত পণ্যের ওপর। এমনকি মাছ, ডিম, মুরগির জন্যও দেশের স্থল ভূখণ্ডের সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল সন্দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে তাদের এসব পণ্যের জন্য মূল্যও পরিশোধ করতে হয় অনেক বেশি। এছাড়া অনুন্নত যোগাযোগ কাঠামো হওয়ায় এখানে পরিবহন খরচও বেশি। বাড়তি এ ব্যয়ও স্থানীয় ভোক্তাদেরই বহন করতে হয়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সন্দ্বীপের মোট ফসলি জমির পরিমাণ ৪২ হাজার ৭০০ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদযোগ্য জমি ৬৫ শতাংশ বা ২৭ হাজার ৯০০ হেক্টর। যদিও এর মধ্যে আবাদ হয় ২৪ হাজার ৪০০ হেক্টর। নানা সংকটে বাকি সাড়ে তিন হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি পড়ে থাকে অনাবাদি অবস্থায়। আবাদযোগ্য জমির মধ্যে আবার ১১ হাজার হেক্টর এক ফসলি। লবণাক্ততা ও সেচ সংকটের কারণে এখানকার শস্য নিবিড়তা দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেক কম।

এছাড়া রবিশস্য উৎপাদনেও দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে পিছিয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা। ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর এখানে খাদ্য ঘাটতি থাকে গড়ে ৫৭ হাজার ৩০৫ টন।

জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল বাসেত বলেন, সেচের পানির অভাব ও প্রবাসী অধ্যুষিত হওয়ায় এখানে কৃষি শ্রমিকের সংকট রয়েছে। আবার যারা রয়েছে, তাদের পেছনে কৃষকদের ব্যয়ও করতে হয় অনেক বেশি। ফলে সন্দ্বীপের কৃষি উন্নয়ন থমকে আছে। কৃষকদের মধ্যে আর্থিক সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও রবি মৌসুমেও বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি থেকে যায়। এ কারণে সন্দ্বীপে প্রধান খাদ্যশস্য চাল ছাড়া প্রায় সব কৃষিপণ্যই বাইরে থেকে আনতে হয়। এছাড়া উদ্যান ফসল উৎপাদনেও পিছিয়ে রয়েছে উপজেলাটি। তবে পরিকল্পিত সেচ সুবিধা বৃদ্ধি ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন করা গেলে সন্দ্বীপের কৃষিকে আবারো পুনরুজ্জীবন দেয়া সম্ভব।

সন্দ্বীপের কৃষক, শ্রমিক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দেয়া তথ্য বলছে, সমুদ্রতীরবর্তী উপজেলা হওয়ার কারণে সন্দ্বীপে সেচযোগ্য ও সুপেয় পানির উৎস খুবই সীমিত। ফলে আমন মৌসুম ছাড়া সন্দ্বীপে ধান আবাদ হয় না। সম্ভাবনাময় সন্দ্বীপ কৃষি অঞ্চলে এখন অকৃষি কর্মকাণ্ডই সম্প্রসারিত হচ্ছে বেশি। স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করতে না পারলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে এখানকার জীবনযাত্রার মান না বাড়লেও ব্যয় অনেকখানি বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আমিন মাসুম জানান, সন্দ্বীপের বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি হিসেবে পড়ে থাকলেও কৃষিতে ব্যবহার হয় না। মান্ধাতা আমলের কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার, সেচ সমস্যা ছাড়াও শ্রমিক মজুরি বেশি হওয়ায় কৃষিতে লাভের চেয়ে লোকসানের পরিমাণ বেশি থাকে। তবে কয়েক বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ আসায় সন্দ্বীপের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ছে। তরুণদের একটি অংশ খামারভিত্তিক কৃষি, বিদ্যুৎ সুবিধা কাজে লাগিয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিতে মনোযোগী হতে প্রচারণা চালালে সন্দ্বীপের কৃষির হারানো গৌরব ফিরে আসবে বলে আশা করা যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৪, ২০২২ ১২:০২ অপরাহ্ন
তিস্তার রূপালি চরে সবুজের বিপ্লব
কৃষি বিভাগ

এক সময় গরু-ছাগলের বিচরণ ভূমি ছিল তিস্তা নদীর চর। তিস্তার মাছই ছিল চরের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা। মাছ ছাড়া জীবিকার কোনো পথ ছিল না। মাছ ধরার পাশাপাশি কেউ কেউ ধান আবাদ করে সংসারের চাহিদা মেটাত। এখন সেই চরের জমি আর পতিত নেই। পাল্টে গেছে চরের দৃশ্যপট।

তিস্তার বুকে জেগে উঠা রূপালী বালু চর এই শীত মৌসুমে ঢাকা পড়েছে সবুজের চাদরে। বন্যার ধকল কাটিয়ে শত শত কৃষকের ফসলের মাঠে চলছে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার প্রাণান্তর চেষ্টা। তবে ব্যাংক থেকে সুদবিহীন শষ্য ঋণ না পাওয়ায় তাদের দ্বারস্থ হতে হয় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে। তাদের লাভের অংশ গিলে খায় দাদন ব্যবসায়ীরা। সবকিছু ঠিক থাকলে নীলফামারীর ডিমলা আর জলঢাকা উপজেলায় জেগে ওঠা তিস্তা নদীর ২৩টি চরে এই মৌসুমে উৎপাদন হবে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ফসল।

বর্ষায় সর্বগ্রাসী হয়ে উঠে তিস্তা। আবার শীত মৌসুমে বিশাল বালুর প্রান্তর হিসাবে ধরা দেয় সবার দৃষ্টিতে। তিস্তা এখন আর নদী নেই যেন বিস্তীর্ণ বালুচর। বর্ষায় ভাঙ্গা আর শীতকালে গড়া এ দু নিয়ে থাকতে হয় তিস্তা পাড়ের মানুষদের। তিস্তার আর্শীবাদে বেঁচে থাকতো অসংখ্য পরিবার কিন্তু অনাকাঙ্খিত বন্যা আর অসম্ভব শুষ্কতার কারণে তিস্তার বুকে তারা আর আহার খুঁজে পায় না। অভাব, বন্যা, খরা, শীতের মত শত্রুর সাথে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয় সেখানে। কিন্তু তবুও তারা ছাড়তে পারে না তিস্তার কোল। ছাড়বেই বা কি করে কারণ ঐ পাড়ের সাথে রয়েছে তাদের নাড়ির সর্ম্পক। গেল বন্যায় কাটা ধানসহ সহায় সম্বল হারানো মানুষগুলো এখন ঘুরে দাঁড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সম্ভবনার ফসল উৎপাদনে।

আর সেখানেই আগামীর স্বপ্ন বুনছেন নদী পাড়ের মানুষ। চরগুলোতে ভুট্টা, সরিষা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচসহ প্রায় ১০ ধরনের ফসল চাষ করছে কৃষকেরা। ডিমলা আর জলঢাকা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী, খালিশা চাপানী, টেপাখরিবাড়ী, পূর্ব ছাতনাই, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ২৩টি চরে প্রায় ৩হাজার ২৭৩ হেক্টর জমিতে আবাদ হচ্ছে এসব ফসল।

তবে ডিজেল ও সারের দাম বেশী হওয়াসহ দাদন ব্যবসায়ীদের সুদ পরিশোধের পরে কাঙ্খিত লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা। উর্বর চরে স্বাচ্ছন্দে বিভিন্ন ফসল ফলাতে সরকারি প্রণোদনা ও সুদবিহীন শষ্য ঋণের দাবি করেন।

ঝুনাগাছ চাপানী চরের আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘গত আমন মৌসুমে হঠাৎ বন্যার কারণে ধান ঘরে তুলতে পারি নাই। জমির ধান বন্যার পানিত ভাসি গেইছে। ভাত খাওয়ার মত কোন ধান ঘরত তুলিবার পাই নাই। ভুট্টা লাগার পরে এখন সার আর তেলের দাম বেশী। কাটা মাড়াইর সময় যদি ভুট্টার দাম না বাড়ে তাহইলে এবারও হামরা মরি যামো। তার ওপর এই আবাদ করছি দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থাকি সুদের টাকা নিয়া।’

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, গত বর্ষায় তিস্তার উজানের ঢলে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ২টি বাঁধ ভেঙ্গে ৮২৬ হেক্টর জমিতে পানি প্রবেশ করে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকার কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রণোদনার আওতায় আনা হচ্ছে তাদের। কৃষকেরা যে ভাবে ফসলের পরিচর্যা করছে তাতে এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আশানুরূপ ফসল উৎপাদন হবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop