১০:৫০ অপরাহ্ন

বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৮, ২০২১ ৩:১৪ অপরাহ্ন
বগুড়ায় কৃষকদের প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে
কৃষি বিভাগ

বগুড়া জেলায় রবি মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের জন্য প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার প্রণোদনা দেয়ার কাজ চলছে। এতে ১ লাখ ৫ হাজার কৃষক এই প্রণোদনার আওতায় এসেছে। একজন কৃষককে এক বিঘার জন্য এই প্রণোদনা দেয়া হবে বলে জানান বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. এনামুল হক ।

২০২১-২২ অর্থ বছরের জন্য গমে এক বিঘা করে ১০ হাজার কৃষককে (১৫ কেজি বীজ ও ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি) ভূট্টা ১০ হাজার কৃষক (২ কেজি বীজ ও ১০ কেজি ডিএপি – ১০ কেজি এমওপি), সরিষার জন্য ১৩ হাজার কৃষককে ১৩ হাজার বিঘার জন্য (১ কেজি বীজ), সূর্যমুখি চাষে ২ হাজার কৃষককে ৭০০ গ্রাম বীজ, শীতকালিন পেঁয়াজে ১০০০ কৃষককে আধা কেজি বীজ, ৫০০ জন কৃষককে মসুর ডালের জন্য ৪ কেজি বীজ দেয়া হয়েছে।

রবি সফল মুগ ডালের জন্য জনপ্রতি ৪ কেজি করে বীজ আগামী জানুয়ারি মাসে দেয়া হবে। অর্থের অংকে রবি ফসলের জন্য প্রায় ৩ কোট ৯৫ লাখ ২৬ হাজার টাকার কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে জেলায় ৪৮ হাজার বিঘা হাইব্রিড বোরোর জন্য জন্য ২ কেটি ২১ লাখ ৭৬ হাজার টাকার বীজ, সার ও ২০ হাজার জন কৃষককে উফশী বোরোর জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার সার ও বীজ বিতরণের কাজ সম্পন্ন করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

হাইব্রিড বোরোর জন্য একজন কৃষক পাচ্ছেন ১০ কেজি বীজ ও একজন কৃষক উফশী বোরোর জন্য পেয়েছেন ৫ কেজি করে ডিএপি ২০ কেজি ও ১০ কেজি এমওপি সার এবং ৫ কেজি বীজ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৮, ২০২১ ২:৫০ অপরাহ্ন
ভারত থেকে আমদানি করা চাল নিম্নমানের, খালাস বন্ধ
কৃষি বিভাগ

এমভি বিএনসি আলফা নামে জাহাজে করে ভারত থেকে সিদ্ধ চালের একটি চালান এসে পৌঁছেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। সরকারিভাবে আমদানিকৃত চালের চালানে নিম্নমানের চালের বিষয়টি সামনে আসার পর গত বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) খালাস বন্ধ করে দেয় খাদ্য বিভাগ।

শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খাদ্য বিভাগের চট্টগ্রাম চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক মো. আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, ভারত থেকে এমভি বিএনসি আলফা নামে একটি জাহাজে করে ৭ হাজার ৬০০ টন চাল এনে খালাস শুরু করা হয়েছিল। জাহাজটি থেকে প্রায় ১ হাজার টন চাল খালাসও করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার জাহাজটি থেকে চাল খালাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যে মানের চাল আনার কথা বলা হয়েছিল তা না আনায় খালাস কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, সরকারিভাবে আমদানি করা চালের চালানটি ভারতের নেকফ ইন্ডিয়া নামে একটি প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করে। গত বৃহস্পতিবার সকালে বন্দরের ৩ নম্বর জেটিতে খালাসকালে নিম্নমানের বিষয়টি সামনে আসে। গত সপ্তাহে চালবাহী জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। বুধবার থেকে চাল খালাস শুরু হয়। প্রায় ১ হাজার টনের মতো চাল খালাস করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে চাল খালাসকালে নিম্নমানের চাল দেখা যায়। পরে বস্তা খুলে দেখা যায় চালের মান খুবই খারাপ। এ সময় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জাহাজ থেকে চাল খালাস বন্ধ করে দেন।

জানা গেছে, চাল খালাস হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন খাদ্য গুদামে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম দেওয়ানহাট সিএসডি, হালিশহর সিএসডি, সিলেট সিএসডি, কুমিল্লার চকবাজার এলএসডি গুদাম, চাঁদপুরের মতলব এলএসডি গুদামসহ ১০টি গুদামে এ চাল পাঠানো হয়েছে। গুদামে পৌঁছার পর এসব চাল পরীক্ষা করে যদি খারাপ পাওয়া যায় তাহলে পুনরায় জাহাজে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। তার আগ পর্যন্ত জাহাজটিকে বহির্নোঙরে থাকতে বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৮, ২০২১ ১২:৫৮ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে আলু চাষে ঝুঁকছেন কৃষক
কৃষি বিভাগ

ফুলবাড়ীতে চলতি মৌসুমে আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তারা তীব্র শীত ও কনকনে ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে ভোর থেকেই মাঠে আলু লাগাতে ব্যস্ত থাকছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ এ বছর আলু চাষে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত উপজেলার স্হানীয় জাত ৮০ হেক্টর ও উফশী জাত ৭০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করেছে। যেভাবে প্রান্তিক চাষিরা আলু চাষে ঝুঁকছেন তাতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানান কৃষি বিভাগ। কৃষি অফিস ও কৃষকরা জানিয়েছেন প্রতি বিঘা জমিতে এস্টারিজ, রোসাগোল বীজ দিয়ে ভালো ফলন হলে ১০০ থেকে ১১০ মণ পর্যন্ত বিঘা আলু উত্পাদন হয়। বিঘাপ্রতি আলু চাষবাদ করতে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৭, ২০২১ ৫:৪৩ অপরাহ্ন
বরিশালে কৃষকের মাঝে নগদ অর্থসহ আইসিটি মালামাল বিতরণ
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে করোনা মহামারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস এবং জৈবকৃষি রক্ষায় আইসিটি উপকরণসহ আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মিসিং মিডল ইনিশিয়েটিভ (এমএমআই) প্রকল্পের মাধ্যমে আজ সকাল ১১ টায় বাবুগঞ্জ উপজেলার মধ্য রাকুদিয়া আইপিএম ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও এফএও সিনিয়র অ্যাডভাইজার মো. মাহমুদ হোসেন, কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হারুন-অ-রশিদ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এস এম ইমরুল হাসান। এফএও আঞ্চলিক সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু হানিফের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক, মধ্য রাকুদিয়া আইপিএম ক্লাবের সভাপতি রিতা ব্রহ্ম, সেলিনা বেগম, রাশিদা বেগম, খোকন হাওলাদার প্রমুখ।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মিসিং মিডল ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের মাধ্যমে মধ্য রাকুদিয়া আইপিএম ক্লাবে ১৬লক্ষ ৮০ হাজার টাকার অনুদান ও কৃষি কাজে তথ্য সংগ্রহের জন্য ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও একটি আইপ্যাড প্রদান করেন প্রধান অতিথি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার কৃষকের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা নিরাপদ ফসল উৎপাদনে কাজ করছেন। সরকারের যে উদ্যোগ সেটা তাদের দিয়েই বাস্তবায়ন হচ্ছে। করছে তারা, এরকম ক্লাব প্রতিটি গ্রামে, ইউনিয়নে এবং প্রতিটি উপজেলা থাকলে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বাজারজাত এবং বিপণনের যে সমস্যা সেই সমস্যাগুলো অনেকাংশে লাঘব হবে।

জানাযায়, বাবুগঞ্জের মধ্য রাকুদিয়া গ্রামে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে আইপিএম ক্লাবে ১১৫ জন্য নারী ও ৫৩ জন্য পুরুষের সমন্বয়ে মোট ১৬৮ জন সদস্য নিরাপদ ফসল উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের মাধ্যমে তাদের কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৭, ২০২১ ৪:৪০ অপরাহ্ন
গাইবান্ধায় আমন ধানের বাম্পার ফলন
কৃষি বিভাগ

গাইবান্ধায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। চাষিরা এখন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবছর বন্যা না হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা ধান চাষে সফলতার মুখ দেখছেন। তাই ধানের ব্যাপক ফলনে দারুণ খুশি চাষিরা। আমন ধান চাষে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতাসহ মাঠে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

সরেজমিনে গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলায় দেখা যায়, কৃষকরা ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। কেউ ধান কাটছেন। কেউ কাটা ধানের আটিগুলো বাড়ি নিচ্ছেন, কেউ কাজের ফাঁকে জমির আইলে খাবার খাচ্ছেন।

সাঘাটা উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সাদেকুজ্জামান বলেন, এবছর সাঘাটায় ব্রি উদ্ভাবিত ধানের জাত যেমন ব্রি ধান-৫১, ব্রি ধান-৫২, ব্রি ধান-৭১, ব্রি ধান-৭২ ও ব্রি ধান-৮৭ সহ বিভিন্ন ধানের চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। সাঘাটা উপজেলায় ১৩ হাজার ৩শ ১২ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ করা হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, এবছর আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকদের কৃষি পরামর্শ দিতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। রোপা আমন ধান কাটার কাজ এগিয়ে চলছে।

এবছর জেলার ৭ উপজেলায় এক লাখ ২৯ হাজার ৪শ ৮০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৯০ মেট্রিক টন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৭, ২০২১ ৪:২২ অপরাহ্ন
ভোলায় মাচায় ঝুলছে রসাল তরমুজ
কৃষি বিভাগ

খেতের চারদিকে বেড়িবাঁধের মতো উঁচু মাটির ঢাল। সেই ঢালে মাচায় ঝুলে আছে তরমুজ। একটি-দুটি নয়, হাজার হাজার তরমুজ। ভোলার সদর উপজেলার চরমনষা গ্রামে সবুজবাংলা কৃষি খামারের দৃশ্য এটি।

মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজগুলো বাহারি রঙের। কোনোটির গায়ে ডোরাকাটা দাগ, কোনোটি কালচে সবুজ, আবার কোনোটি ফ্যাকাশে সবুজে। তরমুজগুলোর ভেতরের রঙেও পার্থক্য আছে। কোনোটি কাটলে ভেতরে টকটকে লাল, আবার কোনোটি পাকা মাল্টার মতো হলুদাভ কমলা।

এ খামারের পরিচালক ইয়ানুর রহমান। চলতি বছর তিনি ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছ থেকে জেলার শ্রেষ্ঠ কৃষকের পুরস্কার পেয়েছেন।এ বছর আশ্বিন মাসে পরীক্ষামূলকভাবে ৫০ শতাংশ জমিতে তিনি বেবি তরমুজের আবাদ করেছেন। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইয়ানুর রহমান বলেন, ৫০ শতাংশ জমিতে ৩ হাজার গাছে প্রায় ১২ হাজার ফল পেয়েছেন। যদিও ফল আরও বেশি হয়েছিল। তবে তিনি অনেক ফল ছেঁটে ফেলেছেন। সব মিলিয়ে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। কমপক্ষে আড়াই লাখ টাকায় তরমুজ বিক্রি হবে বলে আশ করেন তিনি।

ইয়ানুরের খামার ঘুরে দেখা যায়, বাঁধের ঢালে একটু সমান্তরাল করে লম্বা বেড তৈরি করা হয়েছে। এক লাইনে একটি বেড। বেডের ওপর এক হাত পরপর চারা লাগানো হয়েছে। বেডের সামনে খেতের দিকে মাচা দেওয়া হয়েছে। সেই মাচায় ঝুলে আছে ছোট-বড় কয়েক শ তরমুজ। এখানে মোট ছয় জাতের তরমুজের বীজ লাগানো হয়েছে বলে জানান ইয়ানুর।

ইয়ানুরের খেতের দেখভাল করেন মোসলেহউদ্দিন। কথোপকথনের ফাঁকে আপ্যায়নের জন্য তিনি খেত থেকে ছিঁড়ে কয়েকটি তরমুজ কাটলেন। যদিও তরমুজগুলো এখনো ভালো করে পাকেনি। তারপরও তরমুজগুলোর ভেতর হলুদাভ ও লাল রং ধারণ করেছে। খেতেও বেশ রসাল ও মিষ্টি। কচি অবস্থায় এসব তরমুজ তরকারি হিসেবে ভাজি বা রান্না করে খাওয়া যায়।

অসময়ে খেতের মাচায় তরমুজ ঝুলতে দেখে চরমনষার কৃষকেরা অবাক হয়ে গেছেন। তাই প্রতিদিনই চরমনষা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা ইয়ানুরের তরমুজের খেত দেখতে আসেন। ফলন আর লাভের কথা শুনে তাঁরাও বেবি তরমুজ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

ভোলার বাজারে অসময়ে প্রথম যখন বেবি তরমুজ ওঠে, তখন ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। তবে এখন দাম কমে ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ খুব বেশি থাকে না বলে এসব তরমুজ বাজারে আনলে নিমেষেই বিক্রি হয়ে যায়।

ভোলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও গ্রামীণ জনোন্নয়ন সংস্থার (জিজেইউএস) কৃষি ইউনিটের সহযোগিতায় ভোলায় বছর চারেক আগে প্রথমবারের মতো বেবি তরমুজের আবাদ শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ভোলায় এখন বাণিজ্যিকভাবে অনেকেই বেবি তরমুজের আবাদ শুরু করেছেন।

জিজেইউএসের কৃষি ইউনিটের উপপরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, ১ বিঘা বা ৩৩ শতাংশ জমিতে বারোমাসি তরমুজের আবাদ করতে সর্বোচ্চ ৪৫-৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। ১ বিঘা জমিতে ১ হাজার ২০০টি পর্যন্ত চারা রোপণ করা যায়। ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে প্রতি বিঘা জমিতে সর্বনিম্ন ২ হাজার ৪০০ ফল উৎপাদন করা সম্ভব, যা ওজন করলে দাঁড়ায় ৫ থেকে সাড়ে ৫ মেট্রিক টন। অর্থাৎ সর্বনিম্ন ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও দুই থেকে আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, বারোমাসি বেবি তরমুজ কৃষি খাতে এক অনন্য সংযোজন। আগে এ জাতের তরমুজ বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো। তবে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে এ তরমুজ এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। কম জমিতে এ ফল আবাদ করে অল্প সময়ে ফলন পাওয়া যায় বলে কৃষকদের কাছে এটি দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।

ভোলা সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতা নেই, পানি জমে না এমন উঁচু জমিতে বারোমাসি বেবি তরমুজের আবাদে সফলতা আসবে। ‘সুইট ব্ল্যাক’ বা কালো জাত, নতুন ‘গোল্ডেন ক্রাউন’ বা হলুদ জাতসহ কয়েকটি বারোমাসি বেবি তরমুজের জাত ভোলার কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার করছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৭, ২০২১ ৩:৪২ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ে খেজুরের গুড় তৈরীর ব্যস্ততা
কৃষি বিভাগ

শীতকালে খেজুরের রস আহরণ ও তা থেকে গুড় বানানোর দৃশ্য গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ। কুয়াশামাখা ভোরে এমনই সৌন্দর্যের দেখা মেলে, ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের একটি আখের খামাড়ে গড়ে তোলা বিশাল খেজুর বাগানে। যেখানে অর্ধ সহস্রেরও বেশি খেজুর গাছ রয়েছে। কাকডাকা ভোরে গাছ থেকে রস সংগ্রহ আর গুড় তৈরি দেখার পাশাপাশি তা কিনতে ভীড় করেন অনেকে। 

এক সময় গ্রামাঞ্চলে মেঠো পথের দুপাশে সারিবদ্ধ খেজুর গাছের দেখা মিলতো। কালের বির্বতনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার এই মধুবৃক্ষ। তবে, এখনও অনেক জায়গাতেই দেখা মেলে। আবার কোথাও কোথাও গড়ে তোলা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে খেজুর বাগান। ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের মোহন আখের খামারে প্রায় ১০একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত এই বাগানে ছয়শ’রও বেশি খেজুর গাছ আছে।

সারি সারি খেজুর গাছের মনোরম এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভীড় করছেন অনেকে। কুয়াশায় মোড়ানো শীতের সকালে সবুজের এই স্নিগ্ধ সমারোহ মুগ্ধ করবে যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমীকে।

শীত মৌসুমে খেজুরের গাছে গাছে ঝুলছে রস সংগ্রহের হাঁড়ি। সারারাত এসব হাড়িতে জমে সুস্বাদু খেজুর রস। ভোরে সূর্য ওঠার আগেই সেসব হাঁড়ি গাছ থেকে নামানো হয়, এরপর জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় পাটালি গুড়।

গুড় তৈরির এই দৃশ্য দেখতে ভোর থেকেই দর্শনার্থীরা ভিড় করেন খেজুর বাগানে। অনেকে কিনে নিয়ে যান গুড়। আবার খেজুরের রসও কেনেন অনেকে।

চলতি মৌসুমে এই খেজুর বাগান লিজ নিয়ে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি করছেন রাজশাহীর একদল গাছি। এখানকার সংগ্রহ করা রস দিয়ে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ কেজি গুড় উৎপাদিত হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৭, ২০২১ ১:০৯ অপরাহ্ন
বেতাগীর ১৮ হাজার কৃষকের মাথায় হাত
কৃষি বিভাগ

উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদে ধান-সবজির পাশাপাশি পানির নিচে তলিয়ে গেছে খেসারি বোনা চাষিদের স্বপ্ন। অসময়ে বৃষ্টির কারণে ডুবে গেছে খেসারি ডাল ও আমনের মাঠ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন উপজেলার প্রায় ১৮ হাজার চাষি।

চাষিরা বলছেন, রোপা আমন কেটে ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে গত ৩-৬ ডিসেম্বর হঠাৎ এ দুর্যোগ তাদের পথে বসিয়েছে। পানি কিছুটা কমে গেলেও ধানি জমিতে যে খেসারি বুনেছিলেন তা অঙ্কুরিত হলেও সেগুলো পচে গেছে ইতোমধ্যে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খেসারি বোনার সব ধানি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে রয়েছে। প্রতিটি জমিতেই মাটিতে মিশে যাওয়া ধান গাছের ভেতরে লুকায়িত রয়েছে সদ্য অঙ্কুরিত খেসারিগাছ।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৮০০ হেক্টর উঁচু ধানি জমিতে প্রতিকেজি বীজ ডাল ৬০ টাকা দরে ক্রয় করে ৬ হাজার ৫০০ কৃষক খেসারি ডাল বুনেছিলেন। চাষিদের দেওয়া তথ্যমতে, কৃষকের সংখ্যা ১৮ হাজারেরও উপরে ও আবাদকৃত জমির পরিমাণ ১০ হাজার ৯৬১ হেক্টর। কিন্ত জাওয়াদে আবাদকৃত ২ হাজার ৮০০ হেক্টরের প্রায় সব জমির ফসল পানির কারণে পচে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক খেসারি বোনা চাষি জানান, পানিতে ডুবে থাকায় খেসারিগাছ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিবিচিনি ইউনিয়নের পুটিয়াখালী গ্রামের প্রান্তিক চাষি সুকুমার হাওলাদার বলেন, ধার-দেনা করে ধানি জমিতে খেসারি বুনেছিলাম। পানি জমে থাকায় অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় আছি।

বেতাগী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর এ মৌসুমে অধিক লাভ পাওয়ার আশায় ধানি জমিতে এ এলাকার চাষিরা খেসারি বুনে থাকে। তাই তিনিও খেসারির চাষ করে আগের লোকসান সামাল দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি আরও বলেন, এবার তো তাতে কয়েকগুণ লোকসান গুণতে হবে। সব স্বপ্ন পানিতেই ডুবে গেল। কথা হয় বেশ কয়েকজন চাষির সঙ্গে। তাদের সকলেরই একই বক্তব্য।

এসব বিষয় নিশ্চিত করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, অসময়ে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে হয়ে যাওয়া বৃষ্টি কৃষকের ধানক্ষেতে পানি জমে খেসারির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৬, ২০২১ ৩:৩৪ অপরাহ্ন
দিনাজপুরে ধানের গাদায় আগুন, পুড়ল ১২ বিঘা জমির ধান
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুর সদরে ধানের গাদায় আগুন লেগে ১২ বিঘা জমির সুগন্ধি ধান পুড়ে গেছে। এতে চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে দিনাজপুর সদর উপজেলার বড়ইল গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বিকেলে বাড়ির পাশের ক্ষেতে গাদা করে রাখা সুগন্ধি জাতের কাটারি ধানে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভায়। তার আগেই আগুনে পুড়ে যায় ধানের সাতটি গাদা। এতে ১২ বিঘা জমির চার লক্ষাধিক টাকার সুগন্ধি ধানও পুড়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ওই গাদাগুলোর মধ্যে ওই এলাকার দিলিপ রায়ের আট বিঘা জমির ধান, রনজিত রায়ের দুই বিঘা জমির এবং জলধর রায়ের দুই বিঘা জমির ধান ছিল।

ক্ষতিগ্রস্ত জলধর রায় বলেন, বিকেলে আগুন দেখেই আমরা ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দেই। কীভাবে আগুন লেগেছে, তা জানি না। তবে শুনেছি দু’টি ছেলে নাকি আগুন লাগিয়ে দিয়ে পালিয়েছে। বিষয়টি আমরা পুলিশকেও জানিয়েছি।

এ বিষয়ে দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মঞ্জিল হক বলেন, সংবাদ পাওয়ামাত্রই আমাদের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভায়। সিগারেটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৬, ২০২১ ৩:০০ অপরাহ্ন
ফেসবুকে ভিডিও দেখে তরমুজ চাষ করে সফল হাবিবুর
কৃষি বিভাগ

ফেইবুকে তরমুজ চাষের ভিডিও দেখে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে শীতকালীন তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন উচ্চ শিক্ষিত যুবক হাবিবুর রহমান। খেতে মিষ্টি ও সু-স্বাদদু হওয়ায় ক্ষেত থেকেই তরমুজ বিক্রি হয়ে যায়। এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায় কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তরমুজ চাষিদের কারিগরি সহায়তা দেয়া হয়।

সিলেটের এমসি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে লেখাপড়া শেষে  দীর্ঘ দুই বছর বেকার ছিলেন হাবিব। পরে ফেইবুকে যশোর এলাকার এক তরমুজ চাষির দেয়া ভিডিও দেখে রূপরাম হাওরের পতিত জমিতে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। গেলবার ৫০ শত জমিতে সুইটব্যাক থাই ও ইয়েলো ডায়না জাতের তরমুজ চাষ করে লাভবান হন। এবার ১০০ শত জমিতে দুই জাতের তরমুজ চাষ করেছেন এতে ১১ টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে যার বাজার দর ৫ লাখ টাকা। ১০০ শতক জমিতে ম্যালাচিং পদ্বদিতে তরমুজের চারা তৈরি থেকে পরিপক্ক হওয়া পর্যন্ত তার ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

এলাকাবাসী ও চাষিরা জানান, দেখতে সুন্দর ও খেতে মিষ্টি তরমুজের বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তরমুজ চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, ফেইসবুকে তরমুজ চাষের ভিডিও দেখে তিনি তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ফরিদুল হাসান বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে  তরমুজ চাষিদের কারিগরি সহযোগিতা করা হয়। এ বছর জেলায় ৫৬০ হেক্টর জমিতে তরমুজ  চাষের লক্ষমাত্রা র্নিধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।  প্রতিকেজি তরমুজের পাইকারি বাজার দর ৫০ টাকা।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop