১০:২৮ অপরাহ্ন

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২২ ৪:১০ অপরাহ্ন
মাঘের হঠাৎ বৃষ্টিতে আলু চাষে ক্ষতির আংশকা
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুরের হিলিতে হঠাৎ বৃষ্টিতে আবাদি আলুর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।কয়েকদিন পর থেকেই ক্ষেত থেকে আলু  তোলা হবে। এরই মধ্যে অসময়ের বৃষ্টিতে আলুর চাষের জমি এখন পানির নিচে। এই অবস্থায় যদি বৃষ্টি আরও  ২ থেকে ৩দিন থাকে তাহলে আলুর আবাদে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করছেন কৃষকরা ।

আলু চাষি আবুল কালাম আাজাদ বলেন, হঠাৎ বৃষ্টিতে আলুর জমিতে পানি উঠেছে।এখন  জমে থাকা পানিগুলো সেচ দেওয়া হচ্ছে। পুনরায় বৃষ্টি হলে ব্যাপক ক্ষতি হবে।

তিনি আরও জানান, যদি রোববার ও সোমবার  রোদ ওঠে তাহলে আলুর আবাদে ক্ষতিটা কম হবে।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ডা. মমতাজ সুলতানা বলেন, বর্তমানে উপজেলার ৪শ’ হেক্টর জমির আলু এখন পানির নিচে।

তিনি বলেন,উপজেলাতে এবার আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমিতে। চলতি শীত মৌসুমে আলুর চাষাবাদ হয়েছে ৯৪৫ হেক্টর জমিতে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিনাজপুরে সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারাদেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে ৩০ দশমিক ৩ মিলিমিটার।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২২ ১২:৩৫ অপরাহ্ন
বেগুনী রঙের বাঁধাকপি চাষে সফল গাইবান্ধার বেলাল
কৃষি বিভাগ

বেগুনী রঙের বাঁধাকপি চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন গাইবান্ধার কৃষক বেলাল হোসেন। নতুন জাতের এই সবজির ফলন ভালো আর দাম বেশি পাওয়ায় লাভবান হয়েছেন তিনি।

বেলাল হোসেনর এই  সাফল্য দেখে এলাকার অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বেগুনী বাঁধাকপি চাষে। এজন্য পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ভাষারপাড়া গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মরিচ, আলু, টমেটো, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন তিনি।

এবার নতুন জাতের সবজি, বেগুনী রংয়ের বাঁধাকপি চাষ করে লাভবান হয়েছেন তিনি। দু’টি জমিতে ১০ হাজার বাঁধাকপির চারা রোপন করেন। কিছু দিন পরেই সারি সারি বেগুনী বাঁধাকপিতে ভরে যায় ক্ষেত। পাইকারি বিক্রি করছেন প্রতি পিস ২৫-৩০ টাকায়।

আলাদা সার ও কীটনাশক ছাড়াই ভালো ফলন হয়েছে এই বাঁধাকপির। বেলালের সফলতা দেখে স্থানীয় অনেক চাষীই আগামীতে বেগুনি রঙের এই বাঁধাকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেন জানান,বেগুনী বাঁধাকপি চাষে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে কৃষক বেলাল হোসেনকে।

তিনি বলেন, আগামীতে জেলায় বেগুনী রঙের বাঁধাকপির চাষ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২২ ১২:১২ অপরাহ্ন
ঝালকাঠিতে সমলয় পদ্ধতিতে বোরো ধানের চারা রোপণ উদ্বোধন
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): ঝালকাঠিতে সমলয় পদ্ধতিতে বোরো ধানের চারা রোপণের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী।

বৃহস্পতিবার  নলছিটির ষাটপাকিয়ায় উপজেলার কৃষি অফিসের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের জমি কমেছে। বাড়ছে জনসংখ্যা। বাড়তি মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজন ফসলের উৎপাদন বাড়ানো। আর এ জন্য দরকার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার। এর অংশ হিসেবে সমলয় পদ্ধতি খুবই কার্যকর। এর মাধ্যমে আবাদখরচ হ্রাস পায়। সময়ও লাগে কম। রোগপোকাকে করা যায় সহজভাবে নিয়ন্ত্রণ। তাই চাষাবাদে কৃষকরা লাভবান হন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহি অফিসার রুম্পা শিকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আলী আহমেদের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিএই’র অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. রিফাত শিকদার, উপজেলা কৃষি অফিসার ইসরাত জাহান মিলি, উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মোর্শেদা লস্কর, জেলা পরিষদের সদস্য খন্দকার মজিবুর রহমান, কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা এস. এম. নাহিদ বিন রফিক, ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম আব্দুল হক, মোল্লার হাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম. সাইদুর রহমান মিন্টু, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. কাজল হোসেন, ভৈরবপাশার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, স্থানীয় ইউপি. সদস্য শাহিন চৌধুরী, প্রদর্শনীচাষি সবুজ জোমাদ্দার প্রমুখ।

উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, ৫০ একর বিশিষ্ট এ সমলয়প্লটে কৃষকের সংখ্যা ৮২ জন। তাদের ৩ শ’ কেজি হাইব্রিড ধানের বীজ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪.৫ টন ইউরিয়া, ৩ টন ডিএপি এবং এমওপি সার দেওয়া হয়েছে ২.৫ টন। অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২২ ৪:২৩ অপরাহ্ন
নদী ও খাল ভরাট হওয়ায় কৃষিতে সেচ বিঘ্নিত
কৃষি বিভাগ

অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে, নাব্যতা হারিয়ে পানিশূণ্য হয়ে পড়েছে নেত্রকোনার বেশিরভাগ নদী ও খাল। পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারছেনা কৃষকরা। ফলে অনাবাদি পড়ে থাকছে নদী তীরে অনেক ফসলি জমি। এ অবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব নদী খননের দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

শিগগিরই ভরাট হয়ে যাওয়া নদীগুলোতে খনন কাজ শুরুর আশ্বাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নেত্রকোনায় মগড়া, সোমেশ্বরীসহ ছোট-বড় ৫৭টি নদ-নদী রয়েছে। কিন্তু দিন দিন দখল আর দূষণে, ভরাট হয়ে গেছে জেলার বেশিরভাগ নদী। আশেপাশের ফসলি জমিগুলোতে পানি সেচ দেয়ার উপায়ও নেই এখন। ফলে অনাবাদি হয়ে পড়েছে নদী তীরোবর্তী অনেক ফসলী জমি। সেচযন্ত্র বসিয়ে ক্ষেতে পানি দিতে গিয়ে গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। নদীর পুরনো রূপ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত খনন কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন কৃষক ও স্থানীয়রা।

স্থানীয় গবেষকরাও বলছেন কৃষি, প্রাণ বৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় নদী খননে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এদিকে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ধাপে ধাপে খনন কাজ বাস্তবায়ন ও দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান, নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহনলাল সৈকত।

সরকার দ্রুত নদী খনন করে পরিবেশের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা নেত্রকোনাবাসীর।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২২ ৩:২৯ অপরাহ্ন
চালের দাম কেন নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না জানালেন কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

আমন মৌসুমে উৎপাদন ভালো হলেও অগ্রহায়ণ মাসে চালের দাম বাড়ছে। মোটা চালের দামও বাড়ছে। নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চালের দাম কেন রাখা যাচ্ছে না তা জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিবিদ ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমে তিনি কারণগুলো উল্লেখ করেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য-শস্যের দাম বাড়ার পেছনে এবার অনেকগুলো কারণ আছে। করোনা মহামারির কারণে এ বছর আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিকভাবে খাদ্য-শস্যের দাম বেড়েছে। সারের দাম বেশি। এ বছর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন ৪৫০ ডলারে গম বিক্রি হচ্ছে। আমরাও কিনছি। যেটা আগে ৩০০ ডলারের বেশি কোনো দিন ছিল না। ৪ গুণ বেড়েছে সারের দাম।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রতি বছর ২৪ লাখ নতুন মুখ যোগ হচ্ছে। পৃথিবীর অনেক দেশে ২৪ লাখ মানুষ নেই। ১০ লাখ রোহিঙ্গা, তাদেরও আমাদের খাওয়াতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের ওপর চাপ বাড়াতে; গম না খেয়ে মানুষ বেশি চাল খাচ্ছে। গত অর্থবছর এই সময় প্রায় ৪৮ লাখ টন গম আমদানি হয়েছিল। এ বছর জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানি হয়েছে মাত্র ১৭-১৮ লাখ টন। মনে হচ্ছে, এই অর্থবছরে ৩০ লাখ টন গমও আমদানি হবে না। তাতে চালের ওপর প্রভাবটা পড়ছে। পশু খাদ্য হিসেবেও চাল ব্যবহৃত হয়। সেটাও একটা কারণ।

মানুষের আয় বাড়ছে, যারা আগে একবার খেতে তারা এখন দুবার খায়। যারা দুবার খেত তারা ৩ বার খায়। চর-হাওর এলাকার মানুষ খাবারের কষ্ট করতো, তাদের আয় বেড়েছে, তাদের ওই রকম অভাব নেই—তারাও বেশি খায়। সার্বিকভাবে চাহিদা বেড়েছে। এই চাহিদা মেটানোর জন্য অবশ্যই আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হবে, বলেন রাজ্জাক।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের জনসংখ্যা বাড়ছে এবং জমির পরিমাণ প্রতিনিয়ত কমছে। শিল্প কারখানা, বাড়ি-ঘর, বিভিন্ন অকৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য আমাদের অনেক উর্বর-আবাদি জমি চলে যাচ্ছে। ২০১৫-১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কৃষি উৎপাদন, বিশেষ করে দানা জাতীয় খাদ্য উৎপাদনে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাই। ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিদেশ থেকে আমাদের তেমন চাল আমদানি করতে হয়নি। সরকারি পর্যায়ে একদমই করা হয়নি, বেসরকারি পর্যায়ে সরু চাল এসেছে।

সিলেট-ময়মনসিংহ হাওর এলাকায় ২০১৭ সালে ভয়াবহ বন্যা হয়। ধানের প্রচণ্ড ক্ষতি হয়, তখন চাল আমদানির জন্য আমরা শুল্ক কমিয়ে দিয়েছিলাম। ফলে চালের দাম কমে যায়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২০ সাল পর্যন্ত অব্যাহতভাবে চালের দাম কমতে থাকে। পরে শুল্ক বাড়ানো হলে চালের দাম বেড়ে যায়। চালের দাম সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা যাচ্ছে না। মোটা চালের দামও বাড়ছে, গত ৮-৯ মাস যাবত আমরা লক্ষ করছি। গত আমন উৎপাদন একটু খারাপ হয়েছিল, এবার ভালো হয়েছে। গতবার বোরোর উৎপাদন খুবই ভালো হয়েছে। তারপরও নবান্নের মাস, অগ্রহায়ণ মাসেও আমরা দেখছি চালের দাম বাড়ছে—বলেন কৃষিমন্ত্রী।

বোরো ধান চাষ সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে অসঙ্গতি থাকায় সরকার অস্বস্তিতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেকটা ইউনিয়নে আমাদের একজন করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আছেন। তার এলাকায় কতটুকু জমিতে কী পরিমাণ বোরো হয়েছে এবং কী কী ধরন আছে এটা বের করা কঠিন না। কেন এটা আমরা পারছি না। এই পরিসংখ্যান নিয়ে একটা অস্বস্তির মধ্যে আছে সরকার।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২২ ২:৫৮ অপরাহ্ন
সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রিতে আগ্রহ নেই কৃষকদের
কৃষি বিভাগ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সরকারি দর আর বাজার দর খুব বেশি পার্থক্য না হওয়া, ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা নেওয়া, কড়াকড়ি আরোপসহ নানা ঝামেলার কারণে কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে অনাগ্রহী।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর থেকে শুরু করা হয়েছে ধান সংগ্রহ অভিযান। চলতি বছরে কৃষকদের কাছ থেকে মোট ৪৩৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। সে অনুযায়ী ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে কৃষক বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতি কেজি ধানের সরকারি মূল্য ধরা হয়েছে ২৭ টাকা।

তবে ধান সংগ্রহ অভিযানের প্রায় তিন মাসে এ উপজেলায় ৪৩৫ মেট্রিক টনের মধ্যে মাত্র ৮৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার দিক দিয়ে একেবারেই সামান্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারিভাবে ধানের মূল্য ২৭ টাকা কেজি। সে অনুযায়ী এক মণ ধানের দাম ১ হাজার ৮০ টাকা। কিন্তু বাজারে প্রতি মণ ধান ১১০০ থেকে ১১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও কৃষকদের ভাষ্য, সরকারিভাবে ধান বিক্রি করতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। এজন্য খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে অনীহা কৃষকদের। বিশেষ করে শুকনো ছাড়া গুদামে ধান নেওয়া হয় না। ধানের মূল্য পেতেও নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় তাদের।

উপজেলার শহীদনগর ইউনিয়নের ঈশ্বরদী গ্রামের কৃষক আবু সাইদ, আফজাল হোসেন, কদম শেখ, আব্দুল মান্নান মাতুব্বর বলেন, আমরা সাধারণ হাট-বাজারে ধান বিক্রি করে যে সুবিধা পাই, গুদামে সেই সুবিধা পাই না। অনেক নিয়ম কানুন। অফিসারদের অসহযোগিতা, গুদামে অনেক কড়াকড়িভাবে ধান নেওয়া হয়। বেশি শুকাতে হয়, পরিষ্কার করতে হয়। তাছাড়া বাজারের চেয়ে গুদামে ধানের দামও কম। তাই আমরা গুদামে ধান বিক্রি করতে অনাগ্রহী।

তারা আরও বলেন, সরকারিভাবে ধান বিক্রি করলে টাকা নিতে হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকতে হয়। অনেক চাষির অ্যাকাউন্টও নেই।

লস্করদিয়া ইউনিয়নের জুংগরদী গ্রামের কৃষক আকবর মোল্লা, টোকন মোল্লা, আসাদ মাতুব্বর বলেন, আমরা যেখানে দাম বেশি পাবো, সেখানেই বিক্রি করবো। সরকারি দামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম বেশি, তাই বাজারেই বিক্রি করছি। এছাড়াও হাট-বাজারে নিজেদের ইচ্ছামতো বিক্রি করতে পারি। আর গুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে অনেক নিয়ম কানুন আর ঝামেলা।

এ ব্যাপারে নগরকান্দা উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আজাহার আলী বলেন, আমরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে ধান সংগ্রহের কাজ শুরু করি। কিন্তু কৃষকরা আমাদের কাছে ধান বিক্রি করছেন না।

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন, ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে। নানাভাবে কৃষকদের এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এমনকি কৃষকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়েও অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু তারা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে অনাগ্রহী এবং আসছেন না। আবার সরকারি দামের চেয়ে সাধারণ হাট-বাজারে ধানের মূল্য বেশি, যে কারণে কৃষকরা ধান বিক্রিতে গুদামমূখি হচ্ছেন না।

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেতী প্রু বলেন, সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করার জন্য প্রচার প্রচারণাসহ নানাভাবে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২২ ১:১৩ অপরাহ্ন
মাদারীপুরে বোরো ধানের চারা সংকট
কৃষি বিভাগ

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে বীজতলার ক্ষতি, জমিতে জলাবদ্ধতা ও চারা সংকটে মাদারীপুরের বোরো আবাদে পিছিয়ে পড়েছে কৃষকরা। অন্য বছর এসময়ে বোরো আবাদ শেষ পর্যায়ে হলেও, এ বছর অনেক জমিতে চারা রোপন করতে পারেননি। কৃষি শ্রমিকের মজুরি ও ডিজেলের দাম  বেশি হওয়ায় আবাদে খরচ পড়ছে বেশি। 

মাদারীপুর সদর, কালকিনি, রাজৈর, ডাসার ও শিবচর উপজেলায় ব্যাপকভাবে বোরো ধানের চাষ হয়। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে বীজতলার ক্ষতি হওয়ায় ধানের চারার  সংকট দেখা দেয়। এছাড়া জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে অনেক জমি। এতে আবাদে পিছিয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এখন তড়িঘড়ি আবাদ করতে গিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

প্রতিবছর এসময় বেশিরভাগ জমিতে চারা রোপন হয়ে যায়। শেষ সময়ে কৃষি শ্রমিক ও ডিজেলের দাম বেশি খরচও পড়ছে বেশি। কৃষকরা জানালেন, অন্য বছর বোরো আবাদে যেখানে বিঘা প্রতি পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা খরচ হয়, এবার সেখানে খরচ হচ্ছে দশ থেকে বারো হাজার টাকা।

এদিকে, বোরোর বীজতলা তৈরি ও চাষাবাদে কৃষকদের প্রণোদনা, কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের  উপ-পরিচালক মো: মোয়াজ্জেম হোসেন। এবার মাদারীপুরে ৩৩ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২২ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন
সূর্যমুখী ফুলে সফলতা পাচ্ছে চাষিরা
কৃষি বিভাগ

বর্তমানে দেশে সূর্যমুখী পরিচিত একটি ফুল। এর তেল মানে-গুণে অনন্য। সারাবিশ্বেই এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশেও সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয়েছে ব্যাপক হারে। বাণিজ্যিকভাবে সুফল পাচ্ছে চাষিরা।

সিরাজগঞ্জ জেলায় সূর্যমূখী ফুলের চাষ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। ফুলে ফুলে ভরে গেছে ফসলের মাঠ। গত কয়েক বছরে সুর্যমূখী ফুল চাষে সাফল্য পেয়েছে ফুল চাষীরা। ফুলের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার সদর, কামারখন্দ, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর, তাড়াশ, কাজীপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ উপজেলায় ২৬৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে। যেটার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৮০ হেক্টর।

কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কৃষককে বীজ বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি গাছে একটি করে ফুল আসে। বীজ বপনের পর ফসল সংগ্রহ করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। হেক্টরপপ্রতি ১.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। সূর্যমুখীর তেল অন্যান্য রান্নার তেল হতে ভাল এবং হৃদরোগীদের জন্য বেশ কার্যকর।

সূর্যমুখী চাষ করে শুরু থেকেই সফলতার মুখ দেখছেন কৃষকরা। যদি কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে সুর্যমুখী চাষ করে দ্বিগুণ লাভ করতে পারবেন। ফলে একদিকে উপকৃত হবে কৃষক অপর দিকে মিটবে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা।

সদর উপজেলার বহুলী ইউপির ধীতপুর আলাল গ্রামের কৃষক আলী আকবর বলেন, আমি সারা বছর ধান, গম, ও সবজিরর চাষ করি। গত দুই বছর হলো সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছি। এবারো ১ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ শুরু করেছি। আমার সূর্যমুখী ক্ষেত ফুলে ফুলে ভরে গেছে। জমিতে এক একটি ফুল যেন হাসিমুখে সুর্যের আলো ছড়াচ্ছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে গত বছরের চেয়ে এবারও ভাল লাভের আশা করছি।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা চরের ইউসুফ আলী বলেন, যমুনার চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। আমার পতিত ৪ বিঘা জমিতে এবার সূর্যমূখী ফুল চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও পেয়েছেন ভালো। প্রতি বিঘা জমিতে ৪ হাজার টাকা খরচ করে বিঘা প্রতি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

কাজীপুর উপজেলার ভানুডাঙ্গা গ্রামের ফুল চাষী আনোয়ার হোসেন বলেন, আগে ধান, গম, ভুট্রা, চাষ করতাম। খুব একটা লাভ হতো না। গত ৫ বছর যাবত ফুল চাষ করি। সূর্যমুখী ফুলের খুব চাহিদা, ফলনও ভাল হয়। ধান গমের তুলনায় অনেক লাভ পাই। আগামীতেও ফুলের চাষ করব আশা করছি।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আবু হানিফ জানান, জেলায় জমি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী, এ বছর সূর্যমুখী ফুলের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৮০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ২৬৪ হেক্টর। এবার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হয়নি। বর্তমানে সূর্যমুখী ক্ষেতের যে অবস্থা তাতে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছে কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২, ২০২২ ৪:৪২ অপরাহ্ন
বিষমুক্ত সবজি চাষ করেন ছোটমৌশা গ্রামের ২৫ চাষি
কৃষি বিভাগ

মানুষকে বিষমুক্ত শাকসবজি খাওয়ানোর সংকল্পে এক জোট হয়েছেন একটি গ্রামের ২৫ জন চাষি। গত শীত মৌসুম থেকে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব, রাসায়নিক সার ও রাসায়নিক বালাইনাশক ছাড়া সবজি আবাদ করছেন তাঁরা। এতে উৎপাদন একটু কম হলেও মানুষকে অন্তত বিষমুক্ত শাকসবজি খাওয়াতে পারছেন তাঁরা। এক জোট হওয়া চাষিরা টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের ছোটমৌশা গ্রামের বাসিন্দা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, অর্গানিক কৃষি গ্রাম হচ্ছে একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। দেশের প্রতিটি উপজেলায় এ ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কৃষিকে বিষমুক্ত করতেই এই উদ্যোগ। এতে কৃষকদের সাড়া মিলছে প্রচুর।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের চারদিক সবুজ সবজির খেত। গ্রামের সাত একর জমিতে চাষ হয়েছে বিষমুক্ত নানা রকম সবজি। জমিতে আছে শিম, শসা, কাঁকরোল, করলা, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, ধনেপাতা, বেগুন ইত্যাদি।

ওই কৃষক দলের একজন ককেন চন্দ্র। তিনি ৪৫ শতক জমিতে শিম চাষ করেছেন। ১ মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১০০ কেজি করে শিম বাজারে বিক্রি করছেন। ককেন বলেন, ‘আগে আমরা জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতাম। এর মাধ্যমে বহু বছর হাইব্রিড জাতের শাকসবজি আবাদ করেছি। এতে ফলন বেশ ভালো হতো। তবে আমরা জানতাম না, এসব ফসল বিষাক্ত এবং এসব খেয়ে মানুষ নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। কৃষি বিভাগ থেকে জানতে পারি, রাসায়নিক সার, কীটনাশক প্রয়োগে জমির ফসল বিষে পরিণত হয় এবং মাটি উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলে। আমরা গেল বছর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, আর মানুষকে বিষ খাওয়াব না। বর্তমানে আমাদের গ্রামের সবাই নিরাপদ সবজি আবাদে সংকল্পবদ্ধ হয়েছেন।’

গ্রামের চাষিরা সম্মিলিতভাবে গর্ত খুঁড়ে গৃহস্থালি বর্জ্য দিয়ে তৈরি করছেন কম্পোস্ট সার। কেউ কেউ ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সারও তৈরি করছেন। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে জৈব বালাইনাশক। এসব ফসলের জমিতে প্রয়োগ করে মিলছে ভালো ফলন। ওই গ্রামের কিষানি শ্যামলী রানী কেঁচো সার তৈরিতে বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছেন। মাত্র ১৫ দিনের মাথায় জৈব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করেন তিনি। এই সার জমিতে প্রয়োগ করলে অনেক ভালো ফলন মেলে বলে জানান শ্যামলী রানী।

গ্রামের আরেক নারী কৃষক রত্না বেগম বলেন, তিনি এবার ৫০ শতাংশ জমিতে শিম ও কাঁকরোল আবাদ করেছেন। শিম শেষ হলে একই মাচাতেই তিনি কাঁকরোল আবাদ করবেন। কৃষি বিভাগ থেকে জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন তিনি।

গ্রামের সোহেল রানা নামের এক শিক্ষিত যুবক দেড় একর জমিতে মিষ্টিকুমড়ার আবাদ করেছেন। তাঁর খেতের মাঝে স্থাপন করেছেন ‘সেক্স ফেরোমন ফাঁদ’। এটি হচ্ছে কীটপতঙ্গ দমনের জৈব পদ্ধতি। এই ফাঁদ ব্যবহারে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, এটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি, যা মানুষ বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না। সুতরাং এটি পরিবেশবান্ধব। এই পদ্ধতিতে প্লাস্টিক বক্স ব্যবহার করা হয়। যার দুই পাশে তিন কোনা ফাঁক থাকে। পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট করতে স্ত্রী পোকার শরীর থেকে নিঃসৃত একরকম প্রাকৃতিক রাসায়নিক পদার্থ বা স্ত্রী পোকার গন্ধ ব্যবহার করা হয় ফাঁদে। এর আকর্ষণে পুরুষ পোকা ফাঁদের দিকে ধেয়ে আসে এবং ফাঁদে পড়ে মারা যায়। এতে জমির ফসল নিরাপদ থাকে।

নিরাপদ সবজি গ্রাম ছোটমৌশার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, অতীতে এসব কীটদমনে ব্যবহৃত হতো বিষাক্ত কীটনাশক। সেক্স ফেরোমন ফাঁদ বা গন্ধ ফাঁদ ব্যবহার করায় জমির ফসল নিরাপদ থাকছে। খাদ্যমান ও পুষ্টি সঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মানুষ নিরাপদ সবজি খেতে পারছে।

এ নিয়ে কথা হয় সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিয়ন্তা বর্মণের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিষমুক্ত সবজি চাষাবাদে গ্রামের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। আগ্রহী ২৫ জনের একটি দল গঠন করা হয়েছে। ওই দলের নামকরণ করা হয়েছে সমন্বিত বালাই দমন দল। এই কার্যক্রমে গ্রামের কৃষকেরা শতভাগ সফল হয়েছেন। উপজেলার ছোটমৌশা নামের গ্রামটি এখন বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে হবে বিষমুক্ত সবজির আবাদ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২, ২০২২ ৪:০০ অপরাহ্ন
কৃষকের হাতে পাট বীজ সত্তা সংরক্ষণে কাজ করছে শরীয়তপুর কৃষি বিভাগ
কৃষি বিভাগ

আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে কৃষকের হাতে পাট বীজ সত্তা সংরক্ষণে কাজ করছে শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

বাংলাদেশের পাট আবাদের সময় কৃষকদেরকে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ বীজ আমদানী নির্ভর। যে কারণে অনেক সময় মান সম্মত বীজের অভাবে উৎপাদন আশানুরুপ পাওয়া যায় না বলে বলছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। তাই পাটের বীজ সত্তা কৃষকের হাতে রাখতে ও মান সম্মত বীজ নিশ্চিতসহ আমদানী নির্ভরতা কমাতে কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি অধিদপ্তর আধুনিক ও উন্নত মানের ধান,গম-পাট বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্প এবং প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় নাবী পাট বীজ উৎপাদন কর্মসূিচ বাস্তবায়ন করছে।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো: আব্দুস সাত্তার জানান, শরীয়তপুরে প্রতি বছর দুই হাজার ৭’শ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়। এর জন্য আমাদের প্রায় ২১৬ মেট্রিক টন পাট বীজের প্রয়োজন হয়। আর এর অধিকাংশই আমদানী নির্ভর। ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমদানীকৃত বীজের সঠিক মান নিশ্চিত না হওয়ায় কৃষকরা উৎপাদন ঘাটতিতে পড়েন। এ সংকট দূও করতে বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার উন্নত মানের পাট বীজ উৎপাদনের মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। এতে করে কৃষকের হাতে বীজ সত্তা সংরক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি মানও নিশ্চিত হয়।

তিনি বলেন,কৃষকের নিজের হাতে বীজ থাকলে সঠিক সময় পাট আবাদ করতে পারলে বাড়বে উৎপাদনও। জেলায় এ বছর ৩৬ হেক্টর জমিতে কৃষক উন্নত মানের নাবী পাট বীজ উৎপাদন করছেন। আমরা আশা করছি ৩৬ হেক্টর থেকে আমরা ১৮ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদন করতে পারব। যা চাহিদার ১৬ শতাংশ পূরণ করবে। আমরা আশা করছি এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে আগামী ৫-৬ বছরের মধ্যে আমাদের পাট বীজের চাহিদার অনেকটাই নিজেদের বীজে পূরণ হওয়ার পাশাপাশি কমবে আমদানী নির্ভরতা। যা আমাদের কৃষিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

জাজিরা উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের কৃষক মো: আবুল হোসেন বলেন, অনেক সময় আমদানী করা প্যাকেট বীজ দিয়ে পাট আবাদ করে আমরা কাংখিত ফলন পাই না। আমরা যদি ভালো মানের বীজ উৎপাদন করতে পারি, তা হলে সঠিক সময়ে ভাল বীজ বপন করে ফলনও পাব ভালো।

একই উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের কৃষক আবুল মোল্লা বলেন, অনেক সময় আমরা বাইরের বীজ দিয়ে পাট আবাদ করলে ঠিক মতো গজায় না। আবার যে জাতের পাট আবাদ করি তাও ঠিক থাকে না। গত দুই বছর যাবত আমরা কৃষি বিভাগের কাছ থেকে পাওয়া বীজ দিয়ে তাদের পরামর্শে উন্নত মানের বীজ উৎপাদন করে আবাদ করে ভালো ফলন পাচ্ছি। এতে করে নিজেও আবাদ করতে পারছি এবং অন্য কৃষক ভাইকেও দিতে পারছি। এতে করে আমরা সঠিক সময়ে পাট আবাদ করতে এবং পারছি বীজ সত্তাও আমাদের হাতে থাকল।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop