১০:১১ পূর্বাহ্ন

বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ১৬, ২০২২ ১২:৩১ অপরাহ্ন
২৫ দেশে যাচ্ছে কচু ও লতি
কৃষি বিভাগ

কচু পুষ্টিকর সবজি হলেও এর পুষ্টি অনুযায়ী কদর নেই আমাদের দেশে। ফলে চাষাবাদও হয় কম। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে মাত্র পাঁচ-ছয় বছরের ব্যবধানে বড় সম্ভাবনা জাগিয়েছেন কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার কৃষকরা। এ অঞ্চলের কচু ও লতি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের পাশাপাশি রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশে। প্রবাসীদের পাশাপাশি বিদেশিদের কাছে দিন দিন এর কদর বাড়ছে।

সরেজমিনে বরুড়া উপজেলা ঘুরে জানা গেছে, কম খরচে বেশি লাভ এবং দীর্ঘদিন ফলন পাওয়ার কারণে কৃষকরা এখন বাণিজ্যিকভাবে কচু আবাদ করছেন। এরই মধ্যে কচুর উপজেলা হিসেবে ‘বিখ্যাত’ হতে শুরু করেছে বরুড়া। কচু আর লতিকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানও। এ অঞ্চলে কৃষকদের সাফল্য দেখে অন্যান্য জেলা থেকেও চারা সংগ্রহ করতে আসছেন কৃষকরা। গত মৌসুমে বরুড়া থেকে প্রায় এক লাখ কচুর চারা গেছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। স্থানীয় কৃষি বিভাগও কচুর উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগ ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, বরুড়ায় উৎপাদিত পানি কচু ও লতি বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি যাচ্ছে, দুবাই, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের প্রায় সব দেশে যাচ্ছে। আগে এই লতি ও কচু প্রবাসীদের মাধ্যমে গেলেও গত বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে রপ্তানি হচ্ছে।

চিটাগং ফ্রেশ ফ্রু্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হচ্ছে এই সবজি দুটি। প্রতিষ্ঠানটির সহসভাপতি এবং চিটাগং ফুডস ও ভেজিটেবলের স্বত্বাধিকারী মো. ইসমাইল চৌধুরী হানিফ বলেন, ‘আমরা ১৯৯৫ সাল থেকে বরুড়ার পানি কচু ও লতি রপ্তানি করছি। ২০১০ সালের পর থেকে ব্যাপক হারে রপ্তানি হচ্ছে এবং প্রতি বছরই বিদেশে এ দুটি সবজির চাহিদা বাড়ছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে যাচ্ছে দুবাই। আর ঢাকা বিমানবন্দর দিয়ে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ ২৫টির বেশি দেশে।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশিদের পছন্দ সবুজ লতি ও কচু। বরুড়ার এই দুটি পণ্যই সুস্বাদু, ফলে বিদেশিদেরও পছন্দের।’ তিনি আরো বলেন, ‘রপ্তানিতে আমাদের একমাত্র সমস্যা হচ্ছে সড়কে চাঁদাবাজি। বরুড়া থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম পণ্য আনতে পথে পথে চাঁদা দিতে হয়। এতে ক্রেতা পর্যায়ে দাম অনেক বেড়ে যায়। এ ছাড়া আর তেমন কোনো সমস্যা নেই।’

স্থানীয় পাইকার বা ব্যাপারীরা প্রতিদিনই কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কচু ও লতি সংগ্রহ করছেন এবং রপ্তানিকারকদের দিচ্ছেন। বাড়িতে নারীরা এসব লতি ও কচু পরিষ্কার করে আঁটি বাঁধেন। এতে অন্তত এক হাজার নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে।

চাষিরা বলছেন, তাঁরা সরাসরি রপ্তানিকারকদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারলে বেশি লাভবান হতেন। এখন লাভের একটা বড় অংশ খেয়ে ফেলে মধ্যস্বত্বভোগীরা। উপজেলার আগানগর গ্রামের বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমি ১৭ শতাংশ জমিতে লতি কচুর চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। বিক্রি করব প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো। প্রতি সপ্তাহে একবার লতি তুলে বিক্রি করি ব্যাপারীদের কাছে। গত ৪০ বছর ধরে আমরা লতি চাষ করছি। আগে না করলেও বর্তমানে আমাদের এলাকার বেশির ভাগ কৃষকই লতি চাষ করছেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ধান চাষের চেয়ে এখানে কচু চাষ বেশি লাভজনক। লতির ফলন শুরু হলে সাত দিন পর পর কৃষকরা তা বিক্রি করতে পারেন ৯ মাস পর্যন্ত। তিনটি ইউনিয়নে ব্যাপকহারে কচুর চাষ হচ্ছে। আমাদের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা প্রতিটি গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ-ছয় বছর আগে ধানের দাম কম থাকায় এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মানুষ কচু চাষে ঝুঁকে পড়েন। ওই সময় কৃষকরা কম খরচে বেশি লাভ এবং কচুর লতির ব্যাপক চাহিদা দেখে বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেন।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উপজেলার মোট ২৫০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কচুর চাষ হচ্ছে। উৎপাদন করছেন প্রায় চার হাজার চাষি। প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ২৫ টন পর্যন্ত লতি উৎপাদিত হয়। সময়ভেদে এসব লতি টনপ্রতি ২০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেন চাষিরা। এ উপজেলায় মূলত দুই জাতের কচুর চাষ হয়ে থাকে। এগুলো হলো লতিরাজ ও বারি পানি কচু-৩। এর মধ্যে লতিরাজ স্থানীয়দের কাছে লতি কচু নামে পরিচিত। এই কচু থেকে শুধু লতি সংগ্রহ করা হয়। আর পানি কচু থেকে মোটা সাইজের লতি, মূলসহ কচু সংগ্রহ করা হয়।

মো. নজরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘সরকারের ‘কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্প’ নামের একটি প্রকল্পে বরুড়া উপজেলা রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বিষমুক্ত উপায়ে কচুসহ সবজি উৎপাদনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৬, ২০২২ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
বরিশালে অষ্টাদশ বিসিএস ফোরামের উদ্যোগে বেঁদে সম্প্রদায়ের মাঝে কম্বল বিতরণ
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে বেঁদে সম্প্রদায়ের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। ১৪ জানুয়ারি সদর উপজেলার লাহারহাটে অষ্টাদশ বিসিএস ফোরামের উদ্যোগে এই বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এস এম আখতারুজ্জামান, ঝালকাঠির জেলা ও দায়রা জজ মো. শহীদুল্লাহ্, ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহযোগী অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ,

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঝালকাঠির উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সোহরাব হোসেন হাওলাদার প্রমুখ।

হাড়কাঁপানো এ শীতে কম্বল হাতে পেয়ে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠেছে নদীতীরবর্তী এলাকার বেঁদে সম্প্রদায়।এজন্য বেঁদে সর্দার জসিম উদ্দিন সংগঠনের সবাইকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ।

এ সময় ডিআইজি এস এম আখতারুজ্জামান বেঁদে সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের মধ্যে কেউ যদি কম্বল না পেয়ে থাকেন,  তাদেরও  দেওয়া হবে। পিছিয়েপড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আমাদের মানবিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৫, ২০২২ ৩:০০ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ে আলু নিয়ে বিপাকে চাষিরা
কৃষি বিভাগ

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ছয় টাকা দরে, তবুও মাঠে ক্রেতা নেই। উৎপাদিত আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। আগাম আলুর বাজারে ধস নামায় লোকসান হচ্ছে তাদের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে জেলার পাঁচ উপজেলায় এবার ২৭ হাজার ৬৪৭ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। ইতিমধ্যে ২ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমির আলু তোলা হয়েছে। আলু উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ২৪ মেট্রিক টন। বর্তমান বাজার দরে আলু বিক্রি করে প্রতি হেক্টরে (২৪৭ শতক) চাষিরা দাম পাচ্ছেন ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। আর প্রতি হেক্টর আলুর উৎপাদন খরচ হয় প্রায় ২ লাখ টাকা। গত বছর জেলায় ২৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। আর উৎপাদন হয়েছিল ৭ লাখ ৪১ হাজার ২৯৭ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগ বলছে, গত বছরের কিছু আলু মজুত থাকায় বাজার দর কম। পুরাতন আলু শেষ হলে দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

সদর উপজেলার ফকদনপুর এলাকার আলুচাষি এন্তাজুল ইসলাম বলেন, গত বছর আলুর দাম বেশি ছিল, কম ফলনেও ভালো লাভ হয়েছে। এবার বেশি ফলনেও লোকসান হচ্ছে।

সদর উপজেলার পটুয়া এলাকার আরেক আলুচাষি রকিবুল ইসলাম বলেন, সাড়ে পাঁচ একর জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। ছয় টাকা দরে আলু বিক্রি করে দাম পাচ্ছি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। এই টাকায় লাভ তো নয়, আসল টাকাও আসেনি।

উপজেলার বিমানবন্দর এলাকার আলুচাষি শাহজাহান আলী বলেন, প্রথম বার ৪০ একর জমিতে আলু লাগানোর কয়েক দিন পর বৃষ্টির কারণে বীজআলু মাটিতেই পচে যায়। আবারও সেই জমিতে আলু লাগাই। আলুর ফলন ভালো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ছয় টাকা কেজি বলছে, বিক্রি করিনি। কারণ এই দামে বিক্রি করলে অনেক টাকা লোকসান হবে।

ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার আলু ব্যবসায়ী সোহাগ আলী বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন জেলার আলু একসঙ্গে বাজারে আসায় চাহিদা কিছুটা কম। রাজধানীর আড়ত থেকে কোনো অর্ডার পাচ্ছি না। সে কারণে বাজারে দাম নেই।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, গত বছরের বাড়তি আলুর মজুত শেষ হলে বাজার অবস্থা ঠিক হবে। সেই সঙ্গে আলুর ফলন ভালো হলে চাষিদের লোকসান পুষিয়ে যাবে। চাষকৃত আলু এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থায় আছে। চাষিদের যে কোনো পরামর্শের জন্য কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে রয়েছে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৫, ২০২২ ২:২৬ অপরাহ্ন
মেহেরপুরে সরিষা চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে
কৃষি বিভাগ

মেহেরপুর জেলার বিস্তীর্ণ মাঠ যেন সবুজের মাঝে হলুদ ফুলের সমারোহ। হলুদে হলুদে মোড়ানো সরিষা ফুলে ছেয়ে আছে মেহেরপুরের মাঠ। প্রকৃতি সেজেছে তার আপন মহিমায়। মৌমাছির মৌ-মৌ গন্ধে সরব হয়ে উঠেছে সরিষা ক্ষেত ।

মেহেরপুরের বিস্তৃর্ণ মাঠ সরিষা ক্ষেত বলে দিচ্ছে বড় কোন প্রাকৃতিক দুূর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে  সরিষার বাম্পার ফলন হবে। কৃষকের চোখে আনন্দের ঝিলিক। চলতি বছরে মেহেরপুরে সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছে জেলা কৃষি সম্পাসারণ অধিদপ্তর।

সরিষার তেলের রয়েছে অনেক ওষুধি গুণ। আর সরিষার খৈল জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করে। এবং সরিষার গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া জমিতে সরিষার আবাদ করলে ওই জমিতে সরিষার পাতা পড়ে জমির খাদ্য চাহিদা অনেকাংশে মিটিয়ে থাকে।

সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ঘুরে ও সরিষা চাষিদের সাথে কথা বলে জানা  গেছে-  চলতি মৌসুমে  প্রতি বিঘা জমি থেকে ৭-৮ মণ সরিষা উৎপাদন হবে। লাভজনক এবং সরিষা চাষের অনুকূল পরিবেশের কারণে এবার চলতি রবি মৌসুমে  মেহেরপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ বেশী হয়েছে।  চলতি রবি শস্য মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সরিষাক্ষেতে রোগবালাই কম হওয়ায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

মেহেরপুর জেলা  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব মতে চলতি বছরে সরিষার অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু চলতি মৌসুমে জেলায় এবার ৪ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।

সদর উপজেলার শোলমারি গ্রামের সরিষাচাষি নিয়ামত আলী জানান, প্রতিবিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় সর্বচ্চ তিন হাজার টাকা। প্রতিমণ সরিষা বিক্রি করা যায় দুই হাজার ৫’শ থেকে ৩  হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতি বিঘাতে সাতমণ সরিষা উৎপাদন হলে বিঘা প্রতি ১৫ হাজার টাকা লাভ করা যায়। এছাড়া সরিষা আবাদে তেমন সেচের প্রয়োজন হয়না। তাছাড়া মাত্র তিনমাস সময়ে সরিষা আবাদ করা যায়। সরিষার বড় শত্রু জাব পোকা। এবার জাব পোকার আক্রমাণ না থাকায় সরিষার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি।

গাংনী সদর উপজেলার রাধাগোবিন্দপুর ধলা গ্রামের সরিষা চাষি আবুল বাশার বলেন, নিজের প্রয়োজন মেটাতে প্রতি বছর ১ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করি। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার ২ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। আশা করছি অন্য বছরের তুলনায় এবার সরিষার ফলন ভালো হবে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন, চলতি মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় জেলায় প্রায় ৩ হাজার কৃষককে বিনামূল্য সরিষার বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় ১ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে বাজারে সরিষা এবং ভোজ্য তেলের দাম বেশি। রবিশস্য চাষের এবার অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে।এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ পেলে মানুষ আবার সরিষা আবাদে ফিরে আসবে। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলেও তিনি আশাবাদী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৫, ২০২২ ১:৪৭ অপরাহ্ন
কুষ্টিয়ায় নন ইউরিয়া সারের জন্য হাহাকার
কৃষি বিভাগ

নন ইউরিয়া সারের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পড়ে রবি মৌসুমে। আর এ মৌসুমেই বিএডিসির এই সারের জন্য হাহাকার চলছে কুষ্টিয়ায়। প্রয়োজন মতো সার পাচ্ছেন না ডিলাররা। তাই প্রয়োজন মেটাতে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। সিন্ডিকেটে খোদ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ও অফিসের কর্মকর্তারা জড়িত বলে অভিযোগ ওঠেছে।

কুষ্টিয়ার মাঠে মাঠে চলছে পেঁয়াজ, সরিষা, ভুট্টাসহ বিভিন্ন রবি ফসলের আবাদ। এ সময়টাতে মাঠ প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফসলের জন্য নন ইউরিয়া সার এমওপি, টিএসপি ও টিএপিসহ নানা প্রজাতির সার ব্যবহার করেন কৃষকরা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী পাচ্ছেন না কৃষক, যেটুকু পাচ্ছেন তার জন্য গুনতে হচ্ছে বেশি অর্থ।

এক চাষি বলেন, সরকার তো বলে সারের দাম কম কিন্ত আমরা কিনতে গেলেই তো দেখি বেশি দাম। সার পাওয়া যাচ্ছে না এমনটাই বলে তারা।

জেলায় গত দুই মাস ধরে বিএডিসি নন ইউরিয়া সারের সংকট দেখা দিয়েছে। ২০ গাড়ি সারের জায়গায় মিলছে মাত্র এক গাড়ি। আবার কোন কোন সময় সেটিও চলে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের কজ্বায়।

ডিলাররা বলছেন, কুষ্টিয়ার সার কালোবাজারি হয়ে উত্তরবঙ্গে চলে যায়।

এক সার ডিলার বলেন, প্রত্যেকটা ডিলার যদি সঠিকভাবে বিক্রি করে তাহলে এই ক্রাইসিস দেখা যাওয়ার কথা না।

সাম্প্রতিককালে সার সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে এবার রবি মৌসুমে যাতে সারের মজুদ সংকট ও দাম না বাড়ে সে জন্য কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

কুষ্টিয়া খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক বিষ্ণু পদ সাহা বলেন, কৃষকরা যেন সঠিক সময়ে ন্যায্যমূল্যে সার পায় সে কারণে আমাদের মনিটরিং আছে। আমাদের কৃষি অফিসার ও উপপরিচালকের কার্যালয়ে যারা আছেন তারা তদারকি করছেন।

আর কালোবাজারি ও সার সংকটের বিষয়ে কথা বলতে চাননি বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক লিয়াকত আলী।

জেলায় বিসিআইসি ও বিএডিসির মোট ডিলার রয়েছে ১৬টি। চলতি মাসে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ২৬১ মেট্রিক টন। দ্রুত সার সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি কালোবাজারি বন্ধ চান ডিলার ও কৃষক।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৫, ২০২২ ১২:৩৯ অপরাহ্ন
সরিষাক্ষেতের কীটনাশকে মারা যাচ্ছে কোটি কোটি মৌমাছি
কৃষি বিভাগ

সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার প্রতিটি মাঠে এখন সরিষা ফুল। পুরোমাঠ যেন ঢেকে আছে হলুদের চাঁদরে। সরিষাক্ষেতে গুণ গুণ শব্দে মৌমাছিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে এ ফুল থেকে ও ফুলে। এ মৌসুমে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌ খামারিরা।

কিন্তু মধু সংগ্রহের ঠিক সময়ে অসচেতনভাবে সরিষাক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন কৃষকরা। এতে কোটি কোটি মৌমাছি মারা যাওয়ায় চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন মৌ খামারিরা।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে ৫৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৪৯ হাজার ৫০০ হেক্টরে। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ বেশি হবে, এমনটাই আশা করছে কৃষি অফিস।

কৃষকদের সচেতনতার অভাবে এই কীটনাশক ব্যবহারে ২ হাজার টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ভেস্তে যেতে বসেছে। মৌমাছি মারা যাওয়ার কথা স্বীকার করে কৃষি বিভাগ বলছে কৃষকদের সচেতনতায় মাঠে নেমেছে তারা।

জেলার উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও শাহজাদপুরে সরিষা ফুল থেকে পোষা মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহে এসেছেন প্রায় ৫ শতাধিক খামারি। প্রতিবছর খামারিরা এসকল স্থান থেকে মধু সংগ্রহ করেন। এবারও ২ হাজার টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে মাঠে বসিয়েছেন মৌ বাক্স। সরিষা ফুল থেকে পোষা মৌমাছি দিয়ে প্রতিবছর কয়েকশ কোটি টাকার মধু সংগ্রহ করা হয়। যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা হয়। সম্ভাবনাময় এই খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েক হাজার বেকার যুবকের।

কিন্তু এ বছর সরিষা চাষিরা ক্ষেতে ফলন বাড়ানোর আশায় ভিটামিন জাতীয় বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ শুরু করেছেন। সচেতনতার অভাবে একজনের দেখাদেখি অপর কৃষকও সরিষা ক্ষেতে অধিক ফলনের আশায় এই কীটনাশক স্প্রে করছে। এতে ফুল থেকে মধু সংগ্রহের সময় খামারিদের মৌমাছি মারা যাচ্ছে। এর ফলে মধু সংগ্রহে ব্যঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লাপাড়া উপজেলার আলী গ্রামেআসা ‘আশার আলো’ মধু খামারি আব্দুর রশিদ জানান, এ বছর সরিষার জমির পাশে মধু সংগ্রহের জন্য ৩৫০টি মৌ বাক্স বসিয়েছি। সেখানে ১০ দিন ধরে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন জমির মালিকেরা। এতে সরিষার ফুলে মধু সংগ্রহ করতে বসা অন্তত ১ কোটি মৌমাছি মারা গেছে। সরিষার ফুল থেকে আমাদের মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৯ টন ছিলো। কিন্তু কৃষকদের সচেতনার অভাবে ভেস্তে যেতে বসেছে আমাদের স্বপ্ন। আমরা নিরুপায় হয়ে মৌ বাক্সগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছি।

আরেক মৌ খামারি আফছার আলী জানান, ৪০০ মৌ বাক্স সরিষা মাঠে ফেলেছেন। প্রতিটি বাক্সে তার ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার মৌমাছি রয়েছে। কৃষকদের কীটনাশক ছড়ানোর কারণে তার অন্তত ২ কোটি মৌমাছি মারা গেছে।

একই এলাকার খামারি মোতালেব হোসেন, আফছার আলী, আব্দুল আহাদের অবস্থা প্রায় একই রকম। এদেরও বিপুল পরিমাণ মৌমাছি কীটনাশকের কারণে মারা গেছে।

তাড়াশ উপজেলার মান্নান নগর গ্রামের কৃষক জুলমাত হোসেন জানান, সরিষার ফলন বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীদের পরামর্শে ক্ষেতে কীটনাশক দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর ফলে ফলন বৃদ্ধি পাবে কিনা তা নিশ্চিত নই। তবে এই বালাইনাশক স্প্রে করার কারণে মৌমাছি মারা যাচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের জঙ্গলখামার গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, চলতি বছরে তিন বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, তাহলে বিঘা প্রতি ৮ মণ সরিষা পাওয়া যাবে। আর বাজারমূল্য ভালো থাকলে ২৪ মণ সরিষা ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হবে বলেও আশাবাদী।

সরিষা চাষি জাহাঙ্গীর হোসেন, মান্নান শেখ, জাহিদ হোসেন জানান, সরিষার ফলন বৃদ্ধির জন্য ক্ষেতে ভিটামিন জাতীয় কীটনাশক ছিটিয়েছেন। ওষুধ ছিটানোর কারণে মৌমাছি মারা পড়েছে। কিন্তু এই কীটনাশক প্রয়োগের কারণে মৌমাছিগুলো মারা যাবে এ কথাগুলো তাদের জানা ছিল না।

জেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, সরিষা ক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোর কারণে মৌমাছি মারা যাচ্ছে এই খবর পেয়ে জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ফসলের মাঠগুলো পরিদর্শন করেছেন। মধু খামারিদের মৌমাছি ভোর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে থাকে। বিকেলে মৌমাছিগুলো তাদের বাক্সে ফিরে যায়। কৃষকেরা বিকেলে তাদের সরিষা ক্ষেতে কীটনাশক ছিটালে মৌমাছির কোনো ক্ষতি হতো না। কৃষকদের অসচেতনতার জন্য এমনটা হয়েছে।

তবে কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যেই জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরিষা চাষিদের এ বিষয়ে সচেতন করতে সবধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। কৃষকদের সচেতন করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৪, ২০২২ ৫:১০ অপরাহ্ন
মাগুরায় সমন্বিত ফল বাগান করে সাফল্য পেয়েছেন নাসির হোসেন
কৃষি বিভাগ

মাগুরা জেলার সদর উপজেলার রাউতড়া গ্রামের কৃষক নাসির হোসেন সমন্বিত ফল বাগান করে সাফল্য পেয়েছেন। কৃষি বিভাগের পাশাপাশি তার এ সাফল্যে স্থানীয় কৃষকরাও খুশি।

তিনি উচ্চফলনশীল যাতের আপেল কুল, আগাম টক জাতের কুল এবং থাই-৫ জাতের উচ্চফলনশীল পেঁয়ারা চারা লাগিয়ে তৈরি করেছেন সমন্বিত এ ফলের বাগান। এর পাশপাশি একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করেছেন বাঙ্গী জাতীয় ফল নালিম।

মৌসুম শেষে এ বাগানের ফল বিক্রি থেকে তিনি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

সরেজমিন মাগুরা সদর উপজেলার রাউতড়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় জামির হোসেনের ছেলে কৃষক নাসির হোসেনের সাথে। পাচঁ ভাই বোনের মধ্যে নাসির হোসেন তৃতীয় সন্তান। ২০১২ সালে মাগুরা আর্দশ ডিগ্রি কলেজ থেকে বি.এ পাস করেন। বিভিন্ন জায়গায় চাকরির চেষ্টাও করেন। কিন্তু কাঙ্খিত চাকরি না পেয়ে কৃষি কাজ শুরু করেন তিনি।

নাসির হোসেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সৎ পরিশ্রম, আত্ম বিশ্বাস এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা রেখে কৃষিকে আরো আধুনিক করতে এ কাজে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরই এক পর্যায়ে সাড়ে ১১ একর জমি পাঁচ বছরের জন্য লিজ নিয়ে তৈরি করেন ফলের বাগান।

নাসির জানান, জমি লিজ, বাগান তৈরি এবং ক্ষেত পরিচর্যাসহ এ খাতে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। মৌসুম শেষে তিনি তার মোট ৩টি বাগান থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার কুল ও পেঁয়ারা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

তিনি জানান, তার কুল গাছের বয়স মাত্র ৮মাস। পাঁচ মাস পর থেকেই গাছে ফুল ও ফল ধরতে শুরু করে। নিজের ফার্ম থেকেই তিনি কুল ও পেঁয়ারার চারা উৎপাদন করেছেন। এ বছর কুলের ভালো ফলন হওয়ায় তিনি খুশি। একর প্রতি প্রায় ২০০ মণ কুলের ফলন আশা করছেন তিনি। পেঁয়ারা গাছেও ফল ধরতে শুরু করেছে।

নাসিরের বাগানের কুল,পেঁয়ারা ঢাকা ও বরিশালসহ অন্যান্য জেলাগুলোতেও বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। এছাড়া পাইকাররা বাগান থেকে এসব ফল কিনে বাজারে বিক্রি করেন। নাসির হোসেন জানান, লেখাপড়া শিখে চাকুরির পেছনে না ছুটে আমরা যদি কৃষি কাজে আত্মনিয়োগ করি তাহলে কৃষিতে আরো সমৃদ্ধি ঘটবে। স্বাবলম্বী হবে পরিবার। আমি নিজের মেধা ,আত্মপ্রত্যয়কে সামনে রেখে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছি।

মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, নাসির হোসেন একজন প্রগতিশীল কৃষক। শিক্ষিত যুবক নাসির সমন্বিত ফল বাগান করে সাফল্যে পেয়েছেন। বাগান তৈরিসহ ভালো ফলন পাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৪, ২০২২ ৪:৫১ অপরাহ্ন
শীতে আলুর ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা
কৃষি বিভাগ

প্রতি বছরই রংপুর অঞ্চলে আলুর উৎপাদন ভালো হয়। কিন্তু বছরের পর বছর হিমাগারে আলু সংরক্ষণ, ন্যায্য দাম না পাওয়াসহ রয়েছে নানা অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে বাড়তি খরচের বোঝা নিয়ে এবারো শুরু হয়েছে আলু চাষ। তবে শীত আর ঘন কুয়াশা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছে কৃষকদের।

চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৯৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে বিভিন্ন জাতের ২২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৯৬ মেট্রিক টন আলুর উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। ভালো ফলন পেতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ছত্রাকনাশক ওষুধ ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

এদিকে শীতের কারণে আলুর ফলন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। কয়েকদিন ধরে রংপুর অঞ্চলে শীতের প্রকোপের পাশাপাশি ঘন কুয়াশা পড়ছে। এই কুয়াশা আলুর জন্য ক্ষতিকর। এতে লেডব্লাইড রোগের আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

রংপুর অঞ্চলে চলতি মৌসুমে প্রায় এক লাখ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হচ্ছে। কিছুটা বৈরী আবহাওয়ার কারণে চাষিরাও নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে খেতের পরিচর্যায় নেমে পড়েছেন। আমন মৌসুমে বাম্পার ফলন হলেও গত মৌসুমে আলুতে খুব একটা লাভ করতে পারেননি আলুচাষিরা। এখনো অনেক হিমাগারে আলু সংরক্ষিত রয়েছে। ঠান্ডা আবহাওয়া আলু চাষের জন্য উপকারী হলেও কুয়াশা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যে কারণে গত কয়েক দিনের শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে উদ্বিগ্ন কৃষক।

আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে এ অঞ্চলে। আর এমনটা শুরু হলে আলুচাষিদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়বে।

রংপুর নগরীর ময়নাকুটি এলাকার আলুচাষি মমিন মিয়া ও খোদা বকস মিলে এবার ৮০ শতক জমিতে আলু চাষ করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলে তাদের বিশ্বাস। ঢাকা পোস্টকে তারা জানান, এখন সারের দাম বেশি। আবহাওয়া ভালো নয়। ঘন কুয়াশা আর শীতের প্রকোপ না কমলে লেডব্লাইড রোগের আশঙ্কা রয়েছে। তবে সব মিলিয়ে ফলন ভালো হলে দামও ভালো পাওয়া যাবে।

পীরগাছা উপজেলার হাউদারপাড় গ্রামের বোরহান কবির জানান, তিনি প্রতি বছরই আলু চাষ করেন। এবার আলুর মৌসুমের শুরুতে বীজ আলু ও সার সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হয়। তবে আলুর ফলন ভালো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আলু নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে না। কিন্তুু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন তিনি। শুধু তিনি নি, তাদের মতো আরও অনেকেই এমন আশঙ্কার কথা জানান।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, এই আবহাওয়া আলুর জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়। এটি কাটিয়ে উঠতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চাষিদের উদ্বিগ্ন না হয়ে নিয়মিত ক্ষেত পরিচর্যা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমিনা খাতুন জানান, চলতি বছর নগরের ৩৩টি ওয়ার্ডে ৬ হাজার ৮ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০০ হেক্টর উপসি এবং ৪০০ হেক্টরে দেশি জাতের আলু চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদন হবে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বিগত মৌসুমে রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট এবং নীলফামারী জেলায় ৯৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন উন্নত জাতের গোল আলু চাষ করা হয়েছিল। এবারো এসব জেলায় একই পরিমাণ জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রংপুর জেলায় ৫১ হাজার ৮৪০ হেক্টর, নীলফামারীতে ২২ হাজার ১০ হেক্টর, গাইবান্ধায় ৯ হাজার ২২০ হেক্টর, কুড়িগ্রামে  ৬ হাজার ৫৯৫ হেক্টর এবং লালমনিরহাটে ৫ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব জেলার প্রায় ৯৮ ভাগ জমির ৯৭ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদ শুরু হয়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ওবায়দুর রহমান জানান, এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আলু চাষ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমান যে আবহাওয়া বিরাজ করছে তাতে আলুর ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা কম রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৪, ২০২২ ৪:০৯ অপরাহ্ন
গাছে ঝুলছে কমলা, উঁকি দিচ্ছে সম্ভাবনা
কৃষি বিভাগ

আবু জাহিদ ইবনুল ইরাম জুয়েল। ঠাকুরগাঁওয়ে দার্জিলিং জাতের কমলা বাগান করে লাভবান হয়েছেন। এবছর বাগান থেকে কমপক্ষে ২৫০ মণ কমলা উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। ২০০ টাকা কেজি দরে যার বাজার মূল্য ২০ লাখ টাকা।

বাগানটি গড়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ২নং কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামে। সেখানে জুয়েল নামে একজন কৃষক ১০ বছর আগে হর্টিকালচার থেকে কিছু চারা কিনে জমিতে রোপণ করেন। দু’বছরের মাথায় আশানুরূপ ফল হওয়ায় বাগানের পরিধি বাড়ান। এখন তার বাগানে প্রায় ৩০০টি কমলা গাছ রয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় ৭৩ হেক্টর জমিতে মালটা ও কমলার বাগান রয়েছে ১ হাজার ৩২টি। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী উপজেলার পীরগঞ্জ ও হরিপুরে ভারতীয় দার্জিলিং জাতের সাতটি কমলা বাগান গড়ে উঠেছে। জেলায় অনেকেই কমলার বাগান করলেও জুয়েল ছাড়া অন্যরা দার্জিলিং জাতের কমলার চাষ ভালোভাবে করতে পারেননি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাগানের প্রতিটি গাছে ফল ধরেছে প্রচুর। ভারতীয় জাতের এ ফল মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে চাহিদাও রয়েছে। এছাড়াও, বাগানটি দেখার জন্য প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করছেন। বাগানেই বিক্রি হচ্ছে এই দার্জিলিং জাতের কমলা।

মালিক জুয়েল বলেন, বাগানের বয়স ১০ বছর হলেও তিন বছর হলো ভালো ফলন আসছে। এবার প্রচুর ফল ধরেছে। নভেম্বর মাস থেকে কমলা বিক্রি শুরু হয়েছে। এসব ফল স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে পাঠাচ্ছি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ৩ শতাধিক গাছের এই বাগানের প্রতিটিতে ৮০০-৯০০ কমলা ধরেছে। চলছে বিক্রি কার্যক্রম। কমলা কিনতে বাগানেই ছুটে আসছেন দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজি কমলা বিক্রি করছি ১৮০-২০০ টাকা দরে। গত বছর এই বাগান থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করা হয়েছে।

এছাড়াও, জুয়েল বাগানের পাশাপাশি একই প্লটে উৎপাদন করছেন চারা। সীমান্ত এলাকায় ফল বাগান গড়ে উঠায় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এলাকার অন্য কৃষকেরাও উদ্বুদ্ধ হয়ে নিচ্ছেন পরামর্শ। এছাড়াও কেউ বাগান সম্পর্কে জানতে গেলে উৎসাহ দিচ্ছেন তিনি। অনেকে মনোরম এই বাগানে ছবি তুলে ফেসবুক পোস্ট করছেন। ফলে জেলাসহ সারাদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে বাগানটি।

দর্শনার্থী নাহিদ রেজা বলেন, শহর থেকে এসেছি কমলা বাগান দেখতে। আমি দার্জেলিংয়ে বাগান দেখেছি। কিন্তু এখানকার কমলা বাগান যে সুন্দর, তা দার্জেলিংয়ের বাগানকেও হার মানাবে। আর এই কমলা অনেক মিষ্টি। আমার দেশের মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি, তা এই বাগান দেখেই বোঝা যায়।

শহরের পাশেই কমলা বাগানের মালিক মাহফিজুর রহমান ছুটু বাগান দেখতে এসে বলেন, আমার বাগানেও কমলা গাছ রয়েছে। তবে এই বাগান খুব সুন্দর করে যত্ন করার কারণে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এছাড়াও, ফলের সাইজ ও রঙ একবারে ঠিকঠাক হয়েছে। আমি বাগান মালিক জুয়েল ভাইয়ের সাথে আমার বাগান নিয়ে আলোচনা করার জন্য এসেছি।

কমলা বাগানে প্রথম থেকেই কাজ করেন নরেন মোহন। তিনি বলেন, আমি বাগানে প্রথম থেকেই কাজ করছি। এখন প্রতিদিন প্রায় ১ হাজারের উপর মানুষ আসে এই বাগান দেখতে। আমরা বাগানে ৮/১০ জন এখন কাজ করতেছি। কমলা গাছ থেকে পারার জন্য ৩/৪ জনকে কাজ করতে হয়। এছাড়াও বাগান পাহারা দিতে হয় এখন, নাহয় ফল চুরির ভয় থাকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন জানান, বছর দশেক আগে সরকার একটি প্রকল্প নেয়। সেটাই ঠাকুরগাঁওয়ে কমলা চাষের শুরু। কমলা বাগানে সফলতা পেতে বুঝে-শুনে পরিচর্যার ব্যাপার আছে। জুয়েল কৃষি দপ্তর থেকে সবসময় পরামর্শ নিয়েছেন। তার দার্জিলিং জাতের বাগানটি বেশ সুন্দর হয়েছে এবং বাগানে প্রচুর পরিমাণ কমলা ধরেছে। তার বাগান দেখে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন বাগান করার জন্য।

তিনি বলেন, কৃষকরা যদি এভাবে কমলার বাগান করতে এগিয়ে আসেন, তাহলে কৃষিতে একটা বিপ্লব ঘটবে। আর কমলা দেশের বাইরে থেকে আনতে হবে না। আমাদের দেশের কমলা দিয়েই ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ হবে বলে আমি মনে করছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৩, ২০২২ ৫:৩১ অপরাহ্ন
বরিশালে ডিএই সরেজমিন উইংয়ের পরিচালকের বিদায় সংবর্ধনা
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক একেএম মনিরুল আলমের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ নগরীর খামারবাড়ির কৃষি তথ্য সার্ভিসের সম্মেলনকক্ষে ডিএই’র উদ্যোগে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএই বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম।

ডিএই পটুয়াখালীর জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিকের সঞ্চালনায় অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ হৃদয়েশ্বর দত্ত, ডিএই পটুয়াখালীর উপপরিচালক একেএম মহিউদ্দিন, বরগুনার উপপরিচালক মো. আব্দুর রশীদ, বরিশালের উপপরিচালক মো.হারুন-অর-রশীদ, পিরোজপুরের উপপরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদার, ঝালকাঠির উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম, হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, বরিশালের অতিরিক্ত উপপরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন, পটুয়াখালীর উপপরিচালক আব্দুল মান্নান, রাজাপুরের উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর প্রমুখ।

বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদয়ী অতিথির বার্ণঢ্য কর্মজীবনের ভূঁয়শী প্রশংসা করেন। কৃষি বিভাগে তার অবদানের কথা কখনোই ভোলার নয়। তিনি সপ্তম বিসিএস’র একজন সদস্য ছিলেন। ৯ ডিসেম্বর থেকে তার এলপিআর শুরু। অনুষ্ঠানে কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop