১২:১৭ অপরাহ্ন

বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ১২, ২০২২ ১:১১ অপরাহ্ন
নাটোরে সবজির দামে সন্তুষ্ট কৃষক
কৃষি বিভাগ

গত সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে নাটোরের বিভিন্ন হাটে বেড়েছে শীতকালীন সবজির সরবরাহ। এতে দামও কিছুটা কমায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মাঝে। তবে এ দামে লোকসান না গুনলেও আরও মূল্যহ্রাস ঠেকাতে বাজার মনিটরিংয়ের দাবি চাষিদের।

ভোরে শীতের তীব্রতার মধ্যেই ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে নাটোরের পাইকারি এ সবজির বাজার জমজমাট। গত সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে সব ধরনের সবজির সরবরাহ বেড়েছে। ফলে প্রকারভেদে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।

এ বাজারে কেজি প্রতি শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ২০ থেকে ২৫ টাকা (পিস), বরবটি ২০ থেকে ২৫ টাকা, মূলা ১৫ থেকে ১৭ টাকা, টমেটো ২২ থেকে ২৫ টাকা, বেগুন ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ১০ থেকে ১২ টাকা, লাউ ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে তুলনামূলক দাম কমলেও ক্রেতাদের অভিযোগ, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার সবজির দাম চড়া। তারা জানিয়েছেন, এবছর অন্যান্য বছরের তুলনায় দাম স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। তবে গত বছরের তুলনায় সবজির দাম কমেছে। কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কমেনি।

সব ধরনের সবজির দাম কমলেও উৎপাদন ভাল থাকায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। তবে দাম আরও কমে যাওয়া ঠেকাতে বাজার মনিটরিংয়ের দাবি তাদের।

সবজির দাম নিয়ে কৃষকরা জানিয়েছেন, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি। চলমান দাম থেকে কমে গেলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর নাটোরে সবজির উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১২, ২০২২ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন
আলু চাষ করে লোকসানের মুখে কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

জয়পুরহাটে আগাম আলুর ফলন ভালো হলেও দাম কম হওয়ায় লোকসানের মুখে চাষিরা। তারা জানালেন, বিক্রি করে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত মৌসুমের আলুর মজুদ শেষ না হওয়ায় নতুন জাতের আলুর দাম কম। তবে কৃষি কর্মকর্তারা জানালেন, কিছুদিন পরই আগাম এই আলুর দাম বাড়বে। 

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আলু উৎপাদনকারী জেলা জয়পুরহাট। অনুকুল আবহাওয়া আর রোগবালাই কম থাকায় এবার সেখানে আগাম জাতের আলুর ফলন হয়েছে বেশ ভাল। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এই জাতের আলু উত্তোলন।

কিন্তু ফলন ভালো হলেও মন ভালো নেই কৃষকের। তারা জানালেন, প্রকারভেদে প্রতি মণ আলু বিক্রি করে ২৮০টাকা থেকে ৩০০ টাকা পাচ্ছেন। ফলে উৎপাদন খরচও উঠছে না।

কৃষকের লোকসানের কথা স্বীকার করছেন আলু ব্যবসায়ীরাও। তারা বলছেন, হিমাগারে গত মৌসুমের আলু এখনও মজুদ থাকায় বাজারে নতুন আলুর দাম কম। তবে আগাম এই আলুর দাম কিছুদিন পর বাড়বে বলে মনে করেন কৃষি কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, আলু চাষিরা লোকসান সামলে নিতে পারবেন।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ি, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটে আলুর চাষ হয়েছে ৪০ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১১, ২০২২ ৪:৩২ অপরাহ্ন
কুয়াশায় বোরোর বীজতলা রক্ষায় পরামর্শ দিলেন কৃষি কর্মকর্তা
কৃষি বিভাগ

সপ্তাহজুড়ে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় চলতি মৌসুমের বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা।

চলমান তীব্র শীত ও কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখাসহ কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ এই পরামর্শ দিয়েছেন।

দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় ঠাকুরগাঁও জেলায় শীতের তীব্রতা, কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ বেশি হয়ে থাকে। এই পরিস্থিতি থেকে বোরো বীজতলা ও রোপণ করা চারা রক্ষা করার জন্য পরামর্শগুলো এসেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সুূত্র জানায়, শীত ও কুয়াশার কারণে বোরো ধানের চারা ক্রমশ হলদে হয়ে একপর্যায়ে মারা যায়। এই সময়ে যাতে বীজতলা ও চারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এ জন্য স্বচ্ছ ও পাতলা পলিথিন দিয়ে বীজতলা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢেকে রাখতে হবে।

বীজতলায় তিন থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে বলা হয়েছে। প্রতিদিন সকালে আগের পানি বের করে নতুন পানি দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করা ভালো।

শীত ও কুয়াশায় চারা হলুদ হলে প্রতি শতক জমিতে ২৮০ গ্রাম ইউরিয়া সার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইউরিয়া সার দিয়েও যদি চারা সবুজ না হয় তাহলে প্রতি শতকে ৪০০ গ্রাম জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে। আর পোড়া বা ঝলসানো রোগ দেখা দিলে পানিতে এজোক্সিস্ট্রোবিন বা পাইরাক্লোস্ট্রোবিন জাতীয় ছত্রাকনাশক মিশিয়ে দুপুরের পর ছিটিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ৩৫ থেকে ৪৫ দিন বয়সের চারা রোপণ করার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, বেশি বয়সের চারা রোপণ করলে শীত ও কুয়াশায় মারা যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। চারা রোপণের পর ৫ থেকে ৭ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। চারা রোপণের সময় শীত ও কুয়াশা বেশি হলে একটু দেরি করে রোপণ করলেও ক্ষতি হবে না। প্রতিদিন সকালে চারায় জমে থাকা কুয়াশা ঝরিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের মন্ডলপারা গ্রামের কৃষক মুন্জর হোসেন বলেন, ‘তীব্র শীত ও কুয়াশায় বীজতলার চারাগুলো হলুদ রং ধারণ করেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে বীজতলা পরিচর্যা করছি, কিন্তু চারা সেভাবে বড় হচ্ছে না।’

রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ জানান, কৃষি বিভাগ থেকে ইতিমধ্যে কৃষকদের বিভিন্ন তথ্য প্রদানসহ সহযোগিতা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত শীতের কারণে কোল্ড ইনজুরিতে বোরো বীজতলার তেমন একটা ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখাসহ বিভিন্ন পরিচর্যার পদ্ধতি অনুসরণ করায় কৃষকদের প্রশংসা করেন তিনি।

শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের বীজতলার চারা হলদে হয়ে গেলে প্রতি শতক জমিতে ২৮০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। এ ছাড়া ১০ লিটার পানিতে ৬০ গ্রাম পটাশ ও ৬০ গ্রাম জিপসাম সার মিশিয়ে বীজতলায় স্প্রে করতে বলা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, অতিরিক্ত শীতে বীজতলার চারার গোড়া বা পাতা পচা রোগ দেখা গেলে ব্যাভিস্টিন বা মেনকোজেব গ্রুপের যেকোনো একটি ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। যত দিন শৈত্যপ্রবাহ থাকে, তত দিন এ পদ্ধতি প্রয়োগ করলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১১, ২০২২ ৪:১৬ অপরাহ্ন
কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বদলে গেছে কুমিল্লার কৃষির চিত্র
কৃষি বিভাগ

আধুনিক প্রযুক্তি, সময়োপযোগী কৃষিনীতি আর কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বদলে গেছে কুমিল্লার কৃষির চিত্র। দেড় যুগ ধরে কৃষিক্ষেত্রে কুমিল্লা জেলায় সবজি চাষে নীরব বিপ্লব ঘটেছে। সবজির উৎপাদন দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের আয়ও বেড়েছে।

কুমিল্লার চান্দিনা, বুচিড়ং, বরুড়া, দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলতি বছর ব্যাপক শীলকালীন সবজি চাষ হয়েছে। উল্লেখযোগ্য হল ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক, লাউ, শিম, বেগুন, পটল, মূলা, আলু, টমেটো, পালংশাকসহ হরেক রকমের কাঁচা তরিতরকারি। এসব সবজি শীতল আবহাওয়ায় সবচেয়ে ভাল হয়। কৃষকরা এসব সবজি কম সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার দিন দিন চাহিদা বেড়েই চলছে। এসময় শীতকালীন শাক-সবজির দাম বেশি হয়ে থাকে। সেই কারণে কৃষকরা সবজি চাষে ব্যস্ত সময় কাটায়। মুনাফার আশায় কৃষকরা এবছরও প্রচুর পরিমান সবজি চাষ করছেন। আভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন ও সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থার কারণে কৃষকরা এখন সহজেই উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারছে। এ কারণে কৃষি কাজ এখন লাভজনক পেশায় পরিণত হয়েছে। তবে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আরও অধিক জমিতে সবজি চাষে আগ্রহী হবে বলে জানান এলাকার কৃষকগণ। আর তা সম্ভব হলে উপজেলার কৃষিখাত আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। বর্তমানে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার ছায়কোটের চাষিরা , সবজি চাষে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

সবজির মধ্যে বর্তমানে শিম, লাউ, পটল, বেগুন অধিক লাভজনক। শিম ও বেগুন চাষে লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই এতে উৎসাহিত হচ্ছেন। মিষ্টি কুমড়া, কচু, আলু ইত্যাদি ফসলের প্রতিও কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কম সময়ে সবজি চাষে বেশী লাভ হয় বলে অনেকে ঝুঁকে পড়ছেন সবজি চাষে।

শ্রীমন্তপুর গ্রামের কৃষক রমজান আলী জানান, এক কানি জমিতে বেগুন চাষ করলে খরচ হয় ১৫-২০ হাজার টাকা। উৎপাদিত ফসল হয় প্রায় ২ থেকে আড়াইশত মণ বেগুন হয় ক্ষেতে। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ আসে। এ বছর সবজির দাম বেশি পাওয়ায় অনেক কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সুরজিত চন্দ্র দত্ত বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের নজরদারি ও উপজেলা পর্যায়ে চাষিদেরকে কৃষি কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ, পরামর্শসহ সবধরণের লজিষ্টিক সার্পোট দেওয়াতে এবং আবহাওয়া সম উপযোগী হওয়ায় এবারে লক্ষ্যমাত্রা অনেক ছাড়িয়ে যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১১, ২০২২ ৩:৫৮ অপরাহ্ন
লাভের আশায় আলু চাষ, দাম না পেয়ে হতাশ চাষি
কৃষি বিভাগ

গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার দিনাজপুরের কৃষকরা দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে আলু চাষ শুরু করেন। কিন্তু আলুর বর্তমান বাজারদরে লাভ তো দূরের কথা খরচও তুলতে পারছেন না তারা। ফলে হতাশা কাজ করছে তাদের মধ্যে।

জানা গেছে, প্রতি বছর নতুন আলু ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এবার শুরুতেই দাম ছিল অর্ধেক। এ বছর প্রতি কেজি নতুন আলু ৪০-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বর্তমানে আগাম আলুর দাম আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এখন প্রতি কেজি আলু পাইকারি ৭-৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, সাধারণত নভেম্বরের ১৫ তারিখ পর্যন্ত আগাম আলু লাগানো হয়। এ বছর জেলায় ১০ হাজার ২৩২ হেক্টর জমিতে আগাম আলুর চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১৭ দশমিক ২৮ মেট্রিক টন। আর গড়ে প্রতি কেজিতে উৎপাদন খরচ সাড়ে সাত টাকা। এ পর্যন্ত মোট আবাদের ৪০ শতাংশ জমির আলু তোলা হয়েছে।

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আউলিয়াপুকুর গ্রামের কৃষক মোহসিন আলী বলেন, এ বছর দুই বিঘা জমিতে আগাম আলু লাগিয়েছি। বীজ, সার, শ্রমিকের খরচ, সেচ বাবদ প্রতি বিঘা জমিতে ১৫-১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর এক বিঘা জমির আলু বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ১৪-১৬ থেকে হাজার টাকা। ফলে গুনতে হচ্ছে লোকসান।

খুনিয়াদীঘি গ্রামের কৃষক মোকসেদুল বলেন, উচ্চ মূল্যে বীজ কিনে আলু চাষ করেছি। এখন বিক্রির সময় ভালো দাম পাচ্ছি না। দুই মাস আগে প্রতি কেজি আলু ৫৫-৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছিল। আর এখন জমি থেকে ৭ টাকা থেকে সাড়ে ৯ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

বড়গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এ বছর দুই একর জমিতে আলুর আবাদ করেছি। ফলনও মোটামুটি ভালো হয়েছে। কিন্তু আলুর বাজার দর ভালো না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। সরকার যদি আলুচাষিদের দিকে না তাকায় তাহলে আমরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলব।

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা বলেন, কৃষকরা এখন আগাম জাতের আলু তুলছে। এবার আগাম আলুর ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে দাম কম পাচ্ছেন কৃষক। খুচরা বাজারে আলুর যে দাম পাইকারি বাজারে তার থেকেও অনেক কম। কৃষি অধিদফতর মনে করছে, এই আগাম আলু যদি আরও ১০-১৫ দিন আগে তোলা হতো তাহলে কৃষকরা দাম মোটামুটি ভালো পেতেন।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. খালেদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত আগাম আলুর মাত্র ৪০ শতাংশের মতো উৎপাদন করা হয়েছে। বর্তমান বাজারদরে কাঙ্ক্ষিত লাভ হচ্ছে না। তবে সামনের দিকে দাম কিছুটা বাড়লে চাষিদের লোকসানে পড়তে হবে না।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১০, ২০২২ ৪:২৮ অপরাহ্ন
তালতলীর গোলের গুড় যাচ্ছে ভারতে
কৃষি বিভাগ

চলছে ভরা শীত মৌসুম। প্রতিবছর এই মৌসুমের শুরু থেকে উপকূলীয় জেলা বরগুনার তালতলীর গাছিরা গোলের রস সংগ্রহ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

এবছর গাছিদের মাঝে যুক্ত হয়েছে ভিন্ন মাত্রা। তালতলীর গোলের রস থেকে তৈরি গুড় যাচ্ছে ভারতে। হতদরিদ্র গোল গাছিদের জন্য তৈরি হয়েছে ৫ মাসের কর্মসংস্থান। উপজেলার অন্তত ৩ হাজার এই পেশার মানুষ ভোর রাত থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত রস সংগ্রহ করেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, তালতলী উপজেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে গোল গাছের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। সব চেয়ে বেশি গুড় আসে বেহালা ও গেন্ডামারা গ্রাম থেকে। এক মৌসুমে প্রায় ১২ হাজার টন গুড় উৎপাদিত হয়।

বেহালা গ্রামের গাছি সুকদেব বিশ্বাস বলেন, প্রতিদিন ৩০০ গাছ থেকে রস সংগ্রহ করি। গোলের এ রস প্রতি কলস ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ও গুড় প্রতি কেজি ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। এক কলস রস দিয়ে ৩ কেজি গুড় তৈরি হয়।

আরেকজন গাছি সুজন সমাদ্দার বলেন, ভোর ৪টায় রস সংগ্রহ করা শুরু করি। প্রথমে গোলের রসের চাহিদা কম থাকলেও এখন চাহিদা বেড়েছে, দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রথমে ভারতের কলকাতায় থাকা তাদের কিছু স্বজনদের উপহার হিসেবে পাঠান গোলের গুড়। এরপর সেখানে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই গুড়। এরপর সেই স্বজনরা তাদের কাছে গুড় কেনার কথা জানালে তারা বিক্রি শুরু করেন। প্রতি কেজি ২৫০ টাকা বিক্রি করলেও এখন ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেন।

গেন্ডামারা এলাকার গাছি মো. রহমাতুল্লাহ বলেন, ডিসেম্বরে গাছ কাটা শুরু করলেও রস আসা শুরু করে জানুয়ারি থেকে। বাগানে আমি এবং আমার ছেলে প্রতিদিন ৭০০ গাছ থেকে রস সংগ্রহ করি। পরে বাড়িতে আমার স্ত্রী ও ছেলের বউয়ের সহায়তায় প্রতিদিনই রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করি। শীতের এ কয়েক মাসে গোল রস ও গুড় বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকার মতো আয় হয়। ভারতে ব্যক্তি উদ্যোগে গুড় না পাঠিয়ে যদি সরকার বাণিজ্যিকভাবে গুড় ব্যবসা করার সুযোগ করে দিতো, তাহলে বেশি লাভ করা যেতো। সরকারও রাজস্ব পেতো।

গাছি আবুল কালাম বলেন, আমরা অনভিজ্ঞ চাষি, আমাদের কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ দিলে আমরা আরও পরিচ্ছন্নভাবে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করতে পারি। এক সময়ে এই এলাকার অনেক মানুষ হতদরিদ্র ছিল। আজ আমরা গুড় বিক্রি করে অভাব কাটিয়ে সচ্ছল হয়েছি। এতে কেউ সহায়তা করেনি। কৃষি অফিস থেকে আমাদের প্রশিক্ষণের দাবি জানাই।

তালতলী উপজেলা কৃষি অফিসার রেজাউল করিম জানান, গোল গাছের সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে, এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন তিনি। ইতোমধ্যেই উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথাও হয়েছে। গাছিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অভিজ্ঞ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি সুস্বাধু এই গুড় প্যাকেটজাত করে দেশের চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি দেশের বাইরেও বাণিজ্যিকভাবে পাঠানোর বিষয়ে সুপারিশ করেছেন তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১০, ২০২২ ৪:০৪ অপরাহ্ন
রপ্তানি বন্ধ, রাজবাড়ীর পানচাষিরা ভাল নেই
কৃষি বিভাগ

আবহাওয়ার অনুকুল পরিবেশ ও বিদেশে মিষ্টি পানের ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পান চাষিরা দিন দিন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিলো। তবে, করোনার প্রভাবে বিদেশে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ও দাম কম থাকার কারণে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। এতে অনেক চাষি পান বরজ ভেঙে অন্যচাষে ঝুঁকছেন।

জানা গেছে, মিষ্টি পান চাষে উর্বর ভূমি হিসেবে পরিচিত বালিয়াকান্দি উপজেলা। এ অঞ্চলের পানের সুখ্যাতি বহু পুরনো। এখানে সাধারণত দু’জাতের পান উৎপাদন হয়। মিষ্টি পান আর সাচি পান। এখানকার মিষ্টি পান চাহিদা মিটিয়ে ৮টি দেশে রপ্তানি হতো। মিষ্টি পান রাজবাড়ী জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার চাহিদা মিটিয়ে ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, নেপাল, সৌদি আরব, মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করা হতো। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হতো।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলাতে ৮৮ হেক্টর জমিতে মিষ্টি পান ও সাচি পানের আবাদ করা হয়েছে। ৬৫৮টি মিষ্টি পানের বরজ, ১৫৬টি সাচি পান বরজসহ ৮১৪টি বরজে পান চাষ করা হচ্ছে।

পান চাষি  আ.খালেক ও শহীদ শেখ জানান বালিয়াকান্দি উপজেলার আড়কান্দি, বেতেঙ্গা, চরআড়কান্দি, ইলিশকোল, স্বর্প বেতেঙ্গা, খালকুলা, বালিয়াকান্দি, বহরপুর, যদুপুর এলাকায় ব্যাপক পানের আবাদ হয়।

এসব চাষিরা পূর্ব পুরুষের আমল থেকে পানের চাষ করে আসছেন। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে অনেকেই এখনও পান চাষ করছেন।

পানচাষি সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, গত বছর করোনার কারণে পানে লোকসান গুনতে হয়। আগে বিদেশে প্রচুর চাহিদা থাকলেও এখন আর পান বিদেশে পাঠাতে পারছি না। দাম না থাকার কারণে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে।

তিনি জানান, অর্থকরী ফসল পান হলেও কোন সহযোগিতাই পাননা তারা। কৃষি অফিস থেকেও কোনো প্রকার সহযোগীতা মেলে না। সরকারিভাবে তাদেরকে সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করলে পান চাষকে আরো লাভজনক ও জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আনোয়ার হোসেন বলেন, এখানকার মিষ্টি পান এলাকার চাহিদা মিটিয়ে অনেক দেশে রপ্তানি করা হতো। এখন রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। তবে পান রপ্তানির চেষ্টা অব্যহত রয়েছে। পানচাষিদের সব সময় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ প্রদান করছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১০, ২০২২ ৩:২৫ অপরাহ্ন
পদ্মার চরে অনাবাদি জমিতে কুল চাষে বিপ্লব
কৃষি বিভাগ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরের মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়ন। রোদ আর তপ্ত বালুর কারণে বছরের পর বছর পদ্মার চরে পাঁচ হাজার ২৮৬ হেক্টর জমি অনাবাদি ছিল।

তবে বর্তমানে এই জমিতে কম খরচে বেশি লাভের আশায় চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরে আপেল, বাউ ও থাই জাতের কুল চাষ করে বিপ্লব ঘটিয়েছেন চাষিরা। এই জমি থেকে চলতি মৌসুমে এক কোটি টাকার কুল বিক্রির আশা করছেন তারা।

একই জমিতে পেঁয়াজ, রসুন, মসুর, গম, সরিষা, আখ, ধান, হলুদ, আদা ও শাকসবজিও চাষ হচ্ছে।

জানা যায়, পদ্মার চরে কুল চাষে আত্মনিয়োগ করেছেন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা। পতিত জমিতে কুল চাষ করে একদিকে চাষিরা আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন, অন্যদিকে পুষ্টির ঘাটতি পূরণসহ জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। কম খরচে বেশি লাভের আশায় চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরে আপেল, বাউ ও থাই জাতের কুল চাষ করে নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছে।

পদ্মার চরের কুলচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বালুযুক্ত পদ্মার চরে একসময় অন্য ফসল করতে হিমশিম খেতে হয়েছে। বর্তমানে এই পদ্মার চরে কুল চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে শফিকুল ইসলাম, আবদুর রাজ্জাক, জামাল উদ্দীন, সোনা মিঞা, ইউসুফ আলী, আশরাফুদৌলার মতো অনেকে। পদ্মার চরে এখন সোনার ফসল ফলানো যায়; তা প্রমাণ করছেন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা।

সোমবার পদ্মার চরে সরেজমিন কুলবরই চাষের নতুন বিপ্লব চিত্র দেখা যায়। কুলচাষিরা কেউ বাজারজাত করার জন্য গাছ থেকে নামাচ্ছেন, আবার কেউ পরিচর্চা করছেন।

কুলচাষি শফিকুল ইসলাম ছানা বলেন, আমি পদ্মার চরে ১০৪ বিঘা জমিতে বরই চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। তবে বিঘাপ্রতি গড় উৎপাদন আশা করছি ১৩০-১৫০ মণ। চলতি মৌসুমে প্রায় এক কোটি টাকার কুলবরই বিক্রির আশা করছি।

তিনি বলেন, মৌসুমে প্রথম দিকে আপেল কুলের বাজার ছিল প্রতি মণ এক হাজার ৫০০ টাকা। মাঝামাঝি সময়ে তা কমে এক হাজার ২০০ টাকায়। তবে বাউ ও থাই কুলবরই বাজার ভালো আছে।

গড়গড়ি গ্রামের জামাল উদ্দীন ৪০ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন বলেন জানান তিনি।

বাউসা গ্রামের মুনজু সরকার সমতল জমিতে ২০ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন। তিনি এমএ পাস করে কৃষিকে পেশা হিসেবে নিয়ে লাভবান হচ্ছেন বলে জানান।

আরেক কুলচাষি সোনা মিঞা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সফল হয়েছি। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখানকার কুল বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলার বাউসা সরকারপাড়া গ্রামের মিঠুন আলী বলেন, আমি ধান, পেঁপে, কলা ও গরুর খামারের পাশাপাশি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে গত মৌসুমে মাত্র ১৬ শতাংশ জমিতে আপেল কুল চাষ করেছি। এই মৌসুমে প্রায় অর্ধ লাখ টাকার কুল বিক্রির আশা করছি। তবে আমার কুল বাগান দেখে এলাকার অনেকে কুলচাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয়েছে। এর মধ্যে পদ্মার চরে চাষ হয়েছে ৭০ ভাগ। তবে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি আর্থিকভাবে কুল চাষেও আগ্রহী হচ্ছে চাষিরা। কুল চাষের গবেষণা চালিয়ে উন্নত জাত সৃষ্টি করে আবাদ করলে আমের মতো বিদেশে রপ্তানি করে অর্থনৈতিকভাবে চাষিদের স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করব।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১০, ২০২২ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ মাঠে সরিষার চাষ
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে সরিষার আবাদ। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষে ঝুঁকছেন৷ এবারে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আর ক্ষেতে রোগ-বালাই কম হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

দিনাজপুরের দক্ষিণাঞ্চলে সবচেয়ে বেশী সরিষার চাষ হয় হাকিমপুর উপজেলায়। এ বছর সেখানে  ৮৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। তবে চাষ হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে।

চাষীরা জানালেন, সরিষা চাষে খরচ কম ও লাভ বেশী হয়। তাই এতে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। এদিকে, সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোমতাজ সুলতানা। ঋণ সহায়তা পেলে সরিষার আবাদ আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন চাষীরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৯, ২০২২ ৪:৫৬ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ে বোরো বীজতলা নষ্টের আশঙ্কা
কৃষি বিভাগ

গত ৮-৯ দিন ঠাকুরগাঁওয়ে টানা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা নষ্টের উপক্রম হয়েছে। এছাড়াও কুয়াশা পড়ার কারনে বীজতলায় ঠান্ডা পানি জমছে। এই পানির কারনে চারা তুলনামুলকভাবে বড় হচ্ছে না। মৌসুমের শুরুতেই এমন হওয়ায় কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পরেছেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এবছর সতর্কতামুলক ব্যবস্থা হিসেবে বীজতলা প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন কৃষকেরা। এতে করে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে বলে ধারণা করছেন তারা। ঠাকুরগাঁওয়ে বেশ কয়েকদিন থেকে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাপমাত্রা ৮ থেকে ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। এ অবস্থায় জেলার কৃষকেরা বোরো ধানের বীজতলা নষ্টের আশংকা করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ইতিমধ্যে কৃষকদের শুকনো, ভেজা, ভাসমান তিন ধরনের বীজতলার বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। বীজতলা তৈরীতে স্থান, জমি তৈরী, শেড তৈরী, সার প্রয়োগ, বীজ বপন, বীজ জাগ দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে কৃষকদের। এছাড়াও শুকনো বীজ একটানা কত ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং কোন জাতীয় স্থানে রাখতে হবে সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য তাদের প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ভাল চারা উৎপাদনের জন্য বীজের ভ্রনজাগরিত বিষয়ে দিক নির্দেশনা নিয়মিত প্রদান করা হয়।

সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের লস্করা গ্রামের কৃষক হরেন জানান, প্রত্যেক বছর কমপক্ষে আড়াই বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগান। এ বছরও তিনি বোরো ধানের বীজতলা তৈরী করেছেন। তীব্র শীতে চারা মারা যাওয়ার আশংকা করছেন। তবে শীতের প্রকোপে চারাগুলি বড় হচ্ছে না বলে জানান তিনি। শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেলে চারা আরও ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাসেল ইসলাম জানান, এ বছর ঠাকুরগাঁওয়ে বোরো বীজতলার জন্য ২ হাজার ৭৯২ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৮১৫ হেক্টর জমিতে।

অন্যদিকে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয় ৫৯ হাজার ১১৪ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ মেট্রিক টন। যা গত বছরে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন জানান, কৃষি বিভাগ থেকে ইতিমধ্যে কৃষকদের বিভিন্ন তথ্য প্রদানসহ সহযোগিতা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত শীতের কারণে কোল্ড ইনজুরিতে বোরো বীজতলার তেমন একটা ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তিনি জেলার কৃষকদের প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে দেওয়ার প্রশংসা করে জানান, বড় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমনের মত বোরো ধানেরও বাম্পার ফলন হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop