১০:৪১ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ৮, ২০২৫ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
ক্রেতা বিক্রেতার হাঁক ডাকে সরগরম হয়ে উঠে হাতিয়ার চরঈশ্বর সবজি বাজার
কৃষি বিভাগ

ভোরের আলো ফোটার আগেই ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁক-ডাকে সরগরম হয়ে উঠে হাতিয়ার চর ঈশ্বর ইউনিয়নের নিরাপদ সবজি বাজার। কৃষকদের পরম যত্নে আবাদ করা সবজি বিক্রি হয় এ বাজারে ।

সূর্য ওঠার আগেই কৃষকরা তাদের জমিতে উৎপাদিত তরতাজা সবজি নিয়ে হাতিয়ার চর ইশ্বর ইউনিয়নের সবজি বাজারে আসেন। কেনা-বেচা চলে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ মিনিট, বিক্রি হয় লাখ লাখ টাকার সবজি। ভ্রাম্যমাণ দোকানের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া এসব সবজি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে চলে যায়। ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় খুচরা বিক্রেতারাও পাইকারি দামে সবজি কিনে নিয়ে যান।

সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্য ওঠার আগেই হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কৃষকরা পুঁইশাক, কলমি শাক, লাল শাক, পালংশাক, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, বরবটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, শালগম, নতুন আলু, বেগুন, গাজর, মুলা, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, ধনেপাতাসহ নানা রকমের টাটকা সবজি বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন।

 

চাষী মো. আবু হোসেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি এ বাজারে সবজি বিক্রি করি। বাড়ির আঙিনায় উৎপাদন করা কীটনাশকমুক্ত সবজিই এ হাটের মূল আকর্ষণ। খুব ভোরেই আমাদের বিক্রি শেষ হয়। প্রায় ৩০ মিনিটে লাখ টাকার সবজি বিক্রি হয়। তবে উৎপাদন হিসেবে সবজির দাম কম পাই।

আহসান হাবিব বেলাল নামের আরেক চাষী বলেন, এখানে সব নিরাপদ সবজি বিক্রি হয়। আমরা যা খাই তাই আমরা বিক্রি করি। আমাদের সবজিতে কোনো ক্ষতিকর কিছু ব্যবহার করা হয় না। আমরা চাই সরকার আমাদের সবজির বিষয়ে গুরুত্ব দিক, তাহলে আমরা আরও ভালো করতে পারবো।

মোশাররফ হোসেন নামের আরেক চাষী বলেন, আমাদের উৎপাদিত সবজি পুরো হাতিয়ায় যায়। আমরা এতে খুশি। তবে সরকারি কোনো সুবিধা আমরা পাই না। যদি পাইতাম তাহলে আরও ভালো করতাম। বর্তমানে সবজির দাম কম তাই ন্যায্য মূল্য পাই না। তবে হাতিয়ার সবজিগুলো যদি হাতিয়ার বাইরেও পাঠানো যেতো তাহলে কৃষকরা লাভবান হতো।

মো. ফিরোজ হোসেন নামের আরেক চাষী বলেন, এক একর জমিতে শীতকালীন সব ধরনের সবজি আমি চাষাবাদ করছি। আমাদের এখানে নিরাপদ ও ফরমালিনমুক্ত শাক-সবজি পাওয়া যায়। বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতারা আসেন নিরাপদ সবজি কেনার জন্য। অনেক সাধারণ মানুষ এখান থেকে সবজি কেনেন। নিরাপদ সবজি বাজার হিসেবে এর সুনাম রয়েছে।

হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, চরঈশ্বর ইউনিয়নের সবজির বাজারটি একটি প্রাচীন বাজার। বাজারটিতে নিরাপদ সবজির ভালো চাহিদা রয়েছে। এখানে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত এসব সবজি বিক্রি করেন। নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করনে আমরা আগামীতে পরিকল্পনা নেবো।

 

(বাসস)

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৪, ২০২৪ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
শীতকালীন ফসলে ভরেছে তিস্তার বুক
কৃষি বিভাগ

নানা ফসলে ভরে গেছে তিস্তার বুক। এটি যেন এখন আর নদী নয়,  কৃষকের আবাদি জমি।  তিস্তার বুকে যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই ফসলের ক্ষেত।

বালু মাটির ওপর পলি জমায় এ বছর ধান, গম, আলু, ভুট্টা, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচসহ শীতকালীন অন্যান্য ফসলের চাষ হয়েছে। শীতকালীন সবজিতে ভরে গেছে তিস্তার বুক।  ভালো ফলন পাবার আশায় চরের বুকে দিনরাত কাজ করছেন চাষীরা, পাচ্ছেন সাফল্যও।

এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে চরের কৃষককে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ায় চাষাবাদে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

চাষীরা জানান, তিস্তার পানি আগেভাগে নেমে যাওয়ায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে চরের হাজারো কৃষক ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তদারকির কারণে চরে ফসলও হচ্ছে দ্বিগুণ এমন অভিমত চরের কৃষকদের।

 

কৃষি বিভাগের তদারকির কারণে চরে ফসলও হচ্ছে দ্বিগুণ এমন অভিমত চরের কৃষকদের।

লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলায় ১১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তার বুকে অন্তত ১৫০ চরে চাষাবাদ হয়েছে। আগে যেসব চরে ফসল ফলানো সম্ভব হয়নি সেসব চরেও এ বছর আবাদ হয়েছে। ফসলের আশানুরূপ ফলনও ঘরে তুলতে শুরু করেছেন তিস্তাপাড়ের কৃষকরা।

 

গত অক্টোবরে উজানে ভারতের সিকিমে তিস্তার বাঁধ ভাঙায় ভাটিতে বাংলাদেশে তিস্তার বুকে প্রচুর বালু জমেছে। এ কারণে বালুচরে এবার সব ধরনের ফসল হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিস্তাপাড়ের কৃষকরা। এমনটি জানিয়েছে কৃষি বিভাগও।

কৃষি বিভাগ বলছে, দেশে ১১৫ কিলোমিটার তিস্তার বুকে প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমি আছে। গত বছরগুলোয় শুকনো মৌসুমে ২০-২২ হাজার হেক্টর জমিতে ফসলের চাষ হতো। এ বছর আবাদ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে।

 

ভুট্টা চাষ হয়েছে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে ও ধান হয়েছে পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে। এ ছাড়াও, আলু, গম, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচ, কুমড়াসহ  শীতকালীন নানা জাতের সবজি চাষ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে।

তিস্তাপাড়ের কৃষকরা  জানান, উজানে ভারতের উত্তর সিকিমে তিস্তার চুংথাং বাঁধ ভেঙে যায়। ওইদিন বিকেল নাগাদ বাংলাদেশে তিস্তার পানি অস্বাভাবিক বেড়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। বন্যার পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণে পলিমাটি আসে। তিস্তার বুকে বালুচরে এসব পলি জমা হয়ে জমিগুলোকে উর্বর করে তোলে।

 

এ বছর আগাম বন্যা পরিস্থিতি দেখা না দিলে তিস্তার চর থেকে আশানুরূপ ফসল তোলা যাবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। তারা বাম্পার ফলনে খুশি।

রংপুরের গংগাচড়া  উপজেলায় তিস্তার চর ইচলি এলাকার কৃষক দেলোয়ার হোসেন (৬৫)  বলেন, ‘চরে ৩০ বিঘা জমি আছে। গত ২০ বছরে এসব জমিতে চাষাবাদ করতে পারিনি। জমিতে শুধু বালু আর বালু। এ বছর সব জমিতে ফসল হয়েছে। আলু তুলতে শুরু করেছি। প্রতি শতাংশ জমিতে গড়ে ৪৫ কেজি আলু পেয়েছি। সাত বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি।’

 

তিস্তার চর ছালাপাকের কৃষক রফিজ উদ্দিন মন্ডল (৭০)  বলেন, ‘তিস্তার কোনো চরই এ বছর ফাঁকা পড়ে নাই। সব চরে চাষাবাদ হয়েছে। চরের মাটিতে প্রচুর পলি জমেছে। অতীতে তিস্তার অধিকাংশ চর ফাঁকা পড়ে থাকতো। বালুর কারণে ফসল ফলাতে পারেননি। এ বছর পলি জমায় তা চরের কৃষকদের কাছে আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।’

কাউনিয়া উপজেলার চর মধুপুর এলাকার কৃষক আমজাদ আলী বলেন,  দেড় বিঘা জমিতে মরিচ আবাদ করেছি, বাম্পার ফলন হয়েছে।  ভালো দাম পেলে আর পিছনে তাকাতে হবে না। চর নোহালীর চাষীমফিজুল বলেন, চরে তিনবিঘা জমিতে আগাম আলু চাষ করে দেড় লাখ টাকা লাভ হয়েছে।  আলু তোলার পর ওই জমিতে ভুট্রা লাগিয়েছি।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের অতিরিক্ত পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল   বলেন, ‘গত বছরগুলোয় শুকনো মৌসুমে তিস্তার চরাঞ্চলে যে পরিমাণ জমিতে চাষাবাদ হয়েছিল, এ বছর হয়েছে দ্বিগুণের বেশি জমিতে। চরে পলি জমায় জমিগুলো চাষযোগ্য হয়েছে।’

‘বাম্পার উৎপাদন হয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এসব জমিতে সার ও কীটনাশক দিতে হয় না। কম খরচে কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন।

 

-বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ৮, ২০২৪ ৯:১৫ পূর্বাহ্ন
কক্সবাজারে টীম কর্ণফুলীর মাটি পরীক্ষা শেষে সার সুপারিশ কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষা গবেষণাগার কর্ণফুলী কর্তৃক কক্সবাজার সদর উপজেলা ও চকোরিয়া উপজেলায় মাটি পরীক্ষা পূর্বক কৃষকের মাঝে সার সুপারিশ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। কক্সবাজার সদর উপজেলার ৫২জন কৃষকের ফসলী জমির মাটি এনালাইসিস করে সার সুপারিশ কার্ড বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার কক্সবাজার সদর জনাব মো: জাহিদ হাসান। টীম কর্ণফুলীর দলনেতা রায়হানুল ইসলাম ও সদস্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: আবুল বাশার ও আফনান হোসাইন চৌধুরী। উল্লেখ্য গত ১ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার জেলার দুটি উপজেলা (চকোরিয়া ও কক্সবাজার সদর)এর মাটি পরীক্ষা করে ভ্রাম্যমাণ ল্যাব কর্ণফুলী।

‘মাটি পরীক্ষা করে সার দিন, সারের অপচয় কমিয়ে অধিক ফসল ঘরে নিন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে চলতি রবি মৌসুমে এসআরডিআইর ১০টি ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষা গবেষণাগারের মাধ্যমে সারাদেশে চলছে কৃষক সেবা কার্যক্রম। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজার সদর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষা গবেষণাগার (এমএসটিএল) কর্ণফুলীর উদ্যোগে এই সার সুপারিশ কার্ড বিতরণের আয়োজন করা হয়। এরই মাধ্যমে রবি মৌসুমে টীম কর্ণফুলীর ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া কৃষক সেবা ৭ ডিসেম্বর শেষ হয়।

কৃষক পর্যায়ে গণসচেতনতার লক্ষ্যে চলতি রবি মৌসুমে চট্টগ্রাম বিভাগের ৬ উপজেলা ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, পটিয়া, বান্দরবান সদর, চকোরিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলায় এই ভ্রাম্যমাণ ল্যাবের ককার্যক্রম পরিচালিত হয়। কর্মসূচিতে মাত্র ২৫ টাকার বিনিময়ে মাটি পরীক্ষার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছেন চাষিরা; যার প্রকৃত খরচ ৪শ’ ৪০ টাকা। বাকি ৪ শ’ ১৫ টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। মাত্র ২৫ টাকায় কৃষক ফসলি জমির মাটি পরীক্ষা করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছসিত।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিভাগীয় গবেষণাগার চট্টগ্রাম ড. এন.এম জাহাঙ্গীর, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আঞ্চলিক কার্যালয় কক্সবাজার কাজী জাহিদ ফজল, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা চকোরিয়া ইশরাত জাহানসহ আরও অনেকেই।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ৫, ২০২৪ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত লালমনিরহাটের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

লালমনিরহাট জেলায় শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। বিভিন্ন জাতের সবজির চারা রোপণ ও পরিচর্যায় কৃষকদের  ব্যস্ততা বেড়েছে। বাজারের চাহিদা বিবেচনায় রেখে একটু বেশি লাভের আশায় সবজিতে স্বপ্ন বুনছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, লালমনিরহাট জেলার ৫ উপজেলাসহ তিস্তা নদীর প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের জমিগুলোতে দিন দিন বেড়েই চলেছে সবজি চাষ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে সারি সারি  ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ,টমেটো, বেগুন,শিম, মুলা, করলা, পটল, পালং ও লাল শাকসহ রকমারি শীতকালীন সবজির আবাদ। মাঠে মাঠে এসব ফসল পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত কৃষকরা। কিছুদিনের মধ্যেই  এসব সবজি বাজারজাত শুরু করবেন এমনই প্রত্যাশা করছেন এখানকার কৃষকরা।

বর্তমান সময়ে এখানকার কৃষকরা কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে জমিতে হালচাষ, চারা রোপণ, ক্ষেতে পানি দেওয়া ও  আগাছা পরিষ্কার করাসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুধু নিজেদের চাহিদাই নয়, বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এসব সবজি। শীতের এ মৌসুমে জেলার বিভিন্ন বাজারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা গুলোতে সবজি পাঠাবেন কৃষকরা । এ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে লালমনিরহাটের কৃষকেরা।  লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা নদীর প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে কোনো আগাম সবজি চাষ হলে বাজারে চাহিদা বেশি থাকে। আর মুনাফাও অনেক বেশি হয়। তাই কৃষকরা বিশেষ করে উঁচু জমিতে সবজি চাষে ঝুঁকছেন। অল্প সময়ে কম খরচে অধিক মুনাফা লাভের জন্য ফুলকপি, মিষ্টি কুমড়া, লাউ ও বাঁধাকপির জুড়ি নেই। পানি জমে না এমন উঁচু জমিতে কপি চাষের জন্য উপযুক্ত।

তিস্তা নদীর প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে বর্তমানে বাণিজ্যিক ভাবে  আগাম সবজি চাষে বেশ আলোড়ন তুলছেন  কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষক মতিয়ার রহমান(৫০) বলেন, বর্তমানে  সবজিতে কীটনাশকের ব্যবহার অনেকটাই কম থাকায় গুণগত মানে চাহিদাও অনেক বেশি । গত বছর আমি এক একর জমিতে ফুলকপি চাষাবাদ করে খরচ বাদে ৮০ হাজার টাকা লাভ করেছি। চলমান বাজার ও আবহাওয়া ভালো থাকলে একই জমি থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় হবে বলে আশা রাখছি।

পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক আশরাফুল হক(৪০) জনান, গত বছর তিনি ১ একর জমিতে প্রায় ৪০ মেট্রিক টন শাক সবজি পেয়েছেন। তা পাইকারি বিক্রি করে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা আয় হয়েছে।

বড়বাড়ী ইউনিয়নের কৃষক জাহিদ হাসান (৪২) বলেন, সবজি চাষে তুলনামূলকভাবে মূলধনও কম লাগে। পরিশ্রমও তেমন বেশি না। কম সময়েই সবজি বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। তবে সেবায় ত্রুটি করা যাবে না।

এছাড়া চলতি মৌসুমে সবজির দামও বেশ ভালোই আর পরিবারের চাহিদাও মেটানো সম্ভব। সব মিলিয়ে সবজি চাষকেই আমরা লাভজনক মনে করছি।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা  খন্দকার সোহায়েল আহমেদ জানায়, এবার শীতকালীন শাক-সবজিসহ প্রায় সব রকমের ফসলের ভালোই ফলন হচ্ছে।  আশা করি এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি শাকসবজি  উৎপাদন হবে এ অঞ্চলে।

লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, ড. মোঃ সাইফুল আরিফিন জানান, চলতি  মৌসুমে জেলায় ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজির চাষ আবাদ হয়েছে এবং

২ হাজার ৯৬৮ হেক্টর জমির ফসল কাটা  হয়েছে। সেইসাথে আগাম শাকসবজি ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। বর্তমানে কৃষকরা জৈব পদ্ধতিতে বিষমুক্ত শাকসবজি  উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে। অন্যদিকে বাজারে সবজির চাহিদা থাকায় কৃষকরা নায্য দামে বিক্রি করতে পেরে লাভবান হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৮, ২০২৪ ৪:৫৯ অপরাহ্ন
পটুয়াখালীর দুমকীতে মাত্র ২৫ টাকায় মাটি পরীক্ষাপূর্বক ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকার কৃষক সেবা প্রদান
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালীর দুমকীতে মাটি পরীক্ষা পূর্বক সার সুপারিশ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বৃহঃস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দুমকী উপজেলায় সার সুপারিশ কার্ড বিতরণ ও কৃষক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এসআরডিআই বিভাগীয় গবেষণাগারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা একেএম আমিনুল ইসলাম আকন, প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও এএমএসটিএল কর্মসূচীর সমন্বয়ক একেএম জগলুল পাশা, পটুয়াখালী আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশিক এলাহী এবং দুমকী উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ইমরান হোসেন। বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ কায়েস মাহমুদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসআরডিআই পটুয়াখালীর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও টিম কীর্তনখোলার দলনেতা কাজী আমিনুল ইসলাম।

‘মাটি পরীক্ষা করে সার দিন, সারের অপচয় কমিয়ে অধিক ফসল ঘরে নিন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে চলতি রবি মৌসুমে এসআরডিআইর ১০টি ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষা গবেষণাগারের মাধ্যমে সারাদেশে চলছে কৃষক সেবা কার্যক্রম। এর অংশ হিসেবে দুমকী উপজেলায় দক্ষিণের ভ্রাম্যমান মৃত্তিকা পরীক্ষা গবেষণাগার (এমএসটিএল) কীর্তনখোলার উদ্যোগে এই সার সুপারিশ কার্ড বিতরণ এবং কৃষক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

কৃষক পর্যায়ে গণসচেতনতার লক্ষ্যে বরিশাল বিভাগের ৪ উপজেলায় এই কার্যক্রম গত ১৭ নভেম্বর শুরু হয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। উপজেলাগুলো হলো: নেছারাবাদ, গৌরনদী, দুমকী ও বরগুনা সদর। কর্মসূচিতে মাত্র ২৫ টাকার বিনিময়ে মাটি পরীক্ষার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন চাষিরা; যার প্রকৃত খরচ ৪শ’ ৪০ টাকা। বাকি ৪ শ’ ১৫ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। মাত্র ২৫ টাকায় কৃষক ফসলি জমির মাটি পরীক্ষা করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছসিত।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৭, ২০২৪ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
নওগাঁয় আগাম জাতের আলু চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন
কৃষি বিভাগ

নওগাঁ জেলার কৃষকরা আগাম আলু চাষ করে বাজারে ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন। নওগাঁর বাজারে ইতিমধ্যেই আগাম জাতের নতুন আলু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু ২০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন হাট থেকে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি আলু ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় কিনে এনে বাজারে খুচরা ব্যাবসায়ীদের কাছে প্রতি কেজি আলু ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রি করছেন। খুচরা ব্যবসায়ীরা ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ২০০ টাকায়। কৃষি বিভাগের হিসেব অনুযায়ী প্রতি হেক্টর জমি থেকে ১২ মেট্রিক টন হিসেবে জেলায় মোট ৪৮ হাজার ৭২০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন চলতি মৌসুমে জেলায় কৃষকরা মোট ৪০৬০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষ করেছেন।

উপজেলা ভিত্তিক আগাম আলু চাষের জমির পরিমাণ নওগাঁ সদর উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর, রানীনগর উপজেলায় ১৫ হেক্টর, আত্রাই উপজেলায় ১ হাজার ৮শ হেক্টর, বদলগাছি উপজেলায় ৩৫০ হেক্টর, মহাদেবপুর উপজেলায় ২২০ হেক্টর, পত্নীতলা উপজেলায় ১০ হেক্টর, ধামইরহাট উপজেলায় ২৫০ হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ৩৬০ হেক্টর, পোরশা উপজেলায় ৫০ হেক্টর, মান্দা উপজেলায় ২৫০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ১০৫ হেক্টর।

কৃষকরা আগাম জাত হিসেবে লালপাপড়ি, সাদা পাপড়ি, সাইটা এবং ডায়মন্ড জাতের আলু চাষ করেছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২০, ২০২৪ ১০:০০ পূর্বাহ্ন
নড়াইলে কৃষকদের মধ্যে ধান বীজ বিতরণ
কৃষি বিভাগ

নড়াইল জেলার সদর উপজেলায় রবি ২০২৪-২৫ মৌসুমে বোরো ধানের হাইব্রিড জাতের বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সদর উপজেলা কৃষি অফিস চত্ব¡রে সদর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শতাধিক কৃষকের মধ্যে এসব বীজ বিতরণ করা হয়।সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্চিতা বিশ্বাস।

এ সময় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সৌরভ দেবনাথ,উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমীন, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা একেএম মামুনুর রশিদ,উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সুজন কুমার র্প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে, নড়াইল সদর উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক শতাধিক কৃষকের মধ্যে জনপ্রতি দুই কেজি করে হাইব্রিড জাতের বোরো ধানের বীজ বিতরণ করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় নড়াইল পৌরসভা ও সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে মোট ৭হাজার ৫শ’ কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বোরো ধানের বীজ বিতরণ করা হবে।

whatsapp sharing button
শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ৬, ২০২৪ ৯:৩২ পূর্বাহ্ন
মাগুরায় কৃষকদের মধ্যে বীজ বিতরণ
কৃষি বিভাগ

মাগুরায় সদর উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে রবি ২০২৪-২৫ মৌসুমের গম, সরিষা, ভুট্টা,শীতকালীন পেঁয়াজ, মুগ, মসুর ও খেসাড়ি ডালের  বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। ৪ নভেম্বর বেলা ১১ টায় সদর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে এ বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রামের উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান।

সদর উপজেলা কৃষি অফিসার হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান, সদর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার তোজাম্মেল হক, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোছা. রোমানা রহমান প্রমুখ ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি রবি মৌসুমে সদর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের মোট ১৩ হাজার  কৃষকের মধ্যে এ বীজ ও সার বিতরণ করা হবে। আজ ৮ হাজার কৃষককে সরিষা বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। বাকি কৃষকদের পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ফসলের বীজ ও সার প্রদান করা হবে।

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button
শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ৩, ২০২৪ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
কৃষি-শিল্প পরামর্শ কর্মশালা এবং সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

দীন মোহাম্মদ দীনুঃ “স্ট্রেংথেনিং এগ্রিকালচারাল টারশিয়ারি এডুকেশন প্রজেক্ট (এসএটিইপি)” এর আওতায় কৃষি-শিল্প পরামর্শ কর্মশালা এবং বাকৃবি ও কৃষি-শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ নভেম্বর ২০২৪) ঢাকাস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালা এবং সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সলর প্রফেসর ড. এ, কে, ফজলুল হক ভূঁইয়া। দেশের কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি খাতের গবেষণা ও মানোন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, জলবায়ু ব্যবস্থাপনাসহ কৃষিবিষয়ক উচ্চশিক্ষা শক্তিশালীকরণে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এবং কোরিয়ার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) এর অর্থায়ন করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) যৌথভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।


ভাইস-চ্যান্সলর প্রফেসর ড. এ,কে, ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন,গত ৬৩ বছর যাবৎ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিথযশা শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দ নিরলসভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞান বিতরণ করে চলেছেন এবং ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের কৃষিতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। প্রকল্পটি দেশের কৃষি খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আধুনিক কৃষি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং উচ্চতর কৃষি গবেষণা পরিচালনায় সহায়ক হবে। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হবে। এখানে কৃষি ও কৃষি প্রধান ৯ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং এতদসংশ্লিষ্ট প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ এখানে গবেষণা করার সুবিধা পাবে। তিনি আরো বলেন বহিঃবিশ্বের সঙ্গে তাল রেখেই আমাদের চলতে হবে। আগামীর কৃষি যে যান্ত্রিক ও প্রযুক্তির কৃষি- সে কথা মাথায় রেখেই সরকার কাজ করছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কৃষির সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের নিজস্ব অংশগ্রহণের প্রশ্নে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে।

অন্যদের মধ্যে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি’র সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড. জি.এম. মুজিবর রহমান, এডিবির হিউম্যান অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সেক্টরের সিনিয়র সোশ্যাল সেক্টর ইকোনোমিস্ট রিওতারো হায়াসি, বাকৃবি’র পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক গোলাম হাফিজ, অধ্যাপক ড. শামসুল আলম ভূঞা, অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ, মোঃ আবুল হাসেম, সভাপতি, বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন, সৈয়দ মাহমুদুল হক, চেয়ারপারসন, বাংলাদেশ চিংড়ি ও মৎস্য ফাউন্ডেশন, মিসেস ফৌজিয়া ইয়াসমিন, ডিরেক্টর, ইস্পাহানি এগ্রো লিমিটেড, জনাব নাসের আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক, প্রাণ আরএফএল গ্রুপ, বাকৃবি’র জনসংযোগ ও প্রকাশনা দফতরের পরিচালক মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল্লাহ।

পরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আলাদা আলাদাভাবে বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ চিংড়ি ও মৎস্য ফাউন্ডেশন এবং ইস্পাহানি এগ্রো লিমিটেড এর সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, এসএটিপি প্রকল্পের অধীনে ‘বাংলাদেশ ইনস্ট্রুমেন্টেশন সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড এগ্রিকালচারাল রিসার্চ’ নামে একটি উচ্চতর গবেষণা সেন্টার গড়ে তোলা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় কৃষি শিক্ষার যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়নের পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।এছাড়া, প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষক ও কৃষি সম্পর্কিত শিল্প প্রতিষ্ঠান সমূহের সাথে যোগসূত্র তৈরি করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৩১, ২০২৪ ১২:০২ অপরাহ্ন
লালমনিরহাটে আগাম জাতের আমন ধান উৎসব
কৃষি বিভাগ

লালমনিরহাট জেলায় শুরু হয়েছে আগাম জাতের আমন ধান কাটার উৎসব। আমন ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছে। এর ফলে একই জমিতে তিনটি ফসল আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হবে কৃষকরা।

দেশের সীমান্তবর্তী উত্তরের জেলা লালমনিরহাট। জেলার ৫টি উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা এলাকার মাঠগুলোতে যতদূর চোখ যায় চারদিকে শুধু সোনালী ফসলের সমারোহ। পুরো মাঠ যেন সোনালী রঙে সেজেছে। তবে এবার ভালো ফলনের পাশাপাশি ধানের ভালো দামে হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে।

গত বছর এ সময় প্রতি মণ ধান বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ বছর তা বিক্রি হচ্ছে ১২০০- ১৩৫০টাকা পর্যন্ত। ধানের বর্তমান বাজারদরে খুশি কৃষকরা । ধানের দাম আরও বাড়বে এমন প্রত্যাশাও করছেন তারা।

কৃষক আব্দুল মিয়া(৪৮) বলেন, নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এ বছর আমনের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় ছিলাম। তবে এবার ফলন আশানুরূপ হয়েছে। পোকা-মাকড়ের তেমন উৎপাতও ছিল না। বলা যায় ধানের ফলন মোটামুটি ভালোই।

তিনি আরো বলেন, প্রতি বিঘা জমি থেকে আমি প্রায় ১৫ মণ ধান পেয়েছি । এ বছর বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৮ -১০ হাজার টাকা। সার ও অন্যান্য কীটনাশকের দাম বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। তাই আশা করছি, কয়েকদিন পর ধানের দাম আরও বাড়বে।

জেলা সদরের বড়বাড়ী হাটের ধানের পাইকার ফারুক মিয়া বলেন, হাটে নতুন ধানের তেমন সরবরাহ নেই। ধানের দাম কমার আশংকা নেই। তবে দাম বাড়ার সম্ভাবনা আছে। তিনি আরো বলেন, এখন অধিকাংশ কৃষকই বাড়ি থেকে ধান বিক্রি করে। ধানের পাইকাররাও কৃষকদের বাড়িতে গিয়ে ন্যায্য মূল্যে ধান কিনছেন। বর্তমানে আমরা প্রতি মণ ধান ১২০০-১৩৬০ টাকায পর্যন্ত কিনছি।

এ জেলায় গত কয়েকদিন আগে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র প্রভাবে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে কিছু জায়গায় পাকা ও আধাপাকা ধানের গাছ গুলো মাটিতে হেলে পড়েছিল কিন্তু ধানের দানা গুলো শক্ত হয়ে যাওয়ায় হেলে পড়া ধান গাছগুলোর তেমন ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশংকা নেই বলে জানিয়েছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন।

গত বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার বড়বাড়ী বাজারে কৃষক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম (৪০) বলেন, ধানের বর্তমান বাজারদরে মোটামুটি ভালোই ।এ বছর ৮ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম ২ বিঘা জমির ধান ঘরে তুলেছি বাকি ৬ বিঘা জমির ধান ৫-৬ দিনের মধ্যে ঘরে তুলবো। আবার ধান কাটা শেষ হলেই সেই জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ করার ও প্রস্তুতি নিচ্ছি।

একই এলাকার কৃষক আবুছালাম ( ৪৬) বলেন, চলতি মৌসুমে সময় মতো বৃষ্টি এবং অনুকূল আবহাওয়া থাকায় অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও মোটামুটি ভালোই ধানের আবাদ হয়েছে। মানভেদে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ থেকে ১৩৬০ টাকায় পযন্ত। তিনি আরো বলেন, আমরা এবার আগাম আমন ধান চাষ করেছি। এ ধানের ফলন আর দামও অনেক ভালো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন জানান, আমন চাষ শুরুর পর থেকেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দুই ফসলী বা তিন ফসলী জমিগুলোতে কিভাবে ধানের ফলন ভালো হবে সে ব্যাপারে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এবার জেলায় ৮৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আগাম ধানের চাষাবাদ হয়েছে । ৫ হাজার হেক্টর জমির ধান আগাম কাটা হয়েছে।

এবার আমন চাষে কৃষকদের বাড়তি কিছু খরচ করতে হয়েছে। তবে, ধানের ফলন আশানুরূপ। কৃষকরাও আশানুরূপ দরে ধানও বিক্রি করতে পারছেন।

 

_বাসস

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop