৬:৫০ পূর্বাহ্ন

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ১১, ২০২২ ৮:৫৮ অপরাহ্ন
শেখ হাসিনা মানেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি বলেছেন, “শেখ হাসিনা মানেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এই সময়ের বাংলাদেশ অনেক দিক থেকে এগিয়ে গেছে। এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে, ইন্টারনেট সংযোগসহ ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল সবখানে পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিবর্তিত বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ স্বাধীন করে দিয়েছেন আর আধুনিক বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। তাঁর সরকারের সময়ে বাংলাদেশের কোন অঞ্চল উন্নয়নবঞ্চিত থাকবে না”।

মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নে আলহাজ্ব আব্দুর রহমান ডিগ্রী কলেজ প্রাঙ্গণে কলেজের চারতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান।

আলহাজ্ব আব্দুর রহমান ডিগ্রী কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. সেলিম হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহ আলম, নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারেফ হোসেন, পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান, পিরোজপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার, নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হক, আলহাজ্ব আব্দুর রহমান ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন তালুকদার, নেছারাবাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক এস এম ফুয়াদ, বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদুর রহমানসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরো বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা রাজনীতিমুক্ত হওয়া দরকার। তা না হলে আদর্শ শিক্ষা ব্যাহত হবে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পঙ্কিল রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দিতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবার ও শিক্ষকদের যথার্থ ভূমিকা পালন করতে হবে”।

মন্ত্রী আরো যোগ করেন, “সন্ত্রাস-নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের প্রশ্রয় দেয়া যাবেনা। বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস কর। কারণ রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষের অধিকার আছে। দেশের কোন অঞ্চলে যেন সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প কেউ ছড়াতে না পারে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। উন্নয়নের বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়। শেখ হাসিনা না থাকলে আবার উন্নয়ন থেমে যাবে, আবার দুর্নীতিবাজ-সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।

বিএনপি-জামায়াতের ভুল প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য এসময় স্থানীয় জনসাধারণকে আহ্বান জানান মন্ত্রী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১১, ২০২২ ৬:৪২ অপরাহ্ন
চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে “বিজ্ঞান ভিত্তিক মহিষ পালন ও খামার ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক ৩ দিনব্যাপী খামারী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন
প্রাণিসম্পদ

ডা.অভিরুপ ভূষাণ পালঃ চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে বিজ্ঞান ভিত্তিক মহিষ পালন ও খামার ব্যবস্থাপনা শীর্ষক ৩ দিনব্যাপী খামারী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট এর বাস্তবায়নে ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়, আনোয়ারা এর সহযোগীতায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হলরুমে সুফলভোগী ৫০ জন মহিষ খামারীদের নিয়ে ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন করেন ডাঃ মোঃ আশরাফুল আলম খান, পরিচালক, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, চট্টগ্রাম। এসময় সভাপতিত্ব করেন ডাঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম।

মহিষ পালনের পটভূমি, উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক উপযোগীতা সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেন পরিচালক, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, চট্টগ্রাম। মহিষের রোগ প্রতিরোধে করণীয়, টিকা পরিচিতি,টিকা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা ও নিয়মাবলী, কৃমিমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ও উপায়, কৃমি প্রতিরোধে খামারীদের করনীয়, মহিষের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রোগসমূহ ও রোগের লক্ষণ সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ডাঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ও ডাঃ নইফা বেগম, ভেটেরিনারি সার্জন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম।

মহিষের শ্রেণীবিভাগ ও বাংলাদেশে প্রাপ্ত মহিষের জাতসমূহ,দুধাল গাভী মহিষ,আদর্শ প্রজনন ষাঁড় মহিষ নির্বাচন ইত্যাদি বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন ডাঃ অভিরুপ ভূষণ পাল, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্প, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট। মহিষের প্রজনন, গাভী মহিষের গরম হোয়ার লক্ষণ, প্রজনন সফল না হোয়ার কারণ ও করণীয় বিষয় সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেন ডাঃ সেঁতারা বেগম, প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম।

৩ দিনব্যাপী খামারীবান্ধব এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খামারীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভিত্তিক মহিষ লালনপালন, উন্নত জাতের ঘাস সংরক্ষণ, কাঁচাঘাস প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি, চর ও হাওর এলাকায় কাঁচা ঘাস উৎপাদন পদ্ধতি, আদর্শ দানাদার খাদ্য মিশ্রণ পদ্ধতি, মহিষ হৃস্টপুষ্টকরণ, মহিষের প্রজননস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারবেন। দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের কোর্স – কো অডিনেটর এর দায়িত্বে ছিলেন মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডাঃ অভিরুপ ভূষণ পাল।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১০, ২০২২ ৮:৪৮ অপরাহ্ন
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছিল- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছিল বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।

সোমবার (১০ জানুয়ারি) পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় বরইবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান।

বরইবুনিয়া আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি প্রনয় কুমার রায়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী বলরাম মন্ডল, গনপূর্ত অধিদপ্তর, পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম, নাজিরপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন, পিরোজপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান ফুলু , পিরোজপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল বসু, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, “স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে, আমাদের মনে রাখতে হবে বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া স্বাধীনতা সম্পূর্ণ হতো না। বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাংলাদেশ অসম্পূর্ণ,  মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অসম্পূর্ণ। বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে লাল-সবুজের পতাকা কল্পনা করা যায় না, অসম্প্রাদায়িক বাংলাদেশ কখনো কল্পনা করা যায় না। বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে আমরা স্বাধীন, সার্বভৌম এটা কখনো কল্পনা করা যায় না। সেজন্য দল-মতের পার্থক্য থাকলেও বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রাখতে হবে”।

মন্ত্রী আরো যোগ করেন, “বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরিপূর্ণতা পেত না। বঙ্গবন্ধু ফিরে না আসলে পৃথিবীর যে রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছিল সে স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব হতো না। বঙ্গবন্ধু ফিরে না আসলে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন সম্ভব হতো না। বঙ্গবন্ধু ফিরে না আসলে  স্বাধীনতাবিরোধীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতো। বঙ্গবন্ধু ফিরে না আসলে তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা যে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করছেন সেটা সম্ভব হতো না”।

“আজকের বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের দাম্ভিকতা নেই। আজকের বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে। আজকের বাংলাদেশ বিশ্বের বিস্ময়ের বাংলাদেশ। আজকে বাংলাদেশে একজন মানুষও না খেয়ে থাকে না। আজকের বাংলাদেশের নিজের টাকায় পদ্মা সেতু হচ্ছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে, মেট্রোরেল হচ্ছে, নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল হচ্ছে”-যোগ করেন মন্ত্রী।

শ ম রেজাউল করিম আরো বলেন, “বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে না থাকলেও তাঁর বিশ্বাস ও আদর্শ আমাদের মাঝে রয়েছে। তাঁর রক্ত ও আদর্শের উত্তরসূরি শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির জন্য আশীর্বাদ হিসেবে রয়েছেন। শেখ হাসিনার মাঝেই আমরা বঙ্গবন্ধুকে খুঁজে পাই। শেখ হাসিনা আছেন বিধায় আজকের বাংলাদেশে এত সমৃদ্ধির চিত্র”।

এর আগে মন্ত্রী নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নে কৃষক সেবা কেন্দ্রের তিন তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং এলাকাবাসীর জন্য  বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্টের উদ্বোধন করেন। পরে নাজিরপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে দুস্থ মানুষদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ, মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় ইলিশ সংরক্ষণ মৌসুমে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে জেলেদের মাঝে প্রণোদনার গরুর বাছুর বিতরণ ও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যদের মাঝে ট্রলার বিতরণ এবং সমাজ সেবা অধিদপ্তরের আওতায় প্রতিবন্ধী ও দুস্থদের মাঝে হুইল চেয়ার ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন মন্ত্রী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১০, ২০২২ ২:১৯ অপরাহ্ন
রংপুরে “ব্লাক বেঙ্গল” জাতের ছাগল এক্সিভিশন মেলা অনুষ্ঠিত
প্রাণিসম্পদ

ছাগল বাংলাদেশের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণিসম্পদ। বিশ্বে ছাগল পালনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। দেশে আদিকাল থেকে যে ছাগল পালন হচ্ছে তা ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের। এ দেশের আবহাওয়া ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল পালনে অত্যন্ত উপযোগী। ব্ল্যাক বেঙ্গল পৃথিবীর পাঁচটি সেরা মাংস উৎপাদন জাতের অন্যতম। এই জাতের ছাগল পালনের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বেকারত্ব দূরীকরণ ও দারিদ্র্য বিমোচন সহজেই সম্ভব।

“ব্লাক বেঙ্গল” ছাগলের জাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে রংপুর সদর উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। উক্ত প্রকল্পটির আওতায় রবিবার (০৯ জানুয়ারী) উপজেলা প্রাণীসম্পদ প্রাঙ্গনে “ব্ল্যাক বেঙ্গল” জাতের ছাগলের মেলা, প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলায় প্রাণীসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাশাপাশি ছাগল পালনকারি খামারিরা ও সাধারন মানুষের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মেলায় রংপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তিক খামারীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।

মেলার শুরুতে প্রাণীসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে একটি ্যালির আয়োজন করা হয়। ্যালিতে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডাঃ মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা ও ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ শরিফুল হক, পিপিআর (PPR) নির্মুল ও খুরারোগ (FMD) নিয়ন্রণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি মন্ডল, সমতল ভুমিতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. অসিম কুমার দাস, প্রাণিপুষ্টির উন্নয়নে উন্নত জাতের ঘাস চাষ সম্প্রসারণ ও লাগসই প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ আমজাদ হোসেন ভুইঞা ও অন্যান্য ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা ছাড়াও সাধারণ খামারীরা অংশগ্রহন করেন। পরে ্যালিটি উপজেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয়ের আশেপাশের এলাকা ঘুরে পুনরায় উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরে এসে শেষ হয়।

মেলা শেষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা দর্শনায় অবস্থিত ব্রাক লার্নিং সেন্টারে মেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী স্টলের খামারিদের মাঝে পুরষ্কার প্রদান করেন।

পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালক, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, রংপুর বিভাগ রংপুর এবং জেলা পর্যায়ের অনান্য কর্মকর্তাগণ।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১০, ২০২২ ১২:১২ অপরাহ্ন
গাভির ৩ বাছুর প্রসব, দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়
প্রাণিসম্পদ

গাভি সাধারণত একটি বাছুর প্রসব করে। কখনো কখনো গাভিকে জমজ বাছুর প্রসবও করতে দেখা যায়। একসঙ্গে তিনটি বাছুর প্রসব সাধারণত দেখা যায় না বললেই চলে।

এরকমই একটি বিরল ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের পোরজনা ইউনিয়নে। একটি ফ্রিজিয়ান গাভী ৩টি বাছুর প্রসব করেছে, আর এই নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যের।

জানা যায়, উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের বড়-বাচড়া গ্রামের দিনমজুর মোঃ জামাল হোসেনের পালিত একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারী) দুপুরে ৩টি বাছুরের জন্ম দিয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পরলে গাভী ও বাছুর ৩টি দেখার জন্য এলাকার উৎসুক জনতা প্রতিদিন জামাল হোসেনের বাড়িতে ভিড় করছে।

সরেজমিনে পোরজনা ইউনিয়নের বড়-বাচড়া গ্রামের ফকির চাঁদ প্রামাণিকের ছেলে দিনমজুর জামাল হোসেনের (৫০) বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ফ্রিজিয়ান জাতের সদ্য ভুমিষ্ঠ তিনটি বাছুর তাদের গর্ভধারিণী গাভীর পাশে খেলা করছে। মাঝে মধ্যেই তাদের মায়ের কাছে গিয়ে দুধ পান করছে, বাছুরগুলোর পাশে কেউ গেলেই তার গিয়ে গাভীটি তেরে আসছে।

গাভীর মালিক দিনমজুর জামাল হোসেন জানান, আমি কখনও ৩টি বাছুর একসাথে ভুমিষ্ঠ হওয়ার কথা শুনিনি। এখন আমার পালিত গাভীই একে একে ৩টি বাছুর প্রসব করায় আমি খুবই আনন্দিত। প্রায় ৯ মাস পূর্বে শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের এইআই টেকনিশিয়ান ওহিদুল ইসলাম আমার গাভীটির কৃত্রিম প্রজনন করে দেন।

তিনি আরও জানান, শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মিজানুর রহমান ও ভেটেরিনারী সার্জন মীর কাউসার হোসেন আমাকে সবসময় প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেছেন। এবং পোরজনা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিল (কমিউনিটি এক্সটেনশন এজেন্ট ফর লাইভস্টক) আব্দুল কুদ্দুস মাঝে মধ্যেই পরিদর্শন করতেন।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মিজানুর রহমান বলেন, একেসঙ্গে ৩টি বাছুরের জন্মদান একটি বিড়ল ঘটনা। বিষয়টি জানার পরই আমি জামাল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে বাছুর ৩টি পরিদর্শন করেছি। এবং গাভী ও বাছুর ৩টির স্বাস্থ্য পরিক্ষা করেছি, তাদের শারিরীক অবস্থা বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্রিজিয়ান জাতের এই গাভীটির বয়স সাড়ে ৩ বছর। বাছুর ৩টিও ফ্রিজিয়ান জাতের, এই গাভীটি এইবার দিয়ে দ্বিতীয় দফায় বাছুর জন্ম দিয়েছে। গাভীটি ১৩ মাস পূর্বে আরো একটি বাছুরের জন্ম দিয়েছিল। জামাল হোসেনের গাভী ও বাছুর ৩টির সকল প্রকার চিকিৎসা ও ঔষধ উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর থেকে বিনামূল্যে সরবারাহ করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৯, ২০২২ ৮:৪৪ অপরাহ্ন
শেখ হাসিনা দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।

রবিবার (০৯ জানুয়ারি) পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় পশ্চিম সোহাগদল শহীদ স্মৃতি বি এম ডিগ্রী কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সুধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান।

সরকারের সাবেক সচিব এম শামসুল হকের সভাপতিত্বে সুধি সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহ আলম ও নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারেফ হোসেন। নেছারাবাদ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রিয়াজ হোসেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার, নেছারাবাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক এস এম ফুয়াদ, নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবির মোহাম্মদ হোসেন, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান খান শামীম, পিরোজপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল বসু, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, “একজন লোকও যাতে গৃহহীন না থাকে, কোন মানুষ যেন খাদ্যের অভাবে না থাকে, একটি বাড়ি যাতে বিদ্যুৎহীন না থাকে, সেটাই হচ্ছে শেখ হাসিনার কর্মসূচি। শেখ হাসিনা দেশের প্রান্তিক অঞ্চল পর্যন্ত হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নারী-পুরুষ সকলের জন্য একটা সুন্দর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চান। একজন মানুষও যাতে সরকারের সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটাই হচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মসূচি। আমাদের সৌভাগ্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার মতো একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি”।

মন্ত্রী আরো যোগ করেন, “করোনাকালে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বত্র সাহায্য পৌঁছে দেয়া হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেয়াসহ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য। তিনি দেশের মানুষকে বাঁচাতে অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। তিনি কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষকে পেছনে রাখেন নি। সকলকে সামনে নিয়ে এগিয়ে গেছেন। মানুষের জীবন ও দেশের উন্নয়নে কোন প্রকল্প তিনি বন্ধ করেন নি”।

খারাপ মানুষরা যাতে সমাজের ও দেশের নেতৃত্বে আসতে না পারে সে বিষয়ে রাজনৈতিক নেতাদের সতর্ক থাকার জন্য এ সময় আহ্বান জানান মন্ত্রী।

এর আগে মন্ত্রী নেছারাবাদের সেহাংগল মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুস্থ মানুষদের মাঝে প্রাধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। পরে তিনি নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদে দুস্থ মানুষদের মাঝে প্রাধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ, ক্যান্সার ও জন্মগত হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল ব্যাধিতে আক্রান্তদের মাঝে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ এবং মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য উপকরণ সহায়তা হিসেবে গবাদিপশু বিতরণ করেন। এছাড়াও তিনি স্বরূপকাঠি সরকারি কলেজের ছয়তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনপূর্বক এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। পরে পশ্চিম সোহাগদল শহীদ স্মৃতি বি এম ডিগ্রী কলেজের নবনির্মিত প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন ও নতুন আইসিটি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৯, ২০২২ ২:০৭ অপরাহ্ন
মহিষের দইয়ে মিলেছে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া
প্রাণিসম্পদ

দই খেতে কে না ভালোবাসেন। আর সেই দই যদি হয় মহিষের, তাহলে তো কথাই নেই কিন্তু যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দই বানানোর ফলে এই মহিষের দইয়ে মিলেছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান।

আর্ন্তজাতিক গবেষণা জার্নাল নেচার রিসার্চ এর ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।

গবেষণায় দেখা গেছে, মহিষের দইয়ে ক্যান্ডিডা, আয়োডোফেনাস, এপিওট্রাইকাম ও ট্রাইকোস্পোরন নামে ছত্রাকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যা মানবদেহে চুলকানি ও চামড়ায় সংক্রমণ, হজমে সমস্যা এবং রক্তে মারাত্মক বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী।

এছাড়াও মহিষের দইয়ে ল্যাক্টোব্যাসিলাস এবং অ্যান্টারোব্যাকটার, অ্যাসিনেটোব্যাক্টার, শিগেলা, ক্লেবসিয়েলা, সাইট্রোব্যাক্টার ও অ্যারোমোনাস প্রজাতির অণুজীব পাওয়া গেছে। যা মানবদেহের বিভিন্ন রোগ যেমন: পাকস্থলীর সংক্রমণ, ডায়রিয়া ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া ইত্যাদির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন গবেষকরা।

দেশে উৎপাদিত দইয়ের মান কেমন, তা যাচাই করাই ছিল এ গবেষণার লক্ষ্য। গবেষণার নমুনা বিশ্লেষণ করে প্রাপ্ত তথ্য আরও নিশ্চিত হতে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যারি মার্শাল গবেষণাগারের গবেষকরাও পুনঃনিরীক্ষা করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বিসিএসআইআর, বন গবেষণাগার, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও অস্ট্রেলিয়ার কার্টীন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনিভার্সিটি অফ ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে এই গবেষণা পরিচালনা করেন।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, রংপুর, মুন্সিগঞ্জ, বগুড়া ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পর পর তিন মাস তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সংগ্রহ করা হয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসব দই। পরে পিসিআর, জেল ইলেকট্রোফোরেসিস, অ্যামপ্লিকন সিকোয়েন্সিং (সিক্সটিন এস ও আইটিএস), অ্যাটোমিক এবসর্পশন, স্পেকট্রোফটোমেট্রি পদ্ধতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা  করা হয়।

এ গবেষণায় আরও দেখা যায়, পুষ্টিগুণের দিক থেকে টক দই অনেক বেশি এগিয়ে। টক দইয়ের সবগুলো ব্র্যান্ডে উপকারী খনিজ যেমন: সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে মিষ্টি দইয়ের তুলনায়, যা দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া মানবদেহের জন্য উপকারী উপাদান জিংকের পর্যাপ্ত পরিমাণ দেশে উৎপাদিত ৭০ শতাংশ দইয়ে নেই বলে গবেষণায় উঠে আসে।

২০১৯ এর জুলাই থেকে ২০২১ এর আগষ্ট পর্যন্ত চলা এ গবেষণায় আরও দেখা যায়, টক দইয়ের তুলনায় মিষ্টি দইয়ে উপকারী অণুজীবের পরিমাণ কম। এর পেছনে অতিরিক্ত চিনি বা অন্যান্য দ্রব্য মেশানো একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করেন গবেষকেরা।

অন্যদিকে, দেশে উৎপাদিত পাঁচটি ব্রান্ডের দইয়ে কপারের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় পাওয়া গেলেও তা ক্ষতিকারক মাত্রায় নেই- বলছেন গবেষকরা।

গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে পাওয়া যায় এমন টক এবং মিষ্টি দইয়ের ব্র্যান্ডগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিক, আর্সেনিক বা ভারী ধাতব পদার্থের উপস্থিতি না থাকা একটি স্বস্তির খবর। এটি  নিরাপদ খাদ্য হিসেবে দইয়ের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মহিষের দইয়ে বিভিন্ন অণুজীবের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য বিশ্লেষণ করা হয়। দেশে মহিষের দইয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে আরও গবেষণার পরিকল্পনা আছে।

এই গবেষণায় সহ গবেষক হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক আদনান মান্নান এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার মার্শাল সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজের গবেষক আলফ্রেড চ্যান এবং কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ জাভেদ ফয়সাল।

গবেষক দলে ডেইরি বিশেষজ্ঞ হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক জুনায়েদ সিদ্দিকি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক।

এছাড়াও গবেষক দলে ছিলেন বাংলাদেশ ফরেস্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউট চট্টগ্রামের গবেষক মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বিসিএসআইআর চট্টগ্রামের বিজ্ঞানী গোলাম মোস্তফা ও আবু বক্কর সিদ্দিক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফসানা ইয়াসমিন তানজিনা ও মেহেদী হাসান রুমি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৮, ২০২২ ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
উন্নত গুণসম্পন্ন ছাগল নির্বাচন করার জন্য যা যা জানা প্রয়োজন
প্রাণিসম্পদ

লাভজনক ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের খামার স্থাপনে উৎপাদন বৈশিষ্ট্য উন্নত গুনাগুনসম্পন্ন ছাগী ও পাঁঠা সংগ্রহ একটি মূল দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত। মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন বয়সী ছাগী ও পাঁঠা নির্বাচন সফলভাবে পালনের জন্য প্রযুক্তিগত তথ্যাদি সরবরাহ অত্যাবশ্যক। বর্তমানে বাণিজ্যিক ছাগল প্রজনন খামার না থাকায় মাঠ পর্যায় হতে ছাগল সংগ্রহ করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে ব্যাক বেঙ্গল ছাগল, বাচ্চা ও দুধ উৎপাদন ক্ষমতার ভিন্নতা বিদ্যমান। উক্ত ভিন্নতা বংশ অথবা/এবং পরিবেশগত কারণ বা স্বতন্ত্র উৎপাদন দক্ষতার জন্য হতে পারে। সে প্রেক্ষাপটে ব্যাক বেঙ্গল ছাগল খামার প্রতিষ্ঠার জন্য বংশ বিবরণের ভিত্তিতে বাছাই ও নিজস্ব উৎপাদন/পূনরুৎপাদন বৈশিষ্ট্যাবলীর ভিত্তিতে বাছাই বিবেচনায় রেখে ছাগল নির্বাচন করা যেতে পারে।

 

বংশ বিবরণের ভিত্তিতে বাছাইঃ

মাঠ পর্যায়ে বংশ বিবরণ পাওয়া দুরূহ। কারণ খামারীরা ছাগলের বংশ বিবরণ লিখিত আকারে সংরক্ষণ করেন না। তবে তাঁদেও সাথে আলোচনা করে একটি ছাগী বা পাঁঠার বংশের উৎপাদন ও পূনরুৎপাদন দক্ষতা সম্বন্ধে ধারনা নেয়া যেতে পারে। ছাগীর মা/দাদী/নানীর প্রতিবারে বাচ্চার সংখ্যা, দৈনিক দুধ উৎপাদন, বয়োপ্রাপ্তির বয়স, বাচ্চার জন্মের ওজন ইত্যাদি সংগ্রহ করা সম্ভব। পাঁঠা নির্বাচনের ক্ষেত্রে পাঁঠার মা/দাদী/নানীর তথ্যাবলীর উপর নির্ভর করা যেতে পারে। একটি উন্নত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগী/পাঁঠার বংশীয় গুনাগুন নিম্নরূপ হওয়া প্রয়োজন।

ছাগী নির্বাচনঃ

লাভজনক ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল খামার প্রতিষ্ঠার জন্য সারণী-১ এ উলেখিত জাতের ছাগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দৈহিক যে সমস্ত গুনাবলী বিবেচনা প্রয়োজন তা নিমণরূপ। বিভিন্ন বয়সে দৈহিক বৈশিষ্ট্যের তারতম্য হয়। সে কারণে একটি ছাগীর ৬-১২ মাস, ১২-২৪ মাস এবং ২৪ মাসের উর্দ্ধে বয়সের দৈহিক বৈশিষ্ট্যাবলী ভিন্নভাবে তুলে ধরা হল।

উন্নত গুনাগুন সম্বলিত একটি ছাগীর নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যাবলী থাকা প্রয়োজনঃ

মাথা: চওড়া ও ছোট হবে

দৈহিক গঠন : শরীর কৌনিক এবং অপ্রয়োজনীয় পেশীমুক্ত হবে

বুক ও পেট : বুকের ও পেটের বেড় গভীর হবে

 

পাজরের হাড় : পাজরের হাড় চওড়া এবং দুইটি হাড়ের মাঝখানে কমপক্ষে এক আঙ্গুল ফাঁকা জায়গা থাকবে

ওলান : ওলানের দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে। বাঁটগুলো হবে আঙ্গুলের মত একই আকারের এবং

সমান-রালভাবে সাজানো। দুধের শিরা উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা যাবে

বাহ্যিক অবয়ব : আকর্ষণীয় চেহারা, ছাগী সুলভ আকৃতি, সামঞ্জস্যপূর্ণ ও নিখুঁত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ

পাঁঠা নির্বাচনঃ

লাভজনক ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল খামার প্রতিষ্ঠার জন্য উল্লেখিত জাতের পাঁঠা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দৈহিক যে সমস্ত গুনাবলী বিবেচনাপ্রয়োজন তা নিমণরূপ। বিভিন্ন বয়সে দৈহিক বৈশিষ্ট্যের তারতম্য হয়।

উন্নত গুনাগুন সম্বলিত একটি পাঁঠার নিমণলিখিত বৈশিষ্ট্যাবলী থাকা প্রয়োজনঃ

চোখ : পরিষ্কার, বড় ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সম্পন্ন হবে

ঘাড় : খাটো ও মোটা থাকবে

বুক : গভীর ও প্রশস্ত হবে

পিঠ : প্রশস্ত হবে

লয়েন : প্রশস্ত ও পুরু এবং রাম্প এর উপরিভাগ সমতল ও লম্বা থাকবে

পা : সোজা, খাটো এবং মোটা হবে। বিশেষ করে পিছনের পাদ্বয় সুঠাম ও শক্তিশালী হবে এবং একটি হতে অন্যটি বেশ পৃথক থাকবে

অন্ডকোষ : শরীরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ঝুলানো থাকবে

বয়স : অধিক বয়স্ক (২ বছর বয়সের বেশী) পাঁঠা নির্বাচন করা যাবে না

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৫, ২০২২ ৩:০৮ অপরাহ্ন
শখের কোয়েল পাখি পালনে স্বাবলম্বী সজিব
প্রাণিসম্পদ

নিজ পেশায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শখে কোয়েল পাখি এর খামার ও হ্যাচারি গড়ে বার্ষিক দুই লক্ষাধিক টাকা বাড়তি আয় করছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সজিব আহমেদ নামে এক যুবক। ক্রমান্বয়ে খামারের প্রসার ঘটছে। উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের কৈপুকুরিয়া গ্রামের পাশে একটি বিশাল আম বাগানে গড়ে উঠেছে কোয়েল পাখির খামার ও হ্যাচারি। দুটি টিন সেডে শোভা পাচ্ছে ৪ সহস্রাধিক কোয়েল পাখি। খামারটি পাখির কিচিরমিচির ডাকে মুখরিত। মালিককে পেয়ে খাবার আশায় ছুটাছুটি করছে পাখিগুলো।

কৈপুকুরিয়া গ্রামের সজিব আহমেদ খামার ও হ্যাচারির মালিক। তিনি প্রায় ৪ বছর আগে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কম্পিউটারে অনলাইনে কাজ করার পাশাপাশি শখের বশে অল্প পরিসরে সজিব এগ্রো নামে একটি ছোট্ট কোয়েল পাখি এর খামার গড়ে তুলেন। তিনি প্রথমে তিনি ৩ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে ১৭০টি কোয়েলের বাচ্চা ক্রয় করেন। ক্রমান্বয়ে খামারের প্রসার ঘটতে থাকে। অল্পদিনের মধ্যে খামারের পাশে একটি কোয়েল পাখির হ্যাচারিও গড়ে তোলেন।

বর্তমানে একটি শেডে ৪ সহস্রাধিক কোয়েল পাখি রয়েছে। এরমধ্যে ২ সহস্রাধিক ডিমপাড়া যোগ্য কোয়েল পাখি রয়েছে। এগুলো প্রতিদিন পুষ্টিগুণ সম্পুর্ণ ১৪ শতাধিক ডিম দেয়। ডিমপাড়া যোগ্য প্রতিটি কোয়েল পাখি বছরে ২৮০ থেকে ৩শ’ ডিম দেয়। প্রতিটি ডিম ১ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ২ টাকায় বিক্রি হয়।

অপরদিকে, অন্য শেডে রয়েছে তার নিজস্ব হ্যাচারি। সেখানেই ইনকিউবেটর মেশিনের মাধ্যমে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো হয় এবং বাচ্চাকে কৃত্রিমভাবে তাপ দেওয়া হয়। এ কৃত্রিম তাপ দেওয়াকে ব্রুডিং বলে। ইনকিউবেটর মেশিনে ডিম দেওয়ার ১৭/১৮ দিনের মধ্যে বাচ্চা ফোটে। ফোটানো বাচ্চাগুলোকে দুই সপ্তাহ কৃত্রিমভাবে তাপ দেওয়া হয়। এখানে প্রতিমাসেই ইনকিউবেটর মেশিনে ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার বাচ্চা ফোটানো হয়। তিনি উৎপাদিত ডিম ও ফোটানো বাচ্চাগুলো বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন। বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য বেকার যুবক এ কাজে সম্পৃক্ত হয়ে ক্রমান্বয়ে সফলতা অর্জন করছেন।

এখানে একদিন বয়সী প্রতিটি বাচ্চা ৫/৬ টাকায় বিক্রয় করা হয়। এক মাস বয়সী মানুষের খাবার যোগ্য প্রতিটি পাখির মূল্য নেওয়া হয় ২৫/৩০ টাকা। কোয়েলপাখি ৪০/৫০দিন বয়সে ডিম দিতে শুরু করে। ডিম পাড়া যোগ্য প্রতিটি কোয়েল পাখি মূল্য ৪৫/৫০ টাকা নেওয়া হয়।

সজিব আহমেদ জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শখে কোয়েল পাখির খামার ও হ্যাচারি গড়ে তুলেছেন। বেকার যুবকরা এ কাজে সম্পৃক্ত হলে সংসারে সফলতা অর্জনে সক্ষম হতে পারবেন। তিনি প্রতি বছর তার খামার ও হ্যাচারি থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা বাড়তি আয় করেন।

আরো পড়ুনঃ ডিম, মুরগি ও ১ দিন বয়সী বাচ্চার সর্বশেষ (বৃহস্পতিবার , ০৫ জানুয়ারি)পাইকারি দাম

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৪, ২০২২ ৭:০৫ অপরাহ্ন
গবেষণা জাহাজ ইলিশ উৎপাদনে ব্যাপক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নতুন গবেষণা জাহাজ ইলিশ উৎপাদনে ব্যাপক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

মঙ্গলবার (০৪ জানুয়ারি) খুলনা শিপইয়ার্ডে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের জন্য শিপইয়ার্ড কর্তৃক নবনির্মিত ইলিশ গবেষণা জাহাজ হস্তান্তর উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরো বলেন, “ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। অতীতের চেয়ে এখন বেশি ইলিশ উৎপাদন হচ্ছে। তবে ইলিশের সাময়িক উৎপাদন বৃদ্ধি নয় বরং গবেষণার মাধ্যমে আমরা ইলিশ উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চাই। ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ইলিশের গুণগত মান আমরা নিশ্চিত করতে চাই। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ইলিশ কখনো বিপন্ন যাতে না হয় সেজন্য আমাদের গবেষণা ইনস্টিটিউট রয়েছে, বিভিন্ন ল্যাবরেটরি রয়েছে। ইলিশ গবেষণার ক্ষেত্রে গবেষণা জাহাজ বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আমরা চাই নদীমাতৃক বাংলাদেশে যেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুস্বাদু ইলিশ পাওয়া যায়”।

খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর খন্দকার আক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ। খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন, খুলনা নেভাল এরিয়া কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, খুলনার জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার, বিএফআরআই-এর ইলিশ গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্পের পরিচালক মো. আবুল বাশার এবং বিএফআরআই ও খুলনা শিপইয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, “বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। খুলনা শিপইয়ার্ডে গবেষণা জাহাজ তৈরি আমাদের সক্ষমতার পরিচয়। জাহাজ নির্মাণে ভবিষ্যতে আমরা বিদেশের উপর নির্ভর করবো না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই বলেন আমাদের নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। আজ দেশের মানুষের সাংবিধানিক মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বিশ্বের বিস্ময় হবে বাংলাদেশ”।

মন্ত্রী আরো বলেন, “করোনার সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দরজা একদিনের জন্যও বন্ধ ছিল না। কারণ এ মন্ত্রণালয়ের কাজ স্থবির হয়ে গেলে মানুষের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা মেটানো মাছ, মাংস, দুধ, ডিমের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। এ খাতে কাজ করা মানুষ বেকার হয়ে যাবে। এ খাতের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। এভাবে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে এসেছি”।

এ সময় চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “এ দেশটা আইনসঙ্গতভাবে চলবে। দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান। সংবিধানে যেটা নেই সে জাতীয় আবদার করলে সেটা দেয়ার কোন সুযোগ থাকবে না। অসাংবিধানিক কোন কিছু দাবী করা আইনের শাসনের পরিপন্থী। বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি সংবিধানসম্মত নয়। তাই এ দাবি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশে বিএনপি-জামাত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ইমেজ সংকটে পড়েছে। এখন যদি আবার সে চেষ্টা কেউ করে এ দেশের মানুষই তাদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। বর্তমান সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনা। তিনি বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও সমঝোতা করেন নি। কাজেই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ বা সরকারকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে কোন লাভ নেই। জনগণের ম্যান্ডেট না নিয়ে যেনতেন উপায়ে বিএনপির ক্ষমতায় আসার দুঃস্বপ্ন কখনো সফল হবে না। কারণ নেতৃত্বহীন, আদর্শহীন বিএনপিতে মানুষের আস্থা নেই”।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এ গবেষণা জাহাজ নির্মাণ করেছে। ৮৬ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ১৯ দশমিক ৬৮ ফুট প্রস্থের এ জাহাজে ফিশ ফাইন্ডার, ইকো-সাউন্ডার, নেভিগেশন এবং অত্যাধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, অগ্নি নির্বাপক সরঞ্জামাদি, আধুনিক ইলিশ গবেষণা ল্যাবরেটরি, নেটিং সিস্টেম, পোর্টেবল মিনি হ্যাচারিসহ অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। জাহাজটি দিয়ে নদী এবং সাগরের মোহনায় ইলিশের প্রজনন এবং বিচরণক্ষেত্রের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ এবং নতুন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া ইলিশের সর্বোচ্চ সহনশীল উৎপাদন, ইলিশের গতিবিদ্যা, জীবনচক্র ও উৎপাদনশীলতার ওপর পরিবেশ ও জলবায়ুগত প্রভাব নির্ণয় সংক্রান্ত গবেষণা পরিচালনা করা হবে।

আরো পড়ুনঃ বেড়েছে ইলিশের সরবরাহ, কমেনি দাম

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop