১:২৭ পূর্বাহ্ন

বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২, ২০২২ ৩:২৩ অপরাহ্ন
যে চরের জমি অনাবাদি থাকে না
কৃষি বিভাগ

রাজশাহীর পদ্মার চর এখন কৃষকদের স্বপ্নপল্লী। বছরে তিন ফসলের আবাদ হচ্ছে এ চরে। শক্তিশালী হচ্ছে চরাঞ্চলের অর্থনীতি। পলিমিশ্রিত ঊর্বর এই ভূমিতে ফলছে মসুর, গম, সরিষা, শাক-সবজি, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, মাসকালাই, ধনিয়া ও বাদামসহ অর্থকারী আরও অনেক ফসল।

জানা গেছে, জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত বৃহৎ আয়তনের চর রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার ৮৫৬ হেক্টরজুড়ে। এর মধ্যে আবাদ হয় এমন চরের পরিমাণ ৮৮ হাজার ৬৬০ হেক্টর।

বছরে একবার আবাদ করা যায় এমন জমি আছে ১৪ হাজার ৯১২ হেক্টর। বছরে দুটি ফসলের আবাদ করা যায় এমন চর ৩৬ হাজার ৩১৩ হেক্টর।

এ ছাড়া বছরজুড়ে সোনালি ধান ফলে ২১ হাজার ২৮ হেক্টরে। তবে এখনও মোট চরের প্রায় ৫৩৩ হেক্টর জমি চাষাবাদের বাইরে রয়েছে। এসব জমি আবাদযোগ্য করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।

কৃষকরা বলছেন, চরে আবাদ করা কষ্টকর হলেও এটাই তাদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাচ্ছে। চরের মাটি এখন পড়ে থাকে না। তবে সরকারি সহায়তা পেলে তারা আরও উপকৃত হবেন।

রাজশাহীর মতিহার, বোয়ালিয়া, পবা, গোদাগাড়ী, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার চরে প্রায় ১০ হাজার ১৮৭ হেক্টর জমিতে গত বছর প্রায় ১৩টি ফসলের চাষ হয়েছে। ওই বছর এই চর থেকে দুই হাজার ৩১৮ মেট্রিক টন মসুর, ৯ হাজার ৮৩৭ টন গম, ৫১৮ টন সরিষা, ৩২ হাজার ১০৫ টন সবজি, ৬ হাজার ২৫০ টন ভুট্টা, দুই হাজার ২০০ টন বোরো, সাত হাজার ৬৫০ টন পেঁয়াজ, পাঁচ হাজার ৭৭৫ টন রসুন, ১১ হাজার ৮৮২ টন আলু, তিন হাজার ৮২৫ টন আম, ৭২৮ দশমিক ৭ টন মাসকলাই, ৪৪৬ টন চিনাবাদাম ও ২৮৫ টন ধনিয়া পাতা উৎপাদন হয়েছে।

চরে এখন বোরো ধানের বীজতলা পরিচর্যা ও লাগানোর কাজে ব্যস্ত কৃষকরা। শ্রীরামপুরের কৃষক কালাম হোসেন বলেন, প্রতি বছর আমরা কয়েকজন মিলে চরের প্রায় ২০ থেকে ৩০ বিঘা আবাদ করি। গত বছর ধান, খেসারি ও মাসকলাইসহ সবজির চাষ করেছিলাম। চরের মাটি উর্বর। তাই চাষাবাদ খরচও কম। গত বছর বিঘা প্রতি ২২ থেকে ২৫ মণ ধান পেয়েছি। এবারও ধানের আবাদ করছি।

কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, চরের প্রায় চার বিঘা জমি লিজ নিয়ে আবাদ করেছি। প্রতি বছরই লিজ নিয়ে আবাদ করি। চার বিঘায় পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ও খেসারির আবাদ আছে। মসুরের আবাদটা তেমন ভালো হয়নি। তবে অন্যান্য আবাদ ভালো আছে। আশা করছি, এবারও লাভবান হবো।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীর চরাঞ্চলে প্রতি বছরই আবাদ বাড়ছে। যে চর প্রতি বছর ডুবে যায় সেখানে পলি জমে। তবে চরের কিছু জমিতে দেখা যাচ্ছে ক্ষতিকর মেডিসিনের ব্যবহার হচ্ছে। এটা মূলত পোকা দমনে ব্যবহার করা হয়। এসব আবার ফসল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। যদিও এর ব্যবহার কম।

তিনি আরও বলেন, চরের কৃষকদের চাষাবাদে উৎসাহিত করতে ও সমস্যা সমাধানে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া আছে। এ ছাড়া সরকারের কৃষিবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল চরাঞ্চলের কৃষকরাও পাচ্ছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২, ২০২২ ২:১৪ অপরাহ্ন
সয়াবিন উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ছে সরকারের
কৃষি বিভাগ

সয়াবিন তেল নিয়ে অনেকটাই বিব্রত সরকার। আমদানিনির্ভর পণ্যটির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দেশীয় বাজারে এর দাম নিয়ে সারা বছরই অস্বস্তিতে থাকতে হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। এখনও এ নিয়ে নানা সংকট সামলাতে হচ্ছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে। যে কারণে সয়াবিন উৎপাদনে আগ্রহ বেড়েছে সরকারের। কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেলো এ তথ্য।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ২০ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত হয় ২ লাখ টন। এর মধ্যে সরিষা, তিল, তিশি উল্লেখযোগ্য। আমদানির মধ্যে সয়াবিন ও পামই বেশি। এর মধ্যে আবার বেশি আমদানি হয় পাম তেল। যদিও এর সঙ্গে একমত নন অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানিকারকরা। তাদের ভাষ্য, চাহিদার ১৮ লাখ টন ভোজ্যতেলের মধ্যে ১৩ থেকে ১৪ লাখ টন সয়াবিন তেল আমদানি হয় ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনা থেকে।

বর্তমানে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায়। এ দাম আরও বাড়াতে সরকারের সঙ্গে দেনদরবার চলছে আমদানিকারকদের। ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থাকলেও সরকারের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে নিজেদের মতো প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে।

এ সব কারণেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাধ্যমে সয়াবিন উৎপাদনে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, সয়াবিন বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেলবীজ ফসল। বর্তমানে বাংলাদেশে যা সয়াবিন উৎপাদিত হয় তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। তাই বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা উন্নত জাত উদ্ভাবনের চেষ্টার অংশ হিসেবে সয়াবিনের একটি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন। জাতের নাম ‘বিনা সয়াবিন-২’। বাণিজ্যিকভাবে সারা বছর চাষাবাদের জন্য এটাকে ছাড়পত্র দিয়েছে জাতীয় বীজ বোর্ড।

এ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এর প্রধান উদ্ভাবক উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, ‘গাছটির উচ্চতা রবি মৌসুমে ২৭-৪০ সেন্টিমিটার এবং খরিফ-২ মৌসুমে ৩৫-৪২ সেন্টিমিটার হয়। প্রাথমিক শাখার সংখ্যা ৩-৫টি। প্রতি গাছে ফলের সংখ্যা ৪০-৫০টি। বীজ মাঝারি আকারের হয়। ১০০ বীজের ওজন ১৩ গ্রামের মতো হয়। বীজে আমিষ, তেল এবং শর্করার পরিমাণ যথাক্রমে ৪৩, ১৯ এবং ২৬ শতাংশ।’

তিনি আরও জানান, ‘রবি এবং খরিফ-২ মৌসুমে এ জাতের জীবনকাল ১১৫ এবং ১১৭ দিন। এ দুই মৌসুমে প্রতি হেক্টরে যথাক্রমে ২.৫-২.৮ এবং ২.৭-৩.৩ টন ফলন পাওয়া যায়।’

সম্প্রতি সয়াবিন সাপ্লাই চেইন উন্নয়ন শীর্ষক একটি পলিসি সভায় অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে সয়াবিন উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন। ‘সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া’র উদ্যোগে ঢাকাস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত পলিসি সভায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন ও গবেষণা সংস্থা প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে সয়াবিন উৎপাদন ও বাজার উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।

পাশাপাশি খাবার, পশুখাদ্য, মাছের খাদ্য এবং তৈল শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদানেও জোর দিয়েছেন তারা।

টেকসই পদ্ধতিতে সয়াবিনের উৎপাদন, সরবরাহ এবং ভ্যালু চেইন উন্নয়নের জন্য সমন্বিত ও বহু-অংশীজনভিত্তিক উদ্যোগে গুরুত্বারোপ করেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশিদ ভুঁইয়া। উন্নত জিনগত বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ সয়াবিনের জাত নিয়ে আরও গবেষণার আহ্বান জানান তিনি।

উত্তরাঞ্চলেও শুরু হয়েছে:

এতদিন নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল ও ফরিদপুরে সয়াবিনের চাষ হতো। এবার শুরু হয়েছে নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, ও ঠাকুরগাঁও জেলায়।

উত্তরাঞ্চলের এ সাত জেলার দেড় হাজার বিঘা জমিতে সয়াবিনের চাষ হয়েছে। আগামী বছর ৫০ হাজার বিঘায় চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সয়াবিনের উৎপাদন বাড়াতে পারলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) নোয়াখালী অঞ্চলের সরেজমিন গবেষণা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্তত ৩৩ জেলার ৭২টি উপজেলায় তিন থেকে চার লাখ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের চাষ হচ্ছে। এখান থেকে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদন হয়। যার শতকরা ৬০ ভাগই হয় লক্ষ্মীপুরে।

উদ্যোক্তারা জানান, সয়াবিন উৎপাদনের প্রধান সমস্যা ছিল বীজ। এবার চরে উৎপাদিত সয়াবিনের মাধ্যমে বীজ সমস্যার সমাধানও হবে।

এ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সয়াবিন চাষের উপযোগী জমি রয়েছে। ক্রমান্বয়ে কৃষকরাও আগ্রহী হচ্ছেন। প্রয়োজনে সরকারি সহায়তার পরিমাণ বাড়বে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, ‘পেঁয়াজ উৎপাদন বেড়েছে বলে গতবছর পেঁয়াজ নিয়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। আশা করছি দেশে সয়াবিনের উৎপাদন বাড়লে এ নিয়ে আর আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২, ২০২২ ১:০১ অপরাহ্ন
কুমারখালীতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজের চাষ
কৃষি বিভাগ

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে গতবারের চেয়ে খরচ কম, সময়মতো প্রণোদনা প্রাপ্তি, অনুকূল আবহাওয়া, চারার পর্যাপ্ততা ও লাভজনক ফসল হওয়ায় এ বছর ৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করেছেন চাষিরা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫৫ হেক্টর বেশি।

অপরদিকে, ভালো ফসল ঘরে তোলার জন্য পেঁয়াজের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। দিনব্যাপী সময় নিয়ে আঁকড়ানো, নিংড়ানো, সার ও স্প্রে দেওয়ার কাজ করছেন তাঁরা।

উপজেলার যদুবয়রা, পান্টি, চাদপুর, বাগুলাট ও চাপড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা দলবদ্ধভাবে শ্রমিক নিয়ে পেঁয়াজের আঁকড়ানো, নিংড়ানো, সার ও স্প্রে দেওয়ার কাজ করছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেঁয়াজের বীজ গত বছর খোলা ৬ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর তা কমে বিক্রি হয়েছে ৩ থেকে ৬ হাজার টাকায়। পেঁয়াজের চারা গত বছর ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। বীজ, চারা, সার, পরিচর্যাসহ এবার বিঘাপ্রতি পেঁয়াজ উৎপাদনে চাষিদের খরচ হবে ২৮ থেকে ৩২ হাজার টাকা। এ বছর মাঠে মাঠে বিদেশি কিং জাতীয় চারা রোপণ করা হচ্ছে। এতে বিঘায় ৪৫ থেকে ৬০ মণ পেঁয়াজ উৎপন্ন হবে। যার বাজার মূল্য হবে ৪০ থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের চাষি আমিরুল ইসলাম বলেন, ৩ বিঘা জমিতে চারা রোপণ করেছি। এখন আঁকড়ানো, নিংড়ানো, সার ও স্প্রে করার কাজ চলছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে গত বছরের চেয়ে অর্ধেক খরচে পেঁয়াজ ঘরে তুলতে পারব।

পান্টি ইউনিয়নের নগরকয়া গ্রামের চাষি আবুল হোসেন বলেন, পেঁয়াজ চাষে খরচ কমেছে। এবার বিঘাপ্রতি খরচ হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করেছি। নিয়মিত পরিচর্যা করছি। আশা করছি ফলন ভালো হবে।

আরও কয়েকজন চাষি বলেন, কৃষি অফিস থেকে এবার সময়মতো বীজ পেয়েছি। তাঁদের দিকনির্দেশনায় চারা ভালো হয়েছিল। সময়মতো চারা রোপণ করেছিলাম। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে পরিচর্যা করছি। গাছ ভালো হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া পেলে ভালো ফলন হবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট কৃষি জমির পরিমাণ ১৮ হাজার ২৪০ হেক্টর। এ বছর পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার ১০ হেক্টর এবং অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫৫ হেক্টর বেশি জমি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দেবাশীষ কুমার দাস বলেন, পেঁয়াজ চাষিদের অর্থকারী ফসলের মধ্যে অন্যতম। এ অঞ্চলের মাটি পেঁয়াজ চাষে উপযোগী। কৃষি কর্মকর্তারা সব সময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছে। অনুকূল আবহাওয়া, গতবারের চেয়ে খরচ কম ও সময়মতো প্রণোদনার বীজ ও সার প্রদান এবং লাভজনক হওয়ায় পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষি অফিসার আরও বলেন, এ বছর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৫ হাজার ১০ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫৫ হেক্টর বেশি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২, ২০২২ ১২:২৭ অপরাহ্ন
নড়াইলে সরিষার বাম্পার ফলন
কৃষি বিভাগ

নড়াইলে এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশীয় উন্নত জাতের সরিষা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। লাভও ভালো পাবার আশা করছে তারা।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, সরিষার ভালো ফলনে ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে।

নড়াইল জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন হলুদ রঙের ছড়াছড়ি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং রোগ বালাই কম হওয়ায় এবার সরিষার আবাদ ভালো হয়েছে। জেলায় এবছর বিনা-সাত,বারি চৌদ্দ, ষোলসহ উন্নত জাতের সরিষার আবাদ করেছে কৃষকরা।

কৃষকরা বলছেন, দেশীয় উন্নত জাতের এসব সরিষা প্রতি একরে পাওয়া যায় ১৫ থেকে ২০ মন। আর প্রতি মন সরিষার বিক্রি হয় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায়। এবার ভালো ফলনে অধিক লাভের আশা করছে কৃষকরা।

নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার রায় জানালেন, সরিষা চাষে কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে।

বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকে এখন রান্নায় সরিষার তেল ব্যবহার করছেন। এতে সয়াবিন তেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে বলেও মনে করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২২ ৪:৪২ অপরাহ্ন
জয়পুরহাটে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ক্যাপসিকাম চাষ করে সফল মোশারফ
কৃষি বিভাগ

খাদ্য উপাদানে ভরপুর ও পুষ্টিগুণাগুন সমৃদ্ধ ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন জয়পুরহাট জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের কৃষক মোশারফ হোসেন।

ক্যাপসিকাম চাষি মোশারফ হোসেন জানান, গত বছর অল্প পরিষরে চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ায় এবার বাণিজ্যিক ভাবে ১৬ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন। এতে চারা রোপণ করতে হয়েছে এক হাজার ১০০ টি। চারা রোপণের ৪৫ দিনের মাথায় প্রতিটি গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করেছে। ২০০ টাকা কেজি দরে বাজারে ৫ কেজি বিক্রি করেছেন গত সপ্তাহে। সাধারণ সবজির তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় তিনি বেশ আনন্দিত।

পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় জয়পুরহাটের স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ’জাকস ফাউন্ডেশন’ ক্যাপসিকাম চাষে চারাসহ কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করছে বলে জানান, মাঠ পর্যায়ে তদারকি করা জাকস ফাউন্ডেশনের কৃষি কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন শাহিন। বেলে দো’আঁশ মাটি ক্যাপসিকাম চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সে কারণে জয়পুরহাটের মাটি ক্যাপসিকাম চাষের জন্যও উপযোগী।

সরেজমিন ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্যাপসিকাম এলাকার সাধারণ মানুষের নিকট মিষ্টি মরিচ নামে পরিচিত। আগে তেমন কদর না থাকলেও খাদ্য উপাদানে ভরপুর ও পুষ্টিগুণাগুন সমৃদ্ধ হওয়ায় এর কদর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুষ্টিমানের দিক থেকেও প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ’সি’ থাকা ক্যাপসিকাম অত্যন্ত মূল্যবান একটি সবজি।

আয়মারসুলপুর গ্রামের ক্যাপসিকাম চাষি মোশারফ হোসেন জানান, ১৬ শতাংশ জমিতে চাষ করা ক্যাপসিকাম আগামী ৬/৭ মাস ব্যাপি ফলন পাবেন। এতে খরচ বাদে ৭০ থেকে ৮০হাজার টাকা লাভ থাকবে এমন প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

জাকস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো: নূরুল আমিন জানান, সরকারের পাশাপাশি পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহায়তায় পুষ্টিগুণ বিবেচনায় সময় উপযোগী ও চাহিদা মোতাবেক নানা ফসল উৎপাদনে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২২ ৪:১৩ অপরাহ্ন
রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সাহায্যে বোরো ধানের চাষ শুরু
কৃষি বিভাগ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের গজভাগ গ্রামের ৫০ একর এক ফসলি জমিতে চলিত অর্থবছরে হাইব্রিড জাতের বোরো ধান চাষের প্রকল্প নিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।

সোমবার (৩১ জানুয়ারি) সমলয়ে চাষাবাদ (Synchronize Cultivation) ব্লক প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে চারা রোপন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কৃষিকাজে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে ২০২১-২২ অর্থবছরের রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্সূচির আওতায় জেলা কৃষি বিভাগ বড়লেখার গজভাগ গ্রামের ৬৬ জন প্রান্তিক কৃষককে উদ্বুদ্ধ করে আধুনিক পদ্ধতিতে হাইব্রিড জাতের বোরো ধান চাষের প্রকল্প নিয়েছে। প্রায় দেড়শ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। এতে সরকারের প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলীর সভাপতিত্বে ও উপজেলা কৃষি অফিসার দেবল সরকারের সঞ্চালনায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে চারা রোপন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে গজভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী, বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামছুদ্দিন আহমেদ, কৃষি প্রকৌশলী সোনিয়া শাহানিয়া, বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম সরদার, উপজেলা কৃষকলীগের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন প্রমুখ।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম হোসেন, হাবিবুর রহমান, বিপুল দাস, ছাত্রলীগ নেতা মাছুম আজির, কৃষক ফখরুল ইসলাম, লালই মিয়া, নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তাই আমাদেরকেও কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে খুব দ্রুত সময়ে ধানের চারা রোপন করা সম্ভব। তাছাড়াও খরচ এবং লোকবলের প্রয়োজনও অনেক কম।আর এই পদ্ধতিতে ধান রোপন করলে ধানের ফলনও অনেক ভালো হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২২ ২:০১ অপরাহ্ন
খরায় নষ্ট বছরে ৪০ লাখ হেক্টর জমির ফসল
কৃষি বিভাগ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিবছর ৩০ থেকে ৪০ লাখ হেক্টর জমির ফসল খরায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আকস্মিক বন্যায় নষ্ট হয় হাজার হাজার একর জমির পাকা ধান। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মাধ্যমে কৃষকদের আগাম সতর্ক করা গেলে ক্ষতি কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল সোমবার ব্রি আয়োজিত ‘ইন্টিগ্রেটেড রাইস অ্যাডভাইজরি সিস্টেমস’ শীর্ষক ওয়েবিনারে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

ব্রি’র কৃষি আবহাওয়া এবং ক্রপ মডেলিং ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক নিয়াজ মো. ফারহাত রহমান প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়েছে, ধানগাছের কচি থোড় থেকে ফুল ফোটার সময় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার চেয়ে বেশি হলে ধান চিটা হয়ে যায়। অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতার কারণে গাছের ছত্রাক রোগ বাড়ে। পোকামাকড়ও বেড়ে যায়। কম বৃষ্টিপাতের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত জমির পরিমাণ দিন দিনই বাড়ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস মেনে কৃষি পরামর্শ সেবা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শস্যের ফলন ৭ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। এ ছাড়া উৎপাদন খরচ প্রায় ১৫ শতাংশ কমিয়ে কৃষকের আয় ৩১ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের মাত্র ৫ শতাংশ ধানচাষি আবহাওয়ার পূর্বাভাসভিত্তিক কৃষি পরামর্শ সেবা নিচ্ছেন জানিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, সবাই এ পূর্বাভাস পেলে ফলন ৭ শতাংশ বাড়বে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস ধান উৎপাদন ব্যবস্থায় সঠিকভাবে কাজে লাগানো হলে এক টাকা বিনিয়োগে ৫১ থেকে ৭৩ টাকা আয় করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব কমলা রঞ্জন দাস বলেন, জাতীয় কৃষিনীতিতে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মাধ্যমে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে।

ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেন, ধানের ৬০ ভাগ ফলন নির্ভর করে সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর। ব্রি এগ্রোমেট ল্যাবের তৈরি ধান চাষাবাদ এবং আবহাওয়াবিষয়ক পূর্বাভাস ও পরামর্শ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২২ ১:২৯ অপরাহ্ন
জয়পুরহাটে কোল্ড ইনজুড়ি থেকে বোরো বীজতলা রক্ষার চেষ্টা করছেন কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

জয়পুরহাট জেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা শৈতপ্রবাহের কারণে প্রচন্ড ঠান্ডা থেকে বোরো বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা ও গভীর নলকূপের গরম পানি সেচ দিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন কৃষকরা।

জেলায় চলতি ২০২১-২০২২ নিবিড় বার্ষিক ফসল উৎপাদন কর্মসূিচর আওতায় বোরো চাষ সফল করতে ৩ হাজার ৪শ ৩১ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বোরো বীজ গুলোর মধ্যে রয়েছে বিআর- ১৬, ২৮, বিআর-২৯ ও ব্রি-ধান ৫০, ৫৮ ও ৫৯। কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বোরো বীজ সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন। নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্রসহ জেলার ১ শ ১৪ জন বীজ ডিলারের মাধ্যম বীজ বিক্রি সম্পন্ন করা হয় ।

খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটে চলতি ২০২১-২০২২ নিবিড় বার্ষিক ফসল উৎপাদন কর্মসূিচর আওতায় এবার ৬৯ হাজার ৪ শ ২৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ৬৫ হাজার ২ শ ৭৫ হেক্টর ও হাইব্রিড জাতের রয়েছে ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর জমি। এতে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫৮ মে.টন। বোরো চাষ সফল করতে বর্তমানে জেলার কৃষকরা বোরো বীজতলর পরিচর্যা করছেন কৃষি বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে।

বর্তমানে জেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা শৈতপ্রবাহের কারণে প্রচন্ড ঠান্ডা থেকে বোরো বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা ও গভীর নলকূপের গরম পানি সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: শফিকুল ইসলাম।

জেলায় বোরো ধান চাষ সফল করতে সারের মজুদ সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২২ ১২:৩০ অপরাহ্ন
শেরপুরে সরিষার বাম্পার ফলন
কৃষি বিভাগ

শেরপুরে সরিষার হলুদ ফুলে ছেঁয়ে গেছে দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ। হিমেল বাতাসে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্য। দেখে মনে হয় ফাগুনের আগেই হলুদ বরণে সেজেছে প্রকৃতি। কৃষকরা জানান, এবার ফলন অনেক ভালো হবে। সরিষা বিক্রি করে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার আশা করছেন তারা।

দিগন্তজুড়ে যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। এ যেন হলুদের চাদর মোড়ানো সরিষা ফসলের মাঠ। সরিষা ফুলের গন্ধে ভরে গেছে ক্ষেতের পাশের গ্রামগুলো। আমন ধান কাটার পর বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষার মূল্য চড়া হওয়ায় কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

শেরপুর জেলা সদরসহ পাঁচ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরিষার আবাদ হয়েছে নকলা ও শ্রীবরদী উপজেলায়। এ উপজেলার কৃষকরা ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন।

কৃষকেরা জানান, অল্প খরচে স্বল্প সময়ে বেশি লাভের আশায় তারা সরিষা আবাদ করেছেন। গেলো দুই মৌসুমে লকডাউন, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকের ক্ষতি হলেও এবার সরিষার ভালো ফলনে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার কথা ভাবছেন তারা।

এদিকে, রোদের ঝলমল আলোয় প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে ভিড় করছে মানুষ।

জমিতে সরিষা চাষ করলে সরিষার ফুল ও সরিষা ঝরে পড়ে মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। যা পরবর্তীতে বোরো আবাদে অধিক ফলন পেতে সার হিসেবে কাজ করে বলে জানায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মুহিত কুমার দে বলেন, সরিষা একটা লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধু উৎপাদন। কৃষকেরা সরিষা চাষের পাশাপাশি মধু উৎপাদনেও এগিয়ে এসেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সরিষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ৭ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। এরইমধ্যে তা প্রায় পূরন হয়ে গেছে। যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২২ ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
খুলনায় প্রায় ৫শ’ খাল বেদখল
কৃষি বিভাগ

খুলনায় বেদখল হয়ে গেছে অন্তত অর্ধসহস্র সরকারি খাল। কোথাও কোথাও প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছেন স্থাপনা। কোথাও বা বেআইনিভাবে এসব খালকে কৃষি জমি হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে চাষের জন্য পানির যেমন সঙ্কট হচ্ছে তেমনি বর্ষা মৌসুমে দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। 

খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় জালের মত ছড়িয়ে রয়েছে ২ হাজারেরও বেশি ছোট বড় খাল। সরকারি এসব জলাশয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার। তবে এর মধ্যে ৫২২টি খাল ভরাট হয়ে অস্তিত্ব হারিয়েছে।

প্রভাবশালীরা খালে বাধ দিয়ে মাটি ও বালি ফেলে ভরাট করে ফেলেছে। গড়ে তুলেছে স্থাপনা। আবার কোন কোন খালের জায়গা কৃষিজমি হিসেবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ভূমিহীনদের।  ফলে একদিকে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে অসুবিধা হচ্ছে, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে চাষের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলার কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, খালগুলো দখলমুক্ত করে খনন করা জরুরি। এদিকে, খুলনার জেলা প্রশাসক জানালেন, সরকারি খাল কৃষি জমি হিসেবে বরাদ্দ দেয়ার কোন সুযোগ নেই। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সরকারি খালগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করে খনন করা হলে সেখানকার চাষাবাদ ও জীবনযাত্রা অনেকটাই সহজ হবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop