৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

রবিবার, ১৫ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৪, ২০২১ ৩:৫৮ অপরাহ্ন
জয়পুরহাটে রবি মৌসুমে ফসল চাষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ
কৃষি বিভাগ

কৃষি উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটে চলতি রবি ২০২১-২২ মৌসুমে বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে ব্যাপক কর্মসূিচ গ্রহণ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি ২০২১-২০২২ রবি মৌসুমে জেলায় ৬১ হাজার ৯৪৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফসল গুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ৫ হাজার ৭ হেক্টর, মরিচ ৩২০ হেক্টর, মাসকলাই ২৯০ হেক্টর, খেসারী ২০ হেক্টর, মটর ৩০ হেক্টর, মসুর ২২০ হেক্টর, পেঁয়াজ ৯০০ হেক্টর, রসুন ৩০০ হেক্টর, ধনিয়া ৩০ হেক্টর, আলু ৪০ হাজার ৩৫০ হেক্টর, মিষ্টি আলু ১৭৫ হেক্টর, গম ২ হাজার ৩৫০ হেক্টর, সরিষা ১১ হাজার ৫০ হেক্টর, ভূট্টা ৮০০ হেক্টর ও তিল ৪০ হেক্টর। এ সব ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন।

কৃষি বিভাগ জানায়, এসব ফসল চাষ সফল করতে জেলায় সারের মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে। নভেম্বর মাসের মজুদ সারের পরিমান ছিল ইঊরিয়া ৪ হাজার ১৯০ মেট্রিক. টন, টিএসপি ১ হাজার ৯১ মে.টন, এমওপি ১ হাজার ৫৯৩ মেট্রিক টন ও ডিএপি ৩ হাজার ১১৯ মেট্রিক টন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকারের বিভিন্ন ধরনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের ফলে রাসায়নিক সারের কোন প্রকার সংকট সৃষ্টি হয়নি এবং বাজারে বীজ সরবরাহে কোন সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। ভালো মানের কারণে বিএডিসির বীজ স্থানীয় কৃষকদের নিকট বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

ফসল উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা হিসেবে পরিচিত জয়পুরহাটে চলতি রবি ২০২১-২২ মৌসুমে বিভিন্ন ফসল চাষ সফল করতে কৃষক পর্যায়ে প্রশিক্ষণসহ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন বলে জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: শফিকুল ইসলাম।

অন্যান্য ফসল সংরক্ষণের তেমন কোন ব্যবস্থা না থাকলেও জেলায় ১৫ টি কোল্ড ষ্টোরেজ রয়েছে। যেখানে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় বলে জানায়, কৃষি বিভাগ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৪, ২০২১ ২:২১ অপরাহ্ন
শিবচরে মাঠজুড়ে কৃষকের হলুদ স্বপ্ন
কৃষি বিভাগ

মাদারীপুরের শিবচরে উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠজুড়ে হলুদ সরিষার ফুলে ছেয়ে গেছে। চির সবুজের বুকে যেন কাঁচা হলুদের আলপনা। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে এখন মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত। সরিষার বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের মুখে হাসি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা কৃষকদের।

শীত মৌসুমে প্রকৃতির অলঙ্কার হয়ে উঠেছে এই হলুদ সরিষার ক্ষেত। কিছু দিন পরেই মাড়াই করে তৈলের প্রস্তুত করা হবে এসব সরিষা। ভালো ফলন ও সরকারি প্রণোদনা পাওয়ায় এই উপজেলায় সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ৩২৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। গত বছর এ উপজেলায় ৩০০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। গত বছরের চেয়ে এবার ২৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ বেশি হয়েছে। একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল ফলাতে কৃষিতে সকল ফসলের প্রণোদনার অংশ হিসেবে সরিষা ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৫ শত জন কৃষকের মাঝে সরিষার উফশী জাতের বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়।

উল্লেখিত পরিমাণ উপকরণ সহযোগিতা ১ জন কৃষক ১ বিঘা জমি সরিষা চাষের জন্য গ্রহণ করেছেন।

ঢালিকান্দি গ্রামের সরিষা চাষি খবির শেখ জানান, এবার ১ বিঘা জমিতে সরিষা রোপন করেছেন। একই গ্রামের আব্দুল খালেক জানান, বাজারে তেল এবং খৈলের দাম বেড়েছে। তাই সরিষাও বাজারে বেশি দামে বিক্রি হবে এবং অধিক লাভবান হওয়া যাবে। এবার সরিষার ভাল দাম পাওয়া যাবে এমন আসায় তিনি প্রায় পৌনে চার বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। এমন আসা নিয়ে প্রায় ২বিঘা জমিতে সরিষা রোপন করেছেন।

আরেক চাষি বড় কেশাবপুর গ্রামের মো: রফিকুল মোল্লা জানান, তিনি ১০ কাঠা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। কোনরূপ প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সরিষার বাম্পার ফলন হবার সম্ভাবনা আছে। বাজারদর ভালো থাকলে এবছরে অধিক লাভ হবার সম্ভাবনা আছে।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুপম রায় বলেন, উপজেলার কৃষকদের মাঝে সরকারিভাবে সরিষা বীজ প্রদান করাসহ উপজেলা বিভিন্ন গ্রামে বা ক্ষেত পরিদর্শনসহ ভালো ফলন পেতে কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি।

এ বছরে ৩২৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। ফলে শিবচর উপজেলার তৈল জাতীয় শস্য উৎপাদনে নিবিড়তা বৃদ্ধি করতে সরিষা চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৪, ২০২১ ১২:০৩ অপরাহ্ন
শতবর্ষীয় পাকুড় গাছে ৬০টি মৌচাক
কৃষি বিভাগ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শতবর্ষী এক পাকুড় গাছে বাসা বেঁধেছে মৌমাছির দল। তবে দু-একটি নয়, এক গাছেই বাসা বেঁধেছে ৬০টি মৌমাছির দল। আর এসব চাক দেখে মনে হয় যেন এক মৌমাছির গাছ।

শতবর্ষী পাকুড় গাছটি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের মেঘেরচর মাঝিপাড়া গ্রামে। একসঙ্গে মৌচাক দেখার জন্য প্রতিদিনই পাকুড়তলায় ভিড় করেন লোকজন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নিভৃতপল্লীর সরকারি একটি খাস জমিতে দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষী একটি পাকুড় গাছ। গাছের নিচেই রয়েছে সনাতন ধর্মাবম্বীদের ছোট্ট একটি মন্দির। পাকুড় গাছের গোড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ডালে নির্বিঘ্নে বাস করছে মৌমাছির দল। মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় একবার হলেও পাকুড়তলায় থমকে দাঁড়াচ্ছেন লোকজন। সম্প্রতি স্থানীয় লোকজন ২০টি চাক থেকে তিন মণ মধু বিক্রি করেছেন। সেই মধু বিক্রির টাকায় মন্দিরের জন্য কিনেছেন ইট।

মেঘেরচর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, এক মাস হলো মৌচাকগুলো বসেছে। ৮০-৯০টি চাক ছিল। মধু সংগ্রহের কারণে কিছু মৌমাছি উড়ে গেছে। তবে এখনো ৬০টির মতো মৌচাক রয়েছে। তবে এর আগে এ গাছে এত মৌচাক কখনোই লাগেনি।

মৌচাক দেখতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, এক গাছে এত মৌচাক এর আগে কখনো দেখিনি। আমি মনে করি এ জায়গাটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। যেন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

চন্দ্রা রানী নামে একজন বলেন, আশপাশে অনেক গাছ রয়েছে। সেখানে মৌচাক বসেনি। শুধু পাকুড় গাছেই মৌচাক লাগে। এছাড়া আমাদের এখানে ভালো কোনো মন্দির নেই। এ গাছের মধু বিক্রি করে মন্দিরের উন্নয়ন কাজ করতে পারছি। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।

গাইবান্ধা বিসিক শিল্প নগরীর সহকারী মহাব্যাবস্থাপক রবিন চন্দ্র রায় বলেন, মৌমাছিরা সংঘবদ্ধভাবে এক জায়গায় থাকতে ভালোবাসে। এদের বিরক্ত না করলে বহুদিন পর্যন্ত এক জায়গায় অবস্থান করে। একদিকে গ্রামাঞ্চল অন্যদিকে ওই এলাকায় প্রচুর সরিষার আবাদ হয়। ফলে মৌমাছিরা সহজেই মধু সংগ্রহ করতে পারে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৪, ২০২১ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন
​বিরামপুরে বোরো চাষীরা বীজতলার পরিচর্যায় ব্যস্ত
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় আমন ধান কাটা মাড়াইয়ের পরেই বোরো চাষিরা বীজতলা প্রস্তুতিসহ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক, মুকন্দপুর ইউনিয়নের পলিখাপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, হাবিবপুর গ্রামের আমজাদ হোসেন জানান, শীত পড়ার আগেই বীজ বপণ করলে বীজের চারা ভাল গজায় এবং চারার রোগ বালাই কম হয়। এতে চারার গোঁছা মোটা ও পুষ্ঠ হয়। ফলে চারা রোপণের সময় বীজের অপচয় কম হয় এবং অল্প চারায় অধিক জমি রোপণ সম্ভব হয়।

চলতি ডিসেম্বর মাসের ২০ তারিখের পর থেকে দেশে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। তাই কৃষকরা বোরোর বীজতলার চারার যত্ননিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই বোরোর জমিতে পানি সরবরাহের পর চারা রোপণের মৌসুম শুরুহবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার নিকছন চন্দ্র পাল জানান, চলতি মাসে বোরো মৌসুমে কৃষি প্রণোদনার আওতায় বিরামপুর উপজেলায় ২ হাজার ২’শ ২০ জন কৃষককে কৃষি প্রণোদনার ডিএপি, এমওপি সার ও বিভিন্ন জাতের ধান বীজ প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, উপজেলার পৌর এলাকাসহ ৭টি ইউনিয়নে ১৫ হাজার ১’শ হেক্টর জমিতে বোরো রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বোরো আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের মধ্যে বিনামূল্য ৪ হাজার ৬’শ ১০জনকে হাইব্রিড জাতের বীজ ও ১ হাজার ৭’শ ৭০ জনকে উচ ফলনশীল জাতের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে।

লক্ষ্যমাত্রারার অনুপাতে কৃষকরা প্রায় ৮’শ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরী এবং বীজ বপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে। বপণকৃত বীজের মধ্যে রয়েছে ব্রি-২৮,২৯,৭৪,৮১,৮৯,৯২, বিনা-১৮, জিরাশাইল ও বিভিন্ন হাইব্রীড জাতের ধান চাষের প্রস্তুতি চলছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৩, ২০২১ ৩:৫৮ অপরাহ্ন
ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাহত আলুচাষ, কমতে পারে উৎপাদন
কৃষি বিভাগ

আলু উৎপাদনে দেশের শীর্ষস্থানীয় জেলা মুন্সিগঞ্জ। স্বাভাবিক চাষ প্রক্রিয়া অনুযায়ী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই জেলায় আলু রোপণ শেষ হওয়ার কথা। তবে এ বছর তা হয়নি। আলুর বীজ রোপণ এখনো চলছে, চলবে আরও কিছুদিন। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের থাবা এলোমেলো করে দিয়েছে সবকিছু।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলু রোপণের উপযুক্ত সময়েই দেশে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ। তাতে ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে আলুর আবাদ। আর ঘূর্ণিঝড়ে চারদিনের বৃষ্টিতে যেসব ক্ষেতে আলু ছিল, সেগুলোর বেশির ভাগ চারাই নষ্ট হয়ে গেছে।

মুন্সিগঞ্জ জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খুরশিদ আলম বলেন, এ জেলায় ১৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর আলুর জমি আক্রান্ত হয়েছিল। এর মধ্যে ১১ হাজার ৬০০ হেক্টরের আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন অনেক কৃষক নতুন করে আলু রোপণ করছেন। তবে দেরিতে রোপণের কারণে ফলন কম হবে।

খুরশিদ আলম জানান, জেলায় এ পর্যন্ত (২০ ডিসেম্বর) ২০ হাজার হেক্টরে আলু রোপণ সম্ভব হয়েছে। যেখানে লক্ষমাত্রা ৩৭ হাজার ৯০০ হেক্টর। প্রতি বছর এ জেলায় সাড়ে ১২ লাখ মেট্রিকটন আলু উৎপাদন হয়। সে তুলনায় এ বছর উৎপাদন বেশ কমবে।

এ অবস্থা শুধু মুন্সিগঞ্জে নয়। উত্তরবঙ্গে ক্ষতি খুব বেশি না হলেও ঢাকা বিভাগ এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আলুর বেশ ক্ষতি হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে। সার্বিকভাবে এর বড় প্রভাব পড়বে চলতি মৌসুমের আলু উৎপাদনে। এর প্রভাবে এ বছর আলুর উৎপাদন কোটি টনের নিচে নামার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেখানে গত বছর উৎপাদন ছিল এক কোটি ৬ লাখ টন।

যদিও দেশে উদ্বৃত্ত আলু উৎপাদন হচ্ছে বলে বাজারে এর তেমন প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করছে সরকার। সরকারি তথ্য মতে, ২০২১ সালে আলুর উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ৬ লাখ টন। যেখানে দেশে আলুর চাহিদা রয়েছে ৮৫-৯০ লাখ টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, আলুর উৎপাদন এ বছর কমছে এটা সত্য। তবে সেজন্য আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। আমাদের চাহিদা থেকে আলুর উৎপাদন অনেক বেশি।

আসাদুল্লাহ বলেন, উৎপাদন কমবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। সারাদেশে রোপণ শেষ হওয়ার তথ্য না পেলে বলা সম্ভব নয়।

এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে এ বছর ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে ১ কোটি ৬ লাখ ৫১ হাজার টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ মৌসুমের সময় শেষ হলেও এ পর্যন্ত আবাদ শেষ হয়েছে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৬১২ হেক্টরে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৮১ শতাংশ।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ও নিম্নচাপের প্রভাবে আলুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে হিমাগার মালিকদের সংগঠন।

তারা বলছে, এ ঘূর্ণিঝড়ে আলু চাষিরা সর্বস্বান্ত। জাওয়াদ ও এর পরবর্তী নিম্নচাপে টানা চারদিন বৃষ্টির কারণে ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আলুর ক্ষেতে পানি জমে বীজ-আলু নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকের পাশাপাশি হিমাগার মালিকরাও সংকটে পড়বেন।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আলুচাষিদের প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও সেচযন্ত্র সরবরাহ করে সহায়তা এবং পরামর্শ দেওয়ার জন্য আমরা সর্বত্র অনুরোধ জানাচ্ছি। কোল্ড স্টোরেজ থেকে খাওয়ার আলু বীজ হিসেবে সংগ্রহ করে অনেকে নতুন করে আলু লাগাচ্ছেন। এতে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না, কমানো যাবে।

সার্বিক ফসলের ক্ষতি প্রায় দুই লাখ হেক্টর জমিতে
ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে প্রবল বর্ষণে দেশের প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার হেক্টর জমির আমন ধানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলু ও শীতকালীন অন্যান্য ফসল মিলে এ ক্ষতি দুই লাখ হেক্টর ছাড়িয়ে যাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, জাওয়াদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৬৭ হেক্টর জমিতে আবাদি আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্যান্য ফসলের ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

যশোর অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা। আর বরিশাল অঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও পটুয়াখালী।

তবে জাওয়াদের প্রভাবে এটিই ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব নয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৩, ২০২১ ৩:৪৭ অপরাহ্ন
হিলিতে দ্বিগুণ বেড়েছে সরিষার চাষ
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুরের হিলিতে বেড়েছে সরিষার চাষ। গত বছর হিলিতে ৮৩০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হলেও এ বছর সেই চাষ হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে। ফলে দিগন্তজুড়ে সরিষা ফুলের সমারোহের দেখা মিলছে। দু’চোখ যেদিকে যায় শুধু হলুদ আর হলুদ।

বুধবার (২২ ডিসেম্বর) হিলির বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষে ওই জমিতে কৃষক সরিষার চাষ করেছেন। দেশে ভৈষজ তেলের চাহিদা তুলোনায় উৎপাদন কম। এসব ভৈষজ তেলে আমদানি করতে হয় বাইরের দেশ থেকে। বাহির থেকে আমদানিকৃত তেলের দাম দিন দিন বেড়েই চলছে। তেলের দাম স্বাভাবিক রাখতে এবং চাহিদা দেশের চাহিদা মেটাতে তাই এ বছর সরিষার চাষ বৃদ্ধি করেছেন চাষিরা। আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের পর জমিতে গোবর, ডেব ও ফসফেট সার দিয়ে মাটি তৈরি করে সরিষার বীজ রোপন করেছেন তারা।

ডিজেল তেলের দাম বাড়ায় সরিষার আবাদ বেশি করছেন কৃষক। কারণ হিসেবে চাষিরা জানান, সরিষা চাষ করতে জমি সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতে কৃষকের খচর হয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় কৃষকরা সরিষা উৎপাদন থাকে ৫ থেকে ৬ মণ।

হিলির জালালপুর গ্রামের সরিষা চাষি তপন কুমার বলেন, ‘দেশে তেলের দাম বেড়েই চলছে। তাই দেশের চাহিদা মেটাতে আমি সরিষার চাষ করছি। আমি প্রতি বছর বাড়ির জন্য ১৫ শতক সরিষা চাষ করতাম। কিন্তু মানুষের চাহিদা পূরণ করতে এ বছর আরও ১৫ শতক বেশি জমিতে সরিষার চাষ করেছি।’

ডাঙ্গাপাড়ার রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রতি বছর আমি এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করি। এ বছর দুই বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। তেলের দাম বেশি হওয়ায় আমি এ ফসলটি চাষ করছি।’

হিলি উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, ‘চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৪০০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করেছে কৃষকেরা। তবে গত বছর এই উপজেলায় সরিষার চাষ হয়েছিলো ৮৩০ হেক্টর জমিতে। আমরা মোট ৯৬০ জন কৃষককে বিনামূল্যে সরিষার বীজ ও সার প্রদান করেছি।’

দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রদীপ কুমার গুহো বলেন, ‘জেলায় সরিষার চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৩ হাজার হেক্টর জমি। এর মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করেছে কৃষক। গত সরিষা মৌসুমে জেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে ২০ হাজার মেট্রিকটন সরিষা উৎপাদন হয়েছিলো। আশা করছি এ বছর ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিকটন সরিষার ফলন হবে।’

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৩, ২০২১ ১২:৩৩ অপরাহ্ন
গোখাদ্য থেকে সুস্বাদু গুড়
কৃষি বিভাগ

গোখাদ্য চুইন্না থেকে মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু গুড়। ব্যতিক্রম স্বাদের এই গুড় কিনতে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষ পদ্মার চরাঞ্চলের বাড়িগুলোতে প্রতিদিনই আসছেন। আর এই গুড় তৈরি করে অনেকেই বাড়তি আয় করে পরিবারের চাহিদা মেটাচ্ছেন।

সরেজমিন পদ্মার চরাঞ্চল ঘুরে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরজানাজাত ইউনিয়নের হাওলাদারকান্দি গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির লোকজন মাঠ থেকে গোখাদ্য চুইন্না কেটে বাড়ি আনছেন। তারপর সেই চুইন্না থেকে পাতা কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন। আর চুইন্না গাছটি ভালভাবে ধুয়ে পরিস্কার করে একই এলাকার ইব্রাহিমের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। ইব্রাহিম টাকার বিনিময়ে স্যালো মেশিনের তৈরি এক ধরনের মেশিনে চুইন্না ভেঙ্গে তা থেকে রস বের করে দিচ্ছেন। স্থানীয়রা বাড়িতে বসে সেই রস চুল্লিতে ভাল করে পুড়িয়ে তা থেকে তৈরি করছেন সুস্বাদু গুড়। শুধু হাওলাদারকান্দি গ্রামের মানুষই নয় পাঁচ্চর, মাদবরচর, কাঁঠালবাড়ি, বন্দরখোলাসহ আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকজন প্রতিনিয়তই চুইন্না সংগ্রহ করে ইব্রাহিমের কাছে এনে ভাঙ্গিয়ে রস করে নিয়ে যাচ্ছেন। ইব্রাহিম নিজেও গুড় তৈরি করে বিক্রি করেন। এই সুস্বাদু গুড় কিনতে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ভাঙ্গাসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষ হাওলাদারকান্দি গ্রামে ভিড় জমাচ্ছেন। ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। গোখাদ্য চুইন্না থেকে তৈরি এই সুস্বাদু গুড় বিক্রি করে স্থানীয়রা বাড়তি আয় করছেন।

স্থানীয় সুফিয়া আক্তার বলেন, আমরা প্রথমে শখের বসে চুইন্না ধুয়ে শিল পাটায় বেটে রস তৈরি করে তারপর গুড় তৈরি করতাম। দেখতাম গুড় খুবই সুস্বাদু হচ্ছে। পরে ইব্রাহিম ভাই চুইন্না ভাঙ্গানোর মেশিন আনার পর এলাকার প্রায় সবাই তার কাছ থেকে চুইন্না ভাঙ্গিয়ে গুড় তৈরি করে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি। অনেক জায়গা থেকে লোকজন এসে গুড় কিনে নিয়ে যায়। আর আমরা এখন এই গুড় দিয়েই পিঠা পায়েস রান্না করে খাই। স্থানীয় বারেক হাওলাদার বলেন, এই গুড় কিনতে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ভাঙ্গাসহ অনেক জায়গা থেকে লোকজন এখানে আসে। আর অন্যান্য গুড়ের চেয়ে এই গুড় খেতে অনেক সুস্বাদু।

ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, এলাকার প্রায় সব বাড়ির নারীদেরকেই দেখি শিল পাটায় বেটে চুইন্নার রস বানিয়ে গুড় তৈরি করছে। গুড় খেতেও সুস্বাদু। তাই স্যালো মেশিনের তৈরি মেশিন কিনে এনে চুইন্না ভাঙ্গার কাজ করছি। নিজেও চুইন্না থেকে গুড় তৈরি করে বিক্রি করছি। পাঁচ্চর, মাদবরচর, কাঁঠালবাড়িসহ অনেক এলাকার মানুষ আমার কাছে চুইন্না ভাঙ্গাতে আসে। কৃষি কাজের পাশাপাশি এই গুড় বিক্রি করে আমার মত অনেকেই বাড়তি আয় করছে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষি বিভাগের সাথে পরামর্শ করে এই কর্মটিকে কিভাবে সামনের দিকে অগ্রসর করা যায় তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরো বেশি উৎসাহিত করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৩, ২০২১ ১২:০৬ অপরাহ্ন
মাদারীপুরে ‘ডায়না’ লাউয়ের বাম্পার ফলন
কৃষি বিভাগ

বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন মাদারীপুরের কৃষকরা। ভালো ফলন হয়েছে সেই সাথে মিলছে ভালো দামও। এখন ক্ষেত থেকে লাউ তুলে বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকদের। 

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার শিকারমঙ্গল, নবগ্রাম, ডাসার, রমজানপুর ও বালিগ্রাম ইউনিয়নের ২শ’ ৮০টি স্থানে পতিত জমিতে চাষ করা হয়েছে লাউ। ডায়না ও ময়না নামের উচ্চ ফলনশীল জাতের লাউ চাষ করে আশাতীত ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। কেউ কেউ খাল, বিল, পুকুর ও জলাশয়ের উপর মাঁচা তৈরি করেও লাউ চাষ করছেন।

কৃষকরা জানালেন, ১০ হাজার টাকা খরচ করে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হয়। আকার ভেদে এক-একটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

অনুকূল আবহাওয়া এবং সময়মতো কৃষকদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ায় লাউয়ের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানালেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এবার মাদারীপুরে ৭০৫ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৩, ২০২১ ৯:৪১ পূর্বাহ্ন
বিএসআরআই আখ-৪১ চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষক
কৃষি বিভাগ

আখের নতুন জাত বিএসআরআই আখ-৪১ (অমৃত) জাতটি মাঠ পর্যায় প্রদর্শনীর মাধ্যমে সফল হয়েছে বাংলাদেশ সুগার ক্রপ গবেষণা ইন্সটিটিউিট। মঙ্গলবার মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের চারাভাঙ্গা গ্রামে জাতটি প্রত্যায়িত বীজ প্লটের ‘ক্রপকাটিং ও মাঠ দিবস’ অনুষ্ঠানে এ বলেন কৃষি কর্মকর্তারা।
মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ক্রপস উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আব্দুল ওয়াহেদ, বিএসআরআই এর মূখ্য বৈজ্ঞনিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামসুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোস্তফিজুর রহমান প্রধান, কৃষি তথ্য সর্ভিসের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ড. সুরজিত সাহা রায়সহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বিএসআরআই-এর কর্মকর্তা এবং প্রায় শতাধিক কৃষক কৃষাণী।
বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই)-এর রোগতত্ব বিভাগের উদ্যোগে এবং  কেজিএফ এর অর্থায়নে পরিচালিত পাইলটিং অন ‘প্রোডাকটিভিটি এনহ্যান্সমেন্ট অব গুর এন্ড চিউইং টাইপ সুগারকেন থ্রু ম্যানেজমেন্ট অব মেজর ডিজেজেস’  শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কৃষক পর্যায়ে এসব প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হয়।
অনুষ্ঠানে কর্মকতা বলেন, আখের-৪১ জাতটি উচ্চ চিনি ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন (১২.৮৯%)। চিবিয়ে এবং রস করে খাওয়ার উপযোগী। উচ্চমান সম্পন্ন গুড় তৈরীর জন্য ভাল এবং খরা সহিষ্ণু। ১০০ কেজি রস থেকে ১০ কেজি গুড় পাওয়া যায়। চারাভাঙ্গা গ্রামের কৃষক মো: শামসুল হকের আখের প্রত্যায়িত বীজের প্লটে আখের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে পাওয়া গেছে ৯৫ দশমিক ৩১ টন।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২২, ২০২১ ৫:০০ অপরাহ্ন
চাটমোহরে বাণিজ্যিক ভাবে কফি চাষ শুরু
কৃষি বিভাগ

জনপ্রিয় পানীয় কফির আবাদ হচ্ছে পাবনার চাটমোহরের সমতল ভূমিতে। এক সময় দেশের পার্বত্য তিনটি জেলায় কফির আবাদ হলেও এখন পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী ও রংপুর এবং টাঙ্গাইলে কফির চাষ শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন সরকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত প্রশিক্ষণ সেমিনার কনফারেন্স চলাকালে স্বল্প সময়ের বিরতির সময় পানীয় হিসেবে কফি পরিবেশন করা হয়। অনেকে বাড়ি বা দোকানে গিয়ে কফি পান করেন। ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কফি চাষে আমরা পিছিয়ে থাকায় দেশে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে কিছু মানুষ কফি চাষ শুরু করেছেন। সরকার কফি চাষ সম্প্রসারণে কৃষি মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্পের অধীনে চাটমোহরের হরিপুর ইউনিয়নের বরুরিয়া গ্রামে ও মুলগ্রাম ইউনিয়নে দুটি প্রদর্শনী স্থাপিত হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস চাটমোহর পাবনা প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে। এ ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে ও চাটমোহরে কফি চাষ শুরু হয়েছে।

চাটমোহরের গুনাইগাছা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের ঠিকাদার শুকুর আলী নিজ উদ্যোগে তার বাড়িতে কফি চাষ শুরু করেছেন। শুকুর আলী জানান, বেশ কিছু বছর পূর্বে সৈয়দপুরের খ্রিষ্টন মিশনারীতে গীর্জা নির্মাণের কাজ করছিলাম। সেখানকার ইটালিয়ান মাদার ইটালী থেকে দুইটি কফির চারা এনে আমাকে দেন। আমি সেটি আমার বাড়িতে রোপণ করি। তিন বছর পর থেকে আমি ফল পেতে শুরু করি। কফির দানা থেকে এবং গাছের ডালে কলম দিয়ে চারা তৈরী করছি। ২০১৮ সালে ২০ টি, ২০১৯ সালে ৬০ টি এবং ২০২০ সালে ১৫০ টি চারা উৎপাদন করতে পেরেছি। লাগানোর তিন বছর পর থেকেই কফি গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করা যায়। কিছু চারা ঢাকায় নিয়ে প্রতিটি এক হাজার টাকা করে বিক্রি করেছি। এলাকায় প্রতিটি চারা পাঁচশ টাকায় বিক্রি করছি। ইতিমধ্যে এলাকার প্রায় বিশ জন আমার নিকট থেকে কফির চারা কিনে রোপণ করেছেন এবং কফি চাষে এলাকার কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রকল্পের অধীনে কফি চাষ শুরু করেছেন চাটমোহরের বরুরিয়া গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন। তিনি জানান, এই প্রথম কফি চাষ করছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে চারা ও সার সরবরাহ করেছে। হলুদের জমির মধ্যে জায়গা ফাঁকা করে আপাতত চারা লাগিয়েছি। কেমন হবে, কিভাবে কফি সংগ্রহ করতে হয় এসব বিষয়ে খুব বেশি জানি না আমি। পরীক্ষা মূলক ভাবে কফির চাষ করেছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইং সূত্রে জানা গেছে, দেশে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রায় ১১৮.৩ হেক্টর জমিতে প্রায় ৫৫.৭৫ টন কফি উৎপাদন হয়। কৃষকেরা সনাতন পদ্ধতিতে কফি চাষ করায় ফলন ও লাভ কম পায়। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৩২.৫১৭ টন গ্রীন কফি আমদানী করা হয়। অর্থকরী ফসল কফির আমদানী নির্ভরতা কমাতে সরকার কফি চাষ সম্প্রসারণের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.এ মাসুম বিল্লাহ জানান, বাংলাদেশের মাটি কফি চাষের উপযোগী। ঝুরঝুরে, জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ হালকা অম্লমাটিতে কফি ভাল জন্মে। এটি উঁচু মাটিতে ভাল হয়। কফির সাথে আন্তফসল হিসেবে পেঁপে, আনারস, গোলমরিচ চাষ করা যায়। হালকা ছায়াযুক্ত স্থানে কফি ভালো হয়। খুব বেশি পরিচর্যার দরকার হয় না। রৌদ্রময় স্থানে চাষ করলে সার ও সেঁচের দরকার হয়। কফির ফল সংগ্রহ থেকে পান করা পর্যন্ত অনেকগুলো ধাপ পেরুতে হয়। এখন পরীক্ষা মূলক ভাবে কফি চাষ হচ্ছে। ভাল ফলাফল পেলে অধিক সংখ্যক কৃষককে কফি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হবে।

 

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop