৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

রবিবার, ১৫ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৭, ২০২১ ৩:৪২ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ে খেজুরের গুড় তৈরীর ব্যস্ততা
কৃষি বিভাগ

শীতকালে খেজুরের রস আহরণ ও তা থেকে গুড় বানানোর দৃশ্য গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ। কুয়াশামাখা ভোরে এমনই সৌন্দর্যের দেখা মেলে, ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের একটি আখের খামাড়ে গড়ে তোলা বিশাল খেজুর বাগানে। যেখানে অর্ধ সহস্রেরও বেশি খেজুর গাছ রয়েছে। কাকডাকা ভোরে গাছ থেকে রস সংগ্রহ আর গুড় তৈরি দেখার পাশাপাশি তা কিনতে ভীড় করেন অনেকে। 

এক সময় গ্রামাঞ্চলে মেঠো পথের দুপাশে সারিবদ্ধ খেজুর গাছের দেখা মিলতো। কালের বির্বতনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার এই মধুবৃক্ষ। তবে, এখনও অনেক জায়গাতেই দেখা মেলে। আবার কোথাও কোথাও গড়ে তোলা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে খেজুর বাগান। ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের মোহন আখের খামারে প্রায় ১০একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত এই বাগানে ছয়শ’রও বেশি খেজুর গাছ আছে।

সারি সারি খেজুর গাছের মনোরম এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভীড় করছেন অনেকে। কুয়াশায় মোড়ানো শীতের সকালে সবুজের এই স্নিগ্ধ সমারোহ মুগ্ধ করবে যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমীকে।

শীত মৌসুমে খেজুরের গাছে গাছে ঝুলছে রস সংগ্রহের হাঁড়ি। সারারাত এসব হাড়িতে জমে সুস্বাদু খেজুর রস। ভোরে সূর্য ওঠার আগেই সেসব হাঁড়ি গাছ থেকে নামানো হয়, এরপর জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় পাটালি গুড়।

গুড় তৈরির এই দৃশ্য দেখতে ভোর থেকেই দর্শনার্থীরা ভিড় করেন খেজুর বাগানে। অনেকে কিনে নিয়ে যান গুড়। আবার খেজুরের রসও কেনেন অনেকে।

চলতি মৌসুমে এই খেজুর বাগান লিজ নিয়ে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি করছেন রাজশাহীর একদল গাছি। এখানকার সংগ্রহ করা রস দিয়ে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ কেজি গুড় উৎপাদিত হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৭, ২০২১ ১:০৯ অপরাহ্ন
বেতাগীর ১৮ হাজার কৃষকের মাথায় হাত
কৃষি বিভাগ

উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদে ধান-সবজির পাশাপাশি পানির নিচে তলিয়ে গেছে খেসারি বোনা চাষিদের স্বপ্ন। অসময়ে বৃষ্টির কারণে ডুবে গেছে খেসারি ডাল ও আমনের মাঠ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন উপজেলার প্রায় ১৮ হাজার চাষি।

চাষিরা বলছেন, রোপা আমন কেটে ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে গত ৩-৬ ডিসেম্বর হঠাৎ এ দুর্যোগ তাদের পথে বসিয়েছে। পানি কিছুটা কমে গেলেও ধানি জমিতে যে খেসারি বুনেছিলেন তা অঙ্কুরিত হলেও সেগুলো পচে গেছে ইতোমধ্যে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খেসারি বোনার সব ধানি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে রয়েছে। প্রতিটি জমিতেই মাটিতে মিশে যাওয়া ধান গাছের ভেতরে লুকায়িত রয়েছে সদ্য অঙ্কুরিত খেসারিগাছ।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৮০০ হেক্টর উঁচু ধানি জমিতে প্রতিকেজি বীজ ডাল ৬০ টাকা দরে ক্রয় করে ৬ হাজার ৫০০ কৃষক খেসারি ডাল বুনেছিলেন। চাষিদের দেওয়া তথ্যমতে, কৃষকের সংখ্যা ১৮ হাজারেরও উপরে ও আবাদকৃত জমির পরিমাণ ১০ হাজার ৯৬১ হেক্টর। কিন্ত জাওয়াদে আবাদকৃত ২ হাজার ৮০০ হেক্টরের প্রায় সব জমির ফসল পানির কারণে পচে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক খেসারি বোনা চাষি জানান, পানিতে ডুবে থাকায় খেসারিগাছ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিবিচিনি ইউনিয়নের পুটিয়াখালী গ্রামের প্রান্তিক চাষি সুকুমার হাওলাদার বলেন, ধার-দেনা করে ধানি জমিতে খেসারি বুনেছিলাম। পানি জমে থাকায় অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় আছি।

বেতাগী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর এ মৌসুমে অধিক লাভ পাওয়ার আশায় ধানি জমিতে এ এলাকার চাষিরা খেসারি বুনে থাকে। তাই তিনিও খেসারির চাষ করে আগের লোকসান সামাল দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি আরও বলেন, এবার তো তাতে কয়েকগুণ লোকসান গুণতে হবে। সব স্বপ্ন পানিতেই ডুবে গেল। কথা হয় বেশ কয়েকজন চাষির সঙ্গে। তাদের সকলেরই একই বক্তব্য।

এসব বিষয় নিশ্চিত করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, অসময়ে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে হয়ে যাওয়া বৃষ্টি কৃষকের ধানক্ষেতে পানি জমে খেসারির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৬, ২০২১ ৩:৩৪ অপরাহ্ন
দিনাজপুরে ধানের গাদায় আগুন, পুড়ল ১২ বিঘা জমির ধান
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুর সদরে ধানের গাদায় আগুন লেগে ১২ বিঘা জমির সুগন্ধি ধান পুড়ে গেছে। এতে চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে দিনাজপুর সদর উপজেলার বড়ইল গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বিকেলে বাড়ির পাশের ক্ষেতে গাদা করে রাখা সুগন্ধি জাতের কাটারি ধানে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভায়। তার আগেই আগুনে পুড়ে যায় ধানের সাতটি গাদা। এতে ১২ বিঘা জমির চার লক্ষাধিক টাকার সুগন্ধি ধানও পুড়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ওই গাদাগুলোর মধ্যে ওই এলাকার দিলিপ রায়ের আট বিঘা জমির ধান, রনজিত রায়ের দুই বিঘা জমির এবং জলধর রায়ের দুই বিঘা জমির ধান ছিল।

ক্ষতিগ্রস্ত জলধর রায় বলেন, বিকেলে আগুন দেখেই আমরা ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দেই। কীভাবে আগুন লেগেছে, তা জানি না। তবে শুনেছি দু’টি ছেলে নাকি আগুন লাগিয়ে দিয়ে পালিয়েছে। বিষয়টি আমরা পুলিশকেও জানিয়েছি।

এ বিষয়ে দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মঞ্জিল হক বলেন, সংবাদ পাওয়ামাত্রই আমাদের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভায়। সিগারেটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৬, ২০২১ ৩:০০ অপরাহ্ন
ফেসবুকে ভিডিও দেখে তরমুজ চাষ করে সফল হাবিবুর
কৃষি বিভাগ

ফেইবুকে তরমুজ চাষের ভিডিও দেখে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে শীতকালীন তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন উচ্চ শিক্ষিত যুবক হাবিবুর রহমান। খেতে মিষ্টি ও সু-স্বাদদু হওয়ায় ক্ষেত থেকেই তরমুজ বিক্রি হয়ে যায়। এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায় কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তরমুজ চাষিদের কারিগরি সহায়তা দেয়া হয়।

সিলেটের এমসি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে লেখাপড়া শেষে  দীর্ঘ দুই বছর বেকার ছিলেন হাবিব। পরে ফেইবুকে যশোর এলাকার এক তরমুজ চাষির দেয়া ভিডিও দেখে রূপরাম হাওরের পতিত জমিতে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। গেলবার ৫০ শত জমিতে সুইটব্যাক থাই ও ইয়েলো ডায়না জাতের তরমুজ চাষ করে লাভবান হন। এবার ১০০ শত জমিতে দুই জাতের তরমুজ চাষ করেছেন এতে ১১ টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে যার বাজার দর ৫ লাখ টাকা। ১০০ শতক জমিতে ম্যালাচিং পদ্বদিতে তরমুজের চারা তৈরি থেকে পরিপক্ক হওয়া পর্যন্ত তার ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

এলাকাবাসী ও চাষিরা জানান, দেখতে সুন্দর ও খেতে মিষ্টি তরমুজের বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তরমুজ চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, ফেইসবুকে তরমুজ চাষের ভিডিও দেখে তিনি তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ফরিদুল হাসান বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে  তরমুজ চাষিদের কারিগরি সহযোগিতা করা হয়। এ বছর জেলায় ৫৬০ হেক্টর জমিতে তরমুজ  চাষের লক্ষমাত্রা র্নিধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।  প্রতিকেজি তরমুজের পাইকারি বাজার দর ৫০ টাকা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৫, ২০২১ ২:৩১ অপরাহ্ন
অসময়ের বৃষ্টিতে জলমগ্ন আখক্ষেত, মাড়াই নিয়ে শঙ্কা
কৃষি বিভাগ

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে চলতি মাসের ৫ ও ৬ ডিসেম্বর বৃষ্টিতে ঝিনাইদহে মাঠঘাট তলিয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোবারকগঞ্জ চিনিকল এলাকার দণ্ডায়মান ও রোপণকৃত আখক্ষেত। এখনো অধিকাংশ ক্ষেত পনির নিচে আছে। যেসব জমি থেকে পানি সরে গেছে সেসব জমির মাটি এখনো নরম। ফলে ২৪ ডিসেম্বর নির্ধারিত দিনে চিনিকলটি উদ্বোধন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আখচাষিদের দাবি, পানি জমা জমি থেকে আখ কেটে ফেললে পরবর্তী বছর মুড়ি রাখা যাবে না। ফলে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরা। অন্যদিকে আখ পরিবহনের জন্য রাস্তা উপযোগী না হওয়ায় মিলে পৌঁছাতে খরচ বেশি পড়ে যাবে।

মিল এলাকার গোবরডাঙ্গা গ্রামের আখচাষি আব্দুস ছালাম মিন্টু বলেন, চলতি মাড়াই মৌসুমে আমার ৯ বিঘা জমিতে দণ্ডায়মান আখ আছে। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টি আমার সব আখের জমিই তলিয়ে যায়। বৃষ্টি হওয়ার সপ্তাহ পার হলে কোনো ক্ষেতই আখ কাটার উপযোগী হয়নি। দুই সপ্তাহ পর দুই থেকে তিন বিঘা জমির আখ কেটে মিলে দেওয়া যাবে।

ঘিঘাটি ইক্ষু ক্রয় কেন্দ্রের কৃষক হুমায়ুন কবির বলেন, আমি ছয় বিঘা জমিতে আখ রোপণ করেছিলাম। অসময়ের বৃষ্টিতে আখের সব জমি এখন পানির নিচে। বৃষ্টির কারণে সব আখের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে পানি সরে গেলে আবার আখ রোপণ করতে হবে।

মোবারকগঞ্জ চিনিকল আখচাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মন্টু বলেন, চাষিদের জমির আখ এখনো কাটার উপযোগী হয়নি। মিল ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং আখচাষিরাও যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা বিবেচনায় রেখে মিলের মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধনের দাবি জানাচ্ছি।

মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ডিজিএম (সম্প্রসারণ) গৌতম কুমার মন্ডল বলেন, আমরা মিল এলাকার চাষিদের জমি পরিদর্শন করেছি। অধিকাংশ জমি পানির নিচে আছে। এ মুহূর্তে জমি থেকে আখ কাটলে মুড়ির অনেক ক্ষতি হবে। তাই আখচাষিরা মুড়ি আখের স্বার্থে মিলটি কয়েকদিন দেরিতে মাড়াইয়ের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৫, ২০২১ ১২:৪৬ অপরাহ্ন
ফসলে রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ‘অতন্দ্র জরিপ’
কৃষি বিভাগ

বাগেরহাটে বিভিন্ন রোগবালাই থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের হাতে-কলমে ‘অতন্দ্র জরিপ’ নামে এক পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ‘অতন্দ্র জরিপ’ নামে এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার আগেই সতর্ক হতে পারছেন চাষীরা। সেইসাথে পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করাও সম্ভব হচ্ছে। ফলে দিন দিন এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। 

রোগ ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় বাগেরহাটে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘অতন্দ্র জরিপ’ পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রতি ৫০ শতক জমিতে কোনাকুনি ভাবে ধান বা অন্য ফসলের ২০টি করে গোছা নির্বাচন করা হয়। প্রতি গোছায় ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা, এবং পাতার সংখ্যা গণনা করে তা লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়। এক সপ্তাহ পর আবারও সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে রোগ ও পোকার আক্রমণ নির্ণয় করা হয়।

এক্ষেত্রে কৃষকরাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষি কর্মকর্তারা জানালেন, রোগ-বালাই থেকে ফসল রক্ষায় অতন্দ্র জরিপের মাধ্যমে হাতে-কলমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। যা খুবই কার্যকর পদ্ধতি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাছরুল মিল্লাত জানান, এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার কমবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৪, ২০২১ ৪:৩৯ অপরাহ্ন
সারের দাম নিয়ন্ত্রণে উপজেলায় মোবাইল কোর্ট- কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

দেশে সারের দাম নিয়ন্ত্রণে আগামী ১৫ দিন উপজেলা পর্যায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সার পরিস্থিতি নিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় ও সার ডিলারদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ তথ্য জানান তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই, পর্যাপ্ত মজুদ আছে। এর পরেও এক শ্রেণির অসাধু ডিলারের যোগসাজশের কারণে কৃষকদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছিল।

তিনি বলেন, কৃত্রিম ঘাটতি সৃষ্টি করে দাম বাড়ালে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। বেশি দামে সার বিক্রি করলে ডিলার ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওযা হবে। এজন্য বৈঠক থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ১৫ দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা সারের মজুদ পরিস্থিতি বিস্তারিত আলোচনা করলাম। কয়েকটি গণমাধ্যমে এসেছে, অনেক এলাকায় চাষিরা সার পাচ্ছেন না, প্রয়োজনীয় সারের ঘাটতি রয়েছে। সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি জানেন এবং আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে। আমরা যেটা দেখলাম, কোনো কোনো এলাকায় এলাকাভিত্তিক পরিবহন সমস্যার কারণে সারগুলো ঠিক মতো যায়নি। ডিলার ও দোকানদাররাও সুযোগটা নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে এবং শিপিং কস্ট অস্বাভাবিক বেড়েছে।

কী এমন ঘটেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে ইউরিয়ার দাম তিনগুণ বেড়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটা একটা আন্তর্জাতিক চক্র সুপরিকল্পিতভাবে সারের দাম বাড়িয়ে আমাদের শোষণ করছে। এই সুযোগ তারা নিচ্ছে। খুব সহজেই মানুষের মাঝে গুজবটি ছড়ায় যে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম এত বেশি কাজেই সারের দাম বাড়তেই পারে। চাষিরা মনে করেছে, কয়েকদিন পরে হয়তো সার পাওয়া যাবে না তাই তারা আতঙ্কিত হয়ে কিনেছে। এমনিতেও সার্বক্ষণিকভাবে আমরা পরিস্থিতি মনিটরিং করছি। আমাদের মাঠ কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেওয়া আছে, তারপরেও কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটে থাকে।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের একদম ইউনিয়ন পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা পর্যায়ের তারা যেন সার্বক্ষণিক মনিটরিং করে। যেসব ডিলার ও বিক্রেতা বেশি দামে বিক্রি করবে তাদের তাৎক্ষণিক চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা একদম চিঠি দিয়ে ডিসি-এসপির সহযোগিতা নিয়ে অব্যাহতভাবে ১৫ দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো সারের জন্য। অসাধু ডিলার ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বর থেকে জুলাই পর্যন্ত ইউরিয়ার লক্ষ্যমাত্রা হলো ২৬ লাখ মেট্রিক টন। জুলাই মাসে আমাদের মজুদ ছিল ৭ দশমিক ৬৯ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে আমাদের মজুদ আছে ৮ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর এটা ছিল ৯ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন। মজুদ গত বছরে এই সময়ে যা ছিল তার চেয়ে কম। এটা আমাদের বোরো মৌসুম। এ সময়েই সারের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। আমরা এটুকু বলতে পারি, আমরা সতর্ক ছিলাম। মজুদ পরিস্থিতিতে মোটেই বিপর্যয় ঘটেনি। আমরা যেভাবে প্ল্যান করেছিলাম সেভাবেই এগুচ্ছি।

বৈঠকে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেজবাহুল ইসলাম, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৪, ২০২১ ২:৪১ অপরাহ্ন
হাবিপ্রবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও একদল শিক্ষার্থীর যৌথ গবেষণায় একটি নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করা হয়েছে। এই ধান উচ্চ ফলনশীল হওয়ার পাশাপাশি খড়া এবং বন্যা কবলিত অঞ্চলের জন্য বেশ উপযোগি। স্থানীয় ধানের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি ফলন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ধানের জন্য বিখ্যাত দিনাজপুর জেলা। এই জেলার ঐতিহ্যকে আরো গতিশীল করতে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং একদল তরুণ শিক্ষার্থী নতুন এক ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। চলতি আমন মৌসুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের একটি গবেষণা জমিতে পরীক্ষামূলক এই নতুন ধানের জাতটি রোপন করা হয়।

গবেষনায় দেখা গেছে এটি উচ্চ ফলনশীল এবং ধানের গাছটি শক্ত ও মজবুত। যার কারণে এই জাতটি উত্তরাঞ্চলসহ বন্যা কবলিত অঞ্চলগুলোর জন্য ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ফলনও দ্বিগুণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকদের সাথে হাতে কলমে গবেষণা করতে পেরে বেশ আনন্দিত।

গবেষকরা জানান, নতুন এই ধানের প্রধান বৈশিষ্ট শীষের একটি গুচ্ছর মধ্যেই ৯টি পর্যন্ত ধান রয়েছে এবং ধান রোপনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এটি শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। যার ফলে কৃষক অনেক লাভবান হবে।

বর্তমানে হাবিপ্রবির এই ধানটি পরীক্ষামূলক গবেষনা চলছে। ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট ও কৃষি মন্ত্রনালয়ের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে খুব দ্রুত কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার আশা করছেন শিক্ষকরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৪, ২০২১ ১:২০ অপরাহ্ন
মেহেরপুরে বোরো ধান চাষের প্রস্তুতি
কৃষি বিভাগ

মেহেরপুরে বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে চলছে জমি তৈরির প্রস্তুতি। তবে ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ কাজসহ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কিত চাষীরা। তারা বলছেন, ধানের পাশাপাশি বেশকিছু ফসলও সেচনির্ভর। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ফসলের উৎপাদন খরচ বাড়বে।

মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল গ্রামের কৃষক মানিক মিয়া। বোরো ধান চাষের জন্যজমিতে সেচ দেয়ার খরচ নিয়ে চিন্তার ভাজ পড়েছে কপালে। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির ফলে জমি চাষ, সেচসহ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির তুলনায় ধান বিক্রি করে সেই টাকার উঠবে কি না তা নিয়েও সংশয়ে তিনি।

কিছুদিনের মধ্যেই বোরো মৌসুমের জন্য ধানের চারা রোপন করবে কৃষকরা। এখন চলছে জমি প্রস্তুুতির কাজ। বোরো ধানের চাষ পুরোপুরি সেচ নির্ভর। ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫টাকা বেড়ে ৮০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে আবাদ করার বাড়তি খরচ নিয়ে চিন্তিত কৃষক।

জেলা প্রসাশক মনসুর আলম খান জানালেন, কৃষকদের নানাভাবে সহযোগীতা করা হচ্ছে।

কৃষকরা যাতে ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় সে জন্য কাজ করা হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৩, ২০২১ ৪:১১ অপরাহ্ন
২০০৮ সালের বাংলাদেশ আর বর্তমানের বাংলাদেশ সম্পূর্ণ আলাদা- খাদ্যমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

খাদ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি বলেছেন, ২০০৮ সালের বাংলাদেশ আর বর্তমানের বাংলাদেশ সম্পূর্ণ আলাদা। মানুষের  জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকার কাজ করছেন নিরলসভাবে। বর্তমান সরকারের সময় এদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হয়েছে। জনগণ ১০টাকা কেজি দরে খাদ্যবান্ধব চাল পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী ওয়াদা পালন করেছেন। পানির জন্য প্রত্যেক গ্রামে সাবমার্সিবল পাম্প বসানো হয়েছে।

বর্তমান সরকারের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মান হয়েছে। মেট্রোরেল চালু হচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকার সব রকমের সহায়তা দিচ্ছেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির ছেলে মেয়েরা শিক্ষিত হচ্ছেন। এ সম্প্রদায়ের আগের ব্যক্তিরা লেখাপড়া করতেন না। কিন্তু বর্তমানে তাদের ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া শিখে চাকুরি করছে।

মন্ত্রী বলেন, করোনা কালে এদেশে না খেয়ে কোন লোক মারা যায়নি। দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। কৃষকরা ফসলের নায্যমুল্য পাচ্ছেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের ভালভাবে লেখাপড়া করতে হবে। এদেশে টাকায় কোন চাকুরি হবেনা। মেধায় চাকুরি হবে। তিনি তার বক্তব্যদান কালে ১৫ আগস্ট শহিদদের আত্নার মাগফেরাত ও করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের আত্নার শান্তি কামনা করেন। এসময় তিনি দলীয় নেতাকর্মী সকলকে একযোগে কাজ করারও আহবান জানান।

সোমবার নওগাঁর পোরশা কাতিপুর কালিনগর হাই স্কুল মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে বাস্তবায়নাধীন “বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা” শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও শিক্ষা অনুদান বিতরনের উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে তার দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভা শেষে প্রধান অতিথি ৩০ জন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মাঝে প্রত্যেকে ২ হাজার ৪শ’ টাকা, ১৫ জন মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর মাঝে প্রত্যেকে ৬ হাজার টাকা ও ১০ জন মাধ্যমিক নারী শিক্ষার্থীর মাঝে একটি করে বাইসাইকেল এবং প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫০জন নৃ-গোষ্ঠির পরিবারের মাঝে ১টি করে বকনা গরু ও উপকরন বিতরণ করেন।

উপজেলা ইউআরসি ইনস্ট্রাক্টর কামারুজ্জামান সরদারের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ্ মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী।

সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হামিদ রেজা। অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) জাকির হোসেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন, শিক্ষা কর্মকর্তা মাযহারুল ইসলামসহ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল ৩টায় প্রধান অতিথি সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি নিতপুর সরকারি স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল টুর্ণমেন্টের ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop