১২:১৩ অপরাহ্ন

শুক্রবার, ৬ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২৬ ৯:০৬ পূর্বাহ্ন
গরু মোটাতাজাকরণে খাদ্য মিশ্রণ তৈরির উপায়
প্রাণিসম্পদ

গরু মোটাতাজাকরণে খাদ্য মিশ্রণ তৈরির উপায় খামারিরা অনেকেই জানেন না। আপনার এলাকায় প্রয়োজনীয় উপকরণের সহজ প্রাপ্যতা এবং দামের বিষয়টি বিবেচনা করে আপনি দানাদার খাদ্যের মিশ্রণের উপকরণ পরিবর্তনও করা যাবে।
প্রথম মিশ্রণঃ

উপকরণ পরিমাণ

১। গমের ভূষি ৫.৪ কেজি

২। খেসারীর ভূষি ২.০ কেজি

৩। তিলের খৈল ১.৮ কেজি

৪। শুটকি মাছের গুড়া ৭০০ গ্রাম

৫। লবন ৫০ গ্রাম

৬। ঝিনুকের গুড়া ৫০ গ্রাম

দ্বিতীয় মিশ্রণঃ

উপকরণ পরিমাণ

১। চাল ভাঙ্গা (খুদ) ২.৫ কেজি

২। গমের ভূষি ১.৫ কেজি

৩। চালের কুড়া ২.০ কেজি

৪। মসুরের ভূষি ১.৯ কেজি গ্রাম

৫। তিলের খৈল ১.৫ কেজি

৬। শুটকি মাছের গুড়া ৫০০ গ্রাম

৭। ঝিনুকের গুড়া ৫০ গ্রাম

৮। লবণ ৫০ গ্রাম

তৃতীয় মিশ্রণঃ

উপকরণ পরিমাণ

১। চাল ভাঙ্গা (খুদ) ১.০ কেজি

২। গমের ভূষি ১.৫ কেজি

৩। চালের কুড়া ৪.০ কেজি

৪। খেসারি ভাঙ্গা ১.০ কেজি গ্রাম

৫। সরিষার খৈল ২.০ কেজি

৬। শুটকি মাছের গুড়া ৪০০ গ্রাম

৭। ঝিনুকের গুড়া ৫০ গ্রাম

৮। লবণ ৫০ গ্রাম

চতুর্থ মিশ্রণঃ

উপকরণ পরিমাণ

১। খেসারীর ভূষি ১.৪ কেজি

২। গমের ভূষি ১.০ কেজি

৩। চালের কুড়া ৫.০ কেজি

৪। মসুরের ভূষি ১.০ কেজি গ্রাম

৫। তিলের খৈল ১.৫ কেজি

৬। ঝিনুকের গুড়া ৫০ গ্রাম

৭। লবণ ৫০ গ্রাম

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ ৯:৫৬ পূর্বাহ্ন
বাছুরের ডায়রিয়া হলে যা করবেন
প্রাণিসম্পদ

আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে এখন শহরেও দেখা মিলে অনেক গরুর খামার। আর গরু পালন করতে গিয়ে খামারিরা নানাবিধ সমস্যায় পড়ছেন। অনেক সময় বাছুরের ডায়রিয়া রোগ দেখা দিয়ে থাকে। আর তখন একজন খামারিকে কি করতে হবে সেটা জানা উচিত।

 

বাছুরের তীব্র ডায়রিয়ার কারণ:
বাছুরকে অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত দুধ খাওয়ানো, অতিরিক্ত দুধ খাওয়ানো বা খেয়ে ফেলা, খাবারের পাত্র এবং ফিডার নোংরা বা ময়লা হলে, বাছুর কৃমিতে আক্রান্ত হলে, শাল দুধের গুণাগুণ ভাল না হলে, বাছুরের থাকার জায়গাটা নোংরা, স্যাঁতসেঁতে হলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে।

বাছুরের এই তীব্র ডায়রিয়ায় খামারি যা করবে:
ডায়রিয়া দেখার সাথে সাথে আলাদা করে শুকনা পরিষ্কার জায়গায় রাখতে হবে বাছুরকে।খাবারের পাত্র এবং ফিডার বোতল পরিষ্কার করে খাওয়াতে হবে। বাছুরকে তার বড়ি ওয়েটের ১০% দুধ খাওয়াবেন অর্থাৎ ৪০ কেজি ওজনের বাচ্ছাকে দুধ খাওয়াবেন ৪ লিটার। শালদুধের গুণাগুণ পরিমাপ করে দেখতে হবে। ডায়রিয়া দেখার সাথে সাথেই স্যালাইন খাওয়াতে হবে দিনে ৩ বার ২৫০ মিলি করে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ৩০, ২০২৫ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
সূর্যের রোদে কেমিক্যালমুক্ত শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুয়াকাটার জেলেরা
প্রাণিসম্পদ

সূর্যের রোদে কেমিক্যালমুক্ত শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কুয়াকাটার জেলেরা। শীত আসতে না আসতেই কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে শুঁটকি উৎপাদনের ধুম। শীতের হিমেল হাওয়ায় উপকূলীয় শুঁটকি পল্লীগুলোতে জমে উঠেছে কেমিক্যালমুক্ত ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে শুঁটকি প্রস্তুতের কর্মযজ্ঞ। সূর্যের প্রখর রোদে শুঁটকি শুকানোর এই ঐতিহ্যকে ঘিরে এখন স্থানীয় জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত রয়েছেন। বছরের এ মৌসুমে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুয়াকাটার বিভিন্ন শুঁটকি পল্লী কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ উপকূলজুড়ে সারি সারি বাঁশের মাচায় মাছ বিছানো, আবার কোথাও কোথাও বাশেঁর আড়ায় ঝুলিয়ে বিভিন্ন ধরণের মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হচ্ছে। কোথাও নারী-পুরুষ শ্রমিকেরা রোদে মাছ উল্টেপাল্টে দিচ্ছেন, কোথাও আবার নতুন মাচা তৈরির কাজ করছেন পুরোদমে। অনেকেই আবার ট্রলার মেরামত, জাল-দড়ি প্রস্তুত, মাছ রাখার জন্য অস্থায়ী ঘর, দোকান ও ‘চাং’ (মাচা) নির্মাণে ব্যস্ত।

জেলেদের ভাষায়—এ সময়টায় দম ফেলার ফুরসতও থাকে না। শুঁটকি পল্লী গড়ে তুলতে শুধু শ্রমই নয়, প্রয়োজন হয় সময় ও যত্নের।

কুয়াকাটার শুঁটকি পল্লীর জেলে আব্দুল করিম (৪৫) এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের শুটকি কেমিকাল ছাড়া উৎপাদন করি। বিভিন্ন ধরণের মাছ পরিস্কার পরিছন্ন করে শুধু রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করি। এতে কোনো ধরণের ভেজাল নেই। আমাদের তৈরি শুঁটকি সঠিক পরিবেশে উৎপাদন করা হয়।

আরেক জেলে লতিফ খান (৪০) বলেন, আমাদের শুঁটকি পল্লীতে বিভিন্ন জাতের শুটকি তৈরি করা হয়। সবচেয়ে বেশি চাহিদা লইট্টা শুটকির। এছাড়া সাগরের পোয়া থেকে শুরু করে চিংড়ি পর্যন্ত সব মাছেরই শুটকি করা হয়।

 

 

জেলেদের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, সাগর থেকে আহরিত লইট্টা, ছুরি, লাক্ষ্যা, চাপিলা, রূপচাঁদা, ছোট পোয়া, ছোট চিংড়ি ও ফাইস্যাসহ প্রায় ৩৫ প্রজাতির মাছ স্থানীয় পল্লীগুলোতে শুকানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে।

তারা জানান, কুয়াকাটার অধিকাংশ পল্লীতে কেমিক্যাল বা কোনো ধরনের সংরক্ষণকারী পদার্থ ব্যবহার করা হয় না। সূর্যের রোদ, সাগরের বাতাস এবং পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে উৎপাদিত এসব শুঁটকির দেশজুড়ে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিটি মৌসুমে এখান থেকে কোটি কোটি টাকার শুঁটকি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

স্থানীয় নারী শ্রমিক সেতারা বেগম (৪০) জানান, শীত শুরু হলেই আমাদের কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাচা পরিষ্কার, মাছ ধোয়া, শুঁটকি শুকানোসহ সবকিছু নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটে। একটি শুঁটকি পল্লী তৈরি করতেই প্রায় ১৭-১৮ দিন লেগে যায়। কেমিক্যাল ছাড়া পরিচ্ছন্নভাবে শুঁটকি উৎপাদন কার্যক্রমে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।

 

স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ী বিল্লাল মৃধা বলেন, আমরা সম্পূর্ণ কেমিক্যাল ও বিষমুক্ত শুঁটকি তৈরি করি। এ কারণে কুয়াকাটার শুঁটকির সুনাম দেশজুড়ে। আপনাদের মাধ্যমে ক্রেতাদের অনুরোধ—তারা যেন কুয়াকাটায় শুঁটকি উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া নিজের চোখে দেখতে অন্তত একবার পল্লীতে আসেন। এতে আমাদের প্রতি তাদের আস্থা আরো বাড়বে বলে আমার বিশ্বাস।

শুঁটকি মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাহমুদ জানান, মৌসুম শুরুর কারণে সব কিছুর দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি মণ বড়ো চিংড়ি শুঁটকি ৪০ হাজার টাকা এবং লইট্টা শুঁটকি ৩৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা ভালো থাকায় আমরা আশাবাদী—এবারের মৌসুমে অন্যান্য বছরের তুলনায় লাভবান হবো।

 

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বাসস’কে জানান, নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শুঁটকি মৌসুম চলে। তিনি বলেন, ‘জেলেদের আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিই। পরিচ্ছন্নতা, প্রাকৃতিক উপায়ে শুকানো এবং বাজারজাতকরণ—সবকিছু নিয়েই তাদের নিয়ে কাজ করছি। এবারের মৌসুমে চার হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে আমরা যা আশা করছি, তা ছাড়িয়ে যাবে।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক এ বিষয়ে বাসস’কে বলেন, ‘কুয়াকাটার শুঁটকি প্রস্তুতকারীরা বেশ দক্ষ ও অভিজ্ঞ। তবে বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে শুঁটকি উৎপাদন হওয়ায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। তাই সকল উৎপাদনকারীকে একটি ছাতার নিচে এনে নির্দিষ্ট এলাকায় শুঁটকি উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে এবং পর্যটকদেরও অসুবিধা হবে না।’

তিনি জানান, এই উদ্যোগের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

উপকূলীয় কুয়াকাটা অঞ্চলের শুঁটকি পল্লীগুলোর বর্তমান ব্যস্ততা জানিয়ে দিচ্ছে—শীত এসেছে, আর তার সঙ্গে এসেছে জীবিকা, কর্মসংস্থান ও স্বপ্ন গঠনের মৌসুম। সূর্যের আলোয় কেমিক্যালমুক্ত শুঁটকি তৈরি এখন শুধু পেশাই নয়, উপকূলের মানুষের ঐতিহ্য, গর্ব ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও একটি উজ্জ্বল প্রতীক।

 

(বাসস)

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ১১, ২০২৫ ৯:২৬ পূর্বাহ্ন
মাছ-মুরগির খামার করে ভাগ্য বদল পটুয়াখালীর রাজিব কর্মকারের
প্রাণিসম্পদ

মাছ-মুরগির খামার করে ভাগ্য বদলেছেন পটুয়াখালীর তরুণ উদ্যোক্তা রাজিব কর্মকার (৩২)। কয়েক বছর আগে বেকারত্বের গঞ্জনা থেকে মুক্তি পেতে নিজ উদ্যোগে নিজের বাড়িতে গড়ে তুলেছেন মুরগির খামার। আর এখন তিনি মাছ, মুরগি ও গাভি পালন করে মাসেই আয় করছেন দুইলাখ টাকা। ইতোমধ্যে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছেন রাজিব। তার এই সাফল্যে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যাপারে আগ্রহী হচ্ছেন স্থানীয় অনেকেই।

সরেজমিনে রাঙ্গাবালী উপজেলার পশুরীবুনিয়া গ্রামের রাজিব কর্মকারের খামারে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরের মাঝখানে বাঁশ ও সুপারি গাছের তৈরি মাচায় বেড়ে উঠছে ছোট বড় আকৃতির ব্রয়লার, সোনালী ও লেয়ারসহ বিভিন্ন জাতের মুরগি। মাচার নিচে পুকুরে চাষ হচ্ছে পাঙাশ, দেশীয় প্রজাতির শিং ও মাগুর মাছ। ফার্মে মাছ ও মুরগির সমন্বিত চাষে সফলতার মুখ দেখছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা। অনেক পরিশ্রম আর ত্যাগে আজ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গ্রামে পরিচিতি পেয়েছেন।

রাজিব কর্মকারের সাথে কথা হলে তিনি বাসসকে তার সাফল্যের গল্প শোনালেন। তিনি বলেন, বেকারত্ব ঘোচাতে প্রথমে ছোট্ট পরিসরে মুরগির খামার শুরু করি। পরে দেখলাম বেশ ভালোই লাভবান হচ্ছি। এমন বাস্তবতায় মাছ, মুরগি ও গাভি পালন শুরু করি ধাপে ধাপে। অল্প পুঁজি আর অদম্য ইচ্ছাকে একত্রে মিলিয়ে নেমে পরি ব্যবসায়। আর ব্যবসার পণ্য হিসেবে বেছে নিয়েছি নিজের খামারে উৎপাদিত মুরগি। স্থানীয় বাজারে মুরগির পাশাপাশি বিক্রি করি মাছের ফিড। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যবসায় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছি লেয়ার, ব্রয়লার, সোনালী মুরগি ও মাছের ফিডের ডিলার।

রাজিব বলেন, এখান থেকে উপার্জিত অর্থেই দাঁড় করেছি রিতিকা ও রুদ্র খামার বাড়ি। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৬০ শতাংশ জমিতে গড়েছি মাছ, মুরগি ও উন্নত জাতের গাভিসহ নানারকম সবজি ও ফলের বাগান।

মুরগি ও মাছ চাষে এমন সফলতায় তরুণ ও বেকার যুবকসহ এখন অন্যদের কাছেও আদর্শ রাজিব কর্মকার। তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এলাকার অনেকেই ঝুঁকছেন মাছ ও মুরগি চাষে। তার খামার বাড়ির চারপাশে সজ্জিত সারি সারি সুপারির বাগান, হরেক রকমের ফল ও সবজির বাগান দেখে মনে হচ্ছে যেন কৃষিতেই থেমে নেই রাজিব।

রাজিব আরো বলেন, তিলে তিলে এই খামার গড়ে তুলছি। মাছ, মুরগি, নানান প্রকার সবজি ও ফলমূলের এই প্রজেক্ট করে আমি ভালোই লাভবান হয়েছি। প্রতি মাসে এখান থেকে দুই লাখ টাকা লাভ হয়।

তিনি বলেন, শাহীওয়াল জাতের গরুও পালন করতাম, বিক্রি করে ফেলছি জায়গা সংকটের কারণে। সরকারি সহায়তা পেলে আরো বড় পরিসরে খামার করতে পারবো। তরুণদের চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শও দেন এই সফল উদ্যোক্তা।

এ বিষয়ে খামার ম্যানেজার রাহাত মিয়া বলেন, আমাদের এখানে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের মুরগি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঠানো হয়। ডিম ও মুরগি আমরা পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে থাকি। এছাড়াও আমাদের এখানে চাষ করা পাঙাশ, শিং ও মাগুর স্থানীয় বাজারে খুচরা বিক্রি করি। আমাদের খামারে উৎপাদিত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় বাজারে বেশ সুনামের সাথে বিক্রি করা হচ্ছে আমাদের খামারে উৎপাদিত পণ্য।

রাজিবের প্রতিবেশী রবিন আহম্মেদ (৩০) বলেন, শূন্য থেকে যে একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব, তার জ্বলন্ত উদাহরণ রাজিব কর্মকার। আশেপাশের অনেক তরুণদের তিনি এখন আইডল। রাজিবের খামারের মুরগি, মাছ ও গাভির ব্যাপক চাহিদা এই অঞ্চলজুড়ে। স্থানীয় হতাশাগ্রস্ত বেকারদের আশার আলো দেখাচ্ছেন তরুণ উদ্যোক্তা রাজিব।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন রাজু বলেন, মৎস্য খামার বেকারদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য অন্যতম উদাহরণ রিতিকা রুদ্র খামার বাড়ি। রাজিবের মৎস্য চাষে যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন আমরা সরকারি বিধি মোতাবেক তা করবো। একইসাথে বলবো-চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের রাজিব কর্মকারের মতো এগিয়ে আসা উচিত।’

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহজাহান আলী (ভারপ্রাপ্ত) বাসসকে বলেন, ‘যোগাযোগ করে দপ্তরের সকল সুযোগ সুবিধার আওতায় আনা হবে। রাজিব কর্মকারের মত যদি খামার গড়ে তোলা হয় তাহলে বেকার যুবক, যুব মহিলাদের বেকার সমস্যা দূরীকরণ হবে।

তিনি আরো বলেন, এমন সব খামার গড়ে তোলা হলে স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও ভূমিকা রাখতে পারবে। দেশ অনেক এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি বেকার যুবক, যুব মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এসব খামার।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২৫ ৮:০০ অপরাহ্ন
রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলায় মহিষ পালনে পুষ্টি, প্রজনন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রযুক্তির ব্যবহার শীর্ষক খামারী প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন
প্রাণিসম্পদ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলায় “মহিষ পালনে পুষ্টি, প্রজনন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রযুক্তির ব্যবহার” শীর্ষক ৩ (তিন) দিনব্যাপী খামারী প্রশিক্ষণ রবিবার ১৯ই অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিঃ তারিখ সমাপ্ত হয়েছে। গত শুক্রবার ১৭ই অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিঃ তারিখ সকালে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই), সাভার, ঢাকার বাস্তবায়নে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, গংগাচড়া, রংপুরের সহযোগীতায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নির্বাচিত সুফলভোগী ৫০ জন মহিষ খামারীদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী দিনে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ, নীলফামারীর উপজেলা প্রাণিস্পদ অফিসার মোঃ নুরুল আজীজ এবং গংগাচড়া, রংপুরের উপজেলা প্রাণিস্পদ অফিসার ডাঃ মোঃ মাহফুজার রহমান।

তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের ২য় দিন (১৮ই অক্টেবর, ২০২৫) উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, রংপুর বিভাগের পরিচালক ডাঃ মোঃ আব্দুল হাই সরকার; বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, রংপুর বিভাগের ডেপুটি চীফ ইপিডেমিওলজিষ্ট ডাঃ মোঃ রফিকুল আলম এবং উক্ত প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও বিএলআরআই এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গৌতম কুমার দেব। পঁঞ্চাশ (৫০) জন সুফলভোগী মহিষ খামারী এতে অংশগ্রহণ করেছেন।

তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গংগাচড়া উপজেলার মহিষ খামারীগণ লাভজনক পদ্ধতিতে খামারে মহিষ লালন পালন, মহিষের জাত সনাক্তকরণ, মহিষের প্রজনন ব্যবস্থাপনা, স্বল্প খরচে দুধালো মহিষের খাদ্য ব্যবস্থাপনা, হাতে কলমে সাইলেজ, হে এবং ইউএমএস প্রযুক্তির ব্যবহার, গর্ববতী ও দুগ্ধবতী মহিষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, মহিষের রোগ প্রতিরোধে করণীয়, টিকা প্রদান ও কৃমি মুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ও নিয়মাবলী, কৃমি প্রতিরোধে খামারীদের করণীয় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। বাংলাদেশে প্রাপ্ত মহিষের জাতসমূহ, দুধাল গাভী মহিষ, আদর্শ প্রজনন উপযোগী ষাঁড় মহিষ নির্বাচন সম্পর্কে খামারীরা সুনিপুণ ধারণা অর্জন করেন। খামারীরা ভবিষতে কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ (সাইলেজ) করবেন বলে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। খামারী বাদ্ধব তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের কোর্স কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বে ছিলেন বিএলআরআই এর মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ কামরুল হাসান মজুমদার।

এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মহিষ খামারীগণ মহিষ পালনে পুষ্টি, প্রজনন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই মহিষ খামার গড়ে তোলার মতামত ব্যক্ত করেন। প্রশিক্ষণ শেষে খামারিরা মহিষের গুরুত্বপূর্ণ রোগের টিকা এবং উন্নত জাতের মহিষের বীজ সরবরাহের জন্য আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৫ ৮:১৫ অপরাহ্ন
গংগাচড়া, রংপুরে তিন দিনব্যাপী মহিষ পালনে পুষ্টি, প্রজনন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রযুক্তির ব্যবহার শীর্ষক প্রশিক্ষণ
প্রাণিসম্পদ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রংপুরের গংগাচড়াতে মহিষ পালনে পুষ্টি, প্রজনন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রযুক্তির ব্যবহার শীর্ষক তিন দিনব্যাপী খামারী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত শুক্রবার (১৭ই অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি.) সকাল ১০ টার দিকে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত ৫০ জন মহিষ খামারী প্রশিক্ষণ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, গংগাচড়া, রংপুরে শুরু হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের আজ ২য় দিন (১৮ই অক্টোবর, ২০২৫খ্রি.) উপস্থিত ছিলেন ডাঃ মোঃ আব্দুল হাই সরকার, পরিচালক, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগ, রংপুর; ডাঃ মোঃ রফিকুল আলম, ডেপুটি চীফ ইপিডেমিওলজিষ্ট, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগ, রংপুর; ডাঃ মোঃ মাহফুজার রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার, গংগাচড়া, রংপুর এবং মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. গৌতম কুমার দেব, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বিএলআরআই, সাভার, ঢাকা। উক্ত প্রশিক্ষণে ৫০ জন সুফলভোগী মহিষ খামারী অংশগ্রহণ করছেন।


তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষনের মাধ্যমে গংগাচড়া উপজেলার মহিষ খামারীগণ লাভজনক পদ্ধতিতে খামারে মহিষ লালন পালন, মহিষের জাত সনাক্তকরণ, মহিষের প্রজনন ব্যবস্থাপনা, স্বল্প খরচে দুধালো মহিষের খাদ্য ব্যবস্থাপনা, হাতে কলমে সাইলেজ, হে এবং ইউএমএস প্রযুক্তির ব্যবহার, গর্ববতী ও দুগ্ধবতী মহিষের স্বাস্থ্য ব্যাবস্থাপনা, মহিষের রোগ প্রতিরোধে করণীয়, টিকা প্রদান ও কৃমিমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ও নিয়মাবলী, কৃমি প্রতিরোধে খামারীদের করনীয় সম্পর্কে সম্মক ধারনা লাভ করবেন।


বাংলাদেশে প্রাপ্ত মহিষের জাতসমূহ, দুধালো গাভী মহিষ, আদর্শ প্রজনন উপযোগি ষাঁড় মহিষ নির্বাচন সম্পর্কে খামারীরা সুনিপুণ ধারণা অর্জন করতে সক্ষম হবেন।
তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের কোর্স কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বে আছেন বিএলআরআই এর মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ কামরুল হাসান মজুমদার।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৫ ৪:৪৯ অপরাহ্ন
এ ওয়ান পলিমার ও আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ডিলার সম্মেলন ২০২৫ অনুষ্ঠিত
প্রাণিসম্পদ

“সাহস সমৃদ্ধির” –এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হলো এ-ওয়ান পলিমার লিমিটেড ও আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লিমিটেড এর ডিলার সম্মেলন-২০২৫। ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (ICCB) তে অনুষ্ঠিত এই ডিলার সম্মেলনে সমগ্র বাংলাদেশের প্রায় ৭০০ ডিলার উপস্থিত ছিলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব মানোয়ার হোসেন, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব ওয়াইজ আর. হোসেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ডিভিশন এর সি এম ও জনাব মোহাম্মদ আতিক আকবর, সি এফ ও জনাব বাবলা বসু, লজিস্টিক ডিরেক্টর জনাব মোঃ মফিদুল হক, সিনিয়র জি এম বিজনেস জনাব মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, মার্কেটিং বিভাগের এ.জি.এম. জনাব মোঃ ফাহিম হোসেন, জি. এম. একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স জনাব মোঃ আফতাব আলম খান এবং হেড অফ বিজনেস অপারেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট জনাব খন্দকার শফিকুল ইসলাম উল্লাস। উক্ত অনুষ্ঠানে এ ওয়ান পলিমার ও আনোয়ার গ্যালভানাইজিং এর সেরা ডিলারদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। পরিশেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১, ২০২৫ ২:৩৩ অপরাহ্ন
নানা আয়োজনে শেকৃবিতে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২৫ পালিত
প্রাণিসম্পদ

“আসুন দুগ্ধশিল্প এবং দুধের প্রভাব উদযাপন করি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাবিশ্বের ন্যায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস-২০২৫ উদযাপিত হয়েছে। শেকৃবির এএসভিএম অনুষদের ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে নানা আয়োজনে দিবসটি উদযাপিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০:০০ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এম. মহবুবউজ্জামান ভবনের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। র‌্যালির উদ্বোধন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল লতিফ। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন শেকৃবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ আবুল বাশার, এএসভিএম অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, আইকিউএসি এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ রজ্জব আলী, ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ নাজমুল হক, ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান সহ শেকবির এএসভিএম অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। র‌্যালি শুরুর পূর্বে স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে দুধ বিতরণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল লতিফ সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে দুধের পুষ্টিগুণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। র‍্যালি শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে দুধ বিতরণ করা হয়। এছাড়াও এএসভিএম অনুষদের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং ক্লাসরুমে উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের পক্ষ থেকে দুধ বিতরণ করা হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল লতিফ বলেন, “দেশের মানুষের কাছে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং দুধ উৎপাদনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার জন্য আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে। এতে করে মেধাবী জাতিতে পরিণত হবো আমরা। এত সুন্দর আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২৫ আয়োজনের জন্য ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই”। কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ আবুল বাশার তার বক্তব্যে বলেন, “দুধ একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য। দুধ দিবসের প্রতিপাদ্যে উদ্দীপিত হয়ে দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে”।

এএসভিএম অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “দুধ একটি সুপারফুড। দুধে রয়েছে ল্যাক্টোজ, যা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন এক গ্লাস করে দুধ পান করা উচিত”। ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, “সারা বিশ্বে দুগ্ধশিল্পের অর্থনীতির আকার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এবারের দুধ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দ্য পাওয়ার অব ডেইরি’ কথাটিকে সমর্থন করে। দুগ্ধ শিল্পের উপর নির্ভর করে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে। ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ নাজমুল হক বলেন, দুধ শুধু একটি পুষ্টিকর খাদ্যই নয়, দুগ্ধশিল্পের সাথে গ্রামীণ অর্থনীতি, জীবন-জীবিকা ও টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করে। এ আয়োজনে সহযোগিতা করার জন্য তিনি শেকৃবি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান এবং দুধ প্রদান করে সহযোগিতা করার জন্য প্রাণ ডেইরি লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান।”

এছাড়াও ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে দুপুর ২ ঘটিকায় শেরেবাংলা নগরের আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে দুধ বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)র উদ্যোগে সর্বপ্রথম ২০০১ সালে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশেও এই দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগ প্রতিবছর এ দিবসটি বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপন করে থাকে। বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২৫ আয়োজনে দুধ প্রদান করে প্রাণ ডেইরি লিমিটেড।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২১, ২০২৫ ৫:৫৭ অপরাহ্ন
বাকৃবিতে পশুপালন অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা ডিন ও তদানীন্তন ভাইস-চ্যান্সেলর এর ম্যুরাল উন্মোচন
প্রাণিসম্পদ

দীন মোহাম্মদ দীনুঃ  বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু পালন অনুষদের ডিন অফিস প্রাঙ্গণে ২১ মে ২০২৫, বুধবার দুপুর ২.০০টায় উক্ত অনুষের প্রতিষ্ঠাতা ডিন ও সাবেক ভাইস-চ্যান্সেলর কাজি মো: ফজলুর রহিম এর প্রতিকৃতির ম্যুরাল উন্মোচন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশু পালন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো: রুহুল আমীন।

 

অন্যান্যের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মো: আব্দুল আলীম এবং অনুষদের বিভিন্ন শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। এসময় প্রাক্তন ভাইস-চ্যান্সেলর এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২৯, ২০২৫ ৫:৩১ অপরাহ্ন
কোম্পানির মুনাফার জায়গা গোখাদ্য হতে পারে না: মপ্রাম উপদেষ্টা
প্রাণিসম্পদ

কৃষির উন্নতি হয়েছে সত্যি, কিন্তু একই সাথে আমরা গোখাদ্য নষ্ট করেছি। গরুর, তথা প্রাণিকূলের নিজের খাবারের পছন্দ-অপছন্দ আছে। খামারিদের অভিব্যক্তির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আমি বলতে চাই গোখাদ্য কখনও বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর মুনাফার জায়গা হতে পারে না। সেই জায়গা থেকে বিএলআরআই যে নেপিয়ার নিয়ে, ঘাসভিত্তিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আমাদের মাথায় রাখতে হবে, ঘাস উৎপাদনের জায়গা পর্যাপ্ত নয়। তাই আমাদের যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

আজ বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এ আয়োজিত “Strengthening Partnership for Innovation in Livestock Research and Development” শীর্ষক সেমিনার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার একথা বলেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, কৃষি ও প্রাণিসম্প আলাদা নয়, বরং অবিচ্ছেদ্য। তাই কৃষকদের মতো প্রাণিসম্পদ লালন-পালনকারীদের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার সকল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই প্রাণিসম্পদ খামারিদের জন্য পৃথক ব্যাংক তৈরির বিষয়ে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি খামারিদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যেও মন্ত্রণালয় কাজ করছে। দেশের মানুষের প্রয়োজনীয় আমিষের সরবরাহ নিশ্চিত করা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব। খামারিরা যেভাবে ডিম, দুধ, মাংস উৎপাদন করছে, তবেই আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে। কৃষি কাজ বা প্রাণিসম্পদ পালনকে মর্যাদাপূর্ণ কাজ হিসেবে নিতে হবে।

এসময় তিনি বিএলআরআই ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের ভালো বিজ্ঞানী আছে, ভালো কর্মকর্তা আছে। বিএলআরআই ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে আলাদা ভাবা যাবে না, এক ভাবতে হবে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) ও চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “Feed Based Training for Livestock Services Extension Staff, Co-Operatives and Individual Farmers” শীর্ষক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান এবং “Strengthening Partnership for Innovation in Livestock Research and Development” শীর্ষক সেমিনার আজ ২৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে বিএলআরআই সম্মেলন কক্ষে (চতুর্থ তলা) অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এছাড়াও, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং ডেপুটি ডিরেক্টর গুলবালি ড. ক্যামেরন ক্লার্ক। আর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।

সকাল ১০.০০ ঘটিকায় পবিত্র গ্রন্থ হতে পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি শুরু্ হয়। শুরুতেই আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক ড. এ বি এম মুস্তানুর রহমান।

স্বাগত বক্তব্যেরে পরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং ডেপুটি ডিরেক্টর গুলবালি ড. ক্যামেরন ক্লার্ক। তিনি তার প্রবন্ধে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সম্পর্ক জোরদারকরণ এবং যৌথ কর্মকাণ্ড গ্রহণের সফলতা ও সম্ভাবনা এবং স্থানীয় সম্পদ ও জাতসমূহ ব্যবহার করে স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এসময় তিনি অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ পালনের সাদৃশ্য ও সম্ভবনা নিয়েও আলোচনা করেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পরে প্রবন্ধ সম্পর্কে আলোচনা করেন অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ এর সাউথ এশিয়ান রিজিয়নের রিজিওনাল ম্যানেজার ড. প্রতিভা সিংহ।
এর পরে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত আলোচনা। উন্মুক্ত আলোচনা অংশ পরিচালনা করেন বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। এসময় বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, খামারি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিরা একে একে তাদের বক্তব্য প্রদান করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিএলআরআই এর মধ্যে চমৎকার একটি সম্পর্ক রয়েছে। প্রযুক্তিসমূহ মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পরপরই তা হস্তান্তরের লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারকরণের উপরেও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক তার সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মশালাটি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএলআরআই এর অনেক সম্ভবনাময় প্রযুক্তি রয়েছে। এসব প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বিএলআরআই এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতাও বৃদ্ধি করতে হবে। বিজ্ঞানীদের নিজস্ব কোন ক্ষেত্র নেই, সকল ক্ষেত্রেই তার কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে, সকল ক্ষেত্রেই অবদান রাখতে হবে।

ঘাসভিত্তিক প্রাণিখাদ্যের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং উৎপাদন কৌশল নিয়ে আয়োজিত তিন দিনব্যপী এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা উদ্যমী খামারি ও উদ্যোক্তা। তাদের সাথে ছিলেন বিএলআরআই এর বিভিন্ন পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop