পটুয়াখালীতে কাঁঠাল চাষে পুষ্টি ও অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো
কৃষি বিভাগ
বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠালকে ঘিরে পটুয়াখালী জেলায় তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। পুষ্টিগুণে ভরপুর ও অর্থকরী এ ফলের চাষ দিন দিন কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির কারণে জেলায় কাঠাল চাষ সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া গেলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হতে পারবেন জেলার কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো. আমানুল ইসলাম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে বলেন, বর্তমানে জেলায় ৫২৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হয়েছে। এ বছর জেলায় মোট কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৬২ মেট্রিক টন। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন হচ্ছে ৮ দশমিক ৩ মেট্রিক টন।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে কাঁঠাল গাছের সংখ্যা ৪৭ হাজার ২৫০টি। জনসংখ্যা ২৭ লাখ ৫১ হাজার ১৫০ জন। সেই হিসেবে বছরে একজন মানুষের সম্ভাব্য কাঁঠালের চাহিদা ধরা হয়েছে ১০ কেজি। এতে জেলায় বছরে মোট কাঁঠালের চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ২৭ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন। অথচ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৪ হাজার ৩৬২ মেট্রিক টন। ফলে প্রতি বছর প্রায় ২৩ হাজার ১৪৯ মেট্রিক টন কাঁঠালের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
তবে এই ঘাটতিকেই সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষিবিদদের মতে, জেলার পতিত জমি, বসতভিটা ও রাস্তার পাশের খালি জায়গাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে কাঁঠাল গাছ রোপণ করা গেলে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
ড. মো. আমানুল ইসলাম বলেন, ‘কাঁঠাল শুধু সুস্বাদু ফলই নয়, এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক।
বর্তমানে বাজারে কাঠালের চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি কাঁঠালের চিপস, জুস ও প্রক্রিয়াজাত বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের বাজারও তৈরি হচ্ছে। তাই কৃষকদের এখন থেকেই বাণিজ্যিকভাবে কাঁঠাল চাষে আগ্রহী হওয়া প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘পটুয়াখালীর মাটি ও জলবায়ু কাঁঠাল চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও পরিচর্যা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।’
জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য অনেক ফলের তুলনায় কাঁঠাল গাছের পরিচর্যায় খরচ কম। একবার গাছ বড় হয়ে গেলে দীর্ঘদিন ফলন পাওয়া যায়। ফলে এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক ফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে বাড়ির পাশে কয়েকটি কাঁঠাল গাছ ছিল। এখন বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় নতুন করে আরও গাছ রোপণ করেছি। কাঁঠালের চাহিদা প্রতি বছর বাড়ছে।’
পুষ্টিবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঁঠাল মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং শরীরের পুষ্টি ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কৃষি বিভাগ মনে করছে, জাতীয় ফল হিসেবে কাঁঠালের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সচেতনতা ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন জরুরি। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে চারা বিতরণ, কৃষক প্রশিক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা গেলে পটুয়াখালীতে কাঁঠাল হতে পারে সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল।
সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কৃষকদের আগ্রহ বাড়লে আগামী কয়েক বছরে পটুয়াখালী জেলায় কাঁঠালের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এতে একদিকে যেমন জেলার পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে কৃষকদের আয়ও বাড়বে।












