৫:০০ পূর্বাহ্ন

বুধবার, ১৮ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : নভেম্বর ৮, ২০২১ ১:৪৫ অপরাহ্ন
কৃষক ও ভোক্তাদের স্বার্থে প্রয়োজনে ধান চাল ক্রয় বাড়ানো হবে-খাদ্যমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষক ও ভোক্তার স্বার্থে প্রয়োজনে ধান চাল ক্রয় লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হবে। তবে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে না জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, আমনের ধানের ফলন ভাল হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিবে সরকার।

গতকাল রবিবার বিকেলে নওগাঁ নিয়ামতপুর খাদ্যগুদামে গিয়ে ফিতা কেটে চলতি মৌসুমের ধান ক্রয়ের উদ্বোধন করেন। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি মন্তব্যগুলো করেন। এটাকে বিকেলে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একযোগে সারাদেশে আমন সংগ্রহের উদ্বোধন করেন।

চলতি মৌসুমে ২৭ টাকা কেজি দরে কৃষকের কাছ থেকে ৩ লাখ টন ধান ও ৪০ টাকা দরে মিলারদের কাছ থেকে ৫ লাখ টন চাল সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে খাদ্য বিভাগ। অভিযান চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সংগ্রহ অভিযানে সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ৮, ২০২১ ১২:৩২ অপরাহ্ন
ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা
কৃষি বিভাগ

নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার কৃষক আবুল কাসেম। দিনভর পরিশ্রম করে জমির পরিচর্যা করছেন। আর কিছুদিন পরই এই জমিতে দিতে হবে সেচ। কিন্তু হঠাৎ ডিজেলের দাম বাড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন। সেচ থেকে শুরু করে পরিবহন পর্যন্ত সব কিছুতেই গুনতে হবে বাড়তি টাকা।

এমন শঙ্কা সব কৃষকেরই। বোরো ধানের আবাদে সেচ পাম্প ও পাওয়ার টিলারের মূল জ্বালানিই ডিজেল। আবার এখন শীতের সবজি উঠছে। বেশি ভাড়া দিতে হবে এসব সবজি পরিবহনে।

ডিজেলের দাম বাড়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা। উৎপাদন খরচ ও বাজার নিয়ে শঙ্কায় তারা। খরচ বেড়ে যাবে পুকুরে সেচ দেয়া ও মাছ ধরার নৌকা চালাতে।

তেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়লেও ফসল উৎপাদন ব্যায় বাড়বে ত্রিশ শতাংশ, আর এতে কৃষি অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন কৃষক ও ক্ষেতমজুর নেতারা।

শীতের আগমনেই মাঠে আলু চাষে নেমেছেন নওগাঁর চাষিরা। এরমধ্যেই ডিজেলের দাম বৃদ্ধির খবরে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে চাষিরা। সাধারণত এক বিঘা জমিতে আলু চাষে খরচ হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। কিন্তু তেলের দাম বৃদ্ধিতে সেই খরচে যোগ হলো বিঘাপ্রতি আরও ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। আর বাড়তি এই খরচ নতুন দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে উৎপাদকদের মনে।

কৃষকের ওপর চাপ কমাতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা চলছে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আসাদুল্লাহ বলছেন, চলতি বোরো মৌসুমে সেচে কত খরচ বাড়ে সেটা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৩০ ভাগ জমিতে সেচ দেয়া হয় বিদ্যুতের মাধ্যমে। বাকি অংশে সেচ দেয়া হয় ডিজেলচালিত যন্ত্র দিয়ে। চলতি মৌসুমে আলু ছাড়াও আবাদ হচ্ছে সরিষা, গম, পেঁয়াজ ও শাক-সবজি। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিতে শুরুতেই দেখা দিয়েছে মূলধনের অভাব। অসহায় হয়ে পড়েছেন অনেক চাষি।

যান্ত্রিক কৃষি ব্যবস্থা অনেকটা নির্ভর করে ডিজেলের ওপর। সরকারি হিসেবে দেশে ডিজেলের চাহিদার ১৬ শতাংশ ব্যবহৃত হয় কৃষি খাতে। বর্তমানে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি উৎপাদন খরচ বাড়াবে, যার মাশুল গুনতে হবে ভোক্তাদের।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ৭, ২০২১ ১:১৬ অপরাহ্ন
রাঙামাটিতে সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে পাহাড়ে আদা চাষ
কৃষি বিভাগ

পাহাড়ে দিন দিন বাড়ছে আদার বাণিজ্যিক চাষাবাদ। বিশেষ করে রাঙামাটিতে ৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে উৎপাদিত মসলাজাতীয় এ পণ্যটি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে সারাদেশে।

বাণিজ্যিকভাবে আদা উৎপাদন হয় রাঙামাটি সদর, কাপ্তাই, রাজস্থলী, নানিয়ারচর, বরকলসহ বেশকয়েকটি এলাকায়। এখন আদা সংগ্রহের মৌসুম, ফলে দূর দূরান্ত থেকে আসছেন ব্যবসায়ীরা। পাহাড়ে উৎপাদিত আদার চাহিদা দেশজুড়ে বেশি, আর এবার ফলনও হয়েছে ভালো। এই খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি বন্ধ করলে দেশের চাষীরা লাভবান হবে।

চাষিদের আগ্রহ বাড়াতে ঋণ দিচ্ছে পল্লি উন্নয়ন বোর্ড। চাষাবাদ বিস্তৃত হলেই আমদানি নির্ভরতা কমবে, বলছেন রাঙামাটি সদর বিআরডিবি কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন।

রাঙামাটি জেলায় এবছর ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আদার চাষ হয়েছে, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪০ হাজার টন। উৎপাদন বাড়াতে প্রশিক্ষণ আর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা চান পাহাড়ের আদা চাষিরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ৭, ২০২১ ১২:০৩ অপরাহ্ন
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সার সংকট,হুমকিতে সরিষা আবাদ
কৃষি বিভাগ

পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ডিএপি ও এমওপি সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া ইউরিয়া সারের সংকট দেখা দেওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে সরিষাসহ রবি ফসল আবাদে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। সার সংকটের সুযোগে কোনো কোনো সাব-ডিলার দ্বিগুণ দামে সার বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে

কৃষি বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় সাড়ে নয় হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলুসহ শীতকালীন নানা প্রকার শাকসবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে সাড়ে ১২শ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও প্রায় পাঁচশ হেক্টর জমিতে গম আবাদেরও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে সরিষা এবং শীতকালীন শাকসবজি আবাদের ভরা মৌসুম চলছে। এসব ফসল ও শাকসবজি আবাদের জন্য কৃষকরা জমিও প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু তীব্র সার সংকটের কারণে সরিষা ও সবজির আবাদ বিঘ্নিত হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, এ উপজেলায় ১৫ জন সারের ডিলার রয়েছেন। এদের চলতি মাসে টাঙ্গাইল থেকে ১৪০ বস্তা করে এমওপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র দুই জন ডিলার বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করতে সক্ষম হয়েছেন। গুদামের এক কর্মকর্তার আত্মীয়ের মৃত্যু হওয়ায় গুদামটি বন্ধ ছিল। এতে গত বৃহস্পতি ও  শুক্রবার কোনো ডিলার তাদের বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করতে পারেননি।

এছাড়া প্রতি ডিলার ১৩ মেট্রিক টন করে ডিএপি সারের বরাদ্দ পেয়েছেন। যা নারায়ণগঞ্জের আমদানিকারকদের কাছ থেকে আনতে হবে। গতকাল এই ১৫ জনের একজন ডিলার বরাদ্দকৃত সার আনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু জাহাজ বন্দরে ভিড়েনি বলে ওই ডিলারকে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক জানান। এছাড়াও বরাদ্দকৃত সারের মধ্যে ‘২০ বস্তা করে সার কম নিতে হবে’ বলে ওই আমদানিকারক তাকে জানিয়েছেন। অন্য ডিলাররাও হঠাৎ করে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হওয়ায় সার আনতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি দেওয়ান রেফাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন জানান, অন্য বছরের তুলনায় বরাদ্দ কম দেওয়ায় এবং পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সার সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যেক ডিলারই তাদের নামে বরাদ্দকৃত সারের টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা করেছেন। কিন্তু পরিবহন সংকটের কারণে সার আনা সম্ভব হচ্ছে না।

সার না পেয়ে গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার শত শত কৃষককে এ ডিলার থেকে ও ডিলারের ঘরে ছুটাছুটি করতে দেখা গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান সার সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে যাতে দ্রুত সার সংকট নিরসন করা যায় তার জোর প্রচেষ্টা চলছে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, সার সংকট নিরসনে কাজ করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ৭, ২০২১ ৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
মৌলভীবাজারে শুরু আমন ধান কাটা উৎসব
কৃষি বিভাগ

মৌলভীবাজারে শুরু হয়েছে আগাম জাতের রোপা আমন ধান কাটার উৎসব। আমন ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কৃষকরা। সোনালি ধান হাসি ফুটিয়েছে তাদের মুখে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছে। এর ফলে একই জমিতে তিনটি ফসল আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হবে কৃষকরা।

করোনার এই সময়ে দেশের মানুষকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। আক্রান্ত হয়েছে কৃষক-কৃষানিরা। এর মধ্যেও মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর, বড়লেখাসহ সব উপজেলার বিভিন্ন জমিতে এখন শোভা পাচ্ছে আগাম জাতের রোপা আমন ধান। সোনালি ধানের ঘ্রাণে ভরে আছে মাঠ।

খাদ্য নিরাপত্তায় চলতি মাসে ব্রি ৪, ব্রি ৭৫, ব্রি ৭১ সহ অন্যান্য আগাম ও উফশী জাতের ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা। হাওরাঞ্চলে বোরো ব্যতীত অন্য কোনো ফসল হতো না, অনুকূলে থাকায় সেসব জমিতে এখন রোপা আমন ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা।

জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ১ লাখ ১ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৪২৫ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে ব্রি ধান-৭৫ সহ অন্যান্য আগাম ও উফশী জাতের ধান ১ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে। কম সময়ে ফলন এবং কম খরচে এই নতুন জাতের ধান চাষ করে সফলতা পেয়েছেন মৌলভীবাজারের অনেক কৃষক।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া, উত্তর উত্তরসূর হাওর এলাকার নিম্নাঞ্চলে কোনো বছরই বোরো ছাড়া অন্য কোনো ফসল চাষ করা সম্ভব হয় নাই। এবার হাওরে পানি কম থাকায় কৃষি বিভাগের পরামর্শে হাইব্রিড ব্রি ধান ৭৫ চাষ করে লাভবান হয়েছে এখানকার প্রান্তিক কৃষকরা।

উত্তর ভাড়াউড়া এলকার মো. আসাদ মিয়া জানান, এ জাতের ধান চাষে সময় কম লাগে। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় বালাইনাশক স্প্রে করতে হয় না। ফলে ফলন ভালো হয়েছে।

রাজনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্যোগে রাজস্ব খাতের অর্থায়নে বাস্তবায়িত খরিদপুর গ্রামের জিলু মিয়ার প্রদর্শনী প্লটে ধান কর্তন করা হয় ২৮ আশ্বিন। কর্তনকৃত এক বিঘা জমিতে ধান হয়েছে ১৮ মণ। বর্তমান বাজার মূল্যে প্রতি মণ ধান ৯০০ টাকা। ধানের খড় বিক্রয় হয়েছে ৩ হাজার টাকা। জমিতে খরচ হয়েছে ১২ হাজার ৫শ’ টাকা। এতে এক বিঘা জমিতে কৃষকের ৬ হাজার ৭শ’ টাকা লাভ হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ইফফাত আরা ইসলাম জানান, আমন মৌসুমে ব্রি ধান ৭৫ একটি উচ্চফলনশীল জাত। ২০ হতে ২৫ দিনের মধ্যে চারা রোপণ করতে হয়। এতে মাত্র ১শ’ ১০ থেকে ১শ’ ১৫ দিনের মধ্যে এ ধান ঘরে তোলা যায়। এ ধানের কাণ্ড শক্ত বলে গাছ হেলে পড়ে না। শীষ হতে ধান ঝরে পড়ে না। জাতটি আগাম হওয়ায় রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ৬, ২০২১ ১২:৪৯ অপরাহ্ন
মেহেরপুরের মাটিতে চাষ হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার তৈলজাত ফসল পেরিলা
কৃষি বিভাগ

মেহেরপুর জেলার মাটিতে এবার চাষ হচ্ছে ‘সাউ পেরিলা’। এ ‘ পেরিলা’ উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টি-সমৃদ্ধ নতুন এক তৈলজাত ফসলের নাম। এ ফসল থেকে লিনোলিনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ তেল আহরণ ছাড়াও প্রাপ্ত খইল গবাদিপশুর জন্য পুষ্টিকর খাবার ও জৈব সার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এ জন্য পেরিলা চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মেহেরপুরের গাংনীতে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হয়েছে। বীজে ২৫ শতাংশের ওপরে আমিষ থাকায় তেল আহরণের পরে তা থেকে প্রাপ্ত খৈল গবাদিপশুর জন্য পুষ্টিকর খাবারসহ জৈব সার হিসেবেও ব্যাবহার করা যাবে। ৭০-৭৫ দিনের এ ফসল থেকে হেক্টর প্রতি সর্বোচ্চ ১.৫ টন পরিমান বীজ সংগ্রহ করা যাবে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন বাণিজ্যিকভাবে চাষে যেমন তেলের আমদানির পরিমান কমে যাবে, তেমনি সাউ পেরিলা-১ দেশের অর্থনীতিতেও আনতে পারে আমূল পরিবর্তন।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ১২ জানুয়ারি ফসলটি পেরিলা-১ জাত হিসেবে নামকরণ করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বীজ বোর্ড থেকে অবমুক্ত করে। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেরাইল ব্লকের উপ সহকারী কৃষি অফিসার মো. বকুল হোসেন উদ্বুদ্ধ করণের মাধ্যমে নিজ ব্লকে সাউ গেরিলা চাষ শুরু করেন। ব্লকের প্রথম চাষি নজরুল ইসলাম প্রথম এ চাষ করতে পেরে গর্বিত বলে মত প্রকাশ করেন।

উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. বকুল হোসেন বলেছেন- পেরিলা-১ বাণিজ্যিকভাবে চাষে যেমন তেলের আমদানির পরিমাণ কমে যাবে, তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও আনতে পারে আমূল পরিবর্তন। তিনি জানান- শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এইচ এম এম তারিক হোসেন ২০০৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সংগ্রহ করেন এ জাত। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় বীজ বোর্ড সাউথ কোরিয়ান ভ্যারাইটির পেরিলা-১ নামে জাতটির নিবন্ধন দেয়। জাতটি দেশের আবহাওয়ার উপযোগী করে সাধারণভাবে সরিষা ভাঙানোর মতো করেই এ তেল পাওয়া যায়।

গাংনী উপজেলার তেরাইল গ্রামের পেরিলা-চাষি নজরুল ইসলাম বলেন- এ ফসলটির আবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস স্থানীয় কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করে ও বীজ সরবরাহ করে। প্রতি বিঘা জমিতে জমি প্রস্তুত থেকে ফসল মাড়াই পর্যন্ত খরচ হবে মাত্র ১০ হাজার টাকা। আর এ থেকে পাওয়া সম্ভব ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। তা ছাড়া ৭৫ দিনে এ ফসল কাটা-মাড়াই সম্ভব।
উদ্যোগী চাষি উজ্জল হোসেন জানান, পেরিলার গুণগত মান ও পতিত জমিতে চাষ করা সম্ভব। সেই সঙ্গে দো ফসলি ও তিন ফসলি ছাড়াও সাথী ফসল হিসেবে এর চাষ সম্ভব। তাই অনেকেই আসছেন পেরিলার চাষের পরামর্শ নিতে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এইচ এম এম তারিক হোসেন ২০০৭ সালে থেকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সংগ্রহকৃত জাতটি নিয়ে দেশে গবেষণা শুরু করেন। খরিপ-২ মৌসুমে অভিযোজিত এ ফসল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ফসলটি থেকে আমরা লিনোলিনিক এসিড সমৃদ্ধ তেল আহরণ করতে পারব। যা সাধারণ তেলের চেয়ে বেশি উপকারি এবং বাজার মূল্যও বেশি। কৃষক নিজেই বীজ উৎপাদন করে সংরক্ষণ ও পরবর্তীতে চাষ করতে পারবেন। এছাড়াও তেল আহরণও করতে পারবেন স্বাভাবিকভাবে। এতে কৃষকরা বেশি উপকৃত হবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ৬, ২০২১ ৭:১৫ পূর্বাহ্ন
আখ চাষে ঝুঁকছেন ধামরাইয়ের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

ঢাকার ধামরাইয়ের চাষি মামুদ আলী। প্রতিবছর এই মৌসুমে আবাদ করতেন আমন ধান। তবে তাতে লাভের মুখ দেখছিলেন না তিনি। ৫ বছর আগে আমন ছেড়ে নিজের ৫০ শতাংশ জমিতে শুরু করেন আখ চাষ। এখন খরচ বাদ দিয়ে এক মৌসুমে তার লাভ প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকা।

লাভ ভালো হওয়ায় মামুদ আলীর মতো অনেকেই ঝুঁকছেন আখ চাষে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, পুরো উপজেলায় এখন আখ চাষি ১০০ জনের বেশি। পাঁচ বছর আগেও এই সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ৩০ জন।

চাষিরা বলছেন, ধামরাইয়ের তুলনামূলক নিচু জমিতে প্রতিবছর ধান চাষ করেন চাষিরা। তবে কয়েক বছর লাভের মুখ না দেখায় অনেকেই আখের চারা লাগিয়ে চাষ শুরু করেন। এতে সাফল্যও আসে। একারণে এখন উপজেলার আমতা ইউনিয়নের আমতা, নয়াচর, বাউখন্ড, জেঠাইলসহ ৬-৭টি গ্রামে গ্রামে বাড়ছে আখের ক্ষেত।

তারা জানান, প্রতি বিঘায় (৩৩ শতক) খরচ গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এই পরিমাণ জমিতে অন্তত ১ হাজারটি করে আখ হয়। একেকটি আখের দাম ২০-৪০ টাকা। বড় আকারের প্রতিটির ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১১ হেক্টর জমিতে আখের চাষ করা হয়েছে। যেখানে ৩-৪ বছর আগেও এটা ছিল প্রায় অর্ধেক।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ঘুরে দেখা যায় আখের গাছ। জমিগুলোতে কেউ কেউ আখ কেটে আঁটি করতে ব্যস্ত। আবার অনেকের ক্ষেতেই পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন আখ।

কথা হয় কৃষক মামুদ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের গ্রামের অনেকেই আখ চাষ করেছে। বেশিরভাগ চাষিদের আখ ক্ষেত থেকেই বিক্রি হয়ে যায়। আমি ৫০ শতকে চাষ করেছি। ফলন ভালো হওয়ায় চড়া দাম পাওয়া যাচ্ছে।

চাষি জুলহাস উদ্দিন বলেন, এইবার আমাদের আখের ফলন ভালো হয়েছে। আমি ৩৬ শতাংশ চাষ করেছি। আগে আমন করতাম, তাতে যেমন খরচ হতো, আখেও প্রায় একই রকম। ৪০ হাজার টাকার আখ বর্তমানে বিক্রি করেছি, ক্ষেতের সব আখ বিক্রি করে আরও অন্তত ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। গত বছরও এ রকম লাভ হয়েছে।’

উপজেলার কাওয়ালী পাড়া বাজারে কথা হয় আখ ক্রেতা জামাল উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ক্ষেত থেকে তোলা প্রতিটি আখ অনুমান করে দরদাম করা হয়। এরপর সেই আকারের আখ আলাদা করে গাড়িতে করে বাজারে নেওয়া হয়। বড় আকারের প্রতিটির ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, ধামরাইয়ে গত কয়েক বছর ধরে কৃষকরা আখ চাষে লাভবান হচ্ছেন। এখানে যে আখ চাষ হয় তা মূলত মুখে খাওয়ার জন্যে হাটে বাজারে বিক্রি হয়ে যায়। এতে লাভও বেশি। এ কারণে অনেকেই আখ চাষে ঝুঁকছেন। দক্ষতা, পরিচর্যা, সঠিকভাবে সার ও কীটনাশক প্রয়োগে আখের ফলন ভালো হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ৬, ২০২১ ৭:০৯ পূর্বাহ্ন
বিনা ধান-২২ চাষে বাজিমাত করলেন মুরাদ
কৃষি বিভাগ

উচ্চফলনশীল বিনা ধান-২২ আবাদে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার চাষি মুরাদ মালিথা। চলতি আমন মৌসুমে বাণিজ্যিকভাবে এই নতুন সরু জাতের ধানের চাষ করেছেন তিনি। এ যুবকের সাফল্য দেখে গ্রামের অন্য চাষিরাও এ ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

উচ্চফলনশীল হওয়ায় দেশের বাড়তি খাদ্য চাহিদা পূরণে এ ধান ভূমিকা রাখবে বলে আশা কৃষিবিদদের। মুরাদ মালিথা পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পতিরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে উফশী ( উচ্চফলনশীল) ধানের আবাদ করে চলেছেন।

বিনা উপকেন্দ্র ঈশ্বরদীর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমীন আরা জান্নাত জানান, কম খরচে লাভ, চাহিদা ও পরনির্ভরতা কমিয়ে আনতে প্রতিনিয়তই নতুন জাতের উদ্ভাবনে সচেষ্ট আমরা। বছরে তিন বার ফসল উঠানো যাবে এমন ‘কন্সেপ্ট’ থেকেই বিনা-২২ ধান উৎপাদনে জোর দেয়ে হচ্ছে। এ বছর ঈশ্বরদীর যুবক মুরাদ মালিথা ১৫-১৬ বিঘা জমিতে এ জাতের ধান চাষ করে লাভবান।

বিনা উপকেন্দ্র ঈশ্বরদীর ঊর্ধতন কর্মকর্তা সুশান চৌহান জানান, বিনা ধান-২২ এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি উচ্চফলনশীল, এর জীবনকাল অন্য ধানের চেয়ে কম। মাত্র ১১২-১১৫ দিনে ধান পেকে যায়। চাল লম্বা ও চিকন দানা বিশিষ্ট। সরু চাল হওয়ায় এর চাল বাজারে নাজিরশাইল এর সাথে পাল্লা দিতে পারবে বলে আশা করা যায়।

তিনি জানান, গাছ শক্ত বলে মোটেই হেলে পড়ে না। লবণাক্ত এলাকা ছাড়া দেশের সকল রোপা আমন অঞ্চল বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর, বগুরা, পাবনা, রাজশাহীসহ ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, কুষ্টিয়া, পার্বত্য অঞ্চল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে জাতটির অধিক ফলন পাওয়া যায়। পাবনার ঈশ্বরদীতে মুলাদ মালিথার প্লটে তারা ভালো উৎপাদন দেখছেন।

জাতটির চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে সুশান চৌহান জানান, উফশী রোপা আমন জাতেরমতোই। তবে ধান পাকার ১০-১২ দিন আগে জমির পানি শুকিয়ে ফেলা ভালো। এ জাতের রোগ বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। পোকামাকড় দমনের জন্য আইপিএম পদ্ধতিই সবচেয়ে ভালো বলে ওই কর্মকর্তা জানান। ঈশ্বরদীতে এবার বিঘা প্রতি ২০-২৫ মণ ফলন হবে বলে তারা আশাবাদী।

বিনা ধানের এ জাতটি এ বছর ১৫-১৬ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন মুলাদ মালিদা। এর মধ্যে এক বিঘা প্রদর্শনী প্লট হিসেবে রয়েছে। নিজ প্লটে দাঁড়িয়ে মুলাদ মালিথা জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে দৌড়াননি।

তিনি ধানসহ অন্যান্য উফশী ফসল চাষে আত্ননিয়োগ করেছেন। তিনি সব সময় নতুন জাত সংগ্রহ করে তা আবাদের চেষ্টা করেন বলে জানান। তিনি জানান, এ বছরই বিনা-২২ জাতটি চাষির কাছে আবাদের জন্য বিনা অফিস অবমুক্ত করেছে। তিনি নতুন জাতের এ ধনা উৎপন্ন করে ব্যাপক লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। তিনি জানান,পাকতে সময় কম লেগেছে। চাল সরু হওয়ায় তা নাজিরশাইল চালের সাথে বাজারে টক্কর দিতে পারবে।

চাষি মুরাদ মলিথা জানান, তিনি বিঘা প্রতি ২২-২৪ মণ ফলন পাবেন বলে আশা করছেন। এ জাতের ধান চিকন বলে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন। স্বল্পমেয়াদী এ ধান কাটার পর একই জমিতে রবি শস্য আবাদ করা যাবে। বেশি ফলন ও জমির বহুমুখী ব্যবহারের সুযোগ থাকায় এ ধান আবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এলাকার চাষিরা।

গ্রামের চাষি রবিউল ইসলাম সবু জানান, তারা সরু ধানের এ জাতটি দেখে খুব খুশি। তিনি জানান, তারমতো অনেক চাষি এ জাতটি দেখে আগ্রহী হয়েছেন। যারা আগে দেখেননি তারা মাঠ দিবসের মাধ্যমে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের আশা আগামী মৌসুমে তারা এ ধানের বীজ পাবেন এবং এ জাতটি চাষাবাদ করতে পারবেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার মিতা সরকার জানান, এটা আগাম জাতের চাল সরু। চালটি বজারের নাজিরশাইল চালেরমতো কদর পাবে আশা করা হচ্ছে। সারের পরিমাণ কম লাগে বলে উৎপাদন খরচ কম। এ জাতের ধানে চিটা নেই বললেই চলে।

আগাম ফসল কাটতে পারায় ওই জমিতে সরিষা, আলুসহ অন্যান্য রবি শস্য করার উদ্যোগ নিতে পেরেছেন কৃষকরা। বাম্পার ফলনের খবরে প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা দেখতে আসছেন নতুন জাতের ধান। তারাও আগামীতে উচ্চ ফলন পেতে এই ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

বিনার ঈশ্বরদী উপকেন্দ্রের ঊর্ধতন কর্মকর্তা সুশান চৌহান জানান, বিনাধান-২২ জাতের ধান বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২৫ মণ হবে। আর এ ধান কেটে রবি মৌসুমে সরিষা, মসুর, আখ, গম ও শাক-সবজি চাষ করা যাবে। এ ধান লাগানো থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে পাকা শুরু হয়। তিনি জানান, জাতটি সম্প্রসারণে এরই মধ্যে অগ্রণী চাষি মুরাদ মালিতার প্লটে মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আব্দুল লতিফ জানান, বিনা-২২ জাতের ধানে চিটা নেই বললেই চলে। আগাম ফসল কাটতে পারায় ওই জমিতে সরিষা, আলুসহ অন্যান্য রবি শস্য করার উদ্যোগ নিতে পেরেছেন কৃষকরা। বাম্পার ফলনের খবরে প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা দেখতে আসছেন নতুন জাতের ধান। তারাও আগামীতে উচ্চফলন পেতে এই ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ৫, ২০২১ ৫:২৪ অপরাহ্ন
হাইব্রিড ধানে আকর্ষণ নেই কৃষকের
কৃষি বিভাগ

দেশে হাইব্রিড ধানের আবাদ প্রচলন হয় ১৯৯৮ সালে। এরপর গত দুই দশকে চাল উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে হাইব্রিডেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বেশি। সরকারি-বেসরকারিভাবে এ ধরনের ধানের জাত উদ্ভাবন হয়েছে ২১৮টি। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ১০ টন ছাড়িয়েছে। তবু এখনো কৃষকের কাছে খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি হাইব্রিড ধান। দেশে ধানের মোট আবাদে হাইব্রিড জাতগুলোর অবদান মোটে ১১ শতাংশ।

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ নিয়ে নানা পদক্ষেপ নেয়ার পরেও হাইব্রিড ধানের প্রতি খুব একটা আকৃষ্ট হচ্ছেন না কৃষকরা। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, হাইব্রিড ধান থেকে উৎপাদিত চালের গুণগত মান কম। দামও বেশি পাওয়া যায় না। যদিও এর বীজের দাম তুলনামূলক বেশি। আবার এর বীজ উৎপাদন করতে যাওয়াটাও অতিমাত্রায় ব্যয়বহুল, যা কৃষকের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যমতে, দেশে মোট আবাদি জমির প্রায় ৭৫ শতাংশই ব্যবহার করা হয় ধান আবাদে। ২০২০-২১ অর্থবছরে আউশ, আমন ও বোরোর তিন মৌসুমে ধান আবাদ হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ ৯৫০ হেক্টরে। এর মধ্যে এ তিন মৌসুমে হাইব্রিড ধান আবাদ হয়েছে মাত্র ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ মোট আবাদি জমির মাত্র ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশকে হাইব্রিড ধানের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে বোরোতে ১১ লাখ ৪ হাজার ৬৩০ হেক্টর, আমনে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬০০ ও আউশে ৫৯ হাজার ১০০ হেক্টর।

যদিও ১৯৯৮ সালে প্রচলনের পর থেকেই হাইব্রিড ধান আবাদে কৃষকদের নানাভাবে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। বেসরকারি খাতও বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে এসেছে। কিন্তু কৃষক পর্যায়ে কোনোভাবেই আবাদ বাড়ানো খুব একটা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় হাইব্রিড নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষাও অনেকটা অধরাই থেকে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইব্রিড ধান ব্যবহার উপযোগী করতে হয় বীজ অথবা প্যারেন্ট লাইন আমদানির মাধ্যমে। এছাড়া হাইব্রিড ফসলে পোকার আক্রমণ ও চিটাসহ নানা বৈরী উপসর্গও দেখা দেয় বেশি। এ কারণে কৃষকরা স্থানীয় উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের প্রতি বেশি ঝুঁকছেন। এছাড়া হাইব্রিড বীজ দিয়ে বছরে একবারের বেশি আবাদ করা যায় না। পক্ষান্তরে উফশী ও অধিক ফলনশীল স্থানীয় জাত থেকে কৃষক নিজেই বীজ সংরক্ষণ করতে পারেন। দেশীয় জাতের ফসলে সার ও কীটনাশকও লাগে তুলনামূলক কম। দামও পাওয়া যায় ভালো। এছাড়া হাইব্রিড ফসল আবাদে কৃষকদের যে ধরনের জ্ঞানের প্রয়োজন তার অভাব রয়েছে। চালে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৫ শতাংশের বেশি হলে ভাত ঝরঝরা হয়। কিন্তু হাইব্রিড জাতগুলোয় অ্যামাইলোজের পরিমাণ গড়ে ২২-২৩ শতাংশ। এসব কারণেই কৃষকের মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান আবাদে আগ্রহ দিন দিন কমছে।

বাংলাদেশে শস্যবীজ অনুমোদনের কাজটি করে ন্যাশনাল সিড বোর্ড (এনএসডি)। দুই দশক ধরে এ বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বীজ প্রযুক্তিবিদ ও রেগুলেটরি বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ মো. শাহজাহান আলী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, মোট ধান আবাদের প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি জমিতে হাইব্রিড ধান আবাদ হয় ভারতে। চীনে এটি প্রায় ৬০ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরেই হাইব্রিড ধান আবাদ ১০ শতাংশের ঘরেই ওঠানামা করছে। মূলত দুটি কারণে হাইব্রিডের আবাদ বাড়ানোয় প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। এর একটি হলো হাইব্রিড ধানবীজের দাম সাধারণ ধানবীজের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। বীজটি কৃষকের উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। ফলে কৃষকদের পরনির্ভরশীল থাকতে হয়। অন্যদিকে ভাতের গুণগত মানের কারণে ভোক্তা পর্যায়ে হাইব্রিড ধানের চালের চাহিদাও থাকে কম। সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত ৪০টি দেশে হাইব্রিড ধানের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বাদে অধিকাংশ দেশেই এ ধরনের ধানবীজ ক্রয়ে কৃষককে ভর্তুকি দেয়া হয়। ফলে ধানের উচ্চফলন পেলেও বাজার চাহিদা কম এবং বীজের দাম বেশি হওয়ার কারণে কৃষকের আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

দেশে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য হাইব্রিড ধান আবাদ ২০ শতাংশে উন্নীত করার কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষককে ভর্তুকি সহায়তার মাধ্যমে আবাদ বাড়াতে পারলে অন্যান্য শস্য আবাদে জমি পাওয়া সম্ভব হবে। আবার বছরে যে চাল আমদানি করতে হয়, সেটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে বাংলাদেশ চাল রফতানিকারক দেশে পরিণত হবে। পাশাপাশি চালের গুণগত মানোন্নয়নের দিকেও জোর দিতে হবে।

১৯৯৮ সালে এনএসডির ৪০তম বৈঠকে চারটি হাইব্রিড ধানবীজের অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে তিনটির প্যারেন্ট লাইন ছিল ভারতীয়। একটির প্যারেন্ট লাইন ছিল চীনের। ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো দেশে প্রায় ২৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান আবাদ হয়। এখন পর্যন্ত মোট ২১৮টি হাইব্রিড ধানবীজের অনুমোদন দিয়েছে এনএসডি। এর মধ্যে চীনা জাত ১৩৯টি, ভারতীয় ৫৫টি ও ফিলিপাইনের একটি। বাংলাদেশে উদ্ভাবিত জাত রয়েছে ২৩টি।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ব্রি) ২০০১ সালে দেশে প্রথম হাইব্রিড ধানবীজ উদ্ভাবন করে। ওই সময় থেকে এ পর্যন্ত উদ্ভাবিত ২৩টি নিজস্ব জাতের মধ্যে ব্রি সাতটি, বেসরকারি খাত ১৫টি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি জাত উদ্ভাবন করেছে। বর্তমানে সব মিলিয়ে ৬৯টি প্রতিষ্ঠান হাইব্রিড ধানবীজ উদ্ভাবন, উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে। একসময় হাইব্রিড ধানবীজের চাহিদার শতভাগ পূরণ করতে হতো আমদানির মাধ্যমে। বর্তমানে দেশে চাহিদার প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশ উৎপাদন করা হচ্ছে।

প্রচলনের পর বাড়তি উৎপাদনশীলতার কারণে প্রথম কয়েক বছর হাইব্রিড জাতের আবাদ সম্প্রসারণে ধারাবাহিক সাফল্যও আসে। দেশে শতাংশের হিসাবে হাইব্রিড ধান সর্বোচ্চ আবাদ হয়েছিল ২০১০ সালে। এর পর থেকেই কমতে থাকে এ-জাতীয় ধান আবাদ। তবে সম্প্রতি হাইব্রিড ধান আবাদ কিছুটা বাড়লেও সেটি আশাব্যঞ্জক নয়। আর উচ্চফলনশীল হাইব্রিডের আবাদ না বাড়ায় দেশে চালের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। বাড়ছে আমদানিনির্ভরতা। গত এক যুগে দেশে শুধু চাল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা।

ব্রি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ১০৬টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে উফশী ও ইনব্রিড ধান ৯৯টি ও হাইব্রিড সাতটি। হাইব্রিড জাতগুলোর মধ্যে ব্রি হাইব্রিড ১, ২, ৩ ও ৫ জাতগুলো বোরোতে আবাদ করা হয়। এছাড়া ব্রি হাইব্রিড ৪ ও ৬ জাত দুটি আবাদ করা হয় আমন ফসল হিসেবে। আউশ মৌসুমে আবাদ করা হয় ব্রি হাইব্রিড ৭। এসব জাতের মধ্যে কয়েকটি সর্বোচ্চ আট-নয় টন পর্যন্ত ফলন দিলেও ব্রি হাইব্রিড ধানের জাতগুলো গড়ে ১০ টনের বেশি ফলন দিচ্ছে। এর পরও কৃষকরা ইনব্রিড ও উফশী ধানের জাতগুলোতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন বেশি।

এ বিষয়ে ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর বণিক বার্তাকে বলেন, চালের গুণগত মানে পিছিয়ে থাকা এবং সম্প্রসারণ বাধার কারণে হাইব্রিড ধানের জনপ্রিয়তা বাড়ছে না। হাইব্রিড ধানের চাল প্রধানত ভোক্তাদের কাছে কম জনপ্রিয়। কারণ এ চালে অ্যামাইলোজের পরিমাণ কম থাকে। এ কারণে সেদ্ধ করার পর চাল ঝরঝরা হয় না। ভোক্তাচাহিদা না থাকায় বাজারে এ ধানের চাহিদাও কম। ফলে কৃষকরা এ-জাতীয় ধান তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। সাধারণত অন্যান্য ধানের গড় দাম প্রতি মণ ১ হাজার টাকা হলেও হাইব্রিড ধানের দাম ৭০০ টাকার বেশি হয় না। ফলে কৃষকের আগ্রহ কমার নানা কারণ রয়েছে। আমরা এসব প্রতিবন্ধকতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা করছি। ভাত ঝরঝরা হওয়ার জন্য চালে অ্যামাইলোজের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। কৃষক যাতে ভালো দাম পান, সেজন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএ) সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশে ধান আবাদের জন্য প্রতি বছর বীজের প্রয়োজন পড়ে গড়ে প্রায় ১০ হাজার টন। এ বীজের সিংহভাগই সরবরাহ করে বেসরকারি ২০টির বেশি কোম্পানি। দেশী কোম্পানিগুলোর মধ্যে সুপ্রিম সিড, ব্র্যাক, লালতীর, এসিআই লিমিটেড, পেট্রোকেম, আফতাব বহুমুখী ফার্মস সবচেয়ে বেশি বীজ উৎপাদন করে। এছাড়া ইস্পাহানি অ্যাগ্রো, মল্লিকা সিড, ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বায়ার ক্রপ সায়েন্স ও সিনজেনটা বীজ উৎপাদন করে। তবে দেশে হাইব্রিডের আবাদ সম্প্রসারণ না হওয়ার কারণে এসব কোম্পানির ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

সূত্র: বণিকবার্তা

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ৫, ২০২১ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
রংপুরে ঘরে ঘরে চলছে নবান্ন উৎসবের আমেজ
কৃষি বিভাগ

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে। সোনালী ফসল ঘরে তুলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। ঘরে ঘরে চলছে নবান্নের আয়োজন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ধান কাটতে ব্যস্ত। কৃষাণীরাও উঠানে ধান ঝাড়তে ব্যস্ত। এবছর প্রকৃতির বিরূপ প্রভাব বিশেষ করে বিভিন্ন পোকা-কামড় ও রোগের প্রকোপ সত্ত্বেও আমনের ভাল ফলনে আশাবাদী কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিসও ভাল ফলনের কথা বলছে।

উপজেলার গজঘন্টা ইউনিয়নের কুঠিরপাড় গ্রামের কৃষক সোবহান আলী জানান, তিনি ইতিমধ্যে ৭ বিঘা জমির ধান কেটেছেন। ফলন খুবই ভাল হয়েছে বলে জানান। ওই গ্রামের মকছুদার রহমান বললেন, বন্যা, অতিবৃষ্টি ও পোকা-কামড়ের আক্রমণ হলেও শেষ মুহূর্তে বৃষ্টি হওয়ায় ফলন ভালই হয়েছে। জয়দেব গ্রামের কৃষক আব্দুল আন্নান বলেন, এবছর ফলন ভাল, দামও ভাল। আমন ধান কাটাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকরাও ব্যস্ত হয়ে ওঠেছে। বর্তমানে বাজারে ৮০০থেকে ৮৫০ টাকা মন দরে মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে। এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর কারণে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। তাছাড়া গত বছরের চেয়ে এবছর মজুরির হার অনেকটা বেশি। এক বিঘা জমির ধান কাটতে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার টাকা নিচ্ছে। এ অবস্থায় চরম বেকায়দায় পড়েছে কৃষকরা। ধার দেনা করে হলেও আমন চাষে কৃষকরা এবছর বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে। তুলনামূলক ভাবে আমন মৌসুমে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকরা আমন চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

সেই সোনালী স্বপ্ন এখন ঘরে তুলছে কৃষকরা। কৃষাণীরাও ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। হতাশা-কষ্ট ভুলে চোখে মুখে যেন হাসির ঝিলিক। ঘরে ঘরে চলছে নবান্নের উৎসব। তৈরি হচ্ছে নতুন ধানের পায়েস পিঠা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ১৯ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, প্রকৃতি বিরূপ প্রভাব সত্ত্বেও এবছর আমনের ফলন খুবেই ভাল হবে। শেষ বৃষ্টিটা ধানের জন্য এ বছর আশীর্বাদ। তাছাড়া দামও এ বছর ভাল।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop