৭:১৯ অপরাহ্ন

বুধবার, ১৮ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২১ ৫:৩৭ অপরাহ্ন
সুপারির দামে হতাশ বেতাগীর কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

বরগুনার বেতাগীতে এ বছর সুপারির ফলন পূর্বের বছরের তুলনা কম।এ উপজেলার গত বছরের কার্তিক মাস থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত অনাবৃষ্টি থাকায় সুপারির ফলন কম হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া দ্রব্যমূল্যের বর্তমান দাম অনুযায়ী সুপারির বাজারদর কম থাকায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এখানকার বেতাগীর কৃষক, গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের ছোট-বড় মিলিয়ে বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা ও বাগানে প্রায় আট হেক্টর জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে।

এ বছর এসব বাগানের অনাবৃষ্টির কারণে সব গাছে সুপারি ধরেছে ফলন ধরেনি।
এ বিষয় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু বলেন,’ সুপারি একটি উদ্যান জাতীয় ফল। এতে

ফ্ল্যাভোনয়েড, অ্যালকালয়েডস, টের্পেনয়েডস, ট্যানিনস, সায়ানোজেনিক, গ্লুকোসাইড, আইসোপ্রেনয়েড, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং ইউজেনল জাতীয় বিশেষ উপাদানগুলি লাল সুপারির পাতায় পাওয়া যায়। এই সমস্ত উপাদানগুলি স্ট্রোক, মানসিক এবং কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকি কমাতে উপকারী। তবে সুপারি বেশি খেলে এবং নেশায় পরিনত হলে তা সাস্থ্য’র জন্য ক্ষতিকর। ‘
এ উপজেলার বাগান মালিকরা জানান, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সুপারি গাছে ফুল আসে। সেই ফুল থেকে সুপারি হয়, যা আশ্বিন- কার্তিক মাসে পুরোপুরি পেকে যায়।

আশ্বিন মাসের প্রথম দিকে বাজারে সুপারি আসতে শুরু করে। মূলত আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে সুপারির ভরা মৌসুম। এখন উপজেলার প্রতিটা বাজারে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে বিক্রির জন্য সুপারি আসতো কিন্তু এ বছর অনাবৃষ্টির কারণে ফলন কম হওয়ায় পূর্বের তুলনায় কম সুপারি আসছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেগুলো কিনে ৬০ শতাংশ পানিভর্তি পাত্রে ভিজিয়ে রাখে। ৪০ শতাংশ সুপারি দেশের বিভিন্নস্থানে সরবারাহ ও রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু এ বছর কাঁচা-পাকা সুপারির দাম কম হওয়ায় হতাশ কৃষক, গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
আব্দুর রহমান জানায়,বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী সুপারির দাম কম।

এ বছর আশ্বিন মাসের প্রথম দিকে দাম ভালো ছিল কিন্তু এ মাসের মাঝামাঝি এসে দাম কিছুটা কমে গেছে। তবে বাজার দর এখন পর্যন্ত মোটামোটি পাচ্ছে কৃষক বলে তিনি জানান।

বেতাগী পৌরসভার বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভূদেব সমাদ্দার জানান, ‘এ বছর সুপারির ফলন কম এবং বাজার দরও গত বছরের তুলনায় বাজারে কম।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘এ বছর উপজেলার অনাবৃষ্টির কারণে সুপারির ফলন কম হয়েছে। তবে বাজারে কাঁচা-পাকা সুপারির দাম না থাকায় গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কিছুটা শঙ্কায় রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২১ ৮:৩৬ পূর্বাহ্ন
সর্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষে নোয়াখালীর কৃষকদের বাজিমাত
কৃষি বিভাগ

উৎপাদনে ভালো ফলের আশায় পেতে ইন্দেনেশিয়ার এক চাষাবাদ পদ্ধতি চালু করা হয় নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল। যার নাম সর্জন পদ্ধতি। বর্তমানের জেলার সুবর্ণচর ও হাতিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন উপজেলায় এ পদ্ধতিতে প্রতিবছর প্রায় ৫৫ কোটি টাকার সবজি উৎপাদন হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলার ২০৭১ হেক্টর (৫৫১৫ একর) জমিতে সর্জন পদ্ধতিতে সবজির চাষ হয়েছে। এ অঞ্চলে উৎপাদিত সবজি জেলার চাহিদা পূরণ করে পাশ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সর্জন পদ্ধতিতে জেলার সুবর্ণচরে ১৮৫০ হেক্টর, হাতিয়ায় ২১০ হেক্টর, সদরে ৬ হেক্টর, কবিরহাটে ২ হেক্টর, কোম্পানীগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলায় ১ হেক্টর করে মোট ২০৭১ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। যার মধ্যে শশা, করলা, বরবটি, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে অন্তত ১৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে শশা। এছাড়া ২০৭১ হেক্টর জমির মাচার নিচে চাষ হচ্ছে তেলাপিয়া, রুই, কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। আগামী মৌসুমে আরও ৪০০-৫০০ একর জমি সর্জন পদ্ধতির আওতায় আনা হবে।

জানা গেছে, সর্জন পদ্ধতিতে সবজি ও মাছ চাষ এখন চরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। স্বল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় নতুন এ পদ্ধতি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে উপকূলের কৃষদের মাঝে।

কৃষকরা জানান, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলে সর্জন পদ্ধতিতে সবজির আবাদ হয়। ফলে ভাগ্য পরিবর্তন শুরু হয় এ অঞ্চলের কৃষকদের। স্বল্প খরচে অধিক আয়ের কারণে কৃষকদের কাছে এ পদ্ধতি হয়ে ওঠে জনপ্রিয়। প্রতি একর জমিতে প্রায় এক লাখ টাকার সবজি উৎপাদন হয়। সর্জন পদ্ধতির এ উদ্যোগকে জেলা জুড়ে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কৃষক তৈরি ও কৃষকদের স্বল্প সুদে ঋণ ব্যবস্থা বা প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষিবিদরা।

সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, এ অঞ্চলের প্রায় দুই হাজার একর জমিতে বর্তমানে সর্জন পদ্ধতিতে শশা, বরবটি, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা’সহ উৎচফলনসিল সবজি উৎপাদন হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাষীদের প্রশিক্ষণ, বীজ ও সারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২১ ১০:৪৫ অপরাহ্ন
রংপুরের ৫ জেলা আমনে ভরা
কৃষি বিভাগ

মাঠের পর মাঠ জুড়ে সবুজ ধানের গাছ বাতাশে দোল খাচ্ছে। ধানের চারা গাছের চেহারাও বেশ ভাল।কোনো প্রকারের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সর্বত্রই এবার আমনের বাম্পার ফলন হবে। এমনটাই আশা করছেন রংপুুরের কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা।

রংপুুরের ৫ জেলার সর্বত্রই এবার আগাম জাতের আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক স্থানে কৃষকরা আগাম জাতের এই ধান ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। প্রতি জেলাতেই আগাম জাতের ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মুখে স্বস্থির হাসি ফুটে উঠেছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর অফিস সূত্রে জানা গেছে,রংপুর বিভাগে আছে ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৯শ’ ৬৪ হেক্টর জমি। এসব আবাদী জমির মধ্যে চলতি বছর আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল চলতি বছরে রংপুর কৃষি অঞ্চলের রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় সাড়ে ৯ লাখ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও অনেক বেশি জমিতে আমন ধান রোপন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিভাগের সর্বত্রই ধান ভালো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে বেশ ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

তাছাড়া অনেক স্থানে আগাম জাতের আমন ধান কেটে ঘরে তুলতে শুরু করেছেন কৃষকরা। আগাম জাতের আমন ধানও বেশ ভালো হওয়ায় বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর এবং গাইবান্ধা জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলা গুলোতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে কৃষি বিভাগের সহায়তায় দু’দফা বন্যার পরও তারা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আমনের চাষ করেছেন। বন্যার পর জমিতে পলি পড়ার কারনে তুলনামুলক ভাবে এসব এলাকায় আরো ভালো হয়েছে আমনের চারাগুলো। অন্যান্য এলাকার চেয়ে এসব এলাকায় রোপনকৃত আমনের চারাগুলো বেশ মোটা এবং হৃষ্ট-পুষ্ট। ফলে এসব এলাকায় আমন ধানে বিপ্লবের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক এবং কৃষি বিভাগ।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল জানান, জেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ হেক্টর জমির ধান কর্তন করা হয়েছে।

রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিশেষ এক সুত্র জাানায়,চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী এই পাঁচ জেলায় দু’দফা বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়। এক হাজার ২৬৫ হেক্টর আমন বীজতলা, ১১১ হেক্টর রোপা আমন, চার হাজার ৫৯৮ হেক্টর আউশ, এক হাজার ২৪৪ হেক্টর শাকসবজি, ২৯ হেক্টর ভুট্টা, ৩১ হেক্টর চিনাবাদাম, ৩৭৯ হেক্টর তিল, ২০ হেক্টর কাউন, ১৪০ হেক্টর চিনা, ২০৫ হেক্টর মরিচ, ছয় হাজার ৪৪৩ হেক্টর পাটের জমির ক্ষতি হয়েছে এ বন্যায়। সব মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ কৃষকের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তার পরও এসব এলাকায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।

রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মাহবুবুর রহমান জানান, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ১৪ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে। নিশ্চিত করেছে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শুরুতে শঙ্কা থাকলেও অনেক আগেই তা ছাড়িয়ে গেছে। আশা করা হচ্ছে ফলও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এ অঞ্চলে সবজি উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ৪১ হাজার হেক্টও জমিতে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২১ ৩:৩৪ অপরাহ্ন
টবে ব্রোকলি চাষ করবেন যেভাবে
কৃষি বিভাগ

ব্রোকলি বেশ জনপ্রিয় একটি সবজি। কেউ কেউ এটিকে সবুজ ফুলকপিও বলেন।এই সবজিটি বেশ দুর্বল প্রকৃতির। মাঠ থেকে চারা তোলার পর তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায় বলে টবে চাষ করতে পারলে ভালো হয়। তাই এখন অনেকেই টবে ব্রোকলি চাষ করছেন।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, ব্রোকলিতে ভিটামিন সি, ক্যারোটিন ও ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেশি আছে। এছাড়া অন্যান্য খাদ্য উপাদানও রয়েছে। আমাদের দেশে এল সেন্ট্রো, ডি সিক্কো, প্রিমিয়াম ক্রস, গ্রিন কমেট ইত্যাদি জাতের ব্রোকলি পাওয়া যায়।

এটি চাষের উপযুক্ত সময় হচ্ছে আশ্বিন ও অগ্রহায়ণ মাস। বীজ থেকে চারা তৈরি করে মূলত টবে লাগাতে হবে। বীজ গজাতে সময় লাগে ৩ খেতে ৪ দিনে। ৮ থেকে ৯ দিন বয়সের চারা তুলে অল্প দূরত্বে আরেকটি বীজতলার টবে লাগাতে পারলে শক্তিশালী চারা পাওয়া যাবে।

গোবর, টিএসপি ও খৈল দিয়ে সার-মাটি তৈরি করতে হবে। এরপর এই মাটি টবে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে মাটি সব সময় নরম তুলতুলে থাকলে গাছ তাড়াতাড়ি বাড়ে।

৩ থেকে ৪ সপ্তাহের সুস্থ চারা সার-মাটি ভরা টবে লাগতে হবে। ব্রোকলির চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় বিকাল বেলা। চারা লাগানোর পর গোড়ায় মাটি খুব হালকা করে চেপে দিতে হবে। কেননা জোরে চাপ দিলে নরম শিকড় ছিঁড়ে যেতে পারে। প্রচণ্ড সূর্যের তাপ যেন না লোগে সে দিকে নজর দিতে। শরুর দিকে ব্রোকলির টব ছায়ায় রখাতে হবে।

ব্রোকলির চারা লাগানোর প্রথম ৩ থেকে ৪ দিন চারাকে ছায়া দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং চারা না লেগে যাওয়া পর্যন্ত সকাল-বিকাল পানি দিতে হবে। চারা লেগে গেলে মাঝে মাঝে মাটি একটু খুঁচিয়ে দিতে হবে এবং কয়েকদিন দিন পর পর সেচ দিতে হবে। গাছ একটু বড় হলে ১৫ দিন পরপর তরল সার বা পাতার সার দিলে ভালো হয়। পরে গোড়ার মাটি চারদিক থেকে তুলে দিতে হবে এবং টবের কিনার বরাবর সেচ দিতে হবে।

ব্রোকলি বড় হতে শুরু করলে বিভিন্ন রকম পোকামাকড় আক্রমণ করতে শুরু হয়। শুঁয়া পোকা ও জাব পোকা ব্রোকলির বেশ ক্ষতি করে। জাব পোকা বেশি হলে রিডেন ও শুঁয়া পোকা বেশি হলে মার্শাল ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে সহকারী উপ-কৃষি কর্মকতার পরামর্শ অনুযায়ী। যদি শুঁয়া পোকা এবং জাব পোকা একসাথে আক্রমণ করে তাহলে নাইট্রো ওষুধ স্প্রে করা যেতে পারে।

ব্রোকলির চারা রোপণের পর ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাসের মধ্যে সবজিটি খাবার উপযোগী হয়। ব্রোকলির কাণ্ডের শাঁস খুব নরম হয় বলে সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। ফুল ২ থেকে ৩ সপ্তাহ হলে খাওয়ার উপযোগী হয়। ফসল সংগ্রহের সময় প্রথমে উপরের ফুলটি কেটে নিয়ে গাছটি বাড়তে দিলে নিচের পাতার গোড়া থেকে আবার ফুল বের হবে যা পরবর্তীতে সময়মত সংগ্রহ করা যাবে। ব্রোকলি টবে চাষ করার সময় নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। না হলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে না।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২১ ১০:০০ পূর্বাহ্ন
ছত্রাকে দিশেহারা চিলমারীর কৃষক
কৃষি বিভাগ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে আমন ক্ষেতে ছত্রাকের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।ছত্রাকের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। ওষুধ দিয়েও কাজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সেখানকার কৃষকরা।

কৃষকরা বলছেন, চলতি বছরের বন্যায় উপজেলায় আমন ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর বন্যা কেটে গেলে তারা ধার-দেনা করে আমন চারা সংগ্রহ করে আবারও রোপণ করেন। ছত্রাকের আক্রমণে ক্ষেতের ধানগাছ লালচে বর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে।

গোলজার হোসেন নামের এক কৃষক জানান, প্রথম দফা বন্যার পরে আমন ক্ষেত রোপণ করেন তিনি। দ্বিতীয় দফার বন্যায় আমনের সেই ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। পরে সুদের ওপর টাকা নিয়ে আমন চারা কিনে আবার রোপণ করেন তিনি।পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষি অফিসের পরামর্শে ওষুধ দিয়েও লাভ হয়নি।পরে অন্য ওষুধ দিয়েও সুফল মেলেনি।পুরো জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানান এ কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিসার কুমার প্রণয় বিষাণ দাস জানান, ‘আক্রান্ত জমিতে কৃষকদের সপসিন, মিপসিন, ইমিটাফ জাতীয় ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। তা না করে অন্য ওষুধ দেয়ায় ফল পাওয়া যায়নি। কৃষকদের সংক্রমিত চারা তুলে ফেলার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২১ ৯:০৫ পূর্বাহ্ন
শীতকালীন টমেটো চাষ করার উপায়
কৃষি বিভাগ

ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি-এর অন্যতম উৎসও বটে টমেটো। এছাড়া এতে আছে বেটা কেরোটিন নামক এক প্রকার ভিটামিন যা রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে। তাই চিকিৎসকরা সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য টমেটে খাওয়ার পরামর্শ দেন। তাই আমাদের টমেটোর চাহিদা পূরণের জন্য উদ্যোগী হতে হবে।

শীতকালীন টমেটো চাষের জন্য কার্তিক মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তৃতীয় সপ্তাহ (অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ ) পর্যন্ত বীজতলায় বপনের উপযুক্ত সময়। এই সময়ের মধ্যে বীজ বপন করতে হবে।

আমাদের দেশের প্রায় সব ধরনের মাটিতেই টমেটো চাষ করা যায়। তবে বেলে দোঁ-আশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। জমি চাষ শেষ হলে ভূমি হতে ১০-১৫ সে.মি. উঁচু বেড তৈরি করে বেডের চারপাশে ড্রেনের ব্যবস্থা রাখতে হয়। চারা লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে পানি দিতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৫০ সে.মি. এবং চারা হতে চারার দূরত্ব হবে ৫০ সে.মি.।

ভালো জাতের টমেটোর বীজ বপন করতে হবে। এ জাতের মধ্যে রয়েছে বাহার, বিনা টমেটো-৪, বিনা টমেটো-৫, বারি টমেটো-৩, ৪। অন্যদিকে হাইব্রিড এর মধ্যে সবল, মিন্টু ও বারি টমেটো-৫ বেশ ভালো জাতের। এই জাতের টমেটোর বীজের গাছ অধিক ফলন দিচ্ছে।

জমিতে তিন চারটি চাষ ও মই দিয়ে সাধারণভাবে জমি তৈরি করতে হয়। শেষ চাষের আগে নির্ধারিত পরিমাণ গোবর সারের অর্ধেক এবং পুরো টিএসপি সার ছিটিয়ে দিয়ে পুনরায় চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। বাকি অর্ধেক গোবর চারা লাগানোর সময় গোড়ায় মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

ইউরিয়া ও পটাশ সমান দুই ভাগ করে চারা লাগানোর ১৫ দিন এবং ৩৫ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে। একর প্রতি ইউরিয়া ৮০-১০০ কেজি, টিএসপি ৬০-৮০ কেজি, এমপি ৬৮-৯২ কেজি, জিপসাম ২০-৩০ কেজি, বোরন ১-২ কেজি এবং ৪ টন গোবর প্রয়োগ করতে হবে।

শুষ্ক মৌসুমে চাষ করলে পানি সেচ দেয়া প্রয়োজন। ফসল ও মাটির অবস্থা বিবেচনা করে তিনবার সেচ দেয়া যেতে পারে।

জমির অবস্থা বুঝে হালকাভাবে ঝরনা দিয়ে গাছে পানি দিতে হবে। চারা লাগানোর পর আগাছা দেখা দিলে নিড়ানি দিয়ে জমির মাটি ঝুরঝুর করে দিতে হবে এবং হালকাভাবে আগাছাগুলো পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। ভালো ফলন ও নিখুঁত ফল পেতে টমেটো গাছে ঠেকনা দেয় প্রয়োজন।

পাশাপাশি দুইটি সারির মধ্যে ‘অ’ আকৃতির বাঁশের ফ্রেম তৈরি করে দিলে টমোটোর ফলন বৃদ্ধি পায়। গাছ যাতে অত্যধিক ঝোপালো না হয় সে জন্য প্রয়োজনে অতিরিক্ত ডালপালা ছাঁটাই করা উচিত। প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির সার প্রয়োগের আগে পার্শ্বকুশি ছাঁটাই করে দিতে হয়। এতে পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ কম হয় এবং ফলের আকার ও ওজন বৃদ্ধি পায়। নিড়ানি দিয়ে জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে।

জমি থেকে পাকা ফল তুলে ঘরে ২-৩ দিন রাখতে হবে যাতে ফলগুলো নরম হয়। নরম হওয়ার পর দুই ভাগে কেটে বীজগুলো একটি শুকনো কাচের অথবা প্লাস্টিকের পাত্রে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এরপর বীজগুলো পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে কাচ বা প্লাস্টিকের পাত্রে মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে সংরক্ষণ করতে হবে।

টমেটোর ভালো ফলনের জন্য রোগ ও পোকামাকড় দমনের দিকেও নজর দিতে হবে। টমেটো ছিদ্রকারী পোকার জন্য ৫ শতাংশ জমিতে সবিক্রন ৪২৫ ইসি ২০ মি.লি. ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

কোনো কোনো ক্ষেতে কৃমি রোগ, গোড়া পচা রোগ দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে জমিতে চারা লাগানোর আগে ফুরাডন-৩ জি দিয়ে মাটি শোধন করে নিলে এ সব রোগের প্রকোপ কমে যায়। ঠিকমত পরিচর্যা করলে হেক্টরপ্রতি প্রায় ৭০- ৯০ টন পর্যন্ত ফলন হতে পারে।

জাতভেদে চারা লাগানোর ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পাকা টমেটো সংগ্রহ আরম্ভ করা যায়। টমেটো পাকা ও কাঁচা উভয় অবস্থাতেই সংগ্রহ করা যায়। প্রতি গাছ থেকে সাত থেকে আটবার টমেটো সংগ্রহ করা যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২১ ৩:১৯ অপরাহ্ন
পাট শিল্পে রাশিয়ার বিনিয়োগকে স্বাগত জানাবে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাশিয়ার সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, বাংলাদেশ পাট শিল্পে রুশ বিনিয়োগকে স্বাগত জানাবে।

আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ভিকেন্তিয়েভিচ ম্যান্টিটস্কি সাক্ষাত করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান।

তিনি আরো জানান, উভয়ে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বরোপের পাশাপাশি কৃষিখাতের সুযোগসমূহ অন্বেষণে সম্মত হন।

প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যুদ্ধকালে যে দেশ আমাদের দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছে তারা আমাদের হৃদয়ের বিশেষ জায়গায় রয়েছে।’

শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, অনেক ছাত্রই রাশিয়ায় পড়াশুনা করেছিল, বিশেষ করে চিকিৎসা বিজ্ঞানে।

তিনি আরো বলেন, রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বাংলাদেশ সফরে এলে আমরা খুশি হবে।

রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ভিকেন্তিয়েভিচ ম্যান্টিটস্কি বলেন, তিনি ২০ বছর আগে ঢাকা এসেছিলেন। কিন্তু দেশের বর্তমান অগ্রগতি ও উন্নয়ন ‘ব্যাপক ও উল্লেখযোগ্য’।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার বন্ধুত্বের শুরু ১৯৭১ সালে, কারণ তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়া দেশটির প্রতি সহেযাগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল।

রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

রুশ দূত রুপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পর বাংলাদেশে দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে তার দেশের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
দু‘ দেশের মধ্যকার বিভিন্ন চুক্তির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত এগুলোর হালনাগাদ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
এছাড়া তিনি প্রতিরক্ষা খাতে দ’ুদেশের সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

অ্যাম্বাসেডার এট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন। বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২১ ৩:০২ অপরাহ্ন
জয়পুরহাটে ১৮৫ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষ
কৃষি বিভাগ

জয়পুরহাটে জেলায় ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে গ্রীষ্মকালীন খরিপ-১ মৌসুমে এবার ১৮৫ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জয়পুরহাট জেলায় ২০২০-২০২১ খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন আগাম জাতের ২০০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চাষ হয়েছে ১৮৫ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪১৪ মেট্রিক টন ধরা হলেও উৎপাদন হয়েছে ৩৭০ মেট্রিক টন মরিচ।

এ ছাড়াও জেলায় শতিকালীন মৌসুমে ৩২০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সোমবার পর্যন্ত জেলায় ২৮০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন মরিচের চাষ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। যাতে মরিচের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭৬ মেট্রিক টন মরিচ। বর্তমান বাজারে ওঠা রবি মৌসুমের মরিচের সঙ্গে যোগ হয়েছে খরিপ-১ মৌসুমের আগাম জাতের মরিচ ফলে দাম কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

জেলা শহরের নতুনহাট, মাছবাজার ও ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী বাজার ঘুরে দেখা যায় কাঁচা মরিচ পাইকারী বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। যদিও জেলা শহরের খুচরা বাজারে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক কৃষিবিদ বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার মরিচের আবাদ ভালো হয়েছে। বাজারে আগাম জাতের মরিচের আমদানি কম হওয়ায় দাম একটু বেড়েছে তবে এটি বেশি দিন থাকবেনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২১ ১১:০৩ পূর্বাহ্ন
মাগুরায় রোপা আমনের বাম্পার ফলন
কৃষি বিভাগ

সময়মতো রোদ-বৃষ্টি থাকায় মাগুরা জেলায় এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানা গেছে।ইতোমধ্যে কৃষক তার জমি থেকে ধান কেটেছেন। অন্যদিকে মাড়াই কাজে এখন তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি মৌসুমে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় মাগুরা জেলায় আবাদি, অনাবাদি জমিতে আমনের চাষ বৃদ্ধিতে ধানের ফলনও বেড়েছে কয়েক গুণ।

মাগুরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার সদর উপজেলা রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩ হাজার ৬শ ৫৫ হেক্টর জমিতে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৮ হাজার ৯শত ২০ টন।

মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামানিক জানান, রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬১হাজার ৪শত ৬৫ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে আমন ধান উৎপাদনের হয়েছে ৬১ হাজার ৪শত ৭০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ১০০৩০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধানের আবাদ হয়েছে।মাঠের সার্বিক অবস্থা ভালো।

তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, মাগুরা জেলায় ধান কাটার কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিন রয়েছে ২৬টি, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ৪টি রিপার ৩৩টি। ধান কাটার কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিন যা কিনা একটি মেশিন প্রতি ঘণ্টায় এক একর জমির ধান কাটাতে সক্ষম।

এতে করে শতকরা তিন ভাগ খরচ সাশ্রয় করে ধান কাটা সম্ভব। প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চার হাজার টাকায় ভাড়া করে মেশিন নিলে এক একর জমির ধান কাটা যায় এই মেশিনে। তাতে করে ধান উৎপাদনে খরচ এবং সময় কিছুটা লাঘব হয় বলে তারা মনে করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২১ ১০:২৫ পূর্বাহ্ন
ব্রি ধান ৭৫’র ফলন হেক্টরপ্রতি ৫ টনের বেশি
কৃষি গবেষনা

পরীক্ষামূলকভাবে ব্রি ধান ৭৫’র বীজতলা বপন করা হয়েছিল গত জুন মাসের শেষের দিকে। ১০৫ দিনেই কাটা শুরু হয়েছে সে ধান। ট্রায়াল প্লটে (মাঠপরীক্ষা) হেক্টরপ্রতি ৫ টনের বেশি ফলন পাওয়া যাচ্ছে নতুন এ জাতের। এমনটিই জানানো হয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) পক্ষ থেকে।

ইউএসএআইডির অর্থায়নে পরিচালিত সিরিয়াল সিস্টেম ইনিশিয়েটিভ ফর সাউথ এশিয়া প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) রাইস ফার্মিং সিস্টেমস বিভাগ আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি) সহযোগিতায় ঝিনাইদহ জেলার ফুলহরি গ্রামের কৃষক মো. লিয়াকত আলীর জমিতে এই মাঠপরীক্ষা বাস্তবায়ন করেছে।

জানা গেছে, ব্রির ট্রায়াল প্লটে এরইমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। ব্রি কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ড. মাহবুবুর রহমান দেওয়ান বলেন, মাঠ পরীক্ষার ফলাফলে আমরা দেখতে পেয়েছি ২০ দিনের চারা ব্যবহার করে ১০৫ দিনেই ব্রি ধান ৭৫ কাটা যায়। যার ফলন হেক্টরপ্রতি ৫ টনের অধিক হয়েছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের রাইস ফার্মিং সিস্টেমস বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং এই কর্মসূচির প্রধান গবেষক ড. আমিনা খাতুন বলেন, যদিও ব্রি এই জাতের সর্বোচ্চ ফলনের জন্য ২০ জুলাই থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে ধান বপনের সুপারিশ করে থাকে, তবে জুনের শেষে বা জুলাইয়ের প্রথম দিকে বপন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ধান কাটার পরেও বেশ ভাল ফলন পাওয়া গেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই জাতটি অন্যান্য উচ্চ ফলনশীল দীর্ঘমেয়াদী জাতের তুলনায় আগাম উচ্চ ফলন দিতে পারে। আগাম পরিপক্কতার কারণে কৃষকেরা সহজে এবং সময়মত মসুর ডাল, সরিষা, ভুট্টা বা অন্যান্য উচ্চমূল্যের শীতকালীন ফসল চাষ করতে পারেন। ফলে এটি জাতীয় শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর জানান, এই জাতের উচ্চ ফলনশীলতার সম্ভাবনার পাশাপাশি চাষের স্বল্প মেয়াদকাল কৃষকদের জন্য একটি নতুন জাত চাষের দুয়ার খুলে দেবে। এর ফলে কৃষকেরা তাড়াতাড়ি ফসল কেটে বেশি মূল্য পাওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী রবিশস্য সময়মত রোপণ করতে পারবেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop