১২:১৯ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ৯:১৯ পূর্বাহ্ন
দিনাজপুরে আমন ধানের পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে উপকৃত হচ্ছেন কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুর জেলায় এবারে আমন ধানের পোকা দমনে ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে উপকৃত হচ্ছেন কৃষকরা। ধানের ক্ষেতে সহজে পোকা দমনে এ পদ্ধতি পর্যায় ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সদর উপজেলার প্রায় ৬৫ শতাংশ কৃষক এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ধান ক্ষেতের পোকা দমনে সফল হচ্ছেন।

আমনের পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি হলো, ধানের জমিতে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি বা খুঁটি পুঁতে দেওয়া, যা পাখির বসার জায়গা হিসেবে কাজ করে থাকে। এ ডালগুলোতে বসে পাখি ফসলের ক্ষতি কারক পোকা-মাকড় খেয়ে ফেলে। ফলে ধান ক্ষেতে পোকার আক্রমণ কমে যায়। এটি ব্যয় বিহীন, পরিবেশ বান্ধব এবং কীটনাশক মুক্ত পদ্ধতি, যা ফসলের উৎপাদন খরচ কমায় এবং নিরাপদ ফসল পেতে সাহায্য করে।

গতকাল সোমবার জেলার সদর উপজেলা কৃষি দপ্তরের মাঠ কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক এ তথ্য বাসসকে নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, এ বছর সদর উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে।

দিনাজপুর আঞ্চলিক কৃষি অধিদপ্তরে পোকা নিধন বিষয় নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত কর্মকর্তা মো. সদরুল আলম বাসসকে বলেন, চাষ ও ফসল উৎপাদনের প্রধান অন্তরায় ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ। জমিতে সার দেওয়ার পর থেকেই ক্ষেতে ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এ সব পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকরা কৃষি ও পরিবেশ বান্ধব পার্চিং পদ্ধতি এবং ডেড ও আলোর ফাঁদ ব্যবহারে ব্যাপক ভাবে উপকৃত হচ্ছেন। তবে এর মধ্যে পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা কৃষি বান্ধব পরিবেশ খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

সরেজমিনে গতকাল সোমবার জেলার সদর উপজেলার নশিপুর, কর্নাই, উত্তর সাদিপুর এবং গবিন্দপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ধান ক্ষেতে পোকা দমনে এই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। কৃষকেরা আমন ক্ষেতের মধ্যে বাঁশের খুঁটি ও বিভিন্ন গাছের ডাল খুঁটি হিসেবে পুঁতে রেখেছে। এসব পুঁতে রাখা ডালের খুঁটি ওপর দোয়েল, ফিঙ্গে, শালিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে আছে। পাখিগুলো ক্ষেতের পোকা খেয়ে ধান ক্ষেতের উপকার করছে।

সদর উপজেলার উলিপুর গ্রামের কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম (৪২) বাসসকে জানান, ধানক্ষেতে ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে আমরা ব্যাপক সফল হয়েছি।

দাড়াইল গ্রামের কৃষক মো. আমিন উদ্দিন (৭২) বলেন, আমন ধানক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছি। ক্ষেতের মধ্যে পুঁতে রাখা ডালে পাখি বসে ক্ষেতের পোকা খেয়ে ফেলছে। ফলে আমারা এ সহজ পদ্ধতি ব্যবহারে উপকৃত হচ্ছি।

সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ক্ষতিকারক পোকার হাত থেকে ক্ষেতের ফসল রক্ষায় সদর উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী উপজেলা গুলোতে পার্চিং প্রদ্ধতি ব্যবহারে অধিকাংশ কৃষক উপকৃত হচ্ছেন।

দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মাসুদ তুষার বাসসকে বলেন, পার্চিং পদ্ধতি বালাই-নাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশ দূষণ মুক্ত রাখতে ভূমিকা রাখছে। সেই সাথে জমিতে জৈব সার ও গোবর প্রয়োগে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সদর উপজেলাতে ধান চাষে গত কয়েক বছর ধরে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার কৃষকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসসকে বলেন, আমরা গত দু’বছর ধরে ধানক্ষেতের পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করে আসছি।

তিনি জানান, এবার ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে উপশী জাতের ধান ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ হেক্টর, স্থানীয় জাত এক হাজার ৯৯০ হেক্টর ও হাইব্রিড ১২ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এবারে আমন মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া, সঠিক সময়ে বৃষ্টির পানি সমস্যা না থাকা ও কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় কৃষকেরা অতিরিক্ত এক হাজার ৩শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষে সক্ষম হয়েছেন। আশা করছি এবারে আমন ধানের অধিক উৎপাদন হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৯:১৫ পূর্বাহ্ন
অনাবাদী জমিতে আদা চাষে স্বাবলম্বী গৃহিণীরা
কৃষি বিভাগ

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের খানকান্দি গ্রাম। আগে যে বাড়ির উঠোন বা আঙিনার ছায়াঘেরা অংশটুকু বছরের পর বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকত, আজ সেখানে সারি সারি বস্তায় ঝুলছে সবুজ আদা গাছ।

স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা আইরিন আক্তার ছায়াযুক্ত অনাবাদী জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেছিলেন এই উদ্যোগ। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর কারিগরি ও কৃষি সহায়তায় তিনি প্রাথমিকভাবে ২০০টি বস্তায় আদা চাষ শুরু করেন। নিজের তৈরি জৈব সার এবং সংস্থার দেওয়া বীজ-কীটনাশক ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়।

নারী উদ্যোক্তা আইরিন আক্তার বলেন, পরিবারের প্রয়োজনীয় আদার চাহিদা তো মিটবেই, আশা করছি সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকার আদা বিক্রি করতে পারব।

একই গ্রামের আরেক নারী ঝর্ণা আক্তার ২৫০টি বস্তায় আদা চাষ করেছেন। গৃহস্থালি কাজের ফাঁকেই সামান্য পরিচর্যা করে তিনি দেখছেন তিনগুণ লাভের মুখ। আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

আইরিন ও ঝর্ণার সাফল্য দেখে জাজিরার বিকেনগর এলাকার অন্তত ১০ জন নারী উদ্যোক্তা এখন এই আধুনিক প্রযুক্তিতে আদা চাষে যুক্ত হয়েছেন। দেখতে ক্ষুদ্র হলেও একেকটি বস্তা থেকে প্রায় ১ থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত আদা পাওয়া যাচ্ছে, যা গ্রামীণ পরিবারগুলোতে নতুন আয়ের উৎস তৈরি করেছে।

জাজিরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুসলিমা জাহান লিনিয়া জানান, বাড়ির আঙিনায় অবহেলায় পড়ে থাকা জমি ব্যবহার করে নারীরা কেবল নিজেদের আদার চাহিদা পূরণ করছেন না, বরং তা বিক্রি করে পরিবারকে আর্থিকভাবে মজবুত করছেন। এটি গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখছে।

লালমাটি থেকে চরাঞ্চলের নতুন সম্ভাবনা

বস্তায় আদা চাষের এই সফলতার হাওয়া কেবল জাজিরাতেই সীমাবদ্ধ নেই; ছড়িয়ে পড়েছে টাঙ্গাইলের মধুপুর এবং জামালপুর জেলায়ও।মধুপুরের পাহাড়ি ও লালমাটির এলাকায় সাধারণত আনারস ও কলা চাষের আধিক্য দেখা যায়। তবে উঁচু জমি এবং বাড়ির আঙিনায় ছায়াযুক্ত স্থানে বস্তায় আদা চাষ সেখানকার কৃষকদের কাছে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। মধুপুরের বিষমুক্ত ও প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ মাটিতে বস্তায় আদা চাষ করে কৃষকরা কম খরচে দ্বিগুণ ফলন পাচ্ছেন।

জামালপুরের নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চল

জামালপুরের বন্যাপ্রবণ ও চরাঞ্চলে যেখানে বর্ষাকালে নিচু জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়, সেখানে বস্তায় আদা চাষ কৃষকদের জন্য এক আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। উঁচু ভিটা বা আঙিনায় বস্তা রেখে সহজে সরিয়ে নেওয়া যায় বলে বন্যার রূপ পরিবর্তন করলেও ফসলের কোনো ক্ষতি হয় না। জামালপুরের অনেক নারী এখন হাঁস-মুরগি পালনের পাশাপাশি এই সহজ আদা চাষকে তাদের বাড়তি আয়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

বস্তায় আদা চাষ কেন এত জনপ্রিয়

সনাতন পদ্ধতির তুলনায় বস্তায় আদা চাষের বেশ কিছু অনন্য সুবিধা রয়েছে, যা একে দিন দিন জনপ্রিয় করে তুলছে বলে মনে করেন জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলম শরিফ খান। তিনি জানান, অনাবাদী জায়গা ব্যবহার করে বাড়ির আঙিনা, ছাদে বা ছায়াযুক্ত অনাবাদী জায়গায় এটি সহজেই করা যায়। এছাড়া রোগবালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও সুরক্ষিত থাকে এবং কম খরচ ও সহজে পরিচর্যা করা যায়। আর ফলনও হয় বেশি।

অর্থনীতি ও জাতীয় প্রভাব: বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পথ

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রতি বছর আদার একটি বড় ঘাটতি থাকে, যা মেটাতে চীন বা ভারত থেকে আদা আমদানি করতে হয়। এ বিষয়ে শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি এ ধরনের উদ্যোগ জাতীয় পর্যায়ে আদার আমদানি নির্ভরতা কমাবে। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

আগামীর প্রত্যাশা

যেখানে একসময় গ্রামীণ নারীদের কেবল গৃহস্থালি কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ভাবা হতো, সেখানে আজ বস্তায় আদা চাষের মাধ্যমে তারা হয়ে উঠছেন সফল উদ্যোক্তা। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সঠিক প্রশিক্ষণ, মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ এবং আর্থিক ঋণ সুবিধা আরও বৃদ্ধি করা গেলে জাজিরা, মধুপুর ও জামালপুরের মতো দেশের প্রতিটি উপজেলায় এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

বাড়ির আঙিনার ছোট একখণ্ড সবুজ জায়গা আজ কেবল সৌন্দর্যই ছড়াচ্ছে না, বুনে দিচ্ছে নতুন দিনের স্বাবলম্বী বাংলাদেশের গল্প।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৯:০৯ পূর্বাহ্ন
তিস্তার পানি ওঠানামায় পাকা ধান নিয়ে চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা
কৃষি বিভাগ

উত্তরের তিস্তা বেষ্টিত ১৮০টি চরের কৃষক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কারণ, তিস্তা নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। পানির এমন ওঠানামায় রংপুর অঞ্চলের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত ১৮০টি চরাঞ্চলে পাকা ধান নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন কৃষকরা। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে পানি বেড়ে গেলে নিচু জমির পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বক্কর সাইফুল ইসলাম বাসস’কে জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগ থেকে আগাম জাতের পাকা ধান কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে চরের কৃষকদের। পুরো চরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্র জানায়,পাঁচ জেলার ১৮০টি চরে এবার আমন চাষাবাদ হয়েছে ২২হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে। বাম্পার ফলন হয়েছে। তিস্তার পানি যদি উঠানামা না করে তাহলে কৃষকের মুখে অবশ্যই হাসি ফুটবে।

আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম বাসস’কে জানান, সাধারণত মধ্য অক্টোবরের পরে তিস্তার পানি উঠানামা করে। গেল বছরগুলোতে তিস্তার পানিতে তলিয়ে যায় পাকা ধান। ফলে বেকায়দায় পড়েন কৃষকরা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে কৃষক এবারও লাভবান হবেন।

চরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন চরের জমিতে আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই এসব জমির ধান কাটার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে তিস্তার পানির উচ্চতা ওঠানামা করায় উদ্বেগ বেড়েছে কৃষকদের মধ্যে। হঠাৎ পানি বাড়লে পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

কৃষকরা জানান, চরাঞ্চলের অনেক জমি নদীর কাছাকাছি ও নিচু। ফলে হঠাৎ পানি বেড়ে গেলে এসব জমি দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাকা ধান পানিতে ডুবে গেলে ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

হরিশ্বর গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম বলেছেন, যখন পানির দরকার হয়, তখন পানি পাওয়া যায় না। আবার যখন ফসল ঘরে তোলার সময় আসে, তখন পানি বাড়লে আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। কয়েক দিন পর ধান কাটার কথা। তার আগ পর্যন্ত আতঙ্কেই থাকতে হচ্ছে।

গদাই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেছেন, সারা বছর পরিশ্রম করে ধান ফলিয়েছি। এখন শুধু ঘরে তোলার অপেক্ষা। এই সময়ে নদীর পানি বেড়ে গেলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।

কৃষকদের দাবি, আমন ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত তিস্তার পানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিলে চরাঞ্চলের কৃষকদের দ্রুত সতর্ক করারও দাবি জানিয়েছেন। এতে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন কৃষকরা।

ভোটমারী চরের কৃষক সাহানুর রহমান বলেন, গেল বছর এই সময় তিস্তার পানিতে তার সাড়ে তিন বিঘা জমির চরের জমির ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার তিনি চরে ৭ বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ বাসস’কে জানিয়েছেন, তিস্তার চরাঞ্চলের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি বা বন্যার আশঙ্কা দেখা দিলে তাদের আগাম সতর্ক করা হবে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান ঘরে তোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৩:৫৭ অপরাহ্ন
ঝালকাঠিতে বাড়ছে আমড়ার চাষ ; বাম্পার ফলনে কৃষকরা খুশী
কৃষি বিভাগ

ঝালকাঠিতে জমে উঠেছে আমড়ার হাট বাজার। ভিমরুলীর ভাসমান হাটে এখন তাজা আমড়ার সমারোহ। কৃষি বিভাগ বলছে, অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় এই জেলায় দিন দিন বাড়ছে আমড়ার চাষ।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঝালকাঠি জেলার চার উপজেলার ৬০৫ হেক্টর জমিতে এই বছর আমড়ার চাষ হয়েছে। ৪ হাজার ৫শ’ ৯০ (৪৫৯০) মেট্রিক টন আমড়া উৎপাদন হয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬০২ হেক্টর জমিতে আমড়ার আবাদ করা হয়েছিল। ওই সময়ে উৎপাদন হয়েছিল ৪ হাজার ৭০ (৪০৭০) মেট্রিক টন। দুই বছরের ব্যবধানে আমড়ার আবাদ বেড়েছে তিন হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন বেড়েছে ৫২০ মেট্রিক টন।

দেশব্যাপী বিপুল চাহিদা রয়েছে বরিশাল অঞ্চলের আমড়ার। সুস্বাদু এই ফলের চাহিদার বেশিরভাগই পূরণ হচ্ছে ঝালকাঠি থেকে। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন হাটে চলে আমড়ার বেচাকেনা। এরমধ্যে ভিমরুলী গ্রামের ভাসমান হাটটি সবচেয়ে বড়। এই হাট থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে সরবরাহ করা হয় পুষ্ঠিকর এ ফল। বিপুল চাহিদা থাকায় ও লাভজনক হওয়ায় জেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে আমড়ার আবাদ। এই বছর আমড়ার ভালো ফলন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা ভিমরুলীর ভাসমান হাট থেকে আমড়া কিনছেন ১ হাজার থেকে ১৬শ’ টাকা মণ দরে।

আমড়া চাষী ও পাইকারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আমড়ার আকার ও কালারভেদে দর নির্ণয় করা হয়। এজন্য ১ হাজার থেকে ১৬’শ টাকা পর্যন্ত দামে প্রতি মণ আমড়া বিক্রি করা হয়।

আমড়া চাষী অনিমেষ হালদার জানান, ৬বিঘা জমিতে আমড়ার চাষ করেছি। মৌসূমী ফল হিসেবে এবছর আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। জমিতে থাকা প্রতিটি গাছ থেকে ৪ হাজার টাকার আমড়া নামবে। সর্বসাকুল্যে ৬বিঘা জমি থেকে ৬লাখ টাকা অর্জন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কির্ত্তিপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ভবেন্দ্রনাথ হালদার বাসস’কে জানান, পেয়ারা চাষে এখন আর লাভ নেই। এবছর অনাবৃষ্টির কারণে পেয়ারার ফলন ভালো হয়নি। যা হয়েছে তাতে আবার অ্যানথ্রাক্স (কালো ছিট পড়া) রোগ দেখা দিয়েছে। পেয়ারা পাকতে শুরু করলে প্রতিদিনই গাছ থেকে নামিয়ে বাজারে আনতে হয়। একজন শ্রমিক খরচ ৭শ’ টাকা দিতে হয়, কিন্তু পেয়ারা বিক্রি হয় ৪শ’ টাকার। এরচেয়ে জমিতে আমড়ার আবাদ করলে লাভ বেশি হয়। দু’জন শ্রমিক নিয়োগ করলে তারা ১০/১২টি গাছের আমড়া নামাতে পারে। প্রতিদিন আমড়া নামাতে হয় না, পরিপক্ক হলে একদিনেই সব নামানো সম্ভব। তাছাড়া একটি বাতাবী লেবু (জাম্বুরা) গাছ লাগালেও সেখান থেকে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব।

স্বরূপকাঠির পাইকার নোমান খান বলেন, ‘ফলন মোটামুটি ভালো। আমরা এখানে চাষীদের থেকে আমড়া কিনে ঢাকায় চালান করি। প্রতিমণ আমড়াতে ২শ’ টাকা লাভ থাকে। এরমধ্যে আমাদের শ্রমিক, পরিবহন, খাবার খরচ শেষে একশ’ টাকা লাভ হয়।’

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বাসস’কে বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় বিভিন্ন ধরণের কার্যক্রমের মাধ্যমে এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এই জেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে আমড়ার আবাদ। ফলে শিক্ষিত ও বেকার যুব সমাজের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে ব্যবসার। বর্তমানে আমড়া একটি অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৯:২২ পূর্বাহ্ন
পদ্মার চর জলমগ্ন, ক্ষতির মুখে কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

কয়েকদিন আগেও পদ্মার চরগুলো ছিল সবুজ ও শ্যামল। কৃষকরা ব্যস্ত ছিলেন পটল, শসা, করলা, লাউ, ফুলকপি ও টমেটোর ক্ষেত পরিচর্যায়। সেখানে এখন কোথাও কোমর সমান পানি, আবার কোথাও পচে গেছে ফসলের চারা।

শেষ চেষ্টা হিসেবে কৃষকদের কেউ পানি সেচে ক্ষেত শুকানোর চেষ্টা করছেন, আবার কেউ উপড়ে ফেলছেন পচে যাওয়া ফসলের গাছ।   কাক্সিক্ষত ফলন বা ফসল তোলার আগেই এ ক্ষতি হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পবা উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা। কীভাবে উঠাবে তাদের পুঁজি— সেই দুশ্চিন্তায় কৃষকের কপালে ভাঁজ।

পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আলিমগঞ্জ ও কসবা চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। আগেভাগে চাষ করা ফুলকপি, বাঁধাকপি ও টমেটোর চারাগাছ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। পানিতে ডুবে থাকার কারণে পটল, করলা, লাউ ও শসার ক্ষেতও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অনেক কৃষককে জমি পরিষ্কার করার জন্য মরে যাওয়া ও পচে যাওয়া গাছ তুলে ফেলতে দেখা গেছে। কসবা গ্রামের কৃষক আকবর আলী তার একটি জমি থেকে পচে যাওয়া পটলের গাছ উপড়ে ফেলতে দেখা যায়। তিনি জানান, বানের পানিতে তার ১ বিঘা জমির পটল, ১০ কাঠার শসা এবং ৫ কাঠার ঝিঙে ক্ষেত একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। পটল গাছগুলো পচে গেছে, তাই সব তুলে ফেলতে হচ্ছে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘যে পটল গাছগুলো এখনও কোনোমতে টিকে আছে, সেগুলোও মরতে বসেছে। এভাবে চললে তো আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব। পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব?’

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কসবা এলাকার চরের ভেতর প্রায় সাতদিন ধরে পানি জমে ছিল। ফলে বেশিরভাগ ফসলই পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, তার প্রায় ১০ কাঠা জমির করলা, ১০ কাঠা জমির শসা, ১০ কাঠা জমির লাউ, ১.৫ বিঘা জমির বিভিন্ন জাতের বাঁধাকপি, ১৫ কাঠার পটল ও ৫ কাঠা জমির টমেটো  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নজরুল ইসলামের হিসাব মতে, তিনি টমেটো চাষে প্রায় ১০ হাজার টাকা, পটলে ৩০ হাজার টাকা, করলায় ১০ হাজার টাকা, শসায় ২০ হাজার  টাকা, লাউয়ে ১৫ হাজার টাকা এবং বাঁধাকপিতে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। এসব ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তিনি বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

আরেক কৃষক শাহরিয়ার রহমান রাসেল হারিয়েছেন তার প্রায় ১০ হাজার ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা। ফসল ভালো থাকলে তিনি ক্ষেত থেকে ৩ লাখ থেকে  সাড়ে ৩ লাখ  টাকার ফসল বিক্রি করতে পারতেন। কিন্তু সে আশা এখন ঘোর অনিশ্চয়তায় ঢেকে গেছে।

রাসেল বলেন, ‘আমরা তো কৃষক, আমরা তো কোনো ফসলই নষ্ট হতে দিতে চাই না। ফসলগুলো বাঁচানোর জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।’

পটল চাষি শামীম আল মামুনও চরের বানে হারিয়েছেন তার ১৫ কাঠা জমির পটল। তিনি জানান, তার ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ২ লাখ টাকা।

তিনি আরও বলেন, এখন ছিল পটল তোলার মূল সময় (পিক সিজন)। ফলে এই সময় ক্ষেত ডুবে যাওয়াতে তার ক্ষতির পরিমাণ বহু বেড়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হঠাৎ বন্যায় রাজশাহী জেলার পবা, বাঘা ও গোদাগাড়ী উপজেলার মোট ৩০৯.৫৯ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৫.২৪ হেক্টর সবজি, ৮৫.৩৯ হেক্টর মাষকলাই, ১১.৪৬ হেক্টর রোপা আমন, ২৫ হেক্টর রোপা আউশ, ১০২ হেক্টর হলুদ, ২৫ হেক্টর পেঁপে, ১০ হেক্টর পেয়ারা এবং ৫.৫০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা।

শুধু পবা উপজেলাতেই ৭.২৪ হেক্টর সবজি, ৬.৩৯ হেক্টর মাষকলাই এবং ০.৪৬ হেক্টর রোপা আমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গোদাগাড়ীতে ১০ হেক্টর সবজি, ১৭ হেক্টর মাষকলাই এবং ২৫ হেক্টর রোপা আউশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে বাঘা উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৮ হেক্টর সবজি, ৬২ হেক্টর মাষকলাই, ১১ হেক্টর রোপা আমন, ১০২ হেক্টর হলুদ, ২৫ হেক্টর পেঁপে, ১০ হেক্টর পেয়ারা এবং ৫.৫০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা।

পবা উপজেলার আলিমগঞ্জ ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহুরুল হক কসবা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করেছেন।

তিনি জানান, উজান থেকে আসা পানিতে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে শাকসবজির কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে আইল বেঁধে এবং ক্ষেত থেকে সেচের মাধ্যমে পানি বের করে দিয়ে কৃষকরা প্রায় ৬০ শতাংশ ফসল রক্ষা করতে পেরেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

পানি নেমে যাওয়ার পর কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের যত্ন নিতে হবে, সে ব্যাপারেও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন জানান, পদ্মা নদীবেষ্টিত এলাকায় হঠাৎ পানি বাড়ায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন চলছে, তালিকা চূড়ান্ত হলেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৯:৪৩ পূর্বাহ্ন
শেরপুরে পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে
কৃষি বিভাগ

চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও অধিক ফলনে জেলায় সোনালি আঁশে সুদিন ফিরেছে। বিগত বছরের থেকে এ বছর বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পাটের অধিক উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। শেরপুরে উৎপাদিত পাটের বাজারমূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলার মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। চাষিরা কোথাও পাট কাটছেন, কোথাও আঁটি বেঁধে পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ জাগ দেয়া পাটের আশঁ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়া জলাশয়ের পাশে খাটানো বাঁশ ও বিভিন্ন কাঠের আড়ায় পাটের আঁশ ছাড়িয়ে শুকানো ও পাটকাঠি সংগ্রহের কাজ করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ার আশায় বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময়ে মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা বেড়েছে দিগুণ। তাই গ্রামীণ জনপদে কৃষক-কৃষাণীরা মেতে উঠেছেন পাট উৎসবে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এক যুগ আগেও জেলায় পাট চাষির সংখ্যা ছিল অনেক কম। বর্তমানে হেক্টর প্রতি পাটের গড় উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছর বেড়েছে পাট চাষিদের সংখ্যা। তাই চলতি বছর ১ হাজার ৯১১ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে পাটের আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৯১২ হেক্টরে। এসব জমি থেকে ৪ হাজার ১৫ মেট্রিক টন পাট উৎপাদন হবে।

ইতোমধ্যে জেলায় ৯০ শতাংশ জমির পাট কাটা শেষ হয়েছে। যেখানে বিঘা প্রতি পাটের গড় ফলন ১০ থেকে ১২ মণ। কৃষকরা বলছেন, বিঘা প্রতি পাট চাষে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয় এবং মুনাফা থাকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতি পাটখড়ির আঁটি ৮০ থেকে ১শ’ টাকা দরে বিক্রি করে বাড়তি আয় হচ্ছে।

এদিকে, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পাটের কেনাবেচা জমে উঠেছে। কৃষকের কাছ থেকে পাট কিনছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে এসব পাট যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। তাই বাজারে পাটের চাহিদা থাকায় উৎপাদিত পাটের ন্যায্য মূল্য নিয়ে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।

তবে কৃষকেরা জানান, সিন্ডিকেট করে মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ীরা যেন পাটের দাম কমাতে না পারে সেদিকে সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে একদিকে যেমন কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ কমবে। অন্যদিকে পাটের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হবেন পাট চাষিরা।

সদরের কামারেরচরের সাহাব্দির চরের পাটচাষি কাদের মিয়া বাসস’কে বলেন, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। রোগবালাইও তুলনামূলক অনেক কম ছিল। এছাড়া প্রতি বিঘায় আগের বছরের চেয়ে বেশি পাটের উৎপাদন পেয়েছি। বাজারে ন্যায্য দাম পেলে এবছর আমরা বেশ লাভবান হতে পারব।

সদরের চরমোচারিয়া ইউনিয়নের মুন্সিরচর গ্রামের পাট চাষি সাইদুর রহমান বাসস’কে বলেন, পাট চাষে এবার ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি পাটের আঁশের মানও ভালো হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি পাওয়ায় সেচ খরচও কমেছে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্য দাম নিশ্চিত হলে কৃষকরা আগামীতে পাট চাষে বেশি আগ্রহী হবেন। এজন্য সরকার ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু বাসস’কে বলেন, চলতি বছর পাটের চাষ বৃদ্ধিতে জেলা পাট অধিদপ্তর থেকে প্রায় ৮ হাজার কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১ কেজি করে পাট বীজ প্রদান করা হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, পরিবেশ বান্ধব বলে বাংলাদেশে পাটের বহুমুখী ব্যবহার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে দেশে ও বিদেশে পাটের চাহিদা বাড়ছে। বাড়তি মূল্য পাওয়ার কারণে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন এবং পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৯:২০ পূর্বাহ্ন
উত্তরাঞ্চলে আমন চাষে কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন
কৃষি বিভাগ

অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে চলতি আমন মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা আমন চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মাঠে মাঠে আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কাদা-জলে একাকার হয়ে বীজতলা থেকে ফসলের মাঠে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ।

প্রকৃতি আর মানুষের পরিশ্রম মিলে উত্তরাঞ্চলে লেখা হচ্ছে, আমন চাষে সম্ভাবনার গল্প। আমন মৌসুমে সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় চারা রোপণ নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয় কৃষকদের।

তবে এবার অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে স্বস্তিতে রয়েছেন উত্তরের কৃষকরা। বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে সারিবদ্ধভাবে চলছে রোপণ।

কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি ভালো ফলন ও লাভবান হবেন কৃষকরা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে রংপুরের ৮ জেলায় ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৪ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ লক্ষ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ধান।

ইতোমধ্যে বেশিরভাগ জমিতে ধানের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। বাকি জমিগেুলোতে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে আমনের চারা রোপণ শেষ হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে ফসলের মাঠে কাজ করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। কেউ জমির আইল কোদাল দিয়ে ঠিক করছেন। কেউ আবার মই দিয়ে জমি সমান করার কাজ করছেন। অনেক কৃষক বীজতলা থেকে চারা তুলছেন। একসাথে সারিবদ্ধ হয়ে জমিতে চারা রোপণ করছেন। আবার কেউ মাথায় গামছা বেঁধে চিরচেনারুপে জমিতে সার দিচ্ছেন। এভাবেই নানান কাজে কর্মব্যস্ততায় সরগরম বিস্তৃত ফসলের মাঠ। যে মাঠে কৃষকের ঘাম আর কাদা-জল একাকার হয়ে বীজতলা ভিজছে, সেই মাঠই ভরে উঠবে সোনালি ধানের শীষে। সেই সোনালি রং হয়ে উঠবে কৃষকের হাসি, স্বপ্ন ও সাফল্যের প্রতীক।

তিস্তা এলাকার কৃষক নজরুল ইসলামের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, এবার তিনি ২ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আমন ধানের চারা রোপণ করেছেন। কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম পাওয়া নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন।

তিনি বলেন, হাড় ভাঙ্গা খাটুনি আর খরচাপাতি মিলিয়ে ধান চাষ করে তেমন একটা লাভ নেই। বরং লোকসানের হার বেশি। তারপরেও এ অঞ্চলে অন্য কোন কাজ না থাকায় প্রায় ৫০ বছর ধরে কৃষিকাজ করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

রংপুর সদর এলাকার কৃষক আব্দুল বারী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। এ মৌসুমে প্রকৃতি অনেকটাই সহায় হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি পাওয়ায় চাষাবাদে কোন অসুবিধা হয়নি। সেচ খরচও করতে হয়নি। ব্যয়ও আগের চেয়ে কম হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বেশ ভালো ফলন হবে।

মিঠাপুকুরের রানীপুকুর এলাকার কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, গত বোরো ধানের ন্যায্য দাম পেয়েছেন। এবার সেই আশায় ৫ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ শুরু করেছেন। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে তার সব জমিতে ধানের চারা লাগানো শেষ হবে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, উত্তরের কৃষকদের রোপা আমন ধান চাষে আগ্রহ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশা করছি ঠিকঠাক মতো রোপা আমন আবাদ শেষ হবে।

তিনি বলেন, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন ধানের চাষাবাদ হবে বলে আশা করছি। প্রান্তিক কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শসহ যেকোনো সেবায় কৃষি কর্মকর্তারা নিয়োজিত আছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৩০, ২০২৬ ৯:৫০ পূর্বাহ্ন
সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বেশি দাম না দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে না-এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আজ (শনিবার) ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত ফরিদপুর জেলার পেঁয়াজ ও পাটচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সারের সংকট প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয় এবং সমপরিমাণ সারের নিরাপত্তা মজুদ থাকে। ফলে দেশে সার সংকট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে কিছু দুষ্কৃতকারী ও ষড়যন্ত্রকারী পরিকল্পিতভাবে সারের দাম বাড়িয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু খুচরা সার বিক্রেতা বাজারে সার নেই বলে প্রচার করছেন। অথচ অতিরিক্ত টাকা দিলে তারাই আবার সার সরবরাহ করছেন। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষিপণ্যের আমদানি-নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পাট ও পেঁয়াজের বীজ যাতে ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে আমদানি করতে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। কৃষিতে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা।
তিনি বলেন, আগামীতে কোনো কৃষিপণ্য আমদানি করতে না হয়, বরং রপ্তানি করা যায়-সেটাই কৃষিতে সরকারের লক্ষ্য। আমরা নিজেরাই উৎপাদন করার চেষ্টা করছি। কাঁচামরিচ, আদা, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। এই সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করেছে।

সভায় ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৫, ২০২৬ ৯:০৮ পূর্বাহ্ন
আমন ধান রোপণে ব্যস্ত নাটোরের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

নাটোর জেলার কৃষকরা রোপা আমন ধান চাষে ব্যস্ত সময় অতিক্রম করছেন। অনুকূল আবহাওয়া, উপকরণের সহজলভ্যতা, নতুন জাতের ধানের সম্প্রসারণ, কৃষি বিভাগের প্রণোদনা ও পরামর্শ প্রদান এবং প্রদর্শনী খামার স্থাপন পরিকল্পনার মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে আমন মৌসুম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে ৪৫ হাজার ৮৬১ হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। এরমধ্যে উফশী জাতের ৪৩ হাজার ৭৮৩ হেক্টর, হাইব্রীড জাতের এক হাজার ৯০২ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ১৭৬ হেক্টর। চলতি বছর জেলায় ৭৭ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নাটোর সদর উপজেলার মোহনপুর এলাকার কৃষক আহমেদুল কবীর বাসস’কে জানান, আমন ধান চাষের অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে। বীজতলায় চারা নিজেই তৈরি করে চার বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপণ করেছি। এরমধ্যে দুই বিঘাতে মিনিকেট এবং দুই বিঘাতে কাজললতা। তিনবার করে জমি চাষ দিয়ে জমি প্রস্তুত এবং রোপণে বিঘা প্রতি কৃষি শ্রমিকের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা।

শস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিল এলাকার কৈগ্রামের কৃষক মো. তৌফিকুজ্জামান জানান, জমিতে সুগন্ধী জাতের ব্রি ধান-৩৪ এবং ব্রি ধান-৪৯ রোপন কাজ সম্পন্ন করেছি। এসব ধানের ফলন একটু কম হলেও বাজার মূল্য অনেক বেশী।

চলনবিলের কুমিড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক জুলফিকার আনাম জানান, বিলে পানি নেমে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি। ১২ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

সিংড়া উপজেলা কৃষি অফিসার খন্দকার ফরিদ হাসান বাসস’কে জানান, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। বিলের পানি নেমে যাচ্ছে, অনেক কৃষক আউশ ধান কাটার পরে রোপা আমন ধান চাষ করবেন। অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত চাষাবাদ চলবে। চলনবিলের কৃষকরা উচ্চ মূল্যের কারণে পোলাও চাল অর্থাৎ সুগন্ধী ধান চাষাবাদে ঝুঁকেছেন। এছাড়া পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ জিংক ধান যেমন বিনাধান-৯০, বিনাধান-১০৩ ধান আবাদ করছেন। আমরা এসব ধান চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলার ১৪ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের প্রত্যেককে এক বিঘা করে জমিতে রোপা আমন ধান চাষে প্রয়োজনীয় ৫ কেজি বীজ ও  ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার বিনামূল্যে প্রণোদনা হিসেবে প্রদান করেছে সরকার।

এছাড়া পুষ্টিগুণে ভরপুর জিংক বায়োফর্টিফাইড জাতের বিনাধান-২০ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জেলার চারটি উপজেলায় মোট ৮শ’ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে বীজ প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বীজতলায় চারা তৈরি করে চারা রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি উপজেলায় এক একর করে জমিতে বিনাধান-২০ প্রদর্শনী খামার স্থাপন করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বাসস’কে জানান, রোপা আমন ধান চাষে অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে। ধানের চারা, সার, সেচসহ অন্যান্য সকল উপকরণের সহজলভ্যতা রয়েছে। সরকার কৃষকদের ধান চাষে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার প্রদান করেছে। প্রদর্শনী খামারও স্থাপন করা হচ্ছে। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা ও জেলা কৃষি দপ্তর সকল কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তত্ত্বাবধান করছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৩, ২০২৬ ৯:১১ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীতে পাটের অধিক ফলনে কৃষকের মুখে হাসি, ৫৪৯ কোটি আয়ের সম্ভাবনা
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ঐতিহ্য সোনালি আঁশ খ্যাত পাটের অধিক ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিছে। চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় রাজশাহী জেলায় এবার শুধু অধিক ফলনই নয়, বাজারে পাটের বর্তমান ভালো দাম এবং রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন স্থানীয় কৃষকদের মনে আশার আলো জেগেছে। এ বছর জেলার উৎপাদিত পাট বিক্রি করে প্রায় ৫৪৯ কোটি টাকা আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলাতেই কমবেশি পাটের আবাদ হয়েছে। জেলায় এবার মোট ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। এ বিশাল পরিমাণ জমি থেকে ৪৯ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে গত বছর (২০২৫ সালে) ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল ৪৮হাজার ৬৭৭ মেট্রিক টন। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতবারের তুলনায় এবার যেমন আবাদি জমির পরিমাণ বেড়েছে, তেমনি উৎপাদন ও আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি মৌসুমে পাট কাটা, জাগ দেয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

কৃষি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে জেলার মোট আবাদি জমির ৮২ শতাংশ পাট কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আর এই কর্তনকৃত জমি থেকেই উৎপাদিত হয়েছে ৪৮ হাজার ২শ’ মেট্রিক টন পাট। বাকি ১৮ শতাংশ জমির পাট কাটা শেষ হলে মোট উৎপাদনের পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে সহজেই ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর পাটের বাজারদর অত্যন্ত সন্তোষজনক। বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতি মণ (৪০ কেজি) পাট বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার ৩শ’ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার মোট প্রত্যাশিত উৎপাদন থেকে স্থানীয় বাজারে পাট বিক্রি করে প্রায় ৫৪৮ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা আয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ রেকর্ড পরিমাণ অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিতে সচল করবে এক বিশাল গতিশীলতা।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম এলাকার পাটচাষি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গতবার পাটের দাম কিছুটা কম থাকায় আমাদের মনে হতাশা ছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এবার ফলনও ভালো হয়েছে আর বাজারে দামও পাচ্ছি খুব ভালো। প্রতি মণ পাট ৪ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি করতে পারছি। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে এ দাম পাওয়ায় ভালো লাভ থাকছে।

মোহনপুর উপজেলার কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, ‘এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাট জাগ দেয়া ও ধোয়া নিয়ে তেমন কোনো বিপাকে পড়তে হয়নি। বর্তমান বাজারে পাটের যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। এ বছর পরিবারের সব খরচ মিটিয়ে বেশ কিছু টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব হবে।’ মৌসুমের প্রথম দিকে বৃষ্টি না হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। পরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় আমরা বেশ উপকৃত হয়েছি।

রাজশাহীতে উৎপাদিত এ সোনালি আঁশ শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটাতেই সীমিত নয়। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এখানকার পাট দেশের বিভিন্ন বড় বড় পাটজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া এসব পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের পর বিভিন্ন পাটপণ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা, সময়মতো উন্নত বীজ ও সারের সহজলভ্যতা এবং বর্তমান বাজারদর এভাবেই বজায় থাকলে আগামী দিনে রাজশাহী অঞ্চলে পাটের আবাদ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বাসস’কে বলেন, রাজশাহী জেলায় এবার মোট ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। এ জমি থেকে ৪৯ হাজার মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে গত বছর ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল ৪৮হাজার ৬৭৭ মেট্রিক টন। এখন ৪৩০০ টাকা দরে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে। সে অনুযায়ী এবছর পাট বিক্রি করে ৫৪৯ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এ পাট স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাটজাত পণ্য তৈরিকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হচ্ছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop