৮:৩০ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুন ৯, ২০২২ ৮:২৭ পূর্বাহ্ন
কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় বিশ্ব
কৃষি বিভাগ

গত ১৮ মে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে পারে। ইউরোপের ‘শস্য ভান্ডার’ বলা হয় ইউক্রেনকে। বিশ্বের খাদ্যশস্যের বড় রপ্তানিকারক রাশিয়া এবং ইউক্রেন। চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক খাদ্যসংকট তীব্রতর হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে গমসহ অনেক খাদ্যশস্যের দাম বেড়ে গেছে। ইতোমধ্যে ভারত গম রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়া। যুদ্ধাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বৈশিক বাজারে সারের সংকট দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশকে খাদ্যশস্যের বড় একটা অংশ আমদানি করতে হয়; অন্যদিকে কৃষিতে যে সার দরকার হয়, তার একটি বড় অংশও আমদানির ওপর নির্ভরশীল। কাজেই এ দুটি বিষয় আমাদের কৃষি এবং খাদ্য সরবারহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে—এটি সহজেই অনুমেয়। তাৎক্ষনিক প্রভাব না পড়লেও সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনা করে আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে।

প্রথমত, আমরা সার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নই। দেশে রাসায়নিক সারের বিপুল চাহিদা থাকায় সার সরবরাহের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরো কিছুদিন চলতে থাকলে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্ববাজারে সারের দাম বাড়বে। সেজন্য আমাদের অভ্যন্তরীণ সার উৎপাদনের পরিমাণ বাড়াতে হবে। জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য কৃষকদের পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে হবে। কোনোভাবেই যেন সারের অপচয় না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তাছাড়া অনেক সময় কৃষকেরা বুঝতে পারেন না কোন জমিতে কতটুকু সার দিতে হয়। তিউনিসিয়া, মরোক্কোসহ যেসব দেশ থেকে আমরা সার আমদানি করে থাকি তাদের সঙ্গে আগে ভাগেই তিন অথবা পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি করা যেতে পারে, যেন কোনোভাবেই রাসায়নিক সারের সংকটে উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত না হয়।

দ্বিতীয়ত, ক্রমেই আমাদের কৃষিজমির পরিমাণ কমছে। আশার কথা হচ্ছে, নতুন নতুন জাতের উদ্ভাবনের ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে যে জমিতে ২০ মণ ধান হতো সে জমিতে এখন ৩৫-৪০ মণ ধান হচ্ছে। একই সঙ্গে দুঃখের কথা হচ্ছে, দেশে উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ফসলগুলো প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। এখনো সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ হচ্ছে অনেক জায়গায়। কৃষি জমির পরিমাণ চাইলেই বাড়ানো সম্ভব নয়, তাই উত্পাদনশীলতার ওপর জোর দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। যেহেতু বিশ্বব্যাপী খাদ্যসংকট তীব্রতর হচ্ছে, সেহেতু আমাদের আগে থেকে পদক্ষেপ নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে চেষ্টা করতে হবে। উন্নত জাতের ফসলের বীজ দেশের সর্বস্তরের কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষিখাতে মোট ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আসন্ন বাজেটে কৃষি খাতে প্রণোদনা আরো বাড়াতে পারলে ভালো হবে।

মোটকথা, কৃষিসেবা জোরদার করতে হবে। কৃষি প্রণোদনা বাড়াতে হবে। কৃষকের দোর গোড়ায় কৃষিসেবা পৌছাতে হবে। ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা দায়িত্ব সহকারে কাজ করছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেবা পেতে অসুবিধা হলে হট লাইন নম্বরে কল করে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কমছে, অথচ দেশের ১৮০ মিলিয়ন লোকের খাদ্য সরবারহ করছে কৃষি। তাই আমাদের কৃষির ওপর জোর দিতে হবে। কোনোভাবেই যেন আমাদের খাদ্যসংকটের মুখোমুখি হতে না হয়। সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ে দশ ফোঁড়। কাজেই যা করার এখনই করতে হবে।

মো. শহীদুল ইসলাম
লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্র:ইত্তেফাক

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ৯, ২০২২ ৮:১৭ পূর্বাহ্ন
সাতক্ষীরা ৩ খাল পুনর্খননে প্রাণ ফিরবে কৃষি ও মৎস্যে
কৃষি বিভাগ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে প্রবাহমান একাধিক খালকে বদ্ধ জলাশয় দেখিয়ে ইজারা নিয়ে দখল করে আসছিলেন প্রভাবশালীরা। দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে থাকায় খালগুলো মরে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে খালগুলো এ অঞ্চলের মানুষের গলার কাটা হয়ে দাঁড়াতো। শুষ্ক মৌসুমে পানি না পেয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ত। চরম বিপাকে ছিল সেখানকার মৎস্য চাষিরাও ।

তবে সম্প্রতি কালিগঞ্জের তিনটি প্রবাহমান খাল প্রভাবশালী দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করে খনন করে দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। এতে খালগুলো প্রাণ ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি সেসব অঞ্চলের কৃষকদেরও মুখে হাসি ফুটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কালিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য চাষের উন্নতির লক্ষে জলাশয় সংস্কার প্রকল্পের আওতায় মৎস্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে এবং কালিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসের বাস্তবায়নে কালিগঞ্জের রতনপুর ইউনিয়ন কলকলিয়া খাল, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ঘোষখালী খাল এবং তারালি ইউনিয়নের তারালি খাল ৩টি পুর্নখনন করা হয়েছে। এছাড়া কুশলিয়া ইউনিয়নের ভদ্রখালী এলাকায় একটি পুকুর পুনর্খনন করা হয়েছে। পুকুরটি ১৯০৪ সালের পর প্রথম পুনর্খনন ও সংস্কার করায় মানুষের সুপেয় পানির সংকট কাটাতে সাহায্য করবে।

এর মধ্যে খননকৃত কলকলিয়া খালের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৯৪০ফুট এবং প্রস্থ ৮০ ফুট। ঘোষখালী খালের দৈর্ঘ্য ৫ হাজার ৮শ ফুট এবং প্রস্থ ৮৫ ফুট। এছাড়া তারালি খালের দৈর্ঘ্য ৫ হাজার ৮শ ফুট এবং প্রস্থ ৮৫ ফুট খনন করা হয়েছে। প্রতিটি খাল খননের জন্য ৩৩ লাখ টাকা করে বরাদ্দ ছিল।

খালগুলো খনন করায় এই এলাকায় কৃষির ও মৎস্যের ফলন বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি খালের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের জন্য পানির অবাধ সরবরাহও নিশ্চিত হবে এবং খালের মাধ্যমে মাছের প্রাচুর্যতা বৃদ্ধি পাবে। এটাকে যদি ধরে রাখা যায় তাহলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে খালগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রতনপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শেবানী মন্ডল বলেন, কলকলিয়া খাল দিয়ে ইউনিয়নের শত শত বিঘা বিলসহ বসতবাড়ির পানি নিস্কাশিত হয়। খালটি অবৈধ দখলের কারণে সরু নর্দমায় পরিণত হয়েছিল। এতে কৃষকরাও ঠিকমত পানি না পেয়ে চাষাবাদ করতে পারত না। মৎস্যচাষিরাও বিপাকে পড়ত। খালটি দখলমুক্ত করে খনন করায় সকলেরই সুবিধা হয়েছে। কৃষকরা পানি নিতে পারবে। মৎস্যচাষিরাও উপকৃত হবে। পাশাপাশি আমরাও জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পাবো।

রতনপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বর বাবু গাজী বলেন, খালটি খনন করায় এলাকাবাসী জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পাবে। খালটি কোনভাবে ইজারা না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রতনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলম আল রাজী টোকন বলেন, কলকলিয়া খালটি কালিন্দি নদীর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। অথচ প্রভাবশালীরা বদ্ধ জলাশয় দেখিয়ে ইজারা নিয়ে দখল করে খালটিকে প্রায় মেরে ফেলেছিল। ওই সব দখলদারদের উচ্ছেদ করে মৎস্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে খনন করে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। খালটি এলাকার মানুষের জীবন জীবিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।

এদিকে দক্ষিণশ্রীপুর ইউনিয়নের টোনা গ্রামের ঈশ্বর রাধাপদের পুত্র গণেশ সরকার বলেন, ঘোষখালী খালটি দিয়ে বাঁশঘাটা, নবিননগর, বেড়াখালী, সাড়াতোলা, শ্রীপুর, ফতেপুর, গোবিন্দকাটি, সোনাতলাসহ প্রায় ১০টি গ্রামের পানি নিষ্কাশিত হয়ে গোয়ালঘাষিয়া নদীতে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এসব অঞ্চলের মানুষ বিপাকে পড়ত। খালটি খনন হওয়ায় কৃষক ও মৎস্য চাষিসহ সকলেই উপকৃত হবে।

কালিগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার নাজমুল হুদা বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় খালগুলো খনন করা হয়েছে। এতে অত্র এলাকায় কৃষির ও মৎস্যের ফলন বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি খালের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের জন্য পানির অবাধ সরবরাহও নিশ্চিত হবে এবং খালের মাধ্যমে মাছের প্রাচুর্যতা বৃদ্ধি পাবে। এটাকে যদি ধরে রাখা যায় তাহলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে খালগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ৬, ২০২২ ১২:২৮ অপরাহ্ন
টেকসই উন্নয়নে কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ ব্যাপক
কৃষি বিভাগ

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের নারীদের অবদান কম হলেও, গ্রামীণ অর্থনীতিতে পুরুষের তুলনায় নারীর অবদান তুলনামূলকভাবে বেশি এবং এর পরিমাণ প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের নারীরা তাদের গৃহস্থালির যাবতীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে পারিবারিক দায়িত্ব হিসেবে কৃষিকাজে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছে। বর্তমানে কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ ও অবদান দুই-ই বাড়ছে। নারীদের এ অংশগ্রহণ জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিরাট ভূমিকা রেখে চলেছে, বিশেষ করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা- দারিদ্র্যমোচন এবং জেন্ডার সমতা অর্জনেও কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ ব্যাপক।

আমাদের দেশের অর্থনীতির অবকাঠামো পরিবর্তনের কারণে শিল্প ও সেবাখাতের অনুপাত কৃষিখাতের তুলনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে গ্রামীণ অর্থনীতি এখনো পুরোটা কৃষিনির্ভর, যার অনেকটাই নারী কৃষি উদ্যোক্তাদের হাতে ধরে। দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গ্রামীণ অর্থনীতি কৃষি এবং কৃষিতে নারী উদ্যোক্তাদের অবদান-এ দুই-ই সমান গুরুত্বপূর্ণ। টেকসই কৃষি যেমন নারীর হাতে, তেমনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও নারীর হাতে। টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারীর অংশগ্রহণ যেমন অত্যাবশ্যক, তেমনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও নারীর সরাসরি সম্পৃক্ততা অত্যাবশ্যক।

স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে ২০২৪ সালে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ঘোষিত হবে। জাতিসঙ্ঘ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ উল্লেখ্যযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। এমডিজি বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায় থেকে নেয়া অভিজ্ঞতা পরবর্তী পর্যায়ের জন্য নেয়া পরিকল্পনা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নেও সাফল্যের উদাহরণ সৃষ্টির পথে বাংলাদেশ।

জাতিসঙ্ঘ টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন-২০২১ অনুযায়ী এসডিজি অর্জনে বিশ্বের যে তিনটি দেশ সবচেয়ে এগিয়ে আছে, তারমধ্যে সবার ওপরে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্যতা ও বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সামগ্রিক বিবেচনায় বাংলাদেশের গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি সচল থাকার কারণেই উৎপাদন ব্যবস্থার অবস্থান অনেকটা ভালো রয়েছে, আর এর কারণ হলো কৃষিখাতে নারী শ্রমিক ও নারী উদ্যোক্তার অংশগ্রহণ বৃদ্ধি।

বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কৃষি খাতের উপর নির্ভরশীল। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১৪ শতাংশ। শিল্প ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কৃষি খাতের পরোক্ষ অবদান রয়েছে। দেশের মোট শ্রমজীবীর প্রায় ৪১ শতাংশ প্রত্যক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত। কৃষিখাতের উন্নয়নের সাথে দেশের বিপুল জনসংখ্যার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তাই খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্যমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষিখাতের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। আর অন্যতম অংশীদার এ খাতের নারী শ্রমিক ও উদ্যোক্তারা, বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারীর সময় গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি সচল রাখতে এ খাতের নারীরা ব্যাপক অবদান রেখেছেন।

টেকসই উন্নয়নের ধারা তথা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ, নারীর ক্ষমতায়ন, পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে অংশগ্রহণ এবং দারিদ্র্যমোচন অব্যাহত রাখতে এবং নারী কৃষি উদ্যোক্তাদের অবদানকে ধরে রাখতে সরকার প্রণীত বিভিন্ন নীতি, আইন, বিধি-বিধানসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওদের নানা কর্মসূচি ও কর্যক্রম লক্ষ্যে পূরণে এসাথে চলমান রয়েছে।

গত কয়েক দশকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে কয়েক কোটি শ্রমশক্তি নতুন যোগ হয়েছে, যার মধ্যে অর্ধেকের বেশিই নারী। আর এই নারীর বেশির ভাগই কৃষি খাতের নারী শ্রমিক এবং উদ্যোক্তা। নতুন এ সকল নারী উদ্যোক্তা মূলত গবাদিপশু পালন, হাঁসমুরগি পালন, মৎস্য চাষ, শাকসবজি-ফলমূল উৎপাদনসহ ধান, পাট গম চাষাবাদে নিয়োজিত রয়েছে। মূলত গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে গতি আনতে নারী কৃষি উদ্যোক্তাদের ভূমিকাই মুখ্য।

স্বাধীনতার পরে সত্তর ও আশির দশকের দিকে গ্রামীণ নারীরা বাড়ির বাইরে গিয়ে কৃষিকাজ অংশগ্রহণ কমই করতো। তবে নব্বইয়ের দশক থেকে নারীরা কৃষিকাজে বীজ সংরক্ষণ, জমি প্রস্তুত, চারা রোপন, ফসল কাটা এবং ফসল ঘরে তোলাসহ সকল কাজের সাথে যুক্ত। তবে অনেক আগে থেকে বাড়ির গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি পালনের সাথে নারীরা জড়িত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে নারীরা বাণিজ্যিকভাবে কৃষি উৎপাদন ও বিপণনে নারীরা ব্যাপকভাবে জড়িত। মাছ চাষ, মৌমাছি চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, ফলমূল চাষ থেকে শুরু করে বাণিজ্যিকভাবে দেশি-বিদেশী নানা জাতের সবজি উৎপাদনের বিশাল কর্মযজ্ঞে আজ নারীরা সমান অংশীদার।

পরিসংখ্যান বলছে, বৃহত্তর কৃষি অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। গত ৫০ বছরে কৃষিতে নারীর সংখ্যা শতকের ঘর থেকে কোটিতে পৌঁছে গেছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৬-১৭ অনুসারে, কৃষিতে এখন নারীর অংশগ্রহণের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

দেশে মোট শ্রমশক্তির উল্লেখযোগ্য অংশ হচ্ছে নারী। নারী শ্রমশক্তির মধ্যে ৬৮ শতাংশই কৃষি, বনায়ন ও মৎস্যখাতে জড়িত। কর্মক্ষম নারীদের বেশির ভাগ কৃষিকাজে নিয়োজিত। ফসলের প্রাক বপন থেকে শুরু করে ফসল উত্তোলন, বীজ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন পর্যন্ত সম্পূণ প্রক্রিয়ায় নারী এককভাবেই করে। বাড়ির বাইরে ফসল ও সবজি চাষ, মসলা উৎপাদন, শুঁটকি ও মাছ প্রক্রিয়াকরণ, মাছ ধরার জাল তৈরি ও মেরামত, পোনা উৎপাদন, গবাদিপশু, হাঁসমুরগি গবাদিপশু পালনের কাজও নারীরা আজ প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। সামাজিক বনায়নের কাজও হয় নারীর হাত দিয়ে।

নারী কৃষি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার কারণে কৃষি পণ্য উৎপাদনে ডাইভারসিফিকেশন (বৈচিত্র্য) বেড়েছে। নারীরা বসতবাড়ির আঙ্গিনায় বাণিজ্যিকভাবে দেশি-বিদেশি উন্নত ফলনশীল শাক-সবজি ও ফলমূলসহ নানা জাতের কৃষিপণ্য উৎপাদন করছে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, কৃষিকাজ বলতে এখন আর শুধু মাঠে ফসল চাষাবাদকেই বোঝায় না, বরং বোঝানো হয় শস্য উৎপাদন, গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি পালন, মাছ চাষ, শাকসবজি, ফলমূল চাষ ও বনায়ন বা বাড়ির আশপাশে এমনকি বাড়ির ছাদেও গাছ লাগানো ইত্যাদি। এ বিবেচনায় এ সময় কৃষিতে পুরুষের তুলনায় নারী অংশগ্রহণ আগের তুলনা অনেক বেড়েছে। পুরুষরা মূলত শহরে পড়াশোনা, চাকরি ও ব্যবসার দিকে বেশি ঝুঁকে যাওয়া গ্রামীণ কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। পুরুষদের মধ্যে যতসংখ্যক পুরুষ কৃষিকাজে যুক্ত, তার চেয়ে নারী কর্মজীবীদের মধ্যে অনেক বেশিসংখ্যক কৃষিকাজে যুক্ত।

কৃষি উদ্যোক্তাদের নানাবিধ সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদেরকে । উদ্যোক্তা হিসেবে আর্থিক সংকট, ঋণ না পাওয়া, ভূমির মালিকানায় সম-অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বিপণন ব্যবস্থার অভাব এবং গ্রামীণ হাট-বাজারে প্রবেশেসহ যোগাযোগ অবকাঠমো ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকার করণে নারীরা কৃষি খাতে উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত হয় না বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান (এনজিও) থেকে চড়া সুদে ঋণ গ্রহণের কারণে তাদের নানাবিধ জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। নারী কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি ঋণ ব্যবস্থাকে আরো সহজীকরণসহ পর্যাপ্ত করতে হবে। উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বিপণনের জন্য নারীদের জন্য বিশেষ বাজার স্থাপনসহ অনলাইনে বাজার বিপণন ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করতে হবে। গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তারাও যাতে অনলাইন বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাদের তৈরিকৃত পণ্য বাজারজাত করতে পারেন- এজন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে তুলতে হবে।

কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। কৃষি এবং কৃষকরাই বাংলাদেশর গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদন্ড। সরকার গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন দলিল, বিশেষ করে রূপকল্প-২০২১, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি), সার্ক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাস্তবায়নের কৌশল অনুসরণে করে জাতীয় কৃষি নীতি- ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। কৃষি খাতকে টেকসই ও সমৃদ্ধ করতে সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কৃষিবান্ধব উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকও দেশের কৃষি খাতকে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর পাশাপাশি সরকারি চাকুরি ও কৃষিক্ষেত্রে আরো অধিক সংখ্যক নারী কৃষক এবং কৃষি শ্রম-শক্তি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হওয়া প্রয়োজন । কৃষি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নারীর অবদান রাখার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে, তাই কৃষি সংক্রান্ত অর্থোপার্জন কর্মকাণ্ডে নারীকে অর্থবহভাবে সম্পৃক্ত করে এবং মানব-সম্পদ উন্নয়নে সরকার নারীর ক্ষমতায়ন; উৎপাদন ও বিপণনে অংশগ্রহণ এবং আয়ের সুযোগ সৃজন তৈরির ওপর আরো অধিক গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন।

যেকোনো দেশের নারীদের বাদ দিয়ে বা অবহেলা করে, দূরে রেখে কোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কখনোই সফল হবে না। তাই সারা বিশ্ব আজ অনুধাবন করতে পেরেছে, নারীর সামগ্রিক উন্নয়ন ছাড়া সমগ্র বিশ্বের উন্নয়ন সম্ভব নয়, তাই এসডিজি অর্জনে নারীর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী। সেই বিবেচনায় এ দেশের জন্য উন্নয়ন কার্মকাণ্ড তথা কৃষি খাতে নারীর অংশগ্রহণ আরো বেশি জরুরি। আগের তুলনায় দেশে নারী-পুরুষের মধ্যকার ব্যবধান বা জেন্ডার গ্যাপ কমে আসছে। আয় উপার্জনক্ষম কাজে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। নারীর অংশগ্রহণ বাড়ায় নারী-পুরুষের মধ্যকার বৈষম্য কমে আসছে। তাই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও কৃষিতে নারীর সরাসরি সম্পৃক্ততা অত্যাবশক।

লেখক : সিনিয়র তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদফতর, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা

সূত্র:নয়া দিগন্ত

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৯, ২০২২ ২:৪৭ অপরাহ্ন
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে খুন গরু ব্যবসায়ী
কৃষি বিভাগ

বিরামপুরে এক গরু ব্যবসায়ী ৭ দিন ধরে নিখোঁজের পর পুলিশ মঙ্গলবারতার নিজ বাড়িতে পুঁতে রাখা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় মামলার পর পুলিশের হাতে আটক শাহীন নামে এক যুবক হত্যার দায় স্বীকার করে শনিবার দিনাজপুর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। স্বজনরা জানান, বিরামপুর শহরের পূর্বপাড়া মহল্লার মৃত. সুজার উদ্দিনের ছেলে খাদেমুল ইসলাম স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছেলেরা আলাদা বাড়িতে থাকে। ১৭ মে সন্ধ্যা থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। খাদেমুল ইসলাম পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় খাদেমুলের ছেলে রায়হান কবির ২২ মে বিরামপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। ওসি সুমন কুমার মহন্ত জানান, তদন্তে জানা যায় নিহত গরু ব্যবসায়ী খাদেমুলের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিবেশী সায়েম আলী (শাহীন) ইট দিয়ে আঘাত করে এবং মৃত নিশ্চিত করে মাটিতে পুঁতে রাখে। আসামি শাহীন আদালতে ১৬৪ ধারায় শিকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৭, ২০২২ ১১:১৫ অপরাহ্ন
ঝালকাঠির নলছিটিতে ব্রি ধান ৭৪’র মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): ঝালকাঠির নলছিটিতে ব্রি ধান ৭৪’র প্রদর্শনী প্লটের নমুনা শস্য কর্তন ও কৃষক মাঠ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ উপজেলার রায়াপুর গ্রামে উপজেলা কৃষি অফিস ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা উইং’র অতিরিক্ত সচিব জনাব কমলারঞ্জন দাশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলমগীর হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য  বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা  মো. রফি উদ্দিন এবং ঝালকাঠির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নলছিটির উপজেলা কৃষি অফিসার ইসরাত জাহান মিলি, ব্রির ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. প্রিয় লাল বিশ্বাস , কৃষি  সম্প্রসারণ অফিসার আলী আহমেদ, কৃষক আলি আকবর মিয়া প্রমুখ ।

প্রধান অতিথি জিংক সমৃদ্ধ ধান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এসব জাতের ধানের আবাদ বাড়ানোসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদে কৃষকদের আহবান জানান । মাঠ দিবসে শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন ।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৬, ২০২২ ৮:০৮ অপরাহ্ন
সনাতন কৃষি আধুনিক কৃষিতে রূপান্তরিত হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী বলেন, যান্ত্রিকীকরণে বিশাল ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া, অ্যাগ্রো-প্রসেসিং, ফসলের উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহনশীল কৃষিতে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ফলে, সনাতন কৃষি আধুনিক কৃষিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বিকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে ‘কৃষির রূপান্তর’ শীর্ষক সেশনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৃষিবান্ধব উদ্যোগের ফলে বিগত ১৩ বছরে দেশের কৃষিতে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জিত হয়েছে। যে দেশটি একসময় খাদ্য ঘাটতির দেশ হিসাবে বিশ্বে পরিচিত ছিল তা আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। করোনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বর্তমান কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও দেশে খাদ্য সংকট দেখা দেয়নি।

দেশে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তাকে টেকসই করতে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনা, খরা, লবণাক্ততাসহ বিভিন্ন প্রতিকূল এলাকায় ফসলের চাষ, শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি, বেশি উৎপাদনশীল জাতের উদ্ভাবন ও চাষ, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহনশীল কৃষির জন্য কাজ করা হচ্ছে।

এ সেশনে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নেদারল্যান্ডসের ওজেনিনজেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চের প্রেসিডেন্ট লুইসি ফ্রেসকো। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার। এসময় ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত অ্যান ভ্যান লিউভেন, এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট সিম্পসন, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট ক্রিশ্চিয়ান বার্জার উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৬, ২০২২ ৭:৫৪ অপরাহ্ন
ট্রাক ভিড়িয়ে মেহেরপুরে গরু চুরি
কৃষি বিভাগ

গরু পালনকারীর বাড়ির পাশে ট্রাক ভিড়িয়ে গরু নিয়ে গেছে চোরেরা। কোরবানীর পশু বাজার সামনে রেখে এ ধরনের চুরির ঘটনায় গরু পালনকারীদের মনে নতুন আতংক সৃষ্টি হয়েছে।

গাংনী পৌরসভার পশ্চিম মালসাদহ গ্রামের আশরাফুল ইসলামের বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার (২৬ মে) ভোরে এ চুরি হয়। এদিন রাতে তারা গোয়ালে গরু রেখে ঘুমিয়ে ছিলেন। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গাংনী বাজারের ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি আশরাফুল নিজ বাড়িতে কয়েকটি গরু পালন করেন।

ভোরের দিকে তার বাড়ির পাশে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের উপরে বালূ গাদার কাছে একটি ট্রাক এসে থেমে যায়। ট্রাক থেকে নেমে চোর দলের কয়েকজন আশরাফুলের বাড়ি থেকে একটি এঁড়ে গরু নিয়ে ট্রাকে তোলে। এরপরে বাছুরসহ একটি গাভী নিয়ে ট্রাকে তোলার চেষ্টা করে। তবে চোরদের হাত থেকে ছিটকে দৌড়ে পালিয়ে যায় গাভী আর বাছুর। এসময় ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যায় চোরেরা। চুরি হওয়া গরুর আনুমানিক মূল্য ৭০ হাজার টাকা বলে জানান এর মালিক।

এদিকে ট্রাক নিয়ে চোরেরা সটকে পড়ায় বিষয়টি জানতে পারে আশরাফুল। এভাবে ট্রাকে করে গরু চুরি করায় বিষয়টি কেউ ধরতে পারেনি। ট্রাক যখন রাস্তায় থামে তখন আশেপাশের লোকজন টের পেলেও তারা ভেবেছিলেন বালু নিতে এসেছে। ফলে চোর সন্দেহ হয়নি স্থানীয়দের। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আঃ রাজ্জাকের মোবাইল ফোনে চেষ্টা করা হলে তার সরকারি নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৬, ২০২২ ৭:৪৬ অপরাহ্ন
ভবিষ্যতের সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনার উপর আস্থা রাখুন
কৃষি বিভাগ

ব-দ্বী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন,

বৃহস্পতিবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ‘ইনস্টিটিউশনাল চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিস উইথ ইন্টারন্যাশনাল লেসন’ বিষয়ক প্যানেল ডায়ালগে বিভিন্ন অংশীজনদের আলোচনার প্রেক্ষিতে এ আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন, যা সারাবিশ্বের কাজে আসবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিশ্ববাসী উপকৃত হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে অসাধারণ ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলে আমাদের কর্তব্য। এ জন্য শুধু পরিকল্পনা প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকার আইন প্রণয়ন করবে। ব-দ্বীপ আইন কার্যকর হলে এ বিষয়টির সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি হবে।

No description available.

তিনি আরো যোগ করেন, সুনীল অর্থনীতি বিকাশ এখন আমাদের লক্ষ্য। সমুদ্র সম্পদ তথা মৎস্যসম্পদ, খনিজ সম্পদ ইত্যাদি আহরণ সুনীল অর্থনীতি বিকাশে সহায়তা করবে। যা পরবর্তী প্রজন্ম এবং সারাবিশ্বের কাজে লাগবে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে অর্থায়ন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে আমাদের ব-দ্বীপ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায অব্যাহত থাকবে। অবশ্যই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন করবে।

সারাবিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে দেশসমূহের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও একসাথে কাজ করার ব্যাপারে এ সময় গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

এ সময় মন্ত্রী ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নে আগামী দিনে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা তুলে ধরেন এবং এক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সহযোগিতা কামনা করেন।

বিশ্বব্যাংকের সাউথ এশিয়া সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট এর রিজিওনাল ডাইরেক্টর জন রুম এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিএইসিডি) এর অধ্যাপক ড. সালেমুল হকের সঞ্চালনায় প্যানেল ডায়ালগে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত অ্যান ভ্যান লিউয়েন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মো. কাউসার আহাম্মেদ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৫, ২০২২ ১১:০১ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশে কম্বাইন হারভেস্টার তৈরির আগ্রহ ইয়ানমারের
কৃষি বিভাগ

জাপানের কৃষিযন্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইয়ানমার বাংলাদেশে ধান কাটার যন্ত্র বা কম্বাইন হারভেস্টার তৈরির কারখানা স্থাপনের আগ্রহ জানিয়েছে। দেশের এসিআই মটর্সের সাথে যৌথ উদ্যোগে এ কারখানা স্থাপন করবে ইয়ানমার।

২৪ মে ২২ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপির সাথে ইয়ানমারের আন্তর্জাতিক বিজনেস হেড সোগো ডেট এর নেতৃত্বে ইয়ানমার ও এসিআই মটর্সের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ তথ্য জানান হয়।

প্রতিনিধিদল জানান, দেশে ইয়ানমার ব্র্যান্ডের কম্বাইন হারভেস্টার অনেক জনপ্রিয় ও চাহিদাও বেশি। এটিকে বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয়ভাবে কম্বাইন হারভেস্টার তৈরি ও সংযোজন করার উদ্যোগ নিয়েছে ইয়ানমার ও এসিআই মটর্স। ২০২৪ সালের শুরুতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনে যাওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আন্তর্জাতিক বিজনেস হেড সোগো ডেট।

এসময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে কৃষি শ্রমিকের ঘাটতি দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এ মুহূর্তে বোরো ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া, সনাতন পদ্ধতির কৃষিতে ফসল উৎপাদনে খরচ অনেক বেশি ও সময় সাপেক্ষ। সেজন্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে কাজ করছে। সারাদেশে ৫০% ও হাওর-উপকূলীয় এলাকায় ৭০% ভর্তুকিতে কৃষকদেরকে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা স্থানীয়ভাবে কৃষিযন্ত্র তৈরি ও সংযোজনে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। ইয়ানমারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে ইয়ানমারকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

বৈঠকে ইয়ানমারের আন্তর্জাতিক বিজনেস প্রতিনিধি ইতো সান, আন্তর্জাতিক সার্ভিস প্রতিনিধি মিৎসুমি সান, এসিআই মটর্সের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৪, ২০২২ ৭:১০ অপরাহ্ন
উচ্চ ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনে কৃষি বিজ্ঞানীদের কাজ করতে হবে- বিএআরআই পরিচালক
কৃষি বিভাগ

দীন মোহাম্মদ দীনুঃ কৃষির উন্নয়নে উচ্চ ফলনশীল রোগ প্রতিরোধী জাত এবং নয়া লাগসই-টেকসই প্রযুক্তির উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীদের নিরলস ভাবে কাজ করতে হবে এবং জাত-প্রযুক্তিগুলো কৃষি সম্প্রসারণ এবং সরেজমিন গবষণা বিভাগের মাধ্যমে কৃষকের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএআরআই উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. মোছাম্মৎ সামছুন্নাহার।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের কৃষি বিভাগের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে দুই দিন ব্যাপী গবেষণা সম্প্রসারণ-পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিএআরআই উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. মোছাম্মৎ সামছুন্নাহার এই কথা বলেন।

উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার ড. মুহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন সঞ্চালনায় এবং মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জুলফিকার আলী ফিরোজ সভাপতিত্ত্বে আরো বক্তব্য রাখেন কৃষিবিদ মো. মোফাজ্জল করিম, অতিরিক্ত পরিচালক, চট্টগ্রাম অঞ্চল, ড. মুহাম্মদ মহী উদ্দীন চৌধুরী, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ড. মো. মসিউর রহমান, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রমুখ।

আজ ২৪ মে  উক্ত কর্মশালায় দুইটি কারিগরি অধিবেশনের মধ্যে কৃষিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভাবনা নিয়ে কৃষি বিভাগের কৃষি গবেষণা, ধান গবেষণা, পরমাণু কৃষি গবেষণা, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন, সুগার ক্রপ গবেষণা, ফলিত পুষ্টি গবেষণা, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী,নোয়াখালী, লক্ষীপুর, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, চট্টগ্রাম, হর্টিকালচার সেন্টার, রামু, ঝিলংজা, হাটহাজারীসহ এনজিও প্রতিনিধিরা কৃষির বিভিন্ন বিষয়ের উপর অর্ধ শতাধিক উপস্থাপনা করেন।

উক্ত কারিগরি অধিবেশনে বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী হিসেবে ড. মোহাম্মদ আমীন সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ফল বিজ্ঞানী ড. মনোরঞ্জন ধর সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এই কর্মশালায় প্রায় অর্ধ শতাধিক বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা বিজ্ঞানী উপস্থিত থাকবেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop