১:৩৭ অপরাহ্ন

শনিবার, ১৪ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ১৪, ২০২২ ৫:১০ অপরাহ্ন
মাগুরায় সমন্বিত ফল বাগান করে সাফল্য পেয়েছেন নাসির হোসেন
কৃষি বিভাগ

মাগুরা জেলার সদর উপজেলার রাউতড়া গ্রামের কৃষক নাসির হোসেন সমন্বিত ফল বাগান করে সাফল্য পেয়েছেন। কৃষি বিভাগের পাশাপাশি তার এ সাফল্যে স্থানীয় কৃষকরাও খুশি।

তিনি উচ্চফলনশীল যাতের আপেল কুল, আগাম টক জাতের কুল এবং থাই-৫ জাতের উচ্চফলনশীল পেঁয়ারা চারা লাগিয়ে তৈরি করেছেন সমন্বিত এ ফলের বাগান। এর পাশপাশি একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করেছেন বাঙ্গী জাতীয় ফল নালিম।

মৌসুম শেষে এ বাগানের ফল বিক্রি থেকে তিনি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

সরেজমিন মাগুরা সদর উপজেলার রাউতড়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় জামির হোসেনের ছেলে কৃষক নাসির হোসেনের সাথে। পাচঁ ভাই বোনের মধ্যে নাসির হোসেন তৃতীয় সন্তান। ২০১২ সালে মাগুরা আর্দশ ডিগ্রি কলেজ থেকে বি.এ পাস করেন। বিভিন্ন জায়গায় চাকরির চেষ্টাও করেন। কিন্তু কাঙ্খিত চাকরি না পেয়ে কৃষি কাজ শুরু করেন তিনি।

নাসির হোসেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সৎ পরিশ্রম, আত্ম বিশ্বাস এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা রেখে কৃষিকে আরো আধুনিক করতে এ কাজে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরই এক পর্যায়ে সাড়ে ১১ একর জমি পাঁচ বছরের জন্য লিজ নিয়ে তৈরি করেন ফলের বাগান।

নাসির জানান, জমি লিজ, বাগান তৈরি এবং ক্ষেত পরিচর্যাসহ এ খাতে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। মৌসুম শেষে তিনি তার মোট ৩টি বাগান থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার কুল ও পেঁয়ারা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

তিনি জানান, তার কুল গাছের বয়স মাত্র ৮মাস। পাঁচ মাস পর থেকেই গাছে ফুল ও ফল ধরতে শুরু করে। নিজের ফার্ম থেকেই তিনি কুল ও পেঁয়ারার চারা উৎপাদন করেছেন। এ বছর কুলের ভালো ফলন হওয়ায় তিনি খুশি। একর প্রতি প্রায় ২০০ মণ কুলের ফলন আশা করছেন তিনি। পেঁয়ারা গাছেও ফল ধরতে শুরু করেছে।

নাসিরের বাগানের কুল,পেঁয়ারা ঢাকা ও বরিশালসহ অন্যান্য জেলাগুলোতেও বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। এছাড়া পাইকাররা বাগান থেকে এসব ফল কিনে বাজারে বিক্রি করেন। নাসির হোসেন জানান, লেখাপড়া শিখে চাকুরির পেছনে না ছুটে আমরা যদি কৃষি কাজে আত্মনিয়োগ করি তাহলে কৃষিতে আরো সমৃদ্ধি ঘটবে। স্বাবলম্বী হবে পরিবার। আমি নিজের মেধা ,আত্মপ্রত্যয়কে সামনে রেখে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছি।

মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, নাসির হোসেন একজন প্রগতিশীল কৃষক। শিক্ষিত যুবক নাসির সমন্বিত ফল বাগান করে সাফল্যে পেয়েছেন। বাগান তৈরিসহ ভালো ফলন পাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৪, ২০২২ ৪:৫১ অপরাহ্ন
শীতে আলুর ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা
কৃষি বিভাগ

প্রতি বছরই রংপুর অঞ্চলে আলুর উৎপাদন ভালো হয়। কিন্তু বছরের পর বছর হিমাগারে আলু সংরক্ষণ, ন্যায্য দাম না পাওয়াসহ রয়েছে নানা অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে বাড়তি খরচের বোঝা নিয়ে এবারো শুরু হয়েছে আলু চাষ। তবে শীত আর ঘন কুয়াশা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছে কৃষকদের।

চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৯৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে বিভিন্ন জাতের ২২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৯৬ মেট্রিক টন আলুর উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। ভালো ফলন পেতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ছত্রাকনাশক ওষুধ ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

এদিকে শীতের কারণে আলুর ফলন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। কয়েকদিন ধরে রংপুর অঞ্চলে শীতের প্রকোপের পাশাপাশি ঘন কুয়াশা পড়ছে। এই কুয়াশা আলুর জন্য ক্ষতিকর। এতে লেডব্লাইড রোগের আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

রংপুর অঞ্চলে চলতি মৌসুমে প্রায় এক লাখ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হচ্ছে। কিছুটা বৈরী আবহাওয়ার কারণে চাষিরাও নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে খেতের পরিচর্যায় নেমে পড়েছেন। আমন মৌসুমে বাম্পার ফলন হলেও গত মৌসুমে আলুতে খুব একটা লাভ করতে পারেননি আলুচাষিরা। এখনো অনেক হিমাগারে আলু সংরক্ষিত রয়েছে। ঠান্ডা আবহাওয়া আলু চাষের জন্য উপকারী হলেও কুয়াশা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যে কারণে গত কয়েক দিনের শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে উদ্বিগ্ন কৃষক।

আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে এ অঞ্চলে। আর এমনটা শুরু হলে আলুচাষিদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়বে।

রংপুর নগরীর ময়নাকুটি এলাকার আলুচাষি মমিন মিয়া ও খোদা বকস মিলে এবার ৮০ শতক জমিতে আলু চাষ করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলে তাদের বিশ্বাস। ঢাকা পোস্টকে তারা জানান, এখন সারের দাম বেশি। আবহাওয়া ভালো নয়। ঘন কুয়াশা আর শীতের প্রকোপ না কমলে লেডব্লাইড রোগের আশঙ্কা রয়েছে। তবে সব মিলিয়ে ফলন ভালো হলে দামও ভালো পাওয়া যাবে।

পীরগাছা উপজেলার হাউদারপাড় গ্রামের বোরহান কবির জানান, তিনি প্রতি বছরই আলু চাষ করেন। এবার আলুর মৌসুমের শুরুতে বীজ আলু ও সার সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হয়। তবে আলুর ফলন ভালো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আলু নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে না। কিন্তুু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন তিনি। শুধু তিনি নি, তাদের মতো আরও অনেকেই এমন আশঙ্কার কথা জানান।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, এই আবহাওয়া আলুর জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়। এটি কাটিয়ে উঠতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চাষিদের উদ্বিগ্ন না হয়ে নিয়মিত ক্ষেত পরিচর্যা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমিনা খাতুন জানান, চলতি বছর নগরের ৩৩টি ওয়ার্ডে ৬ হাজার ৮ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০০ হেক্টর উপসি এবং ৪০০ হেক্টরে দেশি জাতের আলু চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদন হবে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বিগত মৌসুমে রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট এবং নীলফামারী জেলায় ৯৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন উন্নত জাতের গোল আলু চাষ করা হয়েছিল। এবারো এসব জেলায় একই পরিমাণ জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রংপুর জেলায় ৫১ হাজার ৮৪০ হেক্টর, নীলফামারীতে ২২ হাজার ১০ হেক্টর, গাইবান্ধায় ৯ হাজার ২২০ হেক্টর, কুড়িগ্রামে  ৬ হাজার ৫৯৫ হেক্টর এবং লালমনিরহাটে ৫ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব জেলার প্রায় ৯৮ ভাগ জমির ৯৭ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদ শুরু হয়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ওবায়দুর রহমান জানান, এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আলু চাষ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমান যে আবহাওয়া বিরাজ করছে তাতে আলুর ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা কম রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৪, ২০২২ ৪:০৯ অপরাহ্ন
গাছে ঝুলছে কমলা, উঁকি দিচ্ছে সম্ভাবনা
কৃষি বিভাগ

আবু জাহিদ ইবনুল ইরাম জুয়েল। ঠাকুরগাঁওয়ে দার্জিলিং জাতের কমলা বাগান করে লাভবান হয়েছেন। এবছর বাগান থেকে কমপক্ষে ২৫০ মণ কমলা উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। ২০০ টাকা কেজি দরে যার বাজার মূল্য ২০ লাখ টাকা।

বাগানটি গড়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ২নং কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামে। সেখানে জুয়েল নামে একজন কৃষক ১০ বছর আগে হর্টিকালচার থেকে কিছু চারা কিনে জমিতে রোপণ করেন। দু’বছরের মাথায় আশানুরূপ ফল হওয়ায় বাগানের পরিধি বাড়ান। এখন তার বাগানে প্রায় ৩০০টি কমলা গাছ রয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় ৭৩ হেক্টর জমিতে মালটা ও কমলার বাগান রয়েছে ১ হাজার ৩২টি। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী উপজেলার পীরগঞ্জ ও হরিপুরে ভারতীয় দার্জিলিং জাতের সাতটি কমলা বাগান গড়ে উঠেছে। জেলায় অনেকেই কমলার বাগান করলেও জুয়েল ছাড়া অন্যরা দার্জিলিং জাতের কমলার চাষ ভালোভাবে করতে পারেননি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাগানের প্রতিটি গাছে ফল ধরেছে প্রচুর। ভারতীয় জাতের এ ফল মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে চাহিদাও রয়েছে। এছাড়াও, বাগানটি দেখার জন্য প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করছেন। বাগানেই বিক্রি হচ্ছে এই দার্জিলিং জাতের কমলা।

মালিক জুয়েল বলেন, বাগানের বয়স ১০ বছর হলেও তিন বছর হলো ভালো ফলন আসছে। এবার প্রচুর ফল ধরেছে। নভেম্বর মাস থেকে কমলা বিক্রি শুরু হয়েছে। এসব ফল স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে পাঠাচ্ছি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ৩ শতাধিক গাছের এই বাগানের প্রতিটিতে ৮০০-৯০০ কমলা ধরেছে। চলছে বিক্রি কার্যক্রম। কমলা কিনতে বাগানেই ছুটে আসছেন দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজি কমলা বিক্রি করছি ১৮০-২০০ টাকা দরে। গত বছর এই বাগান থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করা হয়েছে।

এছাড়াও, জুয়েল বাগানের পাশাপাশি একই প্লটে উৎপাদন করছেন চারা। সীমান্ত এলাকায় ফল বাগান গড়ে উঠায় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এলাকার অন্য কৃষকেরাও উদ্বুদ্ধ হয়ে নিচ্ছেন পরামর্শ। এছাড়াও কেউ বাগান সম্পর্কে জানতে গেলে উৎসাহ দিচ্ছেন তিনি। অনেকে মনোরম এই বাগানে ছবি তুলে ফেসবুক পোস্ট করছেন। ফলে জেলাসহ সারাদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে বাগানটি।

দর্শনার্থী নাহিদ রেজা বলেন, শহর থেকে এসেছি কমলা বাগান দেখতে। আমি দার্জেলিংয়ে বাগান দেখেছি। কিন্তু এখানকার কমলা বাগান যে সুন্দর, তা দার্জেলিংয়ের বাগানকেও হার মানাবে। আর এই কমলা অনেক মিষ্টি। আমার দেশের মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি, তা এই বাগান দেখেই বোঝা যায়।

শহরের পাশেই কমলা বাগানের মালিক মাহফিজুর রহমান ছুটু বাগান দেখতে এসে বলেন, আমার বাগানেও কমলা গাছ রয়েছে। তবে এই বাগান খুব সুন্দর করে যত্ন করার কারণে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এছাড়াও, ফলের সাইজ ও রঙ একবারে ঠিকঠাক হয়েছে। আমি বাগান মালিক জুয়েল ভাইয়ের সাথে আমার বাগান নিয়ে আলোচনা করার জন্য এসেছি।

কমলা বাগানে প্রথম থেকেই কাজ করেন নরেন মোহন। তিনি বলেন, আমি বাগানে প্রথম থেকেই কাজ করছি। এখন প্রতিদিন প্রায় ১ হাজারের উপর মানুষ আসে এই বাগান দেখতে। আমরা বাগানে ৮/১০ জন এখন কাজ করতেছি। কমলা গাছ থেকে পারার জন্য ৩/৪ জনকে কাজ করতে হয়। এছাড়াও বাগান পাহারা দিতে হয় এখন, নাহয় ফল চুরির ভয় থাকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন জানান, বছর দশেক আগে সরকার একটি প্রকল্প নেয়। সেটাই ঠাকুরগাঁওয়ে কমলা চাষের শুরু। কমলা বাগানে সফলতা পেতে বুঝে-শুনে পরিচর্যার ব্যাপার আছে। জুয়েল কৃষি দপ্তর থেকে সবসময় পরামর্শ নিয়েছেন। তার দার্জিলিং জাতের বাগানটি বেশ সুন্দর হয়েছে এবং বাগানে প্রচুর পরিমাণ কমলা ধরেছে। তার বাগান দেখে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন বাগান করার জন্য।

তিনি বলেন, কৃষকরা যদি এভাবে কমলার বাগান করতে এগিয়ে আসেন, তাহলে কৃষিতে একটা বিপ্লব ঘটবে। আর কমলা দেশের বাইরে থেকে আনতে হবে না। আমাদের দেশের কমলা দিয়েই ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ হবে বলে আমি মনে করছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৩, ২০২২ ৫:৩১ অপরাহ্ন
বরিশালে ডিএই সরেজমিন উইংয়ের পরিচালকের বিদায় সংবর্ধনা
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক একেএম মনিরুল আলমের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ নগরীর খামারবাড়ির কৃষি তথ্য সার্ভিসের সম্মেলনকক্ষে ডিএই’র উদ্যোগে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএই বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম।

ডিএই পটুয়াখালীর জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিকের সঞ্চালনায় অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ হৃদয়েশ্বর দত্ত, ডিএই পটুয়াখালীর উপপরিচালক একেএম মহিউদ্দিন, বরগুনার উপপরিচালক মো. আব্দুর রশীদ, বরিশালের উপপরিচালক মো.হারুন-অর-রশীদ, পিরোজপুরের উপপরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদার, ঝালকাঠির উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম, হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, বরিশালের অতিরিক্ত উপপরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন, পটুয়াখালীর উপপরিচালক আব্দুল মান্নান, রাজাপুরের উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর প্রমুখ।

বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদয়ী অতিথির বার্ণঢ্য কর্মজীবনের ভূঁয়শী প্রশংসা করেন। কৃষি বিভাগে তার অবদানের কথা কখনোই ভোলার নয়। তিনি সপ্তম বিসিএস’র একজন সদস্য ছিলেন। ৯ ডিসেম্বর থেকে তার এলপিআর শুরু। অনুষ্ঠানে কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৩, ২০২২ ৪:২৯ অপরাহ্ন
সমুদ্রতীর ঘেঁষে সবুজ তরমুজের চাষ
কৃষি বিভাগ

কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার সাগরপাড়ে তরমুজ চাষে ভালো ফলনে খুশি চাষিরা। তারা বলছেন, আগাম চাষে মুনাফাও বেড়েছে। আর মাঠে গিয়ে নানা পরামর্শ দেওয়ার কারণে এবার একরপ্রতি লাখ টাকার বেশি মুনাফা পাবেন চাষিরা বলে আশা কৃষি অফিসারের।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাশে সমুদ্রের তীর ঘেঁষে এক একটি সবুজ তরমুজ ক্ষেত। যেখানে লতার ভাঁজে ভাঁজে ধরেছে নানা আকৃতির তরমুজ। এসব ক্ষেতে এখন পানি দেওয়ার পাশাপাশি পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত চাষিরা। তারা বলছেন, অসময়ে বৃষ্টির কারণে কিছুটা ক্ষতি হলেও ফলন ভালো হয়েছে।

চাষিরা জানান, এ তরমুজ গাছ থেকে আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়।

ইতোমধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে তরমুজ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছুটা উচ্চমূল্য হলেও ক্রেতাদের রয়েছে চাহিদা।

বিক্রেতারা বলছেন, তরমুজের দাম আছে মোটামুটি। আনুমানিক কেজি ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

টেকনাফের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, মাঠে গিয়ে চাষিদের নানা পরামর্শ প্রদানের কারণে এবার আগাম তরমুজ চাষে ভালো ফলন হয়েছে এবং চাষিরাও লাভবান হচ্ছে।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩১০ একর জমিতে হয়েছে তরমুজ চাষ। এসব তরমুজ চাষে জড়িত রয়েছে দু’উপজেলার প্রায় ৩ শতাধিক চাষি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৩, ২০২২ ৩:২৬ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আধা ঘণ্টা ধরে শিলাবৃষ্টি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
কৃষি বিভাগ

তুষারের মতো পড়েছে শিলা। সঙ্গে ছিল বাতাস ও বৃষ্টি । শীতের রাতে এমন বিরল ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বুধবার (১২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, পৌষের এই ব্যাপক বৃষ্টি, ঝড় ও শিলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমের আগাম মুকুল নষ্ট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি উপকারী হলেও অতিরিক্ত শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের ক্ষতি বলছেন আমবিজ্ঞানী ও কৃষি বিভাগ।

এর আগে বুধবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত গোমস্তাপুর উপজেলায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। কয়েক জায়গায় জলাবদ্ধতা ছাড়াও শীত জেঁকে বসেছে।

বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের আকাশ সকাল থেকেই মেঘাচ্ছন্ন ছিল। দিনব্যাপী সূর্যের দেখা মিলেনি। সদর উপজেলা, শিবগঞ্জ ও নাচোলেও হঠাৎ গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বৃষ্টি থামেনি বলে জানা গেছে।

গোমস্তাপুরের বাসিন্দা জুলকার নাইন বলেন, সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বিকেল ৪টা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। সন্ধ্যার আগে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে গোমস্তাপুরের অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যার দিকে গোমস্তাপুরেও শিলাবৃষ্টি হয়েছে।

শিবগঞ্জের বাসিন্দা সাজিদুল হক জানান, সন্ধ্যার দিকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু রাত সাড়ে ৯টার দিকে ব্যাপকভাবে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। দিনব্যাপী মেঘলা আকাশ থাকলেও কেউ বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বৃষ্টির আশঙ্কা বা পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে বের হয়নি। ফলে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

ব্যবসায়ী রনি আলী বলেন, জীবনেও এমন শিলাবৃষ্টি দেখিনি। শিবগঞ্জের ছত্রাজিতপুর থেকে রানিহাটি বাজার পর্যন্ত এক হাঁটু শিলা রাস্তার ওপর পড়ে আছে। এমন দৃশ্য কোনো দিন দেখেনি। রাস্তার পাশের বাড়িগুলোর সামনে দেখি কোথাও মাটি দেখা যায় না। আগাম জাতের আমের কিছু মুকুল এসেছিল। তার সবকিছুই শেষ।

আলামিন জুয়েল নাম এক বাসিন্দা বলেন, বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শিলাবৃষ্টিতে। এতে আমের আগাম মুকুল ও ডগার ব্যাপক ক্ষতি হবে। এছাড়া ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে গেছে অনেক জায়গায়। স্থানীয় প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব (আম) গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, এখনও আমের মুকুল ফুটতে শুরু করেনি। ফলে শিলাবৃষ্টি হলেও তেমন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির পর আমগাছে ব্যাপক ছত্রাকের আক্রমণ হয়ে থাকে। এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তবে শিলাবৃষ্টিতে আগাম আমের মুকুল নষ্ট হয়ে যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, এই সময়ে হালকা বৃষ্টি হলে তা আমসহ বিভিন্ন ফসলের জন্য উপকারী। মশুর, সরিষা, ছোলা, গমের জন্য সামান্য বৃষ্টি আর্শীবাদ। কারণ এই সময়ে একটু পানির প্রয়োজন হয়। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাছাড়া বৃষ্টির পরদিন যদি রোদ না উঠে তাহলে সেই ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৩, ২০২২ ২:৫৪ অপরাহ্ন
ব্রকলি চাষ করে বিপাকে কৃষক হারুন
কৃষি বিভাগ

ব্রকলি পুষ্টিকর ও ক্যানসার প্রতিরোধক সবজি। সারাদেশে ব্রকলি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক। তবে অপরিচিত হওয়ায় সবজি হিসেবে এটি কিনতে মানুষ আগ্রহী নয়। এতে বিপাকে পড়েছেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের কৃষক মো. হারুন। তার খেতে প্রায় আড়াই হাজার ব্রকলি উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু বিক্রি করতে না পারায় বিপাকে রয়েছেন তিনি।

এদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ বাংলাদেশ কৃষক হারুনের উৎপাদিত ব্রকলি বিক্রি করতে সহযোগিতা করছে। তাদের উদ্যোগেই বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলা শহরের চকবাজার জামে মসজিদের সামনে ব্রকলি বিক্রির কথা রয়েছে।

জানা যায়, প্রথমবারের মতো কমলনগর উপজেলার চর লরেন্স ইউনিয়নের লরেন্স গ্রামের ৮ শতক জমিতে এসএসিপির উচ্চ মূল্যের ফসল (সবজি) উৎপাদন প্রদর্শনী হিসেবে ‘ব্রকলি’ চাষ করা হয়। গত নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে ব্রকলির বীজ রোপন করেন কৃষক হারুন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী তিন মাসেই ভালো ফলন এসেছে। তবে পুষ্টি সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এ সবজি কিনতে নারাজ মানুষ।

কৃষক হারুন জানান, ব্রকলি চাষে সফলতা এসেছে। কিন্তু বিক্রি করতে না পারায় এখনো উৎপাদিত ফসল নিয়ে বিপাকে পড়েছি। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকরা এটি চাষে আশা হারাবে। এটি উৎপাদনের পাশাপাশি মফস্বলসহ গ্রামাঞ্চলে পরিচিতি বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তবে ব্রকলি চাষে কৃষি অফিসাররা মাঠে এসে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। এটি উৎপাদনে পরিমাণ অনুযায়ী সার ও কীটনাশক ব্যবহার করলেই চলে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর অফিস সূত্রে জানা যায়, ব্রকলির পুষ্টিগুণ প্রচুর। গবেষকরা ব্রকলিকে বলছেন, আল্টিমেট ক্যানসার ফুড। প্রতিদিন ব্রকলি খেলে তা ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করে। ভিটামিন ‘কে’, ভিটামিন ‘সি’, ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম ও ফাইবারে পরিপূর্ণ এটি। ব্রকলির মধ্যে রয়েছে সালফোরাফেন যা ক্যানসার রুখতে সাহায্য করে। লো-ক্যালরির এই সবজি হার্ট ভালো রাখতেও সাহায্য করে। এটি দেখতে ফুলকপির মতো হলেও ফুলগুলো সাদার পরিবর্তে পাতার রংয়ের মতো গাঢ় সবুজ।

অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বীজতলায় ব্রকলির বীজ বপন করতে হয়। পরে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় মূল ক্ষেতে রোপন করা হয়। ৭৫ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে এতে ফুল আসে। মেধা-বিকাশ, চোখের দৃষ্টি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধিসহ মানবদেহের স্বাভাবিক পুষ্টি বজায় রাখার পাশাপাশি ব্রকলি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ফসল। এটি চাষ করার জন্য স্থানীয় কৃষকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাবু বলেন, হারুন তার উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারছেন না। এজন্য আমরা তাকে সহযোগিতার কথা বলেছি। আমাদের একটি টিম তার সঙ্গে থেকে সবজিগুলো বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে।

কমলনগর উপজেলা কৃষি অফিসার আতিক হাসান বলেন, ব্রকলি এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পরিচিত নয়। এর অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। এগুলো জানতে পারলে ভোক্তাদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি হবে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের মাধ্যমে এসব সবজির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা চালানো সম্ভব।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, কমলনগরে প্রথমবারের মতো উপযোগিতা যাচাইয়ের জন্য গ্রীন ক্রাউন জাতের ব্রকলি চাষ করা হয়েছে। কৃষক হারুনের পরিশ্রমে ব্রকলির ভালো ফলন পাওয়া গেছে। আশা করি কৃষক হারুনকে দেখে অন্য কৃষকরাও এ সবজি চাষে ঝুঁকবে। আমরা মার্কেটিং বিভাগ তার ফসল বাজারজাত করতে সহযোগিতা করছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৩, ২০২২ ১২:১৯ অপরাহ্ন
সরিষা ফুলে ঢেকে গেছে বিস্তীর্ণ চলনবিল
কৃষি বিভাগ

শীত মৌসুমের এই সময়ে সরিষার হলুদ ফুলে ঢাকা চলনবিল। মৌ মৌ গন্ধ চারদিক মাতিয়ে তুলেছে। হলুদ ফুলের মাঠে পাখা মেলেছে মৌমাছির দল। দৃষ্টিনন্দন এমন দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই চলনবিলে ভিড় জমাচ্ছে প্রকৃতিপ্রেমিরা। এদিকে, সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের জন্য সেখানে ব্যস্ত সময় কাটছে পাঁচশ’রও বেশি সংগ্রহকারীর। আহরণকৃত এসব মধু প্রক্রিয়াজাত করার জন্য প্লান্ট স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। 

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলার ৮টি উপজেলাজুড়ে বিস্তার চলন বিলের। শীত মৌসুমে এই বিলে পানি না থাকায় কৃষকরা নানা রকম ফসল বপন করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। চলনবিলে এবার প্রায় ৫৪হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে সরিষার। দিগন্ত জুড়ে ফুল ফুটেছে সেখানে। বয়ে যাচ্ছে হলুদ বর্ণের ঢেউ।

প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে দিনভর সরিষা ক্ষেতের পাশে ভিড় জমাচ্ছেন সববয়সী মানুষ।

এদিকে, সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করতে এরইমধ্যে চলনবিলে এসেছে পাঁচশ’রও বেশি মধু সংগ্রাহক। এই মৌসুমে কয়েক শ’ টন মধু আহরণ করবেন তারা।

জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে সবচেয়ে বেশি সরিষার চাষ হয় চলনবিলে। তাই হাজার হাজার মৌমাছির বাক্স স্থাপন করা হয় এই এলাকায়। সেখান থেকে আহরণ করা হয় মধু। এসব মধু প্রক্রিয়াজাত করার জন্য একটি প্লান্ট স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হানিফ।

তিনি জানালেন, মধু প্রক্রিয়াজাত করার এই প্লান্ট স্থাপন সম্পন্ন হলে অনেক কর্মসংস্থানও হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৩, ২০২২ ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
ঘনকুয়াশায় নষ্ট হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা
কৃষি বিভাগ

লালমনিরহাটে একটানা ঘনকুয়াশার কারণে, নষ্ট হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা। এরিমধ্যে অনেক চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া বীজ, সার ও জ্বালানি তেলের দাম বেশি হওয়ায়, আর্থিক সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। এতে চলতি মৌসুমে বোরোর আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। এদিকে, মাগুরায় ইরি ও বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত কৃষকরা। 

চলতি বোরো মৌসুমে লালমনিরহাট জেলায় ধানচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। এ লক্ষ্যে ২ হাজার ৩৯৫’ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। বীজতলা পরিচর্যার পাশাপাশি জমি প্রস্তুতের কাজ করছেন কৃষকরা।

তবে এবছর অতিরিক্ত মাত্রায় ঘনকুয়াশা ও বৈরী আবহাওয়ায় অন্তত ২৫ ভাগ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। পাতা হলুদ হয়ে পচন ধরায়, দুর্বল হয়ে পড়েছে ধানের চারা। সেইসাথে বীজ, সার ও জ্বালানি তেলের দাম বেশি হওয়ায় আর্থিক সংকটে কৃষকরা। ফলে চলতি মৌসুমে বোরোর আবাদ নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা।

ধানের চারা রক্ষায় কৃষকদের পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখাসহ বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

এদিকে, মাগুরায় ইরি-বোরোর বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ভালো ফলনের আশায় মানসম্মত চারা উৎপাদনে জোর দিচ্ছেন তারা। চলতি মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে বীজতলা বানানো হয়েছে। কুয়াশা থেকে বীজতলা রক্ষায় পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

মাগুরায় এবছর ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে রোবো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১২, ২০২২ ৪:২৮ অপরাহ্ন
অভয়নগরে সরকারি সার ওজনে কম দিয়ে বস্তাজাত
কৃষি বিভাগ

যশোরের অভয়নগর উপজেলা শিল্প শহর নওয়াপাড়া বাজার ফেরিঘাট সংলগ্ন শংকরপাশায় কার্গো থেকে সরকারি ইউরিয়া সার ওজনে কম দিয়ে বস্তাজাত করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সরকারি ইউরিয়া সার কার্গোতে শ্রমিক দিয়ে ডিজিটাল স্কেলের মাধ্যমে ওজন দিয়ে বস্তাজাত করে ড্যাম্পিং করা হচ্ছে। স্কেলে ওজন দেয়ার সময় দেখা যায় বস্তায় সার কম দেয়া হচ্ছে। প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি দেয়ার কথা থাকলেও ৪৮-৪৯ কেজি সার বস্তাজাত করে বস্তার মুখ সেলাই করে কার্গো থেকে ঘাটের উপরে ড্যাম্পিং করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিমত, বস্তাপ্রতি এভাবে কম দেওয়ার ফলে এ এলাকার কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব‍্যবস্থা না নিলে দুর্নীতিপরায়ন ব‍্যবসায়ীরা অঢেল অর্থের মালিক হবেন।

এ বিষয়ে শ্রমিকদের কাছে বস্তায় সার কম দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা জানি না, সার ক্যারিং কর্তৃপক্ষ যে ওজন বেঁধে দিয়েছে আমরা সে অনুযায়ী বস্তাজাত করছি। কম দেয়ার বিষয়ে অভয়নগর ট্রান্সপোর্টের মালিক হাজী খোকন সাহেব বলতে পারবেন। আমাদের যেভাবে বলেছে আমরা সেভাবে করছি।

এ বিষয়ে অভয়নগর ট্রান্সপোর্টের মালিক খোকন হাজীর সঙ্গে ফোনে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। সরকারি সার কম দিয়ে বস্তাজাত করা হচ্ছে জানতে চাইলে খোকন বলেন, ওজন কম দিয়ে সার বস্তাজাত করার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি কী কারণে বস্তায় সার কম দেয়া হচ্ছে।

ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, ‘এটা কৃষি কর্মকর্তা বলতে পারবেন, তার সঙ্গে কথা বলেন।’

অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সামদানী বলেন, ‘বস্তায় সরকারি সার কম দেয়ার কোনো নিয়ম নেই। আপনারা বিসিআইসির সঙ্গে যোগাযোগ করুন। না হলে ক্যারিং কন্ট্রাক্টারের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন। আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

পোটন ট্রেডার্সের খুলনা অঞ্চলের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আতাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, নির্ধারিত ওজনের বাইরে বস্তাজাত করা বেআইনি। এজন্য সংশ্লিষ্ট ব‍্যক্তি দায়ী, প্রতিষ্ঠান নয়।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop