১০:০৪ পূর্বাহ্ন

বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ১৭, ২০২২ ৫:৩৬ অপরাহ্ন
মেহেরপুরে ভ্রাম্যমাণ কৃষি হাসপাতাল
কৃষি বিভাগ

গাছেরও প্রাণ আছে। সেসব গাছের রোগ-বালাই দূর করতে মেহেরপুরের গ্রামে গ্রামে ভ্রাম্যমাণ কৃষি হাসপাতাল কৃষাণ-কৃষাণীদের পরামর্শ দিয়ে ফিরছেন এক উপ-সহকারী কৃষি অফিসার। শুধু কী মানুষেরই রোগ বালাই হয় , এমন প্রশ্নর সহজ উত্তর কৃষিবিদদের। যার প্রাণ আছে তারই রোগ আছে।

তাই মাটিরও প্রাণ আছে। আছে শাক সবজি, ফল মুল ও গাছের রোগ। এসব রোগেরও ওষুধ আছে। দেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। কৃষি বিজ্ঞানী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ পুষ্টি নিয়ে ভাবছে। এ ভাবনাতেই মেহেরপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ কৃষি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ হাসপাতালে কৃষির উৎপাদন, রোগ-বালাই রোধে দেয়া হচ্ছে চিকিৎসা। কৃষকরা সুফলও পাচ্ছে।  মেহেরপুর জেলায় দেশে প্রথম   ভ্রাম্যমাণ কৃষি হাসপাতাল।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার অলিনগর গ্রামে দেখা মেলে ভ্রাম্যমাণ কৃষি হাসপাতালের। উপ-সহকারী কৃষি অফিসার বকুল হোসেন গ্রামের কৃষাণীদের তাদের সবজির রোগ প্রতিরোধে করণীয় ও রোগাক্রান্ত সবজির রোগ প্রতিরোধে পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রতিদিনই কৃষাণীরা বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষের পরামর্শ ও বালাইনাশক ওষুধ নিচ্ছেন। চাষিরাও আসছে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালে।

সেখানে চিকিৎসা সহায়তা নিতে আসা কৃষাণী মোছাঃ মাজেদা খাতুন, শেফালী, শ্যামলী, রুমা, চায়না অভিন্নসুরে জানান- ভ্রামমাণ কৃষি হাসপালের  মাধ্যমে ফল ও সবজির  পোকা মাকড় দমনের জন্য বিষটোপ তৈরি, অন্যান্য ক্ষতিকর পোকা দমনের জন্য জৈব বালাইনাশক তৈরির কৌশল শিখেছি। এ সকল পোকা দমন পদ্ধতির মাধ্যমে রোগমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে পারছেন। রাসায়নিক সারের ব্যবহার বন্ধ করে জৈব সারে সবজি উৎপাদন করতে পারছেন।

অলিনগর গ্রামের সুফিয়া খাতুন বলেন- আমাদের কৃষি হাসপাতালের ডাক্তার প্রথমে বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষে গ্রামের কৃষাণীদের উদ্যোগী করেন। গত জুন মাসের পর থেকে প্রতি সপ্তাহে গ্রামে আসেন। বাড়ির আঙ্গিনার সবজির রোগ-বালায় প্রতিরোধে করনীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেন। রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈবসার তৈরী ও তার ব্যবহারবিধি শিখিয়েছেন। রোগ-বালাই হলে কোন সময় কোন ওষুধ দিতে হবে সেই পরামর্শ দেন।

একই গ্রামের রাহেলা খাতুন বলেন- তাদের বাড়ির আঙ্গিনায় উৎপাদিত রোগ ও  বিষমুক্ত সবজি কেনার জন্য অনেক লোকজন আসে। কিন্তু আমরা বাইরের চাহিদা মেটাতে পারিনা। গ্রামের মানুষের চাহিদা মেটাতে পারি। তিনি আরও বলেন- আগামীতে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে বিষমুক্ত জৈবসারের মাধ্যমে সবজি চাষ করবো।

ভ্রাম্যমাণ কৃষি হাসপাতালের চিকিৎসক উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ বকুল হোসেন বলেন- জৈব কৃষির বিস্তার অতিদ্রুত গ্রামীণ জনগষ্ঠীর দারপ্রান্তে পৌছানোর লক্ষ্যে পরামর্শ প্রদান করেন। হাত-কলমে ব্যবহার বিধি শেখানো হয়। ফলে গ্রাম অঞ্চলের মানুষ কম খরচে বিষমুক্ত নতুন নতুন জাতের ফল উৎপাদন করছেন। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে কালেকশন পয়েন্টের মাধ্যমে বাজার জাত করে কৃষক কৃষাণীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে।  কৃষিণীরা তাদের উৎপাদিত সবজি এ হাসপাতালে নিয়ে আসে। এখান থেকেই ভোক্তারা রোগমুক্ত সবজি ক্রয় করেন।

তিনি আরও বলেন- নতুন নতুন ফলের জাত আলু বোখারা, জাবাটিকাবা, শরিফা, এলাচ চাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এখন গাংনীতে এলাচফল চাষ শুরু হয়েছে। আগামী দু‘চার বছরের মধ্যে মেহেরপুরের মাটিতে এলাচ উৎপাদন হবে। তেরাইল ব্লকের বসত ভিটায়  ৫৫ হেক্টর অব্যবহৃত জায়গায় পুষ্টিকর সবজি বাগান করা হয়েছে। হরেক রকমের ফল ও শাকসবজি উৎপাদন হচ্ছে। চলতি মৌসুমে বাড়ির আঙ্গিনার  ৮০০ টন লাউ, ১০০ টন করলা, ২০০ টন শসা, ৫০০ টন টমেটো, ২৪৫ টন মূলা, ১৮০ টন পালং ৬০ টন বরবটি, ৬০ টন লালশাক, ৩৫০ টন পেপে, ৪০ টন গাজর উৎপাদন হয়েছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন- মেহেরপুরের মাটিতে সব ধরনের ফসল উৎপাদন হয়। কৃষি নিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয় সবসময়। মেহেরপুরের কৃষিতে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালের মাধ্যমে কৃষকদেরকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে জেলার সব ব্লকেই ভ্রাম্যমাণ কৃষি হাসপাতালের মাধ্যমে পরামর্শ দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৭, ২০২২ ৫:১১ অপরাহ্ন
কৃষকের ১০ হাজার তরমুজগাছ উপড়ে ফেললেন পাউবো প্রকৌশলী!
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দেলোয়ার খলিফা নামে এক কৃষকের ১০ হাজার তরমুজ গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।

রোববার দুপুরে কুয়াকাটা পৌরসভার পশ্চিম ধুলাসার গ্রামে ওই চাষির প্রায় ১৫ হাজার তরমুজগাছের মধ্যে ১০ হাজার গাছ উপড়ে ফেলা হয়।

কৃষক দেলোয়ার জানান, গত কয়েক বছর ধরে তিনি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঢালে বিভিন্ন সবজি চাষ করে আসছে। এখানে বন বিভাগের ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে গত দুই মাস আগে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করে তরমুজের চাষ শুরু করেন। শুরুতে বন বিভাগের স্থানীয় বিট অফিসার মোশাররফকে ১০ হাজার টাকাও দিয়েছেন। তারা প্রতিদিন সেখানে গিয়ে চাষের খোঁজখবরও নিতেন।

কৃষকের অভিযোগ, রোববার হঠাৎ কুয়াকাটা পাউবোর প্রকৌশলী মনির এবং তার সহযোগী সার্ভেয়ার হাসানসহ ৬-৭ জন এসে তার প্রায় ১০ হাজার গাছ একযোগে উপড়ে ফেলেন।

কৃষক দেলোয়ার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মুই হ্যাগো আতপাও ধইরা অনেক কানছি, কিন্তু হ্যারা আমার কোনো কতাই হোনে নাই। আমারে একটা মাস সময় দিলেই এই সর্বনাশটা মোর অইতে না। আমি এইয়ার বিচার চাই।’

দেলোয়ারের স্ত্রী সালমা বেগম জানান, তার স্বামীর সঙ্গে তিনি ওই জমিতে তরমুজ চাষে সহযোগিতা করেছেন। আর্থিক জোগান দিতে তিনটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে স্বামীকে দিয়েছেন। এখন এই ঋণ কি উপায় পরিশোধ দেবেন এই চিন্তায় তিনি অস্থির।

প্রতিবেশী নাসির মৃধা বলেন, তরমুজের গাছগুলো উপড়ে ফেলতে নিষেধ করে আমরা গ্রামবাসী সবাই অনুরোধ করেছি। আগামী এক মাসের মধ্যে এই গাছ থেকে ফলন পেতাম। কিন্তু প্রকৌশলী এবং তার লোকজনকে কোনো কথা শোনাতে পারিনি।

টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বন বিভাগের দায়িত্বে থাকা গঙ্গামতি ফরেস্ট বিটের মোশাররফ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো টাকাপয়সা নিইনি, এগুলো সব মিথ্যা। তাকে তরমুজ চাষে নিষেধ করার পরও তিনি গাছ লাগিয়েছেন। ওখানে ঘাস নষ্ট হওয়ার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী গাছ উপড়ে ফেলেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজে নিয়োজিত প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ওখানে তরমুজগাছ লাগিয়েছে আগে দেখিনি। সরেজমিন গিয়ে দেখে তরমুজগাছগুলো আমার লোকজনকে তুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন জানান, ওই স্থানে এখন প্রকল্প আওতাধীন কাজ চলমান। এ বিষয়ে তারা করণীয় নির্ধারণ করবেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক জানান, বিষয়টি জেনেছি। বিস্তারিত খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৭, ২০২২ ৪:৫৭ অপরাহ্ন
শিবচরে কৃষকদের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ
কৃষি বিভাগ

মাদারীপুর শিবচরে ২০২১-২২ অর্থবছরে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় ৫০% ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার পরিষদ চত্তরে ৫০% ভর্তুকির আওতায় বাছাইকৃত উপকারভোগী কৃষকদের মাঝে ৭টি মেইজ শেলার ও ২টি পাওয়ার থ্রেসার দেয়া হয়েছে।

মেশিন প্রাপ্ত কৃষকরা হলেন, উপজেলার শিবচর ইউনিয়নের আজিজ মাদবর, ভদ্রাসন ইউনিয়নের সোরোয়ার আলী, ভান্ডারিকান্দি ইউনিয়নের খোকন হাওলাদার, দত্তপাড়া ইউনিয়নের ফতে আলী, কাদিরপুর ইউনিয়নের আতাউর রহমান, বাঁশকান্দি ইউনিয়নের সেলিম পন্ডিত ও মাদবরেরচর ইউনিয়নের তৈয়ব আলী, কাঁঠাল বাড়ি ইউনিয়নের আব্দুল জলিল ও দেলোয়ার হোসেন।

শিবচর উপ‌জেলা নির্বাহী অ‌ফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান এর সভাপ‌তি‌ত্বে শিবচর উপজেলা কৃ‌ষি কর্মকর্তা অন‌ুপম রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপ‌স্থিত ছি‌লেন শিবচর উপ‌জেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম‌্যান বিএম আতাউর রহমান।

এসময় আরো উপ‌স্থিত ছি‌লেন, উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত উপকারভোগী কৃষক ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুপম রায় জানান, উপজেলায় ৭ জন কৃষকদের মাঝে ৭ টি মেইজ শেলার বিতরণ করা হয়। ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে যাবে এবং কৃষকের আয় বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৭, ২০২২ ৪:৩০ অপরাহ্ন
কৃষিতে স্বপ্ন বুনছেন মানিকগঞ্জের যুবকরা
কৃষি বিভাগ

কৃষিতে স্বপ্ন বুনছেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গিলন্ড এলাকার শিক্ষিত যুবকরা। উপজেলার গিলন্ড এলাকার যুবকরা উচ্চ শিক্ষিত হয়েও চাকুরির পিছনে না ছুটে কর্মস্থান করে নিয়েছেন। দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা। শুরুতেই ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে কুল ও পেয়ারার আবাদ শুরু করেন। কুলের ভাল ফলন ও সঠিক মূল্য পেয়ে কৃষিকর্মের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। 

তারা জানান, এখন আর চাকুরি করার ইচ্ছা নেই। আমাদের বাগানেই ১০ জন লোক চাকুরি করছেন। গিলন্ড এলাকার সানি কৃষি খামার এন্ড নার্সারি এর স্বত্বাধিকারী সানি রহমান মিন্টু বলেন, সরকারি কলেজ থেকে মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেও চাকুরির ব্যবস্থা হয়নি। অবশেষে কয়েক বন্ধু মিলে কৃষি কাজে নেমে পড়েছি। ১০ একর জমি লিজ নিয়ে কুল এবং পেয়ারার আবাদ করেছি। বাগান থেকেই কুল বিক্রি শুরু হয়েছে। ভাল দামও পাচ্ছি। কুল বিক্রি শেষ হলে সাথী ফসল হিসেবে শশা, বাঙ্গী, লাল শাকসহ অন্যান্য ফসল রোপন করা হবে।

অর্থনীতি বিষয়ে মাস্টার্স করা মোঃ ফরহাদ জানান, আগে একটি সরকারি চাকুরির লোভ ছিল। এখন কোন ধরনের চাকুরির ইচ্ছা নেই। মনে হচ্ছে এখান থেকেই আমাদের উজ্জল ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে। আমাদের বাগানে বলসুন্দরী, কাশ্মিরী, টকমিষ্টি, বাউকুলসহ বিভিন্ন জাতের কুল রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এগুলোর চারা আনা হয়েছে চুয়াডাঙ্গা থেকে। এখন থেকে আমরাই কলম করে চারা সারা জেলায় ছড়িয়ে দিতে পারবো। এবার আরোও বেশি করে  জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদের পরিধি বাড়ানো হবে। আগে যারা আমাদের পাগল বলতো সফলতা দেখে তারা এখন প্রতিদিন বাগানে এসে উৎসাহ দিচ্ছেন। আমাদের দেখে অনেকের মধ্যেই আগ্রহ দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের লোকজন সবসময় খোঁজখবর নিচ্ছেন। ফোন দিলে বাগানে চলে আসেন।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর কুল ও পেয়ারার আবাদ বাড়ছে। এ বছর জেলায় ৮১ হেক্টর জমিতে কুল ও ২৩২ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৭, ২০২২ ৪:০২ অপরাহ্ন
ঝিনাইদহে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে রবিশস্যের চাষ
কৃষি বিভাগ

ঝিনাইদহে মৌসুমের শুরুতেই বৈরি আবহাওয়া এবং অতি বৃষ্টির কারণে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে রবিশস্যের চাষ। ডিসেম্বরের শুরুতে অতি বৃষ্টির জন্য নষ্ট হয়েছে জেলার শতকরা ৮০ ভাগ জমির ফসল। এতে করে চরম লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। আগামীতে খেসারি, মশুরি, গম, মটরসহ অন্যান্য রবিশস্যের অস্বাভাবিক ঘাটতির আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলার ছয় উপজেলার মাঠে চাষ হওয়া গম ৪৩৫৪ হেক্টরের মধ্যে ৪০০৭ হেক্টর, সরিষা ৯১৭১ হেক্টরের মধ্যে ৭৮৩৮, মশুর ৭৫৭৩ হেক্টরের মধ্যে ৬৭৫৫, খেসারি ৫৮৯ হেক্টরের মধ্যে ৪৯৫, মটর ৪৩৩ হেক্টরের মধ্যে ৩৮৮, মরিচ ৫৮৮ হেক্টরের মধ্যে ৪৫৫ এবং আলু ১৩৭৩ হেক্টরের মধ্যে ৯৮৬ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও ক্ষতির তালিকায় অন্যান্য ফসলও রয়েছে। রবিশস্য আবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলার ৪৯ হাজার ৪৪৭ জন কৃষক। গত ৫ ডিসেম্বরের ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে পানি জমে থাকায় এসব ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলছে কৃষি বিভাগ বলছে।

সাধারণত ১৬ অক্টোবর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময়কালকে রবি মৌসুম বলা হয়। এই সময়ের মধ্যে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হয় রবিশস্যের আবাদ। এই আশায় যথারীতি কৃষকরা ভালো ফলনের আশায় কেউ জমি চাষ করে গম বপন করেছিলেন, কেউবা মশুরি, সরিষা কিংবা আমন ধানের ক্ষেতে ছিটিয়ে ছিলেন খেসারির বীজ। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ায় তা নষ্ট হলে আবার তারা ক্ষেতে বীজ বপন করলেও অধিকাংশ ফসলই নষ্ট হয়ে যায়। কোনো কোনো এলাকায় কিছুটা মশুরি থাকলেও পাতা হলুদ হয়ে মরে যাচ্ছে গাছ। তবে খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি সরিষা ক্ষেত।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার যুগনী গ্রামের কৃষাণী রিনা বেগম জানান, অন্যের জমি লিজ নিয়ে ফসল চাষ করে চালান নিজের সংসার। রবি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় এক বিঘা জমিতে খেসারির বীজ ছিটিয়ে ছিলেন। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে পানি জমে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। পানি সরে গেলে পরে আবার খেসারির বীজ ছিটালেও মাটি ভেজা থাকায় তা আর অঙ্কুরিত হয়নি।

একই গ্রামের কৃষক তরিকুল জোয়ার্দার বলেন, ছয় বিঘা জমিতে দুইবার করে খেসারি আর কলই বীজ ছিটিয়ে ছিলেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু ফসল নষ্ট হয়ে তার পুরো টাকা লোকসানে গেছে।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আজগর আলী জানান, মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা বৈরি আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানি সরে গেলে পরে অনেকেই আবার নতুন করে আবাদ করলেও সময় পার হওয়ায় সেখানেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৭, ২০২২ ৩:১৮ অপরাহ্ন
কালাইয়ে গাছে গাছে আমের মুকুল
কৃষি বিভাগ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে গাছে গাছে মুকুল দেখা দিতে শুরু করেছে। এখন সময়ের ব্যবধানে তা আরও বাড়ছে। গতবছর চেয়ে এবছর আমগাছে মুকুলের পরিমাণ কিছুটা বেশি। গাছে গাছে ফুটছে আমের ছোট বড় অনেক মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের ঘ্রাণ। 

আমচাষি এবং সংশ্লিষ্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবার আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তবে আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছর আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আর একারণেই আশায় বুক বেধে আমচাষিরা শুরু করেছেন পরিচর্যা। তাদের আশা, চলতি মৌসুমে তারা আম থেকে অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হবেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আম বাগানের সারি সারি গাছে শোভা পাচ্ছে কেবলই ছোট বড় অনেক মুকুল। ঐসব আমগাছে পুরো মুকুল ফুটতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। আমগাছের ফুলের সৌরভ ছড়াচ্ছে আমেরমুকুলে। এযেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে মুকুলে আছে গাছের প্রায় প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। মুকুলের সেই সুমিষ্ট সুবাস আন্দোলিত করে তুলছে মানুষের মন। এবার মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে আমবাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলোতে। আম আম্রপালি, নেংড়া, হাড়িভাঙ্গা, বারি-৪,বারি-৫, বারি-২, ফজলি ও আশ্বিনা জাতেরই গাছ রয়েছে। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে আমচাষিরা চোখে ভাসছে স্বপ্ন।

উপজেলার মাত্রাই গ্রামের মিলন, জয়পুর-বহুতি গ্রামের এনামুল ও রাঘবপুর গ্রামের তাজুলসহ অনেকেই আম চাষি জানান, এবার আগেভাগে মুকুল এসেছে। এখন আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ আম গাছে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের বাগানের অধিকাংশ গাছ-ই এরইমধ্যে মুকুলে ছেয়ে গেছে। এবার কুয়াশা কম থাকায় মুকুল ভালোভাবে ফুটছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর তারা আমের বাম্পার ফলন পাবেন বলে তারা আশা করছেন।

কালাই উপজেলার কৃষি অফিসার মোছা.নীলিমা জাহান বলেন, আমের মুকুল আসার আগে-পরে যেমন আবহাওয়ার প্রয়োজন, এ বছর তা বিরাজ করছে। জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত আম গাছে মুকুল আসার আদর্শ সময়। এ সময়ে মুকুলের প্রধান শত্রু হচ্ছে কুয়াশা। এখন পর্যন্ত কুয়াশা কম এবং আকাশে উজ্জ্বল রোদ থাকায় আমের মুকুল ভালো ফুটছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আম চাষিরা সময়মতো আমগাছে পরিচর্যা করলে চলতি মৌসুমে আমের ভালো ফলন পাবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৭, ২০২২ ২:১৫ অপরাহ্ন
বোরো আবাদে ভূগর্ভস্থ পানিস্তরের অবনমন হয় না : কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, বোরো ধান চাষে ভূগর্ভস্থ পানিস্তরের অবনমন হয় না। প্রতি কেজি বোরো ধান উৎপাদনে প্রায় ৩০০০ থেকে ৫০০০ লিটার সেচের পানির প্রয়োজন হয় বলে ধারণা (মিথ) প্রচলিত ছিল। কিন্তু ব্রির গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের নিয়ন্ত্রিত সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাত্র ১০০০ থেকে ১৬০০ লিটার সেচের পানি দিয়ে কৃষকরা সফলভাবে ১ কেজি ধান উৎপাদন করছেন।

শুধু সেচ বিবেচনায় এই পানির প্রয়োজন আরো কম। যার মধ্যে আনুমানিক ৪০ শতাংশ (৪০০ থেকে ৬৫০ লিটার) সীপেজ ও পারকুলেশনের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে মিশে যায়। সুতরাং ধান উৎপাদনে প্রকৃত পানির প্রয়োজন হয় ৫৫০ থেকে ৬৫০ লিটার/কেজি। অতএব, বোরো ধান চাষে পানির অপচয় নিয়ে যে সমাজে প্রচলিত বিভ্রান্তি ছিল ব্রি ও সহযোগী সংস্থাগুলোর এই গবেষণা ফলাফলের মাধ্যমে অবসান হবে।

রবিবার (১৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এবং অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিএসআইআরও), ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ড (ইউএসকিউ), এসিএআইআর ও অস্ট্রেলিয়ান এআইডির সহযোগিতায় আয়োজিত ‘উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানির স্থায়িত্ব এবং ধান উৎপাদন’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জুম প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন- কৃষিসচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো. বখতিয়ার, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান এ এফ এম হায়াতুল্লাহ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বেনজীর আলম এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুর রশীদ।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বোরো ধানে পানির অপচয় নিয়ে যে বিভ্রান্তি সমাজে প্রচলিত ছিল ব্রি ও সহযোগী সংস্থার এই গবেষণা ফলাফলের মাধ্যমে সে বিভ্রান্তির অবসান হবে।

তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ এই সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের উচিত এ ধরনের বিভ্রান্তি নিরসনে একযোগে গবেষণার কাজ পরিচালনা করা।

বিশেষজ্ঞ প্যানেলে যুক্ত ছিলেন প্রফেসর ইমিরেটাস ও সাবেক উপাচার্য, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ড. এম এ সাত্তার মণ্ডল এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. হামিদুর রহমান। ওয়েবিনারে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং প্রধান ড. মো. মনিরুজ্জামান, এবং কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিএসআইআরও) অস্ট্রেলিয়ার প্রিন্সিপাল রিসার্চ সায়েন্টিস্ট ড. মো. মাঈন উদ্দিন।

বিশেষজ্ঞ প্যানেলের আলোচনায় প্রফেসর ইমিরেটাস ড. এম এ সাত্তার মণ্ডল বলেন, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার জন্য বোরো ধানের আবাদই একমাত্র দায়ী নয়। শুষ্ক মৌসুমে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-নালা, খাল-বিলে পানির প্রবাহ কম থাকায় বেজ ফ্লো হিসেবে ভূ-গর্ভস্থ পানির একটি অংশ নদীতে চলে যাচ্ছে। ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে বন্যার পানি প্রথমে ভূ-গর্ভস্থ পানির সেই খালি জায়গা পূরণ করার ফলে বন্যার তীব্রতা হ্রাস পাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. হামিদুর রহমান বলেন, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে টেকসই ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগসহ ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। নদী-নালা, খাল-বিলে পানির সংরক্ষণের পরিমাণ ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাফল্যজনকভাবে ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদ সম্ভব হবে।

কর্মশালার দুই প্রবন্ধকার জানান, কৃষিকাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির অধিক ব্যবহারের ফলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোনো কোনো জায়গায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর কিছুটা নিচে নেমে যাচ্ছে। এ সমস্যাকে সামনে রেখে ভূ-গর্ভস্থ পানির সুষ্ঠু ব্যবহার, ধান উৎপাদনে প্রকৃত পানির পরিমাণ ও স্বল্প খরচে ধান উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ব্রি ও অস্ট্রেলিয়ার সিএসআইআরো এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ড (ইউএসকিউ) এবং এসিআইএআর, অস্ট্রেলিয়া গত পাঁচ বছর ধরে কয়েকটি গবেষণা কাজ সম্পন্ন করেছে।

এসব গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, বিগত ১০ বছরে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বোরোর এলাকা বাড়েনি, তবে উন্নত জাতসহ অন্যান্য কারণে বোরোর ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তা ছাড়া বোরো ধানের উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্যবহার ও ক্রপিং প্যাটার্নভিত্তিক ফসল চাষাবাদের মাধ্যমে জমির উৎপাদনশীল ও ফসলের পানি ব্যবহার দক্ষতা আরো বাড়ানো সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে ব্রি মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর বলেন, সারা দেশে বোরো ধান চাষে সেচের পানির ব্যবহারের ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে- এ ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা ঠিক নয়। শুধু ঠাটা বরেন্দ্র অঞ্চলে কিছু এলাকায় এটি হতে পারে। ভূ-গর্ভস্থ অ্যাকুয়াফায়ারগুলো পানির রিজার্ভার হিসেবে কাজ করে। সুতরাং এসব  নেতিবাচক প্রচারণায় বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

এ সময় জুমে আরো যুক্ত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, অধীন সংস্থা ও দপ্তরগুলোর প্রধানগণ অন্যান্য জাতীয় ও অন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রধানরা; বিভিন্ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন বিজ্ঞানীরা; প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাসহ ব্রি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৬, ২০২২ ৪:০৬ অপরাহ্ন
নড়াইলে ৪৮ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
কৃষি বিভাগ

চলতি বোরো মৌসুমে জেলার তিন উপজেলায় ৪৮হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

ইতোমধ্যে কৃষকরা জমিতে বোরোর চারা লাগানোর কাজ শুরু করেছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকার জমিতে ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২১-২০২২ মৌসুমে জেলার তিন উপজেলায় ৪৮ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২লাখ ১২ হাজার ৫৩৭ মেট্রিক টন চাল।উপজেলাওয়ারী : নড়াইল সদর উপজেলায় ২১ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে ৯৩ হাজার ৯৩০ টন চাল, লোহাগড়া উপজেলায় ১০ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে ৪২ হাজার ৩৬ টন চাল এবং কালিয়া উপজেলায় ১৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে ৭৬ হাজার ২৪৭ টন বোরোর চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

সূত্রে আরো জানা গেছে, এ জেলার কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল জাতের বিরি ধান-২৮, বিরি ধান-২৯, বিরি ধান-৫০, বিরি ধান-৫৮, বিরি ধান-৮৯, বিরি ধান-৮১, বিরি ধান-৭৪ এবং হাইব্রিড হীরা, তেজ, সাথী, জিনজেনটা জাতের বোরো ধানের চারা লাগাচ্ছেন।

নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার রায় বলেন, আমন ধান কাটার পর কৃষকরা বোরো ধান লাগানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন।এ জেলায় প্রতি বছর বোরো ধানের ফলন ভালো হয়ে থাকে।এবছর বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছড়িয়ে যাবে।বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক কৃষকদের বোরো চাষের জন্য কৃষি লোন প্রদান করেছে।কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বোরো চাষে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৬, ২০২২ ৩:০৫ অপরাহ্ন
কুমিল্লার লালমাইয়ের চাষিরা চাল কুমড়া চাষে ঝুঁকছেন
কৃষি বিভাগ

 যতদূর চোখ যায় চারিদিকে সবুজ আর হলুদের হাতছানি। থোকা থোকা সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে রয়েছে অজস্র হলুদ রঙের ফুল। তবে এ দৃশ্যটি কোনো ফুলবাগানের নয়, সবজি চাল কুমড়া ক্ষেতের দৃশ্য এটি। কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ী এলাকা জুড়ে চাষ হয়েছে শীতের সবজি চাল কুমড়া। অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি গৃহস্থরাও চাল কুমড়া চাষ করছেন।

লালমাই এলাকার চাষি সিরাজুল ইসলাম। তিনি কয়েক বছর আগে শখের বশে  চাল কুমড়া চাষ করে লাভবান হওয়ার পর থেকে প্রতিবছরই বাণিজ্যিকভাবে চাল কুমড়া চাষ করছেন। বিগত কয়েক বছর ৫০ হাজার  টাকা করে খাটিয়ে প্রতিবার দেড় লাখ টাকার বেশি কুমড়া বিক্রি করতে পারছেন। প্রতি কাঠা জমি চাষ করতে ১০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। কৃষক রমিজ মিয়া গত নভেম্বরের মাঝামাঝি ৩০ শতক জমিতে চাল কুমড়ার চারা রোপণ করেছিলেন তিনি। পরে সেই জমিতে চারাগুলোর ওপরে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে মাচা তৈরি করে দেন। চারাগুলো গাছ হয়ে এখন সেই মাচায় উঠছে। ফুলের সঙ্গে কোনো কোনো গাছে চাল কুমড়াও ঝুলছে এখন।

রমিজ মিয়া চারা রোপণ করার সময় জমিতে ৩০ কেজি টিএসপি সার ব্যবহার করেছিলেন। পরে গাছে ফুল আসার আগে আরও একবার সার ব্যবহার করা হয়। এছাড়া পোকার আক্রমণ থেকে গাছ ও চাল কুমড়া রক্ষা করতে সপ্তাহে একবার কীটনাশক প্রয়োগ করা হয় ক্ষেতে। সাড়ে তিন ফুট দূরত্বে রোপণ করা চারার একেকটি সারির দূরত্ব রাখা হয়েছে চার ফুট। আর ৮/১০ দিনের মধ্যে তারসহ অন্যান্য লোকের ক্ষেত থেকে চাল কুমড়া বিক্রি শুরু হবে। আর তখন স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে যাবে লালমাই এলকায় চাষ করা চাল কুমড়া।

রমিজ মিয়া বলেন, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান নিয়ে এসে ব্যবসায়ীরা চাল কুমড়া পাইকারি দামে কিনে নিয়ে যাবেন।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, লালমাই এলাকার মানুষ বাণিজ্যিক চিন্তা ছাড়াও বাড়িঘরের আঙিনায় চাল কুমড়া চাষ করে আর্থিক দিক থেকে হচ্ছেন লাভবান। এতে একদিকে সবজির চাহিদা যেমন পূরণ হচ্ছে, ঠিক তেমনি পূরণ হচ্ছে আর্থিক চাহিদাও।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৬, ২০২২ ১:৩৬ অপরাহ্ন
কমলা চাষ করে সফল লেবু মিয়া
কৃষি বিভাগ

ভারতের দার্জিলিং থেকে পাহাড়ি কমলার চারা এনে চাষ হচ্ছে নীলফামারীর সমতল ভূমিতেই। নীলফামারীর সমতল ভূমিতে সাদকি কমলা চাষে সফল ব্যক্তিটির নাম লেবু মিয়া। জেলা সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের কচুকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে রয়েছে ‘এ আর মামুন নার্সারি’। ওই নার্সারির একটি অংশে গড়ে তুলেছেন কমলার বাগান। সে বাগানে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় পরিপূর্ণ পাকা কমলা।

২০১৩ সালে ভারতের দার্জিলিং থেকে সাদকি জাতের কমলার চারা এনে রোপণ করেন তার নার্সারিতে। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে চারা তৈরীর পর এখন পরিপূর্ণ ফল পেতে শুরু করেছেন ৬০টি গাছের। আরও একটি অংশে নতুন করে রোপণ করেছেন ৬০০ চারা। বর্তমানে তার নার্সারিতে প্রস্তুত রয়েছে ৩০ হাজার সাদকি কমলার চারা। যা বিক্রি করছেন। এছাড়া কমলা এবং মাল্টাসহ আরও লক্ষাধিক চারা প্রস্তুত করেছেন, যা আগামী তিন মাসের মধ্যে জমিতে লাগানোর জন্য উপযুক্ত হবে। প্রসার এখানেই থেমে থাকেনি, তিনি আরও ১২ বিঘা জমি চুক্তিতে নিয়ে গড়ে তুলেছেন লিচু বাগান। তার বাগানে ফলজ, বনজ, ঔষধিসহ প্রায় ৬০০ প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে।

নার্সারির মালিক লেবু মিয়া জানান, এক বিঘা জমি চুক্তিতে নিয়ে শুরু করেন নার্সারি ব্যবসা। দিনে দিনে তার নার্সারির প্রসার ঘটতে থাকে। বর্তমানে সাড়ে ১৩ বিঘা জমি ক্রয় করে বৃদ্ধি করেছেন নার্সারির এলাকা। সকল খরচ বাদে প্রতিবছর আয় হয় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাগানের প্রতিটি গাছে গাছে হলুদ কমলা ঝুলে আছে দেখতেই খুব সুন্দর লাগছে। ভারতীয় জাতের এ ফল মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে চাহিদাও বেশি। আরও আকৃষ্ট হচ্ছেন সবুজে ঘেরা নার্সারির চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা চায়না কমলা, মাল্টা, ত্বিন ফল, পেঁপে, মিষ্টি লেবুসহ বিভিন্ন ফল ও ফুল দেখে।

ওই গ্রামের আব্দুল মতিন বলেন, ‘শুধু এলাকার মানুষ নয়, দূর দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসছেন বাগান দেখতে। তারা এখানে এসে আকৃষ্ট হচ্ছেন গাছের সৌন্দর্যের প্রতি। এমন টানে নার্সারি থেকে চারা কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।’

এ আর মামুন বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীদের মাধ্যমে ফলের চারা সংগ্রহ করি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে বাগানে লাগাই। ওই গাছের চারা উৎপাদন করে বাজারজাত করি। আমাদের বাগানের সাদকি কমলা খুবই সাড়া ফেলেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ চারা সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, নীলফামারী জেলার মাটি লেবু জাতীয় ফল চাষের জন্য উপযোগী। এখানে আবহাওয়া এবং মাটি অনুকুলে থাকায় প্রচুর কমলার চাষ হচ্ছে। জেলা সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের মামুন নার্সারি দার্জিলিং এর সাদকি জাতের কমলা চাষে সফল হয়েছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop