৫:৩৪ অপরাহ্ন

শনিবার, ১৪ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ১০, ২০২২ ৪:০৪ অপরাহ্ন
রপ্তানি বন্ধ, রাজবাড়ীর পানচাষিরা ভাল নেই
কৃষি বিভাগ

আবহাওয়ার অনুকুল পরিবেশ ও বিদেশে মিষ্টি পানের ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পান চাষিরা দিন দিন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিলো। তবে, করোনার প্রভাবে বিদেশে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ও দাম কম থাকার কারণে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। এতে অনেক চাষি পান বরজ ভেঙে অন্যচাষে ঝুঁকছেন।

জানা গেছে, মিষ্টি পান চাষে উর্বর ভূমি হিসেবে পরিচিত বালিয়াকান্দি উপজেলা। এ অঞ্চলের পানের সুখ্যাতি বহু পুরনো। এখানে সাধারণত দু’জাতের পান উৎপাদন হয়। মিষ্টি পান আর সাচি পান। এখানকার মিষ্টি পান চাহিদা মিটিয়ে ৮টি দেশে রপ্তানি হতো। মিষ্টি পান রাজবাড়ী জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার চাহিদা মিটিয়ে ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, নেপাল, সৌদি আরব, মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করা হতো। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হতো।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলাতে ৮৮ হেক্টর জমিতে মিষ্টি পান ও সাচি পানের আবাদ করা হয়েছে। ৬৫৮টি মিষ্টি পানের বরজ, ১৫৬টি সাচি পান বরজসহ ৮১৪টি বরজে পান চাষ করা হচ্ছে।

পান চাষি  আ.খালেক ও শহীদ শেখ জানান বালিয়াকান্দি উপজেলার আড়কান্দি, বেতেঙ্গা, চরআড়কান্দি, ইলিশকোল, স্বর্প বেতেঙ্গা, খালকুলা, বালিয়াকান্দি, বহরপুর, যদুপুর এলাকায় ব্যাপক পানের আবাদ হয়।

এসব চাষিরা পূর্ব পুরুষের আমল থেকে পানের চাষ করে আসছেন। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে অনেকেই এখনও পান চাষ করছেন।

পানচাষি সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, গত বছর করোনার কারণে পানে লোকসান গুনতে হয়। আগে বিদেশে প্রচুর চাহিদা থাকলেও এখন আর পান বিদেশে পাঠাতে পারছি না। দাম না থাকার কারণে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে।

তিনি জানান, অর্থকরী ফসল পান হলেও কোন সহযোগিতাই পাননা তারা। কৃষি অফিস থেকেও কোনো প্রকার সহযোগীতা মেলে না। সরকারিভাবে তাদেরকে সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করলে পান চাষকে আরো লাভজনক ও জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আনোয়ার হোসেন বলেন, এখানকার মিষ্টি পান এলাকার চাহিদা মিটিয়ে অনেক দেশে রপ্তানি করা হতো। এখন রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। তবে পান রপ্তানির চেষ্টা অব্যহত রয়েছে। পানচাষিদের সব সময় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ প্রদান করছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১০, ২০২২ ৩:২৫ অপরাহ্ন
পদ্মার চরে অনাবাদি জমিতে কুল চাষে বিপ্লব
কৃষি বিভাগ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরের মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়ন। রোদ আর তপ্ত বালুর কারণে বছরের পর বছর পদ্মার চরে পাঁচ হাজার ২৮৬ হেক্টর জমি অনাবাদি ছিল।

তবে বর্তমানে এই জমিতে কম খরচে বেশি লাভের আশায় চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরে আপেল, বাউ ও থাই জাতের কুল চাষ করে বিপ্লব ঘটিয়েছেন চাষিরা। এই জমি থেকে চলতি মৌসুমে এক কোটি টাকার কুল বিক্রির আশা করছেন তারা।

একই জমিতে পেঁয়াজ, রসুন, মসুর, গম, সরিষা, আখ, ধান, হলুদ, আদা ও শাকসবজিও চাষ হচ্ছে।

জানা যায়, পদ্মার চরে কুল চাষে আত্মনিয়োগ করেছেন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা। পতিত জমিতে কুল চাষ করে একদিকে চাষিরা আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন, অন্যদিকে পুষ্টির ঘাটতি পূরণসহ জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। কম খরচে বেশি লাভের আশায় চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরে আপেল, বাউ ও থাই জাতের কুল চাষ করে নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছে।

পদ্মার চরের কুলচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বালুযুক্ত পদ্মার চরে একসময় অন্য ফসল করতে হিমশিম খেতে হয়েছে। বর্তমানে এই পদ্মার চরে কুল চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে শফিকুল ইসলাম, আবদুর রাজ্জাক, জামাল উদ্দীন, সোনা মিঞা, ইউসুফ আলী, আশরাফুদৌলার মতো অনেকে। পদ্মার চরে এখন সোনার ফসল ফলানো যায়; তা প্রমাণ করছেন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা।

সোমবার পদ্মার চরে সরেজমিন কুলবরই চাষের নতুন বিপ্লব চিত্র দেখা যায়। কুলচাষিরা কেউ বাজারজাত করার জন্য গাছ থেকে নামাচ্ছেন, আবার কেউ পরিচর্চা করছেন।

কুলচাষি শফিকুল ইসলাম ছানা বলেন, আমি পদ্মার চরে ১০৪ বিঘা জমিতে বরই চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। তবে বিঘাপ্রতি গড় উৎপাদন আশা করছি ১৩০-১৫০ মণ। চলতি মৌসুমে প্রায় এক কোটি টাকার কুলবরই বিক্রির আশা করছি।

তিনি বলেন, মৌসুমে প্রথম দিকে আপেল কুলের বাজার ছিল প্রতি মণ এক হাজার ৫০০ টাকা। মাঝামাঝি সময়ে তা কমে এক হাজার ২০০ টাকায়। তবে বাউ ও থাই কুলবরই বাজার ভালো আছে।

গড়গড়ি গ্রামের জামাল উদ্দীন ৪০ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন বলেন জানান তিনি।

বাউসা গ্রামের মুনজু সরকার সমতল জমিতে ২০ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন। তিনি এমএ পাস করে কৃষিকে পেশা হিসেবে নিয়ে লাভবান হচ্ছেন বলে জানান।

আরেক কুলচাষি সোনা মিঞা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সফল হয়েছি। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখানকার কুল বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলার বাউসা সরকারপাড়া গ্রামের মিঠুন আলী বলেন, আমি ধান, পেঁপে, কলা ও গরুর খামারের পাশাপাশি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে গত মৌসুমে মাত্র ১৬ শতাংশ জমিতে আপেল কুল চাষ করেছি। এই মৌসুমে প্রায় অর্ধ লাখ টাকার কুল বিক্রির আশা করছি। তবে আমার কুল বাগান দেখে এলাকার অনেকে কুলচাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয়েছে। এর মধ্যে পদ্মার চরে চাষ হয়েছে ৭০ ভাগ। তবে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি আর্থিকভাবে কুল চাষেও আগ্রহী হচ্ছে চাষিরা। কুল চাষের গবেষণা চালিয়ে উন্নত জাত সৃষ্টি করে আবাদ করলে আমের মতো বিদেশে রপ্তানি করে অর্থনৈতিকভাবে চাষিদের স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করব।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১০, ২০২২ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ মাঠে সরিষার চাষ
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে সরিষার আবাদ। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষে ঝুঁকছেন৷ এবারে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আর ক্ষেতে রোগ-বালাই কম হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

দিনাজপুরের দক্ষিণাঞ্চলে সবচেয়ে বেশী সরিষার চাষ হয় হাকিমপুর উপজেলায়। এ বছর সেখানে  ৮৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। তবে চাষ হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে।

চাষীরা জানালেন, সরিষা চাষে খরচ কম ও লাভ বেশী হয়। তাই এতে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। এদিকে, সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোমতাজ সুলতানা। ঋণ সহায়তা পেলে সরিষার আবাদ আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন চাষীরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৯, ২০২২ ৪:৫৬ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ে বোরো বীজতলা নষ্টের আশঙ্কা
কৃষি বিভাগ

গত ৮-৯ দিন ঠাকুরগাঁওয়ে টানা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা নষ্টের উপক্রম হয়েছে। এছাড়াও কুয়াশা পড়ার কারনে বীজতলায় ঠান্ডা পানি জমছে। এই পানির কারনে চারা তুলনামুলকভাবে বড় হচ্ছে না। মৌসুমের শুরুতেই এমন হওয়ায় কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পরেছেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এবছর সতর্কতামুলক ব্যবস্থা হিসেবে বীজতলা প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন কৃষকেরা। এতে করে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে বলে ধারণা করছেন তারা। ঠাকুরগাঁওয়ে বেশ কয়েকদিন থেকে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাপমাত্রা ৮ থেকে ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। এ অবস্থায় জেলার কৃষকেরা বোরো ধানের বীজতলা নষ্টের আশংকা করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ইতিমধ্যে কৃষকদের শুকনো, ভেজা, ভাসমান তিন ধরনের বীজতলার বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। বীজতলা তৈরীতে স্থান, জমি তৈরী, শেড তৈরী, সার প্রয়োগ, বীজ বপন, বীজ জাগ দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে কৃষকদের। এছাড়াও শুকনো বীজ একটানা কত ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং কোন জাতীয় স্থানে রাখতে হবে সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য তাদের প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ভাল চারা উৎপাদনের জন্য বীজের ভ্রনজাগরিত বিষয়ে দিক নির্দেশনা নিয়মিত প্রদান করা হয়।

সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের লস্করা গ্রামের কৃষক হরেন জানান, প্রত্যেক বছর কমপক্ষে আড়াই বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগান। এ বছরও তিনি বোরো ধানের বীজতলা তৈরী করেছেন। তীব্র শীতে চারা মারা যাওয়ার আশংকা করছেন। তবে শীতের প্রকোপে চারাগুলি বড় হচ্ছে না বলে জানান তিনি। শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেলে চারা আরও ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাসেল ইসলাম জানান, এ বছর ঠাকুরগাঁওয়ে বোরো বীজতলার জন্য ২ হাজার ৭৯২ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৮১৫ হেক্টর জমিতে।

অন্যদিকে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয় ৫৯ হাজার ১১৪ হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ মেট্রিক টন। যা গত বছরে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন জানান, কৃষি বিভাগ থেকে ইতিমধ্যে কৃষকদের বিভিন্ন তথ্য প্রদানসহ সহযোগিতা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত শীতের কারণে কোল্ড ইনজুরিতে বোরো বীজতলার তেমন একটা ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তিনি জেলার কৃষকদের প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে দেওয়ার প্রশংসা করে জানান, বড় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমনের মত বোরো ধানেরও বাম্পার ফলন হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৯, ২০২২ ৩:১৮ অপরাহ্ন
তিতায় জীবন মিঠা
কৃষি বিভাগ

করলা অনেকেরই অপছন্দ কারণ তিতা বলে। কিন্তু এ তিতাই জীবন মিঠা করে দিলো জালাল হাওলাদারের।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে রয়েছে করলা। বাজারে দাম বেশি পাবার আশায় এলাকার কৃষকরা ধান আলুর পাশাপাশি বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন সবজি চাষ করে আসছে। তার মধ্যে অন্যতম করলা। তবে উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগীতায় দেশী করলার চাষের পাশাপাশি উন্নত জাতের করলা চাষে উৎসাহী হয়ে উঠেছে কৃষকরা।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগীতায় উচ্চ মূল্যের ফসল (সবজি) উৎপাদন প্রদর্শনী ও স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার উত্তর দেউলী গ্রামে ৫০ শতক জমিত উন্নত জাতের পায়রা-২ করলার চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন জালাল হাওলাদার।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে করলার চাষ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক করলার চাষ হয়েছে। স্থানীয় করলাসহ বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড করলা চাষ করে থাকে কৃষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে ব্যাপক করলার চাষে সবুজের সমারাহ। অনেক কৃষকই এই করলা চাষ করে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। এদের মধ্যে জালাল হাওলাদার একজন। তিনি ব্যাপকভাবে করলার চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

জালাল বলেন, গত ভাদ্র মাসের শেষের দিকে জমি প্রস্তুত করে করলার চারা রোপণ করেন। মাঝেমাঝে বৃষ্টিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। সুযোগ বুঝে এরই মাঝে মাচা তৈরি করে চারা রোপণ করেন। ৫০ শতক জমিতে বাঁশ ও সুতা দিয়ে মাঁচা তৈরিতে এবং শ্রমিকসহ খরচ হয়েছে ১০-১২ হাজার টাকা। চারা রোপণের ২০ দিনের মধ্যে ফুল এবং ৩৫-৪০ দিনের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে। করলা ক্ষেত থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ মন করলা বিক্রি করেছি এবং করলার দাম বাজারে খুব ভালো থাকায় ২৮ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। সর্বোচ্চ আরো দেড় মাস পর্যন্ত এ মাচায় করলা থাকবে। এর পাশাপাশি লাউ, টমেটো, গাজর, হাইব্রিড মরিচ, কুমড়ো চাষ করা হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিয়ে করলায় এ মৌসুমে সাড়ে ৩৫ হাজার টাকা লাভ থাকবে।

তিনি বলেন, করলা শেষ হওয়ার পর অন্য ফসল মাচায় উঠে যাবে। একই মাচায় অন্য ফসল আবাদ করা হলে মাচা তৈরির খরচটা লাগবে না।

তিনি আরো বলেন, পৌত্রিক সূত্রে যে পরিমাণ জমি পেয়েছি। তারপরও আরো ২০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে বিভিন্ন প্রকারের সবজি চাষ করছি। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে করলা চাষের জন্য সার, ওষুধ ও বীজ দিয়েছেন এবং অধিক ফসল উৎপাদনে উপজেলা কৃষি অফিসার স্যার প্রতিনিয়ত ক্ষেতে এসে পরিক্ষা-নীরিক্ষা করেন, যাতে ফসলের কোনো ক্ষতি না হয়। আমার সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস সবজি চাষ। দুই ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে সুখের সংসার আমাদের। ছোট মেয়েটা এবার ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠছে আর বড় ছেলে দশম শ্রেণীতে পড়ার পাশাপাশি সবজি চাষে আমাকে সহযোগীতা করে।

জালাল হাওলাদার মনে করেন, ধানের আবাদের চেয়ে সবজির আবাদ লাভজনক। স্বল্প সময়ে সবজি বাজারজাত করা যায় এবং নিয়মিত টাকা পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আরাফাত হোসেন বলেন, এ মৌসুমে মির্জাগঞ্জে প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে করলার সাথে বিভিন্ন সবজির চাষ করা হয়েছে। হাইব্রিড জাতের করলা পায়রা-২ প্রায় সারা বছরই আবাদ করা যায়। জমিতে পানি নিষ্কাশন সুবিধা আছে, এমন এটেল দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি এই করলা চাষে উপযোগী। কৃষি অফিসের পরামর্শে উপজেলার অনেকেই এখন দেশি, হাইব্রিড, সোনামুখীসহ বিভিন্ন জাতের করলা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তবে জালালের করলার ক্ষেত দেখে অনেক চাষী আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আগামীতে উপজেলায় অধিক জমিতে করলার চাষ করা হবে। যাতে স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়েও অন্য এলাকাতে বিক্রি করতে পারে কৃষকরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৯, ২০২২ ২:৩৮ অপরাহ্ন
মাল্টাবাগানে মিশ্র ফসল চাষে আমিরুলের সফলতা
কৃষি বিভাগ

তিন বছর আগে নিজের এক একর জমিতে ২৮৪টি মাল্টার চারা রোপণ করেন কৃষক আমিরুল ইসলাম। এরপর সেই বাগানেই মাল্টার চারাগুলোকে ঘিরে চাষ করেছেন ১১ রকম ফসল। এসব ফসল ফলিয়ে বাজারজাত করে ভালো আয় করেন তিনি, দেখেছেন সফলতার মুখ। আমিরুলের এমন ব্যতিক্রমী আবাদ এবং সফলতা দেখে অবাক এলাকার মানুষ।

এখন তার বাগানে মাল্টার ফলনও আসতে শুরু করেছে। ফলে ভালো আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের ক্ষুদ্র বাঁশবাড়ী গ্রামের আমিরুল ইসলাম। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ওই ক্ষুদ্র বাঁশবাড়ী গ্রামের প্রবেশপথেই স্থানীয় পাকা সড়কঘেঁষা মাল্টাবাগানে গমের চাষাবাদ হচ্ছে।

সড়ক থেকে নেমেই এরপর ক্ষেতের ভেতরে যেতেই চোখে পড়ে গমের পাশাপাশি আলাদা করে আলুর চাষ। আর একটু এগোতেই দেখা যায় লাউয়ের মাচা। তার পাশেই পটোল ও শিমের চাষাবাদ। আরও একটু সামনে এগোতেই ফসল পেঁয়াজ, রসুন ও হলুদের আবাদ। এছাড়া কাঁচা মরিচ, পুঁইশাক, লাপাশাক ও লেবুর আবাদও করা হচ্ছে ওই বাগানে।

আমিরুল বলেন, ‘শুরুটা ছিল তিন বছর আগে। রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথের আগ্রহে এবং তার সার্বিক সহযোগিতায় এক একর আবাদি জমিজুড়ে ২৮৪টি মাল্টার গাছ রোপণ করি। এসব গাছের বয়স এক বছর হলে দেখি প্রতিটি মাল্টা গাছ থেকে আরেক গাছের মাঝখানে প্রায় ১০ বর্গফুট জায়গা ফাঁকা থাকছে। পরে চিন্তা করি, ছোট হাল দিয়ে চাষ দিলে এখানে আবাদ করা যাবে। প্রথমে আবাদ করলাম বোরো ও আমন ধান, পরের বছর আলু ।‘

তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর বোরো-আমনের পর জমিটাকে বিভিন্নভাবে ভাগ করলাম। প্রথম ভাগে রোপণ করলাম গম, দ্বিতীয় ভাগে আলু এবং তৃতীয় ভাগে লাউ, শিম, হলুদসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও মসলাজাতীয় ফসল। মাল্টা চাষ করলেই যে অন্য ফসল অচাষযোগ্য, তা কিন্তু নয়। আপনি চেষ্টা করলেই পারবেন। এতে আপনার মাল্টাগাছেরই উপকার বেশি হবে। অন্যান্য ফসলে দেওয়া সারগুলো মাল্টাগাছও পাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, মাল্টাগাছের শিকড় যেন কাটা না যায়।’

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় আমিরুলই প্রথম এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা সেখানে মাল্টা চারা সরবরাহ করেছি। সেইসঙ্গে কৃষি অফিস থেকে তাদের বাগানে প্রযুক্তিগত সকল সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। বাগান থেকে প্রথম বছরই তিনি লক্ষাধিক টাকার মাল্টা বিক্রয় করতে পারবে এমনটা আশা করা যায়।

এলাকাবাসী বলেন, ‘আমিরুল ইসলাম ডিগ্রি পাস করা শিক্ষিত ছেলে। সে যে এভাবে এ এলাকার নতুন ফসল মাল্টাবাগান করতে পারবে এবং পাশাপাশি মাল্টাবাগানের মধ্যেই আবার বুদ্ধি করে এতগুলো ফসল ফলাতে পারবে, তা আমাদের বিশ্বাস হয়নি প্রথমে। সরেজমিন দেখে আমরা অবাক হয়েছি। আসলে চেষ্টা করলে সবই সম্ভব।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, ‘সমগ্র উপজেলা মিলিয়ে মোট ১৬ হেক্টর জমিতে ৩০০ জন মাল্টাচাষি রয়েছেন। এর মধ্যে ক্ষুদ্র বাঁশবাড়ী গ্রামের আমিরুল ইসলাম মাল্টার বাগানেই গম, আলুসহ বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করছেন। এতে আমরাও অবাক হয়েছি, তার চেষ্টা দেখে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৯, ২০২২ ১:৩৬ অপরাহ্ন
হানিকুইন জাতের আগাম আনারস যেন মৌসুমী ফলনকে ছাড়াচ্ছে
কৃষি বিভাগ

পার্বত্য অঞ্চলের নানিয়ারচরের হানিকুইন জাতের আগাম আনারস যেন মৌসুমী ফলনকে হার মানাচ্ছে। জ্যৈষ্ঠমাস আনারসের মাস হলেও বর্তমানে রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচরে প্রতিবছরই উৎপাদিত হয় উচ্চ ফলনশীল হানিকুইন আনারস। যা দেশের অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।

তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে নানিয়ারচর উপজেলা হচ্ছে আনারসের জন্মস্থান। আবার অনেকে বলে আনারসের রাজধানী নানিয়ারচর। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে আনারসের জন্য বিখ্যাত নানিয়ারচর উপজেলা। নানিয়ারচর উপজেলার মধ্যে প্রায় ৬০ ভাগ মানুষ আনারসের আবাদ করে থাকে। তবে বেশীর ভাগই বাঙালি জনবসতি এলাকায় আনারসের চাষ করা হয়েছে। আর এ আনারসের চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে ওই এলাকার মানুষ।

আনারস চাষী সোবহান জানান, আনারস চাষে অনেক পরিশ্রম। যদি কারও অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে সে ভালো করে তা করতে পারবেনা। তিনি জানান, অক্টোবর মাসের আগেই আনারস চাষের জন্য পাহাড়ের ঢালুগুলো প্রস্তুত করতে হয়। প্রায় ১ মাস লেগে যায় জমি ঠিকঠাক করে আনারস চাষের উপযোগি করে তুলতে। এর আগে আনারসের চারা তুলে তা প্রস্তুত করে রাখতে হয়। তারপর সারি সারি করে পাহাড়ের বুকে লাইন ধরে রোপন করতে হয়।

তিনি আরো জানান, চারা রোপনের পর প্রায় ১২-১৩ মাস অপেক্ষার পর তাতে আনারস আসে। বাগানের সেবাযত্ন ও পরিচর্যা করতে হয়। তাতেই ভাল ফলন আসা করা যায়। অনেকে বলেন আনারসের জন্ম নানিয়ারচরে আবার অনেকে বলেন আনারসের রাজধানী নানিয়ারচর। এটা শতভাগ সত্য। আনারসের সঙ্গে এখানকার অর্থনৈতিক ভারসাম্য চলমান রয়েছে। বর্তমান হাইব্রিড আনারসে বছরে ২ বার ফলন আসে। ফলে শীত মৌসমের আগেই আনারস বাজারে দেখতে পায় লোকজন।

জানা যায়, নানিয়ারচরের বউ বাজার এলাকার শাহিন, সোবহান ও ফারুক প্রচুর পরিমানে আনারসের চাষ করেন। রীতিমত আনারস চাষ করে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। তাদের আনারস দেশ এবং দেশের বাহিরেও রপ্তানি হচ্ছে। তারা ট্রাক ভর্তি করে আনারস ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাইকারি হিসেবে চালান দিয়ে থাকেন। আবার যারা ছোট খাটো আনারসের বাগান করে থাকেন তারা স্থানীয়ভাবে খুচরা দরে আনারস বিক্রি করে ফেলেন। এছাড়া ঘিলাছড়ির ১৭ বা ১৮ মাইল এলাকা জুড়ে উপজাতিরাও বেশ কিছু আনারস বাগান করছেন।

আনারস চাষী ফারুক জানান, আনারস চাষে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। পরিশ্রমের ফলে ভালো আনারস আবাদ করা সম্ভব। একটি আনারসে প্রায় ৫-৭ টাকা ব্যয় হয়। ভালো ফলন উৎপাদন হলে তা বিক্রি করা হয় ১০-১৫ টাকা।

তিনি আরো জানান, কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের কারনে গত ২ বছর আনারসে তেমন লাভবান হতে পারেনি আনারস চাষীরা। অনেকে ব্যাংক লোন নিয়ে আনারস চাষে পুঁজি দিয়েছেন। কিন্তু করোনার জন্য লোকসান গুনতে হয়েছে। আর ব্যাংকের সুদের বোঝা এখনো টানতে হচ্ছে।

নানিয়ারচরের আনারস প্রাণ কেড়ে নিয়েছে আগত পর্যটকদের। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা ঘুরতে এসে একবার হলেও একটি আনারস খেয়ে যাবে। পর্যটকদের লোভ আনারসের প্রতি। তারা জানে নানিয়ারচরের আনারসে ফরমালিন নাই। অনেকে আবার ঘুরে ফিরে মুগদ্ধ হয়ে যাওয়ার সময় আনারস নিয়ে যায় পরিবার পরিজনের জন্য।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রতন কুমার পাল বলেন, রাঙ্গামাটি জেলার মধ্যে প্রায় ২১৩ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ করা হয়। তবে নিজ নিজ মালিকানাধীন জমিতেই চাষারা এই সব আনারসের চাষ করে থাকেন। তারা যদি মনে করে কৃষি সম্প্রসারণের সহযোগিতার প্রয়োজন আছে তাহলে আমরা বিনামূল্যে সহযোগিতা দিয়ে থাকি। তবে জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় প্রচুর আনারস জন্মায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৯, ২০২২ ১:০১ অপরাহ্ন
শসা চাষ করে তিন মাসে মুনাফা ৩ লাখ টাকা
কৃষি বিভাগ

শীতের হিমেল হাওয়া বইছে। সবজির জমিতে ব্যস্ত চাষি। মাচায় ঝুলছে সারি সারি শসা। কেউ শসা সংগ্রহ করছেন, আবার কেউবা সেই শসাগুলো এক স্থানে স্তূপ করছেন। অন্যদিকে পাইকাররা মেপে মেপে গাড়ি বোঝাই করছেন।

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বলরামপুর গ্রামের যুবক কাজী আনোয়ার হোসেনের শসার জমিতে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। স্বল্পমেয়াদে ফলন পাওয়া যায় এমন উন্নত জাতের শসা চাষ করেছেন তিনি। মাত্র তিন মাসেই শসা বিক্রি করে তিনি ৩ লাখ টাকা আয় করেছেন। শসার এমন আশাতীত ফলনে আনোয়ারের চোখে-মুখে ফুটে আছে হাসির ঝিলিক। এর আগেও কৃষক আনোয়ার হলুদ তরমুজ ও মরুর ফল সাম্মাম চাষ করে সফলতা অর্জন করে বেশ আলোচনায় আসেন। মুদি দোকানি থেকে আনোয়ার এখন কৃষি উদ্যোক্তা, কৃষিতেই তিনি তার জীবনের সচ্ছলতার দুয়ার খুলেছেন।

আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি ১৮০ শতক জমিতে শসার বীজ রোপণ করেছেন। চারা যখন মাটি ভেদ করে আকাশে উঁকি দেয় তখন মাচা তৈরি করেন। ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে শসাগাছ। মাচায় আঁকড়ে ধরে ফুল দেয় গাছগুলো। সেই ফুল থেকে শসা হয়। আনোয়ার আরও জানান, জমি তৈরি, বীজ সংগ্রহ ও সার মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা।

এ পর্যন্ত ৪ লাখ টাকার শসা বিক্রি করেছেন, খরচ ১ লাখ বাদ দিয়ে তার ৩ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। পোকামাকড় দমনে সেক্স ফেরোমন ও আলোর ফাঁদ তৈরি করেছেন। কীটনাশক ব্যবহার করেন না। তাই তার শসাগুলো স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। নগরীর রাজগঞ্জ বাজারের পাইকার ময়নাল হোসেন জানান, গত এক মাসে অনেক বিয়ে-শাদির অনুষ্ঠান ছিল। শসার বেশ চাহিদা রয়েছে। ক্রেতারা দুই-তিন মণ করে শসার অর্ডার করত, আনোয়ারকে জানাতাম। পরে তার জমি থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে শসা এনে ৫০ টাকা দরে আমরা বিক্রি করতাম। এদিকে তার দেখাদেখি আশ-পাশের যুবকৃষকেরাও শসা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, ‘আনোয়ার হোসেন একজন কৃষি উদ্যোক্তা। নতুন কৃষি ফসল উৎপাদনে আনোয়ার কাজ করে যাচ্ছেন। চলতি বছরের শুরুতে তরমুজ ও সাম্মাম চাষ করে সফল হয়েছেন। আমরা তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছি। আমরা কৃষির উন্নয়নে উদ্যোক্তা ও কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করে থাকি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৯, ২০২২ ৯:৫৯ পূর্বাহ্ন
বঙ্গবন্ধুর মাজারে ডিএই মহাপরিচালকের শ্রদ্ধা নিবেদন
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক মো. বেনজীর আলম ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেই সাথে তাঁর আত্নার মাগফেরাত কামনা করা হয়। এ সময় সফর সঙ্গি ছিলেন ডিএই বরিশালের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম, বরিশাল এটিআই’র অধ্যক্ষ হৃদয়েশ্বর দত্ত, ফরিদপুরের অতিরিক্ত পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক, খুলনা এটিআই’র সাবেক অধ্যক্ষ চিন্ময় রায়, সদর দপ্তরের হর্টিকালচার উইংয়ের উপপরিচালক মো. সফিউজ্জামান, বরিশালের উপপরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ, রাজবাড়ির উপপরিচালক এস এম সহীদ নূর আকবর, শরীয়তপুরের উপপরিচালক আব্দুস সাত্তার, তেলজাতীয় ফসলের মনিটরিং অফিসার রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস, পটুয়াখালীর অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন তালুকদার, বরিশালের অতিরিক্ত উপপরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন, উজিরপুরের উপজেলা কৃষি অফিসার মো. তৌাহিদ, খুলনার আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার শারমিনা শামীম, কৃষি তথ্য সার্ভিস বরিশালের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক প্রমুখ।

এর আগে মহাপরিচালক উজিরপুরের উপজেলা কৃষি অফিসে বরিশাল অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি মাদারীপুরের হর্টিকালচার সেন্টারে নার্সারি তত্ত্বাবধায়ক এবং উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের দুই দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৪, ২০২২ ৪:৪১ অপরাহ্ন
আবারও বেড়েছে চালের দাম
কৃষি বিভাগ

উত্তরাঞ্চলের শস্যভান্ডারখ্যাত দিনাজপুরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের বেড়েছে চালের দাম। প্রতি বস্তায় দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৫ টাকা।

চালের দাম বাড়ার পেছনে আড়তদাররা মিল মালিকদের দায়ী করেছেন। তবে মিল মালিকদের দাবি বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় চালের দাম বেড়েছে। একইসঙ্গে খুচরা ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা প্রবণতার অভিযোগও তাদের।

দিনাজপুর বাহাদুর বাজার চাল আড়ত ঘুরে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও যেখানে সবচেয়ে ব্যবহৃত গুটি স্বর্ণা চালের কেজিপ্রতি দাম ছিল ৩৬-৩৭ টাকা কেজি। বর্তমানে সেই চালের দাম ৪০-৪১ টাকা। একইভাবে পাইজাম চাল ৪২-৪৩-এর স্থলে ৪৫-৪৬ টাকা। বিআর উনত্রিশ ৪৬-৪৭-এর স্থলে ৪৮-৪৯ টাকা। বিআর আটাশ ৫১-৫২ এর স্থলে ৫৩-৫৪ টাকা, মিনিকেট ৫৫-৫৬-এর স্থলে ৫৭-৫৮ টাকা, উন্নত মিনিকেট ৫৯-৬০-এর স্থলে ৬০-৬১ টাকা। নাজিরশাইল ৬২-৬৩ এর স্থলে ৬৬-৬৭ টাকা, সিদ্ধ কাটারী ৯০-৯২-এর স্থলে ৯৩-৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বস্তা হিসেবে এক সপ্তাহ আগের দাম (৫০ কেজির বস্তা) গুটি স্বর্ণা চাল ১৮০০-১৮৫০-এর স্থলে ২০০০-২০৫০ টাকা। পাইজাম চাল ২১০০-২১৫০-এর স্থলে ২২৫০-২৩০০ টাকা, বিআর উনত্রিশ চাল ২৩২০-২৩৫০-এর স্থলে ২৪০০-২৪৫০ টাকা, বিআর আটাশ চাল ২৫৫০-২৬০০-এর স্থলে ২৬৫০-২৭০০ টাকা, মিনিকেট ২৭৫০-২৮০০-এর স্থলে ২৮৫০-২৯০০ টাকা, উন্নত মিনিকেট চাল ২৯৫০-৩০০০-এর স্থলে ৩০০০-৩০৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৩১০০-৩১৫০-এর স্থলে ৩৩০০-৩৩৫০ টাকা এবং সেদ্ধ কাটারি চাল ৪৫০০-৪৬০০-এর স্থলে ৪৬৫০-৪৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজার করতে আসা আবু তাহের মন্ডল বলেন, প্রতি বস্তায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে। সরকারি নজরদারির অভাবে এই দাম বৃদ্ধি করেছে আড়তদাররা। আমাদের আয় বাড়ছে না, বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম। এটি কৃত্রিম সংকট বলে জানান তিনি। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে বাইরে থেকে চাল আমদানি করা প্রয়োজন।

শ্রীভবন বসাক নামে এক ক্রেতা বলেন, সম্পা কাটারি চাল কিনলাম ২ হাজার ৯৫০ টাকা বস্তা দরে। গত মাসেই এই দাম ছিল ২৮৫০ টাকা বস্তা। এতে করে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

খুচরা চাল ব্যবসায়ী রতন মিয়া বলেন, আগের চেয়ে দাম বেড়েছে। এ কারণে ক্রেতাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হচ্ছে। এখানে আমাদের তো করার কিছুই নেই।

আরেক খুচরা চাল ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, নতুন ধানের চাল কম আছে, বেড়েছে পুরাতন চালের দাম। একটি চালের বস্তায় ২০ থেকে ৩০ টাকা লাভ হয়। নতুন চালের দাম কম, বাজার যাচাই করতে পারেন।

চাল আড়তদার এরশাদ ট্রের্ডাসের স্বত্বাধিকারী এরশাদ হোসেন বলেন, পুরাতন চালের দাম বেশি। মিনিকেট, স্বর্ণা, আটাশ ও উনত্রিশ জাতের চালের দাম বেড়েছে। চাহিদা বেশি থাকলে চালের দাম বাড়ে, চাহিদা কম থাকলে চালের দাম কম থাকে। চাহিদা ও সরবরাহের ওপর এই চালের দাম নির্ভর করে।

বিকে ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ কুন্ডু বিষু বলেন, ধাপে ধাপে চালের দাম বাড়ছে। ধানের দাম ৫০ টাকা বাড়লে চালের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেড়ে যায়। মিলাররা এই দাম বৃদ্ধি করে।

বাংলাদেশ মেজর ও অটো মেজর হাসকিং মিল মালিক সমিতির সহসভাপতি শহীদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন বলেন, খুচরা বাজারে অতি মুনাফার কারণে চালের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে ধানের দামও বস্তাপ্রতি ১০০-১৫০ টাকা বেড়েছে। আমরা মিলাররা উৎপাদন খরচও উঠাতে পারছি না। চাল আমদানি হলেই ধানের বাজার ও চালের বাজার পড়ে যাবে। চাল আমদানি শুরু হলে কৃষকরাও ধান বিক্রি বেশি করবেন। ফলে দাম আরও কমে যাবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop