১১:২৫ অপরাহ্ন

রবিবার, ২৮ জুন , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ২, ২০২২ ৪:৪৮ অপরাহ্ন
অ্যাপে ধান কিনছে সরকার
কৃষি বিভাগ

চাঁদপুরে মোবাইল অ্যাপে ধান ক্রয় শুরু হলেও, প্রচার-প্রচারণার অভাবে তা জানেন না অনেক কৃষক। ফলে অনলাইনেও নিবন্ধনও করেননি তারা। তাই সরকারের কাছে ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করতে পারছেন না অনেক কৃষক। জেলা খাদ্য বিভাগ বলছে, এই প্রক্রিয়ায় কৃষকদের সম্পৃক্ত করতে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

গত ২০শে ডিসেম্বর থেকে চাঁদপুর সদর, কচুয়া, শাহরাস্তি ও ফরিদগঞ্জে অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকের কাছ থেকে আমন ধান কেনা শুরু হয়। প্রত্যেকে তিনটন পর্যন্ত ধান বিক্রির সুযোগ থাকলেও, বেশিরভাগ কৃষকেরই এতো ধান নেই। যার ফলে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।

এদিকে অ্যাপে ধান বিক্রি করতে এখনো অনেক কৃষক অনলাইনে নিবন্ধন করেননি। প্রচার-প্রচারণার অভাবে অ্যাপের বিষয়টি জানেন না তারা।

অনলাইনে কেউ কেউ নিবন্ধন করেননি বলে স্বীকার করেছে কৃষি বিভাগ। তবে ধান বিক্রয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করা হবে বলে জানান চাঁদপুরের কৃষি কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন।

অন্যদিকে খাদ্য বিভাগের দাবি, অ্যাপে ধান বিক্রির বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে। ধান ক্রয়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবার আশাও করছেন তারা।

এবছর চাঁদপুরের চার উপজেলায় কৃষি অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে মোট ৬৪৩ টন ধান কিনবে সরকার।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১, ২০২২ ৪:৫০ অপরাহ্ন
কুমিল্লায় তিন প্রজাতির লাল টমেটোতে মুনাফা পাচ্ছে চাষিরা
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা জেলায় টমেটোর অধিক ফলনে কৃষকসহ তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে। ক্ষেত থেকে তুলে এনে কুমিল্লার অন্যতম বারোমাসি সবজি বাজার নিমসারে আনা হচ্ছে টনে টনে টমেটো

তিন প্রজাতির লাল টমেটো বিক্রিতে এবারে মুনাফাও পাচ্ছে টমেটো চাষিরা। এবারে কুমিল্লায় অনুকূল আবহাওয়া টমেটোর বাম্পার ফলন কৃষকদের জন্য আশির্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। কুমিল্লায় উৎপাদিত টমেটো এখানকার প্রায় ১৫ লাখ পরিবারের চাহিদা মেটানোর পরও রাজধানী ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ করে থাকে।

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এবারে টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে । ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে কুমিল্লার উৎপাদিত টমেটো বাজারে সয়লাব হয়ে যাবে। বর্তমানে কুমিল্লা অঞ্চলের উঁচু জমিতে উৎপাদিত টমেটোতে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। কুমিল্লার চান্দিনা, বরুড়া, দাউদকান্দি, হোমনা, বুড়িচং, ও দেবিদ্বারে উৎপাদিত টমেটো স্থান পেয়ে থাকে দেশের অন্যতম সবজি বাজার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের নিমসারে। অন্যদিকে কুমিল্লা সদরের পাঁচথুবি, আমড়াতলী, জগন্নাথপুর, দূর্গাপুর ইউনিয়নে এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে উৎপাদিত টমেটো কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ বাজার ও চকবাজারের সবজি আড়তে স্থান পেয়ে থাকে। এখান থেকে নগরীর অন্যান্য বাজারের সবজি ব্যবসায়ীরা টমেটো পাইকারি দরে কিনে নিয়ে থাকেন। কুমিল্লার হাট-বাজারগুলো এখন টমেটোতে ঠাসা। বর্তমানে বাজারে বড়, মাঝারি ও ছোট আকারের প্রতি কেজি টমেটো খুচরা ৩৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে টমেটোর বাজার দর ছিল কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। এবার টমেটোর বিক্রি দরও তুলনামূলক বেশি হওয়ায় টমেটো চষিরা খুশী।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, কুমিল্লায় ১ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রা অনেক ছাড়িয়ে গেছে। কুমিল্লার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের নজরদারি ও উপজেলা পর্যায়ে চাষিদেরকে কৃষি কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ, পরামর্শসহ সবধরণের লজিষ্টিক সার্পোট দেওয়ায় এবারে লক্ষ্যমাত্রা অনেক ছাড়িয়ে গেছে।

কুমিল্লা জেলায় বিভিন্ন উপজেলার চেয়ে চান্দিনায় সবচেয়ে বেশি টমেটো চাষ হয়ে থাকে। চান্দিনা উপজেলায় উঁচু ও নিচু জমিতে পৃথকভাবে দুইবার টমেটো চাষ হয়ে থাকে।

কুমিল্লার চান্দিনার টমেটো চাষিরা জানান, সব মৌসুমেই চান্দিনায় ব্যাপক পরিমান সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। টমেটোর চাষ এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এবছর টমেটোর ব্যাপক ফলন হয়েছে। টমেটো পাকার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে নিয়ে আসতে হয়। কাঁচা মাল ঘরে রাখা যায় না। তাই সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে হিমাগারের ব্যবস্থা করা হলে চাষিরা তাদের ফসলের ভালো দাম পাবেন। আর এজন্য তারা কৃষিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১, ২০২২ ৪:০২ অপরাহ্ন
‘লালিমা’ বদলে দিয়েছে কৃষক বেলালের ভাগ্য
কৃষি বিভাগ

‘লালিমা’ বদলে দিয়েছে কৃষক বেলাল হোসেনের ভাগ্য। সারা বছর অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি এবার নতুন বীজ রোপণ করেছেন। ফলন ভালো দামেও ভালো। এরই মধ্যে ২ লাখ টাকার ‘লালিমা’ বিক্রি হয়েছে তার।

বেলাল হোসেন বলেন, লালিমার প্রকৃত পরিচয় হচ্ছে- লাল বাঁধাকপি।

গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ভাষারপাড়ায় বাড়ি কৃষক বেলাল হোসেনের। দুই মেয়ে আর স্ত্রীসহ ৫ জনের সংসার। নিজের জমি বলতে সামান্য। তাই অন্যের জমি নিয়ে চাষাবাদ করেন।

কৃষক বেলাল বলেন, জমিতে কাজ করি আমি, আমার স্ত্রী শিল্পী বেগম, মেয়ে সিনথি আখতার, বন্যা বেগম, ছেলে সিহাব আলী সহ সবাই। সময় হলে মেয়েরা বই খাতা নিয়ে কলেজে যায়। তারপর আবার জমির আইলে বাপের সাথে কাজ করে। সে কারণে আমার কামলা খরচটা কম হয়। একটার পর একটা সবজি চাষ করেন জমিতে। কখনো ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মরিচ , আলু, টমেটো, লাউ, সিম, ক্যাপসিক্যাম, মিষ্টি কুমড়াসহ বারো মাস সবজির চাষ করে প্রতিবছর অন্তত বাড়তি ২ লাখ টাকা ঘরে তোলেন। লাভের টাকায় তিনি বাড়িঘর করেছেন। মেয়েদের কলেজে পড়ালেখা শেখাচ্ছেন। আর নিজের পকেট খরচ, বাজার হাট করে রাজার হালে সংসার চালিয়ে হাতে রাখেন নগদ টাকা।

ঢাকায় গিয়ে বিভিন্ন বীজ ভান্ডারে খোঁজ করেন ভিন্ন কিছু চাষ করা যায় কিনা। মনে মনে ভাবেন জমিতে এবার ভিন্ন কিছু চাষ করতে হবে। এবার তাক লাগিয়ে দিতে চান মানুষকে। সেই সাথে নিজের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। তারপর বীজ ভান্ডার থেকে খুঁজে পেয়েছেন লাল বাঁধাকপি ‘লালিমা’র। তার কাছেই শোনা গেলো এই বাঁধাকপির জন্ম নাকি জাপানে ।

কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আকবর হোসেন জানান, গাইবান্ধায় এর আগে কখনো লাল বাঁধাকপি দেখা যায়নি কোথাও। তারপর তিনি বীজ বপন করেন তার জমিতে । জমি থেকে চারা বড় হলে ১০ হাজার চারা বপন করেন তার দুটি জমিতে। অল্প সময়ে সারিসারি লাল বাঁধাকপি জমি জুড়ে বেড়ে ওঠে। উপরের পাতা ছিড়ে ফেললেই বের হয়ে আসে লাল টকটকে বাঁধাকপি। জমি দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। সবুজের ভেতরে লাল কপি গাইবান্ধায় এই প্রথম। লাল বাঁধাকপি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন।

ভাষারপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান জানান, কৃষক বেলাল আমাদের গ্রামের গর্ব। বেলাল বারো মাসে ১৩ ফসলের আবাদ করেন। সে শুধু সবজি চাষ করেই নিজেকে কৃষক হিসাবে পরিচিতি করতে পেরেছে। লোকজনের মুখে মুখে বেলালের নাম । এ মাসের শেষ দিকে কৃষক বেলালের কপি বিক্রির উপযোগী হয়েছে। প্রতিদিন বস্তায় ভরে কপি নিয়ে যায় ভ্যানে করে। আড়তে নিয়ে যেতেই প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা হিসাবে পাইকারি বিক্রি করেন। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই জমি থেকে তুলে লালিমা বিক্রি করে অন্তত ১২শ থেকে ২ হাজার টাকা আয় হচ্ছে তার।

কৃষক বেলাল হোসেন জানান, এই লালিমা বিক্রি করে টাকা জমিয়ে মেয়ের বিয়েতে খরচ করবেন বলে ভাবছেন ।

ফুলছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সেলিম পারভেজ জানান, বন্যাদুর্গত এলাকা ফুলছড়ির মাটি সোনার মতো। এই মাটিতে সোনা ফলে। তিনি বলেন, আমার জনমে আমি আর লাল বাঁধাকপি দেখিনি। আমার বাপ দাদাও দেখেনি কিন্তু আমি দেখলাম আমাদের ফুলছড়ির মাটিতে হয়েছে লাল বাঁধাকপি। কৃষক বেলাল হোসেনের মুখে শুনেছি এর নাম ‘লালিমা’ । তার সংসারের সচ্ছলতা ফিরেছে লাল বাঁধাকপি বিক্রি করে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১, ২০২২ ৩:৪৭ অপরাহ্ন
কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন হাওরের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

কিশোরগঞ্জের হাওরে বোরো ধানের আবাদকে কেন্দ্র করে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাজার হাজার কৃষক। হাওরের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় ধানের বীজতলা তৈরির পাশাপাশি চলছে, জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজ।

পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বোরো ধানের আবাদ নিয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন হাওরের কৃষকরা। চলছে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি, জমি চাষের উপযোগী করাসহ ধানের চারা রোপণের কাজ।

কৃষকরা বলছেন, বাজারে ডিজেলের দাম বেশি। সার-কীটনাশকসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ চড়া দামে ক্রয়ে হিমশিম অবস্থায় তারা। তারওপর নেই বাজারে ধানের দাম। সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা তো আছেই। এতে সারা মৌসুমে ঘাম ঝরানো পরিশ্রম করেও খুব একটা লাভের আশা দেখতে না পেরে হতাশায় চাষিরা।

তারা বলছেন, সারের দাম বেশি। এ ছাড়া তেলের দাম বেশি। পানিও পাওয়া যায় না। ধানের দাম কম। এমন হলে হতাশাই বলা যায়।

তবে, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস কৃষি বিভাগের। কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. ছাইফুল আলম বলেন, কৃষকরা যেন স্বল্প মূল্যে চাষাবাদ করতে পারে, সে জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ যেমন- সার, পানির ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। 

জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৫টি আংশিক ও তিনটি সম্পূর্ণ হাওর অধ্যুষিত। এর মধ্যে তিন হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি বোরো ধানের আবাদ হয়ে থাকে। জেলায় এবার এক লাখ ৬৪ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১, ২০২২ ২:২০ অপরাহ্ন
ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলে আখ মাড়াই শুরু
কৃষি বিভাগ

ঋণ ও লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে আখ মাড়াই শুরু করেছে ঠাকুরগাঁও সুগার মিল। তবে এ থেকে উত্তরণের উপায় না খুঁজে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের খেয়ালখুশি মতো মিলটি পরিচালনা করছেন বলে মিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন।

জানা যায়, চলতি মৌসুমে ২০২১-২২ অর্থ বছরে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মিল কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ৩৫০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৬ কোটি টাকা। সুগার মিলের ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব ফার্মে এক হাজার একর লিজ নেয়া জমিতে আখ উৎপাদন করা হয়েছে। এছাড়াও আগামী মার্চ পর্যন্ত ৪-৫ হাজার চাষি প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে আখ রোপণ করে। এ পর্যন্ত ১৪০০ একর জমিতে আখ রোপণ করা হয়েছে। এ মৌসুমে প্রায় ১২০০ কৃষক মিলে আখ সরবরাহ করবে।

ঠাকুরগাঁওয়ের কয়েকজন আখচাষি জানান, মিল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে চাষিরা আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। যদি উন্নত জাতের আখ সরবরাহ করা হতো তাহলে তারা ফলন ভালো পেতেন। ফলে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই মিল আর বন্ধ হতো না। এখন যে আখ চাষ হচ্ছে তাতে ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। একবার আখ রোপণ করলে প্রায় দেড় বছর অন্যান্য ফসল ফলানো যায় না।

এদিকে অধিক লাভের আশায় কিছু আখচাষি পাওয়ার ক্রেশার মেশিন দিয়ে আখ মাড়াই করে গুড় উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করে। তাদের মতে, যে আখ মিলে দিলে পাওয়া যায় ১০-১১ হাজার টাকা, সেই আখ নিজেরা মাড়াই করলে পাওয়া যায় ২১-২৪ হাজার টাকা। তাছাড়া মিল সময়মতো টাকা পরিশোধ করে না।

ঠাকুরগাঁও সুগার মিল সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩১ হাজার টাকা। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে লোকসান হয়েছে ৭৬৩ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। মিলটিতে স্থায়ী জনবল ৪৮৩ জন, মৌসুমী ৩৪৩ জন, মাস্টাররোলে আছেন ২৩৯ জন। এই জনবলকে প্রতি মাসে মৌসুমে বেতন দেয়া লাগে ২ কোটি ৭১ লাখ ৯২ হাজার টাকা, আর মৌসুম ছাড়া ১ কোটি ৭১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। সবমিলে বছরে বেতন-বোনাস ২৬ কোটি ৬৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। বেতন-বোনাস দিয়ে আরও লোকসান হবে প্রায় ৭৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকাসহ মোট ৭৬৪ কোটি ১০ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, মিলটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর লাভেই চলছিল। এখন যতদিন যাচ্ছে ততই লোকসানের দিকে ধাবিত হচ্ছে। লোকসান থেকে বাঁচাতে হলে মিলটিকে আধুনিকায়ন করতে হবে। কৃষকরা উন্নত জাতের আখের আবাদ করলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হবে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, এটা আসলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্পত্তি, শিল্প মন্ত্রণালয় দেখাশুনা করে। মিলটি ঋণ ও লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে আমার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। আর যে সমস্ত আখচাষি পাওয়ার ক্রেশার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে আখ মাড়াই করে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১, ২০২২ ১:৫৬ অপরাহ্ন
কাহারোলে আলুখেতে পচন ও ছত্রাক রোগের আক্রমণ
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় তীব্র শীতকে অপেক্ষা করে আলুখেতকে রক্ষার জন্য খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। গত কয়েকদিনের ঠাণ্ডা ও কুয়াশায় আলুর খেতে পচন ও ছত্রাক রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। আলু চাষিরা খেতে আলুকে রক্ষা করার জন্য বালাই নাশক প্রয়োগসহ পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আলু উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ও বর্তমান বাজারে আলুর দাম কম থাকায় আলু চাষের ভালো একটা লাভ হবে না বলে মনে করছেন চাষিরা। 

কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে এবার ২ হাজার ৩’শ ৭৮ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে লক্ষ্যমাত্রাকে ছড়িয়ে ২ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিকেজি দেশী আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা কেজি ও ডায়মন্ড, কাডিলাল প্রতিকেজি ১৪ টাকা ও গেনুলা প্রতিকেজি ৯ টাকা। গতকাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে আলু চাষিরা কুয়াশার হাত হতে রক্ষার জন্য কীটনাশক প্রয়োগ করছে আলুর জমিতে।

নয়বাদগ্রামে আলু চাষি হামিদ জানান, পৌষ ও মাঘ মাসে আলু খেতে লেটব্রাইড ও পচন রোগসহ নানা প্রকার রোগ দেখা দেয়। আবাদের শুরুতে আলু নিয়ে ভালোই ছিলাম কিন্তু কয়েকদিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে রোগ বালাইয়ের আশঙ্কা করছি। প্রতিদিনই ঔষধ স্প্রে সহ পরিচর্যা করতে হচ্ছে।

কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. সাদেক বলেন, এখন পর্যন্ত আলু খেতে তেমন কোন রোগ বালাই আক্রমণ করে নাই। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে আলুখেতে স্প্রে করার জন্য। কৃষি বিভাগ কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দিচ্ছে আলু খেতে রোগ বালাই দমনের জন্য।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১, ২০২২ ১:২০ অপরাহ্ন
বগুড়ায় চাষ হচ্ছে মরুভূমির ত্বিন ফল
কৃষি বিভাগ

বগুড়ায় প্রথম বারের মতো ব্যক্তি উদ্যোগে শুরু হয়েছে মরুভূমির ত্বিন ফলের চাষ। শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া পালপাড়ায় সিঙ্গাপুরফেরত যুবক সোয়েব সাদিক নবীন পরীক্ষামূলকভাবে এই ত্বিন ফলের চাষ করছেন। তার বাগানে এখন শোভা পাচ্ছে ত্বিন ফল। দেশের চাষিদের মধ্যে এই ফল ও চারা খুব অল্প মূল্যে বিক্রি করা তার লক্ষ্য।

সরজমিনে দেখা যায়, বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া গ্রামে সোয়েব সাদিক দুই বিঘা জমিতে ত্বিন ফলের বাগান করেছেন। বাগানে ৬০০ ত্বিনগাছ রয়েছে। বাগানের গাছে গাছে লকলক করছে সবুজ পাতা। প্রতিটি পাতার গোড়ায় ঝুলছে ত্বিন ফল। দু-একটি ফল পাকতে শুরু করেছে। পাকা ফল রসে পরিপূর্ণ। নতুন বাগান হওয়ায় স্হানীয় অনেক মানুষই আগ্রহ নিয়ে ত্বিন ফলের এ বাগান দেখতে আসছেন। মরুর দেশের ফল ‘ত্বিন’ ডুমুরজাতীয় ফল। স্বাদে খুব মিষ্টি ও রসাল, পুষ্টিগুণে ভরা এই ফল মধ্যপ্রাচ্যে অনেক জনপ্রিয়।

সোয়েব বলেন, মরুর দেশের ফল বগুড়ার মাটিতে চাষ করতে গিয়ে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। মাটিতে জৈব ও ভার্মি কম্পোস্ট সার ছাড়াও বালু, তুষ, ছাই মিশিয়ে ফল উৎপাদনের উপযোগী করে তুলতে হয়েছে। প্রথম মৌসুমেই সফল হওয়ায় সবাই জানছেন এই বাগানের কথা। ত্বিনবাগান ও চাষ পদ্ধতি জানতে অনেকেই ভিড় করছেন।

তিনি জানান, সিঙ্গাপুরে গিয়ে তুরস্কের এক যুবকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় তার। সেখানেই তিনি ত্বিন ফলের স্বাদ পেয়েছেন। পাশাপাশি চাষ সম্পর্কে অবগত হন। ত্বিন ফলের এখনো বাজার তৈরি হয়নি দেশে। তাই তার উৎপাদিত ত্বিন ফল সিঙ্গাপুরে রপ্তানির চিন্তা করছেন। আগামী রমজান মাস থেকে প্যাকেজিং করে বগুড়া ছাড়াও রাজধানীতে এই ফল বিক্রি করবেন। গাছপাকা এক কেজি ত্বিন ফলের গড় বাজারমূল্য ১ হাজার টাকা। এই ফলের গাছ ১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। চারা লাগানোর তিন মাসের মধ্যে গাছে শতভাগ ফল ধরে। প্রথম বছরে ১ কেজি, দ্বিতীয় বছরে ৭-১১ কেজি, তৃতীয় বছরে ২৫ কেজি এভাবে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে টানা ৩৪ বছর পর্যন্ত ফল দিতে পারে একটি ত্বিনগাছ।

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল আলম জুয়েল বলেন, ত্বিন ফল অত্যন্ত পুষ্টিগুণে ভরা। এই ফল ক্যানসার প্রতিরোধ ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য ও হাঁপানি রোগ নিরাময় এবং মানসিক ক্লান্তি দূর করে। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক, ম্যাগনেশিয়ামসহ নানা ভেষজ গুণ। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস, হাড়ের রক্ষণাবেক্ষণ, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি, ত্বকের সৌন্দর্যবর্ধন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দুলাল হোসেন বলেন, ত্বিন একটি সম্ভাবনাময় ফসল। ত্বিন ফল চাষকে লাভজনক করতে পারলে বেকার তরুণদের কর্মসংস্হান হবে এবং অর্থনীতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই ফল রপ্তানির মাধ্যমে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও সম্ভব। কৃষি বিভাগ প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ নানাভাবে এই ফল চাষে চাষিদের সহায়তা প্রদান করছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১, ২০২২ ১২:৪৭ অপরাহ্ন
প্রতিকূল আবহাওয়ার পরও ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে
কৃষি বিভাগ

রংপুরে বেড়েছে ফসলের নিবিড়তা। প্রতিকূল আবহাওয়া গেলেও এবার ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দেড় লাখ মেট্রিক টন বেশি হয়েছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে উৎপাদন ব্যয় যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে ইঁদুরে কাটা ও মাড়াইয়ের সময় ধানের অপচয়। এ অবস্থায় দাম ভালো থাকায় লাভের আশা করছে কৃষক।

রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় এবার ৬ লাখ ১৪ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়। উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল ১৭ লাখ ১৯ হাজার ২৩১ মেট্রিক টন। মাঝপথে উৎকন্ঠায় ফেলে অসময়ের বন্যা আর ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ। তারপরও কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মোট জমিতে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন বেশি হয়েছে।

কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের ফলে কমেছে চাষের ব্যয়। রোধ হয়েছে ইঁদুরে কাটা ও মাড়াইয়ের সময় ধানের অপচয়। ২৩৬ শতাংশ থেকে ফসলের নিবিড়তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪০ শতাংশে।

কৃষি বিভাগের দাবি, একই জমিতে বিভিন্ন ফসলের চাষ ও সাথী ফসলের কারণে নিবিড়তা বাড়ছে।

রংপুর অঞ্চল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, দ্রুত ফুল এসে গেছে, আলাদা করে কোন পানি দিতে হয়নি। অনেক সময় আমন ধানে সেচের সংকট হয়, সেই সংকটটাও আমরা পাইনি। কারেন্ট পোকা এবার একেবারে নাই বৃষ্টির কারণে। বৃষ্টির কারণে ইঁদুরও কম।

চলতি আমন মৌসুমে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী ও গাইবান্ধা নিয়ে গঠিত রংপুর কৃষি অঞ্চল থেকে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার আমন ধান পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ৩১, ২০২১ ৪:০৫ অপরাহ্ন
হঠাৎ বেড়ে গেল সবজির দাম
কৃষি বিভাগ

হঠাৎ করে নাটোর শহরের পাইকারি বাজারগুলোতে সব ধরনের শীতকালিন সবজির সরবরাহ কমে গেছে।ফলে গত সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে সবজির দাম প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের।

তবে সবজির স্বাভাবিক সরবরাহ হতে আরও ২ সপ্তাহ  অপেক্ষা করতে হবে বলে দাবি করেছেন কৃষকরা।

শীতে ভরা মৌসুমে নাটোর শহরের পাইকারি সবজির বাজারগুলোতে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে সবজির সরবরাহ কমতে থাকে।

ফলে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, গাজর, কোয়াশ, লাউ ,বেগুনসহ নানা ধরনের সবজির দাম প্রতি কেজিতে চলতি সপ্তাহে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে গেছে। আর সরবারহ স্বাভাবিক থাকায় শুধু আলু ও টমেটোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) শহরের বৃহত্তম পাইকারি সবজির বাজার স্টেশন বাজারে প্রতি কেজি ফুলকপি ২৮ থেকে ৩০ টাকা, বেগুন ৩২ থেকে ৩৫ টাকা,গাজর ২৪ থেকে ২৬ টাকা, শিম ৩৮ থেকে ৫০ টাকা, মূলা ১৮ থেকে ২২ টাকা, লাউ প্রতি পিস ২২ থেকে ২৫ টাকা, বাঁধাকপি পিস ১৮ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হয়।

ক্রেতারা অভিযোগ করেন, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর শুরু থেকেই শীতকালীন সবজির দাম বেশি। তার উপর চলতি সপ্তাহে আবারও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

খুচরা পর্যায়ে ক্রেতারা বলেন, পাইকারি বাজারের চেয়ে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজিতে আরও ১০ থেকে ১৫ টাকা অতিরিক্ত দামে বিক্রি হয়। এ ব্যাপারে বাজার মনিটরের দাবি জানান ক্রেতারা।

কৃষকরা জানান, অক্টোবরের রোপণ করা সব ধরনের সবজির উৎপাদন শেষের পর্যায়ে চলে আসায় সরবরাহ কমে এসেছে। ফলে দাম বেড়েছে।

নভেম্বরে রোপণ করা সবজি বাজারে আসতে আরও সপ্তাহখানেক অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

নাটোর জেলায় চলতি বছর ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন শীতকালীন সবজির উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ৩১, ২০২১ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেরপুরে সারের কৃত্রিম সংকট
কৃষি বিভাগ

বগুড়ার শেরপুরে সরকার নিযুক্ত রাসায়নিক সার ডিলারের ঘরে সারের কৃত্রিম সংকট। অবৈধভাবে মজুতকৃত ১ হাজার ৭৩ বস্তা সার কালোবাজারে উচ্চ মূল্যে বিক্রির সময় আটক করা হলেও আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার, ন্যায্যমূল্যে সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন শেরপুরের কৃষকরা।

জানা য়ায়, শেরপুর উপজেলায় এ বছর সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রাকে টার্গেট করে আগাম সার মজুত করছেন শেরপুরের সার মজুতদার ব্যবসায়ীরা। উপজেলার ৭নং ভবানীপুর ইউনিয়নের সার ব্যবসায়ী আকন্দ ট্রেডার্সের গুদামে অবৈধভাবে মজুতকৃত ১ হাজার ৭৩ বস্তা সার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটক করা হয় গত ২৭শে ডিসেম্বর।

অবৈধভাবে মজুতকৃত সার উদ্ধার অভিযানে নামে শেরপুর উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ইউএনও) মো. ময়নুল ইসলাম। তাকে সহযোগিতা করেন, বগুড়া-র‌্যাব ১২ সদস্যসহ শেরপুর থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানায়, শেরপুরের ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ইউপি চেয়ারম্যানের বাসার পাশে আকন্দ ট্রেডার্স এর একাধিক সারের গুদামে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরপর ৭নং ওয়ার্ড ভিত্তিক খুচরা সার বিক্রেতা আব্দুল জলিল আকন্দের ছেলে আল মাহমুদ আকন্দ ও তার চাচা কলিম উদ্দিনের ঘরে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৬৩৩ বস্তা (ডিএপি) এবং ৪৪০ বস্তা (এমওপি) সার জব্দ করা হয়।

অবৈধভাবে মজুতকৃত সার শেরপুরে সরকার নিযুক্ত বিসিআইসি’র ১২ জন এবং বিএডিসির ২০ জন ডিলারের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা যায়। এরপর ওই সকল সার কালোবাজারে উচ্চ মূল্যে বিক্রি শুরু হলে সংবাদ পায় শেরপুর উপজেলা প্রশাসন।

এদিকে উল্লিখিত পরিমাণ সার আটকের পর বিশেষ তদবিরের কারণে সেখানে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য একটি আইওয়াশ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির প্রধান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান নিজেও ওই সার ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রকাশ্যে জড়িত আছেন।

এ নিয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, ভবানীপুরের আকন্দ ট্রেডার্স-এর গুদামে অবৈধভাবে মজুত করার অভিযোগে ৫০ কেজি ওজনের ৬৩৩ ডিএপি এবং ৪৪০ বস্তা এমওপি সার জব্দ করা হয়। পরে ওই সার সরকারি ডিলার রেটে এলাকায় বিক্রির জন্য কমিটি করে দেয়া হয়।

কৃষকরা জানায়, সার আটকের পর ওই ব্যবসায়ীকে এবারে উচ্চ মূল্যে সার বিক্রির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এটা স্রেফ আই ওয়াশ। শেরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আটক সার যশোরের নোয়াপাড়ার চালানে চান্দাইকোনা বাজারের জনৈক কনক ট্রেডার্সের নামে দেখা যায়।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop