৭:০৭ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অগাস্ট ১৮, ২০২৫ ৯:৩০ পূর্বাহ্ন
কুয়াকাটায় সোনালী স্বপ্ন রোপণে ব্যস্ত কৃষকেরা
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটায় পুরোদমে চলছে রোপা আমন ধান রোপণ। গত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে কৃষকদের মধ্যে আমন আবাদে আগ্রহ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকেরা সময়মতো জমি তৈরি করে চারা রোপণ করতে পারছেন। ফলে এ বছর অনেকেই অন্যান্য ফসল বাদ দিয়ে আমন আবাদে ঝুঁকছেন।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ৩০ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হবে। এরই মধ্যে ১৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই শতভাগ জমিতে রোপণ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ, কোথাও আগাছা পরিষ্কার আবার কোথাও দলবদ্ধভাবে চলছে চারা রোপণের কাজ। কৃষকদের যেন ব্যস্ততা থামছেই না। তবে স্থানীয় কৃষকেরা দেশি ধানের পরিবর্তে বেশি চাষ করছেন ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৫১, ব্রি ধান-৫২ এবং দেশি সাদা মোটা, জিরা বাদামসহ বিভিন্ন হাইব্রিড জাত।

লতাচাপলী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল জলিল বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আমরা রোপা আমন ধান রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। কম খরচে বেশি উৎপাদন হওয়ায় সবাই রোপা আমন আবাদে ঝুঁকছে। এ বছর বৃষ্টিও ভালো হয়েছে, তাই সেচের ঝামেলা করতে হয়নি।”

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে জমি প্রস্তুত করে কৃষকেরা ধানের চারা রোপণ করছেন। পানি সেচ ছাড়াই বৃষ্টির পানিতে জন্মানো চারা ভালোভাবে বেড়ে উঠছে, ফলে কৃষকদের অতিরিক্ত কষ্ট করতে হচ্ছে না।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান বলেন, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার উঁচু এলাকার জমি অলস পড়ে থাকে। তাই কৃষকদের রোপা আমন চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ বছর ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকেরা আগ্রহী হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কলাপাড়ায় আমনের বাম্পার ফলন হবে।

তিনি আরও জানান, মৌসুম শুরুর আগে কৃষকদের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন মাঠে গিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এ বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমন ধানের আবাদ হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১১, ২০২৫ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন
রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি-অর্থনীতির চিত্র বদলে দিতে পারে আম রপ্তানি
কৃষি বিভাগ

নওগাঁর সোহেল রানা চলতি বছরের ২৫ জুন থেকে ১ জুলাই কাতারের সুক ওয়াকিফে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী ‘বাংলাদেশি ম্যাংগো ফেস্টিভাল ২০২৫’-এ অংশ নেন। তিনি সেখানে ৪ হাজার ৫০০ কেজি আম নিয়ে গিয়েছিলেন, পরিবহন খরচসহ যার কেজি প্রতি ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২৫০ টাকা।

সৌভাগ্যক্রমে তিনি ওই আম কেজি প্রতি ৫০০ টাকা দরে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। অথচ বাংলাদেশের বাজারে মৌসুমি এই ফলগুলোর বিক্রয় মূল্য সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় এ বছর আম্রপালি আম গড়ে কেজি প্রতি ৭৫ টাকায় বিক্রি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে তা বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ৫০০ টাকায়।

ফলে বিদেশে আম রপ্তানি হলে অসংখ্য কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতেও আসতে পারে বড় পরিবর্তন।

সম্প্রতি কাতারের এই ম্যাংগো মেলা থেকে ফিরে সাপাহারের বরেন্দ্র অ্যাগ্রো পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রানা এ সম্ভাবনার কথা জানান।

তিনি প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে আম চাষ করেন এবং ২০২১ সাল থেকে সীমিত পরিসরে ইউরোপের বাজারে আম রপ্তানি করছেন।

রাজশাহী অঞ্চলের আম রপ্তানির সম্ভাবনা উজ্জ্বল। আমের আবাদ ও উৎপাদন ক্রমেই বাড়ছে, আর মুনাফার কারণে ক্রমশ বেশি সংখ্যক কৃষক আম চাষে ঝুঁকছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান জানান, এ অঞ্চলে আম উৎপাদন বেড়েছে এবং রপ্তানি বাড়াতে আম প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

গত এক দশকে আমের বাগান ও উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে, যা এ অঞ্চলের কৃষি খাতের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কৃষকরা ক্রমেই তিন ফসলি ধানখেত আমের বাগানে রূপান্তর করছেন, যা আম চাষের লাভজনক দিকটি স্পষ্ট করছে।

রাজশাহী অঞ্চল থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার আম রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান ড. আজিজুর রহমান।

তিনি বলেন, সরকার কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আমের রপ্তানি মূল্য বাড়াতে সংযোজন মূল্য বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে।

রপ্তানিযোগ্য উচ্চমানের আম নিশ্চিত করতে উৎপাদন, সংগ্রহ ও সংগ্রহ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, তাজা শাকসবজি ও ফলের সরাসরি রপ্তানি সহজ করতে রাজশাহী বিমানবন্দর উন্নত করার দাবিও উঠেছে।

স্বাদ ও রপ্তানিযোগ্যতার জন্য গোবিন্দভোগ, ল্যাংড়া, হিমসাগর, রানীপছন্দ, ফজলি ও আশ্বিনা আম বিশেষভাবে পরিচিত।

রাজশাহী জেলার পবা, চারঘাট ও বাঘা, নওগাঁ জেলার সাপাহার ও পোরশা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ, কানসাট, রোহনপুর ও সদর উপজেলা উচ্চমানের আম উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ।

নওগাঁ জেলার আম রপ্তানির সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। বাড়ছে আম চাষ, আর রপ্তানিযোগ্য মান বজায় রাখতে ফল মোড়ানোর (ফ্রুট ব্যাগিং) পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ছে, যা রপ্তানি সম্ভাবনা আরও বাড়াচ্ছে।

শনিবার বাসস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মনজুরুল হুদা বলেন, লাভজনক দিক বিবেচনায় নওগাঁয় ধানসহ অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে আম চাষ বাড়ছে।

ফল মোড়ানোর মতো আধুনিক কৌশল ব্যবহার করে কৃষকরা রপ্তানিযোগ্য মানের আম উৎপাদন করতে পারছেন, যা কীটনাশকের প্রয়োজন কমাচ্ছে এবং ফলমাছি সংক্রমণও হ্রাস করছে।

নওগাঁর আম এখন ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাচ্ছে। চীনেও রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে রপ্তানি গন্তব্য বৈচিত্র্যময় হচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়ছে।

চলতি মৌসুমে নওগাঁয় আম উৎপাদন এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার বড় একটি অংশ রপ্তানির জন্য নির্ধারিত।

সরকার রপ্তানিকারকদের প্রণোদনাও দিচ্ছে, যা অঞ্চলটির আম রপ্তানি আরও উৎসাহিত করছে। তবে ইতিবাচক চিত্র সত্ত্বেও বাড়তি বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার প্রয়োজন রয়েছে। আম প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে উঠলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে সংযোজন মূল্য যোগ হয়ে তা আরও শক্তিশালী হবে।

রাজশাহী অ্যাগ্রো ফুড প্রোডিউসার সোসাইটির সভাপতি আনোয়ারুল হক জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজশাহীর আম ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছেছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সুযোগ খুলে দিয়েছে। ফল মোড়ানোর পদ্ধতির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে কীটনাশকমুক্ত আম উৎপাদন সম্ভব হয়েছে, যা ফলমাছির আক্রমণও কমিয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষি চর্চা বিষয়ে ভালো মানের প্রশিক্ষণের ফলে অনেক কৃষক ও মূল্য শৃঙ্খলের অংশীদাররা উচ্চমূল্যের রপ্তানি বাজারে প্রবেশ করতে পারছেন।

যদিও রপ্তানির লাভ স্থানীয় বিক্রির প্রায় দ্বিগুণ, তবে এতে বেশি বিনিয়োগ, যত্ন এবং আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োজন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, এ অঞ্চলে ধান ও আলুর পর আম এখন তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য হিসেবে ওঠে এসেছে। তবে তিনি রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদন হলেও রপ্তানি হয় সামান্য পরিমাণ। আমাদের আরও বিদেশি বাজার খুঁজতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৭, ২০২৫ ৯:৫৬ পূর্বাহ্ন
পটুয়াখালীর উপকূলীয় পরিত্যক্ত জমিতে সাম্মাম চাষ, কৃষকদের স্বপ্ন পূরণ
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালী জেলার উপকূলীয় উপজেলা রাঙ্গাবালীতে মরুর ফল মধ্যপ্রাচ্যের রসালো ফল সাম্মাম চাষে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা। তারা সাম্মামের ফলনে ব্যাপক আনন্দ প্রকাশ করছেন। সাম্মাম চাষিদের আশা,  ফলন ভালো হয়েছে এবার দামটাও ভালো পাবেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের মোল্লার চর গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে ২০২১ সালে শুরু হওয়া সাম্মাম (মরুর ফল, যা দেখতে তরমুজের মতো) চাষে মিলছে অভাবনীয় সাফল্য। একসময় যে জমি পানির নিচে থাকত, হতো না কোনো ফসল, আজ সেখানে এই নতুন ফসল নিয়ে এখন কৃষকেরা স্বপ্ন বুনছেন।
সাম্মাম চাষী স্থানীয় কৃষক মো.আলী আক্কাস মোল্লা (৫০) জানান, আমি এই প্রথম ৩৫ শতাংশ জমিতে সাম্মাম চাষ করেছি। আমার এই চাষের সবটুকু জমি আগে পরিত্যক্ত ছিল। কোনো ফসল হতো না। এখন আল্লাহর রহমতে সাম্মাম চাষ করে বেশ ভালো ফলন হয়েছে। আশা করি, আবহাওয়া ভালো থাকলে আমি অনেক লাভবান হব।

একই এলাকার আরেক কৃষক মো. তোফায়েল মৃধা (৪৮) বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার সাম্মামের ফলন অনেক ভালো। দামও মোটামুটি ভালো। আমরা পাকা সাম্মাম ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে এবং গোলা সাম্মাম ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এতে আমি পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোভাবে দিনযাপন করছি।

তিনি আরো জানান, এই সাম্মাম মরু এলাকার ফল। তাই আমাদের এলাকায় আগে এই ফলের নাম কেউ জানত না। এখন অনেকে সাম্মাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ফলন ও দামে লাভজনক হওয়ায় আমরা এই ফল চাষে আরও আগ্রহী। এটা প্রতি বছর আমরা চাষাবাদ করবো। ইনশাল্লাহ।

অন্যদিকে উপজেলার সাম্মাম চাষিরা এই প্রতিবেদককে তাদের আক্ষেপের কথাও জানান। তারা বলেন,  সরকারিভাবে তারা এখনো কোনো সহযোগিতা পাননি। প্রশিক্ষণ, বীজ, সার, কীটনাশক কিংবা বাজারজাতকরণ বিষয়ে তাদের দেওয়া হয়নি কোনো দিকনির্দেশনা। উপজেলা কিংবা জেলা কৃষি অফিসও তাদের এ বিষয়ে সহায়তা করছেন না।
কৃষকদের চাওয়া,  যদি সাম্মাম চাষে সরকারিভাবে সহায়তা, প্রযুক্তি ও পরামর্শ দেওয়া হয়, তাহলে উপকূলীয় এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়- রাঙ্গাবালীর চর এলাকায় সাম্মাম চাষ হতে পারে অর্থনৈতিক মুক্তির একটি বড় দিক। তাই সরকারের কাছে এই চরবাসী কৃষকদের আবেদন যেন বিবেচনায় নেয়া হয়।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচার কম্পিটিটিভনেস প্রকল্পের আওতায় ২০২১-সালে প্রথমবারের মত উপজেলায় অফ-সিজন সাম্মাম চাষাবাদ হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন  ইউনিয়নে প্রায় ১২ হেক্টর জমিতে সাম্মাম আবাদ আছে। পরবর্তী বছরে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ও বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে অফ-সিজন সাম্মাম চাষ শুরু করে।

তিনি আরো বলেন, প্রকল্পের অর্থয়নে যতটুকু সহযোগিতা করার তা আমরা করে যাচ্ছি। এছাড়াও প্রশিক্ষণ ও উচ্চমূল্য ফসল চাষবিষয়ক কৃষকদের ধারণা দেওয়া হয়।

এছাড়া রোগ বালাইয়ের আক্রমণ কম থাকায় ও ভাল দাম পাওয়ায় কৃষকরা অফসিজন সাম্মাম চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৯, ২০২৫ ৯:২০ পূর্বাহ্ন
কৃষিতে প্রযুক্তির দক্ষ প্রয়োগই পারে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে: সেমিনারে বক্তারা
কৃষি বিভাগ

ঢাকা, ২৫ জুলাই, ২০২৫ (বাসস): তরুণ বিসিএস কৃষি কর্মকর্তাদের উদ্যোগে ‘এগ্রি ফ্রন্টিয়ার্স ২০২৫: ভবিষ্যৎ কৃষির জন্য তারুণ্য ও প্রযুক্তির সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কৃষি খাতে প্রযুক্তির দক্ষ প্রয়োগই পারে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তরুণদের সম্পৃক্ততা ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সম্ভাবনা নিয়ে রাজধানীর তুলা উন্নয়নের বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

‘ইয়াং এগ্রিকালচার ক্যাডার অফিসার ফোরাম (ইয়াকফ) আয়োজিত সেমিনারে ৩৮ থেকে ৪৩ তম ব্যাচের কৃষি ক্যডারের প্রায় ৩ শতাধিক কৃষি কর্মকর্তা অংশ নেন।

সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল আলম।

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, আধুনিক ও টেকসই করে গড়ে তুলতে হবে।

সাইফুল আলম বলেন, কৃষি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে দেশের প্রতিটি কোনে কৃষি কর্মকর্তারা রোদ, বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

কৃষি কর্মকর্তাদের ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

সেমিনারে বক্তব্য রাখেন- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস (কৃষি) অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আহমেদ আলী চৌধুরী ইকবাল, উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের পরিচালক মো. আব্দুর রহিম, হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিন, ক্রপস্ উইংয়ের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. হজরত আলী, ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. জাকির হোসেন, প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ কাজী মজিবুর রহমান, উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের উপ-পরিচালক (বালাইনাশক প্রশাসন) মো. নূরে আলম সিদ্দিকী, প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো. মুরাদুল হাসান, লিগ্যাল ও সাপোর্ট সার্ভিসেসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন ইন্টারপ্রেনিউরশিপ এন্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আবুল কালাম আজাদ, জগন্নাথপুর ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় দু’ট কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কে এম বদরুল হক ও উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক (আমদানি) বনি আমিন খান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২২, ২০২৫ ৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
অতিবৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুরে সবজি ও মৎস্য খাতে ১৫ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা
কৃষি বিভাগ

আষাঢ়ের শেষে টানা বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুর জেলার বিস্তীর্ণ ফসলসহ সবজি ক্ষেত ভেসে গেছে। এতে জেলার সবজি ক্ষেতে পানি জমে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে আমনের বীজতলারও। ফলে কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এ অবস্থায় বৃষ্টির পানি না সরলে এবং নতুন করে সবজি চাষ সম্ভব না হলে বাজারে সবজির দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ ক্রেতারা।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, সবজি ও মৎস্য খাতের প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান কৃষি কর্মকর্তা।

সরেজমিনে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার সুতারগোপ্টা,ভবানীগঞ্জ,পিয়ারপুর,মিয়ার বেড়ির কয়েক শত  একর সবজির ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। আর কৃষকরা বাধ্য হয়ে বৃষ্টির পানি সেচে ফেলার চেষ্টা করছেন। এসব এলাকা সবজি উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। জমির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জুড়েই এখানে সবজি চাষ হয়। বর্তমানে মাঠের পর মাঠ জুড়ে চাষ করা হয়েছে শসা, পটল, বরবটি, পুঁইশাক, ঢেঁড়স, বেগুন, আগাম বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন ধরনের বর্ষাকালীন সবজি।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কৃষকরা আগাম সবজি বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু আষাঢ় শেষের টানা বৃষ্টিতে সেই স্বপ্নে ধস নেমেছে। পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে মাঠের পর মাঠ সবজির ক্ষেত। এবার লক্ষ্মীপুরে সবজির চাষ হয়েছে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু বৃষ্টিতে বেশিরভাগ সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি ১১০০ হেক্টর আমনের বীজতলার মধ্যে ৫০০ হেক্টর বীজ তলা পানির নিচে তলিয়ে  গেছে। প্রায় ৫০০ পুকুর ও ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সব মিলিয়ে কৃষি ও মৎস্য খাতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কৃষকরা বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে লাভের আশায় নানা ধরনের সবজি চাষ করেছি। কিন্তু গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে শসা, পটল, বরবটি, পুঁইশাক, ঢেঁড়স, বেগুন, আগাম বাঁধাকপি সব নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েদিনের মধ্যে বাজারে এসব সবজি বিক্রি করা কথা। এখনও পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে বেশিরভাগ সবজির ক্ষেত। সব শেষ হয়ে গেছে। কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সরকার যদি প্রণোদনার ব্যবস্থা করে,তাহলে হয়ত ঘুরে দাঁড়াতো পারবো। প্রণোদনা না পেলে না খেয়ে থাকতে হবে।

মৎস্য চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ৫০০’র বেশি পুকুর ও ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে যায়। এতে  করে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। গত বছরের বন্যার  ক্ষতি এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এবার টানা বৃষ্টিতে পুকুরের সব মাছ ভেসে গেছে। অনেকে ধারদেনা করে মাছ চাষ করেছেন। কীভাবে মানুষের ধারদেনা শোধ করবেন তাই নিয়ে চিন্তায় আছেন।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেন বলেন, বৃষ্টিতে সবজি ও আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকার পর তাদের পুনর্বাসন ও প্রণোদনা দেয়া হবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, এবারের টানা বৃষ্টিতে ৫শ পুকুর বা ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৭, ২০২৫ ৯:৩৩ পূর্বাহ্ন
লালমনিরহাটের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান কলা চাষিদের
কৃষি বিভাগ

লালমনিরহাট জেলার কৃষি অর্থনীতিতে কলা চাষ এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে জেলার বুদারুর চর ও তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলসহ জেলার অন্যান্য চর এলাকায় কৃষকরা এখন ধান, পাট, আলু ও ভুট্টার মতো প্রচলিত ফসলের পরিবর্তে কলা চাষে ঝুঁকছেন।

কৃষকদের মতে, কলা চাষে কম খরচ, কম পরিশ্রম এবং অধিক লাভের নিশ্চয়তা আছে। তারা বলেন, এই পরিবর্তন শুধু জীবনমানই উন্নত করেনি, বরং গড়ে তুলেছে একটি সুসংগঠিত বাজার ব্যবস্থা।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী হাট ধীরে ধীরে কলার কেন্দ্রীয় বাজার হয়ে উঠেছে। সপ্তাহের শনিবার ও  বুধবার এই দুই দিন হাট বসে। প্রতি হাটে ভোর থেকেই শুরু হয় কলার জমজমাট কেনা-বেচা। কখনো কখনো ভোর হওয়ার আগেই বিক্রি শেষ হয়ে যায়।

হাট ইজারাদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বড়বাড়ী হাট থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার কলা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। শুধু লালমনিরহাট নয়, পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রামের রাজারহাট, রংপুরের কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়ার চাষিরাও এই হাটে কলা আনেন। রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এখানকার কলা সরবরাহ করা হয়।

চাষিরা জানান, বর্তমানে চরাঞ্চলে উন্নত জাতের মালভোগ, চিনি চম্পা, মেহের, সাগর ও রঙিন কলার চাষ হচ্ছে। চিনি চম্পা জাতটি রোগ প্রতিরোধক্ষম ও ফলন বেশি হওয়ায় চাষিদের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে মালভোগ কলার বাজারমূল্য বেশি হলেও রোগপ্রবণ হওয়ায় তা তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের চাষি আলতাব আলী বলেন, ‘আমি ১০ বছর ধরে কলা চাষ করছি। প্রতি বিঘা কলা চাষে খরচ হয় ২৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা। বছরে আয় হয় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।’

কলা চাষি সাইদুল মিয়া বলেন, ‘মাত্র ১৭ শতক জমিতে কলা চাষ করে এবার ৪০ হাজার টাকার কলা বিক্রি করেছি। বর্তমানে চিনি চম্পা জাতের কলা চাষ করছি, এটিও ফলনও ভালো এবং টেকসই। ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।’

বড়বাড়ী হাটের কলা ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘চাষিদের সাথে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। অনেকটা পারিবারিক সম্পর্কের মত। প্রতি হাটে প্রায় ৫০০-৬০০ কাঁদি কলা ট্রাকে করে ঢাকায় পাঠাই। তবে পরিবহণ খরচ ও শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় লাভ কিছুটা কমেছে।’

স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমি ২০ বছর ধরে এই ব্যবসার সাথে যুক্ত। বড়বাড়ী হাটে ২৫-৩০ জন বড় আড়তদার আছেন।  যারা ট্রাকে করে প্রতি হাটে লাখ লাখ টাকার কলা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠান।’
তিনি বলেন, বড় ট্রাকে একবারে ৭০০ কাদি ও ছোট ট্রাকে প্রায় ৪৫০ কাঁদি কলা পরিবহণ করা সম্ভব। এই হাটে প্রায় শতাধিক শ্রমিক লোড-আনলোডের কাজে যুক্ত থাকেন। এতে শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৯.৫ থেকে ১০ লাখ টন কলা উৎপাদিত হয়। দেশীয় ফলের মধ্যে আমের পরেই দ্বিতীয় সর্বাধিক উৎপাদিত ফল। কলা চাষের জন্য লালমনিরহাটের চরাঞ্চলগুলো বিশেষভাবে উপযোগী।  বেলে দোআঁশ মাটি ও সহজ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কলা চাষে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, ‘কলা একটি বর্ষজীবী ফসল। একবার রোপণ করলে কয়েক বছর ফলন পাওয়া যায়। চরাঞ্চলের জমিতে কলা চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করছে।’

তিনি বলেন, লালমনিরহাটের কলা এখন আর শুধুই বিকল্প ফসল নয়। বরং এটি কৃষির টেকসই সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। চাষিদের নিষ্ঠা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২৫ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেরপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে কলাচাষ
কৃষি বিভাগ

শেরপুর, ১৩ জুলাই, ২০২৫ (বাসস) : কম খরচে বেশি লাভবান হওয়ায় শেরপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে কলাচাষ। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া কলাচাষে উপযোগী, তাই যুক্ত হচ্ছেন নতুন চাষিরাও।

চলতি বছর শেরপুরে ৬৬০ হেক্টর জমিতে কলাচাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করে কৃষি বিভাগ। তবে ইতোমধ্যেই তা ছাড়িয়ে ৯৪৩ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া শেরপুরের কলার গুণগত মান ভাল এবং সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্তত ২০টি জেলায় বিক্রির জন্য যাচ্ছে এই জেলার কলা। তাই বর্তমানে অল্প পুঁজি ও কম পরিশ্রমে অধিক লাভবান হওয়ায় শেরপুরে কলা হয়ে উঠেছে এক সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, সদরের চরশেরপুর ইউনিয়নের যোগনীবাগ গ্রাম। চলতি বছর এই গ্রামের প্রায় ৫শ’ কৃষক বিভিন্ন জাতের কলা চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি খরচ হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। যেখান থেকে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার কলা বিক্রি করছেন কৃষক। সব খরচ বাদে বিঘা প্রতি লাভ হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

কলাচাষি ও বিক্রেতারা জানান, শেরপুরের কলার স্বাদ ও গুনগতমান ভালো হওয়ায় চাহিদা বেশি। তাই শেরপুরের শ্রীবরদি উপজেলার চৌকিদার বাড়ি মোড়ের কলার হাট থেকে দৈনিক বিপুল পরিমাণ কলা বিক্রি হয়।

জানা যায়, এই হাটে প্রতিদিন গড়ে অর্ধকোটি (৫০ লাখ) টাকার কলা অন্তত ২০টি জেলায় সরবরাহ হয়। যা এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

শ্রীবরদির সদর ইউনিয়নের কলাচাষি মুনসর আলী (৫০) বলেন, এই উপজেলায় লাভবান হওয়ায় একজনের কলার চাষ দেখে অন্যজন শুরু করেছে। তিনি আরো জানান, এবার আমি ১২শ কলার গাছ রোপন করেছি। যেখান থেকে অন্তত ৬ লাখ টাকার মতো কলা বিক্রি করা যাবে। অন্যান্য ফসল থেকে কলা চাষে বেশি সাফল্য আসছে তাই কৃষক কলাচাষের প্রতি আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

একই ইউনিয়নের কৃষক আব্বাস মিয়া (৪৫) জানান, অন্য ফসলের তুলনায় কলা চাষে খরচ কম। জমি তৈরির পর প্রথম দফায় চারা রোপণ করলেই কয়েক মাসের মধ্যে ফলন আসে। এরপর নিয়মিত পরিচর্যা করলে একই জমিতে একাধিকবার ফলন পাওয়া যায়। এ কারণেই ধান কিংবা অন্য শস্য বাদ দিয়ে সীমান্তের অনেক কৃষক এখন কলা চাষে মনোযোগ দিচ্ছেন।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, শ্রীবরদীর পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকাতেও কলা চাষ হচ্ছে। একবার কলার চারা রোপণে ২৪ মাসে তিনবার ফলন পাওয়া যায়। অল্প শ্রম ও পুঁজিতে ভালো লাভ হওয়ায় অন্য ফসলের তুলনায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কলা চাষের পরিধি। ভবিষ্যতে এ চাষ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা কৃষি বিভাগের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এক বিঘা জমিতে কলা চাষে প্রায় ১ লাখ টাকার মতো গড়ে লাভ হয়। তাই দিন দিন কলা চাষে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকেও উচ্চফলনশীল জাত এবং আধুনিক কলাচাষে দেয়া হচ্ছে সব ধরনের সহায়তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১২, ২০২৫ ৬:০২ অপরাহ্ন
মৃত্তিকার ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভাগীয় গবেষণাগারের কার্যক্রম শুরু
কৃষি বিভাগ

মৃত্তিকার সেবা আরও বেশি জোরদার ও মাটি পরীক্ষার কার্যক্রম সহজ করতে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভাগীয় গবেষণাগার, ময়মনসিংহ অফিসের শুভ উদ্বোধন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি জেলা ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোণা জেলা নিয়ে এই বিভাগীয় অফিস কার্যক্রম শুরু করেছে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় গবেষণাগারের অধীনে ময়মনসিংহ গবেষণাগার ও জামালপুর গবেষণাগার এবং বিভাগীয় কার্যালয়ের অধীনে ময়মনসিংহ কার্যালয়, জামালপুর আঞ্চলিক কার্যালয় ও নেত্রকোণা আঞ্চলিক কার্যালয় তাদের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. বেগম সামিয়া সুলতানা, মহাপরিচালক, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো: মামুনুর রহমান, মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ঢাকা, মো: জয়নাল আবেদীন, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, ঢাকা, উপপরিচালক (উপসচিব) আফরোজা বেগম পারুল, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার ড.রুবিনা ইয়াসমিন, জেলা তথ্য অফিসার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, আঞ্চলিক তথ্য কর্মকর্তা, পিআইডি, ময়মনসিংহ। আরও উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক কার্যালয় নেত্রকোণার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান মুকিত, বিভাগীয় গবেষণাগার ময়মনসিংহের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: সিরাজুল ইসলাম, আঞ্চলিক গবেষণাগার জামালপুরের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রাফেজা বেগম, বিভাগীয় গবেষণাগার ময়মনসিংহের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: জুনেদ মিয়া, সালমা আক্তার, বিভাগীয় কার্যালয় ময়মনসিংহের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুমনা রাণী রায়, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো : আবুল বাশার, মো: লুৎফল হাসান, নাসির উদ্দীন, ফারজানা আক্তারসহ অধীনস্থ অফিসসমূহের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. বেগম সামিয়া সুলতানা বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভাগীয় গবেষণাগার, ময়মনসিংহের শুভ উদ্বোধন করেন এবং অধীনস্থ অফিসসমূহের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভাগীয় গবেষণাগার আগামী দিনে কৃষক সেবা কার্যক্রম, মাটি পরীক্ষা, মৃত্তিকা ডাটা সৃজন, সয়েল সার্ভে কার্যক্রমসহ সকল কার্যক্রম সফলভাবে পালন করবেন এবং এসআরডিআই কে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। বিজ্ঞানীরা গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও মাঠ পর্যায়ে নিবিড়ভাবে কৃষক সেবা দিয়ে কৃষির উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কার্যালয় ময়মনসিংহের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শওকতুজ্জামান। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে উদ্বোধনী ও মতবিনিময় সভা শেষে প্রধান অতিথি কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১০, ২০২৫ ৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
কুমিল্লায় বাণিজ্যিকভাবে বাঁশ চাষে স্বাবলম্বী দুই হাজার পরিবার
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা (উত্তর), ৮ জুলাই, ২০২৫ (বাসস): জেলায় লালমাই পাহাড়ে বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে বাঁশ। গৃহস্থালি সামগ্রী, বসতঘর, ফসলের ক্ষেতের মাচা, নির্মাণ সামগ্রী এবং মাছ ধরার ফাঁদসহ নানান শিল্পে চাহিদা থাকায় বাঁশ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কুমিল্লার চাষিদের। এ পাহাড়ে দুই হাজারের বেশি পরিবার বাঁশ চাষে সাবলম্বী। প্রতিবছর এখানকার চাষিরা বিক্রি করছেন প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার বাঁশ।

এ বাঁশে স্থানীয়ভাবে তৈরি হচ্ছে বাঁশের কুলা, খাঁচা, ওরা, ঝুঁড়ি, ডালা ও মাছ ধরার ফাঁদসহ দরকারি নানা পণ্য।  জেলা শহরতলীর নমশূদ্র পল্লীর প্রায় পনেরেশো পরিবারের পেশা এ কুটির শিল্প। বাজারে প্রতিটি পণ্য মানভেদে পঞ্চাশ থেকে দুই’শ টাকায় বিক্রিতে সন্তানদের লেখাপড়া, ঋণ পরিশোধ এবং আনুষাঙ্গিক খরচ মেটান কারিগররা।

নমশূদ্র পল্লী ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িত সহস্রাধিক উদ্যোক্তা। যারা কাঁচামাল সংগ্রহে লালমাই পাহাড়ের বাঁশে নির্ভরশীল।

সুরমা রাণী ও বালা রাণী নামে দুই কুটিরশিল্পী জানান, বছরের পর বছর এ পেশায় রুটি রুজির ব্যবস্থা হয়ে আসছে।  স্বামীর সংসারে এসেই এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। আগে তুলনায় চাহিদা কমলেও লালমাই পাহাড়ের গুণগত মানের বাঁশ পাওয়া যাচ্ছে স্বল্পমূল্যে যার কারণে এখনো টিকে আছে তাদের প্রাণের শিল্প।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়,সমতল থেকে পাহাড়ের চূড়া। চোখে পড়বে সারি সারি বাঁশ বাগান। কুমিল্লার ময়নামতি থেকে চন্ডিমুড়া পর্যন্ত পাহাড়ের অন্তত একশো একর ভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে তল্লা, মুলি, বরাক, কাটা বরাক, হিল বরাক, বোম, কনক, বারি ও পেঁচাসহ নানান জাতের বাঁশ।

তবে সবথেকে বেশি বাঁশঝাড় চোখে পড়ে এখানকার মধ্যম বিজয়পুর, ধনমুড়া, বড় ধর্মপুর, রাজারখলা, ভাঙ্গামুড়া, জামমুড়া, বৈষ্ণবমুড়া, লালমতি, গন্ধমতি ও সালমানপুরে। চাষে খরচ কম বিপরীতে বিক্রয় মূল্য বেশি হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় চাষীদের মাঝে। এ পাহাড়ে দুই হাজারের বেশি পরিবার বাঁশ চাষে সাবলম্বী। প্রতিবছর এখানকার চাষিরা বিক্রি করছেন প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার বাঁশ ।

গৃহস্থালি সামগ্রী ছাড়াও নির্মাণকাজ, বসতঘর তৈরি এবং জমিতে শাক সবজির মাচাতেও বাঁশের ব্যবহার বাড়ছে। এতে করে কৃষকদের মাঝেও বাঁশের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। স্থানীয় চাষীরা জানান, বাণিজ্যিকভাবে তাদের উৎপাদিত এ বাঁশ জেলার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায়। তারা মনে করেন সরকারি সহায়তা পেলে বাঁশ চাষ বাড়ার পাশাপাশি বাড়বে রাজস্ব আয়ও।

বাঁশ চাষী খায়রুল ইসলাম ও ফিরোজ আলম জানান, ধীরে ধীরে এই লালমাই পাহাড়ে বাঁশ চাষে লাভবান হচ্ছেন তারা। একবার রোপনে প্রতিবছর দুই থেকে তিনবার বাঁশ বিক্রি করতে পারছেন চাষিরা, এতে স্বল্প টাকায় অধিক মুনাফা লাভের আগ্রহ বাড়ছে তাদের।

এদিকে কাসাভার চাষও হচ্ছে লালমাই পাহাড়ে। একেবারেই অবৈজ্ঞানিকভাবে কাসাভা চাষাবাদে পাহাড় তার স্বকীয়তা হারাচ্ছে ক্ষয় হচ্ছে মাটি। অন্যদিকে ভারি বর্ষণসহ নানা দুর্যোগে পাহাড়ের ক্ষয় রোধে ভূমিকা রাখে এ বাঁশের শিকড়। তাই পরিবেশবিদরা মনে করেন কাসাভা ছেড়ে বাঁশ চাষে উদ্বুদ্ধ হবে চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আইউব মাহমুদ বলেন, প্রায় ৪শ’ বছর ধরে সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে চাষ হচ্ছে উন্নত মানের বিভিন্ন  জাতের বাঁশ। গুণগত মান ভালো হওয়ায় চাহিদাও বেশ। বাঁশ চাষে চাষিরা লাভবান হওয়ায় প্রতিবছরে বাড়ছে জমির পরিমাণ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৩, ২০২৫ ৯:২০ পূর্বাহ্ন
স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-তে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

শনিবার গাজীপুরে ব্রি সদর দপ্তরে ‘নতুন ৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি)’ শীর্ষক প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিষয়ক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ধরা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে নতুন আঞ্চলিক কার্যালয়ও স্যাটেলাইট স্টেশন স্থাপন, গবেষণা ল্যাব উন্নয়ন, ব্রি উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহ দ্রুত কৃষক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে প্রযুক্তি গ্রাম সৃষ্টি, স্থানীয়ভাবে জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, ব্রি অবমুক্ত জাতের গড় ফলন বৃদ্ধিও লক্ষ্যে কৃষক পর্যায়ে উন্নত মানের বীজ উৎপাদন, বীজ প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ, কার্যকরী গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ব্রি’র জনবলের উচ্চ শিক্ষা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীসহ ব্রি’র জনবল এবং কৃষকের প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে।

ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী। এসময়ে ব্রি’র পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. মুন্নুজান খানম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে মিল রেখে স্থান ভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উন্নয়নসহ ব্রি’র মূল গবেষণা কার্যক্রমকে সহায়তা করাই এলএসটিডি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। আঞ্চলিক কার্যালয় এবং স্যাটেলাইট স্টেশন স্থাপন ছাড়াও এ প্রকল্পের উদ্দেশ্যেও মধ্যে রয়েছে স্থান ভিত্তিক ৬টি নতুন জাত এবং ২০টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন।

এতে আরও বলা হয়, স্থান ভিত্তিক সমস্যা নিরূপণ (কৃষিতে অনগ্রসর দক্ষিণাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকাসহ) কার্যকরী সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রয়োগিক গবেষণা জোরদারকরণ। ব্রি’র বিদ্যমান ১১টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের গবেষণা ল্যাব জোরদারকরণ এবং প্রস্তাবিত আঞ্চলিক কার্যালয়ে গবেষণা ল্যাব উন্নয়ন। সারা দেশে মোট ১৫টি ‘প্রযুক্তি গ্রাম’ সৃষ্টির মাধ্যমে ব্রি উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সমূহ দ্রুত সময়ে কৃষক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

মূল প্রবন্ধে প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, ১টি জাতের উদ্ভাবন প্রক্রিয়াধীন এবং ৫টি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কাজ চলমান।

এছাড়াও ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় প্রাথমিক ভাবে ১৫টি প্রযুক্তি গ্রাম নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রযুক্তি গ্রামগুলোতে ‘সার্ভিস প্রোভাইডার’ নির্বাচন করে ব্রি উদ্ভাবিত প্রযুক্তির প্রদর্শনী এবং কৃষকদের প্রযুক্তি বিষয়ক কলা কৌশল গত সেবা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

ব্রি উদ্ভাবিত উফশী আমন জাতের ধান চাষাবাদে উদ্বুদ্ধকরণে স্থানীয় কৃষকদের জন্য ১৬৫টি মাঠ দিবস ও ফসল কর্তন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop