৪:৫৯ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ১৭, ২০২৫ ৯:৩৩ পূর্বাহ্ন
লালমনিরহাটের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান কলা চাষিদের
কৃষি বিভাগ

লালমনিরহাট জেলার কৃষি অর্থনীতিতে কলা চাষ এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে জেলার বুদারুর চর ও তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলসহ জেলার অন্যান্য চর এলাকায় কৃষকরা এখন ধান, পাট, আলু ও ভুট্টার মতো প্রচলিত ফসলের পরিবর্তে কলা চাষে ঝুঁকছেন।

কৃষকদের মতে, কলা চাষে কম খরচ, কম পরিশ্রম এবং অধিক লাভের নিশ্চয়তা আছে। তারা বলেন, এই পরিবর্তন শুধু জীবনমানই উন্নত করেনি, বরং গড়ে তুলেছে একটি সুসংগঠিত বাজার ব্যবস্থা।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী হাট ধীরে ধীরে কলার কেন্দ্রীয় বাজার হয়ে উঠেছে। সপ্তাহের শনিবার ও  বুধবার এই দুই দিন হাট বসে। প্রতি হাটে ভোর থেকেই শুরু হয় কলার জমজমাট কেনা-বেচা। কখনো কখনো ভোর হওয়ার আগেই বিক্রি শেষ হয়ে যায়।

হাট ইজারাদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বড়বাড়ী হাট থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার কলা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। শুধু লালমনিরহাট নয়, পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রামের রাজারহাট, রংপুরের কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়ার চাষিরাও এই হাটে কলা আনেন। রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এখানকার কলা সরবরাহ করা হয়।

চাষিরা জানান, বর্তমানে চরাঞ্চলে উন্নত জাতের মালভোগ, চিনি চম্পা, মেহের, সাগর ও রঙিন কলার চাষ হচ্ছে। চিনি চম্পা জাতটি রোগ প্রতিরোধক্ষম ও ফলন বেশি হওয়ায় চাষিদের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে মালভোগ কলার বাজারমূল্য বেশি হলেও রোগপ্রবণ হওয়ায় তা তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের চাষি আলতাব আলী বলেন, ‘আমি ১০ বছর ধরে কলা চাষ করছি। প্রতি বিঘা কলা চাষে খরচ হয় ২৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা। বছরে আয় হয় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।’

কলা চাষি সাইদুল মিয়া বলেন, ‘মাত্র ১৭ শতক জমিতে কলা চাষ করে এবার ৪০ হাজার টাকার কলা বিক্রি করেছি। বর্তমানে চিনি চম্পা জাতের কলা চাষ করছি, এটিও ফলনও ভালো এবং টেকসই। ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।’

বড়বাড়ী হাটের কলা ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘চাষিদের সাথে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। অনেকটা পারিবারিক সম্পর্কের মত। প্রতি হাটে প্রায় ৫০০-৬০০ কাঁদি কলা ট্রাকে করে ঢাকায় পাঠাই। তবে পরিবহণ খরচ ও শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় লাভ কিছুটা কমেছে।’

স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমি ২০ বছর ধরে এই ব্যবসার সাথে যুক্ত। বড়বাড়ী হাটে ২৫-৩০ জন বড় আড়তদার আছেন।  যারা ট্রাকে করে প্রতি হাটে লাখ লাখ টাকার কলা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠান।’
তিনি বলেন, বড় ট্রাকে একবারে ৭০০ কাদি ও ছোট ট্রাকে প্রায় ৪৫০ কাঁদি কলা পরিবহণ করা সম্ভব। এই হাটে প্রায় শতাধিক শ্রমিক লোড-আনলোডের কাজে যুক্ত থাকেন। এতে শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৯.৫ থেকে ১০ লাখ টন কলা উৎপাদিত হয়। দেশীয় ফলের মধ্যে আমের পরেই দ্বিতীয় সর্বাধিক উৎপাদিত ফল। কলা চাষের জন্য লালমনিরহাটের চরাঞ্চলগুলো বিশেষভাবে উপযোগী।  বেলে দোআঁশ মাটি ও সহজ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কলা চাষে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, ‘কলা একটি বর্ষজীবী ফসল। একবার রোপণ করলে কয়েক বছর ফলন পাওয়া যায়। চরাঞ্চলের জমিতে কলা চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করছে।’

তিনি বলেন, লালমনিরহাটের কলা এখন আর শুধুই বিকল্প ফসল নয়। বরং এটি কৃষির টেকসই সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। চাষিদের নিষ্ঠা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২৫ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেরপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে কলাচাষ
কৃষি বিভাগ

শেরপুর, ১৩ জুলাই, ২০২৫ (বাসস) : কম খরচে বেশি লাভবান হওয়ায় শেরপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে কলাচাষ। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া কলাচাষে উপযোগী, তাই যুক্ত হচ্ছেন নতুন চাষিরাও।

চলতি বছর শেরপুরে ৬৬০ হেক্টর জমিতে কলাচাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করে কৃষি বিভাগ। তবে ইতোমধ্যেই তা ছাড়িয়ে ৯৪৩ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া শেরপুরের কলার গুণগত মান ভাল এবং সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্তত ২০টি জেলায় বিক্রির জন্য যাচ্ছে এই জেলার কলা। তাই বর্তমানে অল্প পুঁজি ও কম পরিশ্রমে অধিক লাভবান হওয়ায় শেরপুরে কলা হয়ে উঠেছে এক সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, সদরের চরশেরপুর ইউনিয়নের যোগনীবাগ গ্রাম। চলতি বছর এই গ্রামের প্রায় ৫শ’ কৃষক বিভিন্ন জাতের কলা চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি খরচ হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। যেখান থেকে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার কলা বিক্রি করছেন কৃষক। সব খরচ বাদে বিঘা প্রতি লাভ হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

কলাচাষি ও বিক্রেতারা জানান, শেরপুরের কলার স্বাদ ও গুনগতমান ভালো হওয়ায় চাহিদা বেশি। তাই শেরপুরের শ্রীবরদি উপজেলার চৌকিদার বাড়ি মোড়ের কলার হাট থেকে দৈনিক বিপুল পরিমাণ কলা বিক্রি হয়।

জানা যায়, এই হাটে প্রতিদিন গড়ে অর্ধকোটি (৫০ লাখ) টাকার কলা অন্তত ২০টি জেলায় সরবরাহ হয়। যা এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

শ্রীবরদির সদর ইউনিয়নের কলাচাষি মুনসর আলী (৫০) বলেন, এই উপজেলায় লাভবান হওয়ায় একজনের কলার চাষ দেখে অন্যজন শুরু করেছে। তিনি আরো জানান, এবার আমি ১২শ কলার গাছ রোপন করেছি। যেখান থেকে অন্তত ৬ লাখ টাকার মতো কলা বিক্রি করা যাবে। অন্যান্য ফসল থেকে কলা চাষে বেশি সাফল্য আসছে তাই কৃষক কলাচাষের প্রতি আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

একই ইউনিয়নের কৃষক আব্বাস মিয়া (৪৫) জানান, অন্য ফসলের তুলনায় কলা চাষে খরচ কম। জমি তৈরির পর প্রথম দফায় চারা রোপণ করলেই কয়েক মাসের মধ্যে ফলন আসে। এরপর নিয়মিত পরিচর্যা করলে একই জমিতে একাধিকবার ফলন পাওয়া যায়। এ কারণেই ধান কিংবা অন্য শস্য বাদ দিয়ে সীমান্তের অনেক কৃষক এখন কলা চাষে মনোযোগ দিচ্ছেন।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, শ্রীবরদীর পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকাতেও কলা চাষ হচ্ছে। একবার কলার চারা রোপণে ২৪ মাসে তিনবার ফলন পাওয়া যায়। অল্প শ্রম ও পুঁজিতে ভালো লাভ হওয়ায় অন্য ফসলের তুলনায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কলা চাষের পরিধি। ভবিষ্যতে এ চাষ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা কৃষি বিভাগের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এক বিঘা জমিতে কলা চাষে প্রায় ১ লাখ টাকার মতো গড়ে লাভ হয়। তাই দিন দিন কলা চাষে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকেও উচ্চফলনশীল জাত এবং আধুনিক কলাচাষে দেয়া হচ্ছে সব ধরনের সহায়তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১২, ২০২৫ ৬:০২ অপরাহ্ন
মৃত্তিকার ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভাগীয় গবেষণাগারের কার্যক্রম শুরু
কৃষি বিভাগ

মৃত্তিকার সেবা আরও বেশি জোরদার ও মাটি পরীক্ষার কার্যক্রম সহজ করতে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভাগীয় গবেষণাগার, ময়মনসিংহ অফিসের শুভ উদ্বোধন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি জেলা ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোণা জেলা নিয়ে এই বিভাগীয় অফিস কার্যক্রম শুরু করেছে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় গবেষণাগারের অধীনে ময়মনসিংহ গবেষণাগার ও জামালপুর গবেষণাগার এবং বিভাগীয় কার্যালয়ের অধীনে ময়মনসিংহ কার্যালয়, জামালপুর আঞ্চলিক কার্যালয় ও নেত্রকোণা আঞ্চলিক কার্যালয় তাদের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. বেগম সামিয়া সুলতানা, মহাপরিচালক, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো: মামুনুর রহমান, মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ঢাকা, মো: জয়নাল আবেদীন, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, ঢাকা, উপপরিচালক (উপসচিব) আফরোজা বেগম পারুল, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার ড.রুবিনা ইয়াসমিন, জেলা তথ্য অফিসার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, আঞ্চলিক তথ্য কর্মকর্তা, পিআইডি, ময়মনসিংহ। আরও উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক কার্যালয় নেত্রকোণার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান মুকিত, বিভাগীয় গবেষণাগার ময়মনসিংহের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: সিরাজুল ইসলাম, আঞ্চলিক গবেষণাগার জামালপুরের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রাফেজা বেগম, বিভাগীয় গবেষণাগার ময়মনসিংহের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: জুনেদ মিয়া, সালমা আক্তার, বিভাগীয় কার্যালয় ময়মনসিংহের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুমনা রাণী রায়, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো : আবুল বাশার, মো: লুৎফল হাসান, নাসির উদ্দীন, ফারজানা আক্তারসহ অধীনস্থ অফিসসমূহের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. বেগম সামিয়া সুলতানা বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভাগীয় গবেষণাগার, ময়মনসিংহের শুভ উদ্বোধন করেন এবং অধীনস্থ অফিসসমূহের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভাগীয় গবেষণাগার আগামী দিনে কৃষক সেবা কার্যক্রম, মাটি পরীক্ষা, মৃত্তিকা ডাটা সৃজন, সয়েল সার্ভে কার্যক্রমসহ সকল কার্যক্রম সফলভাবে পালন করবেন এবং এসআরডিআই কে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। বিজ্ঞানীরা গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও মাঠ পর্যায়ে নিবিড়ভাবে কৃষক সেবা দিয়ে কৃষির উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কার্যালয় ময়মনসিংহের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শওকতুজ্জামান। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে উদ্বোধনী ও মতবিনিময় সভা শেষে প্রধান অতিথি কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১০, ২০২৫ ৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
কুমিল্লায় বাণিজ্যিকভাবে বাঁশ চাষে স্বাবলম্বী দুই হাজার পরিবার
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা (উত্তর), ৮ জুলাই, ২০২৫ (বাসস): জেলায় লালমাই পাহাড়ে বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে বাঁশ। গৃহস্থালি সামগ্রী, বসতঘর, ফসলের ক্ষেতের মাচা, নির্মাণ সামগ্রী এবং মাছ ধরার ফাঁদসহ নানান শিল্পে চাহিদা থাকায় বাঁশ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কুমিল্লার চাষিদের। এ পাহাড়ে দুই হাজারের বেশি পরিবার বাঁশ চাষে সাবলম্বী। প্রতিবছর এখানকার চাষিরা বিক্রি করছেন প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার বাঁশ।

এ বাঁশে স্থানীয়ভাবে তৈরি হচ্ছে বাঁশের কুলা, খাঁচা, ওরা, ঝুঁড়ি, ডালা ও মাছ ধরার ফাঁদসহ দরকারি নানা পণ্য।  জেলা শহরতলীর নমশূদ্র পল্লীর প্রায় পনেরেশো পরিবারের পেশা এ কুটির শিল্প। বাজারে প্রতিটি পণ্য মানভেদে পঞ্চাশ থেকে দুই’শ টাকায় বিক্রিতে সন্তানদের লেখাপড়া, ঋণ পরিশোধ এবং আনুষাঙ্গিক খরচ মেটান কারিগররা।

নমশূদ্র পল্লী ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িত সহস্রাধিক উদ্যোক্তা। যারা কাঁচামাল সংগ্রহে লালমাই পাহাড়ের বাঁশে নির্ভরশীল।

সুরমা রাণী ও বালা রাণী নামে দুই কুটিরশিল্পী জানান, বছরের পর বছর এ পেশায় রুটি রুজির ব্যবস্থা হয়ে আসছে।  স্বামীর সংসারে এসেই এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। আগে তুলনায় চাহিদা কমলেও লালমাই পাহাড়ের গুণগত মানের বাঁশ পাওয়া যাচ্ছে স্বল্পমূল্যে যার কারণে এখনো টিকে আছে তাদের প্রাণের শিল্প।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়,সমতল থেকে পাহাড়ের চূড়া। চোখে পড়বে সারি সারি বাঁশ বাগান। কুমিল্লার ময়নামতি থেকে চন্ডিমুড়া পর্যন্ত পাহাড়ের অন্তত একশো একর ভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে তল্লা, মুলি, বরাক, কাটা বরাক, হিল বরাক, বোম, কনক, বারি ও পেঁচাসহ নানান জাতের বাঁশ।

তবে সবথেকে বেশি বাঁশঝাড় চোখে পড়ে এখানকার মধ্যম বিজয়পুর, ধনমুড়া, বড় ধর্মপুর, রাজারখলা, ভাঙ্গামুড়া, জামমুড়া, বৈষ্ণবমুড়া, লালমতি, গন্ধমতি ও সালমানপুরে। চাষে খরচ কম বিপরীতে বিক্রয় মূল্য বেশি হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় চাষীদের মাঝে। এ পাহাড়ে দুই হাজারের বেশি পরিবার বাঁশ চাষে সাবলম্বী। প্রতিবছর এখানকার চাষিরা বিক্রি করছেন প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার বাঁশ ।

গৃহস্থালি সামগ্রী ছাড়াও নির্মাণকাজ, বসতঘর তৈরি এবং জমিতে শাক সবজির মাচাতেও বাঁশের ব্যবহার বাড়ছে। এতে করে কৃষকদের মাঝেও বাঁশের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। স্থানীয় চাষীরা জানান, বাণিজ্যিকভাবে তাদের উৎপাদিত এ বাঁশ জেলার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায়। তারা মনে করেন সরকারি সহায়তা পেলে বাঁশ চাষ বাড়ার পাশাপাশি বাড়বে রাজস্ব আয়ও।

বাঁশ চাষী খায়রুল ইসলাম ও ফিরোজ আলম জানান, ধীরে ধীরে এই লালমাই পাহাড়ে বাঁশ চাষে লাভবান হচ্ছেন তারা। একবার রোপনে প্রতিবছর দুই থেকে তিনবার বাঁশ বিক্রি করতে পারছেন চাষিরা, এতে স্বল্প টাকায় অধিক মুনাফা লাভের আগ্রহ বাড়ছে তাদের।

এদিকে কাসাভার চাষও হচ্ছে লালমাই পাহাড়ে। একেবারেই অবৈজ্ঞানিকভাবে কাসাভা চাষাবাদে পাহাড় তার স্বকীয়তা হারাচ্ছে ক্ষয় হচ্ছে মাটি। অন্যদিকে ভারি বর্ষণসহ নানা দুর্যোগে পাহাড়ের ক্ষয় রোধে ভূমিকা রাখে এ বাঁশের শিকড়। তাই পরিবেশবিদরা মনে করেন কাসাভা ছেড়ে বাঁশ চাষে উদ্বুদ্ধ হবে চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আইউব মাহমুদ বলেন, প্রায় ৪শ’ বছর ধরে সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে চাষ হচ্ছে উন্নত মানের বিভিন্ন  জাতের বাঁশ। গুণগত মান ভালো হওয়ায় চাহিদাও বেশ। বাঁশ চাষে চাষিরা লাভবান হওয়ায় প্রতিবছরে বাড়ছে জমির পরিমাণ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৩, ২০২৫ ৯:২০ পূর্বাহ্ন
স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-তে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

শনিবার গাজীপুরে ব্রি সদর দপ্তরে ‘নতুন ৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি)’ শীর্ষক প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিষয়ক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ধরা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে নতুন আঞ্চলিক কার্যালয়ও স্যাটেলাইট স্টেশন স্থাপন, গবেষণা ল্যাব উন্নয়ন, ব্রি উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহ দ্রুত কৃষক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে প্রযুক্তি গ্রাম সৃষ্টি, স্থানীয়ভাবে জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, ব্রি অবমুক্ত জাতের গড় ফলন বৃদ্ধিও লক্ষ্যে কৃষক পর্যায়ে উন্নত মানের বীজ উৎপাদন, বীজ প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ, কার্যকরী গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ব্রি’র জনবলের উচ্চ শিক্ষা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীসহ ব্রি’র জনবল এবং কৃষকের প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে।

ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী। এসময়ে ব্রি’র পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. মুন্নুজান খানম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে মিল রেখে স্থান ভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উন্নয়নসহ ব্রি’র মূল গবেষণা কার্যক্রমকে সহায়তা করাই এলএসটিডি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। আঞ্চলিক কার্যালয় এবং স্যাটেলাইট স্টেশন স্থাপন ছাড়াও এ প্রকল্পের উদ্দেশ্যেও মধ্যে রয়েছে স্থান ভিত্তিক ৬টি নতুন জাত এবং ২০টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন।

এতে আরও বলা হয়, স্থান ভিত্তিক সমস্যা নিরূপণ (কৃষিতে অনগ্রসর দক্ষিণাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকাসহ) কার্যকরী সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রয়োগিক গবেষণা জোরদারকরণ। ব্রি’র বিদ্যমান ১১টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের গবেষণা ল্যাব জোরদারকরণ এবং প্রস্তাবিত আঞ্চলিক কার্যালয়ে গবেষণা ল্যাব উন্নয়ন। সারা দেশে মোট ১৫টি ‘প্রযুক্তি গ্রাম’ সৃষ্টির মাধ্যমে ব্রি উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সমূহ দ্রুত সময়ে কৃষক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

মূল প্রবন্ধে প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, ১টি জাতের উদ্ভাবন প্রক্রিয়াধীন এবং ৫টি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কাজ চলমান।

এছাড়াও ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় প্রাথমিক ভাবে ১৫টি প্রযুক্তি গ্রাম নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রযুক্তি গ্রামগুলোতে ‘সার্ভিস প্রোভাইডার’ নির্বাচন করে ব্রি উদ্ভাবিত প্রযুক্তির প্রদর্শনী এবং কৃষকদের প্রযুক্তি বিষয়ক কলা কৌশল গত সেবা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

ব্রি উদ্ভাবিত উফশী আমন জাতের ধান চাষাবাদে উদ্বুদ্ধকরণে স্থানীয় কৃষকদের জন্য ১৬৫টি মাঠ দিবস ও ফসল কর্তন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৭, ২০২৫ ৯:২৮ পূর্বাহ্ন
মেহেরপুরে আম বাগানগুলোতে অজানা রোগের প্রাদুর্ভাব
কৃষি বিভাগ

চলতি মৌসুমে মেহেরপুরের আমবাগানগুলোতে এক অজানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যা আমচাষীদের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। এই রোগে পাঁকা আম গাছ থেকে নামানোর ২-৩ দিনের মধ্যেই বোটার দিক থেকে পচে যাচ্ছে এবং খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন রোগটি ‘স্টেম-এন্ড রট’ নামে পরিচিত।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, এই রোগ প্রতিটি বাগানে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় ২ হাজার হেক্টর আমবাগান মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন।  বিগত বছরগুলোতে এমন পরিস্থিতি কখনো দেখা যায়নি। ভোক্তারা বাজার বা বাগান থেকে আম ক্রয় করে বাড়িতে নেয়ার দুই দিন পর থেকেই তাদের আমে পচন ধরছে। প্রতিরাতে এসব পচন ধরা আমে পৌরসভার ডাস্টবিনগুলো ভরে যাচ্ছে। শহরের গড় পাড়ায় একটি পুকুরপাড়ে দেখা গেছে ফেলে দেয়া আমের স্তুপ।

শহরের গড় পাড়ার শিখা বেগম জানান, বাজার থেকে আম কেনার পর আমে পচন দেখা দেয়াতে আবর্জনার স্তুপে ফেলে দিয়েছেন।

অনেকেই কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নিকট আত্মীয়দের কাছে মেহেরপুরের সুস্বাদু হিমসাগর আম পাঠিয়েছেন।

সেসব ভোক্তারা আম পচে গেছে বলে প্রেরণকারীকে জানিয়েছেন। রাজশাহী আমচাষের জন্য বিখ্যাত হলেও সুস্বাদু আমের জেলা মেহেরপুর। যার সুখ্যাতি ইউরোপ মহাদেশে ছড়িয়েছে। অজানা রোগের কারণে এবার সেই সুখ্যাতি বিলিন হয়ে পড়েছে। আম পচা রোগের কারণে স্থানীয় বাজারে ভোক্তা সংকট দেখা দিয়েছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এটি হয়তো ছত্রাকঘটিত কোনো মহামারি (যেমন স্টেম-এন্ড রট বা অ্যানথ্রাকনোজ) বা পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে হয়ে থাকতে পারে। তবে কোনো চাষী অভিযোগ না জানানোর কারণে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে সরিজমিনে কোনো বাগান বা আম বাজারে কারিগরি টিম প্রেরণ করেন নি।

মেহেরপুর জেলা কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, তিনিও বাজার থেকে আম কিনে আনার পর দুই দিনের মধ্যে পচে গেছে। ফ্রিজে রাখলেও আমে পচন ধরছে। গাছ থেকে সংগ্রহ করা আমেও এমনটা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই রোগের বিস্তার রোধ ও ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। এখনই পরবর্তী মৌসুমের জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বা বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা না হলে আম চাষে চরম বিপর্যয় দেখা দিবে।

মেহেরপুর জেলায় ২৩৬৬ হেক্টর জমিতে আমের বাগান আছে। চলতি মৌসুমে আম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫,৫১০ মেট্রিক টন। এক হাজার মেট্রিক টন আম পচে গেলেও প্রতি মন আম ১৫শ’ টাকা হলেও দেড়শ’ কোটি টাকার ক্ষতি।

সদর উপজেলার আমচাষী রুস্তুম আলী জানান, ১৮ মে পরবর্তী ২৭ মে থেকে এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির পর গাছ থেকে আম সংগ্েরহর পর সেই আম সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। তিনি ধারণা করছেন, আবহাওয়া জনিত কারণে এক ধরণের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিটি বাগানে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামসুল আলম বলেছেন, ‘আবহাওয়াজনিত ছত্রাকবাহিত ‘স্টেম-এন্ড রট’ রোগে এমন হতে পারে। আম সংগ্রহের অন্তত পনের দিন আগে ফলবান গাছে কোনো ধরণের ওষুধ স্প্রে করা যাবে না।’ কোন আমচাষী বা ভোক্তা থেকে অভিযোগ না পাওয়াতে কারিগরি টিম সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১১, ২০২৫ ১০:১৫ অপরাহ্ন
তৃতীয়বারের মতো ঈদ পুনর্মিলনী ও নবীনবরণ আয়োজন করেছে ঝিনাইদহ এগ্রিকালচারাল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন
কৃষি বিভাগ

ঝিনাইদহ জেলার কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভাগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ঈদ পরবর্তী মিলনমেলার আয়োজন করে ঝিনাইদহ এগ্রিকালচারাল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন। গতকাল ১০ই জুন মঙ্গলবার জেলা শহরে অবস্থিত এইড কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। আনন্দঘন এই পরিবেশে যুক্ত হয় প্রাক্তন থেকে শুরু করে নবীন সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, কুষ্টিয়ার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জাহান আল মাহমুদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান, ঝিনাইদহ এগ্রিকালচারাল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা নূর-ই-কুতুবুল আলম ও ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটির লেকচারার মোঃ নাজমুল হক এবং সুইট এগ্রোভেটের প্রোডাক্ট প্রোমোশন এক্সিকিউটিউভ মোঃ সাইদুর রহমান। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন এসোসিয়েশনটির সভাপতি বিপ্র রায় এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর আলম শোভন।

কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু করা হয়। এরপর জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করার পাশাপাশি এসোসিয়েশনের উদ্যোগে আরো কিছু উপহার প্রদান করা হয়। নবীনদের অনুভূতি প্রকাশ শেষে এসোসিয়েশনের প্রাক্তন সদস্যরা নবীনদের উদ্দেশ্যে প্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। এরপর কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে কিভাবে দেশের কৃষি খাতে অবদান রাখছেন সে ব্যাপারে বিস্তর আলোচনা করেন অতিথিরা। এছাড়া অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের তুলনায় কৃষিবিদরা সরকারি-বেসরকারি সংস্থা থেকে শুরু করে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই এমনটাও অভিমত দেন অতিথিরা। তারা আশা করেন, এসোসিয়েশনটি তাদের স্বকীয়তা বজায় রাখলে পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা জেলাবাসীকে ভালো কিছু উপহার দিতে সক্ষম হবে। দুপুরে মধ্যাহ্নভোজন শেষে র‍্যাফেল ড্র, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং ফটোসেশন শেষে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৪, ২০২৫ ৮:১৮ অপরাহ্ন
গাজীপুরে নদী ও জলাভূমি সিম্পোজিয়াম ২০২৫ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

কৃষিবিদ দীন মোহাম্মদ দীনুঃ শনিবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় গাজীপুর শহরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে নদী ও জলাভূমি সিম্পোজিয়াম ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন শিল্প কারখানার ব্যবহৃত পানি রিইউজ করতে বাধ্য করতে নানাবিধ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
উপদেষ্টা রেজওয়ানা আরও বলেন, শীঘ্রই তুরাগ নদীর পুনরুদ্ধার শুরু হবে৷ গাছা খাল, লবনদহ, পুকুর উদ্ধার ও সম্প্রতি দখল হওয়া বনভূমি উদ্ধার কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছি ।

বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা, বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক ও নদীপক্ষ এর যৌথ আয়োজনে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিষয়বস্তুর ওপর তথ্যবহুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মনির হোসেন ।
মুহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, গাজীপুরের উপর দিয়ে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, শীতলক্ষ্যা, বানার , চিলাই, লবণদহ, শালদহ, গোয়ালী, তুরাগ, বংশী, বালু, গোয়াল্লার, পারুলীসহ আরো কয়েকটি ছোট নদ-নদী। রয়েছে অনিন্দ সুন্দর বোলাই, মকশ বিলসহ কয়েকটি স্বাদু পানির জলাধার। দখলে দূষণে বিপর্যস্থ থাকা সত্ত্বেও এখনো এসব নদী-নদী ও জলাধার নিজ জেলাতো বটেই আশাপাশের অঞ্চলগুলোর সমাজ সংস্কৃতিতে প্রভাব রেখে চলেছে।
এসময় নদী ও জলাভূ’মি সিম্পোজিয়াম থেকে ১৬ টি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়৷ সেটির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেরে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক, বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানীকারক সমিতিরি সভাপতি মো. রাশেদুল করিম মুন্না প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের মুক্ত আলোচনায় দর্শকসারি থেকে আমন্ত্রিত অংশীজন নানাবিধ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন । অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি প্রায় ৪ শতাধীক বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গ এতে অংশ নেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২১, ২০২৫ ৩:০৯ অপরাহ্ন
পটুয়াখালীতে মুগ ডালের অধিক ফলন
কৃষি বিভাগ

বিস্তীর্ণ সবুজের ফাকে ফাকে কালো সোনার হাতছানি। যেদিকে দুচোখ যায় মাঠের পরে মাঠ এখন শুধু পাকা মুগডাল। এ অবস্থায় ক্ষেত থেকে দলবেধে ডাল তুলে বস্তায় ভরে বাড়ির উঠানে শুকিয়ে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি বাজারজাত করার জন্য প্রস্তুত করছে কৃষক।

কৃষি অফিস বলছে, দেশের ৪৫ শতাংশের বেশি মুগ ডাল উৎপাদিত হয় পটুয়াখালী জেলায়। এই অঞ্চলের মাটি ডাল চাষের জন্য উপযোগী। এবার অনুকূল আবহাওয়া এবং আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করায় জেলায় মুগ ডালের অধিক ফলন হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত মুগডাল জাপান, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে।

চলতি বছর অনুকূল আবহাওয়া এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ না হওয়ায় একর প্রতি ২৭০০ থেকে ২৮০০ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাবে । এছাড়া গত বছর প্রতি মণ মুগ ডাল ৩০০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এবার ৩৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাই কৃষক এই তীব্র গরমের মধ্যেও কষ্ট করে রোদে পুরে খেত থেকে ডাল তুলছেন।

উন্নতমানের বীজ, অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এ বছর জেলায় মুগডালের অধিক ফলন হয়েছে। কিন্তু এ বছর তাপমাত্রা বেশি থাকায় কৃষক ক্ষেত থেকে ডাল ঘরে তুলতে পারছে না। বৃষ্টি হলে ক্ষেতেই নষ্ট হবে ডাল এমন দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। হাতে টাকা থাকলেও মিলছেনা কোন দিনমজুর। তাই সকাল-বিকেল পরিবার পরিজন নিয়ে মুগডাল ক্ষেত থেকে ঘরে তুলছেন কৃষক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম বলেন,  মুগডাল চাষে আমরা কৃষকদের সকল ধরনের সহযোগীতা করে থাকি। যেহেতু বর্তমানে তাপমাত্রা বেশি সেজন্য আমরা কৃষককে ফজরের নামাজের পরে এবং বিকেলে  ডাল উঠাতে এবং ছাতা ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছি।

এ বছর জেলায় ৮৮ হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে মুগডাল চাষ হয়েছে। উৎপাদন হবে  ১ লক্ষ ১১ হাজার ১শ ১৪ মে.টন,ডাল  যা গত বছরের চেয়ে ২০ হাজার মে.টন বেশি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৫, ২০২৫ ১০:২২ অপরাহ্ন
আকাশমনি-ইউক্যালিপটাস গাছ নিষিদ্ধ ঘোষণা
কৃষি বিভাগ

দীন মোহাম্মদ দীনুঃ পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা রোপণ, উত্তোলন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে এ আদেশ দেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব তুষার কুমার পাল স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এসব প্রজাতির গাছ মাটি থেকে অত্যধিক পানি শোষণ করে। ফলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায় এবং শুষ্ক বা মৌসুমী জলবায়ু যুক্ত এলাকায় এটি মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়। এই গাছের পাতায় থাকা টক্সিন গোড়ায় পড়ে মাটিকে বিষাক্ত করে তোলে, যার ফলে উর্বরতা নষ্ট হয়। এগুলোর চারপাশে অন্য কোনো গাছ সহজে জন্মাতে পারে না বলেও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়। এতে আরও বলা হয়, এটি স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি, কারণ বহু দেশীয় গাছ, পোকামাকড় ও পাখি এই গাছে বাসা বাঁধে না বা খাদ্য খুঁজে পায় না।

এতে আরও বলা হয়েছে, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পূরণে সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তি পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জন্য এই গাছগুলো রোপণ, উত্তোলন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।
ওই প্রজাতির গাছের চারা রোপণের পরিবর্তে দেশীয় প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে বনায়ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop