৫:৫১ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৫ ৩:৩২ অপরাহ্ন
কম খরচে আনারকলি চাষ করে মিলবে লাখ টাকা মুনাফা
কৃষি বিভাগ

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ হাসান স্ট্যালিন (৩৬) বিদেশি আনারকলি ফল চাষ করে সফল হয়েছেন। বিদেশি ফল হলেও আনারকলি স্বাদে গন্ধে অনন্য। দেশের পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ে কয়েক বছর আগেই এই ফলটির চাষ শুরু হয়। তবে এই প্রথম সমতলে আনারকলির বাণিজ্যিক চাষ করেছেন মাহমুদ হাসান স্ট্যালিন। তরুণ এই কৃষি উদ্যোক্তা মহেশপুরের পান্তাপাড়া ইউনিয়নের ঘুঘরি গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, মৃদু টক মিষ্টি স্বাদের আনারকলি বাংলাদেশে ট্যাং ফল নামেও পরিচিত। তবে বিদেশে এর নাম ‘প্যাসন ফ্রুট’। এই ফলটির জনপ্রিয়তাও বাড়ছে দিন দিন। প্রতি পিস আনারকলি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে আনারকলি বা ট্যাং ফল চাষ করা যায়। যে কারণে এর উৎপাদন খরচও কম। ফলে নেই কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি।

তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ হাসান স্ট্যালিন জানান, প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর আগে থেকে তিনি কৃষি কাজ শুরু করেন। আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের  মাধ্যমে চমকপ্রদ ফল উৎপাদনের ইচ্ছা থেকেই তিনি এই কাজ বেছে নেন। প্রথম দিকে প্রায় ৬ বিঘা জমিতে ড্রাগন, মাল্টা, পেয়ারা ও আঙুর চাষ শুরু করেন।

পরে গণমাধ্যমের খবর দেখে তিনি প্যাসন ফ্রুট বা আনারকলি আবাদের বিষয়ে আগ্রহী হন। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে ২ শতাংশ জমিতে আনারকলি চাষ করেন। বর্তমানে আড়াই বিঘা জমিতে তিনি আনারকলি বা প্যাসন ফ্রুট লাগিয়েছেন। গাছ লাগানোর দুই বছর পরেই পেয়েছেন উচ্চ ফলন। ফল বিক্রি করে পেয়েছেন উচ্চ মূল্য।

বাসসের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, প্রথম দুই শতক জমিতে ২০টি আনারকলি গাছ লাগিয়েছিলেন। দুই বছর পরে তার গাছে ফল উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পিস। প্রতি পিস আনারকলি পাইকারি বিক্রি করেছেন ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে। সব মিলিয়ে দুই শতক জমি থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন। দুই শতক জমিতে এই ফল চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। বছরে মাত্র দুই শতক জমিতে আনারকলি চাষ করে তিনি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন।

স্ট্যালিন জানান, বিঘাপ্রতি আনারকলি চাষে খরচ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা৷ ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘা জমি থেকে ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। প্রতিটি গাছ থেকে বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৮ মাস একাধারে ফল পাওয়া যায়।

প্রথমে দুই শতক জমিতে আনারকলি চাষ করে ভালো আয় হওয়ায় তিনি বাগানের পরিধি বাড়িয়েছেন। লাভের টাকা দিয়ে আড়াই বিঘা জমিতে শুরু করেছেন আনারকলির আবাদ। এই ফল বিক্রির টাকা দিয়ে ড্রাগন, পেয়ারা ও মাল্টার বাগান গড়ে তুলেছেন তিনি।

মাহমুদ হাসান স্ট্যালিন বাসসকে বলেন, এখন আড়াই বিঘা জমিতে এই ফলের গাছ লাগিয়েছি। বাগানের প্রতিটি গাছে ফল ধরতে শুরু করেছে। প্রতিটি গাছে নানা আকারের ফল, ফুল ও কুঁড়ি রয়েছে। বাগান দেখে আমার মন ভরে যায়।

তিনি আরও বলেন, যখন এই ফলের আবাদ শুরু করি, অনেকেই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করত। এখন আর কেউ মশকরা করে না। প্রতিটি গাছের ডগায় প্রচুর ফল ধরে। এই ফলের চাহিদাও বাড়ছে। দামও ভালো।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আনারকলি ফল বিদেশে প্যাসন ফ্রুটস নামে পরিচিত হলেও দেশে এটাকে আনারকলি বা ট্যাং ফল বলা হয়ে থাকে। ভিটামিন সি, আয়রণ, জিংক, ভিটামিন সমৃদ্ধ এই ফল। এই ফল চাষ করতে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। জৈব পদ্ধতিতে এটি আবাদ করা যায়। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কাও নেই।

ঝিনাইদহের মহেশপুরের ঘুঘরি গ্রামের মানিক হোসেন মিয়াজি বাসসকে বলেন, স্ট্যালিন ভাইয়ের আনারকলি ফলের বাগান দেখতে প্রতিনিয়ত দূরদূরান্ত থেকে উদ্যোক্তারা ছুটে আসছেন। বাগানে যে পরিমাণ ফল ধরে, তা দেখে আমরা অবাক। প্রচুর ফল ধরে, স্বাদও অসাধারণ।

এই এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, প্রথমে এই ফল আমরা চিনতাম না। স্ট্যালিন ভাই লাগানোর পরে অনেকেই মশকরা করত। কিন্তু ফল ধরা শুরু হওয়ার পর আমাদের সবার ভুল ভেঙেছে। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ফল ও চারা কিনতে আসছেন।

উদ্যোক্তা মাহমুদ হাসান বলেন, ১০ কাঠা জমিতে আনারকলি চাষ করলে কয়েক লাখ আনারকলি ফল পাওয়া সম্ভব। এই ফল পিস হিসেবে বিক্রি হয়। উৎপাদন খরচ খুবই কম, তবে দাম ভালো পাওয়া যায়।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঝিনাইদহের মাটি অত্যন্ত উর্বর। এই মাটিতে নানা জাতের দেশি বিদেশি ফল উৎপাদন হচ্ছে। কৃষকরাও উদ্যমী ও পরিশ্রমী। কৃষকরা জেলার প্রতিটি এলাকায় দারুণ সফলতা পাচ্ছেন। বিশেষ করে, মহেশপুরের স্ট্যালিন বিদেশি প্যাসন ফ্রুট চাষ করে যে সাফল্য দেখিয়েছেন, তা অনন্য। তরুণ যুবকরা চাইলে অল্প বিনিয়োগে উন্নত পদ্ধতিতে কৃষি কাজে আত্মনিয়োগ করলে তারাও সাবলম্বী হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৫ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
কিশোরগঞ্জে গাছ আলু সবজি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে
কৃষি বিভাগ

কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায় গাছ আলু (সবজি) চাষ বাণিজ্যিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। এ এলাকায় এ সবজিটি পান আলু বা গাছ আলু নামে পরিচিত। গাছ আলু আগেকার দিনে বাসাবাড়ি এবং পরিত্যক্ত জমিতে রোপণ করা হোত। কিন্তু ইদনিংকালে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এ সবজি আলুর চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। লতানো এ আলু গাছটি মাচা, ঝোপঝাড় এবং গাছে বেয়ে ওঠে। গাছ আলু মাটির নিচে নয়, বরং মাচা এবং গাছ গাছালিতে ঝুলে থাকে।

সরেজমিনে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠে সবুজ ক্ষেতে কৃষকের বোনা মাচায় ঝুলছে গাছ আলু। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন কোনো সবুজ জঙ্গল ঠায় দাঁড়িয়ে আছে।

কৃষকদের দাবি, গাছ আলু চাষে খরচ অনেক কম। সার বা কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না। ধুন্দল বা চিচিঙ্গা তোলার পর একই মাচায় এ আলুর চারা রোপণ করা হয়। মাত্র তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়।
কৃষক আব্দুল কাদেরের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘এক বিঘা জমিতে আমার খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। আলু বিক্রি করে পেয়েছি এক লাখ টাকার মতো। খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হয়েছে।’

স্থানীয় রহিম মিয়া বলেন, বর্ষার শেষে বাজারে যখন সবজির সরবরাহ কম থাকে, তখন এ গাছ আলুর ফলন হয়। বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকে, তাই দামেরও কমতি নেই। এখন কেজি প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছি।
বর্তমানে সাধারণ আলু যেখানে কেজি প্রতি ২৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে গাছ আলুর দাম প্রায় দেড়গুণ বেশি। কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে এক মৌসুমে লাখ টাকা লাভ হচ্ছে। অতিরিক্ত লাভের কারণেই প্রতিদিন নতুন নতুন কৃষক গাছ আলুর আবাদে ঝুঁকছেন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা গাছ আলুর বিষয়ে তাদের মত, এটি শুধু একটি নতুন সবজি নয়, বরং দেশের কৃষি খাতের জন্য এক নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা শেষে জমিতে তেমন কোনো ফসল ভালো ফলন হয় না। আর তাই ওই সময়ে কৃষকের জন্য গাছ আলু একটি লাভজনক বিকল্প হিসেবে কাজ করছে।

চরফরাদী ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, “গাছ আলু এ এলাকার কৃষকদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনা হয়ে উঠেছে। খুব অল্প খরচে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে, আবার বাজারেও এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সঠিক সময়ে চারা রোপণ এবং মাচার যত্ন নিতে আমরা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। এ ফসল শুধু কৃষকের আয় বাড়াবে না, বরং পাকুন্দিয়া উপজেলাকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও একটি আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে কৃষকের জীবনমান আরও উন্নত হবে।”

পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার নূর-ই-আলম বলেন, “গাছ আলু একটি পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু সবজি। বর্ষার শেষে অন্য ফসল না থাকলেও এটি ভালো ফলন দেয়। আমরা ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলায় এর আবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছি। যেহেতু এটি দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য, তাই বিদেশেও রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে।”

চলতি মৌসুমে পাকুন্দিয়ায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে গাছ আলুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০০ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের আশা, এ গাছ আলু শুধু স্থানীয় কৃষকের জীবনমান উন্নত করবে না, ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় উৎস হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।

পাকুন্দিয়ার কৃষকরা বলছেন, গাছ আলু এখন তাদের জন্য নতুন আশার প্রতীক। একদিকে কম খরচ, অন্যদিকে বেশি দাম এ দুয়ের সমন্বয়ে তারা পাচ্ছেন স্বস্তি। ফলে গাছ আলুর কারণে কৃষকের ঘরে ফিরছে হাসি, আর গ্রামীণ অর্থনীতিতেও আসছে গতি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫ ৮:৫৬ পূর্বাহ্ন
উন্নত জাতের ফুলকপি চাষে ঝুঁকছেন রাজশাহীর কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

রাজশাহী, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : ফুলকপি চাষের বাইরে গ্রীষ্মকালেও কৃষকরা ফুলকপি চাষ করে প্রচুর লাভের মুখ দেখছেন। এতে তাদের আয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে।

ফুলকপি শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত হলেও গ্রীষ্মকালেও সফলভাবে চাষ করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গাপুর, গোদাগাড়ী, পবা ও পুঠিয়া উপজেলায় এটি চাষ করা হচ্ছে। বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি ও অসময়ে উৎপাদনে ভালো লাভ হওয়ায় এ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা বাণিজ্যিক ও গৃহস্থালী উভয় পদ্ধতিতে ফুলকপি চাষ করছেন। অনেকেই পানির ওপর নির্ভরশীল ফসল ধান থেকে সরে এসে অসময়ে সবজি চাষে ঝুঁকছেন। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহায়তা এই পরিবর্তনকে আরো উৎসাহিত করেছে, যা টেকসই ও লাভজনক কৃষির দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য সহায়ক।

ধামিলা গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম পাঁচ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষ করছেন এবং ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সেগুলো বাজারে বিক্রির আশা করছেন।

তিনি বলেন, চাহিদা প্রচুর, দামও ভালো। খুচরা বাজারে বর্তমানে কেজি প্রতি ফুলকপি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা।  তবে, এক সপ্তাহ আগে দাম আরো বেশি ছিল।

গোদাগাড়ী উপজেলার গোলাই গ্রামের ৪৫ বছর বয়সী মুহাম্মদ মিলন ইতোমধ্যেই লাভবান হতে শুরু করেছেন। তিনি ১২ বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। গত সপ্তাহেই এক বিঘা জমি থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ফুলকপি বিক্রি করেছেন।

তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। প্রথম দিকের ফসলের ফলন অনেক ভালো হয়।

মিলন জুন মাসে ৩০ বিঘা জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি রোপণ শুরু করেন এবং শীতকালে একাধিক পর্বে চাষ করার পরিকল্পনা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, প্রথম দিকের ফসল শীত বা গরম যেটাই হোক সবসময় বেশি লাভজনক হয়।

শুধু দেওপাড়া ইউনিয়নে ছয়টি গ্রামের প্রায় ৪৫ জন কৃষক এখন প্রায় ৩৫০ বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করছেন।

কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা অতনু সরকার বলেন, গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের প্রতি কৃষকের আগ্রহ বেশি দেখতে পাচ্ছি। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ কৃষকদের সর্বাধিক মুনাফা অর্জনে সহায়তা করার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে চাষ করে আসা শস্য ধানের তুলনায় সবজি চাষ বেশি লাভজনক প্রমাণিত হচ্ছে।

দুর্গাপুরের চুনিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক শাতাহার আলী (৪৬) তার গ্রামের অন্য কৃষকদের উৎসাহিত করছেন। তিনি দেড় বিঘা জমিতে উন্নত জাতের ফুলকপি চাষ করেছিলেন ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে এবং ইতোমধ্যে ৮৫ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন।

দুর্গাপুরের চুনিয়াপাড়া গ্রামের ৪৬ বছর বয়সী কৃষক শাতাহার আলীর মতো কৃষকরা তাদের সম্প্রদায়ের অন্যদের অনুপ্রাণিত করছেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি ফুলকপি সরাসরি ক্ষেত থেকে ৮৫-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং খুচরা বাজারে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এই মৌসুমে আমি দেড় লাখ টাকারও বেশি ফুলকপি বিক্রি করার আশা করছি।

রাজশাহীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক উম্মে সালমার মতে, বর্তমানে জেলায় প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করা হচ্ছে। তিনি এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক চাষ ও গৃহস্থালি বাগান উভয়ের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, কৃষকরা উন্নত, উচ্চ-ফলনশীল জাতের দিকে ঝুঁকছেন। এতে ভালো দাম পাওয়া যায়। অনেকেই এখন কেবল শীতকালেই নয়, গ্রীষ্মকালেও ফুলকপি চাষ করছেন। যার ফলে তাদের লাভ বেশি হচ্ছে।

শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য পরিচিত বরেন্দ্র অঞ্চল এখন রূপান্তরের সাক্ষী। সেচনির্ভর ফসলের ওপর কম নির্ভরতা এবং কৃষি কর্মসূচি থেকে ক্রমবর্ধমান সহায়তার মাধ্যমে কৃষকরা বৈচিত্র্যময় ফসল ফলানোর দিকে ঝুঁকছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করছে।

উম্মে সালমা বলেন, সবজি চাষ জীবন বদলে দিচ্ছে। এটি প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৫ ৯:১৫ পূর্বাহ্ন
সার্ক অঞ্চলে কৃষি ও বনায়ন সমন্বয়ে এগ্রোফরেস্ট্রি সম্প্রসারণের আহ্বান
কৃষি বিভাগ

ঢাকায় শুরু হওয়া তিন দিনের আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার গ্রামীণ জীবিকা উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু সহনশীল সম্প্রদায় গঠনে এগ্রোফরেস্ট্রি সম্প্রসারণ ও কৃষি-বনায়নের সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৈঠকে সার্কভুক্ত ছয় দেশের প্রায় ৩০ জন গবেষক, নীতি-নির্ধারক ও বাস্তবায়নকারী অংশ নিচ্ছেন। তারা এগ্রোফরেস্ট্রিকে টেকসই উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কৌশল, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ড. রাজা উল্লাহ খান অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এগ্রোফরেস্ট্রি কার্যকর একটি প্রাকৃতিক সমাধান। এখন সময় এসেছে কৃষি ও বনায়নের মধ্যে সঠিক সমন্বয় ঘটানোর। উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীরা বৈঠকের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা আন্তর্জাতিক বন গবেষণা কেন্দ্রের (সিআইএফওআর)- ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর রিসার্চ ইন এগ্রোফরেষ্ট্রি (আইসিআরএএফ) এর সিনিয়র ফেলো ড. এস কে ধ্যানি বলেন, ‘২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক খাদ্যের চাহিদা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। উর্বর কৃষিজমি বনায়নের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। কৃষি ব্যবস্থায় গাছ অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, জল সংরক্ষণ, কার্বন সঞ্চয় এবং গ্রামীণ জীবিকার উন্নয়ন সম্ভব। এজন্য নীতি-সমন্বয়, গাছের চারা সরবরাহ বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও গবেষণা বিনিয়োগ জরুরি।’

সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, ‘এগ্রোফরেস্ট্রি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ জন্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং কার্যকর নীতি অপরিহার্য।’

বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই এগ্রোফরেস্ট্রির সফল উদাহরণ রয়েছে। এখন এটিকে কৃষি নীতির সঙ্গে একীভূত করতে হবে। এটি কেবল জীবিকা নয়, বরং টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গঠনের জন্য অপরিহার্য।’ এগ্রোফরেস্ট্রি প্রোমোশন নেটওয়ার্কের ড. রোল্যান্ড ফ্রুটিগ বলেন, ‘এগ্রোফরেস্ট্রি শুধু খাদ্য উৎপাদন নয়; বরং এটি টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গঠনে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।’

প্রথম দিনের প্রযুক্তিগত সেশনের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) ড. মো. সাইফুল্লাহ। এতে বিশেষজ্ঞরা সার্ক অঞ্চলে এগ্রোফরেস্ট্রি সম্প্রসারণের কৌশল, বাস্তব অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন দেশের কেস স্টাডি ও সফল প্রকল্পের উদাহরণ উপস্থাপন করেন।

বিশেষজ্ঞরা একমত হন যে এগ্রোফরেস্ট্রি শুধু খাদ্য উৎপাদন বাড়ায় না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরির অন্যতম কৌশল।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা চলা এ বৈঠকে আঞ্চলিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি যৌথ গবেষণা, বিনিয়োগ এবং সক্ষমতা উন্নয়নের অঙ্গীকার নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
ঝিনাইদহে রোপা আমন ক্ষেতের পচন রোগ দমনে প্রয়োজন দ্রুত পদক্ষেপ
কৃষি বিভাগ

ঝিনাইদহ জেলায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে ধানক্ষেতের পচন রোগ দমনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এখনই পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পচে যাবে জেলার ৬ উপজেলার ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমির আমন ধান। নষ্ট হয়ে যাবে স্থানীয় কৃষকদের সারাবছরের উৎপাদনের একটা বড় অংশ। প্রান্তিক কৃষকদের খাদ্যের অভাব দেখা দেবে।  সারা বছরের খোরাকি তো দূরের কথা উৎপাদন খরচও উঠে আসবে না।

সরেজমিনে জেলার সদর, শৈলকূপা, হরিণাকুন্ডু, মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ধানক্ষেতে পচন রোগের সংক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে। জানা যায়, কীটনাশক ও পচন রোধক ওষুধ প্রয়োগ করেও মিলছেনা এই অজ্ঞাত পচন রোগের সমাধান। ফলে ধানক্ষেত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ঝিনাইদহের কৃষক। ধানের ফলন নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, রাতারাতি পচন রোগের সংক্রমণে ধানের গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পচন রোধক ওষুধ ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়তে হবে।

জেলার শৈলকূপা, সদর, কালীগঞ্জ, হরিণাকুন্ডু, মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর সবকটি উপজেলাতেই একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ধান গাছের গোড়ায় পচন দেখা দিচ্ছে। অজানা পোকার আক্রমণে অনেক গাছ শুকিয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার ৬ উপজেলায় ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১৩৯ মেট্রিক টন। কিন্তু ধান গাছের পচন রোধ করা সম্ভব না হলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না।

সদর উপজেলার কুমড়াবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বাসসকে বলেন, ধান রোপণের পর থেকে নিয়মিত যত্ন নিচ্ছি। কিন্তু এখন পচন রোগে অনেক গাছ মরে যাচ্ছে। বারবার কীটনাশক ব্যবহার করছি। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। কেবল খরচ বাড়ছে। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে।

কোটচাঁদপুর উপজেলার দোড়া গ্রামের কৃষক মহিদুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ধানের গোড়ায় পোকা ঢুকে গাছের ডগা ও পাতা কেটে দিচ্ছে। এতে ধানের গোছা মরে গিয়ে সাদা হয়ে গেছে। ধানের গোড়ায় পচন ধরেছে।

মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক আনারুল হোসেন বাসসকে বলেন, ধান আবাদ করেই সারা বছরের সংসার খরচ জোগাড় করা হয়। কিন্তু পোকার আক্রমণে এবার ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি। কীভাবে কী করব বুঝতে পারছি না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বাসসকে বলেন, এখন পর্যন্ত আমন ধানে পোকার আক্রমণ নিয়ে গুরুতর তথ্য পাইনি। আমাদের মাঠকর্মীরা নিয়মিত কৃষকদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। আমনের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করতে ও পচন রোগ দমনে কৃষকদের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই পচন রোগ সম্পর্কে প্রকৃত অবস্থা জানতে সরেজমিনে ধানক্ষেত পরিদর্শন করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫ ৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
পটুয়াখালীতে বিলুপ্তির পথে দেশি প্রজাতির মাছ
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালী, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : জেলার রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও বাউফলে ফসলি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের ওপর। ফলে বিলুপ্তির পথে উপকূলীয় অঞ্চলের দেশি প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের মাছ।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় কৃষকরা জমিতে ফলন বাড়াতে অধিক মাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন। বর্ষার সময় এ বিষাক্ত পদার্থগুলো বৃষ্টির পানির সঙ্গে নদী-নালা, খাল ও পুকুরে মিশে যাচ্ছে। এতে পানির প্রাণবৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে বিশেষ করে মাছের আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে এবং প্রজনন ও জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত নানা দেশি মাছ যেমন- পুঁটি, কৈ, শিং, মাগুর, পাবদা, টাকি, চিংরি, বাইম, বেদা, গজার, বেলে মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও বাউফল উপজেলার চারপাশে নদীবেষ্টিত এলাকা। কিন্তু এখন আর আগের মতো দেশি প্রজাতির মাছের দেখা মেলে না। জেলার বিভিন্ন উপজেলার মানুষ নদীবেষ্টিত উপজেলাগুলোর মাছের প্রশংসায় থাকতেন পঞ্চমুখ। অথচ আজ মাছে ভাতে বাঙ্গালি বলা সেই প্রবাদ হারিয়ে যেতে বসেছে। দেখা দিয়েছে মাছের অকাল।

রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের মৎস্য শিকারী আবদুল করিম (৫০) বলেন, এক সময় খাল বিল নদী নালায় প্রচুর মাছ মিলতো, যখন ফসলি জমিতে হালচাষ দিতো তখন হালের সাথে দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন আর সেই মাছ পাওয়া যায় না, প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়নের মাছ শিকারী কেরামত আলী (৫৫) বলেন, আগে জাল মারলে জালে মাছ ভরে উঠতো এখন আর উঠে না তেমন। দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষণাবেক্ষণ যদি এখন করা না হয়, তাহলে এই মাছ হারিয়ে যাবে। তাই এই মাছ টিকিয়ে রাখার আহ্বান সচেতন মহলের প্রতি।

রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও বাউফলে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য দেশি মাছ। এই মাছের সঙ্গে তাদের জীবিকা, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির সম্পর্ক। তাই পরিবেশ রক্ষা ও দেশীয় মাছের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এখনই জরুরি পদক্ষেপ দরকার। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও সচেতন মহল।

বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান বাচ্চু (৫৩) এ বিষয়ে বলেন, আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে দেশীয় প্রজাতির মাছের নাম। তাই এই মাছ রক্ষা করতে সকলের এগিয়ে আসতে হবে। অবিলম্বে সচেতনতা বৃদ্ধি, জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহ এবং জলাশয় রক্ষা করে টেকসই কৃষিনীতি গ্রহণ না করলে অদূর ভবিষ্যতে দেশীয় মাছ হারিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ফসলি জমিতে রাসায়নিক ও কীটনাশক মিশ্রিত খাবার খেয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছ বর্তমানে বিলুপ্ত হতে চলছে। এমন সময় আসবে এসব মাছ আর চোখে পড়বে না। আমাদের মৎস্য অধিদপ্তর এসব দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছে। যাতে এসব দেশীয় মাছ ধরে রাখা যায়।

রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, অধিক উৎপাদনের আশায় রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে। এতে দেশীয় মাছের ক্ষতি হচ্ছে। তবে আমরা মাঠ পর্যায় কৃষকদের ফসলি জমিতে গাছের ডাল পুতে রাখা, রাতে আলোক ফাঁদ তৈরি করা এবং নীমপাতা, মেহগনি গাছের ফল বেটে (মিহি) করে একসাথে করে ফসলি জমিতে দিতে পরামর্শ দেই, যাতে কীটনাশকের ব্যবহার কমে যায়।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, মাটিতে অধিক পরিমান জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে রাসায়নিক সার ব্যবহার কমানো যায়। একইসাথে জমিতে অধিক ফলন ধরে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমরা রেহাই পাবো। তবে কৃষকদের জৈব পদ্ধতির দিকে ধীরে ধীরে আগানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ কমে যাওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে কৃষি জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ, জলাশয়ে পানি সংকট, মৎস্য অভয়াশ্রম কম থাকা, মৎস্য আবাস ভূমির চ্যানেল বন্ধ হওয়া, অবৈধ জাল ও কিটনাশক ব্যবহারে নির্বিচারে মাছ ধরায় মাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা কারেন্ট জাল ও চায়না জালের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছি। যারা জলমহাল ইজারা নেন তারা যেন পানি সেচে মাছ না ধরে সেই প্রচারণা চালাচ্ছি। প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য মৎস্য আইন বাস্তবায়নে কাজ করছি। বিলুপ্ত মাছ পুনরুদ্ধারে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫ ৯:৫০ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীর রেশম ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার
কৃষি বিভাগ

রেশম চাষ ও শিল্পের উন্নয়ন এবং মাঠ পর্যায়ে প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড গতিশীল করার মাধ্যমে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম খাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব। রাজশাহী বহুকাল আগে থেকেই রেশমের জন্য বিখ্যাত। তবে, নানা কারণে গত কয়েক দশক ধরে রাজশাহীর রেশমের ঐতিহ্য অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে। রেশম চাষ ও রেশম শিল্প পরিবার ভিত্তিক নিবিড় শ্রমের মাধ্যমে অর্থকরী খাত এবং গ্রামীণ সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের একটি উৎকৃষ্ট ব্যবস্থা। স্থানীয়ভাবে রেশম সুতা উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রান্তিক বহু মানুষ তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সুযোগ পেয়েছে।

একসময়, রাজশাহীর বাঘা ও চারঘাট উপজেলা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় বেশিরভাগ গ্রামবাসীকে বাড়ির  কাজের পাশাপাশি রেশম পোকার চাষ করতে দেখা যেত।

বিদ্যমান প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে দেশীয় গৌরবময় এই শিল্প পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। রেশম চাষে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে প্রান্তিক ও ভূমিহীনদের বিশেষ করে নারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিরও বড় ধরনের সুযোগ রয়েছে।

রাজশাহীর রেশম ২০১৭ সালে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। রাজশাহীতে অবস্থিত বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড (বিএসডিবি) দেশের রেশম খাতকে পুনরুজ্জীবিত ও সম্প্রসারিত করতে কাজ করছে।

বিএসডিবি মহাপরিচালক (ডিজি) শফিকুল ইসলাম সম্প্রতি বাসস-এর সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমরা কিছু লোককে রেশম চাষের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি।

রেশম চাষের নার্সারিগুলো আধুনিকায়নের পাশাপাশি ঈশ্বরদী, রংপুর, কুমিল্লা, কোনাবাড়ী ও বগুড়া নার্সারি কেন্দ্রে তুঁত গাছ ও রেশম পোকার উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রেশম চাষি ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কৃষি পদ্ধতিতে ১ হাজার ১০০ বিঘা জমিতে রেশম চাষ সম্প্রসারিত করা হয়েছে এবং দক্ষ জনবল তৈরির জন্য ৩ হাজার ২৭০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্রায় ২ হাজার ৩৬৯ জন রেশম চাষিকে রেশম পোকা পালনের জন্য উপকরণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ তুঁত গাছ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

রেশম পোকা পালনের জন্য কৃষকদের ৮৭৪টি ঘর নির্মাণের পাশাপাশি বর্তমানে ১২০ বিঘা জমিতে তুঁত বাগানের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করা হচ্ছে।

রেশম পোকা ও কাঁচা রেশমের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রেশমের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক কৃষি পদ্ধতিতে রেশম চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে তৃণমূল পর্যায়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি রেশম চাষের সাথে সম্পৃক্ত।

ডিজি শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ৫৯টি কেন্দ্রের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছি। রেশমের পণ্য বিপণনের পাশাপাশি রেশম সুতা ও তুঁত চাষ এবং রেশম শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্তদের সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থাও রয়েছে।

রেশম উৎপাদন বৃদ্ধির চূড়ান্ত লক্ষ্যে কৃষকদের প্রধান ফসল হিসেবে তুঁত চাষের প্রতি উৎসাহিত করা হচ্ছে। বর্তমানে, বসতবাড়ি এবং রাস্তার পাশের খালি জায়গায় তুঁত গাছ চাষ করা হয়।

শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, প্রান্তিক কৃষক, ভূমিহীন, দরিদ্রদের জন্য বহুমুখী এসব কার্যক্রম কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বিএসডিবি পরিচালক (উৎপাদন ও বিপণন) নাসিমা খাতুন বলেন, পুরো অঞ্চলে রেশম মথ উৎপাদনের পাশাপাশি একই জমি থেকে অতিরিক্ত আয় বৃদ্ধির জন্য আন্তঃফসল চাষের উজ্জ্বল সম্ভবনা রয়েছে।

রেশম উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের মধ্যে তুঁত গাছের সঙ্গে অন্যান্য সবজি ও মশলা চাষের ব্যাপারে প্রচারণা চালানো  হচ্ছে।

তুঁত চাষ বর্তমানে অনেকটাই  পতিত জমি ও রাস্তার পাশের জায়গার ওপর নির্ভরশীল।

নাসিমা বলেন, বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট দীর্ঘ গবেষণার পর ২০টি রেশম পোকা ও ১৫টি তুঁত গাছের জাত উদ্ভাবন করেছে যা রেশম খাতের গৌরবময় ইতিহাস ফিরিয়ে আনার আশা জাগিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে  রেশমের  নানা ধরনের উদ্ভাবনের ফলে রেশম সুতার আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাসের পাশাপাশি রেশম উৎপাদন প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই উদ্ভাবনের ফলে কৃষকরাও ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।

বিএসডিবির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান তালুকদার বলেন, ২০১৮ সালে রাজশাহী রেশম কারখানা পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং এখানে ১৯টি পাওয়ার লুমে কাপড় বোনা হয়।

তারপর থেকে গত এপ্রিল পর্যন্ত ৫৩ হাজার মিটার কাপড় তৈরি করা হয়েছে। কারখানার শো-রুমের মাধ্যমে দিনে প্রায় আড়াই লাখ টাকার রেশমি কাপড় বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় কারিগরদের বোনা ও ডিজাইন করা রেশম কাপড়ের এই অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিত্তবানরা প্রায়শই রেশমের শোরুমগুলোতে ভিড় করেন।

সপুরা সিল্ক-এর শোরুম ইনচার্জ সাইদুর রহমান বলেন, ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে মসলিনের কাটোয়ার শাড়ি। এসব শাড়ি ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, শোরুমগুলোতে সিল্কের তৈরি শাড়ি, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস এবং শিশুদের পোশাক পাওয়া যায়।

ঊষা সিল্কের শোরুম ইনচার্জ নূর আলম বুলবুল বলেন, তাদের শাড়িগুলো ১ হাজার ১৫০ টাকা থেকে ৫০ হাজার ৫০০ টাকায় এবং থ্রি-পিস ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৭৫ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ সিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, ঐতিহ্যবাহী রেশম খাতের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা দরকার। রেশম এখনো সারা দেশে ভাবমূর্তি ও আভিজাত্য ধরে রেখেছে।

তিনি বলেন, রেশম কেবল রাজশাহীর জন্যই নয়, সারা দেশের জন্য গর্ব এবং ঐতিহ্যের। এই খাতকে লাভজনক করে তোলার পাশাপাশি এর সোনালী অতীত ফিরিয়ে আনার  ব্যাপারে সর্বোচ্চ জোর দেওয়া উচিত।

তিনি আরো বলেন, দেশ বেসরকারিভাবে প্রায় ৮০টি ছোট ও মাঝারি রেশম কারখানা রয়েছে, যাদের বছরে ২৫.৫০ মিলিয়ন মিটার কাপড় তৈরির সক্ষমতা রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৫ ৪:৪৯ অপরাহ্ন
বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে
কৃষি বিভাগ

বর্ষা পেরিয়ে শরতের আনাগোনা শুরু হলেও জেলায় রসাল তরমুজের আবাদ ও ব্যাপক ফলন কৃষকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তরমুজ গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত। কিন্তু কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নতুন নতুন উদ্ভাবনের ফলে কৃষির সকল ক্ষেত্রেই অভাবনীয় পরিবর্তন হয়েছে। শীতের সবজি যেমন পাওয়া যাচ্ছে বছর জুড়ে, তেমনি গ্রীষ্মকালীন ফসল আবাদ হচ্ছে বর্ষা কিংবা শরতেও।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, খুলনার বটিয়াঘাটা, রূপসা, দিঘলিয়া, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে গ্রীষ্মের ফল তরমুজের চাষ হচ্ছে। নীচু জমিতে পানি জমলেও মাচায় তরমুজের চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। অফসিজনের এ তরমুজ সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় দামও ভালো পাচ্ছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রীষ্মের ফল হলেও মাঠের পর মাঠ জুড়ে মাচায় চাষ করা হচ্ছে তরমুজ। এই অফসিজনের তরমুজের ফলনও ভালো। এতে খুলনার উপকূলীয় এলাকায় অফসিজনের তরমুজ চাষ ক্রমেই ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) জেলায় ৯৬৬ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। এ থেকে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন ফল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, বি-৫, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় উপাদান। শরীর ঠাণ্ডা রাখা, হজমে সহায়তা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এটি কার্যকর। সাধারণত এই ফল গ্রীষ্ম মৌসুমেই বাজারে পাওয়া যায়। এখন বৃষ্টির মৌসুমেও চাষ হওয়ায় কৃষকেরা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, খুলনার মাটির প্রকৃতি ও আবহাওয়া অফসিজনে তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। বিশেষ করে বটিয়াঘাটা, রূপসা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা ও দিঘলিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে তরমুজের চাষ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এক বিঘা জমিতে গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচে ১ লাখ টাকারও বেশি তরমুজ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে কৃষকেরা এখন লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে তরমুজের দিকে ঝুঁকছেন।

বটিয়াঘাটার কৃষক আব্দুল্লাহ গাজী বাসসকে বলেন, আগে শুধু গ্রীষ্মকালে তরমুজ চাষ হতো। এখন সরকারি সহায়তায় অফসিজনে তরমুজ চাষ শুরু করেছি। পাইকাররা ক্ষেত থেকেই ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে তরমুজ কিনে নিচ্ছে। এতে খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ হচ্ছে।

কৃষক মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘেরের পাড়ে আগে শুধু শাকসবজি চাষ করতাম। এখন তরমুজও হচ্ছে। এতে আয় বাড়ছে। পাশাপাশি পরিবারের চাহিদাও মেটানো যাচ্ছে।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমি তরমুজের চেয়ে দাম বেশি পাওয়ায় তারা লাভবান হচ্ছেন। এর ফলে সারাবছর তরমুজ খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে মানুষ। অফসিজনে তরমুজ চাষে জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সহায়তা দিচ্ছে। কৃষকদের বীজ সরবরাহ ছাড়াও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের আমরা শুধু বীজই দিচ্ছি না, কীভাবে তরমুজ চাষ করলে ফলন ভালো হবে সেই বিষয়ে নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অফসিজনে তরমুজ চাষে সাফল্য পাওয়ায় এ আবাদ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু খুলনা নয়, উপকূলীয় অন্যান্য জেলাতেও অসময়ে তরমুজ চাষ বাড়ছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ পেলে এ খাত ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এজন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও অব্যাহত সরকারি সহায়তা।

বিল্ডিং ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইন ভালনারেবল ল্যান্ডস্কেপস ইন বাংলাদেশ (বিসিআরএল) প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. লোকমান হোসেন মজুমদার বাসসকে বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় খুলনা ছাড়াও বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় বর্ষাকালীন তরমুজের চাষ হচ্ছে। কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে তরমুজ আবাদকে আরও বড় আকারের কর্মসূচি হিসেবে নেওয়া যেতে পারে ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৮, ২০২৫ ১০:০৯ পূর্বাহ্ন
ঝিনাইদহে সোনালি আঁশের খুশিতে সোনালি হাসি
কৃষি বিভাগ

সোনালি আঁশ পাট তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে শুরু করেছে। ঝিনাইদহ জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল না হলেও এ বছর জেলায় পাটের ব্যাপক ফলন হয়েছে। বিশেষ করে তোষা জাতের হাইব্রিড পাট চাষ করে এ বছর প্রচুর লাভ হবে বলে আশা করছেন কৃষকেরা। গ্রামে গ্রামে চলছে পাট শুকানোর কাজ। নদী-নালা, খালবিলের পানিতে পাট পঁচানো ও ধোয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের কৃষক।

জেলা কৃষি অফিস জানায়, এ বছর বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় পাটের পচন প্রক্রিয়া (জাগ) ও পাট ধোয়ার পানি সংকট ছিল না। যে কারণে এবার পাটের রং চমৎকার হয়েছে। ফলে কৃষক এবার পাট বিক্রি করে ভালো লাভ করতে পারবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার সদর, শৈলকূপা, হরিণাকুন্ডু, কালীগঞ্জ, মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে রাস্তার দুই ধারে চলছে পাট শুকানোর কাজ। বাঁশের আড় বা আড়া তৈরি করে পাট শুকাতে ব্যস্ত গ্রামের নারী-পুরুষ। রাস্তার পাশের খাল, নালা, বিল, নদ-নদীতে পাট ধোয়ার ধুম পড়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায়  নদ-নদী ও খাল বিলে প্রচুর পানি রয়েছে। পর্যাপ্ত পানি থাকায় পাট জাগ দিতে ও ধুতে কোনো সমস্যা হয়নি। আবার পর্যাপ্ত পানির কারণে পাটের প্রকৃত সোনালি রং ফিরেছে।

শৈলকূপার ফুলহরি গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার বাসসকে বলেন, গত বছরগুলোতে বৃষ্টির পানি কম ছিল। পাট জাগ (পচন প্রক্রিয়া) দেওয়ার জায়গা পাওয়া যেতো না। পুকুরেও পাট জাগ দিয়েছি। বদ্ধ পানিতে পাট জাগ দিলে পাটের রং ভালো হয় না। এ বছর বৃষ্টি বেশি। খাল-বিল, নদী নালায় অনেক পানি। পাট জাগ দিতে এবার কোনো সমস্যা হয়নি। যে কারণে পাটের রংও এবার ভালো হয়েছে।

হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সিংগা গ্রামের পাট চাষি আব্দুল বারেক বলেন, এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে বীজের কারণে অনেকের পাট খুব বেশি লম্বা হয়নি। তবে এবার পাটের রং দারুণ হচ্ছে। ভালো করে শুকিয়ে বাজারে নিতে পারলে এবার পাটের ভালো দাম পাওয়া যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২১ হাজার ৪৪৬ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১২শ’ হেক্টর কম জমিতে পাট চাষ হয়েছে। কৃষি অফিসের হিসেবে জেলার ৬টি উপজেলায় ২০ হাজার ২২৯ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় জেলায় প্রায় ৫২ হাজার ১১৬ মেট্রিক টন পাট উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, চলতি (২০২৫-২৬) মৌসুমে সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৮১০ হেক্টর, কালীগঞ্জে ৬৬৫ হেক্টর, কোটচাঁদপুরে ৩৫৪ হেক্টর, মহেশপুর উপজেলায় ৩ হাজার ৮৯০ হেক্টর, শৈলকূপায় ৭ হাজার ৭৯৮ হেক্টর এবং হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ২ হাজার ৭১২ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করেছেন কৃষকেরা। জেআরও ৫২৪, বিজেআর আই এবং তোষা পাট-৮ (রবি) জাতের পাট চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন চাষিরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শৈলকূপা উপজেলার ভাটই বাজারে পাটের হাটে প্রায় প্রতিদিনই চলছে পাটের বিকিকিনি। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভাটই বাজার, শৈলকূপা উপজেলা বাজার, কালীগঞ্জসহ বিভিন্ন বাজারে গড়ে ৩৫০০ টাকা থেকে ৩৬০০ টাকায় প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে। তবে পাটের মান ভেদে দাম ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি হচ্ছে বলেও জানান ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।

পাট ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর পাটের মান খুবই ভালো। পাটের প্রকৃত সোনালি রং এবার দেখা যাচ্ছে। কৃষকেরা ভালো দাম পাচ্ছেন। পাটের গুণগত মান ভালো হওয়ায় আমরাও ভালো দাম দিয়েই কিনছি। পাটের বাজার জমে উঠেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ষষ্টি চন্দ্র রায় বাসসকে বলেন, এ বছর বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে। যে কারণে পাটের পচন প্রক্রিয়ায় কোনো পানির ঘাটতি ছিল না। এ ছাড়া জেলার সকল উপজেলা ও মাঠ পর্যায়ে আমাদের কর্মীরা কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। এ কারণে কৃষক তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলন পেয়েছে। বাজারে এবার পাটের দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে বলে জানতে পেরেছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৪, ২০২৫ ৪:৪২ অপরাহ্ন
সিরামিক কারখানার ধোঁয়া ও পানিতে বিপন্ন পরিবেশ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক
কৃষি বিভাগ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে খালিশপুর-জীবননগর সড়কের পাশে আবাদি জমির পাশেই গড়ে উঠেছে সিরামিক কারখানা। সেখানে তৈরি করা হয় টাইলস। কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও কাদাপানির প্রভাবে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। রাস্তার পাশের খাল ভরে গেছে সাদা কাদাপানিতে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জোড়াতালি দিয়ে কারখানা পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়ার প্রভাবে ধান, পাট, কলাসহ ক্ষতির মুখে পড়েছে বিভিন্ন ফসল।

সরেজমিনে দেখা যায়, খালিশপুর-জীবন নগর সড়কের সাড়াতলা এলাকায় ফসলি জমিতে তুষার সিরামিক কারখানা গড়ে উঠেছে। ভরা ফসলের মাঠে ভারি কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। কারখানা থেকে নির্গত হচ্ছে ধোঁয়া। কাঁচামালের পরিত্যক্ত কাদাপানি কারখানার দেয়াল ঘেঁষে ড্রেন তৈরি করে কৌশলে বের করে দেয়া হচ্ছে বাইরের খালে।

ফলে খাল ভরাট হয়ে গেছে বিষাক্ত রাসায়নিক ও সাদা ঘোলা কাদাপানিতে।

সিরামিক কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত পদার্থের প্রভাবে খালিশপুর-জীবন নগর সড়কের পার্শ্ববর্তী প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল এখন যেন ময়লা পানির ড্রেন।

স্থানীয়দের দাবি, কারখানার কাদাপানির প্রভাবে খালপাড়ের অসংখ্য গাছ মারা গেছে। কিছু কিছু গাছ কারখানা কর্তৃপক্ষ রাতারাতি সরিয়ে ফেলেছে। এছাড়া কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া আশেপাশের মাঠের ধান, কলা ও পাটের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। ফসলের পাতা ও ডগা বিবর্ণ হয়ে গেছে বলেও অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।

সাড়াতলা গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, জমিতে ফলানো ফসল বিক্রি করে সংসার চলে। কারখানার ধোঁয়া ও বিষাক্ত পানির প্রভাবে আমার ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। গত তিন বছর ধরে ফসলহানির কবলে পড়েছি। আমি ছাড়াও গ্রামের অনেক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বাসসের সাথে আলাপকালে বলেন, উৎকট দুর্গন্ধে সড়কে চলাচল করা যায় না। খালে জমে থাকা রাসায়নিক মিশ্রিত পানির প্রভাবে মারা গেছে খালপাড়ের বহু গাছ। পরিবেশ প্রকৃতি ধ্বংস হলেও দেখার কেউ নেই। ফসলের মাঠে কারখানা প্রতিষ্ঠার অনুমতি প্রসঙ্গে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

জানা যায়, ২০২০ সালে তুষার সিরামিক কারখানা কর্তৃপক্ষ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পায়। তারপর মহেশপুরের ফতেপুর ইউনিয়নের সাড়াতলা গ্রামে ফসলি জমিতে টাইলস কারখানা গড়ে তোলে। প্রথম দিকে জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করা হলেও কারখানায় বর্তমানে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এলপিজি। ধান আবাদের জমিতে ভারি কারখানা তৈরির অনুমতি কীভাবে পেয়েছে তুষার সিরামিক কর্তৃপক্ষ, তা নিয়ে আছে নানা গুঞ্জন।

তুষার সিরামিক কারখানার পরিচালক মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, নিয়ম কানুন মেনে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েই কারখানা পরিচালনা করা হচ্ছে। যাবতীয় আইন মেনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কৃষকের যদি কারখানার কারণে ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে আমরা সেটি বিবেচনা করব।

গাছপালা মারা যাওয়া ও ফসলহানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গাছ কেন মারা যাচ্ছে তা আমরা বলতে পারিনা। অনেক গাছই তো মড়ক লেগে মারা যাচ্ছে। ফসল নষ্ট হওয়ার বিষয়ে কৃষকরা জানিয়েছেন। আমরাও যাচাই বাছাই করছি। কৃষকদের এ বিষয়ে কোনো দাবি থাকলে তা পূরণ করা হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ষষ্টী চন্দ্র রায় বাসসকে বলেন, ‘কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। মহেশপুর উপজেলা কৃষি অফিস কারখানা সংলগ্ন এলাকা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুন্তাছির রহমান বাসসকে বলেন, ‘কারখানার ধোঁয়া ও বিষাক্ত পানির প্রভাবে পরিবেশ ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা অভিযোগ জানার পরপরই সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।’

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop