৬:১৪ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ১৩ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ১৩, ২০২১ ৯:৫০ পূর্বাহ্ন
মাছ ধরার ট্রলারে বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ৭
মৎস্য

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারে রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনায় গত আট দিনে লক্ষ্মীপুরের রামগতির চরগাজী ও চররমিজ ইউনিয়নের সাত জেলে মারা গেছেন। সর্বশেষ মারা গেলেন মো.মিরাজ। তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

শুক্রবার (১২ মার্চ) রাত ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতরা দগ্ধ অবস্থায় শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। জেলেদের মৃত্যুতে স্বজনদের বাড়িতে বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

মৃত অন্যরা হলেন- লক্ষ্মীপুরের রামগতির চরগাজী ইউনিয়নের দক্ষিণ টুমচর গ্রামের বেলাল হোসেন (২৮), মো. মেহেরাজ হোসেন (২৬), চরলক্ষ্মী গ্রামের মো. মিলন (৩০), চররমিজ ইউনিয়নের চর গোসাই গ্রামের আবুল কাশেম (৫৫), মো. রিপন মাঝি (৩৮) ও মিরাজ উদ্দিন মাঝি।

জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার এলাকায় মাছ ধরার ট্রলারে রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনায় ২১ জন আহত হন। এর মধ্যে ১২ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। গুরুতর ১১ জনকে ২ মার্চ ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

পরে অবস্থার উন্নতি হওয়ায় মো. মেহরাজ নামে একজনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছিল। বাকি ১০ জনের মধ্যে গত শুক্রবার রাতে দুই, শনিবার বিকেলে একজন, সোমবার বিকেলে একজন, মঙ্গলবার রাতে একজন, বুধবার বিকেলে একজন ও শুক্রবার রাতে এক জেলের মৃত্যু হয়।

চিকিৎসাধীন আরও তিন জেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা হলেন চরলক্ষ্মী গ্রামের মো. আলাউদ্দিন, মো. সাহাবউদ্দিন ও আবু জাহের। নিহত ও আহত জেলেদের বাড়ি রামগতি উপজেলার চরগাজী ও চররমিজ ইউনিয়নে।

রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাওহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিরাজ নামে আরও এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সাতজন মারা গেছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুরু থেকেই অগ্নিদগ্ধ এই মানুষগুলোর পাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া স্বপ্ননিয়ে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আশরাফুল আলম হান্নান জানান, সকাল থেকেই মৃত মিরাজকেও (৭ম জন) রামগতিতে পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে । চেষ্টা চলছে সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণ করে যত দ্রুত রামগতি পাঠানো যায় । এছাড়া তিনি এই অগ্নিদগ্ধ বাকিদের জন্য সুস্থতার দোয়া চেয়েছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১২, ২০২১ ৯:২১ অপরাহ্ন
শীত পরবর্তী মাছ চাষিদের করণীয়
মৎস্য

মাছ চাষের দিকে দিন দিন আরো আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশের মাছ চাষিদের। আর এই মাছ চাষে অনেকেরই ভাগ্যবদল হয়েছে ইতোমধ্যে। শীত পরবর্তী মাছ চাষিদের করণীয় ও সতর্কতা যেসব রয়েছে সেগুলো মৎস্য চাষিদের ভালোভাবে জানতে হবে। তাহলে এই সিজনেও মাছ চাষিরা সফলতা অর্জন করতে পারবে। শীত শেষ হওয়ার সাথে সাথেই মাছ চাষিদের যা জানতে হবে নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো।

শীত পরবর্তী মাছ চাষিদের করণীয় ও সতর্কতাঃ

১। হঠাৎ করে মাছের খাদ্য প্রদান বাড়ানো যাবে না। মাছের সংখ্যার উপর নির্ভর করে যে পরিমাণ ফিড লাগে তার ৫% থেকে ১০% পরিমান খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে অন্যথায় অনাকাঙ্ক্ষিত মড়ক দেখা দিতে পারে।

২। প্রয়োজন অনুযায়ী পুকুরের ক্ষতিকর গ্যাস দূর করতে হবে। এছাড়াও দরকার হলে চুন ও লবন প্রয়োগ করতে হবে।

৩। শীতের শেষে তাপমাত্রা বাড়বে এমতাবস্থায় চাষিদের প্রধান কাজ থাকবে ফিডিং শুরু করা। তবে ফিডিং শুরু করার আগেই পুকুরের পিএইচ, অ্যামোনিয়াসহ অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস চেক করে নিতে হবে।

৪। এ সময়ে বিনা প্রয়োজনে পুকুরে কোন এন্টিবায়োটিক বা ভিটামিন সি প্রয়োগ করা যাবে না।

৫। মাগুর মাছ চাষের ক্ষেত্রে পুরো দমে তাপমাত্রা না বাড়া পর্যন্ত জাল দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১১, ২০২১ ৩:৪৭ অপরাহ্ন
হাজীগঞ্জে পাওয়া গেল বিরল প্রজাতির মাছ
মৎস্য

শাঁখার ফিস নামে পরিচিত চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বিরল প্রজাতির মাছ দেখে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার বিকালে হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর (উ.) ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের হীরা মেম্বারের বাড়ির পুকুরে মাছটি পাওয়া গেছে।

বিরল প্রজাতির মাছটি ওই এলাকার ভুট্টু নামের এক মাছ চাষী অন্যান্য মাছের পোনার সঙ্গে নিয়ে আসেন। পরে বুধবার জেলেদের জালে এ মাছটি ধরা পড়ে। তা দেখে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে মাছটি ইউনিয়ন পরিষদে নেয়া হয়। সেখানে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মাছটি দেখে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। মৎস্য অফিস মাছটি খাওয়া যাবে এমন তথ্য দেন। মাছটির নাম জানন (শাঁখার ফিস)।

পরে মাছটি হাজীগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের সর্দার বাড়ির ইমাম হোসেন সর্দার উচিত মূল্যে ক্রয় করে রেখে দেন। এখন ওই মাছটি দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন।

চাষী ভুট্ট জানান, আমি মাছ চাষ করি কিন্তু এ মাছ আমার পুকুরে কীভাবে এসেছে বুঝিনি। তবে এ মাছগুলো সাগরে থাকে।

ক্রেতা ইমাম হোসেন বলেন, মাছটি সুন্দর ও বিরল প্রজাতির দেখে যত্ন করে রেখে দেই। দর্শনার্থীরা দেখতে আসেন। আমার ভালো লাগে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৫, ২০২১ ১০:১৫ পূর্বাহ্ন
বিষ দিয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকার মাছ নিধন!
মৎস্য

নেত্রকোনার কলমাকান্দা সদরের বাসাউড়া গ্রামের নুর ইসলামের পুকুরে বিষ দিয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকার মাছ নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা। পুকুরে বিষ প্রয়োগের ফলে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার (৩ মার্চ) ভোররাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের বাসাউড়া গ্রামে।

বিষ প্রয়োগের ঘটনায় পুকুরের মালিক নুর ইসলাম বাদী হয়ে ছয় জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার বাসাউড়া গ্রামের মো. নূর ইসলাম ও একই এলাকার মো. কাজল মিয়ার মধ্যে জমিজমাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। কিছুদিন পূর্বে নূর ইসলাম তার পুকুর পাড়ে মাটি কাটতে গেলে কাজল মিয়ার নেতৃত্বে ৪/৫ জন তাতে বাধা দেন। এ সময় পুকুরের সকল মাছ বিষ দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা। মো. নূর ইসলামের দাবি ৫৬ শতক জায়গায় তার পুকুরে থাকা রুই, কাতলা, ব্রিগেড, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাড়ে ৩ লাখ টাকার মাছ বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় বুধবার মো. নূর ইসলাম বাদি হয়ে ছয়জনকে আসামি করে কলমাকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহমুদুল হক জানান, মাছ নিধনের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৪, ২০২১ ৩:১৭ অপরাহ্ন
শোল মাছ চাষে সফল জাকিরের গল্প
মৎস্য

১৯৯৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ শেষ করেন সাতক্ষীরার জাকির হোসেন। এরপর চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি আত্মকর্মসংস্থানের পথ খুঁজতে থাকেন। বৃষ্টির পানিতে তার এলাকা ডুবে যাওয়ায় জাকির একদিন খুঁজে পান এক জোড়া দেশি শোল মাছ। এই জোড়া থেকেই তিনি শোল মাছ চাষে উদ্যোগী হন।

সম্প্রতি জাকির হোসেন সাতক্ষীরার পুরাতন পুকুর থেকে বিক্রির জন্য প্রায় এক টন শোল মাছ ধরেছেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মসিউর রহমান।

জাকির হোসেন শোল মাছ চাষের জন্য প্রথমে মাত্র পাঁচ শতক জমির একটি পতিত ও অব্যবহৃত পুকুর বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন। সেখান থেকে একে একে এখন পাঁচটি পুকুরে চাষ করছেন দেশি জাতের শোল মাছ। এ বছর উৎপাদন পেয়েছেন এক টন। যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি ৫০০ টাকা হিসাবে পাঁচ লাখ টাকা।

এখন তিনি পাঁচটি পুকুরে শোল মাছের চাষ করছেন। পুরাতন সাতক্ষীরার এই পতিত জমির পুকুরটিতে তিনি বার্ষিক মাত্র দেড় হাজার টাকা চুক্তিতে চাষ করেন শোল মাছ। মাত্র এক বছরের মাথায় এই শোল প্রতিটি ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাকির বলেন, তার পুকুরে কোনো ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এমনকি কীটনাশকও প্রয়োগ করা হয়নি। সম্পূর্ণ জৈব সারের ওপর দিয়ে তিনি এই মাছ উৎপাদন করেছেন। কোনো রাসায়নিক খাদ্য, বিশেষ করে পোলট্রি ফিড ব্যবহার করেননি তিনি। মাছের খাদ্য হিসাবে ছোট জাতের মাছ ব্যবহার করে এই শোল বড় করে তুলেছেন জাকির হোসেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটি পানি ও প্রকৃতি মাছ চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। পুরোনো পতিত জলাশয় দেশি জাতের মাছ চাষের উপযুক্ত জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাকুরি না পেয়ে হতাশ না হয়ে দেশের যুব সমাজ এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসতে পারে।

এর ফলে আমাদের হারিয়ে যাওয়া নানা জাতের দেশি মাছ পুনরায় বাঙালির পাতে উঠবে। বিদেশি প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে হাইব্রিড জাতের মাছ উৎপাদনের প্রয়োজন পড়বে না।

এদিকে জেলা মৎস্য অফিসার মো. মসিউর রহমান বলেন, জাকির হোসেনের শোল মাছ চাষে মৎস্য বিভাগ থেকে বেশ সহযোগিতা করেছে। তার শোল মাছ উৎপাদন আরও সম্প্রসারিত করতে সহায়তা দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, তার দেখাদেখি অন্যদেরও এগিয়ে আসা দরকার। এতে করে দেশের বেকার সমস্যার সমাধান হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৪, ২০২১ ৯:১১ পূর্বাহ্ন
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে: বনমন্ত্রী
প্রাণ ও প্রকৃতি

বিষ দিয়ে কেন মাছ ধরবে? মাছ ধরার জন্য জাল আছে। জাল দিয়ে মাছ ধরবে। ’বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

বুধবার (৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও বনভবন হৈমন্তী মিলনায়তনে ‘বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস-২০২১’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

‘সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার কথা আমি আর শুনতে চাই না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর কাছে শুনলাম, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। কেন বিষ দিয়ে মাছ ধরা হবে? সরকারি বাহিনী ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা থাকতেও বিষ দিয়ে মাছ ধরা হবে। সে মাছ আবার মানুষ খাবে। তাহলে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কোথায়?’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২, ২০২১ ৮:৫৬ পূর্বাহ্ন
দেশি শোল মাছ চাষে স্বাবলম্বী জাকির
মৎস্য

সাতক্ষীরার জাকির হোসেন দেশি শোল মাছের চাষ করে স্বাবলম্বী।এবার তার পতিত জমির পুকুর থেকে হাজার কেজি শোল মাছ তুলে দিয়েছেন তাক লাগিয়ে।

গতকাল সোমবার সকালে জাকির তাঁর পুকুর থেকে এই মাছগুলো তোলেন। এ সময় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

মাত্র পাঁচ শতক জমির একটি অব্যবহৃত পুকুর বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন জাকির হোসেন। সেখানে দেশি জাতের শোল মাছের পোনা ছেড়ে এক বছরের মাথায় তিনি পেয়েছেন এক টন মাছ। যার বাজারমূল্য প্রতি কেজি ৫০০ টাকা হিসাবে পাঁচ লাখ টাকা।

জাকির বলেন, ‘১৯৯৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এম এ শেষ করেন তিনি। এরপর চাকরির পেছনে না ছুটে আত্মকর্মসংস্থানের পথ খুঁজে নেন। বৃষ্টির পানিতে তাঁর এলাকা ডুবে যাওয়ায় জাকির একদিন খুঁজে পান এক জোড়া দেশি শোল মাছ। এই শোল জোড়া থেকে তিনি এ জাতের মাছ চাষে উদ্যোগী হয়ে ওঠেন। এখন তাঁর পাঁচটি পুকুরে চলছে শোল মাছের চাষ। পুরান সাতক্ষীরার এই পতিত জমির পুকুরটি বার্ষিক মাত্র দেড় হাজার টাকায় বন্দোবস্ত নিয়ে সেখানে চাষ করেন শোল মাছের। মাত্র এক

বছরের মাথায় এই শোল প্রতিটি ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত হয়েছে বলে জানান জাকির।

মাছচাষি জাকির হোসেন জানান, তাঁর পুকুরে কোনো ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এমনকি কীটনাশকও প্রয়োগ করা হয় না। সম্পূর্ণ জৈব সারের ওপর ভিত্তি করে তিনি এই মাছ চাষ করেছেন। কোনো রাসায়নিক খাদ্য, বিশেষ করে পোলট্রি ফিড ব্যবহার করেননি। মাছের খাদ্য হিসেবে ছোট জাতের মাছ ব্যবহার করে এই শোল বড় করে তুলেছেন জাকির হোসেন।

বাংলাদেশের মাটি, পানি ও প্রকৃতি মাছ চাষের অনুকূল উল্লেখ করে জাকির হোসেন বলেন, ‘চাকরি না পেয়ে হতাশ না হয়ে দেশের যুব সমাজ এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসতে পারে। এর ফলে আমাদের হারিয়ে যাওয়া নানা জাতের দেশি মাছ পুনরায় বাঙালির পাতে উঠবে। বিদেশি প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে হাইব্রিড জাতের মাছ উৎপাদনের প্রয়োজন পড়বে না।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মসিউর রহমান বলেন, ‘জাকির হোসেনের শোল মাছ চাষে মৎস্য বিভাগ সহযোগিতা করেছে। তাঁর শোল মাছ উৎপাদন আরও সম্প্রসারিত করতে সহায়তা দেওয়া হবে। তাঁর দেখাদেখি অন্যদেরও এগিয়ে আসা দরকার।’

জাকিরের এই আত্মকর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘জাকির হোসেন আশাব্যঞ্জক কাজ করে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। আত্মকর্মসংস্থানের পথ দেখিয়েছেন।’ শিক্ষা শেষে অথবা শিক্ষাকালীন চাকরির পেছনে না ছুটে জাকিরের দেখানো পথ বেয়ে এগুনের জন্য দেশের যুবসমাজকে পরামর্শ দেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘২০৪১ সালে বাংলাদেশকে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ অর্জন করতে হলে জাকিরের মতো অন্যদেরও এগিয়ে আসতে হবে। জাকিরের পথ অনুসরণ করলে আমরা যেমন আমাদের মাছের চাহিদা পূরণ করতে পারব, তেমনি এর ফলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। সমাজ থেকে বেকারত্ব বহুলাংশের দূর হবে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১, ২০২১ ১১:২৩ অপরাহ্ন
৪ থেকে ১০ এপ্রিল পালিত হবে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ
মৎস্য

‘মুজিববর্ষে শপথ নেব, জাটকা নয় ইলিশ খাব’ এই স্লোগানে এবার আগামী ৪ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে দেশের জাটকা সম্পৃক্ত জেলাগুলোতে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২১ উদযাপন করা হবে।

সোমবার (১ মার্চ) রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদফতরের সভা কক্ষে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব বলেন, ‘গতবছর মা ইলিশ সংরক্ষণে সফল অভিযানের ফলে ৩৭ হাজার ৮০০ কোটি ইলিশের পোনা ইলিশ সম্পদে যুক্ত হয়েছে। ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণেও আমাদের সাফল্য নিয়ে আসতে হবে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগে আগামীতে ইলিশের উৎপাদন ৬ লাখ মেট্রিক টন হবে।’

এ সময় ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২১-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামী ৫ এপ্রিল পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধন শেষে এদিন বর্ণাঢ্য নৌ-র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। সপ্তাহের উদ্বোধনী দিনে (৪ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবং জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।

এছাড়া জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে জাটকা সংরক্ষণবিষয়ক ভিডিওচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, বেতার-টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন, ইলিশবিষয়ক কর্মশালা, সভা-সেমিনার আয়োজন, ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন মৎস্য আড়ত, বাজার ও অবতরণ কেন্দ্রে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার ব্যাপারে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য মৎস্য অধিদফতরে একটি কন্ট্রোল রুম খোলার ব্যাপারেও সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, যুগ্ম-সচিব সুবোধ চন্দ্র ঢালী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট দফতরসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গবেষক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, নৌ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, র্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, পরিবহন মালিক সমিতি, লঞ্চ মালিক সমিতি, মৎস্যজীবী সমিতি, মৎস্যজীবী লীগসহ ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে ইলিশ তথা মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে অবৈধ জাল ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক ও জাটকা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে ২০০৭ সাল থেকে প্রতিবছর জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদযাপন হয়ে আসছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১, ২০২১ ১১:২৬ পূর্বাহ্ন
ধনু নদীতে মাছ ধরতে চাওয়ায় জেলে খুন
মৎস্য

জেলার হাওর উপজেলা ইটনার ধনু নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে মাহাবুব রহমান (৩২) নামে এক জেলে খুন হয়েছেন। নিহত মাহাবুব রহমান উপজেলার এলংজুড়ি ইউনিয়নের মন্তোষ পাড়া গ্রামের সোরাফ মিয়ার ছেলে।

রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ধনু নদীর কুলিভিটা নামক এলাকায় মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ইটনা থানার ওসি মুর্শেদ জামান ও ধনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, রবিবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে বেড়ি জাল দিয়ে ধনু নদীতে মাছ ধরা নিয়ে ইটনা সদরের সাবেক মেম্বার আসলাম মিয়ার সঙ্গে মাহবুবের কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জের ধরে আসলাম মিয়ার লোকজন মাহাবুবকে বেধড়ক মারধর করে। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা এসে মাহাবুবকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে আহত মাহাবুব নিজ বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এ খবর পেয়ে নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মাহবুব রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যার কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২১ ৮:১৯ অপরাহ্ন
পাঁচ অভয়াশ্রমে সোমবার থেকে নিষিদ্ধ মাছ ধরা
মৎস্য

সোমবার থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণে দেশের ছয় জেলার পাঁচটি অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে।

রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় বরিশাল, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, শরীয়তপুর ও পটুয়াখালী জেলার ইলিশের অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন জানান, এ সময় সারাদেশে ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন এবং মজুদও নিষিদ্ধ থাকবে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী জাটকা আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাস জাটকা আহরণে বিরত থাকা মৎস্যজীবীদের সরকার মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে।

পাঁচটি অভয়াশ্রম এলাকা হলো—চাঁদপুর জেলার ষাটনল হতে লক্ষ্মীপুর জেলার চরআলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর নিম্ন অববাহিকার ১০০ কিলোমিটার এলাকা, ভোলা জেলার মদনপুর বা চরইলিশা থেকে চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর শাহবাজপুর শাখা নদীর ৯০ কিলোমিটার এলাকা, ভোলা জেলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালী জেলার চররুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা।

এছাড়া শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা এবং চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার মধ্যে অবস্থিত পদ্মা নদীর ২০ কিলোমিটার এলাকা এবং বরিশাল জেলার হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও বরিশাল সদর উপজেলার কালাবদর, গজারিয়া ও মেঘনা নদীর প্রায় ৮২ কিলোমিটার এলাকা।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop