৪:১৯ পূর্বাহ্ন

সোমবার, ৩ অগাস্ট , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অগাস্ট ২, ২০২৬ ৯:২১ পূর্বাহ্ন
নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা মোকাবিলায় নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে সরকার গবেষণাভিত্তিক কৃষি উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আগামী মৌসুমে হাওর অঞ্চলের জন্য ব্রি ধান-১১৮ অবমুক্ত করা হবে। শীত সহনশীল এ জাতের ধান আগাম রোপণ ও আগাম কর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ফলে আকস্মিক বন্যার আগেই কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন এবং ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

আজ শনিবার কুমিল্লা সার্কিট হাউসে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা জেলার সকল দপ্তর বা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ একথা জানানো হয়।

মাছ রপ্তানি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা

করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী বছর লবণাক্ততা সহনশীল নতুন একটি ধানের জাত অবমুক্ত করা হবে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উপযোগী ফসলের জাত উদ্ভাবনে নিরলসভাবে কাজ করছেন।

মৎস্য বিপণন অবকাঠামো প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা অঞ্চলে মাছের ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। উপযুক্ত সরকারি জমি পাওয়া গেলে ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশের ভোক্তারা সাধারণত মিঠাপানির মাছ তাজা অবস্থায় কিনতে আগ্রহী। তাই সংরক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক বাজারজাতকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ খাতের ভ্যাকসিন উৎপাদন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র সম্প্রসারণে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গবাদিপশুর পাশাপাশি হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিনও অধিক পরিসরে দেশে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং প্রাণিসম্পদ খাত আরও শক্তিশালী হবে।

খাল পুনঃখনন কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর আওতায় চলমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী বছরও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বীজ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে বন্যা-পরবর্তী সময়ে রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ আধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২৮, ২০২৬ ৯:২১ পূর্বাহ্ন
চাকরি ছেড়ে ড্রাগন চাষে সাবলম্বী ঝিনাইদহের আবু সাঈদ
কৃষি বিভাগ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর গ্রামের সফল কৃষি উদ্যোক্তা আবু সাঈদ সরকার। চাকরি ছেড়ে ড্রাগন ফল চাষ করে পেয়েছেন ব্যাপক সফলতা। চারা উৎপাদন, ফল বিক্রি ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে সফল উদ্যোক্তার পাশাপাশি আবু সাঈদ এখন সফল ব্যবসায়ী। তবে আবু সাঈদের এই যাত্রা প্রথম দিকে এতটা সহজ ছিল না। পরিচিত লোকজনের কটু কথা ও কয়েক দফা লোকসান গুনেও ড্রাগনের আবাদ চালিয়ে গেছেন এই তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। তার উৎপাদিত ফল এখন সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহরে। এই ফল রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর বাজারে ড্রাগন ফলের শতাধিক পাইকারি আড়ত রয়েছে। এসব আড়তের মধ্যে অন্যতম একটি আবু সাঈদের ফলের আড়ত। ২০২২ সালে প্রথম ‘আয়ান ফল ভান্ডার’ নামে ফলের আড়ত করেন তরুণ আবু সাঈদ সরকার। পরে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আড়তের বেচাকেনা বেড়ে যাওয়ায় তাঁর সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত হন তার বড় ভাই। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

তরুণ এই কৃষি উদ্যোক্তা আবু সাঈদ সরকার বাসস’কে জানান, তিনি একটি এনজিও সংস্থায় ভালো পদে চাকরি করতেন। কিন্তু দেশের বাজারে বিদেশী ফলের চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকায় তার ভেতরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত বিদেশী ফলের আবাদ করার আগ্রহ তৈরি হয়। সেই ভাবনা থেকে ২০২১ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। নিজের দেড় বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করেন। একই সময় নিজের জমিতে কাজ করার পাশাপাশি চাচাতো ভাইয়ের জমিতেও শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন আবু সাঈদ সরকার। ২০২২ সালের শেষদিকে তিনি গৌরীনাথপুর বাজারে ফলের আড়ত চালু করেন। নিজের বাগানের ফল বিক্রির পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকদের কাছ থেকে ফল কিনে তা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ শুরু করেন।

আবু সাঈদ সরকার বাসস’কে বলেন, আমার প্রথম যাত্রা অনেক কঠিন ছিল। অন্যের জমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছি। দিনে চারশ’ টাকা মজুরি পেতাম। কিন্তু তা দিয়ে আমার সংসার চলতো না। তাই, চাকরি ছেড়ে কৃষি কাজ শুরু করায় মানুষ আমাকে নিয়ে নানা রকম কথা বলেছে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। ২০২১ সালের অক্টোবরে ড্রাগন চাষ শুরুর পর থেকে নিজেই চারা উৎপাদন শুরু করি। ভ্যানে করে সেই সব চারা আমি ঝিনাইদহ শহর, কালীগঞ্জ, যশোর, চুয়াডাঙ্গায় বিক্রি করতাম। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় আমি ড্রাগনের চারা পাঠাতাম।

তরুণ এই উদ্যোক্তা আরও বলেন, ড্রাগনের চারা বিক্রি করতে গিয়ে অনেক সময় দিনশেষে লোকসান মাথায় নিয়ে ঘরে ফিরতাম। কিন্তু আমি হতাশ হইনি। এভাবে বছর দুয়েক কষ্ট করেছি। তারপর আড়ত চালু করলাম। বেচাকেনা বেড়ে গেল। আড়ত ও ফল বাগানের বিভিন্ন ধরণের ভিডিও বানিয়ে আমি ফেসবুকে ছাড়তাম। মানুষ আমার ভিডিও দেখে ড্রাগন ফলের চারা ও ফল কিনতো। এভাবেই আমার শুরু।

আবু সাঈদ সরকার আরও বলেন, এখন আমার প্রায় ১২ বিঘা জমিতে ড্রাগনের আবাদ রয়েছে। আমার দেয়া চারা থেকে গাজীপুরের মাওনা, চাঁদপুর, কুমিল্লার নিমসার, খাগড়াছড়ি, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ড্রাগন বাগান গড়ে উঠেছে। এখন আমার আড়তে গড়ে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার কেজি ড্রাগন ফলের বেচাকেনা হয়। বাগানেও ড্রাগনের ফলন ভালো এসেছে।

আড়তের বেচাকেনা প্রসঙ্গে তরুণ এই কৃষি উদ্যোক্তা বাসস’কে বলেন, আমি মনে করি, বেকার বলে কিছু নেই। মানুষ কখনো বেকার থাকে না। চাকরির পেছনে না ছুটে অল্প পুঁজি নিয়ে নিজের মতো করে কিছুর করার উদ্যোগ নিলেই তরুণরা সফল হতে পারে। মনে রাখতে হবে, শুরুটা কখনো বড় কিছু দিয়ে হয় না। ছোট কিছু দিয়ে, অল্প অল্প করে শুরু করতে হয়। এভাবে একদিন বড় হওয়া যায়। উদ্যোক্তা হলে বরং আরও মানুষের কাজের সুযোগ করে দেয়া যায়। আমার আড়তে ও ফলের বাগানে অনেকেই এখন কাজ করে। তাদেরও কর্মসংস্থান হয়েছে। মিল, কলকারখানা বা শিল্প নির্ভর ব্যবসায় উদ্যোক্তা হওয়ার চেয়ে কৃষি উদ্যোক্তা হওয়া আমার কাছে নিরাপদ ও গৌরবের। আলহামদুলিল্লাহ এখন অনেক ভালো আছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২, ২০২৬ ৯:২৯ পূর্বাহ্ন
রংপুর অঞ্চলে বাণিজ্যিক কলা চাষে নীরব বিপ্লব
কৃষি বিভাগ

স্বল্প খরচে অধিক লাভের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রংপুর কৃষি অঞ্চলে বাণিজ্যিক কলাচাষে এক নীরব বিপ্লব ঘটেছে। এর মাধ্যমে অনেক কৃষক আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন। উপযোগী মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া, বারবার বাম্পার ফলন এবং সন্তোষজনক বাজারমূল্যের কারণে এ অঞ্চলে কলা চাষ ইতোমধ্যেই অত্যন্ত লাভজনক ও জনপ্রিয় কৃষি উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। তবে যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাবে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কলা নষ্ট হচ্ছে, যা এ সম্ভাবনাময় খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)’র তথ্য অনুযায়ী, রংপুর কৃষি অঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী—এই পাঁচ জেলাতেই কলার চাষ হয়। এ অঞ্চলে সাগর, মালভোগ, চিনি চম্পা ও মেহের সাগরসহ বিভিন্ন জাতের কলার ব্যাপক আবাদ হচ্ছে।

স্বল্প পুঁজি ও কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় অনেক তরুণ ও শিক্ষিত উদ্যোক্তাও এখন কলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তবে সমস্যা দেখা দেয় ফসল সংগ্রহের পর। কলা দ্রুত নষ্ট হওয়া ফল হওয়ায় মাঠ থেকে সংগ্রহের পর দ্রুত বাজারজাত করা না গেলে তা পচে যায়।

ডিএই সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ অঞ্চলের ৪ হাজার ২০৮ হেক্টর জমিতে কলা চাষ করে ১ লাখ ১২ হাজার ৩৫৭ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ হাজার ৩৫৬ হেক্টর জমি থেকে উৎপাদিত হয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ২২৭ মেট্রিক টন কলা।

আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৪ হাজার ৭৭ হেক্টর জমিতে চাষ করে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৬ মেট্রিক টন কলা উৎপাদন করেন কৃষকরা।

উৎপাদিত এসব কলা প্রতিদিন কোটি কোটি টাকায় বিক্রি হয় রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শঠিবাড়ী হাট, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী হাট, ফাঁসিতলা হাট, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন বাজার এবং অন্যান্য স্থানে।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার টাকেয়া গ্রামের কৃষক হামিদুর রহমান, বকুল মিয়া ও আনোয়ার হোসেন জানান, গত কয়েক বছরে কলাচাষ করে তারা ভাগ্য বদলানোর সুযোগ পেয়েছেন।

তবে অধিক পরিমাণে কলা উৎপাদিত হলে কোল্ড স্টোরেজ বা বিশেষায়িত সংরক্ষণাগারের অভাবে বাধ্য হয়ে কম দামে মধ্যস্বত্বভোগী ও ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করতে হয়।
কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘একটু দেরি হলেই কলা নষ্ট হতে শুরু করে। এতে প্রত্যাশিত লাভ পাওয়া যায় না।’

বছরের বিভিন্ন মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে বাম্পার কলা উৎপাদন হলেও এখনো এ অঞ্চলে কোনো প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র বা বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ গড়ে ওঠেনি।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার পাইকানটারী গ্রামের কৃষক মাসুদুর রহমান, সাজু মিয়া ও হাবিবুর রহমান জানান, এক একর জমিতে কলাচাষে এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়।

এক একর জমিতে প্রায় এক হাজারটি কলার চারা রোপণ করা যায়। ফলন ভালো হলে প্রতিটি কাঁদি ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়।

এতে এক একর জমি থেকে বছরে সাড়ে তিন লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

রংপুর সদর উপজেলার কাঠিহারা গ্রামের কৃষক ইসহাক আলী বলেন, কলার পুষ্টিগুণ ও বহুমুখী ব্যবহার বিবেচনায় প্রতিটি বড় কলার হাটের পাশে কোল্ড স্টোরেজ বা বিশেষায়িত সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করা উচিত।

তিনি বলেন, ‘এতে শুধু কৃষক ও ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবেন না, ভোক্তারাও সারা বছর ন্যায্যমূল্যে রাসায়নিকমুক্ত ও টাটকা কলা পাবেন।’

এ বিষয়ে বাসসকে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু বলেন, রংপুর অঞ্চলে আধুনিক কলা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে তা জাতীয় ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য স্বল্পসুদে ব্যাংক ঋণ, কলা সংরক্ষণের উপযোগী তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত কোল্ড স্টোরেজ, কলাভিত্তিক খাদ্যপণ্য উৎপাদনের কারখানা, আধুনিক প্যাকেজিং ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক উপায়ে কলা পাকানোর প্রযুক্তি চালু করা প্রয়োজন।

রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বাসসকে জানান, প্রতিবছরই এ অঞ্চলে কলা চাষের পরিধি বাড়ছে।

তিনি বলেন, ডিএইর উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের ফলে কৃষকরা আত্মনির্ভরশীল হওয়া, নিজেদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কলা চাষ সম্প্রসারণ করছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৯, ২০২৬ ৯:৪২ পূর্বাহ্ন
কৃষিকে পেশা করে সফল উদ্যোক্তা বাউফলের মেহেদী হাসান
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার মেহেদী হাসান (৩০) একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে স্থানীয় মানুষের কাছেও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। তার গড়ে তোলা নার্সারি ও আমবাগানে এ বছর বিভিন্ন জাতের আমের অধিক ফলন হয়েছে। এ বাগানের আম দিয়ে তিনি নিজের পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদেরও আপ্যায়ন করছেন। উদ্বৃত্ত আম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাজারজাত করে ভালো আয় করছেন। কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে তিনি শুধু নিজের ভাগ্যই বদলাননি, এলাকায় সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছেন।

সরেজমিনে উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা মেহেদী হাসানের আমবাগান ও নার্সারি ঘুরে দেখা যায়, গাছে গাছে ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা আমের থোকা। পরিচর্যার কারণে প্রতিটি গাছই বেশ স্বাস্থ্যবান।

বাসসে’র সঙ্গে আলাপকালে মেহেদী হাসান বলেন, তিনি বাউফল সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চাকরির চেষ্টা করেন। কিন্তু চাকরি পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়েন। তাই তিনি চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। তার এ সিদ্ধান্তকে পরিবারের সদস্যরাও সমর্থন করেন। তার বাবা একজন কৃষক ছিলেন। ফলে কৃষিকাজ সম্পর্কে ছোটবেলা থেকেই কিছুটা ধারণা ছিল, যা এ পেশায় মনস্থির করতে সাহস জুগিয়েছে।

মেহেদী জানান, কৃষি খাতে যাত্রার শুরুটা সহজ ছিল না। প্রথম দুই বছর তাকে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। লোকসানও গুনতে হয়েছে কয়েকবার। তবে হাল না ছেড়ে তিনি নার্সারিতে দেশীয় ফলজ ও বনজ গাছের চারা উৎপাদন শুরু করেন। পাশাপাশি মাছ চাষেও মনোযোগ দেন। ধীরে ধীরে তার পরিশ্রমের ফল মিলতে শুরু করে। বর্তমানে তার মাসিক আয় এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে। কৃষিকাজের মাধ্যমে তিনি এখন স্বাবলম্বী জীবনযাপন করছেন।

তার নার্সারি ও আমবাগানে বর্তমানে দুইজন স্থায়ী দিনমজুর কাজ করেন। এছাড়া কৃষি মৌসুমে আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিককে কাজের সুযোগ দেয়া হয়। এতে স্থানীয় অনেক পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। মেহেদী মনে করেন, কৃষি শুধু ব্যক্তিগত আয়ের উৎস নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করারও একটি কার্যকর মাধ্যম।

মেহেদীর বাগানে বিভিন্ন জাতের আমের সমাহার রয়েছে। এর মধ্যে আম্রপালি, বারি-৪, বারি-১১, গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, আশ্বিনা, কাটিমন, মল্লিকা, হারিভাঙ্গা, ব্যানানা ম্যাংগো ও থাই জাতের আম উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন সময় পাকার কারণে এসব আম দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হয়। ফলে তিনি ভালো দামও পান।

স্থানীয় বাজারে তার বাগানের উৎপাদিত আমের কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম বিক্রি করেছেন এবং বাগানে এখনও ৫০ থেকে ৬০ মণ আম রয়েছে বলে জানান তিনি। মৌসুম শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এসব আম বিক্রি করে আরও ভালো আয় হবে বলে আশা করছেন।

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির পাশাপাশি নিজের বাগানের ফল আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বিলিয়ে দেন। প্রতিবেশীদেরও নিয়মিত উপহার হিসেবে আম দেন। এতে সামাজিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয় এবং মানুষ দেশীয় ফল চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তার মতে, কৃষির প্রকৃত আনন্দ শুধু লাভে নয়, নিজের উৎপাদিত ফল অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করাতেও রয়েছে।

মেহেদী জানান, জেলা কৃষি অফিস ও বাউফল উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তিনি নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা পান। সার, বীজ ও রোগবালাই দমন বিষয়ে পরামর্শ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ তাকে আরও দক্ষ করে তুলেছে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

মদনপুরা গ্রামের বাসিন্দা আলতাফ ব্যাপারী (৫৫) বাসস’কে বলেন, মেহেদীকে ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমী ছেলে হিসেবে চিনি। চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে সে যে সফলতা অর্জন করেছে। তিনি আমাদের গ্রামের জন্য গর্বের বিষয়। তার বাগান ও নার্সারি দেখে অনেকেই এখন কৃষিকাজে আগ্রহী হচ্ছেন।

মদনপুরা গ্রামের বাসিন্দা হেলাল মৃধা (৪৫) বলেন, মেহেদী আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করে ভালো ফলন পাচ্ছে। নিয়মিত পরিচর্যা ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুসরণ করে সে যে সফল হয়েছে, তা এলাকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা। তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ইতোমধ্যে অনেকেই নতুন করে ফল চাষ শুরু করেছেন।

মদনপুরা ইউনিয়নের ইমরান হোসেন (৩০) বলেন, মেহেদীর সফলতা আমাকে কৃষিকাজে উদ্বুদ্ধ করেছে। তার পরামর্শে আমি বাণিজ্যিকভাবে মরিচ চাষ শুরু করেছি। এখন ভালো ফলন পাচ্ছি এবং আগের তুলনায় আয়ও বেড়েছে। তরুণদের জন্য তিনি একজন অনুকরণীয় উদ্যোক্তা।

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বাসস’কে বলেন, মেহেদী হাসান একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা। তিনি নার্সারিতে বিভিন্ন দেশীয় ফলজ ও বনজ গাছের চারা উৎপাদনের পাশাপাশি প্রায় ১০০ টি আমগাছের একটি বাগান গড়ে তুলেছেন।

তিনি বলেন, গত বছরের মতো এবারও তিনি আম উৎপাদনে সফল হয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও পরামর্শমূলক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তার এই সাফল্য এলাকার অন্যান্য কৃষকের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ।

 

(বাসস)

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৫, ২০২৬ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
কৃষিতে নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছে ‘কৃষি তথ্য সার্ভিস’
কৃষি বিভাগ

দেশের কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার এবং কৃষকদের দোরগোড়ায় তথ্য সেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ‘কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)’।

প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন এবং মাল্টিমিডিয়া গণমাধ্যমের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে এক নীরব বিপ্লব সৃষ্টি করেছে।

১৯৬১ সালে কৃষি তথ্য সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে ১৯৮৮ সালে এটি ‘কৃষি তথ্য সার্ভিস’ নামে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ফার্ম ম্যাগাজিন ‘মাসিক কৃষিকথা’, আধুনিক ‘কৃষি কল সেন্টার (১৬১২৩)’, ‘কৃষি তথ্য বার্তা’ এবং ডিজিটাল ওয়েব পোর্টাল ও সোশ্যাল মিডিয়াসহ বহুমাত্রিক সেবার মাধ্যমে দেশের কোটি কৃষকের বিশ্বস্ত তথ্যসহযোগীতে পরিণত হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত কৃষি তথ্য সার্ভিস অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ম্যাগাজিন ‘মাসিক কৃষিকথা’র ৮ লাখ ৮৭ হাজার কপি বিতরণ করা হয়েছে। মাত্র ১০ টাকা মূল্যের এই প্রকাশনাটির বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৯৬ হাজার এবং অনলাইন পাঠক ১৫ লক্ষাধিক।

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ প্রদানের কৃষি কল সেন্টার তথ্য পুলে এ সময়ে ৬৯ হাজার ৫৫৫টি কল রিসিভ করে তাৎক্ষণিক সেবা দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ কল আসে।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও চাষিদের জন্য এক লাখ তিন হাজার কৃষি ডায়েরি এবং ২৪ হাজার কপি ‘কৃষি তথ্য বার্তা’ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

আলোচ্য কয়েক মাসে কৃষকদের সচেতনতা বাড়াতে ২ লাখ ৫ হাজার কপি বিভিন্ন লিফলেট, ফোল্ডার, ফেস্টুন ও স্টিকার মাঠ পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে।এ সময়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ওপর তৈরি ৭৫০টি ফিল্ম ও সিনেমা শো প্রদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে ৪২টি কৃষিভিত্তিক পডকাস্ট বা রিলস তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে।

এছাড়াও এআইএস-এর নিজস্ব ওয়েবসাইট (ais.gov.bd) এবং ডিজিটাল ভিডিও পোর্টাল ‘এআইএস টিউব’ (www.aistube.com)-এর মাধ্যমে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি, সফল কৃষকদের গল্প এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্ভাবনসমূহ নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ বেতারের ১৮টি কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) নিয়মিত ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান ‘বাংলার কৃষি’ সমন্বয়ের দায়িত্বও পালন করছে এই সংস্থাটি।

কাজের অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে এআইএস এ পর্যন্ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার লাভ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ জাতীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী পদক (২০১০ ও ২০১১), ই-ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা পুরস্কার (২০১১-১২), আন্তর্জাতিক ‘দি মন্থন অ্যাওয়ার্ড সাউথ এশিয়া’ (২০১২), এম-বিলিয়নথ অ্যাওয়ার্ড (২০১৮), ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ড (২০২০) উল্লেখযোগ্য।

কৃষি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করতে স্মার্ট কৃষির বিকল্প নেই। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে কৃষি তথ্য সার্ভিসকে (এআইএস) আধুনিকায়ন করা, নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন এবং বাজেট বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক মো. মসীহুর রহমান বাসস’কে বলেন, সীমাবদ্ধতা ও কিছু কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের তথ্য সেবা সচল রাখতে শতভাগ আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আমরা ‘মাসিক কৃষিকথা’ বা ‘কৃষি কল সেন্টার’ এর মতো সেবাগুলোকে প্রান্তিক চাষিদের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে পেরেছি। প্রযুক্তির এই যুগে আমরা ডিজিটাল ও স্মার্ট প্ল্যাটফর্মের ওপর জোর দিচ্ছি, যেন দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে একজন কৃষক মুহূর্তেই তার সমস্যার সমাধান পেতে পারেন।

পরিচালক আশা প্রকাশ করে বলেন, চলমান শূন্যপদগুলো পূরণ হলে এবং আমাদের আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেলে আমরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্মার্ট কৃষি রূপান্তরে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক  মো. আব্দুর রহিম বাসস’কে বলেন, কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) দেশের কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের একটি অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ। মাঠ পর্যায়ে আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা যে নতুন প্রযুক্তি বা উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করেন, এআইএস তা গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে কোটি কোটি কৃষকের কাছে সহজবোধ্য করে পৌঁছে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘কৃষি কল সেন্টার’ এবং কৃষি ডায়েরি ও প্রকাশনাগুলো আমাদের মাঠ পর্যায়ের কাজের গতি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

মহাপরিচালক আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ের এই কাজগুলো নিখুঁত সমন্বয়ের ফলেই বাংলাদেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখতে পারছে। উদ্ভূত যেকোনো চ্যালেঞ্জ বা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় এবং আগামী দিনে ‘স্মার্ট কৃষি’ বিনির্মাণে কৃষি তথ্য সার্ভিসের প্রচার ও আইসিটি সক্ষমতা আরও জোরদার করা হবে, যা সামগ্রিক কৃষি খাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৪, ২০২৬ ৯:২৫ পূর্বাহ্ন
সাতক্ষীরায় আঙুর চাষে সফল কৃষক হেলাল উদ্দীন
কৃষি বিভাগ

বিদেশি ফল আঙুর চাষ করে সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কৃষি উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন। পেশায় ট্রাক ড্রাইভার ছিলেন হেলাল উদ্দীন (৪৫)। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা বাইপাস সড়কের বাসিন্দা জিন্নাত মোল্লার পুত্র।

হেলাল উদ্দীন শখের বশে আঙুর চাষ শুরু করলেও তা এখন পরিণত হয়েছে লাভজনক ব্যবসায়। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আঙুর চাষ করাটা অনেকটা অবাস্তব মনে হলেও তিনি তাতে সফল হয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশে আঙুর চাষ করলে তা টক হয় এমন প্রচলিত ধারণাকেও তিনি ভুল প্রমাণ করেছেন। আর তার এই কাজে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী আলেয়া বেগম।

সরজমিনে দেখা যায়, মাচার নিচে সারি সারি ঝুলে আছে থোকা থোকা আঙুর। সবুজ পাতার ফাঁকে কোথাও লাল, কোথাও কালো, কোথাও হলুদ, কোথাও আবার সবুজ রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো বাগান। দেখতে যেমন : অপরূপ সুন্দর, স্বাদেও তেমনি মিষ্টি।

হেলাল উদ্দীন জানান, তিন বছর আগে ইউটিউব দেখে শখের বশে বাড়ির আঙিনায় দুটি আঙুরের চারা রোপণ করেছিলেন। প্রথম বারেই সেখানে ভালো ফলন পাওয়ায় আঙুর চাষে তার আগ্রহ বাড়ে। দ্বিতীয় বছরেও ভালো ফলন পান। এরপরই সাতক্ষীরা শহরের বাইপাস এলাকায় ১৫ কাঠা জমিতে গড়ে তুলেছেন এই আঙুর বাগান। বর্তমানে তার বাগানে আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ইউক্রেন ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০ প্রজাতির আঙুর চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আঙুর চাষ করলে ফল টক হয় এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন হেলাল উদ্দিন।

সরেজমিনে দেখা যায়, হেলাল উদ্দীনের এই আঙুর বাগান দেখতে ভিড় করছেন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন আঙুর চাষের। হেলাল উদ্দিনের মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরে সাতক্ষীরায় কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্যও তৈরি হতে পারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।

হেলাল উদ্দীনের স্ত্রী আলেয়া বেগম জানান, প্রথমে ইউটিউব দেখে আমার স্বামী দুটি আঙুরের চারা দুই হাজার টাকা দিয়ে কিনে তা বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেছিলেন। এরপর আমি তাকে বকাবকি করেছিলাম, আঙুর কী বাংলাদেশে হয়? এত টাকা দিয়ে কেনার কী প্রয়োজন? তবে, আমার স্বামী এসময় আমাকে বলেন, দেখি না কী হয়। একপর্যায়ে কিছুদিন পর ওই গাছে ফল আসলে আমাদের ধারণাই পরিবর্তন হয়ে যায়। ওই ফল খুবই মিষ্টি এবং সুস্বাদু হয়। এরপর বাইপাসে ১৫ কাঠা জমিতে এই আঙুর বাগান করেছি। এই বাগানের বয়স ৯ মাস। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১২৬ টি গাছ রয়েছে। এখানে আমি আমার স্বামীর সাথে বাগান পরিচর্যা করি। মাশাল্লাহ, আমাদের বাগানে ভালো আঙুর হয়েছে এবং তা খুব মিষ্টি ও সুস্বাদু।

কৃষি উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দীন বলেন, আজ থেকে তিন বছর আগে শখের বশে বাড়ির আঙিনায় দুটি আঙুর গাছের চারা লাগাই। ওই চারা থেকে আমি ভালো ফলনও পাই। এরপর সিদ্ধান্ত নিই বাণিজ্যিকভাবে আঙুরের চাষ করবো। সেই ভাবনা থেকেই ৯ মাস আগে শহরের বাইপাস এলাকায় বছরে ১৫ হাজার টাকা করে দিয়ে ১৫ কাঠা জমি বর্গা (লিজ) নিয়ে আঙুর চাষ শুরু করি। সেখানে আমার মোট খরচ হয়েছিল প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। আল্লাহর রহমতে বর্তমানে আমার বাগানে আঙুরের যথেষ্ট ভালো ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে আঙুরের প্রথম চালান বিক্রি করে আমার খরচ উঠে গেছে। আঙুর চাষে প্রথম একবারই খরচ করতে হয়। এরপর গাছের পরিচর্যা ছাড়া আর কোনো খরচ নেই। এই গাছ ৪০ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে এবং ১২ মাস ফল দেয়।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে আঙুরের ফলন বেশি হয়। দেশের বর্তমান আবহাওয়ায় এই ফল চাষে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়েনি। তাই আমার মতো যে কেউ এখন বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করতে পারেন। আমার এখানে বর্তমানে কালো, লাল, সবুজ ও হলুদসহ ২০ প্রজাতির আঙুর গাছ রয়েছে। আমি আরো ১ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে সেখানে কাজ শুরু করেছি। সঠিক জাত নির্বাচন ও পরিচর্যার মাধ্যমে দেশীয় মাটিতেও উন্নত মানের মিষ্টি আঙুর উৎপাদন সম্ভব বলে জানান তিনি।

আঙুরের বাগান দেখতে আসা সাতক্ষীরা শহরের একরামুল ইসলাম জনি বলেন, সাতক্ষীরায় এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ হয়েছে। তাই আমার বন্ধু আবির হোসেনকে নিয়ে এই বাগানটি দেখতে এসেছি। বাগানটি দেখে খুবই ভালো লেগেছে আমাদের। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই বাগান থেকে কিছু চারা নিয়ে আঙুরের বাগান করবো। এখানে আঙুরের ভালো ফলন হয়েছে। আমরা খেয়েও দেখেছি, এখানকার আঙুর খুব মিষ্টি ও সুস্বাদু। কৃষি বিভাগ যদি আঙুর চাষীদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করে, তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এই আঙুর বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মনির হোসেন বলেন, আঙুর একটি নতুন ফসল হিসেবে সাতক্ষীরায় এর আবাদ শুরু হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার দুই জন কৃষক প্রাথমিকভাবে এই আঙুর চাষ শুরু করেছেন। এখানে ২০ থেকে ৮০ জাতের আঙুর চাষ হচ্ছে। আমাদের যে পতিত জমিগুলো রয়েছে সেখানে আঙুর চাষ করা গেলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

তিনি বলেন, জেলায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর উৎপাদন করতে পারলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলায় আঙুর বিক্রি করা যাবে। আবহাওয়া ও মাটির গুনগুনের ভিত্তিতে সাতক্ষীরার আম ও কুলের যেমন : স্বাদ রয়েছে, ঠিক তেমনি আঙুরের স্বাদ যদি আমরা একইভাবে আনতে পারি, তাহলে আঙুরেরও ব্যাপক চাহিদা থাকবে। সাতক্ষীরার পতিত জমিগুলো ব্যবহার করে আঙুর চাষ করা গেলে কৃষিতে আরো একধাপ উন্নতি হবে বলে আমি মনে করি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১০, ২০২৬ ৯:১৫ পূর্বাহ্ন
পটুয়াখালীতে কাঁঠাল চাষে পুষ্টি ও অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠালকে ঘিরে পটুয়াখালী জেলায় তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। পুষ্টিগুণে ভরপুর ও অর্থকরী এ ফলের চাষ দিন দিন কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির কারণে জেলায় কাঠাল চাষ সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া গেলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হতে পারবেন জেলার কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো. আমানুল ইসলাম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে বলেন, বর্তমানে জেলায় ৫২৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হয়েছে। এ বছর জেলায় মোট কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৬২ মেট্রিক টন। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন হচ্ছে ৮ দশমিক ৩ মেট্রিক টন।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে কাঁঠাল গাছের সংখ্যা ৪৭ হাজার ২৫০টি। জনসংখ্যা ২৭ লাখ ৫১ হাজার ১৫০ জন। সেই হিসেবে বছরে একজন মানুষের সম্ভাব্য কাঁঠালের চাহিদা ধরা হয়েছে ১০ কেজি। এতে জেলায় বছরে মোট কাঁঠালের চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ২৭ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন। অথচ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৪ হাজার ৩৬২ মেট্রিক টন। ফলে প্রতি বছর প্রায় ২৩ হাজার ১৪৯ মেট্রিক টন কাঁঠালের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

তবে এই ঘাটতিকেই সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষিবিদদের মতে, জেলার পতিত জমি, বসতভিটা ও রাস্তার পাশের খালি জায়গাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে কাঁঠাল গাছ রোপণ করা গেলে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

ড. মো. আমানুল ইসলাম বলেন, ‘কাঁঠাল শুধু সুস্বাদু ফলই নয়, এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক।

বর্তমানে বাজারে কাঠালের চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি কাঁঠালের চিপস, জুস ও প্রক্রিয়াজাত বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের বাজারও তৈরি হচ্ছে। তাই কৃষকদের এখন থেকেই বাণিজ্যিকভাবে কাঁঠাল চাষে আগ্রহী হওয়া প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘পটুয়াখালীর মাটি ও জলবায়ু কাঁঠাল চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও পরিচর্যা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।’

জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য অনেক ফলের তুলনায় কাঁঠাল গাছের পরিচর্যায় খরচ কম। একবার গাছ বড় হয়ে গেলে দীর্ঘদিন ফলন পাওয়া যায়। ফলে এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক ফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে বাড়ির পাশে কয়েকটি কাঁঠাল গাছ ছিল। এখন বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় নতুন করে আরও গাছ রোপণ করেছি। কাঁঠালের চাহিদা প্রতি বছর বাড়ছে।’

পুষ্টিবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঁঠাল মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং শরীরের পুষ্টি ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কৃষি বিভাগ মনে করছে, জাতীয় ফল হিসেবে কাঁঠালের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সচেতনতা ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন জরুরি। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে চারা বিতরণ, কৃষক প্রশিক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা গেলে পটুয়াখালীতে কাঁঠাল হতে পারে সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল।

সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কৃষকদের আগ্রহ বাড়লে আগামী কয়েক বছরে পটুয়াখালী জেলায় কাঁঠালের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এতে একদিকে যেমন জেলার পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে কৃষকদের আয়ও বাড়বে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২, ২০২৬ ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
নীলফামারীতে বোরো ধান সংগ্রহ শুরু
কৃষি বিভাগ

নীলফামারী জেলার সদর উপজেলায় আজ বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে খাদ্য বিভাগ। সোমবার বিকেলে নীলফামারী খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আলফারুক আব্দুল লতীফ।

এ সময় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সৈয়দ আতিকুল হক, উপজেলা খাদ্য নিযন্ত্রক মো. সোহেল রানা, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক আহমেদ, নীলফামারী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের মো. আব্দুর রহমান নামের এক কৃষকের কাছ থেকে ৩ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করে মূল্য পরিশোধ করা হয়।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সোহেল রানা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সদর উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে দুই হাজার চারশ’ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হযেছে। এজন্য লটারীর মাধ্যমে ৮৪৫ জন কৃষককে নির্বাচিত করা হয়েছে। লটারীতে নির্বাচিত প্রত্যেক কৃষক সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন করে ধান সরকারি খাদ্য গুদামে সরবরাহ করতে পারবেন। এ ছাড়া চলতি মৌসুমে মিল মালিকদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৭১ মেট্রিক টন চাল এবং ৭৭১ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৭, ২০২৬ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
নাটোরে অভ্যন্তরীণ খাদ্য শস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু
কৃষি বিভাগ

নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলায় আজ অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল এবং গম সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার উপজেলার বনপাড়া খাদ্যগুদামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের জাহাঙ্গীর, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মাহাবুবা পারভীন, উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সম্পাদক কিশোর কুন্ডু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ডালিম কাজী জানান, চলতি মৌসুমে বড়াইগ্রাম উপজেলায় চালকল মালিকদের কাছ থেকে ৪৯ টাকা কেজি দরে নয়হাজার ২৩৮ মেট্রিক টন বোরো চাল, প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ৩৬ টাকা দরে পাঁচশ’ মেট্রিক টন বোরো ধান এবং ৩৬ টাকা দরে ৮২০ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ সময় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, অভ্যন্তরীণ খাদ্য শস্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার ফলে কৃষকদের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি সরকারী গুদামে খাদ্য মজুত থাকায় অভ্যন্তরীণ বাজার মূল্য স্থিতিশীল থাকবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১১, ২০২৬ ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীতে ১৫ মে থেকে আম সংগ্রহ শুরু
কৃষি বিভাগ

রাজশাহী জেলায় চলতি মৌসুমে আগামী ১৫ মে থেকে আম সংগ্রহ শুরু হচ্ছে। এ দিন থেকে গুটি জাতের আম বাজারে আনা যাবে। এরপর ধাপে ধাপে জেলায় উৎপাদিত বিভিন্ন সুস্বাদু আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় আজ বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ সময় আমচাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ, ৩০ মে থেকে হিমসাগর বা খিরসাপাত বাজারজাত করা যাবে। এছাড়া ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও বানানা ম্যাংগো, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি সংগ্রহের অনুমতি থাকবে।

পরবর্তী ধাপে ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম নামানো যাবে। অন্যদিকে কাটিমন ও বারি আম-১১ জাতের আম সারা বছরই সংগ্রহ করা যাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় আরও জানানো হয়, কিছু গুটি আম আগেই পেকে যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে সেসব আম নির্ধারিত সময়ের আগেও সংগ্রহ করা যাবে।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, অপরিপক্ব আম বাজারে আসা ঠেকাতে এবং ভোক্তাদের নিরাপদ ও মানসম্মত আম নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে গাছ থেকে আম নামিয়ে বাজারজাত করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop