৮:৪২ পূর্বাহ্ন

শনিবার, ১৪ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ২০, ২০২২ ১২:০৮ অপরাহ্ন
বোরোর মজুদকৃত আট লাখ টন চাল মানহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা
কৃষি বিভাগ

খাদ্য অধিদপ্তর গত বছর বোরো মৌসুমে উৎপাদিত চাল সংগ্রহ করেছিল ১৪ লাখ টনের কিছু কম। এর মধ্যে আট লাখ টনের কাছাকাছি এখনো মজুদ অবস্থাতেই রয়ে গিয়েছে। খোদ খাদ্য অধিদপ্তর নিজেই এখন দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসব চাল মানহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে। এজন্য গত বছর সংগৃহীত বোরো চাল দ্রুত ছাড়করণের নির্দেশনা দিয়েছে অধিদপ্তর।

সারা দেশে চলতি বছরের বোরো মৌসুমের আবাদ কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। যদিও খাদ্য অধিদপ্তরের গত বছর সংগৃহীত বোরো চালের মজুদ এখনো অর্ধেকও ফুরায়নি। বোরো মৌসুমের চাল দীর্ঘদিন সংগ্রহে রাখা যায় না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে খাদ্য অধিদপ্তরকেও।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বোরো মৌসুমে চাল সংগৃহীত হয়েছিল প্রায় ১৩ লাখ ৮১ হাজার ৫৫২ টন। এর মধ্যে মিলারদের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬৩ টন। সর্বশেষ ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের এলএসডি ও সিএসডিগুলোয় এখনো গত বছর সংগ্রহ করা ৭ লাখ ৭০ হাজার ৮৬৯ টন বোরো চাল মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে সেদ্ধ চাল ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৫৭১ টন ও আতপ চাল ১২ হাজার ২৯৮ টন। বোরো চালের সবচেয়ে বেশি মজুদ রয়েছে রাজশাহীতে—১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫৩ টন। এরপর সবচেয়ে বেশি রয়েছে রংপুর বিভাগে। ওই বিভাগের গুদামগুলোয় এখনো ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৭ টন বোরো চালের মজুদ রয়ে গিয়েছে। খুলনা বিভাগে মজুুদ রয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৬ টন। এছাড়া ঢাকা বিভাগে ৮৭ হাজার ৩৩১ টন, ময়মনসিংহে ৭৭ হাজার ৩৯৬, চট্টগ্রামে ৮৬ হাজার ৩৬২, সিলেটে ২ হাজার ৭৪৯ ও বরিশালে ২০ হাজার ৯৪৫ টন বোরো চালের মজুদ রয়ে গিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা বেশি। এ ধরনের আবহাওয়া কীটপতঙ্গ জন্মানোর জন্য আদর্শ। দেশের গুদামগুলো বর্তমানে বেশ পুরনো হয়ে পড়েছে। এ কারণে এসব গুদামে পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেশি। পুরনো এসব খাদ্যগুদামে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের উপযুক্ত পরিবেশের অভাবও রয়েছে। আবার বোরো চালের সংরক্ষণ সক্ষমতা বেশ কম। ফলে দ্রুত বিতরণ করতে না পারলে এসব বোরো চাল দ্রুত মানহীন হয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের দ্রুত চাল ছাড় করার বিষয়ে চিঠি দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে সাবেক খাদ্য সচিব আবদুল লতিফ মন্ডল বলেন, দেশের গুদামের মান খুব বেশি ভালো না। আবহাওয়ার কারণে চালে দ্রুত পোকার আক্রমণ হয়। আবার আমাদের মজুদ ব্যবস্থাপনাও খুব বেশি উন্নত নয়। ফলে চার-ছয় মাসের বেশি মজুদ রাখা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। আবার চালের সংগ্রহের সময়ও চালের মান যাচাই-বাছাই করে নেয়া দরকার। সংগ্রহের সময়ে এমনিতেই বিভিন্ন চাপে মানহীন চাল নেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ফলে সে চাল বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না। নিশ্চিত মানহীনতার বিষয় যদি এসে যায় তাহলে বাজারে এ চাল দেয়া যৌক্তিক হবে না। তাই বোরো চালের এ মজুদ খালি করার উদ্যোগ আরো আগেই নেয়া প্রয়োজন ছিল। তাহলে বাজারে চালের দামও আরো নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। আবার দ্রুত গুদাম থেকে চাল ছাড় করতে গিয়ে যাতে গুদামই খালি না হয়ে যায়, সেটিও নজরে রাখতে হবে। অন্যথায় বাজারে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের উদ্দেশে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ মামুন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন মজুদের ফলে বোরো চালের গুণগতমান হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য এসব চাল সংরক্ষণে যথাযথ পরিচর্যার জন্য সংশ্লিষ্টদের অধিকতর যত্নবান হওয়া দরকার। এ পরিস্থিতিতে গুদামগুলোয় সংরক্ষিত বোরো/২১ চাল ওয়ারেন্টি অনুযায়ী বিভিন্ন খাতে বিলি-বিতরণ করে নিঃশেষ করা প্রয়োজন। যেসব জেলা বা বিভাগের এলএসডি ও সিএসডিগুলোয় গত বছরের বোরো চাল উদ্বৃত্ত রয়েছে, সেগুলো থেকে ঘাটতিতে থাকা জেলা বা বিভাগের এলএসডি-সিএসডিগুলোয় পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য অভ্যন্তরীণ সড়ক পরিবহন ঠিকাদার (আইআরটিসি), অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ঠিকাদার (আইবিসিসি), বিভাগীয় সড়ক পরিবহন ঠিকাদারের (ডিআরটিসি) মাধ্যমে যথাসময়ে সূচি জারি করে গত বছরের বোরো চাল পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্দেশনা অমান্য করে কোনো এলএসডি ও সিএসডি থেকে গত বছরের বোরো চালের পরিবর্তে সদ্য সংগৃহীত আমন চাল যাতে কোনো অবস্থাতেই বিলি-বিতরণ করা না হয়, সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিটরিং করবেন।

জানা গেছে, দেশের বেশির ভাগ গুদামেরই অবকাঠামো বেশ পুরনো। আবার দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক ব্যবস্থারও ঘাটতি রয়েছে। ফলে এসব খাদ্যগুদামে কীটের আক্রমণের শঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। আবার সংরক্ষণের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় আগেও বিভিন্ন সময়ে গুদামজাত খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে এখন খাদ্যশস্য মজুদের জন্য সনাতনী পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু হয়েছে। সেজন্য আধুনিক সাইলো তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব সাইলোয় খাদ্যশস্য মজুদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ থাকে। আবার কীটপতঙ্গ প্রতিরোধে স্থাপনা নির্মাণকালে ব্যবহার করা হচ্ছে বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন পদ্ধতি। তাছাড়া বাতাসের আর্দ্রতা ও উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত কারিগরি সক্ষমতার ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, প্রথাগত গুদাম ও চাল সংরক্ষণ ব্যবস্থার কারণে চালের মান ধরে রাখাটা একটু কঠিন। তবে চেষ্টা চলছে আধুনিক মানের গুদাম তৈরি করার। বেশকিছু আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির গুদাম নির্মাণাধীন রয়েছে। আবার আমন মৌসুমের জন্য চাল সংগ্রহ করতে হবে। এজন্য গত বছরের বোরো মৌসুমের সংগৃহীত চাল দ্রুত খালি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে বোরোর মজুদ খালি হলেও আমন মৌসুমের চাল দিয়ে সেটি দ্রুতই পূরণ করা সম্ভব হবে। ফলে মোট মজুদে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২০, ২০২২ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
গোপালগঞ্জে বাড়ছে সরিষার আবাদ
কৃষি বিভাগ

গোপালগঞ্জে এবার বেড়েছে সরিষার চাষ। খরচ কম আর লাভ বেশি হওয়ায়, সরিষা চাষে ঝুঁকছেন জেলার কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম হওয়ায়, গতবছরের তুলনায় এবার সরিষার ফলনও বেশি হবার আশা করছে কৃষি বিভাগ। 

যেদিকে চোখ যায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কেবলই সরিষার চাষ। এমন দৃশ্য গোপালগঞ্জের মাঠে-মাঠে। জেলা সদর, টুঙ্গিপাড়া, কাশিয়ানী, কোটালীপাড়া ও মুকসুদপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বারি ১৪ ও ১৮ জাতের সরিষা চাষ করেছেন কৃষকরা।

তারা জানান, সরিষা চাষে লাভ বেশি। এছাড়া একই জমিতে সরিষার পাশাপাশি মসুরি, মটরসহ অন্যান্য ফসলও ফলছে। তাই এবছর সরিষার আবাদ বেড়েছে।

সরিষা ক্ষেতের এই শোভা আরও বাড়িয়ে তুলেছে মৌমাছির দল। শীত মৌসুমে সরিষা ক্ষেতে বাণিজ্যিকভাবে মধুও চাষ করা হয়। হলুদের এই সমারোহ ঘুরে দেখতে আসছেন অনেকে।

গোপালগঞ্জ  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. অরবিন্দু কুমার রায় জানালেন, সরিষার চাষের অনুকূল পরিবেশ থাকায় এবার বাম্পার ফলন হবে।

এবছর গোপালগঞ্জে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৯, ২০২২ ৪:৫৫ অপরাহ্ন
বরিশাল এটিআই হতে কৃষিকথার ৫ শতাধিক গ্রাহক সংগ্রহ
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালের কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এটিআই) হতে মাসিক কৃষিকথার ৫ শতাধিক গ্রাহক সংগ্রহ করা হয়।

আজ ( বুধবার) প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হৃদয়েশ্বর দত্তের কাছ থেকে ৫ শ’ ১ জন গ্রাহকের অর্থ বাবদ ২১ হাজার ৪২ টাকা গ্রহণ করেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এটিআইর প্রশিক্ষক রুহুল আমিন, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. তাওহীদুল ইসলাম প্রমুখ।

এটিআইর অধ্যক্ষ বলেন, কৃষি প্রযুক্তি বিস্তারে কৃষিকথা পত্রিকা বেশ জনপ্রিয়। এর মাধ্যমে ঘরে বসে অনেক কিছু জানা যায়। তা মাঠে প্রয়োগ করে চাষিরা হতে পারেন লাভবান। শুধু তাই নয়, কৃষিবিদ এবং ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের কাছেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি গ্রাহকের এ ধারা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। উপজেলা কৃষি অফিসার পদে থাকাকালিন সময়েও তিনি যথেষ্ট গ্রাহক করেছিলেন।

উল্লেখ্য, কৃষিকথা কৃষি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা। ৮১ বছর ধরে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। দেশের সেরা কৃষিবিদদের লেখা এ পত্রিকায় স্থান পায়। বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। যেহেতু সরকারি পত্রিকা, তাই ভর্তূকি দিয়ে কৃষকদের সরবরাহ করা হয়। ডাকমাশুলসহ বছরে খরচ ৫০ টাকা। এজেন্ট হলে আরো কম। মাত্র ৪২ টাকা। ২০টি পত্রিকা হলেই এজেন্ট হওয়া যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৯, ২০২২ ৪:২৯ অপরাহ্ন
লালমাই পাহাড়ে কাজু বাদাম চাষ হচ্ছে
কৃষি বিভাগ

দামি ফল হিসেবে কাজু বাদামের পরিচিতি সবার কাছে। আমদানি নির্ভর এ ফলটি নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে। পাহাড়ে কাজু বাদাম চাষ বাড়তে দীর্ঘদিন কাজ করছেন সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল বাশার চৌধুরী। কথা হলে তিনি বলেন, পাহাড়ি মাটি, আবহাওয়া সবই কাজু বাদাম চাষের বিশেষ উপযোগী। তাছাড়া পরিচর্যা ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় অতিরিক্ত কোনো খরচ নেই। আর আগে দাম না পাওয়ার যে বিষয়টি ছিল সেটি এখন নেই।

বীজ থেকে চারা হয়। চারা লাগানোর তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ফল ধরে। ফেব্রুয়ারি-মার্চে ফুল ধরে। ফল সংগ্রহ করা হয় মে মাসে। রোগ-বালাইও কম। আর একটি গাছে জাতভেদে ৪ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত বাদাম হয়। সাধারণত পেকে নিচে পড়ে গেলে সংগ্রহ করে শুকানো হয়। আর শুকালে ১ বছর রাখা সম্ভব। কৃষি কর্মকর্তাদের আশাবাদ- কৃষকরা আন্তরিক পরিচর্যা করলে এখানে ভালো কাজু বাদাম উৎপন্ন হবে। লালমাই পাহাড়ে কাজু বাদামের চাষ বাড়লে দেশের কাজু বাদামের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবে।

কৃষি অফিসের সূত্র মতে, কুমিল্লার আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলায় কাজু বাদামের চাষ হচ্ছে। তার মধ্যে আদর্শ সদরে তিনটি স্থানে। সদর দক্ষিণে তথা লালমাই পাহাড় এলাকায় আটটি স্থানে কাজু বাদামের চাষ করা হচ্ছে। গত বছরের জুলাইতে এ বাদামের চাষ শুরু করা হয়।

সরেজমিন লালমাই পাহাড়ের বড় ধর্মপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের ঢালুতে কাজু বাদামের গাছের সারি। শ্রমিকরা আগাছা পরিষ্কার করছেন। গাছের গ্রোথও ভালো। এ বাগানের উদ্যোক্তা তারিকুল ইসলাম মজুমদার বলেন, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা কাজু বাদাম চাষ করছি। ফসলের অবস্থা ভালো। লালমাই পাহাড় এ ফসলের উপযোগী।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, লালমাই পাহাড়ে কাজু বাদাম চাষ পরিদর্শন করেছি। ফসলের অবস্থা ভালো। কৃষকরা আন্তরিক পরিচর্যা করলে এখানে ভালো কাজু বাদাম উৎপন্ন হবে। লালমাই পাহাড়ে চাষ বাড়লে দেশে কাজু বাদামের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৯, ২০২২ ৪:০১ অপরাহ্ন
বোরো চাষে ব্যাপক সাড়া, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত জমিতে চাষাবাদ
কৃষি বিভাগ

মৌসুমের শুরুতেই মৌলভীবাজারে দেশের বৃহত্তম হাওর পাড়ে বোরো চাষে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে হাইব্রিড জাতের ধানবীজ সরবরাহ করেছে কৃষি বিভাগ।

জেলার হাওর পাড়ের যেদিকে চোখ যায় শুধু বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে বোরো চাষাবাদ। আবহাওয়া চাষের অনুকূলে থাকায় ও সঠিক সময়ে মনু নদী প্রকল্পভুক্ত জমিতে পানি সরবরাহের ফলে জেলার সবকটি হাওরে ব্যাপকভাবে আবাদ শুরু করেছেন কৃষকরা। শীতের কনকনে ঠাণ্ডাকে উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফসলি জমি প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত তারা।

এদিকে হাওরে অধিক ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে জেলার ৩৫ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে সার-বীজসহ অন্যান্য উপাদান বিতরণ করে কৃষি বিভাগ।

এনামুল হোসাইন নামে এক কৃষক বলেন, গত বছর ১৫ থেকে ২০ গ্রামের আমরা হাজার হাজার কৃষক চাষাবাদ করতে পারি নাই। তবে এ বছর সব কৃষক চাষাবাদের উদ্যোগ নিয়েছে।

এতে ভালো ফলন নিয়ে আশাবাদী হলেও শ্রমিকের অধিক মজুরি ও কৃষি উপকরণের বাড়তি দামে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা।

ফখরুল ইসলাম নামে এক কৃষক বলেন, বর্তমানে সব কৃষি সরঞ্জামের দাম বেশি। যেমন, ডিজেলের দাম ৬৫ টাকা কিন্তু আমাদের গ্রামের বাজার থেকে কিনতে আনতে হয় ৮৫ টাকা করে। তার উপর সার এবং কীটনাশকের দাম বেশি। সরকার যদি কৃষকদের কথা চিন্তা করে এই কৃষিপণ্যের দাম কমিয়ে দেয় তাহলে কৃষকরা।

বোরো চাষে অঞ্চলের কৃষকদের সার্বিক সহায়তার কথা জানায় মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কাজী লুৎফর বারী।

তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ বিনামূল্যে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কৃষককে বীজ এবং সার দেওয়া হয়েছে। যার ফলে কৃষকরা চাষাবাদে অনুপ্রাণিত হয়েছে। এ ছাড়া আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অত্যন্ত উদ্দীপনার সঙ্গে রোপণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি, ৫৬ হাজার ৮০০ হেক্টর তার চেয়ে বেশি ছাড়িয়ে যাবে।

কৃষি অধিদফতরের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি বছর জেলায় ৫৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা থেকে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৭২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের আশা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৯, ২০২২ ২:৩৫ অপরাহ্ন
মেঘনার জেগে ওঠা চরে স্বপ্ন বুনছেন কৃষক
কৃষি বিভাগ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহনের মেঘনা নদীর জেগে ওঠা চরে সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। শীত মৌসুমে শশা, করল্লা, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, শিম, খিরা, মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করছেন চরের বুকে।

নিজেদের মেধা এবং চাষাবাদের কৌশল কাজে লাগিয়ে তারা ফসল উৎপাদন করে যাচ্ছেন। তবে সঠিক পরামর্শ এবং চাষাবাদে পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা পেলে চরের বুকে সবজি চাষে বিপ্লব ঘটতো বলে মনে করেন কৃষকরা।

সরেজমিনে চররমনী মোহনের মজুচৌধুরী হাটের পশ্চিম এবং দক্ষিণের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরগুলো ঘুরে সবজি আবাদের চিত্র দেখা গেলেও অনেক জমি অনাবাদিও দেখা গেছে।

কৃষকরা জানায়, মেঘনার বুকে বেশ কয়েকটি চর জেগে ওঠেছে। মূল ভূ-খণ্ড থেকে চরগুলো বিচ্ছিন্ন। চরের মাটি এবং আবহাওয়া সবজি আবাদের জন্য বেশ উপযোগী। ওইসব চরের কিছু অংশ জুড়ে সবজির চাষ করা হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ অংশই অনাবাদি রয়ে গেছে। সবজি চাষ করতে হলে লাখ লাখ টাকার প্রয়োজন। টাকার জোগান না থাকায় চরের পুরো জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানায় চাষিরা।

তারা বলেন, মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী সবজি চাষ করতে হয়। অনেক কৃষকের মাটির গুণাগুণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ নিয়ে সবজি আবাদে আরও বেশি উৎসাহিত হতো।

মো. জসিম উদ্দিন নামে এক সবজি চাষি জানান, তিন গত ৮ বছর থেকে চরের জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে আসছেন। নিজস্ব পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি চাষাবাদে সাফল্য পেয়েছেন। বর্তমানে চার একর জমিতে তিনি শশা এবং চিচিঙ্গার চাষ করেছেন। ৬ মাসে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে তিনি ৫ লাখ টাকার শশা বিক্রি করেছেন। চিচিঙ্গা বিক্রি করেছেন প্রায় এক লাখ টাকার। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পুরো মৌসুমে ২০ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন তিনি।

জসিম তিন একরের আরেকটি জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। এখান থেকে ৫ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করার আশা প্রকাশ করছেন তিনি।

তিনি বলেন, পুরো চরে ১৫-২০ জন কৃষক বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছেন। মাঝে মধ্যে ক্ষতির সম্মুখীন হলেও ফলন ভালো হলে এবং ন্যায্য দাম পেলে ক্ষতিও পুষিয়ে আসে। তবে বেশিরভাগ কৃষক টাকার অভাবে স্বল্প পরিসরে চাষাবাদ করছেন।

এদিকে বিগত ৪/৫ বছর থেকে এ চরগুলোতে সবজি চাষ হলেও বিষয়টি অনেকটা অজানা স্থানীয় কৃষিবিভাগের কাছে।

জানতে চাইলে চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ব্লকের দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ক্লিনটন দাস বলেন, নদীর বিচ্ছিন্ন চরে সবজির আবাদ হচ্ছে- সেটা আমি জানতাম না। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৯, ২০২২ ১:৪৪ অপরাহ্ন
দেশে ২০ লাখ টন খাদ্য মজুত আছে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

খাদ্যের মজুত এখন যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘দেশে এখন মোট ২০ লাখ টন খাদ্য মজুত আছে। এর মধ্যে চাল ১৭ লাখ টন।’

বুধবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ডিসিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ব্যে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে মনিটরিং বাড়াতে ডিসিদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) গণবভন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৯, ২০২২ ১২:৪৬ অপরাহ্ন
বোরো মৌসুমের ১০টি ধানের জাত অনুমোদন
কৃষি বিভাগ

বোরো মৌসুমে আবাদের জন্য ধানের ১০টি জাতের নিবন্ধন ও ছাড়করণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত দুটি ইনব্রিড, বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত একটি ইনব্রিড, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ছয়টি হাইব্রিড ধানের জাত রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্র্যাক উদ্ভাবিত একটি ইনব্রিড জাতের নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। ধানের ১০টি জাতই উচ্চফলনশীল হলে কিছু জাত পুষ্টিসমৃদ্ধ ও রোগ প্রতিরোধী জাত রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষি সচিব ও জাতীয় বীজ বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১০৬তম সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।

কৃষি সচিব বলেন, হাইব্রিডের ফলন বেশি। স্বল্প জমি থেকে বেশি উৎপাদনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় এখন হাইব্রিডের জাত উদ্ভাবন ও আবাদ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ২১৮টি জাতের নিবন্ধন হয়েছে। এখন থেকে আরো মানসম্পন্ন ও দীর্ঘ সময় ধরে কৃষককে লাভবান করবে, এমন জাত নিবন্ধনে গুরুত্ব দেয়া হবে।

ব্রি উদ্ভাবিত ছাড়কৃত ব্রিধান১০১ ব্যাকটেরিয়াজনিত পোড়া রোগ প্রতিরোধী এবং ব্রিধান১০২ জিংক সমৃদ্ধ। ট্রায়ালে ব্রিধান১০১-এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭ দশমিক ৭২ টন, আর ব্রিধান১০২-এর ৮ দশমিক ১১ টন। পৃষ্টি সমৃদ্ধ ব্রিধান১০২ ধানে জিংকের পরিমাণ ২৫ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম প্রতি কেজি। বিনা উদ্ভাবিত বিনা ধান২৫ ট্রায়ালে গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭ দশমিক ৬৪ টন পাওয়া গেছে। এটির চাল অতি লম্বা ও সরু, ভাত সাদা, ঝরঝরে ও সুস্বাদু। জীবনকাল ১৪৫ দিন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্র্যাক উদ্ভাবিত ব্র্যাক ধান২-এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭ দশমিক ৩৬ টন। দানা চিকন, সুগন্ধযুক্ত ও আগাম জাত। জীবনকাল ১৩৯ দিন। এছাড়া বেসরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ছয়টি হাইব্রিড ধানের ফলাফল পুনরায় পর্যালোচনা করে নিবন্ধন দেয়া হয়েছে।

গতকালের সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (বীজ) আব্দুল্লাহ সাজ্জাদ এনডিসি, অতিরিক্ত সচিব কমলারঞ্জন দাশ, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো. বখতিয়ার, বিএডিসির চেয়ারম্যান এএফএম হায়াতুল্লাহ, ব্রির মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর, বিনার মহাপরিচালক মির্জা মোফাজ্জল ইসলামসহ জাতীয় বীজ বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৯, ২০২২ ১২:০৭ অপরাহ্ন
সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে কাটারীভোগ ধান
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কাটারীভোগ ধান উৎপাদন করে কৃষকেরা আগে লাভের মুখ না দেখলেও এবারে বদলে গেছে সেই চিত্র। বিক্রি হচ্ছে স্মরণকালের সর্বোচ্চ দামে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়িরা বলছেন, সারাদেশে কদর থাকা সত্বেও দাম কম পাওয়ায় কৃষকরা কাটারীভোগ ধানের আবাদ কমিয়ে দিয়েছিলো। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমায় বেড়েছে দাম। তবে এবারে ভালো দাম পাওয়ায় আগামীতে আবাদ বাড়বে বলে জানালেন কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

ধানের জেলা দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কাটারী ভোগ চালের সুখ্যাতি দেশ জুড়েই। কিন্তু খ্যাতি ও চাহিদা থাকলেও এই ধান আবাদ করে কৃষকদের গুনতে হয়েছে লোকসান। অন্যান্য ধানের তুলনায় ফলন কম হওয়ার পাশাপাশি ভালো দাম না পাওয়ায় কাটারী ভোগ ধানের আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন কৃষকরা।

কিন্তু বাজারে এবার স্মরণকালের সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে কাটারী ভোগ ধান। গতবছর ৭৫ কেজির বস্তা সর্বোচ্চ ৩২’শ থেকে ৩৩’শ টাকায় বিক্রি হলেও এবার দাম উঠেছে ৫ হাজার টাকায়। কৃষকরা জানান, এমন দাম তারা কখনই পাননি। তাই আগামীতে বেশী করে কাটারী ভোগ ধানের আবাদ করবেন বলে জানালেন তারা।

ধান ব্যবসায়ীরা জানালেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার কারনেই বেড়েছে কাটারী ভোগ ধানের দাম।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির  সহ-সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম বলছেন, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে কৃষকরা কাটারী ভোগ ধানের আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন। আগের তুলনায় এই ধানের উৎপাদন চার ভাগের একভাগে নেমে এসেছে।

কাটারী ভোগ ধানের আবাদ কমে আসার কথা স্বীকার করে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মাহবুবুর রশিদ জানালেন, এর আবাদ বাড়াতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এতে ফলন বাড়বে, লাভবান হবেন কৃষকরা।

দিনাজপুর জেলায় এবার ২ লাখ ৬০ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করা হয়। এর মধ্যে সুগন্ধিযুক্ত ধানের আবাদ হয়েছে ৮৩ হাজার ৮৫১ হেক্টর জমিতে। আর, কাটারী ভোগ ধানের আবাদ করা হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩৭৬ হেক্টর জমিতে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৮, ২০২২ ৫:০৫ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ে কমেছে গমের আবাদ
কৃষি বিভাগ

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিবছরই কমছে গমের আবাদ। গম উৎপাদনের জেলা হিসেবে সারাদেশে খ্যাতি থাকলেও এখন এ জেলায় কমেছে ফসলটির আবাদ। কৃষকরা জানান, প্রতিবছর লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের। এতে গম ছেড়ে অন্য ফসলের দিকে ঝুকছেন তারা। ২০২১-২২ মৌসুমেও গম চাষের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়নি। ফলে কৃষকদের গম চাষে ফেরানোর চেষ্টা করছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও জেলায় ৫ বছরে গম চাষ কমেছে ২০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে। এই জেলায় ২০১৬-১৭ সালে ৬৭ হাজার ৮২০ হেক্টর, ২০১৭-১৮ সালে ৬১ হাজার হেক্টর, ২০১৮-১৯ সালে ৫০ হাজার ২২০ হেক্টর, ২০১৯-২০ সালে ৫০ হাজার ৬৫০ হেক্টর, ২০২০-২১ সালে ৪৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর, ২০২১-২২ সালে ৪৫ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে গম চাষ করেন কৃষকরা।

সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের খোচাবাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এক সময় যেসব জমিতে কৃষকেরা গম চাষ করতেন ওই সব জমিতে এখন ভুট্টা, মরিচ, আলুসহ লাভজনক ফসল চাষে ঝুঁকছেন গমচাষিরা।

জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বিলপাড়া গ্রামের রহিম উদ্দিন বলেন, ‘এক কাঠা জমিতে গমের আবাদে খরচ পড়ে ৯০০ টাকা। আবার ওই এক কাঠা জমিতে আলু বিক্রি করে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। তাই গম চাষ বাদ দিয়েছি।’

সদর উপজেলার গম চাষি গণি মিয়া অভিযোগ করেন, ‘সরকারের গম সংগ্রহের সময় কৃষকেরা সরকারি গোডাউনে গম দিতে পারে না। সরকার গমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করলেও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের জন্য কৃষকেরা এর সুফল পায় না। তাই গম চাষে আগ্রহ তেমন নাই।’

গাঙ্গর এলাকার চাষি নুর ইসলাম বলেন, ‘বাজারে গমের ভালো বীজ পাওয়া যায় না।’

বিএডিসি চুক্তিবদ্ধ বীজ ডিলার ও ঠাকুরগাঁও শহরের মা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রফিকুজ্জামান বলেন, ‘গমের বীজ গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কম বিক্রি হচ্ছে। যে ফসলে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন সেই ফসলই বেশি আবাদ করছেন। এতে করে আমরা ডিলাররাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু হোসেন বলেন, ‘এ বছর জেলায় ৪৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে। ফলে ২০২১-২২ মৌসুমেও গম চাষের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়নি। আমরা কৃষকদের গম চাষে ফেরানোর জন্য চেষ্টা করছি।’

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop