৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ১৯, ২০২২ ৪:০১ অপরাহ্ন
বোরো চাষে ব্যাপক সাড়া, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত জমিতে চাষাবাদ
কৃষি বিভাগ

মৌসুমের শুরুতেই মৌলভীবাজারে দেশের বৃহত্তম হাওর পাড়ে বোরো চাষে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে হাইব্রিড জাতের ধানবীজ সরবরাহ করেছে কৃষি বিভাগ।

জেলার হাওর পাড়ের যেদিকে চোখ যায় শুধু বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে বোরো চাষাবাদ। আবহাওয়া চাষের অনুকূলে থাকায় ও সঠিক সময়ে মনু নদী প্রকল্পভুক্ত জমিতে পানি সরবরাহের ফলে জেলার সবকটি হাওরে ব্যাপকভাবে আবাদ শুরু করেছেন কৃষকরা। শীতের কনকনে ঠাণ্ডাকে উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফসলি জমি প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত তারা।

এদিকে হাওরে অধিক ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে জেলার ৩৫ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে সার-বীজসহ অন্যান্য উপাদান বিতরণ করে কৃষি বিভাগ।

এনামুল হোসাইন নামে এক কৃষক বলেন, গত বছর ১৫ থেকে ২০ গ্রামের আমরা হাজার হাজার কৃষক চাষাবাদ করতে পারি নাই। তবে এ বছর সব কৃষক চাষাবাদের উদ্যোগ নিয়েছে।

এতে ভালো ফলন নিয়ে আশাবাদী হলেও শ্রমিকের অধিক মজুরি ও কৃষি উপকরণের বাড়তি দামে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা।

ফখরুল ইসলাম নামে এক কৃষক বলেন, বর্তমানে সব কৃষি সরঞ্জামের দাম বেশি। যেমন, ডিজেলের দাম ৬৫ টাকা কিন্তু আমাদের গ্রামের বাজার থেকে কিনতে আনতে হয় ৮৫ টাকা করে। তার উপর সার এবং কীটনাশকের দাম বেশি। সরকার যদি কৃষকদের কথা চিন্তা করে এই কৃষিপণ্যের দাম কমিয়ে দেয় তাহলে কৃষকরা।

বোরো চাষে অঞ্চলের কৃষকদের সার্বিক সহায়তার কথা জানায় মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কাজী লুৎফর বারী।

তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ বিনামূল্যে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কৃষককে বীজ এবং সার দেওয়া হয়েছে। যার ফলে কৃষকরা চাষাবাদে অনুপ্রাণিত হয়েছে। এ ছাড়া আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অত্যন্ত উদ্দীপনার সঙ্গে রোপণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি, ৫৬ হাজার ৮০০ হেক্টর তার চেয়ে বেশি ছাড়িয়ে যাবে।

কৃষি অধিদফতরের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি বছর জেলায় ৫৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা থেকে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৭২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের আশা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৯, ২০২২ ২:৩৫ অপরাহ্ন
মেঘনার জেগে ওঠা চরে স্বপ্ন বুনছেন কৃষক
কৃষি বিভাগ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহনের মেঘনা নদীর জেগে ওঠা চরে সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। শীত মৌসুমে শশা, করল্লা, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, শিম, খিরা, মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করছেন চরের বুকে।

নিজেদের মেধা এবং চাষাবাদের কৌশল কাজে লাগিয়ে তারা ফসল উৎপাদন করে যাচ্ছেন। তবে সঠিক পরামর্শ এবং চাষাবাদে পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা পেলে চরের বুকে সবজি চাষে বিপ্লব ঘটতো বলে মনে করেন কৃষকরা।

সরেজমিনে চররমনী মোহনের মজুচৌধুরী হাটের পশ্চিম এবং দক্ষিণের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরগুলো ঘুরে সবজি আবাদের চিত্র দেখা গেলেও অনেক জমি অনাবাদিও দেখা গেছে।

কৃষকরা জানায়, মেঘনার বুকে বেশ কয়েকটি চর জেগে ওঠেছে। মূল ভূ-খণ্ড থেকে চরগুলো বিচ্ছিন্ন। চরের মাটি এবং আবহাওয়া সবজি আবাদের জন্য বেশ উপযোগী। ওইসব চরের কিছু অংশ জুড়ে সবজির চাষ করা হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ অংশই অনাবাদি রয়ে গেছে। সবজি চাষ করতে হলে লাখ লাখ টাকার প্রয়োজন। টাকার জোগান না থাকায় চরের পুরো জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানায় চাষিরা।

তারা বলেন, মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী সবজি চাষ করতে হয়। অনেক কৃষকের মাটির গুণাগুণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ নিয়ে সবজি আবাদে আরও বেশি উৎসাহিত হতো।

মো. জসিম উদ্দিন নামে এক সবজি চাষি জানান, তিন গত ৮ বছর থেকে চরের জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে আসছেন। নিজস্ব পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি চাষাবাদে সাফল্য পেয়েছেন। বর্তমানে চার একর জমিতে তিনি শশা এবং চিচিঙ্গার চাষ করেছেন। ৬ মাসে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে তিনি ৫ লাখ টাকার শশা বিক্রি করেছেন। চিচিঙ্গা বিক্রি করেছেন প্রায় এক লাখ টাকার। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পুরো মৌসুমে ২০ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন তিনি।

জসিম তিন একরের আরেকটি জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। এখান থেকে ৫ লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করার আশা প্রকাশ করছেন তিনি।

তিনি বলেন, পুরো চরে ১৫-২০ জন কৃষক বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছেন। মাঝে মধ্যে ক্ষতির সম্মুখীন হলেও ফলন ভালো হলে এবং ন্যায্য দাম পেলে ক্ষতিও পুষিয়ে আসে। তবে বেশিরভাগ কৃষক টাকার অভাবে স্বল্প পরিসরে চাষাবাদ করছেন।

এদিকে বিগত ৪/৫ বছর থেকে এ চরগুলোতে সবজি চাষ হলেও বিষয়টি অনেকটা অজানা স্থানীয় কৃষিবিভাগের কাছে।

জানতে চাইলে চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ব্লকের দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ক্লিনটন দাস বলেন, নদীর বিচ্ছিন্ন চরে সবজির আবাদ হচ্ছে- সেটা আমি জানতাম না। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৯, ২০২২ ১:৪৪ অপরাহ্ন
দেশে ২০ লাখ টন খাদ্য মজুত আছে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

খাদ্যের মজুত এখন যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘দেশে এখন মোট ২০ লাখ টন খাদ্য মজুত আছে। এর মধ্যে চাল ১৭ লাখ টন।’

বুধবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ডিসিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ব্যে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে মনিটরিং বাড়াতে ডিসিদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) গণবভন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৯, ২০২২ ১২:৪৬ অপরাহ্ন
বোরো মৌসুমের ১০টি ধানের জাত অনুমোদন
কৃষি বিভাগ

বোরো মৌসুমে আবাদের জন্য ধানের ১০টি জাতের নিবন্ধন ও ছাড়করণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত দুটি ইনব্রিড, বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত একটি ইনব্রিড, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ছয়টি হাইব্রিড ধানের জাত রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্র্যাক উদ্ভাবিত একটি ইনব্রিড জাতের নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। ধানের ১০টি জাতই উচ্চফলনশীল হলে কিছু জাত পুষ্টিসমৃদ্ধ ও রোগ প্রতিরোধী জাত রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষি সচিব ও জাতীয় বীজ বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১০৬তম সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।

কৃষি সচিব বলেন, হাইব্রিডের ফলন বেশি। স্বল্প জমি থেকে বেশি উৎপাদনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় এখন হাইব্রিডের জাত উদ্ভাবন ও আবাদ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ২১৮টি জাতের নিবন্ধন হয়েছে। এখন থেকে আরো মানসম্পন্ন ও দীর্ঘ সময় ধরে কৃষককে লাভবান করবে, এমন জাত নিবন্ধনে গুরুত্ব দেয়া হবে।

ব্রি উদ্ভাবিত ছাড়কৃত ব্রিধান১০১ ব্যাকটেরিয়াজনিত পোড়া রোগ প্রতিরোধী এবং ব্রিধান১০২ জিংক সমৃদ্ধ। ট্রায়ালে ব্রিধান১০১-এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭ দশমিক ৭২ টন, আর ব্রিধান১০২-এর ৮ দশমিক ১১ টন। পৃষ্টি সমৃদ্ধ ব্রিধান১০২ ধানে জিংকের পরিমাণ ২৫ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম প্রতি কেজি। বিনা উদ্ভাবিত বিনা ধান২৫ ট্রায়ালে গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭ দশমিক ৬৪ টন পাওয়া গেছে। এটির চাল অতি লম্বা ও সরু, ভাত সাদা, ঝরঝরে ও সুস্বাদু। জীবনকাল ১৪৫ দিন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্র্যাক উদ্ভাবিত ব্র্যাক ধান২-এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭ দশমিক ৩৬ টন। দানা চিকন, সুগন্ধযুক্ত ও আগাম জাত। জীবনকাল ১৩৯ দিন। এছাড়া বেসরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ছয়টি হাইব্রিড ধানের ফলাফল পুনরায় পর্যালোচনা করে নিবন্ধন দেয়া হয়েছে।

গতকালের সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (বীজ) আব্দুল্লাহ সাজ্জাদ এনডিসি, অতিরিক্ত সচিব কমলারঞ্জন দাশ, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো. বখতিয়ার, বিএডিসির চেয়ারম্যান এএফএম হায়াতুল্লাহ, ব্রির মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর, বিনার মহাপরিচালক মির্জা মোফাজ্জল ইসলামসহ জাতীয় বীজ বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৯, ২০২২ ১২:০৭ অপরাহ্ন
সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে কাটারীভোগ ধান
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কাটারীভোগ ধান উৎপাদন করে কৃষকেরা আগে লাভের মুখ না দেখলেও এবারে বদলে গেছে সেই চিত্র। বিক্রি হচ্ছে স্মরণকালের সর্বোচ্চ দামে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়িরা বলছেন, সারাদেশে কদর থাকা সত্বেও দাম কম পাওয়ায় কৃষকরা কাটারীভোগ ধানের আবাদ কমিয়ে দিয়েছিলো। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমায় বেড়েছে দাম। তবে এবারে ভালো দাম পাওয়ায় আগামীতে আবাদ বাড়বে বলে জানালেন কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

ধানের জেলা দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কাটারী ভোগ চালের সুখ্যাতি দেশ জুড়েই। কিন্তু খ্যাতি ও চাহিদা থাকলেও এই ধান আবাদ করে কৃষকদের গুনতে হয়েছে লোকসান। অন্যান্য ধানের তুলনায় ফলন কম হওয়ার পাশাপাশি ভালো দাম না পাওয়ায় কাটারী ভোগ ধানের আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন কৃষকরা।

কিন্তু বাজারে এবার স্মরণকালের সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে কাটারী ভোগ ধান। গতবছর ৭৫ কেজির বস্তা সর্বোচ্চ ৩২’শ থেকে ৩৩’শ টাকায় বিক্রি হলেও এবার দাম উঠেছে ৫ হাজার টাকায়। কৃষকরা জানান, এমন দাম তারা কখনই পাননি। তাই আগামীতে বেশী করে কাটারী ভোগ ধানের আবাদ করবেন বলে জানালেন তারা।

ধান ব্যবসায়ীরা জানালেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার কারনেই বেড়েছে কাটারী ভোগ ধানের দাম।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির  সহ-সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম বলছেন, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে কৃষকরা কাটারী ভোগ ধানের আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন। আগের তুলনায় এই ধানের উৎপাদন চার ভাগের একভাগে নেমে এসেছে।

কাটারী ভোগ ধানের আবাদ কমে আসার কথা স্বীকার করে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মাহবুবুর রশিদ জানালেন, এর আবাদ বাড়াতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এতে ফলন বাড়বে, লাভবান হবেন কৃষকরা।

দিনাজপুর জেলায় এবার ২ লাখ ৬০ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করা হয়। এর মধ্যে সুগন্ধিযুক্ত ধানের আবাদ হয়েছে ৮৩ হাজার ৮৫১ হেক্টর জমিতে। আর, কাটারী ভোগ ধানের আবাদ করা হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩৭৬ হেক্টর জমিতে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৮, ২০২২ ৫:০৫ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ে কমেছে গমের আবাদ
কৃষি বিভাগ

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিবছরই কমছে গমের আবাদ। গম উৎপাদনের জেলা হিসেবে সারাদেশে খ্যাতি থাকলেও এখন এ জেলায় কমেছে ফসলটির আবাদ। কৃষকরা জানান, প্রতিবছর লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের। এতে গম ছেড়ে অন্য ফসলের দিকে ঝুকছেন তারা। ২০২১-২২ মৌসুমেও গম চাষের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়নি। ফলে কৃষকদের গম চাষে ফেরানোর চেষ্টা করছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও জেলায় ৫ বছরে গম চাষ কমেছে ২০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে। এই জেলায় ২০১৬-১৭ সালে ৬৭ হাজার ৮২০ হেক্টর, ২০১৭-১৮ সালে ৬১ হাজার হেক্টর, ২০১৮-১৯ সালে ৫০ হাজার ২২০ হেক্টর, ২০১৯-২০ সালে ৫০ হাজার ৬৫০ হেক্টর, ২০২০-২১ সালে ৪৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর, ২০২১-২২ সালে ৪৫ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে গম চাষ করেন কৃষকরা।

সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের খোচাবাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এক সময় যেসব জমিতে কৃষকেরা গম চাষ করতেন ওই সব জমিতে এখন ভুট্টা, মরিচ, আলুসহ লাভজনক ফসল চাষে ঝুঁকছেন গমচাষিরা।

জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বিলপাড়া গ্রামের রহিম উদ্দিন বলেন, ‘এক কাঠা জমিতে গমের আবাদে খরচ পড়ে ৯০০ টাকা। আবার ওই এক কাঠা জমিতে আলু বিক্রি করে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। তাই গম চাষ বাদ দিয়েছি।’

সদর উপজেলার গম চাষি গণি মিয়া অভিযোগ করেন, ‘সরকারের গম সংগ্রহের সময় কৃষকেরা সরকারি গোডাউনে গম দিতে পারে না। সরকার গমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করলেও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের জন্য কৃষকেরা এর সুফল পায় না। তাই গম চাষে আগ্রহ তেমন নাই।’

গাঙ্গর এলাকার চাষি নুর ইসলাম বলেন, ‘বাজারে গমের ভালো বীজ পাওয়া যায় না।’

বিএডিসি চুক্তিবদ্ধ বীজ ডিলার ও ঠাকুরগাঁও শহরের মা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রফিকুজ্জামান বলেন, ‘গমের বীজ গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কম বিক্রি হচ্ছে। যে ফসলে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন সেই ফসলই বেশি আবাদ করছেন। এতে করে আমরা ডিলাররাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু হোসেন বলেন, ‘এ বছর জেলায় ৪৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে। ফলে ২০২১-২২ মৌসুমেও গম চাষের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়নি। আমরা কৃষকদের গম চাষে ফেরানোর জন্য চেষ্টা করছি।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৮, ২০২২ ৩:৪৪ অপরাহ্ন
বরেন্দ্রের মাঠজুড়ে শুধুই রবিশস্য
কৃষি বিভাগ

রাজশাহীর তানোর উপজেলার একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চল একটি গ্রামের নাম গৌরাঙ্গাপুর। এ গৌরাঙ্গাপুর মৌজার প্রায় ৩০০ একর উঁচু-নিচু ঢেউ খেলানো বরেন্দ্রের পটভূমি। পুরো মৌজা জুড়ে চাষ হয়েছে রবিশস্য। কেউ পেঁয়াজ, রসুন, আবার কেউ বা গম, সরিষা, মসুর ও ছোলা চাষাবাদ করছেন।

অন্যদিকে একই উপজেলা পাঁচন্দর ইউপি, কলমা, তালান্দ, সরমজাই ও চান্দুরিয়া ইউনিয়নের মাঠগুলোতে যতদূর চোখ যায় শুধু আলুতে ভরপুর।

বরিশস্যর এমন চিত্র শুধু তানোর উপজেলার মাঠই নয়, চলতি মৌসুমে বরেন্দ্র অঞ্চলের হাজার হাজার মাঠে রবিশস্য চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা।

বরেন্দ্র অঞ্চলে এক দশকের বেশি সময় ধরে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নীচে নেমে যাচ্ছে। এ কারণে কৃষিতে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। বরেন্দ্র অঞ্চলে ধানসহ সেচনির্ভর চাষাবাদ কমেছে। অপরদিকে কম পানি সেচে চাষ করা সম্ভব গম, ছোলা, আলু, মসুর, পেঁয়াজসহ অন্য রবিশস্যের চাষ বেড়েছে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রাসরণের অফিসের তথ্য মতে, জেলায় কৃষি আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ এক লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে গত বছর রবিশস্য চাষাবাদ হয়েছিল এক লাখ ৩৭ হাজার ৪৫৮ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর রবি-শস্য চাষাবাদ হচ্ছে এক লাখ ৫০ হাজার ৪৫৮ হেক্টর জমিতে।

গত বছর মাঠে আলু আবাদ হয়েছিল ৩৮ হাজর ৩২৫ হেক্টর জমিতে, চলতি বছর ৫ হাজার হেক্টর বেড়ে হয়েছে ৪৩ হাজার ৪৮১ হেক্টর জমিতে। মিষ্টি আলু ২৬৯ হেক্টর থেকে বেড়ে চলতি বছর চাষ হচ্ছে ৩১২ হেক্টর জমিতে। ভুট্টা এক হাজার ৫৮৭ হেক্টর থেকে বেড়ে চাষ হচ্ছে দুই হাজার ৪৭৮ হেক্টর জমিতে।

এছাড়াও শীতকালীন বিভিন্ন সবজি চাষ হচ্ছে ১২ হাজার ৮৪৪ হেক্টর, ছোলা এক হাজার ১২৮, মসুর ২৫ হাজার ২৯৬ হেক্টর, চিনা বাদাম ৬০৬ হেক্টর, সরিষা ১৯ হাজার ৪৯৬ হেক্টর, মুগ ডাল ১৫ হেক্টর, খেসারি ডাল ৫০৮ হেক্টর, মটর ২০৬ হেক্টর, পেঁয়াজ ৭ হাজার ৩০ হেক্টর, রসুন ৩ হাজার ৫৪৬ হেক্টর, আখ ৬ হাজার ৪৪৩ হেক্টর জমিতে।

তবে গমের আবাদ কমেছে। গত বছর গম ২৯ হাজার ৮০০ হেক্টর চাষাবাদ হলেও চলতি বছর ৩ হাজার হেক্টর কমে ২৬ হাজার ৮৪১ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ রোগবালাই।

রাজশাহীর তানোর উপজেলা পাঁচন্দর মৌজার গভীর নলকূপ অপারেটর মাসুদ রানা জানান, গত ৫ বছর আগে তার গভীর নলকূপের আওতায় বোরো চাষ হয়েছিল ১৮০ বিঘা, রবি শস্য গম, সরিষা, পিঁয়াজ হয়েছিল ৬০ বিঘা। কিন্তু চলতি বছর তার গভীর নলকূপে পানি কম উঠায় এবার বোরো চাষ হবে মাত্র ৫০ বিঘায় তবে গম, সরিষা চাষ হয়েছে ২৫০ বিঘা।

তিনি আরও জানান, এক দশক আগে এ অঞ্চলে শুধু ধানের আবাদ হতো। কিন্তু এখন ধানের চাষ কমেছে। বেশি পানি লাগার কারণে মানুষ অন্য আবাদে ঝুঁকছেন।

তানোর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শমসের আলী জানান, তানোরসহ বরেন্দ্র অঞ্চলজুড়ে পুরো ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। পানি উত্তোলনে নানা সমস্যায় চাষিরা কম সেচের আবাদে ঝুঁকছেন। রবিশস্যতে একদিকে পানি খরচ কম, অন্য দিকে রবিশস্যতে লাভ বেশি হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৮, ২০২২ ৩:০৫ অপরাহ্ন
শিবচরে বোরো ধান চাষে ব্যস্ত কৃষক
কৃষি বিভাগ

জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশায় ঘর থেকে বের হওয়াই যেন দায়। শিবচরে বোরো বীজতলা থেকে চারা তুলে এক ফসলি জমিতে রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক। কনকনে শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমি প্রস্তুত, পানি সেচ, হালচাষ, সার প্রয়োগ ও বীজ তুলছেন তারা। কেউ জমিতে হাল দিচ্ছেন, কেউ তৈরি জমি ভিজিয়ে রাখছেন সেচ দিয়ে। সব কাজ শেষ করে অনেকে বীজতলা থেকে চারা তুলে রোপণ করছেন খেতে। চারা রোপণসহ প্রতিটি কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করলেও শান্তি নেই কৃষকের মনে। হতাশা সবার মধ্যে। কারণ ধানের ন্যায্য দাম না পেলে লোকসান গুনতে হবে।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) উপজেলার চরজানাজাত, কাঠালবাড়ি, মাদবরেরচর, বন্দরখোলা, সন্যাসীরচরসহ আশপাশ এলাকা ঘুরে দেখা যায় ধান চাষের জন্য জমি প্রস্তুত, বীজতলা থেকে বোরো ধানের চারা তুলে রোপণ করা হচ্ছে। আবার জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত অনেকে।

বন্দরখোলা এলাকার ধান চাষি কালাম হাওলাদার বলেন, তেলের দাম বাড়ায় টিলার মেশিন দিয়ে হালচাষের খরচ বাড়ছে। কৃষি কাজই আমাদের পেশা। অন্য কাজ জানি না। কয়েক বছর ধরে লোকসান গুনছি, তবু আশায় বুক বেঁধে বোরো আবাদ করছি।’

একই এলাকার কৃষক আলোমগীর বলেন, ‘আমাদের এলাকা কৃষিনির্ভর। এ অঞ্চলের প্রায় সব কৃষক বর্গাচাষি। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অন্যের জমি চাষ করেন অনেকে।’

চরজানাজাত এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘বোরো ধান চাষ করতে বীজতলা তৈরি করেছি। বীজ বড় হয়েছে। জমি প্রস্তুত করা শেষ। দুই এক দিনের মধ্যে জমিতে বীজ রোপণ করবো।

মাদবরের চর এলাকার কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, এক ২ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বোরো ধান চাষ করতে সার ও বীজ পেয়েছি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ইতিমধ্যে ৩ হাজার কৃষকের মধ্যে প্রণোদনার সার, বীজ বিতরণ করেছে। চলতি বছর শিবচরে ৩ হাজার ২শ ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

শিবচর উপজেলা কৃষি অফিসার অনুপম রায় বলেন, কৃষকদেরকে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতিসহ সকল প্রকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উপজেলায় এবার ৩ হাজার ২শ ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলনও ভালো হওয়ার আশা করছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৮, ২০২২ ২:১৭ অপরাহ্ন
নীলফামারীতে চাষ হচ্ছে নতুন ফসল ‘কিনোয়া’
কৃষি বিভাগ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া মাস্টারপাড়া গ্রামে চাষ হচ্ছে হাইপ্রোটিন সমূদ্ধ নতুন ফসল ‘কিনোয়া’। এটি দানাদার শস্য, যা আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই, পটাসিয়াম এবং ফাইবারের একটি উৎস। 

শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর সুপার ফুড কিনোয়া, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী।

কিনোয়াতে অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে এবং লাইসিন সমৃদ্ধ, যা সারা শরীরে স্বাস্থ্যকর টিস্যু বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া কিনোয়া চাষে উপযোগী।

কৃষকের দাবি স্বল্প খরচে ধানসহ অন্যান্য রবি ফসলের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ। কিন্তু এখনও সেইভাবে বাজার গড়ে ওঠেনি।

এ চাষ পদ্ধতি অতিসাধারণ। লাইনটেনে কিংবা বীজ ছিটিয়ে বপন করা যায়। এর চাষবাদে তেমন কোনও পরিচর্যা, রোগবালাই নেই। রাসায়নিক সারের প্রয়োজন ছাড়াই শুধুমাত্র জৈব সার ব্যবহার করে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায়। কম খরচে প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৫ মণ শস্যদানা ঘরে তোলা যাবে। এর পাতা মুখরোচক সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়ার জুড়ি নেই।

কৃষি অফিস জানায়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাস দীর্ঘ ৫ বছর গবেষণা করে বাংলাদেশের আবহাওয়া সহনশীল সুপার ফুড কিনোয়া-১ জাত উদ্ভাবন করে মাঠে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে এক বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে উচ্চমূল্যের কিনোয়া। মাগুড়া মাস্টারপাড়া গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া পরীক্ষামূলকভাবে ১২ শতাংশ, পাশের গ্রামের বিহারী রায় ২০ শতাংশ জমিতে কিনোয়া চাষ করেছেন।

মাগুড়া মাস্টারপাড়া গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া বলেন, কিনোয়া এ অঞ্চলে নতুন ফসল। তাই এটি সম্পর্কে কোনও ধারণা ছিল না। কিনোয়া রবি মৌসুমের শীতকালীন ফসল। যা ৭৫ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যাবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, কিনোয়াসহ উচ্চমূল্যের নিত্যনতুন ফসল চাষে তৃণমূল পর্যায়ে কৃষককে আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে। এ চাষাবাদ ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের মানুষের পুষ্টিহীনতা দূর হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৮, ২০২২ ১২:১৮ অপরাহ্ন
শ্রীমঙ্গলে প্রায় ৫০ বিঘা জমির ধান চাষ অনিশ্চিত
কৃষি বিভাগ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আগাছানাশক ওষুধ ছিটিয়ে বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ৫০/৬০ বিঘা জমির ধান চাষ। স্থানীয়দের ধারণা, নির্বাচনী প্রতিহিংসার জেরে ধানের বীজতলা নষ্ট করেছে প্রতিপক্ষরা। 

বোরো মৌসুমের শুরুতেই ধারদেনা করে ধানের বীজতলা তৈরি করেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরের ইছবপুর গ্রামের দরিদ্র চার কৃষক। জমিতে বীজ বপনের পাশাপাশি নিজেদের ভালো থাকার স্বপ্ন বুনেছিলো তারা। কিন্তু বীজতলার সাথে তাদের সেই স্বপ্নও পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রাতের আঁধারে আগাছানাশক ওষুধ ছিটিয়ে প্রায় একবিঘা জমির বীজতলা নষ্ট করে দিয়েছে কে বা কারা।

বুধবার হঠাৎ সব ধানের চারা পুড়ে যাওয়া দেখে হতবাক এই কৃষকরা। কীভাবে এখন বোরোর আবাদ করবেন, এনিয়ে দিশেহারা তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রামবাসী ও কৃষি কর্মকর্তা। তাদের আশঙ্কা, স্থানীয় বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটাতে পারে প্রতিপক্ষরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা জানালেন, আগাছা মারার ওষুধ ছিটিয়ে চারা নষ্ট করা হয়েছে, এগুলো আর রোপন করা যাবে না। কৃষকদের সহায়তা ও দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি গ্রামবাসীর।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop