১১:৫৮ পূর্বাহ্ন

শনিবার, ১৪ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ১৭, ২০২২ ২:১৫ অপরাহ্ন
বোরো আবাদে ভূগর্ভস্থ পানিস্তরের অবনমন হয় না : কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, বোরো ধান চাষে ভূগর্ভস্থ পানিস্তরের অবনমন হয় না। প্রতি কেজি বোরো ধান উৎপাদনে প্রায় ৩০০০ থেকে ৫০০০ লিটার সেচের পানির প্রয়োজন হয় বলে ধারণা (মিথ) প্রচলিত ছিল। কিন্তু ব্রির গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের নিয়ন্ত্রিত সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাত্র ১০০০ থেকে ১৬০০ লিটার সেচের পানি দিয়ে কৃষকরা সফলভাবে ১ কেজি ধান উৎপাদন করছেন।

শুধু সেচ বিবেচনায় এই পানির প্রয়োজন আরো কম। যার মধ্যে আনুমানিক ৪০ শতাংশ (৪০০ থেকে ৬৫০ লিটার) সীপেজ ও পারকুলেশনের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে মিশে যায়। সুতরাং ধান উৎপাদনে প্রকৃত পানির প্রয়োজন হয় ৫৫০ থেকে ৬৫০ লিটার/কেজি। অতএব, বোরো ধান চাষে পানির অপচয় নিয়ে যে সমাজে প্রচলিত বিভ্রান্তি ছিল ব্রি ও সহযোগী সংস্থাগুলোর এই গবেষণা ফলাফলের মাধ্যমে অবসান হবে।

রবিবার (১৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এবং অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিএসআইআরও), ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ড (ইউএসকিউ), এসিএআইআর ও অস্ট্রেলিয়ান এআইডির সহযোগিতায় আয়োজিত ‘উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানির স্থায়িত্ব এবং ধান উৎপাদন’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জুম প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন- কৃষিসচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো. বখতিয়ার, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান এ এফ এম হায়াতুল্লাহ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বেনজীর আলম এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুর রশীদ।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বোরো ধানে পানির অপচয় নিয়ে যে বিভ্রান্তি সমাজে প্রচলিত ছিল ব্রি ও সহযোগী সংস্থার এই গবেষণা ফলাফলের মাধ্যমে সে বিভ্রান্তির অবসান হবে।

তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ এই সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের উচিত এ ধরনের বিভ্রান্তি নিরসনে একযোগে গবেষণার কাজ পরিচালনা করা।

বিশেষজ্ঞ প্যানেলে যুক্ত ছিলেন প্রফেসর ইমিরেটাস ও সাবেক উপাচার্য, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ড. এম এ সাত্তার মণ্ডল এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. হামিদুর রহমান। ওয়েবিনারে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং প্রধান ড. মো. মনিরুজ্জামান, এবং কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিএসআইআরও) অস্ট্রেলিয়ার প্রিন্সিপাল রিসার্চ সায়েন্টিস্ট ড. মো. মাঈন উদ্দিন।

বিশেষজ্ঞ প্যানেলের আলোচনায় প্রফেসর ইমিরেটাস ড. এম এ সাত্তার মণ্ডল বলেন, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার জন্য বোরো ধানের আবাদই একমাত্র দায়ী নয়। শুষ্ক মৌসুমে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-নালা, খাল-বিলে পানির প্রবাহ কম থাকায় বেজ ফ্লো হিসেবে ভূ-গর্ভস্থ পানির একটি অংশ নদীতে চলে যাচ্ছে। ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে বন্যার পানি প্রথমে ভূ-গর্ভস্থ পানির সেই খালি জায়গা পূরণ করার ফলে বন্যার তীব্রতা হ্রাস পাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. হামিদুর রহমান বলেন, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে টেকসই ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগসহ ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। নদী-নালা, খাল-বিলে পানির সংরক্ষণের পরিমাণ ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাফল্যজনকভাবে ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদ সম্ভব হবে।

কর্মশালার দুই প্রবন্ধকার জানান, কৃষিকাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির অধিক ব্যবহারের ফলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোনো কোনো জায়গায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর কিছুটা নিচে নেমে যাচ্ছে। এ সমস্যাকে সামনে রেখে ভূ-গর্ভস্থ পানির সুষ্ঠু ব্যবহার, ধান উৎপাদনে প্রকৃত পানির পরিমাণ ও স্বল্প খরচে ধান উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ব্রি ও অস্ট্রেলিয়ার সিএসআইআরো এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ড (ইউএসকিউ) এবং এসিআইএআর, অস্ট্রেলিয়া গত পাঁচ বছর ধরে কয়েকটি গবেষণা কাজ সম্পন্ন করেছে।

এসব গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, বিগত ১০ বছরে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বোরোর এলাকা বাড়েনি, তবে উন্নত জাতসহ অন্যান্য কারণে বোরোর ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তা ছাড়া বোরো ধানের উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্যবহার ও ক্রপিং প্যাটার্নভিত্তিক ফসল চাষাবাদের মাধ্যমে জমির উৎপাদনশীল ও ফসলের পানি ব্যবহার দক্ষতা আরো বাড়ানো সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে ব্রি মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর বলেন, সারা দেশে বোরো ধান চাষে সেচের পানির ব্যবহারের ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে- এ ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা ঠিক নয়। শুধু ঠাটা বরেন্দ্র অঞ্চলে কিছু এলাকায় এটি হতে পারে। ভূ-গর্ভস্থ অ্যাকুয়াফায়ারগুলো পানির রিজার্ভার হিসেবে কাজ করে। সুতরাং এসব  নেতিবাচক প্রচারণায় বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

এ সময় জুমে আরো যুক্ত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, অধীন সংস্থা ও দপ্তরগুলোর প্রধানগণ অন্যান্য জাতীয় ও অন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রধানরা; বিভিন্ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন বিজ্ঞানীরা; প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাসহ ব্রি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৬, ২০২২ ৪:০৬ অপরাহ্ন
নড়াইলে ৪৮ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
কৃষি বিভাগ

চলতি বোরো মৌসুমে জেলার তিন উপজেলায় ৪৮হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

ইতোমধ্যে কৃষকরা জমিতে বোরোর চারা লাগানোর কাজ শুরু করেছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকার জমিতে ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২১-২০২২ মৌসুমে জেলার তিন উপজেলায় ৪৮ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২লাখ ১২ হাজার ৫৩৭ মেট্রিক টন চাল।উপজেলাওয়ারী : নড়াইল সদর উপজেলায় ২১ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে ৯৩ হাজার ৯৩০ টন চাল, লোহাগড়া উপজেলায় ১০ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে ৪২ হাজার ৩৬ টন চাল এবং কালিয়া উপজেলায় ১৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে ৭৬ হাজার ২৪৭ টন বোরোর চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

সূত্রে আরো জানা গেছে, এ জেলার কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল জাতের বিরি ধান-২৮, বিরি ধান-২৯, বিরি ধান-৫০, বিরি ধান-৫৮, বিরি ধান-৮৯, বিরি ধান-৮১, বিরি ধান-৭৪ এবং হাইব্রিড হীরা, তেজ, সাথী, জিনজেনটা জাতের বোরো ধানের চারা লাগাচ্ছেন।

নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার রায় বলেন, আমন ধান কাটার পর কৃষকরা বোরো ধান লাগানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন।এ জেলায় প্রতি বছর বোরো ধানের ফলন ভালো হয়ে থাকে।এবছর বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছড়িয়ে যাবে।বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক কৃষকদের বোরো চাষের জন্য কৃষি লোন প্রদান করেছে।কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বোরো চাষে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৬, ২০২২ ৩:০৫ অপরাহ্ন
কুমিল্লার লালমাইয়ের চাষিরা চাল কুমড়া চাষে ঝুঁকছেন
কৃষি বিভাগ

 যতদূর চোখ যায় চারিদিকে সবুজ আর হলুদের হাতছানি। থোকা থোকা সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে রয়েছে অজস্র হলুদ রঙের ফুল। তবে এ দৃশ্যটি কোনো ফুলবাগানের নয়, সবজি চাল কুমড়া ক্ষেতের দৃশ্য এটি। কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ী এলাকা জুড়ে চাষ হয়েছে শীতের সবজি চাল কুমড়া। অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি গৃহস্থরাও চাল কুমড়া চাষ করছেন।

লালমাই এলাকার চাষি সিরাজুল ইসলাম। তিনি কয়েক বছর আগে শখের বশে  চাল কুমড়া চাষ করে লাভবান হওয়ার পর থেকে প্রতিবছরই বাণিজ্যিকভাবে চাল কুমড়া চাষ করছেন। বিগত কয়েক বছর ৫০ হাজার  টাকা করে খাটিয়ে প্রতিবার দেড় লাখ টাকার বেশি কুমড়া বিক্রি করতে পারছেন। প্রতি কাঠা জমি চাষ করতে ১০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। কৃষক রমিজ মিয়া গত নভেম্বরের মাঝামাঝি ৩০ শতক জমিতে চাল কুমড়ার চারা রোপণ করেছিলেন তিনি। পরে সেই জমিতে চারাগুলোর ওপরে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে মাচা তৈরি করে দেন। চারাগুলো গাছ হয়ে এখন সেই মাচায় উঠছে। ফুলের সঙ্গে কোনো কোনো গাছে চাল কুমড়াও ঝুলছে এখন।

রমিজ মিয়া চারা রোপণ করার সময় জমিতে ৩০ কেজি টিএসপি সার ব্যবহার করেছিলেন। পরে গাছে ফুল আসার আগে আরও একবার সার ব্যবহার করা হয়। এছাড়া পোকার আক্রমণ থেকে গাছ ও চাল কুমড়া রক্ষা করতে সপ্তাহে একবার কীটনাশক প্রয়োগ করা হয় ক্ষেতে। সাড়ে তিন ফুট দূরত্বে রোপণ করা চারার একেকটি সারির দূরত্ব রাখা হয়েছে চার ফুট। আর ৮/১০ দিনের মধ্যে তারসহ অন্যান্য লোকের ক্ষেত থেকে চাল কুমড়া বিক্রি শুরু হবে। আর তখন স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে যাবে লালমাই এলকায় চাষ করা চাল কুমড়া।

রমিজ মিয়া বলেন, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান নিয়ে এসে ব্যবসায়ীরা চাল কুমড়া পাইকারি দামে কিনে নিয়ে যাবেন।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, লালমাই এলাকার মানুষ বাণিজ্যিক চিন্তা ছাড়াও বাড়িঘরের আঙিনায় চাল কুমড়া চাষ করে আর্থিক দিক থেকে হচ্ছেন লাভবান। এতে একদিকে সবজির চাহিদা যেমন পূরণ হচ্ছে, ঠিক তেমনি পূরণ হচ্ছে আর্থিক চাহিদাও।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৬, ২০২২ ১:৩৬ অপরাহ্ন
কমলা চাষ করে সফল লেবু মিয়া
কৃষি বিভাগ

ভারতের দার্জিলিং থেকে পাহাড়ি কমলার চারা এনে চাষ হচ্ছে নীলফামারীর সমতল ভূমিতেই। নীলফামারীর সমতল ভূমিতে সাদকি কমলা চাষে সফল ব্যক্তিটির নাম লেবু মিয়া। জেলা সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের কচুকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে রয়েছে ‘এ আর মামুন নার্সারি’। ওই নার্সারির একটি অংশে গড়ে তুলেছেন কমলার বাগান। সে বাগানে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় পরিপূর্ণ পাকা কমলা।

২০১৩ সালে ভারতের দার্জিলিং থেকে সাদকি জাতের কমলার চারা এনে রোপণ করেন তার নার্সারিতে। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে চারা তৈরীর পর এখন পরিপূর্ণ ফল পেতে শুরু করেছেন ৬০টি গাছের। আরও একটি অংশে নতুন করে রোপণ করেছেন ৬০০ চারা। বর্তমানে তার নার্সারিতে প্রস্তুত রয়েছে ৩০ হাজার সাদকি কমলার চারা। যা বিক্রি করছেন। এছাড়া কমলা এবং মাল্টাসহ আরও লক্ষাধিক চারা প্রস্তুত করেছেন, যা আগামী তিন মাসের মধ্যে জমিতে লাগানোর জন্য উপযুক্ত হবে। প্রসার এখানেই থেমে থাকেনি, তিনি আরও ১২ বিঘা জমি চুক্তিতে নিয়ে গড়ে তুলেছেন লিচু বাগান। তার বাগানে ফলজ, বনজ, ঔষধিসহ প্রায় ৬০০ প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে।

নার্সারির মালিক লেবু মিয়া জানান, এক বিঘা জমি চুক্তিতে নিয়ে শুরু করেন নার্সারি ব্যবসা। দিনে দিনে তার নার্সারির প্রসার ঘটতে থাকে। বর্তমানে সাড়ে ১৩ বিঘা জমি ক্রয় করে বৃদ্ধি করেছেন নার্সারির এলাকা। সকল খরচ বাদে প্রতিবছর আয় হয় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাগানের প্রতিটি গাছে গাছে হলুদ কমলা ঝুলে আছে দেখতেই খুব সুন্দর লাগছে। ভারতীয় জাতের এ ফল মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে চাহিদাও বেশি। আরও আকৃষ্ট হচ্ছেন সবুজে ঘেরা নার্সারির চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা চায়না কমলা, মাল্টা, ত্বিন ফল, পেঁপে, মিষ্টি লেবুসহ বিভিন্ন ফল ও ফুল দেখে।

ওই গ্রামের আব্দুল মতিন বলেন, ‘শুধু এলাকার মানুষ নয়, দূর দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসছেন বাগান দেখতে। তারা এখানে এসে আকৃষ্ট হচ্ছেন গাছের সৌন্দর্যের প্রতি। এমন টানে নার্সারি থেকে চারা কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।’

এ আর মামুন বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীদের মাধ্যমে ফলের চারা সংগ্রহ করি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে বাগানে লাগাই। ওই গাছের চারা উৎপাদন করে বাজারজাত করি। আমাদের বাগানের সাদকি কমলা খুবই সাড়া ফেলেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ চারা সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, নীলফামারী জেলার মাটি লেবু জাতীয় ফল চাষের জন্য উপযোগী। এখানে আবহাওয়া এবং মাটি অনুকুলে থাকায় প্রচুর কমলার চাষ হচ্ছে। জেলা সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের মামুন নার্সারি দার্জিলিং এর সাদকি জাতের কমলা চাষে সফল হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৬, ২০২২ ১২:৩১ অপরাহ্ন
২৫ দেশে যাচ্ছে কচু ও লতি
কৃষি বিভাগ

কচু পুষ্টিকর সবজি হলেও এর পুষ্টি অনুযায়ী কদর নেই আমাদের দেশে। ফলে চাষাবাদও হয় কম। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে মাত্র পাঁচ-ছয় বছরের ব্যবধানে বড় সম্ভাবনা জাগিয়েছেন কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার কৃষকরা। এ অঞ্চলের কচু ও লতি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের পাশাপাশি রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশে। প্রবাসীদের পাশাপাশি বিদেশিদের কাছে দিন দিন এর কদর বাড়ছে।

সরেজমিনে বরুড়া উপজেলা ঘুরে জানা গেছে, কম খরচে বেশি লাভ এবং দীর্ঘদিন ফলন পাওয়ার কারণে কৃষকরা এখন বাণিজ্যিকভাবে কচু আবাদ করছেন। এরই মধ্যে কচুর উপজেলা হিসেবে ‘বিখ্যাত’ হতে শুরু করেছে বরুড়া। কচু আর লতিকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানও। এ অঞ্চলে কৃষকদের সাফল্য দেখে অন্যান্য জেলা থেকেও চারা সংগ্রহ করতে আসছেন কৃষকরা। গত মৌসুমে বরুড়া থেকে প্রায় এক লাখ কচুর চারা গেছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। স্থানীয় কৃষি বিভাগও কচুর উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগ ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, বরুড়ায় উৎপাদিত পানি কচু ও লতি বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি যাচ্ছে, দুবাই, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের প্রায় সব দেশে যাচ্ছে। আগে এই লতি ও কচু প্রবাসীদের মাধ্যমে গেলেও গত বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে রপ্তানি হচ্ছে।

চিটাগং ফ্রেশ ফ্রু্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হচ্ছে এই সবজি দুটি। প্রতিষ্ঠানটির সহসভাপতি এবং চিটাগং ফুডস ও ভেজিটেবলের স্বত্বাধিকারী মো. ইসমাইল চৌধুরী হানিফ বলেন, ‘আমরা ১৯৯৫ সাল থেকে বরুড়ার পানি কচু ও লতি রপ্তানি করছি। ২০১০ সালের পর থেকে ব্যাপক হারে রপ্তানি হচ্ছে এবং প্রতি বছরই বিদেশে এ দুটি সবজির চাহিদা বাড়ছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে যাচ্ছে দুবাই। আর ঢাকা বিমানবন্দর দিয়ে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ ২৫টির বেশি দেশে।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশিদের পছন্দ সবুজ লতি ও কচু। বরুড়ার এই দুটি পণ্যই সুস্বাদু, ফলে বিদেশিদেরও পছন্দের।’ তিনি আরো বলেন, ‘রপ্তানিতে আমাদের একমাত্র সমস্যা হচ্ছে সড়কে চাঁদাবাজি। বরুড়া থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম পণ্য আনতে পথে পথে চাঁদা দিতে হয়। এতে ক্রেতা পর্যায়ে দাম অনেক বেড়ে যায়। এ ছাড়া আর তেমন কোনো সমস্যা নেই।’

স্থানীয় পাইকার বা ব্যাপারীরা প্রতিদিনই কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কচু ও লতি সংগ্রহ করছেন এবং রপ্তানিকারকদের দিচ্ছেন। বাড়িতে নারীরা এসব লতি ও কচু পরিষ্কার করে আঁটি বাঁধেন। এতে অন্তত এক হাজার নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে।

চাষিরা বলছেন, তাঁরা সরাসরি রপ্তানিকারকদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারলে বেশি লাভবান হতেন। এখন লাভের একটা বড় অংশ খেয়ে ফেলে মধ্যস্বত্বভোগীরা। উপজেলার আগানগর গ্রামের বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমি ১৭ শতাংশ জমিতে লতি কচুর চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। বিক্রি করব প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো। প্রতি সপ্তাহে একবার লতি তুলে বিক্রি করি ব্যাপারীদের কাছে। গত ৪০ বছর ধরে আমরা লতি চাষ করছি। আগে না করলেও বর্তমানে আমাদের এলাকার বেশির ভাগ কৃষকই লতি চাষ করছেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ধান চাষের চেয়ে এখানে কচু চাষ বেশি লাভজনক। লতির ফলন শুরু হলে সাত দিন পর পর কৃষকরা তা বিক্রি করতে পারেন ৯ মাস পর্যন্ত। তিনটি ইউনিয়নে ব্যাপকহারে কচুর চাষ হচ্ছে। আমাদের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা প্রতিটি গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ-ছয় বছর আগে ধানের দাম কম থাকায় এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মানুষ কচু চাষে ঝুঁকে পড়েন। ওই সময় কৃষকরা কম খরচে বেশি লাভ এবং কচুর লতির ব্যাপক চাহিদা দেখে বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেন।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উপজেলার মোট ২৫০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কচুর চাষ হচ্ছে। উৎপাদন করছেন প্রায় চার হাজার চাষি। প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ২৫ টন পর্যন্ত লতি উৎপাদিত হয়। সময়ভেদে এসব লতি টনপ্রতি ২০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেন চাষিরা। এ উপজেলায় মূলত দুই জাতের কচুর চাষ হয়ে থাকে। এগুলো হলো লতিরাজ ও বারি পানি কচু-৩। এর মধ্যে লতিরাজ স্থানীয়দের কাছে লতি কচু নামে পরিচিত। এই কচু থেকে শুধু লতি সংগ্রহ করা হয়। আর পানি কচু থেকে মোটা সাইজের লতি, মূলসহ কচু সংগ্রহ করা হয়।

মো. নজরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘সরকারের ‘কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্প’ নামের একটি প্রকল্পে বরুড়া উপজেলা রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বিষমুক্ত উপায়ে কচুসহ সবজি উৎপাদনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৬, ২০২২ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
বরিশালে অষ্টাদশ বিসিএস ফোরামের উদ্যোগে বেঁদে সম্প্রদায়ের মাঝে কম্বল বিতরণ
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে বেঁদে সম্প্রদায়ের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। ১৪ জানুয়ারি সদর উপজেলার লাহারহাটে অষ্টাদশ বিসিএস ফোরামের উদ্যোগে এই বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এস এম আখতারুজ্জামান, ঝালকাঠির জেলা ও দায়রা জজ মো. শহীদুল্লাহ্, ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহযোগী অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ,

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঝালকাঠির উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সোহরাব হোসেন হাওলাদার প্রমুখ।

হাড়কাঁপানো এ শীতে কম্বল হাতে পেয়ে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠেছে নদীতীরবর্তী এলাকার বেঁদে সম্প্রদায়।এজন্য বেঁদে সর্দার জসিম উদ্দিন সংগঠনের সবাইকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ।

এ সময় ডিআইজি এস এম আখতারুজ্জামান বেঁদে সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের মধ্যে কেউ যদি কম্বল না পেয়ে থাকেন,  তাদেরও  দেওয়া হবে। পিছিয়েপড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আমাদের মানবিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৫, ২০২২ ৩:০০ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ে আলু নিয়ে বিপাকে চাষিরা
কৃষি বিভাগ

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ছয় টাকা দরে, তবুও মাঠে ক্রেতা নেই। উৎপাদিত আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। আগাম আলুর বাজারে ধস নামায় লোকসান হচ্ছে তাদের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে জেলার পাঁচ উপজেলায় এবার ২৭ হাজার ৬৪৭ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। ইতিমধ্যে ২ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমির আলু তোলা হয়েছে। আলু উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ২৪ মেট্রিক টন। বর্তমান বাজার দরে আলু বিক্রি করে প্রতি হেক্টরে (২৪৭ শতক) চাষিরা দাম পাচ্ছেন ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। আর প্রতি হেক্টর আলুর উৎপাদন খরচ হয় প্রায় ২ লাখ টাকা। গত বছর জেলায় ২৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। আর উৎপাদন হয়েছিল ৭ লাখ ৪১ হাজার ২৯৭ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগ বলছে, গত বছরের কিছু আলু মজুত থাকায় বাজার দর কম। পুরাতন আলু শেষ হলে দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

সদর উপজেলার ফকদনপুর এলাকার আলুচাষি এন্তাজুল ইসলাম বলেন, গত বছর আলুর দাম বেশি ছিল, কম ফলনেও ভালো লাভ হয়েছে। এবার বেশি ফলনেও লোকসান হচ্ছে।

সদর উপজেলার পটুয়া এলাকার আরেক আলুচাষি রকিবুল ইসলাম বলেন, সাড়ে পাঁচ একর জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। ছয় টাকা দরে আলু বিক্রি করে দাম পাচ্ছি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। এই টাকায় লাভ তো নয়, আসল টাকাও আসেনি।

উপজেলার বিমানবন্দর এলাকার আলুচাষি শাহজাহান আলী বলেন, প্রথম বার ৪০ একর জমিতে আলু লাগানোর কয়েক দিন পর বৃষ্টির কারণে বীজআলু মাটিতেই পচে যায়। আবারও সেই জমিতে আলু লাগাই। আলুর ফলন ভালো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ছয় টাকা কেজি বলছে, বিক্রি করিনি। কারণ এই দামে বিক্রি করলে অনেক টাকা লোকসান হবে।

ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার আলু ব্যবসায়ী সোহাগ আলী বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন জেলার আলু একসঙ্গে বাজারে আসায় চাহিদা কিছুটা কম। রাজধানীর আড়ত থেকে কোনো অর্ডার পাচ্ছি না। সে কারণে বাজারে দাম নেই।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, গত বছরের বাড়তি আলুর মজুত শেষ হলে বাজার অবস্থা ঠিক হবে। সেই সঙ্গে আলুর ফলন ভালো হলে চাষিদের লোকসান পুষিয়ে যাবে। চাষকৃত আলু এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থায় আছে। চাষিদের যে কোনো পরামর্শের জন্য কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে রয়েছে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৫, ২০২২ ২:২৬ অপরাহ্ন
মেহেরপুরে সরিষা চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে
কৃষি বিভাগ

মেহেরপুর জেলার বিস্তীর্ণ মাঠ যেন সবুজের মাঝে হলুদ ফুলের সমারোহ। হলুদে হলুদে মোড়ানো সরিষা ফুলে ছেয়ে আছে মেহেরপুরের মাঠ। প্রকৃতি সেজেছে তার আপন মহিমায়। মৌমাছির মৌ-মৌ গন্ধে সরব হয়ে উঠেছে সরিষা ক্ষেত ।

মেহেরপুরের বিস্তৃর্ণ মাঠ সরিষা ক্ষেত বলে দিচ্ছে বড় কোন প্রাকৃতিক দুূর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে  সরিষার বাম্পার ফলন হবে। কৃষকের চোখে আনন্দের ঝিলিক। চলতি বছরে মেহেরপুরে সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছে জেলা কৃষি সম্পাসারণ অধিদপ্তর।

সরিষার তেলের রয়েছে অনেক ওষুধি গুণ। আর সরিষার খৈল জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করে। এবং সরিষার গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া জমিতে সরিষার আবাদ করলে ওই জমিতে সরিষার পাতা পড়ে জমির খাদ্য চাহিদা অনেকাংশে মিটিয়ে থাকে।

সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ঘুরে ও সরিষা চাষিদের সাথে কথা বলে জানা  গেছে-  চলতি মৌসুমে  প্রতি বিঘা জমি থেকে ৭-৮ মণ সরিষা উৎপাদন হবে। লাভজনক এবং সরিষা চাষের অনুকূল পরিবেশের কারণে এবার চলতি রবি মৌসুমে  মেহেরপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ বেশী হয়েছে।  চলতি রবি শস্য মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সরিষাক্ষেতে রোগবালাই কম হওয়ায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

মেহেরপুর জেলা  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব মতে চলতি বছরে সরিষার অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু চলতি মৌসুমে জেলায় এবার ৪ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।

সদর উপজেলার শোলমারি গ্রামের সরিষাচাষি নিয়ামত আলী জানান, প্রতিবিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় সর্বচ্চ তিন হাজার টাকা। প্রতিমণ সরিষা বিক্রি করা যায় দুই হাজার ৫’শ থেকে ৩  হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতি বিঘাতে সাতমণ সরিষা উৎপাদন হলে বিঘা প্রতি ১৫ হাজার টাকা লাভ করা যায়। এছাড়া সরিষা আবাদে তেমন সেচের প্রয়োজন হয়না। তাছাড়া মাত্র তিনমাস সময়ে সরিষা আবাদ করা যায়। সরিষার বড় শত্রু জাব পোকা। এবার জাব পোকার আক্রমাণ না থাকায় সরিষার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি।

গাংনী সদর উপজেলার রাধাগোবিন্দপুর ধলা গ্রামের সরিষা চাষি আবুল বাশার বলেন, নিজের প্রয়োজন মেটাতে প্রতি বছর ১ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করি। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার ২ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। আশা করছি অন্য বছরের তুলনায় এবার সরিষার ফলন ভালো হবে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন, চলতি মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় জেলায় প্রায় ৩ হাজার কৃষককে বিনামূল্য সরিষার বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় ১ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে বাজারে সরিষা এবং ভোজ্য তেলের দাম বেশি। রবিশস্য চাষের এবার অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে।এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ পেলে মানুষ আবার সরিষা আবাদে ফিরে আসবে। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলেও তিনি আশাবাদী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৫, ২০২২ ১:৪৭ অপরাহ্ন
কুষ্টিয়ায় নন ইউরিয়া সারের জন্য হাহাকার
কৃষি বিভাগ

নন ইউরিয়া সারের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পড়ে রবি মৌসুমে। আর এ মৌসুমেই বিএডিসির এই সারের জন্য হাহাকার চলছে কুষ্টিয়ায়। প্রয়োজন মতো সার পাচ্ছেন না ডিলাররা। তাই প্রয়োজন মেটাতে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। সিন্ডিকেটে খোদ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ও অফিসের কর্মকর্তারা জড়িত বলে অভিযোগ ওঠেছে।

কুষ্টিয়ার মাঠে মাঠে চলছে পেঁয়াজ, সরিষা, ভুট্টাসহ বিভিন্ন রবি ফসলের আবাদ। এ সময়টাতে মাঠ প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফসলের জন্য নন ইউরিয়া সার এমওপি, টিএসপি ও টিএপিসহ নানা প্রজাতির সার ব্যবহার করেন কৃষকরা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী পাচ্ছেন না কৃষক, যেটুকু পাচ্ছেন তার জন্য গুনতে হচ্ছে বেশি অর্থ।

এক চাষি বলেন, সরকার তো বলে সারের দাম কম কিন্ত আমরা কিনতে গেলেই তো দেখি বেশি দাম। সার পাওয়া যাচ্ছে না এমনটাই বলে তারা।

জেলায় গত দুই মাস ধরে বিএডিসি নন ইউরিয়া সারের সংকট দেখা দিয়েছে। ২০ গাড়ি সারের জায়গায় মিলছে মাত্র এক গাড়ি। আবার কোন কোন সময় সেটিও চলে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের কজ্বায়।

ডিলাররা বলছেন, কুষ্টিয়ার সার কালোবাজারি হয়ে উত্তরবঙ্গে চলে যায়।

এক সার ডিলার বলেন, প্রত্যেকটা ডিলার যদি সঠিকভাবে বিক্রি করে তাহলে এই ক্রাইসিস দেখা যাওয়ার কথা না।

সাম্প্রতিককালে সার সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে এবার রবি মৌসুমে যাতে সারের মজুদ সংকট ও দাম না বাড়ে সে জন্য কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

কুষ্টিয়া খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক বিষ্ণু পদ সাহা বলেন, কৃষকরা যেন সঠিক সময়ে ন্যায্যমূল্যে সার পায় সে কারণে আমাদের মনিটরিং আছে। আমাদের কৃষি অফিসার ও উপপরিচালকের কার্যালয়ে যারা আছেন তারা তদারকি করছেন।

আর কালোবাজারি ও সার সংকটের বিষয়ে কথা বলতে চাননি বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক লিয়াকত আলী।

জেলায় বিসিআইসি ও বিএডিসির মোট ডিলার রয়েছে ১৬টি। চলতি মাসে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ২৬১ মেট্রিক টন। দ্রুত সার সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি কালোবাজারি বন্ধ চান ডিলার ও কৃষক।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৫, ২০২২ ১২:৩৯ অপরাহ্ন
সরিষাক্ষেতের কীটনাশকে মারা যাচ্ছে কোটি কোটি মৌমাছি
কৃষি বিভাগ

সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার প্রতিটি মাঠে এখন সরিষা ফুল। পুরোমাঠ যেন ঢেকে আছে হলুদের চাঁদরে। সরিষাক্ষেতে গুণ গুণ শব্দে মৌমাছিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে এ ফুল থেকে ও ফুলে। এ মৌসুমে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌ খামারিরা।

কিন্তু মধু সংগ্রহের ঠিক সময়ে অসচেতনভাবে সরিষাক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন কৃষকরা। এতে কোটি কোটি মৌমাছি মারা যাওয়ায় চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন মৌ খামারিরা।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে ৫৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৪৯ হাজার ৫০০ হেক্টরে। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ বেশি হবে, এমনটাই আশা করছে কৃষি অফিস।

কৃষকদের সচেতনতার অভাবে এই কীটনাশক ব্যবহারে ২ হাজার টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ভেস্তে যেতে বসেছে। মৌমাছি মারা যাওয়ার কথা স্বীকার করে কৃষি বিভাগ বলছে কৃষকদের সচেতনতায় মাঠে নেমেছে তারা।

জেলার উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও শাহজাদপুরে সরিষা ফুল থেকে পোষা মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহে এসেছেন প্রায় ৫ শতাধিক খামারি। প্রতিবছর খামারিরা এসকল স্থান থেকে মধু সংগ্রহ করেন। এবারও ২ হাজার টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে মাঠে বসিয়েছেন মৌ বাক্স। সরিষা ফুল থেকে পোষা মৌমাছি দিয়ে প্রতিবছর কয়েকশ কোটি টাকার মধু সংগ্রহ করা হয়। যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা হয়। সম্ভাবনাময় এই খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েক হাজার বেকার যুবকের।

কিন্তু এ বছর সরিষা চাষিরা ক্ষেতে ফলন বাড়ানোর আশায় ভিটামিন জাতীয় বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ শুরু করেছেন। সচেতনতার অভাবে একজনের দেখাদেখি অপর কৃষকও সরিষা ক্ষেতে অধিক ফলনের আশায় এই কীটনাশক স্প্রে করছে। এতে ফুল থেকে মধু সংগ্রহের সময় খামারিদের মৌমাছি মারা যাচ্ছে। এর ফলে মধু সংগ্রহে ব্যঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লাপাড়া উপজেলার আলী গ্রামেআসা ‘আশার আলো’ মধু খামারি আব্দুর রশিদ জানান, এ বছর সরিষার জমির পাশে মধু সংগ্রহের জন্য ৩৫০টি মৌ বাক্স বসিয়েছি। সেখানে ১০ দিন ধরে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন জমির মালিকেরা। এতে সরিষার ফুলে মধু সংগ্রহ করতে বসা অন্তত ১ কোটি মৌমাছি মারা গেছে। সরিষার ফুল থেকে আমাদের মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৯ টন ছিলো। কিন্তু কৃষকদের সচেতনার অভাবে ভেস্তে যেতে বসেছে আমাদের স্বপ্ন। আমরা নিরুপায় হয়ে মৌ বাক্সগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছি।

আরেক মৌ খামারি আফছার আলী জানান, ৪০০ মৌ বাক্স সরিষা মাঠে ফেলেছেন। প্রতিটি বাক্সে তার ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার মৌমাছি রয়েছে। কৃষকদের কীটনাশক ছড়ানোর কারণে তার অন্তত ২ কোটি মৌমাছি মারা গেছে।

একই এলাকার খামারি মোতালেব হোসেন, আফছার আলী, আব্দুল আহাদের অবস্থা প্রায় একই রকম। এদেরও বিপুল পরিমাণ মৌমাছি কীটনাশকের কারণে মারা গেছে।

তাড়াশ উপজেলার মান্নান নগর গ্রামের কৃষক জুলমাত হোসেন জানান, সরিষার ফলন বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীদের পরামর্শে ক্ষেতে কীটনাশক দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর ফলে ফলন বৃদ্ধি পাবে কিনা তা নিশ্চিত নই। তবে এই বালাইনাশক স্প্রে করার কারণে মৌমাছি মারা যাচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের জঙ্গলখামার গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, চলতি বছরে তিন বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, তাহলে বিঘা প্রতি ৮ মণ সরিষা পাওয়া যাবে। আর বাজারমূল্য ভালো থাকলে ২৪ মণ সরিষা ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হবে বলেও আশাবাদী।

সরিষা চাষি জাহাঙ্গীর হোসেন, মান্নান শেখ, জাহিদ হোসেন জানান, সরিষার ফলন বৃদ্ধির জন্য ক্ষেতে ভিটামিন জাতীয় কীটনাশক ছিটিয়েছেন। ওষুধ ছিটানোর কারণে মৌমাছি মারা পড়েছে। কিন্তু এই কীটনাশক প্রয়োগের কারণে মৌমাছিগুলো মারা যাবে এ কথাগুলো তাদের জানা ছিল না।

জেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, সরিষা ক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোর কারণে মৌমাছি মারা যাচ্ছে এই খবর পেয়ে জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ফসলের মাঠগুলো পরিদর্শন করেছেন। মধু খামারিদের মৌমাছি ভোর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে থাকে। বিকেলে মৌমাছিগুলো তাদের বাক্সে ফিরে যায়। কৃষকেরা বিকেলে তাদের সরিষা ক্ষেতে কীটনাশক ছিটালে মৌমাছির কোনো ক্ষতি হতো না। কৃষকদের অসচেতনতার জন্য এমনটা হয়েছে।

তবে কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যেই জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরিষা চাষিদের এ বিষয়ে সচেতন করতে সবধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। কৃষকদের সচেতন করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop