আমের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী
প্রাণ ও প্রকৃতি
১১:০৫ পূর্বাহ্ন
ড্রাগন ফল মূলত আমেরিকার প্রসিদ্ধ একটি ফল যা বর্তমানে আমাদের দেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ২০০৭ সালে থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এই ফলের বিভিন্ন জাত আনা হয়। ড্রাগন ফলের গাছ এক ধরনের ক্যাকটাস জাতীয় গাছ। এই গাছের কোন পাতা নেই। ড্রাগন ফলের গাছ সাধারনত ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।
সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে মাছের দাম। তবে কিছুটা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম।
শুক্রবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সপ্তাহে বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। মাছের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা পর্যন্ত। আর ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে কমেছে ১০ টাকা।
সপ্তাহের ব্যবধানে সব থেকে বেশি বেড়েছে গাজরের দাম। এক সপ্তাহ আগে কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া গাজরের দাম বেড়ে ১৩০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এটিই এখন বাজারের সব থেকে দামি সবজি।
কেজি একশ টাকার ওপরে বিক্রি হওয়ার তালিকায় রয়েছে পাকা টমেটো। আগের সপ্তাহে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকা টমেটোর দাম বেড়ে এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
এর সঙ্গে দাম বেড়েছে বেগুন, ঝিঙে, করলা, বরবটি, চিচিঙ্গার। বেগুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ঝিঙের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে।
করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। চিচিঙ্গার কেজি সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা হয়ে গেছে। ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটির দাম বেড়ে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
বেশিরভাগ সবজির দাম বাড়ার মধ্যে অপরিবর্তিত রয়েছে ঢেঁড়স, পটল, পেঁপে, কাঁচকলার দাম। আগের মতো ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী আয়নাল বলেন, বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি এমন থাকলে সামনে সবজির দাম আরও বাড়তে পারে।
খিলগাঁও তালতলা বাজার থেকে সবজি কেনা আমিনুল ইসলাম বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম বাড়তি। ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে আসলে তেমন কিছুই কেনা যায় না। করোনার কারণে এমনিতেই আয় কমে গেছে। এখন সবকিছুর দাম বাড়লে, আমাদের কী অবস্থা বুঝে দেখেন?
এদিকে দুই সপ্তাহ আগে বেড়ে যাওয়া আদা বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। আর দেশি আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। এর সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। দেশি পেঁয়াজের কেজি গত সপ্তাহের মতো ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে, যা আগে ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। মৃগেল মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে।
চিংড়ি আগের মতো ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। রূপচাঁদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। এ দুটি মাছের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে।
মাছের দামের বিষয়ে রামপুরার ব্যবসায়ী সুবল বলেন, বাজারে মাছের আমদানি কম। এ কারণে দাম একটু বেশি। সামনে মাছের দাম আরও বাড়তে পারে।
মাছ ও সবজি দাম বাড়ার মধ্যে কিছুটা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। বেশিরভাগ বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫০ টাকা কেজি।
ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে পাকিস্তানি কক বা সোনালী মুরগি এবং লাল লেয়ার মুরগি। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা। আর সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা।
মুরগির পাশাপাশি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের। গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা। আর খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা।
এর সঙ্গে গত সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে আলু, ডিম ও পেঁয়াজের। আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা। আর ফার্মের মুরগির ডিম ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা।
মুরগির দামের বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সালাম বলেন, লকডাউনের কারণে হোটেলগুলোতে বিক্রি কমেছে। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ কারণে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা কম এবং দাম কমেছে।
সুত্রঃ জাগো নিউজ
নওগাঁ জেলা থেকে আম রুপালি আমের পর এবার বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’। ইংল্যান্ডে রপ্তানির উদ্দেশ্যে বুধবার (৭ জুলাই) বিকেলে তৃতীয় চালানে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার বরেন্দ্র অ্যাগ্রো পার্ক থেকে ৫০০ কেজি ব্যানানা আম ও ৫০০ কেজি আম রুপালি আম ঢাকার শ্যামপুরে পাঠানো হয়েছে।
সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) রাতেই নওগাঁর আমের এই চালান যুক্তরাজ্যে পৌঁছাবে।
এর আগে গত ১৭ ও ২০ জুন সাপাহার উপজেলার বরেন্দ্র অ্যাগ্রো পার্ক ও রূপগ্রাম অ্যাগ্রো ফার্ম-এর মালিক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা দুই চালানে আম রুপালি আড়াই মেট্রিক টন ইংল্যান্ডে পাঠান। বাংলাদেশ ফুড অ্যান্ড ভেজিটেবল এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে তিনি ইংল্যান্ডে আম রপ্তানি করেন।
সম্প্রতি দেশে আম উৎপাদনকারী অন্যতম প্রধান জেলা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁ। এ জেলায় চলতি বছর ২৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এ বছর ২ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
এ জেলায় উৎপাদিত আমের ৬০ শতাংশই আম রুপালি জাতের আম (বারি আম-৩)। এ জন্য নওগাঁ আম রুপালি আমের জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে শুরু করেছে। এছাড়াও দেশীয় জাত ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া, নাগফজলী, আশ্বিনা, কাটিমন, বারি আম-৪ ও হাড়িভাঙা আম চাষ হচ্ছে। দেশী প্রজাতির আম ছাড়াও বিদেশী জাতের মিয়াজাকি, থাই ব্যানানা ম্যাঙ্গো, রেড পালমার, টেনসিংটন প্রাইড, অস্টিন, গিলানি ও রুবি জাতের আমগাছও রয়েছে। এ জেলার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলায় আমের বাগান বেশি রয়েছে।
সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুজিবর রহমান জানান, বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম চাষের জন্য উপজেলার ১৫ চাষিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। মৌসুমজুড়েই এই চাষিদের বাগানে আম উৎপাদনের প্রক্রিয়া আমরা দেখভাল করেছি। এই চাষিদের উৎপাদিত ও ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত আম বিদেশে পাঠানোর জন্য উপযুক্ত। যে আম দেশের বাজারে দুই হাজার টাকা মণে বিক্রি হচ্ছে সেই আম রপ্তানিকারকদের কাছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করছেন চাষিরা।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের (বারি) ফল ও উদ্যান গবেষণা বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিনের সহযোগিতায় গত ১৭ জুন এক মেট্রিক টন (এক হাজার কেজি) ও ২০ জুন আরও দেড় মেট্রিক টন আম রুপালি আম কোনো ঝামেলা ছাড়াই বিদেশে পাঠাতে পেরেছেন তিনি। তৃতীয় চালান নিয়েও ঝামেলা হবে না বলে তিনি মনে করেন। লন্ডনের একজন ক্রেতা আমগুলো আমার থেকে নিচ্ছেন। সেখান থেকে ইংল্যান্ড ছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তিনি আম বিক্রি করে থাকেন। এ বছর আরও প্রায় ৫-৬ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করতে পারবেন। যুক্তরাজ্য ছাড়াও ফিনল্যান্ড, ইতালি ও সুইডেনে আম পাঠানোর জন্য তিনি অর্ডার পেয়েছেন।
এগ্রিভিউ/এসএমএ
লকডাউনে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে প্রথম দিকে পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি লক্ষ্য করা যায়। আজও রাজধানীর কাঁচা বাজারগুলোতে গুটি কয়টা পণ্য ছাড়া অধিকাংশ পণ্যের দাম এখনো নামেনি। বাড়তি দামেও বেলা বাড়ার সাথে সাথেই বাজারে পণ্য কিনতে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। কাঁচা সবজির বাজার, মাছের বাজার, মুদি দোকানগুলোতেও ভিড়। করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেও বাজার করছেন অনেকে।
বুধবার (৭ জুলাই) রাজধানীর মালিবাগ বাজার, বউবাজার, হাজীপাড়া, রামপুরা এলাকার বাজারগুলোতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। সকালের ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যেও ক্রেতাদের যথেষ্ট সমাগম বাজারে দেখা যায়। লকডাউনে আয় কমেছে অথচ পণ্যে দাম এখনো না কমায় অস্বস্তি দেখা দিয়েছে ক্রেতাদের মাঝে।
বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, আলু ২৫, টমেটো ৮০-৯০, ঢেঁড়স ৪০-৫০, কাঁকরোল ৫০, বেগুন ৫০-৬০, কাঁচা মরিচ ৬০, পেঁপে ৪০, কচুর লতি ৬০-৭০, বরবটি ৫০-৬০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও বাজারে আসা নতুন সবজির দামও বাড়তি। আটি প্রতি লাল শাক ২০-২৫, পুইশাক ২৫-৩০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। চলতি মাসে কাঁচা সবজির দাম প্রায় কেজি প্রতি ২০-৩০ বেড়েছে।
বেসরকারি অফিসের চাকরিজীবী মুছলেম উদ্দীন বলেন, লকডাউনে আয় কমেছে, কিন্তু পণ্যের দাম যদি না কমে তাহলে আমাদের সংসার বাঁচবে কিভাবে। পণ্যের দাম কমানোর জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে তো না খেয়ে মারা যেতে হবে। ঘর ভাড়া দিয়ে আয়ের কিছুই থাকে না।
আবারও এসেছে বর্ষাকাল,গাছ লাগানোর মৌসুম।এমন দিনে চলে রোদ ও মেঘের লুকোচুরি খেলা। এই রোদ, আবার এই আকাশ থেকে নামছে অঝোর ধারায় বৃষ্টি।প্রকৃতির এই নান্দনিক দৃশ্যগুলো যদি দেখা যায় বারান্দায় গড়ে ওঠা সবুজ বাগানে বসে, তবে সেই অনুভূতি কী রকম হয়, তা শুধু সেখানে বসেই অনুভব করা যাবে।
ইট-পাথরের এই শহরে যেদিকেই চোখ যায়, উঁচু দালান, গাড়ি, নানা চোখ ধাঁধানো স্থাপনা। সবুজ, সতেজ গাছগুলো ঠাঁই পাচ্ছে ছাদের ওপরেই।ইট-পাথরের শহুরে বাড়িঘরে একটু সবুজের পরশ যেন প্রাণের সঞ্চার করে।ঘরের সামনে একফালি সবুজ নিমেষে আপনার মন ভালো করে দিতে পারে। সারাদিনের ক্লান্ত অবসন্ন শরীর-মন নিয়ে যখন আপনি ঘরে ফেরেন, তখন এই সাধের সবুজ গেরস্থালিই, আপনার মনে বুলিয়ে দিতে পারে শান্তির পরশ তাই অবসর পেলেই গাছের একটু যত্নআত্তি করুন।বিনিময়ে পান ফ্রেশ অক্সিজেনের আবিরাম যোগান।
বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি গাছের জন্য অনেক উপকারী। বৃষ্টির পানিতে যেমন থাকে পটাশিয়াম তেমনি থাকে সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সালফেট ও নাইট্রেট আয়ন। তাছাড়া এই বৃষ্টির পানিতে রয়েছে নাইট্রোজেন যা গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্য সুনিশ্চিত করে। এক পশলা বৃষ্টির পর ছাদ বা বারান্দার গাছগুলোকে অন্যরকম লাগে। চির সবুজ একান্তই সতেজ নির্মল লাগে যা চোখে দৃষ্টি নন্দিত মনে হয়। হ্যাঁ এই বৃষ্টির পানি আপনার ট্যাপের পানির চেয়ে অনেক পুষ্টি সমৃদ্ধ যার জন্যে বর্ষাকালে গাছের পাতাগুলো আরো চির সজীব আরোও সবুজ মনে হয়। তবে এই অতিরিক্ত বৃষ্টি গাছের জন্য অনেক ক্ষতিকর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।তাই এমনভাবে বাগান সাজাতে হবে, যাতে শুধু বৃষ্টির পানিটুকুই গাছ পায়। তার ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে বাগানকে।বর্ষায় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাগানকে রক্ষা করতে আপনাদের জন্য উপস্থাপন করা হলো কিছু টিপস।
১) গাছকে ছায়ায় রাখা
বর্ষাকালের অতিবৃষ্টি কিছু কিছু গাছের জন্য অনেক ক্ষতি বয়ে আনে। ক্যাকটাস বা সাকুলেন্ট সদস্যদের গাছ বেশি পানি সহ্য করতে পারে না তাই এদের খোলা আকাশের নিচে না রাখাই ভালো। এই জাতীয় গাছগুলোকে কোনও শেডের তলায় নিয়ে গিয়ে রাখতে হবে। অথবা ছাদের একটা পাশে নিয়ে গিয়ে তার উপরে টিন বা এ জাতীয় কিছু দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন। শেডের সুবিধে না থাকলে চারাগুলিকে বারান্দার কোণে বা ঘরের জানালার কাছেও রাখতে পারেন।
২) পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা রাখা: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গাছে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।গাছের গোড়ায় যেন বৃষ্টির পানি না জমে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেকোনো ঘরোয়া গাছের জন্য এমন টব বা পাত্র বাছাই করা দরকার যেটায় পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনমত ছিদ্র থাকে। আর ইদানীং বড় বড় ড্রাম ব্যবহার করা হয় তাই এই ড্রামগুলোতে যেন নির্দিষ্ট পরিমাণ ছিদ্র থাকে তা খেয়াল রাখা জরুরি।খোলা জায়গায় বাগান থাকলে যাতে সেখানে পানি না জমে সেদিকে নজর দিতে হবে।
৩) মাটির ক্ষয় রোধ:
অনেক সময়েই দেখা যায়, বর্ষার পানিতে গাছের মাটির উপরের স্তর ধুয়ে যায়। এর সঙ্গে কিন্তু মাটির সার, উর্বর অংশটুকুও ধুয়ে সাফ হয়ে যায়। ফলে গাছ পানি পেলেও পুষ্টি পায় না। তাই গাছের কাণ্ড থেকে প্লাস্টিক বেঁধে টবের মাটি ঢেকে রাখতে পারেন। তবে অস্বচ্ছ আবরণের পরিবর্তে পারফোরেটেড শিট দিয়ে টবের উপরটা ঢেকে দিতে পারেন। এতে বৃষ্টির পানি চুয়ে চুয়ে মাটিকে পুষ্ট করবে। এঁটেল মাটি বেশি ব্যবহার করতে পারেন। এরা খুব তাড়াতাড়ি জল টেনে নেয়।
৪) প্রুনিং:
বর্ষায় অনেক গাছই খুব ঝাঁকড়া হয়ে যায়। ফলে একনাগাড়ে অনেক দিন বৃষ্টির পরে মাঝেমাঝে রোদ উঠলেও গাছের সব জায়গায় সেই রোদ পৌঁছয় না। বিশেষ করে শিকড়ে রোদ, অক্সিজেন না পৌঁছলে গাছের গোড়া পচে যেতে পারে। তাই গাছের ডাল ছেঁটে দিতে হবে। ফুলের গাছে যে ডালে ফুল শুকিয়ে যাবে, তা কেটে দিতে পারেন। তা হলে সেখান থেকে আবার নতুন কুঁড়ি জন্মাবে।
৫) কেঁচোর কারবার:
বর্ষায় কেঁচোর আনাগোনা বাড়ে। তবে এরা বন্ধু কীট। মাটি খুঁড়ে যেমন মাটি উর্বর করে তেমনই নাইট্রোজেনের জোগান দিয়েও গাছকে পুষ্টি দেয়। তাই কোনও গাছের গোড়ায় যদি দেখেন, একাধিক কেঁচো জমা হয়েছে, তাদের তুলে অন্যান্য গাছের টবে সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে পারেন। এতে সব গাছেরই উপকার হবে।
৬) কীটনাশক:
বর্ষার আর্দ্র পরিবেশে পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়ে। নতুন পাতার রস খেতেও এরা গাছে জড়ো হয়। তাই বর্ষার শুরু থেকেই কীটনাশকের ব্যবহার শুরু করতে হবে। প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে নিমের তেল, গোলমরিচ গুঁড়ো, শুকনো মরিচের গুঁড়া দিতে পারেন গাছের গোড়ায়। এতেও কাজ না হলে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
৭) সার প্রয়োগ:
যেহেতু বর্ষার পানি উপরের স্তরের মাটি অনেকটাই ধুয়ে যায় তাই গাছে সার দিতে হবে নিয়মিত। তবে এ সময়ে গলা-পচা সারের তুলনায় শুকনো সারের উপরে ভরসা রাখাই ভাল। চায়ের পাতা রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে, ডিমের খোলা শুকিয়ে গুঁড়ো করে দিতে পারেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ৬৫ মণ (২,৬০০ কেজি) আম উপহার পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দোপধ্যায়কে ২৬০ কার্টুনের এ আমের চালানটি পাঠায় বাংলাদেশি ঢাকা মেট্রো ডি-১২-৩৩২৩ নং কাভার্ডভ্যানে। এটা বাংলাদেশের বিখ্যাত রংপুরের হাড়িভাংগা আম। ঢাকার রফতানি কারক প্রতিষ্ঠান এগ্রোভিশন প্রাইভেট লি. এর মাধ্যেমে বেনাপোল নোম্যন্সল্যান্ডে আমের এ চালানটি আসে।
রোববার (৪ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্টের নো-ম্যান্সল্যান্ডে উপহারের আমের প্যাকেট ভারতে নিযুক্ত কলকাতার প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) মো. সানিউল কাদেরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।এ সময় বেনাপোল নো ম্যানস ল্যান্ডে ভারতে নিযুক্ত কলকাতার প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) মুহাম্মাদ সামিউল উপহারের ২৬০০ কেজি (২৬০ কার্টন) আম গ্রহণ করেন।
শরীরে অপূর্ব সুন্দর সবুজ রঙ। এমন রঙের সাথে মিল রেখে পাখি বিজ্ঞানীরা এর নামকরণ করেছেন সবুজ টিয়া। এরা বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি। এরা সবুজ বনভূমি, পাতাঝরা বন, আবাদি জমি, বাগান ও লোকালয়ে বিচরণ করে। সচারাচর ছোট ছোট দলে ঘুরে বেড়ায়। ফুল ও ফলদ গাছের ঘেরা বাগান ও শস্যক্ষেতে এসে খাবার খায়।
দেশে প্রায় ৭ রকমের টিয়া রয়েছে। এর মাঝে ‘সবুজ টিয়া’ একটি বিশেষ প্রজাতি। কলাপাতা ও সবুজ রঙের দীর্ঘ সুদর্শন পাখি। আকারে অনেকটা কাকের সমান। এর আরেকটি নাম ‘টিয়া-তোতা’। এরা সারা দেশেই আছে, সহজে দেখা মেলে।কিন্তু বিগত কয়েক দশক ধরে বেশ কিছু জায়গায় এর সংখ্যা কমে আসছে।
টিয়ারা সহজেই পোষ মানে এবং কিছুটা মানুষের মতো করে কথা বলতে পারে। আর এটিই বিভিন্ন প্রজাতির টিয়াদের জন্য চরম বিপদের কারণ হয়েছে। এর জন্যই বর্তমানে প্রচুর পরিমানে টিয়া অবৈধভাবে ধরা ও বিক্রি করা হয়। বন্যপ্রাণী নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ আইনে এমন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে অবৈধ এবং দন্ডবিধিযুক্ত অপরাধ। অবৈধভাবে বন বা পাহাড়ি এলাকা থেকে সবুজ টিয়াসহ অন্য প্রজাতির টিয়া শিকার এবং তারা যেসব গাছে বসবাস করে সেগাছগুলো কেটে ফেলার ফলে জীবন বর্তমানে অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ এর ৩৮(২) ধারা অনুযায়ী কেউ অভিযুক্ত হলে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
আমকে ফলের রাজা বলা হয়। স্বাদ ও সুবাসে আম অন্যান্য ফলের চেয়ে সেরা। ছোট বড় সবাই আম পছন্দ করেন। আমার বেশি সুস্বাদু বলে বেশি পরিমাণে খায়া যাবে না। এবার জেনে নিন বেশি আম খেলে যেসব ভয়ঙ্কর বিপদ হবে।বেশি আম খাওয়া মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় হলেও অতিরিক্ত আম খেয়ে কিন্তু বিপদও ডাকছেন আপনি। ডাক্তারদের মতে শরীরের দিকে খেয়াল না রেখে আম খেলে কিন্তু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে নানা ক্ষতি।
ডায়াবেটিস রোগীদের:
আম ফ্রুকটোজে ভরপুর হওয়ায় রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই যারা ডায়াবিটিসের রোগী, তাদের জন্য আম বিপদ ডেকে আনতে পারে। এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একেবারে আম খাওয়া ঠিক না্। খেলেও নিয়ম মেনে কম খেতে হবে।
কৃত্রিমভাবে পাকানো আম:
আজকাল বহু আমই কৃত্রিম ভাবে পাকানো হয়। ক্যালশিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা হয় আম পাকাতে। এই রাসায়নিকগুলি ব্যবহারের ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এর থেকে শরীরে ক্লান্তি, অবশ বোধ করা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু তা-ই নয়, এই সব রাসায়নিক ব্যবহার করার ফলে ত্বকেরও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
হজমে সমস্যা:
অতিরিক্ত আম খেলে আরও যে বড় সমস্যা হয় সেটি হল হজমের সমস্যা। রোজ বেশি পরিমাণে আম খেলে হজমশক্তির উপর তার প্রভাব পড়ে। শুধু তাই নয়, দিনের পর দিন অতিরিক্ত আম গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। তাই হজমকে ঠিক রাখতে হলে ঘন ঘন আম খাওয়া বাদ দিতে হবে।
পুষ্টিগুণ ঠিক রাখতে:
আম অনেকে আম জুস করে খেতে পচ্ছন্দ করেন। কিন্তু আম কেটে খাওয়াই বেশি ভালো। কারণ জুস করে খেলে আমের মধ্যে যে ফাইবার আছে তার গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়।
ত্বকেরও সমস্যা
আজকাল বহু আমই কৃত্রিম ভাবে পাকানো হয়। ক্যালশিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা হয় আম পাকাতে। এই রাসায়নিকগুলো ব্যবহারের ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এর থেকে শরীরে ক্লান্তি, অবশ বোধ করা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু তা-ই নয়, এই সব রাসায়নিক ব্যবহার করার ফলে ত্বকেরও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সচেতনতা:
আম খাওয়ার সময় কিছু সচেতনতাও অবলম্বন করতে হয়। খেয়াল রাখুন, আমে লেগে থাকা আঠা যেন কোনও ভাবে মুখে লেগে না যায়। এ থেকে মুখে চুলকানি, জ্বালাপোড়া হতে পারে। বেশ কয়েকদিন এর দাগও থেকে যায়।
অ্যালার্জির সমস্যায়:
যাদের ত্বকে অ্যালার্জির প্রবণতা আছে, তারাও আম খাওয়া নিয়ন্ত্রণ আনুন। কারণ আম থেকে চোখ জ্বালা, হাঁচি, পেটে ব্যথা, ঠান্ডা লেগে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।
বাতের ব্যাথায়:
আর্থারাইটিস বা বাতের ব্যথায় যারা ভোগেন তারা আম এড়িয়ে চলুন। আম খেলে এই ধরনের ব্যথা বাড়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।যাদের শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে তারা আম খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নিন।
অনেকে আম চিবিয়ে না খেয়ে আমের জুস করে খান। কিন্তু এতে আমের মধ্যে অবস্থিত ফাইবারগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সেই ফাইবারের গুণাগুণ শরীরে কাজে লাগে না। উল্টে পেটের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।