১১:১৮ পূর্বাহ্ন

রবিবার, ৩ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
  • হোম
  • ঝড়-বৃষ্টিতে বোরোর ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় ঝিনাইদহের ধান চাষিরা
ads
প্রকাশ : মে ৩, ২০২৬ ৯:২২ পূর্বাহ্ন
ঝড়-বৃষ্টিতে বোরোর ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় ঝিনাইদহের ধান চাষিরা
কৃষি বিভাগ

ঝিনাইদহ জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাাচ্ছে পাকা বোরো ধান। দিগন্ত জোড়া ধান ক্ষেতের আলোয় ছড়িয়ে পড়েছে সোনালি আভা। মৃদু বাতাসে মাঠ জুড়ে দুলছে চকচকে সোনালী ধানের শীষ। চলতি মৌসুমে ধানের ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে প্রশান্তির হাসি।

আগামী তিন সপ্তাহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো ধানের ব্যাপক ফলন হবে বলে আশা করছেন ঝিনাইদহের ধান চাষিরা। তবে গত কয়েকদিনের মাঝারি বৃষ্টিতে অনেক মাঠে ধানের গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এতে লোকসান ও ফসলহানীর আশঙ্কায় আছেন তারা।

সরেজমিনে জেলার কোটচাঁদপুর, সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল, কালীগঞ্জ ও মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন মাঠে বোরো ধানের ব্যাপক ফলন দেখা গেছে। এরই মধ্যে কিছু কিছু এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে।

কয়েকদিন ধরে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকার পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় আছেন কৃষকেরা। অনেক মাঠে পড়ে আছে কাটা ধানের গোছা। মাঠ ভেজা থাকায় ফসল বাড়িতে নিতে বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা। আগামী কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টি আরও বাড়লে শেষ মুহুর্তেও ফসলহানী হতে পারে ।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ৯০ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বোরো ধানের আবাদ কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে জেলার ৬টি উপজেলায় মোট প্রায় ৯০ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আবহাওয়ার প্রতিকূল পরিস্থিতি কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

সূত্র জানায়, এরই মধ্যে জেলার ২১ হাজার ২১০ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। যা মোট আবাদি জমির প্রায় ২৪ শতাংশ। আগামী দুই সপ্তাহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ ধান কর্তন ও অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন কৃষকরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সাথে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী কয়েকদিন ঝিনাইদহ জেলার অধিকাংশ এলাকার ওপর দিয়ে হালকা দমকা হাওয়ার সাথে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মহেশপুর উপজেলার হুদা শ্রীরামপুর গ্রামের বোরো চাষি নাজমুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ধান পেকে গেছে। পাকা ধান এখনো মাঠে রয়েছে। বৃষ্টির আশঙ্কায় কাটতে পারছিনা। কাটা ধান বৃষ্টির পানিতে বেশি নষ্ট হয়। শেষ বেলায় এসে ধান নিয়ে খুব চিন্তায় পড়েছি।

সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের কৃষক শামীম হোসেন ও কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের শেখ জসিম উদ্দিন জানান,  আর ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে তাদের মাঠের ধান কাটা শুরু হবে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মাঠে এখনো পানি জমে আছে। ধানের ফলন এবার খুব ভালো। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টি হলে ধান ঘরে তোলা কষ্ট হয়ে যাবে। শেষ সময়ে ধানের ক্ষতি হয়ে গেলে কৃষকের কষ্টের শেষ থাকবে না।

কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের গুড়পাড়া গ্রামের কৃষক রশিদ হোসেন বাসসকে বলেন, ‘একদিকে মাঠে পাকা ধান, আরেক দিকে হাড়েফাড়ে মেঘ। কি দিয়ে কি করব বুঝতে পারছিনা। ধানের ফলন দারুণ হয়েছে। কিন্তু সেই ধান ভালো ভাবে ঘরে তুলতে না পারলে কোনো লাভ নেই। সেই সাথে ধানকাটা শ্রমিকও কমে গেছে। নিচু জমির ধান হারভেস্টার মেশিন দিয়ে অনেকেই কেটে নিয়ে আসছে। কিন্তু ডাঙার জমির ধান হারভেস্টার দিয়ে কাটলে তো হবে না।’

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বাসসকে বলেন, চলতি মৌসুমে জেলার সব উপজেলায় বোরো ধানের ব্যাপক ফলন হয়েছে। আশা করছি, কৃষক এবার ধানের ভালো দামও পাবেন।

তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে জেলা জুড়ে বোরো ধান কাটার তোড়জোড় শুরু হবে। তবে আবহাওয়ার পরিস্থিতিই এখন কৃষকের চিন্তার বড় কারণ। ঝড়-বৃষ্টি বা টানা বৃষ্টিপাত হলে বোরো ধান নিয়ে কৃষকের কষ্ট বাড়বে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষক পর্যায়ে জানাতে আমাদের মাঠকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।

শেয়ার করুন

ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop