১১:০৭ পূর্বাহ্ন

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
  • হোম
  • শেরপুরে পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে
ads
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৯:৪৩ পূর্বাহ্ন
শেরপুরে পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে
কৃষি বিভাগ

চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও অধিক ফলনে জেলায় সোনালি আঁশে সুদিন ফিরেছে। বিগত বছরের থেকে এ বছর বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পাটের অধিক উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। শেরপুরে উৎপাদিত পাটের বাজারমূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলার মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। চাষিরা কোথাও পাট কাটছেন, কোথাও আঁটি বেঁধে পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ জাগ দেয়া পাটের আশঁ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়া জলাশয়ের পাশে খাটানো বাঁশ ও বিভিন্ন কাঠের আড়ায় পাটের আঁশ ছাড়িয়ে শুকানো ও পাটকাঠি সংগ্রহের কাজ করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ার আশায় বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময়ে মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা বেড়েছে দিগুণ। তাই গ্রামীণ জনপদে কৃষক-কৃষাণীরা মেতে উঠেছেন পাট উৎসবে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এক যুগ আগেও জেলায় পাট চাষির সংখ্যা ছিল অনেক কম। বর্তমানে হেক্টর প্রতি পাটের গড় উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছর বেড়েছে পাট চাষিদের সংখ্যা। তাই চলতি বছর ১ হাজার ৯১১ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে পাটের আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৯১২ হেক্টরে। এসব জমি থেকে ৪ হাজার ১৫ মেট্রিক টন পাট উৎপাদন হবে।

ইতোমধ্যে জেলায় ৯০ শতাংশ জমির পাট কাটা শেষ হয়েছে। যেখানে বিঘা প্রতি পাটের গড় ফলন ১০ থেকে ১২ মণ। কৃষকরা বলছেন, বিঘা প্রতি পাট চাষে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয় এবং মুনাফা থাকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতি পাটখড়ির আঁটি ৮০ থেকে ১শ’ টাকা দরে বিক্রি করে বাড়তি আয় হচ্ছে।

এদিকে, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পাটের কেনাবেচা জমে উঠেছে। কৃষকের কাছ থেকে পাট কিনছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে এসব পাট যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। তাই বাজারে পাটের চাহিদা থাকায় উৎপাদিত পাটের ন্যায্য মূল্য নিয়ে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।

তবে কৃষকেরা জানান, সিন্ডিকেট করে মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ীরা যেন পাটের দাম কমাতে না পারে সেদিকে সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে একদিকে যেমন কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ কমবে। অন্যদিকে পাটের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হবেন পাট চাষিরা।

সদরের কামারেরচরের সাহাব্দির চরের পাটচাষি কাদের মিয়া বাসস’কে বলেন, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। রোগবালাইও তুলনামূলক অনেক কম ছিল। এছাড়া প্রতি বিঘায় আগের বছরের চেয়ে বেশি পাটের উৎপাদন পেয়েছি। বাজারে ন্যায্য দাম পেলে এবছর আমরা বেশ লাভবান হতে পারব।

সদরের চরমোচারিয়া ইউনিয়নের মুন্সিরচর গ্রামের পাট চাষি সাইদুর রহমান বাসস’কে বলেন, পাট চাষে এবার ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি পাটের আঁশের মানও ভালো হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি পাওয়ায় সেচ খরচও কমেছে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্য দাম নিশ্চিত হলে কৃষকরা আগামীতে পাট চাষে বেশি আগ্রহী হবেন। এজন্য সরকার ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু বাসস’কে বলেন, চলতি বছর পাটের চাষ বৃদ্ধিতে জেলা পাট অধিদপ্তর থেকে প্রায় ৮ হাজার কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১ কেজি করে পাট বীজ প্রদান করা হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, পরিবেশ বান্ধব বলে বাংলাদেশে পাটের বহুমুখী ব্যবহার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে দেশে ও বিদেশে পাটের চাহিদা বাড়ছে। বাড়তি মূল্য পাওয়ার কারণে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন এবং পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

শেয়ার করুন

ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop