১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ১ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অক্টোবর ২২, ২০২১ ৪:৫৩ অপরাহ্ন
ছাদ বাগানে ঝিঙে চাষ করে কৃষক আবু সাঈদের চমক
কৃষি বিভাগ

ইউরোপের মত দেশে থেকেও কৃষির নেশা ছাড়তে পারেনি সৌখিন কৃষক আবু সাঈদ। তাই সুযোগ পেলেই ছুটে আসেন দেশে। বাড়ির ছাদে নানা সবজির চাষ করে ব্যাপক বিনোদন পান তিনি। এবার ছাদে বাক্স পদ্ধতিতে ঝিঙে চাষ করে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে। মাচায় ঝুলে আছে ঝিঙে।এমন দৃশ্য দেখা যায়, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কুন্দরঘোড়া গ্রামে।

ইউরোপ প্রবাসী আবু সাঈদ জানান, তারা তিন ভাই ইউরোপের ইস্তাম্বুল, বেলারুশ ও স্পেনে থাকেন। তবে ইউরোপে থাকলেও কৃষির প্রতি তাদের দুর্বলতা রয়েছে। তিন ভাই বছরের বিভিন্ন সময় পালা করে দেশে আসেন। কৃষি ক্ষেত পরিচর্যা করেন। আবু সাঈদ জানান, গত দুই বছর আগে বাসার ছাদে কাঠ দিয়ে বাক্স বানিয়েছি। সেখানে মিষ্টি কুমড়ো চাষ করেছিলাম। প্রচুর মিষ্টি কুমড়ো হয়। আমার উৎসাহ বাড়ে। পরে ইস্তাম্বুল ও স্পেন থেকে আমার বড় ও ছোট ভাই আসে। তারাও কাজ শুরু করে।

আবু সাঈদ বলেন, গত মাসখানেক আগে বাসার ছাদে কাঠের বাক্স তৈরি করে ছাদ থেকে অন্তত দেড় ফুট উঁচুতে। জৈব সার দিয়ে মাটি প্রস্তুত করি। সেখানে ৩৫ টি ঝিঙে বীজ রোপণ করেছি। মাত্র এক মাসেই ছাদ বাগান থেকে দেড় মণ ঝিঙে পেয়েছি। দেড় মণ ঝিঙে থেকে ৩০ কেজি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলিয়েছি। বাকি ৩০ কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। মূলত শখের বসেই শাক সবজি চাষ করেন।

আবু সাঈদ জানান, গত দুই বছর আগে চিন্তা করেছি বাসার খালি ছাদটাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়। সেই চিন্তা থেকে কাজ শুরু করি। কাঠ দিয়ে বাক্স তৈরি করে নানান জাতের সবজির চাষ করি। এ কাজে বীজ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে কৃষি কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাহিদা খাতুন বাসসকে জানান, প্রবাসী আবু সাঈদ একজন কৃষি উদ্যোক্তা। তার উৎসাহের কারনে উন্নত জাতের ঝিঙের বীজ দেই।

তিনি আমাদের পরামর্শ গ্রহণ করেন। ঝিঙের চমৎকার ফলন হয়। এই এলাকায় যাদের বাসায় ছাদ রয়েছে তারা এখন বাক্স পদ্ধতিতে সবজি চাষে উৎসাহিত হচ্ছে। এতে করে পরিবারের ভিটামিনের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত বাজারে বিক্রি করে অর্থসংস্থানও হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২২, ২০২১ ৪:০৭ অপরাহ্ন
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আমন ধানে কৃষকের মুখে হাসি
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় আগাম আমন ধান কাটতে শুরু করেছেন এলাকার কৃষকেরা। ফসল ভরা মাঠ থেকে ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। চলতি মাসেই চিরিরবন্দরে বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে।

উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় ২৩ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা অর্জিত হয়েছে ২৩ হাজার ৩১০ হেক্টর জমি। যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি ফলন হয়েছে। তবে এবার পার্চিং পদ্ধতি ব্যাপকহারে ব্যবহারের ফলে রোপা আমন ধানের ভালো ফলন আশা করছে কৃষি বিভাগ।

এবারের আমন আবাদের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। প্রথম থেকেই কৃষকের মধ্যে ছিল শঙ্কা। প্রথমত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়া, দ্বিতীয়ত অনাবৃষ্টি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকের মাথায় হাত পড়ে। আমনের যে টার্গেট তারা করেছিল, তা পূরণ না হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। বর্ষাকাল পেরিয়ে যাওয়ার পরেও আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা দেখা মেলেনি। কাঙ্কিত বৃষ্টিপাত না হলেও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের নিয়মিত পরামর্শে সবকিছু মোকাবিলা শেষে মাঠ ঘুরে দেখা যায় আমনের ফলন এবার ভালোই হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাংলা সনের কার্তিক শুরু হতে না হতেই চারিদিকে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে যেসব মাঠ উঁচু এবং আগাম জাতের আলু রোপন করার মতো জমি- সেসব জমিতে আগাম জাতের আমন ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার কৃষকেরা। সেই সাথে গৃহিনীরাও বাড়ির আঙ্গিনা ও উঠান তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা জানান, কৃষকেরা গত বছরের চেয়ে সঠিক সময়ে ধান চাষ করায় বর্তমান আশানুরূপ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এবার চিরিরবন্দরে আমন ধান চাষ বেশি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার ফলন বেশ ভাল হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২২, ২০২১ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম
কৃষি বিভাগ

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮০ টাকার বেশি বিক্রি হয়েছে কয়েকদিন আগেও। এখন তা মিলছে মানভেদে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। অর্থাৎ উর্ধ্বমুখী পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে।

গতকাল রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আসায় বাজারে দাম কমেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আগামীতে আর পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা নেই।

খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। এতে দেশি পেঁয়াজের দামও কমে ৬০ টাকায় মিলছে। কিছু দোকানে বাছাই করা ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৫-৭০ টাকায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২১, ২০২১ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন
অধিক লাভে আখ চাষের দিকে ঝুঁকছেন গাজীপুরের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জে আখ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে ওই এলাকার কৃষকরা খুবই খুশি। তারা বাজারে ন্যায্য মূল্যও পাচ্ছেন ভালো। এতে কৃষকদের আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গতবছর ৬০ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ৬১৪ টন আখের আবাদ হয়েছে। এ বছর তা বেড়ে ৬২ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ৭৩৫ টন আখের আবাদ হয়েছে।

উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই কমবেশি আখের চাষ হয়। তবে বাহাদুরসাদী, জামালপুর, মোক্তারপুর ও কালীগঞ্জ পৌরসভায় একটু বেশি চাষ হয়ে থাকে। এ উপজেলায় বিভিন্ন জাতের আখ চাষ হলেও ঈশ্বরদী ১৬ ও ৩৬, টেনাই, বিএসআরআই ৪১ ও ৪২ জাতের আখ বেশি চাষ হচ্ছে। দিন দিন আখ চাষে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে যে আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে।

এখন আখের ভরা মৌসুম। গরম কিংবা শীত যে কোনো ঋতূতেই পাওয়া যায় আখ। আর এই আখ বাংলাদেশে চিনি উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল। আখের রস হালকা থেকে গাঢ় সবুজ বর্ণের মিষ্টি তরল পানীয়। আখ বা আখের রস হলো প্রাকৃতিক মিনারেল ওয়াটার, যা আমাদের শুধু তৃষ্ণা নিবারণ করে না, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। আখ চাষে ৭/৮ মাসের মধ্যে বাজারজাত করা যায় এবং ফলনও পাওয়া যায় বলে এ ফসল চাষ করে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের বাশাইর গ্রামের আখ চাষি আব্দুর রহমান জানান, তিনি গত বছর ১০ শতাংশ জমিতে আখের চাষ করেছেন। ওই পরিমাণ জমিতে চাষ করতে খরচ হয়েছিল ৩৪ হাজার টাকা। তিনি পাইকারী ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। এবছর একই পরিমাণ জমিতে আখের চাষ করে ৪৪ হাজার টাকা খরচ করে তিনি ৫৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন।

একই ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের আরেক আখ চাষি ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমি নিজেই সব কাজ করি। এজন্য খরচ খুব একটা হয় না। তবে ৯ শতাংশ জমিতে আমার মাত্র ১০/১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত বছর একই পরিমাণ জমিতে একই খরচে ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করলেও এ বছর ওই জমির আখ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি।’ একই গ্রামের আব্দুল বাতেন জানান, তিনি মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করেছেন। গত বছরও তিনি একই পরিমাণ জমিতে আখ চাষ করেছেন। তবে ৩২ হাজার টাকা বিক্রি করলেও এ বছর বিক্রি করেছেন ৪০ হাজার টাকা।

উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নে দেউলিয়া গ্রামের আখ চাষি আবেদ আলী জানান, এবার প্রথম তিনি ৪ বিঘা জমিতে আখের চাষ করেছেন। গত বছর প্রতিবেশীকে দেখে আখ চাষে তিনি উদ্বুদ্ধ হন। ফলন এবং ন্যায্য মূল্যে খুশি বলেও জানান ওই আখ চাষি।
কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ঘোনাপড়া গ্রামের আক্তার হোসেন বলেন, ‘প্রতিবেশী দুলাল হোসেন, মাজু মিয়া, পনির হোসেন, আকরাম হোসেন মিলে স্থানীয় একজনের কাছ থেকে ৪ বিঘা জমি বর্গা হিসেবে নিয়ে আমরা ৫ জন মিলে আখের চাষ করছি। তবে ফলন এবং ন্যায্য মূল্যে আমরা সবাই খুশি।’

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আখের রসে ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি ত্বকের জন্যও এটি সমান কার্যকরী। এছাড়াও আখের রসকে প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিংকসও বলা হয়। আখের রস গর্ভবতী নারীদের খাদ্য তালিকায় যুক্ত করলে উপকার লাভ করা যায়। এটি গর্ভধারণে সাহায্য ও নিরাপদ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করে। আখের রসে প্রচুর ফলিক এসিড বা ভিটামিন বি ৯ থাকে, যা স্পিনা বিফিডার মতো জন্মগত ত্রুটি থেকে সুরক্ষা দেয়।

এছাড়াও নারীর ডিম্বস্ফোটনের সমস্যা কমায় এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। দাঁত ক্ষয়ের পাশাপাশি নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধের সমস্যাও আখের রস পান করার মাধ্যমে পূরণ করা যায়। রসে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদান থাকে, যা দাঁতের এনামেল গঠনে সাহায্য করে। শিশুরা যদি আখ চিবিয়ে রস পান করে, তাহলে দাঁতের সমস্যা কম হয়। আখের রসে ক্যালসিয়াম থাকে, যা দাঁত ও হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পেটের সমস্যায় আখ খুব উপকারী।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারজানা তাসলিম বলেন, ‘উপজেলার যেসব এলাকায় আখ চাষ বেশি হচ্ছে, স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ওই এলাকার আখ চাষিদের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী দেয়াসহ আখ মাড়াই যন্ত্র দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আখ লাগানো থেকে শুরু করে উঠানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে-ধাপে সার প্রয়োগ ও রোগ-বালাই নিয়ে পরামর্শ দিচ্ছে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা।’ বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২১, ২০২১ ১০:২৩ পূর্বাহ্ন
কৃষকের মাঝে সাড়া ফেলেছে বিনা ধান ১৭
কৃষি বিভাগ

নওগাঁর ধামইরহাটে গতবছর রোপা আমন মৌসুমে বিনা ধান ১৭ চাষ করে ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবারও আগেভাগেই কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন কৃষাণ-কৃষাণী।

বিনা ধান ১৭ মূলত রোপা আমন মৌসুমের জাত। খরা সহিঞ্চু ও উচ্চ ফলনশীল। দেখতে অনেকটা জিরাশাইল চাল এর মত সরু। এ চালের ভাত খেতে অনেকাই সুস্বাদু। তাছাড়া এধানের চাল চিকন হওয়াই বাজারে দাম ভালো পাওয়া যায়।

শুধু তাই নয় বিনা ধান ১৭ কাটা শেষে কৃষক ওই জমিতে হালচাষ করে তিন ফসলী রবি শস্য সরিষা, সূর্যমুখী (তেল জাতীয় ফসল) আলু লাগানো সম্ভব। ফলে একটি পরিবারের চাহিদা অনেকাংশেই পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে জানা যায়, বিনা ধান ১৭ দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ও খরা সহিঞ্চু জাত। এ জাতের ধান চাষে সার বীজ ও পানির খরচ অন্যান্য ধানের চাইতে অর্ধেকেরও কম হয়। তাছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি ও উচ্চফলনশীল হওয়ায় কৃষকরা খুব সহজেই অধিক ফলন ঘরে তুলতে পারেন। এ জাতের ধান সাধারণত আশ্বিন মাসের শেষে পাকতে শুরু করাই ওই সময় ধান কাটতে পর্যাপ্ত শ্রমিকও পাওয়া যায়। ফলে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হন।

আরও জানা গেছে ২০১৭ সাল থেকে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের মাঝে বিভিন্নভাবে প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ দেওয়া, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ, কৃষকদের মাঝে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে বর্তমানে বিনা ধান ১৭ চাষে কৃষকদের মাঝে ব্যাপকভাবে সাড়া পড়েছে।

আলমপুর ইউনিয়ন চৌঘাট এলাকার ধান চাষী রফিকুল ইসলাম বলেন, এক ফসলী জমিতে তিনটি ফসল চাষ করা সম্ভব তা আগে আমার জানা ছিল না। এবার কৃষি অফিসের পরামর্শে ২৪ শতাংশ জমিতে বিনা ধান ১৭ লাগিয়ে আমি লাভবান হয়েছি। এখন আমার ধান কাটা শেষ। ভাবছি আলু, সরিষা লাগাবো।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছা. শাপলা খাতুন বলেন, বিনা ধান ১৭ দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল আগাম জাতের ধান। ফলে কৃষক খুব সহজেই একটি জমি থেকে তিনবার ফসল চাষ করতে পারেন।

তিনি এও বলেন, বিনা ধান ১৭ আগাম জাতের ধান হওয়ায় অনেক আগেই পেকে যায়। মাত্র ১১০ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে ধান কেটে কৃষক ঘরে তুলতে পারেন। আবহাওয়া ও ধানের ফলন ভালো হওয়ায় এবছর উপজেলায় বিশ হাজার আশি হেক্টর মেট্রিকটন ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২১, ২০২১ ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন
তিস্তার পানির স্রোতে নিখোঁজ কৃষক
কৃষি বিভাগ

বুধবার (২০ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে থেতরাই ইউ‌নিয়‌নের চর জুয়ান সাতরা এলাকা দিয়ে নদী পার হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘ‌টে। রাত ৯টা পর্যন্ত বদিউজ্জামানের কোনো হদিস পাওয়া যায়‌নি বলে নিশ্চিত করেছেন উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ কবির।

থে‌তরাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম‌্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, সকা‌লের দিকে ঘাস কাটার জন্য ব‌দিউজ্জামান, শ‌হিদুল ইসলাম, সাজু মিয়া, গোলজার হো‌সেন, ম‌শিউর রহমানসহ ৭ জন তিস্তা নদী পা‌রি দি‌য়ে জুয়ান সাতরা চরগ্রামে গরুর খাবারের জন্য ঘাস কাট‌তে যান। তখন নদীতে কোথাও হাঁটু সমান কোথাও একটু বেশি পরিমাণ পানি ছিল। এরপর দুপু‌রে দিকে ঘাস কেটে নিয়ে নদী পারে এসে দেখেন পানি বেড়েছে। এ অবস্থায় তারা নদী সাঁত‌রে পার হয়ে বাড়ি ফেরার প‌থে ব‌দিউজ্জামান নদীর তীব্র স্রোতে ডু‌বে যান এবং নিখোঁজ হন।

ইউপি চেয়ারম্যান আরও জানান,স্থানীয় অধিবাসীরা দু’টি নৌকা নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার হদিস পায়নি।

উলিপুর ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের সাব অফিসার আব্বাস আলী বলেন, তারা সন্ধ্যা ৬টার দিকে খবর পেয়েছেন। তাদের এখানে কোনো ডুবুরি নেই। রংপুর থেকে ডুবুরি আনতে হয়। সাধারণত রাতে ডুবুরি নামানো হয় না। এজন্য নিখোঁজ হওয়া কৃষকের সন্ধানে কোনো সহযোগিতা করতে পারেন নি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২১, ২০২১ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
পোকার আক্রমণে মরে যাচ্ছে ধান গাছ, দিশেহারা কৃষক
কৃষি বিভাগ

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে আগাম জাতের আমনখেতে নানান পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক স্প্রে করেও দমন না হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৮ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার আমন খেতে মাজরা, কারেন্ট, পাতামোড়ানো পোকার আক্রমণে অনেক খেতের চার ভাগের এক ভাগ নষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন সপ্তাহে দুদিন কীটনাশক স্প্রে করেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। পোকার আক্রমণে খেত পাতা শূন্য হয়ে মরে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, খেতে পোকার আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে কীটনাশক প্রয়োগ করলে এ ধরনের পোকা দমন হবে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে উফশী ও হাইব্রিড জাতের ২৩ হাজার ১৮৮ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান আবাদ হলে ৬৮ হাজার ২৮৬ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে। তবে পোকার আক্রমণের কারণে ফসল নষ্ট হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শঙ্কা করছে কৃষি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

গত কয়েক দিনে উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া, ধনিবস্তী, গোয়ালকারী, মিস্ত্রিপাড়া এবং দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর, মহিষমারী, ছাগলডাঙ্গীসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে উচ্চফলনশীল হাইব্রিড জাতের আমন খেতে এসব পোকার আক্রমণ বেশি। অধিকাংশ ধানগাছের পাতা মরে হলুদ হয়ে গেছে। কোনো কোনো জমির ধানগাছ প্রায় পাতাশূন্য হয়ে মরে যাচ্ছে।
বড়বাড়ী ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, গেল সপ্তাহে দুবার স্প্রে করার পরও দুবিঘা জমির আমন ধানের খেত কারেন্ট পোকার আক্রমণে ১০ শতকের ফসল নষ্ট হয়েছে। পোকার আক্রমণ হলে খেত রক্ষা করা সম্ভব হয় না।

দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর গ্রামের ধানচাষী আফজাল হোসেন জানান, আমন ধানের চারা রোপণের ১৫ দিন পরেই মাজরা পোকার উপদ্রব দেখা দিয়েছে। ধানের শিষ বের হওয়ার সময় ধানগাছে ঘাসফড়িং, পাতামোড়ানো ও কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক স্প্রে করেছেন। কিন্তু প্রতিকার হয়নি। একই অবস্থা অন্যান্য কৃষকদেরও।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরে বৃষ্টি কম হওয়ায় আগাম জাতের আমন খেতে পোকার আক্রমণ বেশি দেখা দিয়েছে। কারেন্ট পোকার আক্রমণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কীটনাশক প্রয়োগ করলে এ পোকা দমন করা সম্ভব। দেরি করলেই ফসল নষ্ট হচ্ছে। পোকা দমনে কৃষকদের নানা ভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২০, ২০২১ ৬:১১ অপরাহ্ন
বরিশালে পান-সুপারির নিরাপদ উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে পান-সুপারির নিরাপদ উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (২০ অক্টোবর) রহমতপুরের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে (আরএআরএস) এই মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে চাষকৃত গুরুপূর্ণ ফল, পান, সুপারি এবং ডাল ফসলের পোকামাকড় সনাক্তকরণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও বিস্তার কর্মসূচির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (আইন অধিশাখা) মো. আলী আকবর।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাসমান প্রকল্পের (বারি অংগ) প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন আরএআরএস’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম কিবরিয়া, উজিরপুরের উপজেলা কৃষি অফিসার মো. তৌহিদ এবং কর্মসূচি পরিচালক ড. মো. মাহবুবুর রহমান।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান, কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক, উজিরপুরের কৃষক ঝন্টু চন্দ্র দাস প্রমুখ।

প্রধান অতিথি কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, কৃষি বিজ্ঞানীরা আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো নিজেদের মাঠে প্রয়োগ করবেন। অপরকেও করবেন উৎসাহিত। তিনি আরো বলেন, বিদেশে রফতানির জন্য আমাদের উন্নতমানের পান উৎপাদন করতে হবে। আর তা অবশ্যই নিরাপদ হওয়া চাই। তাহলেই আপনারা লাভবান হবেন। দেশও ভালো থাকবে।

পরে প্রধান অতিথি উজিরপুরের শিকারপুরে পানবরজ পরিদর্শন করেন। মাঠ দিবসে ৮০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২০, ২০২১ ২:২৩ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ে হঠাৎ ঝড়ো বাতাস, ক্ষতির মুখে আমন ধান
কৃষি বিভাগ

গত তিন দিনের বৃষ্টিপাত ও দমকা বাতাসে সদরের শতশত বিঘা আমন খেত মাটির সাথে নুয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় আমন চাষিদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আগাম শীতকালীন সবজি ও আলু চাষিরা।

সোমবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই ঝড়ো বৃষ্টি ও দমকা বাতাসে ঘরবাড়ি ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি না হলেও প্রায় শতাধিক হেক্টর জমির আমন খেত মাটিতে নু‌য়ে গেছে। ১০ থেকে ১৫ দিন পরে যে ধান কৃষকের গোলায় উঠত কিন্তু হঠাৎ এই বৃষ্টিতে কৃষকের বুক ভরা স্বপ্ন এক নিমেশেই ভঙ্গ হয়ে গেছে।

এতে এবার আমন মৌসুমে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

সদর উপজেলার রুহিয়া, রাজাগাঁও ও ঢোলারহাট ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ধানের গাছ ও সবজি খেত পানিতে ডুবে আছে। অনেক কৃষক তাদের ফসল বাঁচাতে খেতে জমে থাকা পানির কারণে ধানের শীষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ধানগাছ তুলে দেয়ার চেষ্টা করছেন।

সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের কৃষক সাকিল ও রাজাগাঁও ইউনিয়নের কৃষক গণী বলেন, আর মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন পরই খেতের ধান পাকতে শুরু হতো। কিন্তু হঠাৎ এই বৃষ্টি ও দমকা বাতাসে আমাদের খেতের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জমির আমন ধানের গাছ মাটিতে হেলে পড়েছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষ্ণ রায় বলেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়নি। এই নিয়ে কাজ চলছে। তবে পাকা ধানের তেমন ক্ষতি হবে না। বৃষ্টি কমলে কৃষকরা ফসল কেটে ঘরে তুলতে পারবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২০, ২০২১ ১:৫৫ অপরাহ্ন
চান্দিনায় পটল চাষে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা জেলার চান্দিনার শ্রীমন্তপুর গ্রামের মানুষ পটল চাষ করে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে। কয়েক বছর আগে ওই সব জমিগুলোতে কোন প্রকার চাষাবাদ হতো না এবং তাদের অভাব অনটন লেগে থাকতো। কিন্তু বর্তমানে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে পটল চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে ওইসব দরিদ্র সংসারে এসেছে স্বচ্ছলতা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চান্দিনা উপজেলায় ৭২ হেক্টর জমিতে পটলের আবাদ হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস হতে বীজ, সার দিয়ে কৃষকদের ধানের পাশাপাশি সবজি চাষে উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে।

পটল চাষিরা জানান প্রতি শতাংশ জমিতে পটল চাষে শ্রেণীভেদে খরচ পড়ছে ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা এবং উৎপাদিত পটল বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে আয় হয় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। শ্রীমন্তপুর গ্রামের পটল চাষি কামরুল হোসেন বাসসকে জানান, এক সময় তাদের সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। কিন্তু বর্তমানে পটল চাষ করে তার সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। তাদের ৬৬ শতক জমিতে পটল চাষ করে খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ পটল বিক্রি করে প্রায় ৯৫ হাজার টাকা আয় করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আফরিনা আক্তার বাসসকে বলেন, কৃষকদের অর্থনৈতিক ভাবে লাভবানে জন্য সরকারের পক্ষ হতে নিরাপদ সবজি চাষে কৃষকদের উদ্ভুন্ধ করা হচ্ছে। উপজেলায় অনেক জায়গাতে কৃষক পটল চাষ করে লাভের মুখ দেখছে। আগামিতে অত্র উপজেলায় পটলের আবাদ বেড়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop