১১:২২ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১ ৬:৫১ অপরাহ্ন
আগাম রূপবান শিমে মুখে হাসি ফুটেছে কুমিল্লার কৃষকের
কৃষি বিভাগ

শিম শীতকালীন সবজি। কিন্তু গ্রীষ্মে আগাম লাগানো শিম চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চাষ করা হয়েছে আগাম রূপবান প্রজাতির শিম। আগাম শিম বাজারে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর কৃষকরা পাইকারি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে শিম বিক্রি করছেন। রূপবান জাতের শিম চাষ করে এ এলাকার কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটেছে।

বুড়িচং উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২০ হেক্টর জমিতে দুই শতাধিক চাষি আগাম শিম চাষ করেছেন। উপজেলার মোকাম ও ডুবাইচর গ্রামের মাঠে বেশি শিমের আবাদ হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ শিমের আবাদে ভরে গেছে। অনেক কৃষক শিমের ক্ষেতে কাজ করছেন। আবার কেউ ক্ষেত থেকে শিম তুলছেন।

শিকারপুর গ্রামের শিমচাষি আলমগীর ইসলাম জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে আগাম রূপবান জাতের লাল শিম লাগিয়েছেন। দেড় বিঘা জমিতে তার সার, সেচ, কীটনাশক, বাঁশের চটি, পরিচর্যা বাবদ খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে তিনি দুই দফায় ৫ হাজার টাকার শিমও বিক্রি করেছেন। প্রথম দফায় ৭০ টাকা ও দ্বিতীয় দফায় ৬০ টাকা কেজি দরে শিম বিক্রি করেছেন। অবশ্য খুচরা বিক্রেতারা ক্রেতাদের কাছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে শিম বিক্রি করছেন।

তিনি আরো জানান, আগাম লাগানো এ শিম গাছ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত শিম পাওয়া যাবে। ৬ মাসে তিনি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন। অবশ্য বাজার ভালো থাকলে অনেক সময় লাখ টাকার শিম বিক্রি হবার সম্ভাবনা থাকে।

ডুবাইচর গ্রামের চাষি জহিরুল ইসলাম বলেন, এখন কয়েক মাস শিমের দাম ভালো পাওয়া যাবে। শীতের সময় শিমের দাম কমে যায়। তখন কৃষকদের ১০/১২ টাকা কেজি দরে শিম বিক্রি করতে হয়। খুচরা বিক্রেতা তখন ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে শিম বিক্রি করেন। সবমিলিয়ে খরচ বাদে তার ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান।
মোকাম গ্রামের আনু মিয়া ২ বিঘা জমিতে একই গ্রামের আলী মিয়া দেড় বিঘা জামিতে শিমের আবাদ করেছেন। তাদের মতো উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের একাধিক চাষি শিমের আবাদ করেছেন। এসব চাষিরা ক্ষেত থেকে শিম তুলে কয়েক দফায় বাজারে বিক্রিও করেছেন। দাম ভালো পাওয়ায় রূপবানে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, বুড়িচং উপজেলায় আগাম জাতের শিমের চাষ বেশি হয়েছে। এ এলাকায় শতাধিক কৃষক আগাম জাতের শিমের চাষ করেছেন। এসব চাষিদের সার, বীজ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদের সার্বিকভাবে কৃষিবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১ ৪:৫৮ অপরাহ্ন
ছাদে ড্রাগন ফলের চাষ পদ্ধতি
কৃষি বিভাগ

কল্পকাহিনির ড্রাগন নয়, সুস্বাদু ও লোভনীয় ফল ড্রাগন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলটি মূলত ভিনদেশি হলেও এখন দেশেই চাষ হচ্ছে। ড্রাগন ফলের সুখ্যাতি এখন সব জায়গায়। খুব সহজেই বাড়ির আঙিনা বা ছাদে ফলটি চাষ করা যায়। ড্রাগন ফলের গাছ লতানো, মাংসল ও খাঁজকাটা। লোহা, কাঠ বা সিমেন্টের খুঁটি বেয়ে এটি বড় হতে পারে। আসুন জেনে নেই কিভাবে খুব সহজে বাড়ির ছাদে ড্রাগন ফল চাষ করা যায়-

উৎপত্তি ও বিস্তার: ড্রাগন মূলত আমেরিকার একটি প্রসিদ্ধ ফল, যা বর্তমানে বাংলাদেশেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আমাদের দেশে ২০০৭ সালে প্রথম থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এ ফলের বিভিন্ন জাত আনা হয়। নরম শাঁস ও মিষ্ট গন্ধযুক্ত গোলাপি বর্ণের এ ফল খেতে অনেক সুস্বাদু। তার সাথে ভিটামিন সি, মিনারেল পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও ফাইবারের উৎকৃষ্ট উৎস। ড্রাগন ফল গাছ ক্যাকটাস সদৃশ। আমাদের দেশের আবহাওয়া ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযোগী। চাইলে বাড়ির ছাদে বড় টবে বা ড্রামে ড্রাগন চাষ করতে পারেন।

যেভাবে চাষ করবেন: সারা বছরই ড্রাগন ফল চাষ করা যায়। তবে ছাদ বাগানে ড্রাগন ফল চাষ করে ভালো ফলন পেতে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে চারা রোপণ করাই উত্তম। প্রায় সব ধরনের মাটিতেই ড্রাগন ফল চাষ করা যায়। তবে জৈবপদার্থ সমৃদ্ধ বেলে দোআঁশ মাটি ড্রাগন চাষের জন্য উত্তম। ড্রাগন সাধারণত গাছের কাটিং লাগানো হয়। টবে ড্রাগন ফলের কাটিং লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে। কারণ এ আকারের ড্রামে চারা ভালোভাবে শিকড় ছড়াতে পারবে আর তাতে ফলনও অনেক ভালো হবে। টবে বা ড্রামে যাতে পানি না জমে সে জন্য ড্রামের তলায় ৪-৫টি ছোট ছিদ্র করে নিতে হবে এবং ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে।

মাটি তৈরি: ড্রাম বা টবের ২ ভাগ বেলে দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৪০-৫০ গ্রাম টিএসপি সার এবং ৪০-৫০ গ্রাম পটাশ সার মিশিয়ে টব বা ড্রাম এমনভাবে ভর্তি করতে হবে, যেন উপরে পানি দেওয়ার জন্য একটু (৩-৫ সেমি) খালি থাকে। এরপর মাটির সাথে অন্যান্য উপাদান ভালোভাবে মেশানোর জন্য পানি দিয়ে ১০-১২ দিন রেখে দিতে হবে। এরপর মাটি কিছুটা আলগা করে দিয়ে পুনরায় ৪-৫ দিন একইভাবে রেখে দিতে হবে। টবের মাটি ঝুরঝুরে করে ড্রামে ভরতে হবে। টবের মাটি ঝুরঝুরে হয়ে গেলে ড্রাগনের কাটিংয়ের চারা ওই টবে ৮-১০ সেমি গভীর করে রোপণ করতে হবে। গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উঁচু করে হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে। যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশি পানি না ঢুকতে পারে।

কাটিং বা চারা পাওয়ার স্থান: ড্রাগন ফলের সুস্থ ও রোগমুক্ত কাটিং বা চারা বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায়। তার মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহে অবস্থিত বৃহৎ জার্মপ্লাজম সেন্টার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন গবেষণা কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন নার্সারিতেও পাওয়া যায়।

গাছের পরিচর্যা: ড্রাগন ফল গাছের সঠিক পরিচর্যা না করলে ফলন ভালো হবে না। ড্রাগনের গাছের কাণ্ড লতানো প্রকৃতির। তাই চারা লাগানোর পর গাছ কিছুটা বড় হয়ে গেলে গাছকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য খুঁটি বা পিলার পুঁতে দিয়ে পিলারের মাথায় গোলাকার কোন কিছু যেমন টায়ার বেঁধে দিতে হবে, এতে গাছ সহজেই ঢলে পড়বে না। গাছে অতিরিক্ত বা রোগাক্রান্ত শাখা বের হলে তা কেটে ফেলে দিতে হবে। গাছের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। যদিও ড্রাগন ফল গাছে তেমন একটা রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ হয় না। তবে পারিপার্শ্বিক অন্যান্য যত্ন নিয়মিত নিতে হবে। ড্রাগন ক্যাক্টাস জাতীয় গাছ। তাই পানি খুব কম দিতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন গাছের গোড়ায় পানি কখনই জমে না থাকে। কাটিং লাগানোর পরে টব বা ড্রামটিকে মাটিতে বা ছাদে রৌদ্রোজ্জ্বল জায়গায় রাখতে হবে।

ফল সংগ্রহ: ড্রাগন ফলের কাটিং বা চারা রোপণের এক থেকে দেড় বছর বয়সেই এর ফল সংগ্রহ করা যায়। গাছে ফুল ফোটার ৩৫-৪০ দিনের মধ্যেই ফল পরিপক্ক হয়। তখন ফল সংগ্রহ করে খাওয়া যায়। প্রতিকেজি ফল বাজারে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ধরে বিক্রি হয়। একবার গাছ লাগালে প্রায় ২০ বছর এর ফল পাওয়া যায়।

ছাঁটাই: ড্রাগন ফলগাছ খুব তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পায়। তাই ফল আহরণ শেষে গাছের শাখা-প্রশাখা ভালোভাবে ছেঁটে দিতে হয়। শাখা-প্রশাখা ছেঁটে দেওয়ার পর ভালো ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলে গাছের রোগবালাই হয় না। আর ছাদ বাগানের প্রতিটি ফল গাছই ছাঁটাই করা জরুরি। এতে রোগাক্রান্ত ডালপালা কমে যায়। আর গাছটির গঠন মজবুত ও সুন্দর হয়। পরবর্তী বছর আরও বেশি ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সূত্রঃ Jagonews24

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১ ৩:৪৭ অপরাহ্ন
মালটা চাষে সাড়া জাগিয়েছেন মিরসরাইয়ের আকবর
কৃষি বিভাগ

ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানির চাকরি ছেড়ে গ্রামে মাল্টা চাষে ব্যাপক সাড়া পেলেছেন মিরসরাই উপজেলার খিলমুরারী এলাকার মনির আহমেদ মাস্টারের পুত্র আকবর হোসেনেপাহাড়ে দুই একর জায়গা লিজ নিয়ে ২০১৮ সালে ফলের বাগান শুরু করেন তিনি। এক বছর পরই গাছে আসা শুরু হয় ফল।

তিনি পাহাড়ের বুকে গড়ে তুলেছেন ‘ফিউচার এগ্রো হোমস’ নামে সমন্বিত ফলের বাগান। যা প্রেরণা যোগাচ্ছে বেকার যুবকদের। দৃঢ় মনোবল আর কঠোর পরিশ্রমের কারণে আকবর এখন সফল উদ্যোক্তা। তার বাগানে ফরমালিনমুক্ত সুস্বাদু ফল যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

পাহাড়ের ঢালুতে গাছের মধ্যে থোকায় থোকায় ঝুলছে মালটা। বাগানে আরও রয়েছে পাকা আধা পাকা পেঁপে ও পেয়ারা আরও রয়েছে লিচু ও ড্রাগন ফলের গাছ।

আকবর হোসেন জানান, পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি, ছোটখাটো ব্যবসা কিছুতেই আমার মন বসছে না। এরপর ওমান যাওয়ার জন্য দ্রুত পাসপোর্ট বানিয়েছি, মেডিকেল করে রিপোর্ট পাঠিয়েছি কিন্তু ভিসা না হওয়ার কারণে যেতে পারিনি। মনস্থির করলাম দেশে কিছু একটা করা প্রয়োজন। তখনই ২০১৮ সালে বাড়ির পূর্বপাশে পাহাড়ে দুই একর জায়গা লীজ নিয়ে বিভিন্ন ফলের চারা রোপন করলাম। ২৫০ পিস বারি-১ ও বাউ-৩ গ্রীণ মালটা, ১শ’ পিস পেয়ারা, ২শ’ পিস রেডলেডি, ফাষ্টলেডি পেঁপে, থাই পেয়ারা, ১শ’ পিস লেবু, কিছু চায়না-৩ লিচু চারা রোপণ করেছি। এক বছর পরই গাছে ফলন এসেছে। চলতি বছর পেয়ারা বিক্রি করেছি ৭০ হাজার টাকার এবং বছর মাল্টা বিক্রি শুরু করেছি। এই পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি এবং গাছে যে পরিমাণ মাল্টা রয়েছে আরো প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারবো বলে আশাবাদী।

আমার বাগানের ফলে কোন ধরনের মেডিসিন ও ফরমালিন ব্যবহার করা হয় না। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে আগামী বছর তাহলে আমি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও জানান, আমি ইউটিউব চ্যানেলে দেখে দেখে সব শিখেছি। কিভাবে চারা রোপণ করতে হবে, কিভাবে পরিচর্চা করতে হবে। সহযোগিতার জন্য উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে তারা সার্বিক সহযোগিতা করবেন আশা প্রকাশ করেন। এই পর্যন্ত তার বাগানে প্রায় ১১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আগামীতে আমার আরও পরিকল্পনা রয়েছে।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, পাহাড়ী অঞ্চল হওয়ায় কিছু টা পানির সংকট রয়েছে সেই কারণে ফলন টা ও তুলনা মূলক কম হয়েছে। তবে আমি আমি সরজমিনে কয়েকবার পরিশদর্শন করে কৃষক আকবর হোসেন জীবনকে পরামর্শ ও সহযোগিতা আশ্বাস দিয়ে এসেছি। এই উদ্যেক্তা ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে ভবিষ্যৎতে আরো ফলন বাড়বে বলে আশা করছি।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ ৬:৪৬ অপরাহ্ন
সিকৃবির কৃষি অনুষদের নতুন ডিন প্রফেসর ড. আসাদ
কৃষি বিভাগ

সিকৃবি প্রতিনিধি: সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) কৃষি অনুষদের নতুন ডিন হিসেবে দায়িত্ব নিলেন উদ্ভিদ রোগতত্ত¡ ও বীজ বিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র প্রফেসর ড. মো: আসাদ-উদ-দৌলা।

ড. আসাদ ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন এগ্রিকালচার, ১৯৯৬ সালে এমএস ইন প্লান প্যাথলজি, ১৯৯৮ সালে ডেনমার্ক সরকারের বৃত্তি নিয়ে ডেনমার্কের রয়েল ভেটেরিনারি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি থেকে ডিপ্লোমা ইন সীড প্যাথলজি, ২০০৬ সালে জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে জাপানের নিগাতা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি এবং ২০১৩ সালে পোস্ট ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন।

একাধারে শিক্ষক ও গবেষক ড. আসাদ এর ৩৮টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ে ১টি পুস্তকসহ ২০টি প্রসেডিংস, এবস্ট্রাক্ট এবং রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ২০১৯ সালে জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে জাপানের কুবে ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ডিন হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি বিশ^বিদ্যালয়ের হলপ্রভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শিক্ষা ও গবেষণা সংক্রান্ত কাজে ডেনমার্ক, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, সৌদিআরব, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। তিনি নাটোর জেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

ব্যক্তি জীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক। উল্লেখ্য ড. আসাদ কৃষি অনুষদের ৯ম ডিন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকরলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ ৪:৫০ অপরাহ্ন
বরিশালে কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি শীর্ষক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি শীর্ষক দিনব্যাপী এক কৃষক প্রশিক্ষণ আজ বরিশালের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএআরআই’র পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. মুহাম্মদ সামসুল আলম।

আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফি উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্ত মো. হাফিজুল হক খান, ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, স¤প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার এবং আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম কিবরিয়া।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা স্মৃতি হাসনার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলিমুর রহমান, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি বলেন, প্রতিদিন বাড়ছে মানুষ। কমছে আবাদি জমি। পরিবর্তিত হচ্ছে জলবায়ু। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে ফসলের ওপর। এসব চ্যালেন্স মোকাবেলায় শস্য উৎপাদনের লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। প্রতিটি ফসলের খাবারউপযোগীর সময়সীমা রয়েছে, যা অতিক্রম করলে নষ্ট হয়ে যায়। অথচ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তা রক্ষা করা সম্ভব। এর অংশ হিসেবে আম, পেয়ারা, আমড়াসহ বিভিন্ন ফলকে জ্যাম, জেলি, জুসে পরিণত করে খাবারের যোগান বাড়ানো সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ক্যাম্পাসে তাল-খেজুরের চারা রোপণ করেন। প্রশিক্ষণে বরিশাল সদর, বাবুগঞ্জ ও বানারিপাড়ার ৩০ জন কিষাণী অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ ৩:৩৫ অপরাহ্ন
আগাম জাতের রবি শস্য চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

রংপুরের ৩ উপজেলার কৃষক মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাব আর তিন দফা বন্যায় হয়ে পড়েছেন দিশেহারা। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে বন্যায় রোপণকৃত আমনের ক্ষত-বিক্ষত চারা নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। তবে সব ধকল কাটিয়ে কাটিয়ে বিভিন্নভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। নতুন করে আমনের চারা রোপণ ছাড়াও বিভিন্ন সবজি ও আগাম জাতের রবিশস্যের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।

আমনের ভরা মওসুমে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে প্রথম দফা বন্যা হয়। এতে জেলার গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া এবং পীরগাছা উপজেলার প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন শাক-সব্জিসহ আগাম জাতের রবিশস্যের।

প্রথম দফার বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আগষ্টে পর পর দুই দফা বন্যা হয়। প্রথম দফার বন্যায় আমনের চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় চারা রোপন করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

কিন্তু দ্বিতীয় দফার বন্যায় রোপনকৃত এসব চারা আবারও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তৃতীয় দফায় রোপন করতে গিয়ে অনেকেই আমনের চারার সংকটে পড়েন। দূর দূরান্ত থেকে চড়া দামে আমনের চারা সংগ্রহ করে শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন অনেকেই। এতে করে বেশ ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। তারপরও কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলের কৃষকরা আমর চাষে স্বপ্ন বুনছেন। অন্তত পরিবারের খাবারের চালটুকু যাতে ঘরে আসে সেজন্য দিন রাত পরিশ্রম করছেন তারা।

কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী বন্যায় রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা এই তিন উপজেলায় প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে এই তিন উপজেলার চরাঞ্চল এবং নদী তীরবর্তী এলাকার অপেক্ষাকৃত নিচু জমিগুলোর ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সরচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে গঙ্গাচড়া উপজেলায়। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমন ধান ছাড়াও বিভিন্ন শাক-সব্জিসহ আগাম রবি শস্য চাষে মনোযোগ দিয়েছেন কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, শীত ও গ্রীষ্মকালীন সব্জিতে অধিক মুনাফা পাওয়ায় সব্জি চাষ এ অঞ্চলের কৃষকদের কাছে অনেক আগেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর তাই বন্যার ধকল কাটিয়ে উঠতে আমনের পাশাপাশি আগাম জাতের শীতকালীন সব্জি চাষে ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকরা।

ফলে ফসলি জমিতে আগাম জাতের সবজি চাষ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, বন্যার কারনে পলি পড়া এসব জমিতে সব্জিসহ আগাম জাতের রবিশস্যের ফলন বেশ ভালো হবে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সব্জি ও রবিশস্য স্থানীয় বাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি করে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ ১২:০০ অপরাহ্ন
ইতিহাসের শিক্ষকের কৃষিতে সৃষ্টি ইতিহাস
কৃষি বিভাগ

শিক্ষকতার পাশাপাশি শখের বশে বাসার পাশে পতিত জমিতে ড্রাগন, মাল্টা ও পেঁপের যৌথ বাগান করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ঠাকুরগাঁও জেলার সদর গড়েয়া ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম।এছাড়াও বাগানের পাশাপাশি মসলা জাতীয়, আদা, রসুন ও হলুদ একই বাগানে চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন।

জানা যায়, বাসার পাশে ফেলে রাখা জমিতে মাল্টা, পেঁপে ও ড্রাগন ফলের সারি সারি গাছ। ড্রাগন ফলের গাছের সাথে উর্বর মাটিতে মসলার চাহিদা পূরণে করেছেন আদা, রসুন ও হলুদ চাষ। সদর উপজেলার গড়েয়া বাজার এলাকায় চোখ জুড়ানো এমন ফলের বাগান দেখতে এলাকার মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছেন।

শিক্ষক সাদেকুল তিন বছর আগে শখের বশে পরীক্ষামূলকভাবে অল্প কিছু জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান শুরু করেন। বাগানে আশানুরুপ ফল হওয়ায় পরবর্তী সময়ে সেখানে মাল্টা গাছের চারা রোপণ করেন। এখন তিন বছরের মাথায় তার একই বাগানে মাল্টা, পেঁপে, নারিকেল, আদা, রসুন ও হলুদ চাষ করছেন। গত ২ বছর যাবৎ মাল্টার ফলন অনেক ভালো হওয়ায় বাজারে বিক্রয় করে লাভবান হয়েছেন তিনি।

সাদেকুল বলেন, পতিত জমি ফেলে না রেখে সহজেই ফল বাগান করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্ররা এসব বাগান করে লাভবান হতে পারবে। ৬০ শতক জমিতে মাল্টা, পেঁপে ও ড্রাগন ফলের যৌথ বাগান করতে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু গত দু’বছরে মাল্টা, ড্রাগন, আদা, পেঁপে বিক্রয় করে ইতিমধ্যে আমার কয়েক লাখ টাকা আয় হয়েছে। আগে শখের বসে এই আবাদ শুরু করেছিলাম। এখন শখ নেশায় পরিণত হয়েছে। আর এই নেশাকে পেশায় পরিণত করতে চাই কারণ আমার আর্থিক অবস্থা ও অবস্থান এই বাগান দিয়েই পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন জানান, জেলায় এভাবে বাগান করে অনেকে লাভবান হচ্ছে। সাদেকুল অনেক স্বাবলম্বী ও অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন ফল বাগানে। তার সাথে এই বাগানের ফল জেলার পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষি অফিস থেকে সবসময় এসকল কৃষকে সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আর এই সাদেকুলের কাজ দেখে অনেক কৃষক উৎসাহিত হয়ে এই শখের বা ফল বাগানের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ ১১:১৯ পূর্বাহ্ন
নার্সারির ব্যবসায় কোটি টাকায় আয়
কৃষি বিভাগ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি গ্রাম পরিহল পাড়া। এ পরিহল পাড়াকে কুমিল্লার নার্সারির গ্রাম বলা হয়। এ গ্রামে ছোট বড় নার্সারি আছে ৪০টি। গড়ে ১৫ লাখ টাকা করে সেখানে বছরে ছয় কোটি টাকার চারা বিক্রি হয় বলে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

এককভাবে কুমিল্লার কোনও গ্রামে এত বেশি নার্সারি নেই।এ গ্রামের চারাগুলো কুমিল্লা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহে বিক্রি হয়। পাইকাররা এসে ভ্যান ও মিনি পিকআপে করে চারা নিয়ে যান। কুমিল্লার বাইরে চাঁদপুর, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালীতে বেশি বিক্রি হয় পরিহল পাড়ার নার্সারির চারাগুলো।

সূত্র জানায়, ১৯৯২ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাকিম এ গ্রামে নার্সারি শুরু করেন। আবদুল হাকিম একটি আমেরিকা প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ময়মনসিংহে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি দেখতে পান, ময়মনসিংহের মানুষ নার্সারি করে বেশ সফলতা পাচ্ছেন। তখন মনে মনে চিন্তা করেন, কুমিল্লায় এসে নার্সারি করবেন। গাছের বীজ বপন, রক্ষণাবেক্ষণ, কলম করাসহ চারার পরিচর্যার বিষয়গুলো আয়ত্তে নেন তিনি। একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে দেন আবদুল হাকিম। চাকরি ছাড়ার সময় ৮০ হাজার টাকা পুঁজি ছিল তার কাছে। ওই টাকার কিছু অংশ খাটান নার্সারির কাজে। বাকি টাকা ব্যয় করেন অন্যান্য কাজে।

ছোট পরিসরে শুরু করলেও আবদুল হাকিম কম সময়ের মধ্যে সফলতার মুখ দেখতে থাকেন। প্রকল্পের সাবেক সহকর্মীরা আসেন তার কাজ দেখতে। এতে আরও উৎসাহ পান তিনি। ছোট পরিসরে শুরু করলেও একসময় প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে নার্সারি করেন তিনি। তার দেখাদেখিতে গ্রামের মানুষেরাও শুরু করেন নার্সারি করা।

১৯৯৪ সালের দিকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় পরিহল পাড়ার নার্সারি। দূরদুরান্ত থেকে মানুষ আসেন গাছের চারা কিনতে। নার্সারির সংখ্যাও বাড়তে থাকে। নার্সারির জন্য একটি আদর্শ জায়গায় রূপ নেয় পরিহল পাড়া। বর্তমানে এ গ্রামের চারশ মানুষ কাজ করছেন নার্সারির সাথে। অনেক নার্সারিতে যৌথ মালিকানা আছে। কর্মীরা দৈনিক শ্রমভিত্তিক ও মাসিক বেতনে চাকরি করেন।

গ্রামের মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, নার্সারির শুরুর দিকে কাঠের চারার কদর ছিল। সবাই বাড়িতে চারা লাগাতে পছন্দ করতেন। একপর্যায়ে ফল আর সবজির চারার চাহিদা বেড়ে যায়। বর্তমানে বেশি চাহিদা ফুলের। বৈশাখ-কার্তিক পর্যন্ত প্রচুর ফুলের চারা বিক্রি হয়। স্থানীয়ভাবে কলম করেও চারা উৎপাদন করেন তারা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাকিম জানান, তখনও কুমিল্লায় নার্সারি করার কথা মানুষের মাথায় আসেনি। আমি নার্সারিতে ভালো সম্ভাবনা দেখতে পাই। তাই শুরু করি। গ্রামের মানুষ এটাকে ইতিবাচকভাবে নেন। তুচ্ছতাছিল্য না করে সবাই এগিয়ে আসেন নার্সারি করতে। এ গ্রামে কোনও চুরি-ডাকাতি নেই। নার্সারির সাথে যুক্ত হয়ে সবাই সচ্ছল।

হারুনুর রশীদ নামে অপর নার্সারি মালিক বলেন, ১৯৯৪ সালে শুরু করি। আমি বেশ সফল। অন্যান্য ফসলের চেয়ে নার্সারি ব্যবসা বেশি লাভজনক। মহাসড়কের পাশে হওয়াতে চারার বেচা বিক্রিতে কোনও ঝামেলায় পড়তে হয়নি। পরিবহন সুবিধা আমাদের বাড়তি সমৃদ্ধি এনে দিয়েছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, পরিহল পাড়ার নার্সারি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। তারা ভালো করছে। বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১ ৭:৫০ অপরাহ্ন
তারাগঞ্জে পেঁপের দামে খুশি চাষিরা
কৃষি বিভাগ

হাট-বাজারে পেঁপের চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় খুশি তারাগঞ্জের চাষিরা। উপজেলার খাঁরুভাজ নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রায় দুই একর জমিতে তাইওয়ান কিং জাতের হাইব্রিড পেঁপের চাষ করেছেন ইকরচালি ইউনিয়নের নদীরপাড় গ্রামের কৃষক আছাদুল হক।

তিনি জানান, গত বছর নিজস্ব ৩৫ শতক জমিতে পেঁপে চাষ করেন এবং ৫০ হাজার টাকা লাভ করেন। তাই তিনি এবারও পেঁপে চাষ করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাস্সুম জানান, পেঁপে অত্যন্ত সুস্বাদু ফল। বাড়ির আনাচে-কানাচে এবং ভিটেমাটির আইলে পেঁপে গাছ লাগানো যায়। এই চাষে চাষিদের উত্সাহ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১ ৪:৫৩ অপরাহ্ন
কৃষি অফিসের অবহেলায় বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ করে ক্ষতির মুখে কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

গাজীপুরের শ্রীপুর কৃষি অফিস থেকে উপজেলার গোদারচালা গ্রামের রেজাউল করিমসহ অর্ধশত কৃষককে বিনা-১৭ ধানের বীজ বিনামূল্যে দেয়া হয়। রেজাউল দেড় বিঘা জমিতে এ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। রোপণের সাত দিন পরই দেখেন ধানের শীষ বের হয়ে আসছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক রেজাউল। পরে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে জানতে পারেন, রোপণ প্রক্রিয়া না জানার কারণে তার জমিতে এমন অবস্থা হয়েছে।

সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ প্রদান করলেও চাষ ও রোপণ প্রক্রিয়ায় কৃষি অফিসের অবহেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন রেজাউলসহ এলাকার অনেক কৃষক। ক্ষতিগ্রস্তরা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা কেবল দুঃখ প্রকাশ করে চলে যান।

একই গ্রামের নিজাম উদ্দিন ৫০ শতাংশ জমিতে এ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। তারও একই অবস্থা। ধানের জমি চাষ, রোপণ ও সারসহ তার খরচ হয়েছিল প্রায় ১৫ হাজার টাকা। ধারদেনা করে এ টাকার জোগাড় হলেও ফের তাঁকে এ ধানের জমি ধ্বংস করে অন্য জাতের ধান রোপণ করতে হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো পরামর্শ পাননি।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার আমন মৌসুমে উপজেলাজুড়ে ১৩ হাজার ৫৩৭ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উচ্চফলনশীল জাতের কথা বিবেচনা করে ২১ জন কৃষকের মধ্যে সাত একর জমি চাষের জন্য সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ বিতরণ করা হয়।

এছাড়া আরো অর্ধশত কৃষক তাঁদের জমিতে ডিলারদের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে বিনা-১৭ জাতের আমন ধানের চাষ করেছেন। তবে বীজ ক্রয়ের সময় কৃষকদের এ বিষয়ে তেমন কোনো নির্দেশনা কৃষি বিভাগ না দেয়ায় এমন সমস্যা তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের ভাষ্য মতে, তারা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছেন আমন মৌসুমে উচ্চফলনশীল ধান হচ্ছে বিনা-১৭। ভালো ফলনের আশায় তারা আমন চাষ করলেও এ জাতের চাষপদ্ধতিসহ স্থানীয় কৃষি অফিস তাঁদের কোনো কিছু অবহিত করেনি। ফলে অন্যান্য ধানের জাতের মতো তারা বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণ করেছেন। ৭ থেকে ১০ দিন পরে দেখেন, ধানের শীষ বের হয়ে গেছে। অনেকটা ক্ষতি হয়ে গেলেও বাঁচার তাগিদে ফের বাধ্য হয়েই বিনা-১৭ ধানের জমি ধ্বংস করে অন্য জাতের ধানের চারা রোপণ করতে হচ্ছে। শুধু রোপণ প্রক্রিয়া না জানার কারণেই তাদের এ ক্ষতি। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পাশে না পাওয়ার অভিযোগ কৃষকদের।

আজুগীরচালা গ্রামের শরাফত আলী বলেন, তিনি স্থানীয় এক ডিলারের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে দুই বিঘা জমি চাষ করেছেন। অপরিপক্ব অবস্থায় ধানের শীষ বের হয়ে যাওয়ায় তার ধানের সব জমিই নষ্ট হয়ে গেছে। পরে বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে ফের অন্য জাতের ধান রোপণ করেছেন। তার দাবি, তিনি এমন অবস্থার সম্মুখীন হলেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ বা তাদের পাশে পাননি।

তেলিহাটি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামরুন্নাহার বলেন, তিনি ভুলে কৃষকদের এ ধানের রোপণ প্রক্রিয়া (চারা তৈরি) অবহিত করতে পারেননি। ফলে কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে সেজন্য সবার কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামসুন্নাহার বেগম বলেন, আমন মৌসুমে উচ্চফলনশীল জাতের ধানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিনা-১৭। এ জাতের ধানকে সুপার ক্রপ বলা হয়। স্বল্প সময়ে অধিক ফলনে এ ধানের বিকল্প খুব কম। তবে এ জাতের ধান চাষে কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। বীজতলায় চারার বয়স ২০ দিনের মধ্যেই তা রোপণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে কৃষক হয়তো অন্যান্য ধানের চারার মতো এ জাতটিও রোপণ করেছেন। এর ফলেই চারা গাছে শীষ বের হয়ে আসছে। এটা কৃষকের অজ্ঞতা ও স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অবহেলার ফল।

এ বিজ্ঞানীর পরামর্শ, যেসব কৃষকের জমিতে দ্রুত ধানের শীষ বের হয়ে গেছে, তাদের জমি ধ্বংস করতে হবে না। দ্রুত দ্বিগুণ ইউরিয়া প্রয়োগ করলে শীষগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। পরে সেখান থেকে নতুন কুশি বের হবে তাতে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এএসএম মুয়ীদ উল হক বলেন, এ জাতের ধান রোপণে অল্প সময়ের চারা রোপণ করতে হয়। উচ্চফলনশীল জাতের কথা বিবেচনা করে আমরা কৃষকদের বিনামূল্যের বীজ সরবরাহ করেছি। স্বল্প সময়ে আমাদের বার্তাটি হয়তো কৃষকরা বুঝতে পারেননি। তারা অন্যান্য জাতের মতো মনে করে ধানের চারা রোপণ করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের উপসহাকরী কৃষি কর্মকর্তার অবহেলার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র: বণিক বার্তা

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop