৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ২৩, ২০২১ ১২:১৮ অপরাহ্ন
কক্সবাজারে সামুদ্রিক শৈবাল চাষে ব্যাপক সাফল্য
কৃষি বিভাগ

সামুদ্রিক শৈবাল চাষে ব্যাপক সাফল্য এসেছে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায়। শৈবাল থেকে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য, ওষধি পণ্য, প্রসাধনী, সার, বায়োফুয়েল ও পরিবেশ দূষণরোধক পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে।

লবণাক্ত-আধা লবণাক্ত পানির পরিবেশে এটি জন্মে এবং সহজে চাষাবাদ করা যায়। গবেষকরা বলছেন, সামুদ্রিক শৈবাল বিভিন্নভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি রপ্তানিরও সুযোগ রয়েছে।

কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলে শৈবাল চাষ উৎপাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট ২০১৬ সাল থেকে ১০টি প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবালের উপর গবেষণা ও চাষ শুরু করে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সমন্বয়ে ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এ প্রকল্পের কাজ চলবে এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

সম্ভাবনাময় রপ্তানিযোগ্য ও উন্নত পুষ্টিসমৃদ্ধ সামুদ্রিক শৈবাল উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাতকরণে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রায় ৪ কোটি টাকার সহায়তায় এসব কৃষক কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া, রেজুখাল, চরপাড়া ও চৌফলদন্ডী উপকূলীয় অঞ্চলে শৈবালের চাষ করে সফলতা পেয়েছেন।

সম্ভাবনাময় এ খাতে জড়িয়ে পড়েছে উল্লেখযোগ্য প্রায় ৪ শতাধিক কৃষি পরিবার। এতে আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়েছে।

শৈবাল চাষীরা জানান, এগুলো নিয়ে আমরা উৎপাদন করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছি। তাতে করে আমাদের সংসার খুব ভালোভাবে চলছে।

ল্যাবরেটরিতে প্রতি কেজি ২০ হাজার টাকা মূল্য মানের ‘এগার’ ও ‘কেরাবিনা’ তৈরি সম্ভব। শৈবালের চাষাবাদ বাড়াতে ল্যাবরেটরিতে বীজ উৎপাদন হচ্ছে, যা কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ডক্টর শেখ মো: বখতিয়ার জানান, ক্লাসিল আগিয়া এবং গুরুফাই- এই দুটি প্রজাতি আমরা মনে করছি এই অঞ্চলের জন্য খুবই উপযোগী।

শৈবাল চাষে সাশ্রয়ী মূল্যের পুষ্টিসমৃদ্ধ মানব ও পশুখাদ্য, পোশাক শিল্প ও ঔষধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদন যেমন হচ্ছে, তেমনি সমুদ্র অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমিতে ভূমিকা রাখছেন অসংখ্য নারী-পুরুষ।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডক্টর মো: আক্কাস আলী জানান, কিভাবে এটি কালটিভেশন করলে সারাবছর কৃষক করতে পারবে, তার জন্য একটা পদ্ধতি বের করার চেষ্টা করছি আমরা। বর্তমানে ১০টি প্রজাতির মধ্যে ২টি প্রজাতির চাষ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে উন্নতমানের পুষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২২, ২০২১ ১১:১১ পূর্বাহ্ন
পেঁয়াজের আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে শরীয়তপুর
কৃষি বিভাগ

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত মৌসুমে পেঁয়াজের বাজার মুল্য ভালো পাওয়ায় এবার কৃষক বেশী পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছে।

এবার জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৩ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩৮ হাজার ৫০০ টন ধরা হলেও ফলন ভালো হওয়ায় ৪৬ হাজার ১২৫ টন পেঁয়াজ আবাদ হবে বলে আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আমীর হামজা জানান, চলতি মৌসুমে জেলার ৬টি উপজেলায় ৩ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জাজিরা উপজেলাতেই হয়েছে ২ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে। ছোট-বড় মিলিয়ে জেলায় অন্তত ১৬ হাজার কৃষক এবছর পেয়াঁজ চাষ করেছে বলে জানা গেছে। আমরা আশা করছি এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৪৬ হাজার ১২৫ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে।

জেলার জাজিরা উপজেলার বিকেনগর, পশ্চিম নাও ডোবা, পূর্ব নাওডোবা, সেনেরেচর, বড় কান্দি, বড় গোপালপুর, মূলনা, জাজিরা, জয়নগর ও পালের চর ইউনিয়নেই সব চেয়ে বেশী পেঁয়াজ আবাদ ও উৎপাদন হয়।

এছাড়াও বিলাসপুর, কুন্ডেরচর ইউনিয়নে তুলনামূলক কম আবাদ হয়। নড়িয়া উপজেলার রাজনগর, মোক্তারের চর, নশাসন, জপসা, ভোজেশ্বর ও ফতেহ জঙ্গপুর ইউনিয়নে বেশী আবাদ হয়। সদর উপজেলার চন্দ্রপুর, চিকন্দী, শৌলপাড়া, ডোমসার ও বিনোদপুর ইউনিয়নে, ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর, ইসলামপুর, ধানকাঠি, সিধলকুড়া ও পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নে, গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া, সামন্তসার, ইদিলপুর, নলমুরি, কুচাইপট্টি,ও গোসাইরহাট ইউনিয়নে এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও, রামভদ্রপুর, ডিএম খালি’ চরভাগা, তারাবুনিয়া ও সখিপুর ইউনিয়নে বেশী পেঁয়াজের আবাদ ও উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে জাজিরা উপজেলার প্রধান অর্থকরি ফসল হচ্ছে পেঁয়াজ।

এবছর বাজারজাতকরণ পর্যন্ত উৎপাদন খরচ হয়েছে হেক্টরপ্রতি ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং লিজ নেয়া জমিতে হেক্টর প্রতি ৩ লাখ ২২ হাজার ৫’শ টাকা। কারণ হেক্টর প্রতি বছরে গড়ে ৬০ হাজার টাকা জমির মালিককে ভাড়া বাবদ দিতে হয়। এবছর বিঘাপ্রতি গড় ফলন হয়েছে ৪১ দশমিক ৬৫ মন।

জাজিরা উপজেলার বিকে নগর ইউনিয়নের পুর্ব কাজীকান্দি গ্রামের কৃষক সদর আলী মাদবরকান্দি গ্রামের কৃষক আ. হক মাদবর বলেন, বিঘা জমিতে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে পেঁয়াজ আবাদ করে বিক্রি করেছি মাত্র ৬০-৬৫ হাজার টাকা।-বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২১, ২০২১ ৯:৫৫ অপরাহ্ন
বোরো ধানের ভাল উৎপাদনের আশা কৃষিমন্ত্রীর
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হয়েছে। একই সাথে, উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এ বছর হাইব্রিড ধানের আবাদ বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল, সেটিও লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। আশা করা যায়, বড় ধরণের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ধানের উৎপাদন অনেক ভাল হবে। হাওরসহ সারা দেশের ধান সুষ্ঠুভাবে ঘরে তুলতে পারলে বোরোতে অনেক ভাল ফলন হবে। এছাড়া, শুধু ধান নয়; মাঠে অন্যান্য ফসলের উৎপাদন পরিস্থিতিও ভাল অবস্থায় আছে।
কৃষিমন্ত্রী রবিবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইনে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ কথা বলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম। এসময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং সংস্থাপ্রধানসহ প্রকল্প পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, এবছর বোরোতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৮ লাখ ৫ হাজার ২০০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রিড ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১১ লাখ ৪ হাজার ৬৩৩ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ১২ লাখ ১৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। ফলে, গত বছরের তুলনায় এ বছর মোট আবাদ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর ও হাইব্রিডের আবাদ বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে। উল্লেখ্য, এবছর বোরো ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ সহায়তা বাবদ প্রায় ১৪৫ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধানের চাষ বৃদ্ধিতে দেয়া হয়েছে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার প্রণোদনা। এবছর ২ লাখ হেক্টর বেশি জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের এই ছোটো দেশে জনসংখ্যা অনেক বেশি, যা ক্রমশ বাড়ছে। অন্যদিকে শিল্পায়ন, নগরায়নসহ নানা কারণে চাষের জমি দিন দিন কমছে। এই কম জমি থেকেই আমাদের মূল খাদ্য চাল উৎপাদন করতে হবে, চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। একই সাথে, সকল ফসলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চেষ্টা করা হচ্ছে, যেটি খুবই চ্যালেঞ্জিং। ভুট্টা, আলু, শাকসবজি, তেল, ডাল ও মসলা জাতীয় ফসলের চাষ ও উৎপাদন বাড়াতে চেষ্টা চলছে। কিন্তু, জমি স্বল্পতার কারণে একটির আবাদ বাড়াতে গেলে অন্যটির কমে যায়। কাজেই, সকল ফসলের উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও তা আরও বৃদ্ধি করতে হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে হবে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গবেষক-বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণকর্মীসহ সকলকে আরও মনোযোগী হতে হবে।
সভায় জানানো হয়, চলমান ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৬৮টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। ফেব্রুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে ৪০.৩৯%। যেখানে জাতীয় গড় অগ্রগতি ৩৩.৮৩%।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২১, ২০২১ ১২:৪২ অপরাহ্ন
ফেনীতে কৃষি জমির মাটি কাটায় ৩ জনের জরিমানা
কৃষি বিভাগ

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় বিক্রির জন্য কৃষি জমির মাটি কাটছেন একটি চক্র। এর দায়ে ভ্রাম্যমান আদালত তিনজনকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

শনিবার (২০ মার্চ) ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার তানিয়া এ জরিমানা করেন।

সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষি জমির মাটি কেটে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে একটি চক্র। এতে করে জমির উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস ও জমির শ্রেণির পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে।

শনিবার ইউএনও নাহিদা আক্তার তানিয়া কৃষি জমির মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযানে বের হন। এ সময় ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের দুধমুখা গ্রামে মাটি কাটার দায়ে খোন্দকার জাকির হোসেনকে ১ লাখ টাকা ও রামনগর ইউনিয়নের সেকান্দরপুরে মাটি কাটার দায়ে জাকির হোসেন এবং আব্দুস সাত্তারকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, অভিযানে তিনজন থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। দণ্ডিতরা এ মাটি কেটে উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় ও ভিটে মাটির কাজে বিক্রি করে আসছেন বলে জানিয়েছেন। আগামীতে কৃষি জমির মাটি কাটবেন না বলে তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতে মুচলেকা দেন বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২১, ২০২১ ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন
সৈয়দপুরে বোরোর আশাতীত ফলনের আশা করছেন কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ইরি-বোরো খেত বেড়ে উঠছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে আশাতীত ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত বছর বন্যায় দীর্ঘদিন পানি আটকে থাকায় সৈয়দপুরে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহিনা বেগম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কোনো প্রকার পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখা না দিলে চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার ৯৯১ মেট্রিক টন ধান ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা। এতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরকারের খাদ্য ভাণ্ডারে যোগান দেওয়া সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২১, ২০২১ ১০:২৫ পূর্বাহ্ন
৫ লাখ টাকা ঋণে করা কৃষকের জমির ফসল কেটে সাবাড় করলো দুর্বৃত্তরা!
কৃষি বিভাগ

ব্যাংক থেকে লোন এবং ধার-দেনা করে একটু লাভের আশায় নিজের ১ একর ৬০ শতাংশ জমিতে বাঙ্গি চাষ করেছিলেন কৃষক আনোয়ার হোসেন মাল।বাঙ্গির বাম্পার ফলন হলেও আর মাত্র কিছুদিন পর বাঙ্গি ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। সে স্বপ্ন যেন অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিলো দূর্বূত্তরা। রাতের আঁধারেই সাবাড় করে দেয় তার জমির সকল বাঙ্গি।

জানা যায়, প্রতিবারের মতো আলু, পেঁয়াজ, রসুন সহ নানান ফসলের সাথে এবছরেও বাঙ্গি আবাদ করেছিলেন চাঁদপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চর-আবাবিল ইউনিয়নের কৃষক আনোয়ার হোসেন। ১নং ওয়ার্ডের মালেগো বাড়ির মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে তিনি। বাঙ্গি ফসল রাতের আঁধারে সাবাড় করে দেয় দূর্বূত্তরা।

এসময় তার জমিতে থাকা পেঁয়াজ গুলো তুলে নিয়ে যান অজ্ঞাত ঐ চক্রটি। ওই বিলের অধিকাংশ কৃষকের জমিতে বাঙ্গি আবাদ করা হলেও আনোয়ার হোসেন ছাড়া অন্যকেউ ক্ষতিগ্রস্থ হননি। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুক্ষীণ হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

আনোয়ার জানান, ‘এ বছর আমার ৭/৮ লাখ টাকার বাঙ্গি পাইতাম। এহন আমি কি করমু? আমি লোন কেমনে পরিশোধ করমু? আমার পরিবার কি খাইবো? আমার সাথে কার এমন শত্রুতা? আমার স্বপ্ন নষ্ঠ করলো, আমি এর সৃষ্টু বিচার চাই।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ‘কৃষি বাঁচলে,বাঁচবে দেশ। যদি কৃষকের না থাকে নিরাপত্তা তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরণের আবাদ বন্ধ করে দিবেন কৃষকরা। এমন ঘটনা ঘটলে নিরাপত্তাহীণতায় আর চাষাবাদ করতে সাহস করবে না।

তারা আরো বলেন, ধার-দেনা আর কৃষিঋণের বোঝা বইতে না পেরে কৃষকের আত্নহত্যার ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। তাই অপরাধীদের বের করে আইনের আওতায় আনা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা জরুরি। আর এই ভাবে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলে রাষ্ট্রের অর্থনীতি চাকায় আঘাত পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এ ঘটনায় এদিন সকালে রায়পুর থানায় সুষ্টু বিচারের দাবীতে একটি মামলা দায়ের করেছেন কৃষক আনোয়ার।

এদিকে খবরটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। এ সময় স্থানীয় কৃষকরা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আইন-শৃঙ্খলা অপরাধীকে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তির জোর দাবী জানান। একইসাথে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা কামনা করেন তারা। বিষয়টিকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল জলিল।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২০, ২০২১ ৮:৫০ পূর্বাহ্ন
লিচু ফেটে যাওয়ার কারণ ও তার প্রতিকার
কৃষি বিভাগ

বর্তমানে বিভিন্ন প্রকার ফল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফলের ফেটে যাওয়া একটি বড় সমস্যা। সাধারণত: ফল বড় হওয়ার পর অর্থাৎ ফল পুষ্ট হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে ফাটা শুরু করে। ফল বড় হওয়ার পর কোন কারণে নষ্ট হলে কৃষকের জন্য ক্ষতিকর হয়ে পড়ে। প্রায় সব ফলকেই ফাটতে দেখা যায়। তবে আমাদের দেশের ফল গুলোর মধ্যে লিচু ও ডালিম বেশী ফাটে। অন্যান্য ফলের মধ্যে কলা, আম, পেয়ারা, কাঁঠাল ইত্যাদি ফেটে যেতে পারে। ফল ফেটে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং উক্ত ফাটা জায়গায় রোগ জীবানুর আক্রমণ ঘটতে পারে। ফলে গোটা ফল নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা দেখা দেয়। ফল ফেটে গেলে তার বাজার মূল্য কমে যায়। তাছাড়া কোন কোন সময় তা খাওয়ার অনুপযুক্ত হয়ে যায় ফলে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে।

ক্ষতির ধরণ বা প্রকৃতি:
লিচুর ফল ফাটা বিভিন্ন রকম হতে পারে। সামান্য ফাটা, কেবলমাত্র খোসা ফাটা, লম্বালিম্বভাবে গোটা ফল ফাটা ইত্যাদি। ফল ফেটে গেলে তার অপক্ক শাঁস অনাবৃত হয়ে পড়ে এবং সরাসরি বাতাসের সংস্পর্শে আসে ফলে শাঁস দ্রুত শুকায়ে যায়। পরবর্তীতে তা রোগ ও পোকার আক্রমণের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। লিচুর ফাটা লম্বালম্বি বা আড়াআড়ি দু রকমই হতে পারে।

ফল ফাটার পদ্ধতিঃ
খরা বা অনাবৃষ্টির সময় ফলের জাইলেম ও ফ্লোয়েম কোষে অনাকাংখিত আবহাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কিছু শক্তিশালী কোষের উৎপন্ন হয় যা বিভক্ত হওয়ার বা বৃদ্ধি পাওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। যদি শুস্ক আবহাওয়ার পর পানি/সেচ সরবরাহ বৃদ্ধি করা হয় তখন বর্ধনশীল কোষ (Merstematic tissuc) খুব দ্রুত বাড়া শুরু করে । কিন্তু , জাইলেম ও ফ্লোয়েমের শক্ত কোষগুলো সমভাবে বাড়তে পারে না। এমতাবস্থায়, কোষ বৃদ্ধির এই তারতম্যের কারণে ফলের আবরণের শক্তকোষগুলো ফেটে যায়।

ভারতের কানোয়ার ও তার সহযোগী বিজ্ঞানীবৃন্দ ব্যাখ্যা করেছেন যে, লিচুর ফল বৃদ্ধি দুটি পর্যায়ে ঘটে থাকে। প্রথম পর্যায়ে, ফল তার সম্ভাব্য দের্ঘ্য পর্যন্ত দ্রুত বাড়ে। বিশেষতঃ ফলের বীজ দ্রুত বাড়ার কারণে দ্বিতীয় পর্যায়ে ফলের শাঁস দ্রুত বাড়া শুরু করে যে সময় (মে মাসে) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং আপেক্ষিক আদ্রতা কম থাকে। এ সময় ফলের যে অংশে সরাসরি রোদ্র পায় সে দিকে ফলের খোসায় হালকা বাদামী দাগ পড়ে। দাগযুক্ত খোসার রং গাঢ় হয় এবং জায়গাটা শুকিয়ে যায়। একই সময় দ্রুত বর্ধনশীল শাঁসের চাপে দাগযুক্ত আক্রান্ত খোসার জায়গাটি ফেটে যায়। শাঁস বৃদ্ধির হার বেশী হলে ফাটল দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং ফাটল সুস্পস্ট হয়ে উঠে।

ফল ফাটার কারণঃ
ফল ফাটার বিভিন্ন কারন রয়েছে। তবে, লিচু ফল ফেটে যাওয়ার নিম্নের এক বা একাধিক কারণ থাকতে পারে।

(ক) আবহাওয়া জনিতঃ আবহাওয়ার মুল উপাদান তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আদ্রতা এবং বৃষ্টিপাত। লিচুর ফল ফাটার সঙ্গে আবহাওয়ার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গোছ। কানোয়ার, সিংহ প্রভৃতি বিজ্ঞানীদের মতে গরম বাতাস/ আবহাওয়া লিচুর ফল ফাটার প্রধান কারণ। তারা বলেন ফল পাকার আগে গরম আবহাওয়া তৎসহ গরম বাতাস ফল ফাটাতে সহায়তা করে। ফলের শাঁস দ্রুত বৃদ্ধির সময় তাপমাত্রা ৩৮০ সে. বা অধিক এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬০ % বা কম হলে ফল ফাটা তরান্বিত হয়। দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যাপক তারতম্য, তৎসহ গরম আবহাওয়ার পর হঠাৎ পর্যাপ্ত সেচ প্রদান বা বৃষ্টিপাত ফল ফাটতে সহায়তা করে। ফল পাকার পূর্ব মুহূর্তে উচ্চ তাপমাত্রা, নিম্নমাত্রার আপেক্ষিক আর্দ্রতা তৎসহ দীর্ঘ বৃষ্টিপাত ফল ফাটার অন্যতম কারণ বলে বিজ্ঞানী মিশ্র মনে করেন।

(খ) হরমোনজনিতঃ সুস্থ্য ও ফাটা লিচুর রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সুস্থ্য লিচুর তুলনায় ফাটা লিচুর খোসা ও বীজে কম মাত্রায় এবং শাঁসে বেশী মাত্রায় অঙিন বিদ্যমান থাকে। জিবারেলিন এর মাত্রা খোসা, বীজ ও শাঁসে স্বাভাবিক ফলের তুলনায় বেশী থাকে। এছাড়া সাইটো কাইনিন ও এবসিসিক এসিড ফাটা ফলে বেশী লক্ষ্য করা গেছে।

(গ) জাতের বৈশিষ্ট্য জনিতঃ লিচুর সব জাতে একইরকম ফাটল দেখা যায় না। কোন কোন জাত বেশী সংবেদনশীল আবার কোন কোনটি ফাটা প্রতিরোধক। ভারতে বেশ কিছু জাতের উপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, জাতভেদে ফল ফাটার পরিমাণ ০.৩-৩৬.২% । এর মধ্যে সর্বোচ্চ ফাটল দেরাদুন জাতে এবং সর্বনিম্ন ফাটল সীডলেস নং-২ জাতে লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশের দিনাজপুর ও ঈশ্বরদী এলাকায় আবাদকৃত জাতগুলোর মধ্যে বোম্বাই ও স্থানীয জাতের ফল ফাটার পরিমান বেশী হয়ে থাকে। চায়না -৩ ও বেদানা জাতে ফল ফাটার পরিমাণ বেশ কম, নাই বললেই চলে। গবেষণায় দেখা গেছে, আগাম পাকে এমন জাতের ফল ফাটার পরিমাণ নাবী জাতের তুলনায় বেশী। ভারতেও একই রকম ফলাফল লক্ষ্য করা গেছে।

(ঘ) পুষ্টির অভাব জনিতঃ কিছু কিছু পুষ্টি উপাদান যেমন পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, দস্তা, বোরণ, তামা, মালিবডেনাম ও ম্যাঙ্গানিজ ফল বৃদ্ধির সময় শারীরতাত্বিক পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত হওয়ায় এদের অভাবে ফল ফাটা ত্বরান্বিত হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে ফাটা লিচুতে স্বাভাবিক লিচুর তুলনায় বেশী পরিমাণে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম থাকে। অপরদিকে ক্যালসিয়াম ও দস্তা কম পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। স্বাভাবিক ও ফাটা ফলের অম্লতা (পিএইচ) এবং মিষ্টতার (টিএসএস) কোন তারতম্য ঘটে না । তবে, ফাটা ফলে পানির পরিমাণ বেশী থাকতে দেখা গেছে।

(ঙ) মাটির আর্দ্রতাজনিতঃ ত্রুটিপূর্ণ সেচ ব্যবস্থাপনার কারণে ফল ফাটা বেড়ে যেতে পারে। ফলের শাঁস বৃদ্ধির সময়ে মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং পরিমিত মাত্রায় সেচ প্রদান না করার কারণে মাটিতে রসের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় লিচুর ফল ফেটে যেতে পারে।

(চ) রোগ পোকার আক্রমণ ও আঘাত জনিতঃ কোন কোন সময় রোগ ও পোকার আক্রমণ বা শারীরিকভাবে ফল ফল আঘাত প্রাপ্ত হলে তা ফেটে যায় এবং পচনকারী জীবানুর আক্রমণ দেখা দিতে পারে । তবে, এসব কারণে ব্যাপক আকারে ফাটল দেখা যায় না।

প্রতিকার
১। যে সব জাত ফাটল প্রতিরোধক/ সংবেদনশীল সে গুলোর চাষাবাদ করতে হবে।
২। বিভিন্ন প্রকার হরমোন সেপ্র করে ফলের পরিপক্কতা দীর্ঘায়িত করা এবং খোসার সমপ্রসারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে

ফলের ফাটা দমনের ক্ষেত্রে ভাল ফলাফল পাওয়া গেছে। ন্যাপথালিন এসিটিক এসিড ((NAA) ২৫ পিপিএম হারে এর সাথে জিবারেলিক এসিড ৫০ পিপিএম হারে ১০ দিন পর পর সেপ্র করে ফাটল রোধ করা সম্ভব।

৩। ফল বৃদ্ধির সময় জিংক সালফেট ( প্রতি লিটারে ৫ গ্রাম), রোবাঙ/ বরিক এসিড ( প্রতি লিটারে ৫ গ্রাম) একত্রে বা আলাদা আলাদা ভাবে সেপ্র করলে ফল ঝরে পড়া ও ফাটা উভয় সমস্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।
৪। ফল বৃদ্ধির সময় গাছে নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণ সেচ প্রদান করলে মাটির আর্দ্রতা / রস বৃদ্ধি এবং বাতাসের তাপমাত্রা কমে যাবে। ফলে লিচুর ফাটল কমে যাবে।
৫। মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। জৈব সার প্রয়োগে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বেড়ে যাবে। ফলে বিরুপ আবহায়ায় মাটির রস দ্রুত হ্রাস বৃদ্ধির হার কমে যাবে। উপরন্ত, জৈব সারে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকায় মাটির অপুষ্টি জনিত সমস্যাও দুর হবে।

অনেক সময় চাষীরা ফল ফাটার প্রকৃত কারন নির্ণয় করতে পারেনা । সে জন্য একক ভাবে কোন চেষ্টার উপর নির্ভর না করে উপরের আলোচিত প্রতিকারগুলোর সমন্বিত ব্যবস্থা নিলে কার্যকর ভাবে লিচুর ফাটল রোধ করা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৯, ২০২১ ১০:২৩ অপরাহ্ন
বঙ্গবন্ধুর গৃহীত কৃষিনীতির পথ ধরেই বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিতে যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুই তার ভিত্তি রচনা করেন। বঙ্গবন্ধুর গৃহীত কৃষিনীতির পথ ধরেই বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করছেনে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় ভার্চ্যুয়ালি ‘মুজিববর্ষে শতঘণ্টা মুজিবচর্চা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিক ‘মুজিববর্ষে শতঘণ্টা মুজিবচর্চা’ অনুষ্ঠানের এ পর্বের আলোচনার বিষয় ছিল ‘কৃষকের বঙ্গবন্ধু’।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরপরই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। কৃষি উন্নয়নে নিয়েছিলেন যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। বঙ্গবন্ধু উৎপাদন বৃদ্ধিতে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ, উন্নত বীজের ব্যবহারে পদক্ষেপ নেন।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে ট্রাক্টর, সেচযন্ত্র আনার ব্যবস্থা নেন। কৃষিতে নতুন নতুন প্রযুক্তি ও উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনের জন্য গবেষণায় গুরুত্ব দিয়ে কৃষি গবেষণা কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করেন। চাকরিতে কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদা দেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কৃষি উন্নয়নের যে ভিত্তি রচনা করেছিলেন, সেটিকে অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কৃষিক্ষেত্রে ও খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

এ সময় কৃষিমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের ‘মুজিববর্ষে শতঘণ্টা মুজিবচর্চা’ অনুষ্ঠানকে ব্যতিক্রমী, সৃজনশীল ও অনন্য উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মুজিববর্ষে আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ হবে বঙ্গবন্ধুর জীবনের নানা দিক সম্পর্কে আরও বেশি করে জানা। বঙ্গবন্ধুর জীবন হলো মহাকাব্য। আমাদের বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, ত্যাগ, জীবনসংগ্রাম, সাহস, প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ও মানবপ্রেমসহ সার্বিক গুণাবলী সম্পর্কে আরও বেশি করে জানতে হবে এবং তা তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এতে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও চেতনা সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বিশেষভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মেহেরপুর জেলা প্রশাসন চলমান ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে ‘মুজিববর্ষে শতঘণ্টা মুজিবচর্চা’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গত ৩০ আগস্ট ২০২০ জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ আলোচনা অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, ইতিহাসবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, বরেণ্য সাহিত্যিক ও লেখক জুম প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত থেকে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন। এ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সৎ, আদর্শবান, নিঃস্বার্থ, নির্লোভ, নির্মোহ, নিরহংকার ও নির্ভীক এবং মাধুর্যসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও ‘মুজিববর্ষে শতঘণ্টা মুজিবচর্চা’ প্রোগ্রামের মুখ্য উপদেষ্টা ফরহাদ হোসেন এমপি।

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সাবেক সংসদ সদস্য মো. মকবুল হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ, গাংনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম শাহিন ও প্রফেসর হাসানুজ্জামান মালেক।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৯, ২০২১ ৬:৩১ অপরাহ্ন
কৃষি প্রণোদনা বাস্তবায়নে শঙ্কা
কৃষি বিভাগ

মহামারি করোনায় কৃষি উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় এবং এক টুকরাও জমি যাতে অনাবাদি না থাকে সে জন্য কৃষি খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই তহবিল থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন হাজার ৫৬৩ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে ব্যাংকগুলো, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৭১ শতাংশ। ঋণ পেয়েছেন এক লাখ ৫১ হাজার ৭১৭ জন কৃষক। চলতি মাসের মধ্যেই এই তহবিলের পুরো অর্থ বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে। সে হিসেবে এক মাসেই দেড় হাজার কোটি টাকার মতো ঋণ বিতরণ করতে হবে।

তবে চুক্তিবদ্ধ অর্ধেকের বেশি ব্যাংকের ঋণ বিতরণ পরিস্থিতি ৫০ শতাংশের নিচে থাকায় এক মাসেই তাঁদের পক্ষে এত বেশি ঋণ বিতরণ কোনোভাবেই সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

গত বছরের ১৩ এপ্রিল কৃষি খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল ব্যবহারের নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্যাকেজের আওতা নির্ধারণ করা হয় মৌসুমভিত্তিক ফুল ও ফল চাষ, মৎস্য চাষ, পোল্ট্রি, ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ খাত।

আর সুদের হার নির্ধারণ করা হয় মাত্র ৪ শতাংশ। এই তহবিল গঠনের সাড়ে ১০ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো ঋণ বিতরণ বাকি আছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বা ২৯ শতাংশ। অভিযোগ আছে, শাখা পর্যায়ের ব্যাংক কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণে কৃষকরা প্রণোদনার এই ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন না।

ঢাকা ব্যাংকের এমডি এমরানুল হক বলেন, ‘আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু যাঁরা প্রণোদনা ঋণ নেবেন, তাঁদের কাছ থেকেই আবেদন কম আসছে। তার পরও যথাসময়ে ঋণ বিতরণ শেষ করতে আমাদের শাখা ব্যবস্থাপকদেরও উদ্বুদ্ধ করছি। আঞ্চলিক শাখাগুলো এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেষ্ট। আশা করছি একটা ভালো ফল আসবে।’

শুরুতে করোনা আতঙ্ক, বন্যা ও ঘূর্ণিঝর আম্ফানের কারণে এই তহবিলের ঋণের চাহিদা কম ছিল। পরে এই তহবিলের ঋণের চাহিদা বাড়লেও ব্যাংকের অনাগ্রহের কারণে ঋণ বিতরণে গতি আসেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই তহবিলের ঋণ বিতরণে গতি আনতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় প্রথম দফায় সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ওই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ মার্চ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোট ৪৩টি ব্যাংক এই তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৩টি ব্যাংক তাদের টার্গেটের ৫০ শতাংশও ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। এই সময়ে দুটি ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ১০ শতাংশের নিচে রয়েছে।

১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশের কম ঋণ বিতরণ করেছে এমন ব্যাংকের সংখ্যা চারটি। এ ছাড়া ২০ থেকে ৩০ শতাংশের কম ঋণ বিতরণ করা ব্যাংকের সংখ্যা ছয়টি। ৩০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশের নিচে আছে আরো ছয়টি। আর ৪০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশের নিচে রয়েছে পাঁচটি। তবে এ সময়ে কয়েকটি ব্যাংক ঋণ বিতরণে বেশ ভালো করেছে। এ সময়ে ৮০ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করেছে এমন ব্যাংকের সংখ্যা প্রায় ১৩টি।

এর মধ্যে একটি ব্যাংক শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। কৃষি খাতে ঘোষিত প্রণোদনার নীতিমালা অনুযায়ী এই তহবিলের আওতায় ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্ধারিত ১ শতাংশ সুদে পুনরর্থায়ন সুবিধা পাবে। আর গ্রাহক পর্যায়ে সুদ হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ। এই সুদহার নতুন ও আগের উভয় গ্রাহকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এই তহবিলের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ১৮ মাস (ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ)।

এদিকে করোনার কারণে প্রণোদনা তহবিল ঘোষণার পাশাপাশি এই খাতের অন্য সব ঋণের সুদহারও কমানো হয়েছে। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে সব ধরনের ঋণের সুদহার হবে ৪ শতাংশ। আগে কৃষিঋণের সাধারণ সুদহার ছিল ৯ শতাংশ, এখন সেখানে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে কৃষকের সুদ কমে হয় ৪ শতাংশ।-কালের কণ্ঠ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৯, ২০২১ ২:৪৩ অপরাহ্ন
মিষ্টি কুমড়া চাষে ভাগ্যবদল আফজালের
কৃষি বিভাগ

পাঁচ বছর আগে ভারতে গিয়ে বরগুনার কৃষক আফজাল এনেছিলেন মিষ্টি কুমড়ার বীজ। সেই বীজ থেকে উৎপাদিত কুমড়া বদলে দিয়েছে তার ভাগ্য। বরিশাল মহানগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে কুমড়া বিক্রি করেন তিনি। কুমড়া বিক্রি করে রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাতাকাটা গ্রামের এই কৃষক। ​

ক্রেতাদের অনেকেই জানিয়েছেন, আফজাল প্রতি কেজি কুমড়ার দাম নিচ্ছেন ২০ থেকে ৩০ টাকা। এর পাশাপাশি পৃথকভাবে বিক্রি করছেন কুমড়ার বীজও। আর এভাবেই জমে উঠেছে আফজালের কুমড়া বিক্রি।

তিনি জানান, বাবার কাছ থেকে কৃষিকাজের হাতেখড়ি তার। এরপর থেকে বিভিন্ন ধরণের কৃষিকাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে কৃষিকাজ নেশায় পরিণত হয়েছে আফজালের।

আফজাল হোসেন বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে ভারতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে চোখে পড়লো কুমড়ার বীজ। তখন বিক্রেতা জানায়- এ কুমড়া আমাদের দেশের মাটিতে ভালো ফলন দেবে। একেকটি কুমড়া সর্বোচ্চ তিন মণের ওপরে হবে। তখন বিশ্বাস করে বীজটা কিনি।’ দেশে এসে সেই বীজে চাষাবাদ শুরু করি। কিন্তু গত বছর সেভাবে ফলন পাইনি। কিছু কুমড়া বড় হলেও তার সংখ্যা ছিল খুবই কম। তবে আশা ছাড়িনি।’

এ বছর সেই আশা পূরণ হয়েছে। দেড় শতাধিক কুমড়ার আকৃতি হয়েছে দৈত্যাকার। ১১০ কেজি থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ৫০ কেজি ওজনের কুমড়া হয়েছে’, বলেন আফজাল।

আফজাল আরও জানান, বড় বড় কুমড়া হওয়ায় খবর পেয়ে বিভিন্ন জাগয়া থেকে লোকজন আসেন কুমড়া দেখতে। দেখতে এসে অনেকেই কুমড়া কিনেও নিয়ে যান। বড় কুমড়া থাকায় সেগুলো কেটে কেটে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে লাভও হচ্ছে ভালো।
‘আলাদা বীজ বিক্রি করতে পারছি। বড় জাতের কুমড়া হওয়ায় অনেকে বীজ কিনতে খুব আগ্রহী। তবে যারা কেজি দামে কুমড়া কিনছেন তাদের আবদারে কিছু বীজ বিনামূল্যে দিয়ে হচ্ছে’, যুক্ত করেন আফজাল।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop