৪:৪৪ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ২৭, ২০২১ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন
কুয়েতের ওয়াফরা অঞ্চলে সবজি চাষে প্রবাসীদের সাফল্য
কৃষি বিভাগ

আরবের উত্তরাঞ্চলীয় পারস্য উপসাগরের প্রান্তে ১৭ হাজার ৮২০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ পশ্চিম এশিয়ার কুয়েতের অবস্থান। মধ্যপ্রাচ্যের তেল-সম্পদে সমৃদ্ধশালী দেশ কুয়েত। দেশটিতে প্রায় তিন লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন, এদের মধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার প্রবাসী এদেশের মাজারা বা কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

কৃষিপ্রধান অপার সম্ভাবনার নিজ দেশ ছেড়ে প্রবাসে এসে শত প্রতিকূলতা নিয়েও সবজি চাষ ও কুয়েতের সবজি চাহিদা মেটাতে কৃষিখাতে এক উজ্জ্বল ও অনবদ্য দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন বাংলার সূর্যসন্তান প্রবাসীরা।

জানা যায়, উপসাগরীয় দেশ কুয়েতে কৃষিঅঞ্চল বলে খ্যাত দুটি এলাকা, দেশটির এক প্রান্তে ‘ওয়াফরা’ ও অন্য প্রান্তে ‘আব্দালি’ এলাকা। আর এ দুটি এলাকায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকরা কুয়েতের সিংহভাগ সবজির চাহিদা মেটাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

কুয়েতের উত্তর সীমান্তের নিকটবর্তী ইরাকের বাসরা এর ৮০ নম্বর রোডের পূর্বদিকে অবস্থিত কৃষি খামারের একটি বৃহৎ অঞ্চল এর নাম আব্দালি। অন্যদিকে, কুয়েতের প্রাক্তন নিউট্রাল জোনের সীমানার মধ্যে দক্ষিণ অঞ্চলের নাম ওয়াফরা। দেশটির আহমদি গভর্নরেটের অংশ এটি। উর্বর মাটির পাশাপাশি গবাদি পশু-পাখির খামারের জন্য অত্যন্ত সুপরিচিত এ অঞ্চলটি। কুয়েত-সৌদি আরব সীমান্তের সমান্তরালে অবস্থিত এ এলাকাটি দেশটির রাজধানী শহর থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে।

ওই এলাকায় বাংলাদেশি কৃষকরা চাষাবাদ করছেন মাসকলাই, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টম্যাটো, ক্যাপসিকাম, বেগুন, লেট্যাসসহ বিভিন্ন সবজি ও আবাদি ফসল। অবশ্য প্রবাসীরা অনেক কষ্ট করে সবজি উৎপাদনের জন্য তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিকও পাচ্ছেন বলে জানা যায়।

প্রচণ্ড গরমের দেশ কুয়েত, ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রার এ দেশে শীতকালীন সবজি চাষ করে চলেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। শীত মৌসুমে শীতকালীন সবজি সহজেই চাষ সম্ভব হলেও গরমের সময় বিশেষ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করতে হয়, ওই এলাকায় কৃষিকর্মে নিয়োজিত বাংলাদেশি শ্রমিকরা জানান, বর্তমানে লোকবল কম থাকার কারণে সবজি চাষ ও বাজারজাত এর ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদেরকে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৬, ২০২১ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন
আমেরিকার জনপ্রিয় কিনোয়া চাষে সফল বাংলাদেশের কৃষক
কৃষি বিভাগ

প্রথমবারের মতো এবছর উত্তর আমেরিকার ফসল কিনোয়ার চাষ হয়েছে বাংলাদেশে। পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ কিনোয়া চাষ করে সাফল্য পেয়েছে লালমনিরহাট জেলার কৃষকরা। এই ফসল ধান চাষের চেয়েও লাভজনক। কিনোয়া কাউনের মতো দেখতে। এটি উচ্চমান সম্পূর্ণ পুষ্টিকর খাদ্য ও ক্যালোরি যুক্ত দানাদার খাবার। ভাত, রুটির বিকল্প হিসেবে ইউরোপ, আমেরিকার, উত্তর আমেরিকা, চীন ও ভারতের মানুষ খায়।

শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ ৫ বছর ধরে কিনোয়া জাতের ফসল নিয়ে গবেষণা করেছে। সেই গবেষণার পর মাঠ পর্যায়ে এবছর প্রথম কিনোয়ার চাষ হয়েছে বাংলাদেশে। সারাদেশে ৫টি পরীক্ষামূলক প্লটে মাঠ পর্যায়ে তৃণমূল কৃষকে দিয়ে কিনোয়া চাষ শুরু হয়েছে। নতুন এই ফসলের চাষ হয়েছে লালমনিরহাটে দুটি, কুড়িগ্রামে একটি ও পটুয়াখালীতে দু’টি প্লটে ।

লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের তিনটি কিনোয়া চাষের প্লটে কিনোয়া চাষ হয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে। কিনোয়ার ফলন হয়েছে আশানুরুপ। উৎপাদন কৃষক আশা করছে বাম্পার। এই ফসল চাষ অত্যন্ত লাভজনক। কিনোয়া ফসরের শস্য দানার রং তিন ধরণের হয়ে থাকে সাদা, লাল ও কালো।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার চিনিপাড়া গ্রামের কৃষক ইসরাইল হোসেন(৫৫) জানান, কিনোয়া ফসল সম্পর্কে তার কোন পূর্বে থারণা ছিলনা। কৃষিবিদ ইকবাল হাসান এই কিনোয়া লাভজনক ফসল হিসেবে চাষের সহায়তা ও পরামর্শ দেয়। ২৫ শতাংশ জমিতে কিনোয়া চাষ করেছি। কিনোয়া চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার টাকা। ২৫ শতাংশ জমিতে প্রায় ৮০-৯০ কেজি কিনোয়া শস্য দানা জাতীয় ফসল উৎপাদন হবে। এই কিনোয়া চাষে কোন রাসায়নিক সারের ব্যবহার করা হয়নি। শুধুমাত্র জৈব সার ব্যবহার করে আশানুরুপ কিনোয়া চাষে সাফল্য পেয়েছি। সরকার বাজারজাত করণে সহায়তা দিলে আগামীতে কয়েক গুন বেশি জমিতে কিনোয়া ফসল চাষ করার আগ্রহ আছে। বিদেশে এই শস্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মাটি বেলে-দোআঁশ যুক্ত মাটি। শীতের সময় আবহাওয়াও কিনোয়া ফসল চাষের উপযোগী থাকে। তাই কিনোয়া চাষে সাফল্যে এসেছে। এখন জনপ্রিয় করা গেলে এই ফসল কৃষিকে বিশ্বে বাংলাদেশের কৃষি অর্থনৈতিকে মর্যাদার আসনে বসাবে। কৃষি ঘুরে দাঁড়াবে।

কৃষিবিদ ইকবাল হাসান, কিনোয়া চাষ করতে প্রতি শতাংশ জমিতে খরচ হয় আনুমানিক প্রায় ৫-৬ শত টাকা। কিনোয়া ফসল উৎপাদন হয় (শস্যদানা) উৎপাদন হয় প্রায় ৪-৬ কেজি। ব্যক্তিগত ভাবে উদ্বুদ্ধ হয়ে মাঠ পর্যায়ে তৃণমূলের তিন জন কৃষককে কিনোয়া চাষে আগ্রহী করে তুলেছি। এই তিনজন কৃষক ছিল কিনোয়া চাষের পাইলট প্রজেক্ট। উৎপাদন খুবেই (ফলাফল) সন্তোষজনক পেয়েছি। কিনোয়ার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

ঢাকা শের-ই- বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেনট অব এগ্রোনমি’র প্রফেসর ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাস জানান, কিনোয়া হলো হাই প্রোটিন সম্পন্ন খাবার। এটিকে সুপার ফুডও বলা হয়। কিনোয়াতে অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে এবং লাইসিন সমৃদ্ধ, যা সারা শরীর জুড়ে স্বাস্থ্যকর টিস্যু বৃদ্ধিকে সহায়তা করে। কিনোয়া আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই, পটাসিয়াম এবং ফাইবারের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। রান্না করা হলে এর দানাগুলি আকারে চারগুণ হয়ে যায়।

ড. পরিকমল জানান, ৫ বছর গবেষণার পর পাইলটিং করতে মাঠ পর্যায়ে কিনোয়া চাষ তৃণমূলে পর্যায়ের কৃষকদের দ্বারা শুরু করেছি। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে কিনোয়া চাষের অনুমোদন দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। নভেম্বরের মাঝামাঝি এই ফসল চাষ শুরু করতে হয়। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে মাঝামাঝি সময় সফল ঘরে তোলা যায়। খাদ্য চাহিদা মেটাতে উৎপাদিত কিনোয়া বিদেশে রপ্তানি করা যেতে পারে।

ফসলটির পুষ্টি সমৃদ্ধতার কারণে খ্রিস্টপূর্ব ৫ হাজার বছর পূর্ব থেকেই ল্যাটিন আমেরিকাভূক্ত দেশে দানা, ফ্লেক্স, পাস্তা, রুটি, বিস্কুট, বেভারেজ হিসেবে কিনোয়া ব্যবহার করে আসছে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালী, সুইডেন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, ভারতসহ ৯৫ টিরও অধিক দেশে কিনোয়া চাষাবাদ হচ্ছে। এসব দেশের পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য তালিকায় স্থান পেয়েছে।-বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৬, ২০২১ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
উজিরপুরে ভেজাল সার শনাক্তকরণের ওপর কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): মাটির নমুনা সংগ্রহ, সুষম সার ব্যবহার ও ভেজাল সার শনাক্তকরণ শীর্ষক দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার মুন্ডপাশা কৃষি সমবায় সমিতির কার্যালয়ে প্রশিক্ষণটি অনুষ্ঠিত হয়।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) আয়োজনে এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ছাব্বির হোসেন।

তিনি বলেন, ফসলের আশানুরূপ ফলন পেতে জমিতে সার দেয়া দরকার। তবে তা অবশ্যই সুষম হতে হবে। এর চেয়ে আরো গুরুত্ব হচ্ছে সার যেন ভেজাল না হয়। তাই সার ব্যবহারের পূর্বে যাচাই করা জরুরি।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. তৌহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এসআরডিআই’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জগলুল পাশা এবং আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এসআরডিআই’র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইসরাত জাহান। প্রশিক্ষণে ২৫ জন কৃষক ও সার ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৫, ২০২১ ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন
বরুড়ায় পরিত্যক্ত জায়গায় শীম চাষে সফল চাষিরা
কৃষি বিভাগ

পরিত্যক্ত স্থানে শিম চাষ করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারেও বিক্রি করেছেন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার চাষিরা।

জানা যায়, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নে এ প্রক্রিয়ায় শিম চাষে কৃষকদের পরিত্যক্ত স্থানগুলোতে শিম চাষ করতে উদ্বুদ্ধ করেন স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার ভুঁইয়া।

স্থানীয় উওর দিঘলি গ্রামের কৃষক মো. খোকন মিয়া জানান, আমরা সড়কের পাশের জমিতে ধান চাষ করেছি। কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার ভুঁইয়া একদিন এসে জানালেন,সড়কের পাশে যেন শিম চাষ করি। প্রথমে বাড়তি কাজ মনে হলেও তার আহ্বানে শিম লাগাই। সার কীটনাশক ছাড়াই ভালো ফলন পেয়েছি। তিনি বিনামূল্যে আমাদের বীজ দিয়েছেন।

জানা যায়, ইউনিয়নের উত্তর দিঘলি, শালুকি, বৈশখোল, নরিন গ্রামের সড়কের পাশ জুড়ে শিমের মাচা। নির্মাণাধীন সড়কের ধুলায় গাছের পাতা ধূসর হয়ে গেলেও শিমের ফলনে খুশিতে উজ্জ্বল কৃষকের মুখ। কৃষকরা শিম তোলা ও বাজারজাতে ব্যস্ত।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার ভুঁইয়া জানান, কৃষকদের জন্য ব্যতিক্রম ও সাশ্রয়ী কিছু করার আগ্রহ সব সময়ই থাকে। ব্যক্তিগত অর্থ থেকে শতাধিক কৃষককে ইফসা আগাম জাতের শিমের বীজ ক্রয় করে দেই। বীজের দাম টাকার অংকে খুব বেশি নয়, তবে কৃষকরা নিরাপদ সবজির সাথে বিক্রি করেও লাভবান হচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৫, ২০২১ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন
ভুটানের কৃষি বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ দেবে বাংলাদেশ
কৃষি বিভাগ

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুটানের কৃষি বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেনপররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বুধবার ( ২৪ মার্চ) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিংয়ের ঢাকা সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আনতে চায় বাংলাদেশ। আর ভুটানে রপ্তানি করবে ব্যান্ডউইথ। জলবিদ্যুৎ আমদানি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয়ভাবে হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

ড. মোমেন বলেন, ‘ভুটানে আমরা কম মূল্যে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করব। এছাড়া ভুটানের সঙ্গে সড়ক, আকাশ, নৌ ও রেলপথে কানেক্টিভিটি বাড়াতে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে।’

তিনি জানান, ভুটানের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে ভিসার মেয়াদ এককালীন বাড়ানোর জন্য ভুটানের প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ করেছেন। তার এই প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। ‘করোনা মহামারির মধ্যেও ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দুই দেশের মধ্যে অসাধারণ বন্ধুত্বের পরিচয় বহন করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পারস্পারিক সম্মান, রাজনৈতিক সমঝোতা ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে এবং উভয় দেশের জনগণের সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে অত্যন্ত চমৎকার, বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভালো প্রতিবেশীসুলভ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান। ২০০৯ সাল থেকে উভয় দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়, বিশেষ করে, ২০১৯ সালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর তাৎপর্যপূর্ণ বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ট দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো গভীর হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে পরীক্ষিত বন্ধুত্বের প্রতিফলন ঘটেছে। উভয় দেশের ঐতিহাসিক ও ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় গভীর বলে উভয় প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন।’

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ হিসেবে এবং একই ধরনের ঐতিহ্য, বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের কারণে ভুটান বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। উভয় নেতা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক দিক পর্যালোচনা করেন এবং উভয় দেশের বিভিন্ন সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পারিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল- বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ, জল-বিদ্যুৎ, দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি। করোনা মহামারি মোকাবিলায় ওষুধ পাঠানোয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এসময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। গত ৬ ডিসেম্বর অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় উভয় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন- দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে এ চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুটানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত একেএম শহীদুল করিম।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৪, ২০২১ ৮:০৬ অপরাহ্ন
বরিশালে বিনা উদ্ভাবিত আউশ ধানের ওপর কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে বিনা উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল আউশ ধানের জাত পরিচিতি, আাধুনিক চাষাবাদ, বীজ উৎপাদন এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি শীর্ষক দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বরিশালের বিনা উপকেন্দ্রে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) আয়োজনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

ভার্চুয়ালী এই আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম।

তিনি বলেন, বোরো ধানের ওপর চাপ কমাতে আউশের আবাদ বাড়ানো দরকার। এর মাধ্যমে ভ‚গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমবে। সেচখরচ হবে সাশ্রয়। তাই চাষিরা লাভবান হবেন । দক্ষিণাঞ্চলের জন্য বিনাধান-১৯ এবং বিনাধান-২১ বেশ উপযোগি। জাত দুটো খরাসহিষ্ণু। পাশাপাশি রয়েছে স্বল্প জীবনকালের সুবিধা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালী বক্তব্য রাখেন বিনার পরিচালক (গবেষণা) ড. এম এ মালেক। সভাপতিত্ব করেন বিনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিনা সদর দপ্তরের ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আবু সাঈদ, উজিরপুরের উপজেলা কৃষি অফিসার মো. তৌহিদ প্রমুখ। প্রশিক্ষণে বরিশাল সদর, বাবুগঞ্জ এবং উজিরপুরের ৬০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৪, ২০২১ ৭:৫২ অপরাহ্ন
দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি ব্যাংকের ১২‘শ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ সম্পন্ন
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক চলতি অর্থ বছরে দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলায় প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা ঋণ ছাড়াও এসএমই ও কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রকল্পে আরো প্রায় ৮০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করছে। এছাড়া কোভিড-১৯’এ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের ৪% সুদে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচী ও মুজিব জন্ম শতবর্ষ ঋন কার্যক্রমের আওতায় কৃষি ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকা ঋন বিতরন করেছে।

ব্যাংকটি দক্ষিণাঞ্চলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও প্রায় ৯০ কোটি টাকা ঋণ বিতরন করেছে চলতি অর্থ বছরের প্রথম ৯ মাসে।

কৃষি ব্যাংক এই প্রথমবারের মত বরিশালে অনলাইনে কৃষি ঋন আবেদনপত্র গ্রহন শুরু করেছে। ফলে কোন দালাল বা মধ্য সত্বভোগী ছাড়াই যেকোন কৃষক ঋন গ্রহন করতে পারছেন।

এলক্ষ্যে বরিশাল জেলার ৮৫টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত ডাটা সেন্টারের কর্মীদের প্রশিক্ষনও প্রদান করেছে ব্যাংকটি। ফলে কৃষকরা স্ব স্ব ইাউনিয়ন পরিষদ অফিসের ডাটা সেন্টারে গিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র ও জমির খতিয়ান দিয়ে কোন ধরনের বিড়ম্বনা ছাড়াই অনলাইনে কৃষি ঋনের আবেদন করতে পারছেন।

গত ২০ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকটি দক্ষিনাঞ্চলের ৪২টি উপজেলায় তার ১০৯টি পল্লী শাখা ও ২০টি আরবান শাখার মাধ্যমে প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা ঋন বিতরন করতে সক্ষম হয়েছে। যা লক্ষমাত্রার প্রায় ৬০%। পাশাপাশি ব্যাংকটির লোকশানী শাখার সংখ্যা গত অর্থ বছরের জুনের ৬৪ থেকে ৫৫-তে হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। চলতি অর্র্থ বছরের শেষে লাভজনক শাখার সংখ্যা ৮০-তে উন্নীত করার লক্ষে কাজ করছেন কতৃপক্ষ।

এমনকি ব্যাংকটির বকেয়া ঋন আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বিগত অর্থ বছরের ৬৮৭.৩৮ কোটি থেকে চলতি অর্থ বছরে ৬৯২.৫৪ কোটিতে উন্নীত করা হলেও ২০ মার্চ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭৫% বা সাড়ে ৪শ কোটি টাকা আদায় সম্ভব হয়েছে বলেও জানা গেছে। গত বছর একই সময়ে আদায়ের পরিমান ছিল ৪২৯ কোটি টাকা বা লক্ষ্যমাত্রার ৬২%। চলতি অর্থ বছরে এ পর্যন্ত কৃষি ব্যাংক বরিশাল বিভাগে নতুন প্রায় ৪৮ হাজার গ্রহিতাকে ঋন প্রদান করায় ব্যাংকটির মোট ঋন গ্রহীতার সংখ্যা দাড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজারের মত। দক্ষিণাঞ্চলে রাষ্ট্রয়ত্ব এ বিশেষায়িত ব্যাংকটির আমনত স্থিতি বর্তমানে প্রায় ১৮ শ কোটি টাকা।

এমনকি দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি ব্যাংক সাম্প্রতিককালে বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধি করতেও সক্ষম হয়েছে। চলতি অর্থ বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত দক্ষিণাঞ্চলের রেমিট্যান্স যোদ্ধাগন প্রায় ১১৪ কোটি টাকা প্রেরন করেছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া রাষ্ট্রয়ত্ব বিশেষায়িত এ ব্যাংকটি দক্ষিণাঞ্চলে তার শাখাগুালোত ত্রৈমাসিক মুনফা ভিত্তিক সঞ্চয় প্রকল্প, ডবল প্রফিট স্কিম, মিলিনিয়াম স্কিম, মাসিক ডিপোজিট স্কিম, লাখপতি স্কিম ও মাসিক মুনফা স্কিমের প্রায় ১৪ হাজার নতুন হিসেব চালু করতে সক্ষম হয়েছ।

ব্যাংকটি ‘কোভিড-১৯ এর প্রাদূর্ভাব নিরসনে সরকার ঘোষিত বিভিন্ন ঋন প্রণোদনার আওতায় ৪৪৫ কোটি টাকা ঋন প্রদান করেছে। যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ। মাত্র ৪ ভাগ সুদে কৃষি শষ্য ও ক্ষুদ্র ব্যাবসা সহ বিভিন্ন ধরনের কৃষি ভিত্তিক কাজে এ ঋন বিতরণ করা হয়েছে।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য সরকারের ৫% ভতর্’কি অর্থে দক্ষিণাঞ্চলে এসব ঋন প্রদান করেছে কৃষি ব্যাংক। এর বাইরেও কৃষি ব্যাংকের নিজস্ব ৩শ কোটি টাকার তহবিল থেকে ‘মুজিব জন্ম শতবার্ষিকী ঋন বিতরন কার্যক্রম’এর আওতায় দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলায় আরো প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ক্ষুদ্র ঋন বিতরন করা হয়েছে।

তবে রাষ্ট্রয়ত্ব বিশেষায়িত এ ব্যাংকটি মারাত্মক জনবল সংকটে এখন নুহ্যমান। লোকবলের অভাবে পল্লী এলাকার বেশীরভাগ শাখার কার্যক্রমই ব্যাহত হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলার ৪২টি উপজেলার ১২৯টি শাখা সহ বিভাগীয় ও আঞ্চলিক অফিসগুলোর জন্য মঞ্জুরীকৃত প্রায় সাড়ে ১৬শ জনবলের মধ্যে বর্তমান কর্মরত আছেন মাত্র সাড়ে ৯শর মত।

সার্বিক বিষয় নিয়ে ব্যাংকটির বরিশাল বিভাগীয় জিএম মোহম্মদ সালাহ উদ্দীন রাজিব-এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, আমরা চেষ্টা করছি কৃষি ব্যাংককে জনগনের আরো কাছে নিয়ে যেতে। কৃষকদের হয়রানী মূক্ত সেবা প্রদানের লক্ষে কৃিষ ব্যাংকের প্রতিটি শাখা সহ আঞ্চলিক ও বিভাগীয় অফিসে যে কেউ অভিযোগ করতে পারেন। যে কোন অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের কথাও জানান তিনি। জনবল সংকটের বিষয়টি সদর দপ্তর অবগত আছে বলে জানিয়ে পরিস্থিতি উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।-ইনকিলাব

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৩, ২০২১ ১১:১৯ অপরাহ্ন
কৃষকদের মাঝে ভতুর্কি মুল্যে রিপার ও কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন হস্তান্তর
কৃষি বিভাগ

ঝিনাইদহে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়াতে কৃষকদের মধ্যে অর্ধেক ভর্তুকি মুল্যে রিপার ও কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে এ মেশিন হস্তান্তর করা হয়।

কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের লক্ষ্যে ৫০ ভাগ উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে সদর উপজেলার ১১ জন কৃষককে রিপার ও কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে কম সময়ের মধ্যে কৃষক ধানসহ অন্যান্য ফসল কর্তন ও মাড়াই করতে পারবে।

এসময় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আজগর আলী, উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. আব্দুর রশিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শাহিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরতি দত্ত, পোড়াহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হিরন, কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম, কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসান, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার খাইরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৩, ২০২১ ৭:০২ অপরাহ্ন
পূর্ব শত্রুতার জেরে ক্ষেতের কাঁচা ধান কাটলো দুর্বৃত্তরা
কৃষি বিভাগ

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে যশোরের কেশবপুরে রবিউল ইসলাম নামে এক কৃষকের ক্ষেতের ধানগাছ কেটে পা দিয়ে মাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে।

মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনায় ওই কৃষক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা যায়।

এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আওয়ালগাতী গ্রামের মোকাম আলী মোড়লের সঙ্গে বহু বছর ধরে একই গ্রামের শাহাদাৎ আলী মোড়লের জমি সংক্রন্ত বিরোধ চলে আসছে।

পূর্বপুরুষের ধারাবাহিকতায় মোকাম আলীর ছেলে কৃষক রবিউল ইসলামের সঙ্গে শাহাদাৎ আলীর ছেলে জব্বার আলীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে শত্রুতা শুরু হয়। তারই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভোরে আওয়ালগাতী বিলে খালের ধারে মাছের ঘেরের ভেতরে কৃষক রবিউল ইসলামের ৪ শতক পরিমান জমির ধানগাছ কেটে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে দেয় জব্বার আলীর লোকজন। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বাধা দিতে গেলে তাকে মারপিট করে খুনের হুমকি দিয়ে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।

তবে অভিযুক্ত জব্বার আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রবিউল ইসলাম আমাকে ফাঁসানোর জন্য নাটক করছে।

অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা কেশবপুর থানার উপ-পরিদর্শক অরুপ কুমার বসু জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৩, ২০২১ ৪:০৮ অপরাহ্ন
পেঁয়াজের বীজ চাষে লাভের স্বপ্ন দূর্গাপুরের চাষিদের
কৃষি বিভাগ

মাঠজুড়ে সবুজ ডগায় গোছায় গোছায় সাদা ফুল দেখা যায় রাজশাহীর দূর্গাপুর জুড়ে।। ওই সাদা ফুলের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ‘কালো সোনা’ খ্যাত পেঁয়াজ বীজ।

কৃষিবিদদের মতে, এ উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। উৎপাদিত পেঁয়াজ বীজ গুণে ও মানে উৎকৃষ্ট। ফলনও হয় বেশ ভালো। আর তাই দূর্গাপুরে পেঁয়াজের বীজ চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।

দূর্গাপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এ বছর উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ হয়েছে। যা গত বছর ছিল ৫০ হেক্টর। বছরজুড়েই পেঁয়াজের দাম বেশি। তাই অল্প সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পেঁয়াজের বীজ আবাদ হয়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উপজেলায় বেশি পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ১ মণ বা ৪০ কেজি বীজের দাম ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা। সময় ভেদে চাহিদার তুলনায় দাম আরও বেশি হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখানকার পেঁয়াজ বীজের বেশ চাহিদা রয়েছে। আর তাই এখানকার বীজ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন দূর্গাপুরের কৃষকরা।

ভালো লাভের সম্ভাবনার বিষয়ে উপজেলার পেঁয়াজ বীজ চাষিরা জানায়, দূর্গাপুরের খুব উর্বব হওয়ায় পেঁয়াজ বীজ চাষে রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা। উপজেলার মধ্যে দেবীপুর, কানপাড়া, দাওকান্দি, আলীপুর, মাড়িয়া, পানানগর, জয়নগর, কুশাডাঙা, নওপাড়া, চৌপুকুরিয়া প্রভৃতি এলাকায় প্রচুর পেঁয়াজ বীজের চাষ হয়েছে।

পেঁয়াজ বীজের সাদা ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে উপজেলার খেতগুলো। শেষ সময়ে এসে চাষিরাও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঝড়, শীলা বৃষ্টি না হলে এবার পেঁয়াজ বীজের আশাতীত ফলন হবে।

জানা গেছে, এ বছর চাষাবাদযোগ্য জমির বেশির ভাগ জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করা হয়েছে। উপজেলার দেবীপুর, নওপাড়া, জয়নগর, কুশাডাঙা, মাড়িয়া, চৌপুকুরিয়ায় সবচেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজ ও পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়ে থাকে। প্রায় এক হাজার চাষি পেঁয়াজ বীজ চাষ করছেন।

দূর্গাপুর উপজেলায় মূলত দুই জাতের বীজ চাষ হয়- তাহেরপুরী ও ফরিদপুরী। তবে তাহেরপুরী জাতের চাষ বেশি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিরূপ আবহাওয়া বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় মাঠে মাঠে পেঁয়াজ গাছে ফুলের অবস্থা খুবই ভালো। চাষিরা কয়েক সপ্তাহ পরেই মাঠ থেকে পুরোপুরি পেঁয়াজ বীজ সংগ্রহ শুরু করবেন।

প্রতি একরে গড়ে ৫ থেকে ৬ মণ করে বীজ উৎপাদন হবে বলে কৃষকরা আশা করছেন। বাজার দর স্বাভাবিক থাকলে প্রতি মণ বীজ বিক্রি হবে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা। এসব পেঁয়াজ বীজ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মহাজন ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে মণ বা কেজি দরে কিনে নিয়ে যান।

চৌপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক মহির উদ্দিন জানান, ‘পেঁয়াজের দানা উৎপাদন অতি লাভজনক হলেও ঝুঁকিও রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন ভালো, আর বিরূপ হলেই মাথায় হাত পড়ে।’‘এবার ১০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ বীজ আবাদ করেছি। উৎপাদিত এ বীজে নিজেই পেঁয়াজ রোপণ করবো বাকিটা বাইরে বিক্রি করে দিবো।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মসিউর রহমান বলেন, ‘উপজেলায় পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে কৃষকদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি বিভাগ। লাভজনক হওয়ায় দিনদিন পেঁয়াজ বীজের চাষ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে দূর্গাপুর উপজেলায়। এতে এলাকার লোক বেশ লাভবানও হচ্ছেন।’

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘পেঁয়াজ বীজে কৃষকরা যেন কীটনাশক প্রয়োগ না করে। কীটনাশক প্রয়োগ করলে মৌমাছি বসে না। আর মৌমাছি না বসলে পরাগায়ন হবে না। তাই পেঁয়াজ বীজ চাষে খুব সর্তকভাবে কীটনাশকের প্রয়োগ করতে হবে।’ পেঁয়াজ ফুলে হাতের তালু দিয়ে আলতোভাবে চাপ দিলে পরাগায়নের সৃষ্টি হয়। ফলে উৎপাদন বেশি হবে বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop