৫:১৫ পূর্বাহ্ন

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ২২, ২০২২ ২:৫০ অপরাহ্ন
কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন, তবুও লোকসানে কৃষক
এগ্রিবিজনেস

কুষ্টিয়ায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ মণ। এখন মাঠে মাঠে সেই পেঁয়াজ তোলার ধুম পড়েছে। কিন্তু ভাল ফলন নিয়েও হাসি নেই কৃষকের মুখে। কারন, বাজার হঠাৎ করেই নিম্নমুখী । এতে লোকসানে পড়েছে জেলার পোঁয়াজ চাষীরা। একদিকে বাম্পার ফলন ও অন্যদিকে বিদেশ থেকে আমদানির ফলে পেঁয়াজের দাম নেমে এসেছে ১৫ থেকে ১৭ টাকা কেজি দরে।

কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। জেলায় এবার ১৩ হাজার ৭শ ৩৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। যা লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি।

কৃষকেরা জানান, গত বছরের চেয়ে কম দামে পেঁয়াজের বীজ ক্রয়, চারার মূল্য কম, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিরা এবার ব্যাপকহারে পেঁয়াজ রোপন করছেন।

কৃষকেরা আরও জানান, যে পরিমাণ খরচ হচ্ছে তাতে করে পেঁয়াজের মূল্য বাজারে কম হওয়ায় তারা লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বেশি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছে কৃষকরা। তাই তাদের দাবি ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করার। তা না হলে লোকসান আরো বেড়ে যাবে।

এদিকে বিদেশ থেকে আমদানির ফলে চাষিদের পাশাপাশি পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম লোকসানে।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক বিষ্ণুপদ সাহা জানান, এবার প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। পেঁয়াজের বাম্পার ফলনও হয়েছে। কিন্তু কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজের দাম পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে তিনি কৃষকদের বাড়িতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের পরামর্শ দেন। সেক্ষেত্রে তারা একটি সময় ভালো দাম পেতে পারেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২২, ২০২২ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত: খাদ্যমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত আছে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। বৃহস্পতিবার দুপুরে নওগাঁর নিয়ামতপুরে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ধানক্ষেত পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এবার আমরা আশা করেছিলাম গত বছরের চেয়ে ফলন কিছুটা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু গত কয়েকদিনের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কিছু কিছু এলাকায় ৭০-৮০ ভাগ ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার ফলে যেগুলো ধান অপুষ্ট আছে সেগুলো ধান থেকে ফলন পাওয়া যাবে না। তাই এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকদের আউশ ধান চাষের উপর জোড় দেওয়ার আহবান জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন,ক্ষতির পরিমাণ নিরূপনে কৃষি বিভাগ ও খাদ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন এলাকায় কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে ও হওয়ার সম্ভাবনা আছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ধান কি পরিমাণ হারভেস্টার করা যাবে এই রিপোর্ট তৈরি করে জমা দেওয়ার জন্য।

এসময় উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক রাজশাহী জিএম ফারুক হোসেন পাটোয়ারি, নিয়ামতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদ আহম্মেদসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২১, ২০২২ ৩:৫৫ অপরাহ্ন
বশেমুরকৃবির উদ্ভাবিত সয়াবিনের নতুন দু’টি জাতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা
কৃষি বিভাগ

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরকৃবি) কৃষিতত্ত্ব বিভাগ উদ্ভাবিত সয়াবিনের দুটি জাত (বিইউ সয়াবিন-১ ও বিইউ সয়াবিন-২) নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের কৃষকের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

রাজকীয় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহযোগিতায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্কের সহায়তায় এই দুটি জাতকে বিনা ও বারী কর্তৃক উদ্ভাবিত অপর তিনটি জাতের সঙ্গে চাষ করা হয়। সলিডারিডাড উল্লেখিত জেলার ৩৫ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষিকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

বশেমুরকৃবি উদ্ভাবিত সয়াবিনের জাত দুটি (বিইউ সয়াবিন-১ ও বিইউ সয়াবিন-২) বিনা ও বারী জাতের চেয়ে অধিক ফলনশীল, জীবনকাল কম, খাদ্যমান (প্রোটিন ও তেল) বেশি ও লবণাক্ততা সহিষ্ণু। বশেমুরকৃবি’র উদ্ভাবিত সয়াবিনের এ জাত দু’টি ইতোমধ্যে দেশের নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার শত শত কৃষকের মাঠে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

বশেমুরকৃবির জনসংযোগ বিভাগের উপ রেজিস্ট্রার মো. মজনু মিয়া জানান, চলতি বছর উল্লেখিত জেলাসমূহে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে ব্যাপকভাবে উন্নত সয়াবিন চাষাবাদ করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. গিয়াসউদ্দীন মিয়া জানান, দীর্ঘদিন গবেষণার পর সয়াবিনের এ দুটি জাত উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। গত রবিবার ও সোমবার তিনি নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের মাঠগুলো ঘুরে দেখেছেন। এ সময় তারা মাঠ দিবসের মতবিনিময় সভায়ও অংশগ্রহণ করেন। সভায় কৃষকের অভিজ্ঞতা, সম্ভাবনা ও সমস্যা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

তিনি জানান, চলতি বছর ওই এলাকায় কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে এ জাতের সয়াবিন চাষাবাদ করা হচ্ছে। শুধু সয়াবিন নয়, বশেমুরকৃবি উদ্ভাবিত অন্যান্য ফসল (সবজি, ফল, ধান) ওই এলাকার কৃষকের মাঠে চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সলিডারিডাড, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংশ্নিষ্ট সংস্থাকে অনুরোধ করেছেন।

উপাচার্য আরো বলেন, আগামী দিনে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সয়াবিনের উন্নত জাতগুলো উপকূলীয় অঞ্চলে এক লাখ চাষির মধ্যে সম্প্রসারণ করবে, যা প্রতি বছর দুই লাখ মে. টন সয়াবিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২১, ২০২২ ২:৫৫ অপরাহ্ন
বাঙ্গির দাম পেয়ে খুশি নাটোরের চাষীরা
কৃষি বিভাগ

নাটোরের রমজান মাস লক্ষ্য করে বাঙ্গি চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন নাটোরের চাষীরা। পানির ঘাটতি পূরণে ইফতারের উপাদান হিসেবে বেশী চাহিদা বাঙ্গীর। ফলে ভালো দামও পাচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ভালো মানের বাঙ্গি উৎপাদন করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

খরা ও গরম আবহাওয়ায় রসালো ফল বাঙ্গীর বাড়তি চাহিদা থাকে বাজারে। আর রোজা এলে এর চাহিদা বেড়ে যায়। ইফতারে রোজাদারের পানির ঘাটতি পূরণ করে বাঙ্গী। গেলো কয়েক বছর ধরে ফলটি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন নাটোরের কৃষকরা। এবছরও সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া ও বড়াইগ্রামের ভবানীপুর সহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় বাঙ্গীর ব্যাপক ফলন হয়েছে। রোজার শুরু থেকেই বাঙ্গী বাজারে বিক্রি করছেন কৃষকরা। ভাল দাম পাওয়ায় খুশি তারা।

কৃষকেরা বলেন,  রমজান মাসে রোজাদারদের কাছে বাঙ্গি একটি জনপ্রিয় খাবার। এ মাসে বাঙ্গির চাহিদা বেড়ে যায়। দামও ভালো পাওয়া যায়।  আগামী সাতদিনের মধ্যে পুরোপুরি বাঙ্গি বাজারে উঠবে। তখন দাম কিছুটা কম হবে। এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত বাঙ্গি ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান তাঁরা।

গতবছর নাটোরে ৮৬৮ হেক্টর জমিতে বাঙ্গী চাষ করে ২২ হাজার ১৩৫ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়। এবার ১১শ’ ৩০ হেক্টর জমিতে রসালো এই ফলের চাষ করেছেন কৃষকরা।

নাটোর সদর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, ন্যায্য দাম পাওয়ায় বাঙ্গী চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। আর সাথী ফসল হিসেবে আবাদের সুযোগ থাকায়, অনেকের বাড়তি আয় হচ্ছে। এতে সব ধরণের সহায়তা দেয়া হচ্ছে বলেও জানান কৃষি কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২১, ২০২২ ১:৩৫ অপরাহ্ন
বরিশাল মেট্টোপলিটন এলাকায় কৃষকের মাঝে আউশ প্রণোদনা বিতরণ
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশাল মেট্টোপলিটন এলাকায় কৃষকের মাঝে আউশের প্রণোদনা বিতরণ  করা হয়েছে। ২০ এপ্রিল নগরীর খামারবাড়িতে মেট্রোপলিটন কৃষি অফিসের উদ্যোগে এই বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হারুন-অর-রশীদ।

বরিশাল সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেট্রোপলিটন কৃষি অফিসার  সোমা রাণী দাস।

প্রধান অতিথি বলেন, আউশ চাষে খরচ কম। তাই লাভজনক। বরিশাল অঞ্চলে আউশ আবাদ বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ আছে।  সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। পতিত জমিতে আউশ আবাদে মনোযোগী হতে তিনি কৃষকদের আহবান জানান।

মেট্রোপলিটন কৃষি অফিসার সোমা রাণী দাস জানান, তার এলাকায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ১শ’জন কৃষককের প্রত্যেককে ১ বিঘা জমির জন্য বিনামূল্যে ৫ কেজি হারে ব্রি ধান৪৮’র বীজ বিতরণ করা হয়। সে সাথে ২০ কেজি করে ডিএপি এবং এমওপি সার দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে  চলতি খরিফ-১ মৌসুমে এই প্রণোদনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২০, ২০২২ ৮:২২ অপরাহ্ন
বরগুনার আমতলীতে সূর্যমুখী বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরগুনায় সূর্যমুখীর ফলনে সারের প্রভাব এবং বীজ মাড়াই কাজে যন্ত্রের ব্যবহার বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ জেলার আমতলী উপজেলার নীলগঞ্জে বিএআরআই’র সরেজমিন গবেষণা বিভাগের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সহিদুল ইসলাম খান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম এবং কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রদর্শনীচাষি জাকির মুসুল্লি, নিজাম হাওলাদার, কিষাণী আয়েশা বেগম প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বলেন, সূর্যমুখীর আশানুরূপ ফলনের জন্য সুষমসার ব্যবহার জরুরি। তাই হেক্টরপ্রতি ২ শ’৩০ কেজি ইউরিয়া সার দিতে হবে। অন্যান্য সারের মধ্যে ২ শ’ কেজি টিএসপি, ১ শ’ ৮০ কেজি এমওপি, ১ শ’ ৬০ কেজি জিপসাম এবং বোরন প্রয়োজন ১০ কেজি হারে। সেই সাথে দরকার সময়মত পরিচর্যার।

তিনি আরো বলেন, সূর্যমুখীর বীজ হাতে মাড়াই করা কষ্টকর। তবে যন্ত্রের সাহোয্যেও মাড়াই করা যায়। একটি যন্ত্র ১৫ জনে কাজ করতে সক্ষম।

মাঠ দিবসে অর্ধশতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২০, ২০২২ ২:৩৬ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজারে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে বোরো ধান কাটা শুরু
কৃষি বিভাগ

মৌলভীবাজারে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি দিয়ে জেলার বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এ বছর জেলায় বোরো ধানের আশাতীত আবাদ হয়েছে। ভেঙে গেছে বোরো আবাদের অতীতের সব রেকর্ড। বাজারে ধানের চড়া দামই কৃষকদের উৎসাহ জুগিয়েছে বোরো আবাদে।

জেলা কৃষি বিভাগ বলছ, প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে, এবছর বোরোর উৎপাদন ২ কোটি ৩০ লাখ ২শ’ ৮০ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। কৃষকদের দাবি, ধানের নায্যমূল্য নির্ধারণ করে বিক্রির ব্যবস্থা করে দেবার।

শ্রীমঙ্গল  উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের বরুণা গ্রামের মো. ইউনুছ মিয়া নামে এক কৃষকের পাকা বোরো ধান কাটার মধ্য দিয়ে জেলায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি দিয়ে ধান কাটার এই উৎসবে যোগ দেন জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও শিক্ষকরা।

এবছর জেলায় বোরোর বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকরা। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধান কাটা না গেলে পাহাড়ী ঢলে কাউয়াদীঘি, হাইল ও হাকালুকি হাওরের ফসল তলিয়ে যাবার আশঙ্কা তাদের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, মৌলভীবাজারের ৭টি উপজেলায় ২০২১-২২ মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রিড ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ২০০ হেক্টরে। ৭৫ হেক্টর বেশি আবাদ হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ হাজার ৩০০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৪৯ হাজার ২৪ হেক্টরে। বাকিটা স্থানীয় জাত। তবে স্থানীয় জাত কমেছে প্রায় ৫০ হেক্টর। চাল আকারে বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ২৮০ টন। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ধরা হয়েছে ৪.৩০ টন। জেলায় আবাদ করা হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭৭০ হেক্টর বেশি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, সঠিক সময়ে সার ও বীজ পাওয়ায় জেলায় বোরোর ফলন ভালো হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর আহসান জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফলন খুব ভালো হয়েছে। কৃষকদের ধান কাটতে সব ধরণের সার্বিক সহায়তা করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৯, ২০২২ ১১:৫৪ অপরাহ্ন
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ত জমিতে বিনা সয়াবিন-২ চাষে লাভবান হবে কৃষক,কমবে ভোজ্যতেল আমদানি
কৃষি গবেষনা

বাংলাদেশের উপকূলবর্তী দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে সয়াবিনের উপযুক্ত জাত নির্বাচনের জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সেলের অর্থায়নে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে দক্ষিণপশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ততা প্রবণ পতিত জমির জন্য অন্যান্য জাতের তুলনায় বিনা কর্তৃক উদ্ভাবিত বিনাসয়াবিন জাতটিই সবচেয়ে আদর্শ জাত।

গবেষণা কার্যক্রমটি পরিচালনা করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর . মতিউল ইসলাম একই ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী বর্ণালী সাহা। এছাড়াও একই ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক জয়ন্তী রায় গবেষণায় সহযোগিতা করেন। উক্ত গবেষণায় বারি বিনা কর্তৃক উদ্ভাবিত সয়াবিনের ১০টি জাত নিয়ে কাজ করা হয়।

. মো. মতিউল ইসলাম জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ডুমুরিয়া উপজেলায় পরিচালিত মাঠ গবেষণায় দেখা যায় বিনাসয়াবিন জাতটি অধিক ফলনশীল, লবণাক্ততা সহনশীল, রোগবালাই প্রতিরোধী স্বল্পমেয়াদী। তাই বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত জমির ব্যবহার এবং ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে এটি একটি আদর্শ জাত।

তিনি আরও বলেন সকলের সহযোগিতা পেলে কৃষক পর্যায়ে জাতগুলো সম্প্রসারণ করলে কৃষক এর আয় বাড়বে,শুধুমাত্র ধানের উপর নির্ভরতা কমবে ।

তিনি আরও জানান, জাতটি হলুদ মোজাইক ভাইরাস প্রতিরোধী ১২ ডিএস এম মাত্রা পর্যন্ত লবণাক্ততা সহনশীল এবং কম উর্বর লবণাক্ত বেলে দোআঁশ হতে এটেল দোআঁশ মাটিতেও চাষের উপযোগী। রবি মৌসুমে পৌষের প্রথম থেকে মধ্য মাঘ এবং খরিপ মৌসুমে শ্রাবণের প্রথম থেকে ভাদ্র মাসের শেষ পর্যন্ত এটি রোপণের উপযুক্ত সময়।

গবেষণার জন্য চাষ করতে গিয়ে দেখা গেছে, সয়াবিনে মাকড়সার আক্রমণ বেশি থাকে এবং মাটিতে অবস্থানকারী কিছু ছত্রাকের কারণে গোড়াপচা রোগ দেখা যায়। তবে এতে খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। সয়াবিনের বিছাপোকা দমনের জন্য আক্রান্ত পাতা দেখে পোকাসহ তুলে মেরে ফেলতে হবে। তবে আক্রমণ বেশি হলে সেভিন ৮৫ এসপি ৩৪ গ্রাম পাউডার প্রতি ১০ লিটার পানিতে অথবা এডভান্টেজ ২০ এসসি ৩০ মিলিলিটার প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত জমিতে স্প্রে করতে হবে।

অধ্যাপক মো. মতিউল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের আবহাওয়া সয়াবিন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হলেও কৃষকদের ব্যাপারে জ্ঞানের স্বল্পতা থাকায় অঞ্চলে চাষ হয় না। শুধুমাত্র লক্ষ্মীপুর নোয়াখালীর চরাঞ্চলে স্বল্প পরিমাণে চাষ করা হয়। কিন্তু আমি পিএইডি গবেষণার সময় দেখেছিলাম সয়াবিন স্যালাইনিটি সহ্য করতে পারে। এরা শুধুমাত্র জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না”।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে ল্যাব ট্রায়ালে আমরা দেখেছি বিনাসয়াবিন বিনাসয়াবিন লবণাক্ততা সহনশীল চাষের জন্য উপযোগী। কিন্তু মাঠ গবেষণার ভিত্তিতে ফলনের পরিমাণ, গাছের স্থায়ীত্ব সবদিক বিবেচনা করে উপকূলীয় লবণাক্ত জমিতে চাষের জন্য বিনাসয়াবিন২ই সবচেয়ে আদর্শ জাত। এটি চাষ করতে বিশেষ কোনো দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে আমন চাষের পর বোরো মৌসুমে জমি ফেলে না রেখে সয়াবিন চাষ করলে কৃষকরা অত্যন্ত লাভবান হবে। তাছাড়া সয়াবিন থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন আমাদের শরীরের জন্যও অত্যন্ত নিরাপদ কার্যকরী।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সেলের পরিচালক প্রফেসর . আশীষ কুমার দাস বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে এই গবেষণাটি নিয়ে আগ্রহী। কারণ সয়াবিন আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের অত্যন্ত ভালো একটি উৎস। অঞ্চলে চাষ শুরু হলে প্রোটিনের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনীতিতেও সুফল বয়ে আনবে”।

মোঃঅামিনুল খান

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৯, ২০২২ ৮:১৮ অপরাহ্ন
মাদারীপুরে তেল ফসল বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): মাদারীপুরে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ওপর আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সদর উপজেলার হর্টিকালচার সেন্টারে ডিএই বরিশাল ও ফরিদপুরের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ।

ডিএই মাদারীপুরের উপপরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএই বরিশালের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হারুন-অর-রশীদ, বরিশালের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফি উদ্দিন এবং বরিশালের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলমগীর হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে ছিলেন প্রকল্প পরিচালক মো. জসীম উদ্দীন।

দুমকির উপজেলা কৃষি অফিসার মেহের মালিকার সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিএই গোপালগঞ্জের উপ-পরিচালক ড. অরবিন্দ কুমার রায়, ডিএই ফরিদপুরের উপ-পরিচালক ড. মো. হযরত আলী, বরিশালের কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের যুগ্ম পরিচালক ড. একেএম মিজানুর রহমান, ডিএই পটুয়াখালীর জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক, উপ-প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ আরশেদ আলী চৌধুরী, প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছয়েমা খাতুন, নাজিরপুরের উপজেলা কৃষি অফিসার দিগবিজয় হাজরা, ভোলা সদরের উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন, তজুমুদ্দিনের উপজেলা কৃষি অফিসার অপূর্ব লাল সরকার, জাজিরার উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জামাল হোসেন, নড়িয়ার কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. নাজমুল হুদা প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বলেন, তেল ফসল খাদ্যের অন্যতম উপকরণ। এর মধ্যে সরিষা রয়েছে বিশেষ অবস্থানে। অন্যান্য তেল ফসলও গুরুত্বপূর্ণ কম নয়। তাই এগুলোর আবাদ এবং উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাহলেই ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে। হবে পুষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

দিনব্যাপী এ কর্মশালায়কৃ ষিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ১৭৫ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৯, ২০২২ ৪:৪৯ অপরাহ্ন
পটুয়াখালীতে কম খরচে আলু চাষে সফলতা
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিনা চাষেই আলুর আবাদ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। নরম ও কাদা মাটিতে কোন ধরনের চাষ না দিয়ে মাটির মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্বে আলু রোপণ করে পরিত্যক্ত খড়কোটা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কম খরচে, কম সার ও পানি ব্যবহার করে অল্প দিনের মধ্যে আলুর ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ায় এই পদ্ধতিতে আলু চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নতুন পদ্ধতিতে আলু চাষে কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

উপকূলীয় অঞ্চলে আমন ধান কাটার পর বিস্তীর্ণ জমি পতিত থাকে। পটুয়াখালীতে প্রথমবারের মতো বিনা চাষে আলুর উৎপাদনে সফলতা পেয়েছেন কৃষকেরা।লবণাক্ত জমিতে কম খরচ, কম সার ও কম সেচ ব্যবহারে বেশি ফসল পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই পদ্ধতি। কৃষকদের এ বিষয়ে সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সরেজমিন গবেষণা বিভাগ।

কৃষকরা জানান, এবার আমন ধান কাটার সাথে সাথে, নরম ও কাদা মাটিতে কোন ধরনের জমি প্রস্তুত না করেই আলুর বীজ বপন করা হয়। পরে, পরিত্যক্ত খড়কুটা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় আলুর ক্ষেত। এ পদ্ধতিতে কম সার-পানি ব্যবহার করে আড়াই মাসেই আলুর ভালো ফলন পাওয়া যায়।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম বলেন, যেহেতু দক্ষিণাঞ্চলে আমন ধান কিছুটা বিলম্বে কাটা হয় এবং পরবর্তী সময় জমি চাষ দেওয়াসহ প্রস্তুত করার সময় থাকে না, সে কারণে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সহজেই আলু চাষ বাড়ানো সম্ভব।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি আলু-৭২ এবং ৭৮ জাত দুটি প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করেও ভালো ফলন দিতে পারে। এ কারণে লবণ ও তাপসহনশীল এই আলু চাষে কৃষকদের পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop