১:২৯ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ডিসেম্বর ১২, ২০২১ ৫:০২ অপরাহ্ন
রসুনের কোয়া রোপণে ব্যস্ত সময় পার করেছেন চলনবিলের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

চলনবিলে সাদা সোনা খ্যাত রসুনের দাম নেই এবার। সর্বশেষ ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। তার পরও রসুন চাষেই ঝুঁকেছে কৃষক। আগামী বছর লাভের আশায় নরম কাদামাটিতে রসুনের কোয়া রোপণে ব্যস্ত সময় পার করেছেন কৃষকরা। অধিকাংশ এলাকায়ই রসুন লাগানো শেষ হয়েছে। তবে শেষ সময়ে কিছু জায়গায় এখনো রসুন লাগানো চলছেই।

গত বছরের তুলনায় সার, কীটনাশক, সেচের দাম বাড়লেও কমেছে বীজের দাম ও জমির লিজ মূল্য। যার ফলে এ বছর রসুন চাষে বিঘায় অন্তত ৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানা গেছে।

নাটোর কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে চলনবিলের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া, তাড়াশ ও চাটমোহর উপজেলায় ২৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সার্বিকভাবে রসুন চাষ করলেও গুরুদাসপুর উপজেলায় গতবারের মতো এবারও ৬ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে রসুনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে রসুনের জমিতে সাথি ফসল তরমুজ, বাঙ্গি, খিরা ও মিষ্টি কুমড়ার দাম ভালো থাকায় মাত্র ৭ হাজার হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হতে পারে বলে মনে করেন কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুন-অর রশিদ।

শিধুলী গ্রামের শুকুর আলী, খাদেম আলীসহ অনেক চাষি বলেছেন, বিশ বছর ধরে চলনবিল অঞ্চলে তারা বিনা চাষে রসুন আবাদ করছেন। কিন্তু এ বছর ৮০০ টাকা মণ দরে রসুন বিক্রি হচ্ছে। অথচ উৎপাদন খরচ পড়েছে মণপ্রতি প্রায় দুই হাজার ৫০০ টাকা। উৎপাদিত রসুনের দাম ভালো পেলে আগামীতে আরো বেশি রসুনের চাষ করবেন বলে তারা জানান। আর ন্যায্য দাম না পেলে পথে বসতে হবে তাদের।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১২, ২০২১ ৪:৪৯ অপরাহ্ন
টেকসই খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে কানাডার ইনস্টিটিউট : কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

ঢাকার ফার্মগেটে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) চত্বরে কানাডার সাস্কাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটি (জিআইএফএস) এর আঞ্চলিক অফিস চালু হয়েছে। এ অফিস স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং কানাডার কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে। এ সেন্টারটি দেশের কৃষি গবেষকদের জলবায়ু পরিবর্তনসহ কৃষিতে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উন্নত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনেও সহায়তা করবে।

আজ রবিবার সকালে ঢাকায় বিএআরসিতে এ অফিসের উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক। এসময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, বহুমুখী ও মানসম্পন্ন কৃষি-খাদ্য উৎপাদনে সাস্কাচুয়ান অঞ্চলের বিশ্বজুড়ে সুনাম রয়েছে। ঢাকায় এ অফিস চালুর ফলে তাদের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো যাবে। বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে কৃষিখাতে সহযোগিতা আরো জোরদার হবে।

কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশে কৃষি উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা ও তা আরও বৃদ্ধি করতে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করতে জিআইএফএস আঞ্চলিক অফিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কানাডার সাস্কাচুয়ান সরকারের কৃষিমন্ত্রী ডেভিড মেরিট অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, এ অফিস স্থাপনের মাধ্যমে দুদেশের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণ ও খাদ্য নিরাপত্তাকে টেকসই করতে হলে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে দুদেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ঢাকায় অফিস স্থাপন উপলক্ষে জিআইএফএস-কানাডা এবং বিএআরসির মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। এতে স্বাক্ষর করেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার ও জিআইএফএসের চিফ অপারেটিং অফিসার স্টিফেন ভিশার। এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনোয়েট প্রিফনটেইন, কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. খলিলুর রহমান, জিআইএফএসে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু রিসার্চ চেয়ার ড. অ্যান্ড্রু শার্প, সাস্কাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-প্রেসিডেন্ট (গবেষণা) ড. বালজিট সিং, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: রুহুল আমিন তালুকদার বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এবং গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটি এর মধ্যে কৃষিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতাসহ বঙ্গবন্ধু রিসার্চ চেয়ার, ঢাকায় জিআইএফএস এর আঞ্চলিক অফিস স্থাপন এবং ‘বঙ্গবন্ধু-পিয়ারে ট্রুডো কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্র’ স্থাপনের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে জিআইএফএস-কানাডাতে বঙ্গবন্ধু চেয়ার স্থাপন বিষয়ে চেয়ার নিয়োগসহ সকল বিষয় সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় জিআইএফএস এর আঞ্চলিক অফিস আজ চালু হয়েছে। এছাড়া, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন (কেজিএফ) এবং জিআইএফএস-কানাডার এর যৌথ অর্থায়নে জীবপ্রযুক্তি বিষয়ে একটি প্রকল্প কেজিএফ বোর্ড কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। জিওবি এর অর্থায়নে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে ‘বঙ্গবন্ধু-পিয়ারে ট্রুডো কৃষিপ্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন’ বিষয়ে অপর একটি প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে। উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে জিআইএফএস-কানাডা কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১১, ২০২১ ৩:৩০ অপরাহ্ন
পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ জানালেন ব্যবসায়ীরা
কৃষি বিভাগ

ভারতের বেশ কয়েকটি প্রদেশে বৃষ্টিপাতের কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যহত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশি আমদানিকারকরা অনেকটা বেশি দামেই ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি করছেন। এতে বাংলাদেশেও পেঁয়াজের দামের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

এছাড়াও বাংলাদেশের ফরিদপুর এলাকায় সম্প্রীতি বৃষ্টির কারণে দেশি পেঁয়াজচাষিরা মাঠ থেকে দেরিতে ফসল তুলছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি এই দুই কারণেই বাজারে পেঁয়াজের মৌসুমেও দাম বাড়েই চলেছে।

কয়েকদিন আগে কাঁচাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ২০ টাকা কেজি। মাত্র দু’সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকার ভেদে এখন ৩২ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।

পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মনোয়ার হোসেন বলেন, ভারতের ইন্দর, গুজরাট, মহারাষ্ট্র থেকে প্রতিনিয়তই পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। কয়েকদিন আগে ওই এলাকাগুলোতে অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকরা মাঠ থেকে নতুন পেঁয়াজ তুলছেন না। এ কারণে বাড়তি দামে সেখান থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভারতের যে প্রদেশগুলো থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয় সেখানে আগামী জানুয়ারি মাসের দিকে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। ওই এলাকায় পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ার কারণে বন্দরে কিছুটা আমদানি কমে গেছে, ফলে বাজারে খুচরা দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।

শুক্রবার দুপুরে হিলি বাজারের লুৎফর রহমান বলেন, দু’সপ্তাহ আগেও ২০-২২ টাকায় পেঁয়াজ কিনেছি। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। বর্তমানে পেঁয়াজ ৩২ থেকে ৩৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ী রায়হান কবির জানান, হিলি বন্দরে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ২৮ ট্রাক পেঁয়াজ প্রয়োজন কিন্তু তার বিপরীতে আমদানি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ ট্রাক। এছাড়াও ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে। এটা ভারতের পুরানো পেঁয়াজের শেষ সময়।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে গত সপ্তাহে ১০ থেকে ১৫ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বন্দর দিয়ে ১৬ ট্রাকে ৪৩৯ টন পেয়াঁজ আমদানি হয়েছে। তবে গত দু’সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে আমদানি কিছুটা কমেছে।

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, দেশে কয়েকদিন আগে হয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় যাওয়াদের কারণে বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর কারণে পেঁয়াজের বাজারে কিছুটা দাম বেড়েছে। এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির কারণে অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দামে প্রভাব পড়েছে। তবে আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১১, ২০২১ ১:২৯ অপরাহ্ন
​রায়গঞ্জে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের তত্বাবধানে প্রারম্ভিক কর্মশালা
কৃষি বিভাগ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্রণালয়ধীন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন (কেজিএফ) এর সার্বিক তত্বাবধানে “স্কেলিং আপ প্রিমিয়াম কোয়ালিটি রাইস নর্দান রিজিয়ন অব বাংলাদেশ” শীর্ষক প্রকল্পের প্রারম্ভিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে শনিবার সকালে ব্রক্ষ্মগাছা বাজারে কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সহ- সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সুইটের স্থানীয় কার্যালয়ের মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এসেডের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন সুইটের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর। অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ ইউসুফ রানা মন্ডল।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ফলিত বিভাগের সিএসও এবং প্রধান ড. মোঃ হুমায়ন কবীর, ডিএই এর উপ- পরিচালক মোঃ আবু হানিফ, বগুড়া জোনের ডিএই’র উপ- পরিচালক মোঃ দুলাল হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বাচ্চু প্রমুখ।

বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট এবং এসেডস’র আয়োজনে এই কর্মশালায় সাংবাদিক,শিক্ষক,প্রান্তিক কৃষক সমাজের একাংশ, সমাজের বিভিন্ন স্তরের জনসাধারণ এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১১, ২০২১ ১২:২৩ অপরাহ্ন
মৌ-খামারে ভাগ্যবদল
কৃষি বিভাগ

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় মাঠের পর মাঠ ছেয়ে গেছে সরিষার হলুদ ফুলে। এ সুযোগে মৌ-খামারিরা খেতের পাশে সারিবদ্ধভাবে বসিয়েছেন মৌ-বক্স। বক্স থেকে দলে দলে মৌ-মাছি গিয়ে বসছে সরিষা ফুলে। এতে একদিকে মৌমাছির মাধ্যমে ফুলে পরাগায়ন ঘটায় সরিষা উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যদিকে খামারিরা মধু সংগ্রহ করে বদলাচ্ছেন নিজেদের ভাগ্যের চাকা।

গুরুদাসপুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় ৭৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। শষ্য বহুমুখী করণে কৃষকদের সরিষা চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কৃষি অফিসের মাধ্যমে চাষিদের দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রায় অধিক সরিষা উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরজমিনে গুরুদাসপুর উপজেলার বিলশা, রুহাই ও বামনবাড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তৃর্ণ মাঠে সরিষা ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন। খেতের পাশেই মৌ-খামারিরা বাক্স পেতে রেখেছেন। মৌমাছিরা সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সের ভিতর ঢুকছে আর বের হচ্ছে।

বিলশা ও রুহাই গ্রামে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে এসেছেন নাজিরপুর ইউনিয়নের জুমাইনগর গ্রামের সানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, তার ১৪০টি মৌ-বাক্স রয়েছে। সেখান থেকে সপ্তাহে ৮ মণ মধু সংগৃহ করা যায়। তিনি ছাড়াও আরও দুজন শ্রমিক এ কাজে নিয়োজিত আছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে মধু থেকে তার সাপ্তাহিক আয় প্রায় ৩২ হাজার টাকা।

একই ইউনিয়নের মোল্লা বাজার গ্রামের মৌচাষি বেলাল হোসেন জানান, তাদের উৎপাদিত মধু এপি, ডাবর, কম্বোসহ দেশীয় বিভিন্ন কোম্পানি ৬-৭ হাজার টাকা মণ দরে পাইকারি কিনে নেন।ডিসেম্বর মাসজুড়ে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগৃহ করা হয়। তার মতো এ উপজেলার অন্তত ৪০ জন মৌ-চাষি এ পেশায় যুক্ত।

খুবজীপুর ইউনিয়নের বিলশা গ্রামের আফজাল হোসেন জানান, স্বল্প সময়ে সরিষা ফসল ঘরে তুলে একই জমিতে বোরো চাষ করা যায়। এ কারণে সরিষা চাষ করে থাকি। এ বছর তিনি ৬ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। গাছ যেভাবে দেখা যাচ্ছে তাতে বাম্পার ফলন আশা করছেন।

রুহাই গ্রামের আতিকুর রহমান বলেন, তিনি ১০ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। এ বছর চলনবিল থেকে দ্রুত বর্ষার পানি নেমে যাওয়ায় তার মতো এলাকার অনেকেই সরিষার আবাদে আগ্রহী হয়েছেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনর রশীদ জানান, এ উপজেলায় ৭৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে। ভোজ্যতেল ও সরিষার বাজার ভালো কৃষকের আগ্রহ বেশি। এ কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষ ও উৎপাদন হবে। আর সরিষা ফুলকেন্দ্রিক মধু সংগ্রহে কৃষক ও মৌ-খামারি উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১০, ২০২১ ৩:০১ অপরাহ্ন
আগাম জাতের বরই চাষে লাভবান সখীপুরের সিদ্দিক
কৃষি বিভাগ

‘আম পাকে বৈশাখে, কুল পাকে ফাগুনে/কাঁচা ইট পাকা হয় পোড়ালে তা আগুনে’ বরই পাকা নিয়ে সুকুমার রায় তাঁর ‘পাকাপাকি’ ছড়ায় এমনটাই বলেছিলেন। তবে টাঙ্গাইলের সখীপুরের সিদ্দিক হোসেনের বাগানের বরই অগ্রহায়ণ মাসেই পাকে। আগাম জাতের বরই তিনি প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করেন। নভেম্বর মাসে তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেছেন। তার ৩ হাজার গাছে প্রচুর বরই আসায় এ মৌসুমে তিনি কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকার বরই বিক্রির আশা করছেন।

সিদ্দিক হোসেন সখীপুর উপজেলার নিজ গ্রাম টিকুরিয়া চালা ছাড়াও আশপাশের আরও ৪ গ্রামে মোট ২৭ একর জমিতে ৭টি টক বরইয়ের বাগান করেছেন। উপজেলার গড়বাড়ীতে পাঁচ একর, বিন্নাখাইরাতে ছয় একর, শিরীরচালায় ছয় একর, শ্রীপুরে তিন একর ও নিজ গ্রামের বাড়ির আশপাশের সাত একর জমিতে মোট ৩ হাজার বরইগাছ লাগিয়েছেন। এ বছর তার তিন হাজার গাছেই বরই ধরেছে।

সিদ্দিক হোসেন বলেন, কয়েকটি বাগানে বরইগাছের ফাঁকে-ফাঁকে উন্নত জাতের কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, সফেদা, জাম্বুরা, ডালিম, বেল ও রামভুটানগাছ লাগিয়েছেন। বরইগাছ থেকে বরই তোলা শেষ হলে গোড়ার দিকে দুই ফুট পরিমাণ গাছ রেখে কেটে ফেলা হয়। ওই সময় বরইগাছের ফাঁকে বোনা ফল গাছ থেকেও ফলন পাওয়া যাবে।

সম্প্রতি সিদ্দিকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ১০ থেকে ১২ জন নারী ও পুরুষ শ্রমিক বাগান থেকে সংগ্রহ করা বরই বাছাই করে বস্তায় ভরছিলেন। বিকেলে সেগুলো তাঁর নিজস্ব পিকআপ ভ্যানে করে ঢাকার কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারে পাঠান। তার ৭টি বরইবাগানে ২০ জন নারী শ্রমিক ও ১০ জন পুরুষ শ্রমিক কাজ করেন।

বরই চাষে জড়িয়ে পড়ার গল্প বলতে গিয়ে সিদ্দিক হোসেন আরও বলেন, বিগত ১৯৯২ সালে তিনি এসএসসি পাস করেন। কলেজে ভর্তি হলেও আর পড়াশোনা হয়নি। ২০০৩ সালের দিকে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার জন্য ৫ লাখ টাকা জমা দেন। দালাল চক্র তার টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়। একপর্যায়ে ব্র্যাক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ করে ‘বিকল্প নার্সারি’ নামে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। নার্সারি থেকে তার বেশ আয় হতে থাকে। ২০০৯ সালে তিনি নার্সারির মালিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। এরপর তিনি আগাম জাতের বরই চাষে মনোযোগী হন।

সিদ্দিক হোসেন জানান, ১০ বছর আগে তার বাড়িতে একটি আগাম জাতের বরইগাছ ছিল। ওই গাছ থেকেই তিনি পর্যায়ক্রমে কলম করে ৩ হাজার গাছ বুনেছেন। মৌসুম শুরু হওয়ার ২ মাস আগেই এই বরই পাকায় বাজারে এর বেশ চাহিদা থাকে। এখন বাজারে তিনি ১৬০ টাকা কেজি দরে বরই বিক্রি করছেন। ঢাকা শহরে এই বরই ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন বলেন, সিদ্দিকের বরইয়ের বেশ সুনাম। গ্রামের মানুষ তাকে বরই সিদ্দিক নামে চেনেন ও ডাকেন।

এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন বলেন, সিদ্দিক হোসেন একজন সফল বরইচাষি। তার সাফল্য দেখে সখীপুরে শতাধিক ব্যক্তি বরই চাষ করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন সফলও হয়েছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১০, ২০২১ ১২:৫৯ অপরাহ্ন
ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে: পাবনায় পেঁয়াজ, ধান,সবজির ব্যাপক ক্ষতি
কৃষি বিভাগ

সদ্য চলে যাওয়া ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে পাবনায় আমন ধান, পেঁয়াজ, শীতকালীন নানা সবজির ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবেই মাটিতে নুয়ে পড়ে পাকা আমন ধান। মাঠে কেটে রাখা ধান পানিতে যায় ভেসে। বিশেষ করে পেঁয়াজ খ্যাত এ জেলার সুজানগর, সাঁথিয়া, বেড়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় শতশত একর জমির পেঁয়াজের বীজে পচন ধরে নষ্টের আশংকা করছেন চাষিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মুলকাটা পেঁয়াজ ও পেঁয়াজের বীজতলা (দানা) থেকে যে পোয়াল/বেচন(বীজ/ চারা) ফলানো হয়। শত শত বিঘা জমির বেচন এখন দু’দিনের টানা বৃষ্টির পানির নিচে তলিয়ে যায়। তাই পেঁয়াজ চাষিরা খুবই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। এই বীজ বাঁচানো না গেলে পেঁয়াজ উৎপাদনে নেমে আসবে চরম বিপর্যয়।

দেশের চাহিদার দুই তৃতীয়াংশ পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য খ্যাত পাবনা। এ জেলার সুজানগর, সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার হাজার হাজার একর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যে তৈরি বীজ নষ্ট হয়ে গেলে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে মারাত্বভাবে বিঘ্নিত হবে। যদি সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হয়, তবে পেঁয়াজ উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটার আশংকা রয়েছে। এছাড়া জেলার সব উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাঠে পাকা ধানের জমিতে পানি জমে গেছে এবং মাঠে কেটে রাখা ধান পানিতে ভাসছে। এখন সেই ধান ঘরে তুলতে চরমভাবে বেগ পেতে হচ্ছে কৃষকের। বিনষ্ট হয়েছে শব্জি খ্যাত পাবনা অঞ্চলের শীতকালীন বিভিন্ন ধরণের শাকসব্জি।

পাবনা সদর উপজেলার মাহমুদপুর-বেরুয়ান এলাকার কৃষক আবুল বাশার জানান, ‘আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এলাকার অধিকাংশ জমিতে কেটে রাখা ধান পানিতে ভাসছে। সব মাঠে পানিবদ্ধতার কারণে পাকা ধান কাটা খুবই অসুবিধার মধ্যে পড়েছে কৃষক। বিভিন্ন উপজেলাতে একই অবস্থা বলে স্থানীয়রা জানান। এটা বড় ধরণের একটা ধাক্কা বলে অভিহিত করছেন ভূক্তভোগী কৃষকরা।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে পাবনার বিভিন্ন স্থানে ফসল, শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতির খবর আসছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে পরিদর্শন করা হয়েছে। তেমন ক্ষতি হয়নি দাবী করে এই কর্মকর্তা বলেন, চারা পেঁয়াজের মাঠে যাতে কোন অসুবিধা না হয় সে জন্য পদ্ধতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। গম ও সরিষা চাষে এই বৃষ্টি বেশ উপযোগী দাবী করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১০, ২০২১ ১২:২৭ অপরাহ্ন
হিলিতে ঊর্ধ্বমুখী চালের বাজার
কৃষি বিভাগ

আমনের ভরা মৌসুমেও দিনাজপুরের হিলিতে সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩-৪ টাকা করে। ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ। এর মধ্যেই বেড়েছে ধানের দাম। এসব কারণে এমনিতেই বাজার চড়া। তার ওপর চাল মজুদ করে রেখে কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে দাম বাড়াচ্ছেন মোকাম ও মিল মালিকরা।

হিলির চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের সব চালের দোকানেই পর্যাপ্ত চালের মজুদ রয়েছে। তার পরও চিকন ও মোটা—এ দুই জাতের চালের দাম বেড়েছে। মিনিকেট জাতের চাল আগে পাইকারিতে  কেজিপ্রতি ৫৪-৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে ৫৭-৫৮ টাকায় উঠেছে। আটাশ জাতের চাল এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি ৪৪ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে দাম বেড়ে ৪৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে ২-৩ টাকা করে।

চাল কিনতে আসা উজ্জল হোসেন বলেন, আমরা মনে করেছিলাম আমন ধান উঠলে চালের দাম কমবে। কিন্তু এখন এর উল্টোটা ঘটছে। গত সপ্তাহে চাল কিনেছি ৪০ টাকা কেজি দরে। এখন সে চাল কিনতে হচ্ছে ৪২-৪৩ টাকা কেজি দরে। চালের দাম বাড়লেও আমাদের সেভাবে আয় বাড়ছে না। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

হিলি বাজারের চালবিক্রেতা সুব্রত কুণ্ডু বলেন, বাজারে নতুন ধান উঠলেও দাম বেশি। আর চাতাল মালিকরা অনেকেই মিল চালু করেননি। আবার যারা চালু করেছেন, তারা চাল মজুদ করে রেখেছেন। আমদানীকৃত যেসব চাল দেশে ঢুকেছে, বিভিন্ন গুদামে সেসব চাল মজুদ করে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। সরবরাহ সংকটের সুযোগে তারা দাম বাড়াচ্ছেন।

হিলি বাজারের চাল ব্যবসায়ী স্বপন কুমার ও ফিরোজ হোসেন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে চিকন ও মোটা—দুই জাতের চালের দাম কেজিপ্রতি ৩-৪ টাকা করে বেড়েছে। এর প্রধান কারণ ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। যাদের গুদামে এখনো চাল মজুদ রয়েছে, তারা কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া নতুন ধানের ঊর্ধ্বমুখী দামও বাজারে প্রভাব ফেলেছে। চাল আমদানি শুরু হলে আবারো দাম কমতে পারে বলে প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকার চালের আমদানি শুল্ক বাড়ায়। গত ৩০ অক্টোবর থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১০, ২০২১ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
যশোরের চৌগাছায় জলাবদ্ধতায় নষ্ট হচ্ছে খেতের ধান
কৃষি বিভাগ

তিন দিনের টানা বর্ষণ ও কালভার্টের মুখ বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে যশোরের চৌগাছায়। পানি নিষ্কাশন বন্ধ থাকায় তলিয়ে রয়েছে প্রায় ২০০ বিঘা পাকা আমন খেত। এতে বিপাকে পড়েছেন তিন শতাধিক কৃষক।

তারা জানায়, খেতের কেটে রাখা ধান ভাসছে পানিতে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে পাকা ধান সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি যশোর-চৌগাছা সড়কের চূড়ামনকাঠি থেকে চৌগাছা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ করা হয়। সংস্কার কাজ করার সময় পুরাতন ছোট ছোট ব্রিজ-কালভার্ট পুনর্নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সড়কের সিংহঝুলি ও কয়ারপাড়া গ্রামের মাঝে অবস্হিত টালিখোলা নামক স্থানের বুড়োর বিলের পানি বের হওয়ার কালভার্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে এসব জমিতে প্রায় তিন-চার ফুট পানি জমে গেছে।

সিংহঝুলি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক গোলাম মোস্তফা, ইমরান খান, সাইফুল ইসলাম, পলাশ, শহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলি, মফিজুর রহমানসহ অন্তত ৫০ জন কৃষক জানান, যুগ যুগ ধরে যে কালভার্ট দিয়ে পানি নিষ্কাশন হয়, সেটি হঠাৎ করে কীভাবে বন্ধ করে দিল তা আমরা বুঝতে পারছি না।

তারা বলেন, গত আমন মৌসুমেও আমরা একবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, এ বছরও একই অবস্থা। লস্করপুর গ্রামের কৃষক ইয়াকুব আলী জানান, এই মাঠে আমার প্রায় ১২ বিঘা জমি রয়েছে। কালভার্টটি বন্ধ করে দেওয়ায় আমার সমস্ত জমিগুলোতে দুই-তিন ফুট পানি জমে রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস বলেন, সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। কালভার্ট বন্ধ থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব।

যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, কালভার্ট থাকলে বন্ধ করার কথা নয়| বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ৯, ২০২১ ৫:৪৭ অপরাহ্ন
বরিশালে বিনা উদ্ভাবিত তেলফসলের আবাদ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে বিনা উদ্ভাবিত তেলজাতীয় ফসলের জাত পরিচিতি, চাষাবাদ, বীজ উৎপাদন এবং সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বিনার হলরুমে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে উদ্বোধনী (ভার্চুয়ালী) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গকেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম।

বিনা আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ হৃদয়েশ্বর দত্ত এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মোসাম্মৎ মরিয়ম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. ছয়েমা খাতুন।

বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার পপির সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা, কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, আমাদের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে তেল ফসলের আবাদ বাড়াতে হবে। এর অংশ হিসেবে বিনা উদ্ভাবিত জাতগুলো ব্যবহার করলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। ফলনও হবে বেশি।

প্রশিক্ষণে তেল জাতীয় ফসলের বৃদ্ধি প্রকল্পের (বিনা অংগ) আওতাধীন বরিশাল সদর ও বাবুগঞ্জের ২ জন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা এবং ৭৫ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop