৪:৫৯ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ১৩ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ১২, ২০২২ ৩:০২ অপরাহ্ন
ফেসবুক ডাক্তার হতে সাবধান…
পোলট্রি

আমাদের দেশে কেউ অসুখে আক্রান্ত হলে বেশিরভাগ মানুষই সর্বপ্রথম নিজেই নিজের মত করে ঔষধ সেবন করেন কিংবা ফার্মেসিতে যেয়ে সমস্যার কথা বলে ঔষধ কিনে আনেন । একইভাবে পোল্ট্রি খামারিগন যদি সমস্যায় পড়েন তাহলে নিজেই ডাক্তারি করেন, না হয় পাশের খামারির পরামর্শে ঔষধ খাওয়ান । বর্তমানে এক শ্রেণির খামারি দেখা যায় যারা মুরগির সমস্যা হলে ফেসবুকে পোল্ট্রি সংক্রান্ত বিভিন্ন গ্রুপে পোষ্ট দিয়ে তার প্রতিকার/চিকিৎসা চান আর খামারিরাও নিজের মেধা, প্রজ্ঞা এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে দারুণ দারুণ সব পরামর্শ দেন । বাস্তবতা হচ্ছে এইসব পরামর্শ কতটা যুক্তিযুক্ত কিংবা খামারীবান্ধব ?

এক খামারি সেদিন পোষ্ট দিলেন যে তার ব্রয়লার মুরগির বয়স ২০ দিন, অনবরত খাদ্য ছিটাচ্ছে। সমাধান কি ?  এই খামারি খুব বিপদেই পড়ে এই পোষ্ট দিয়েছেন আমি নিশ্চিত কিন্তু এই পোষ্টে প্রায় ৪০-৫০ জন কমেন্ট করে সমাধান দিয়েছেন যা হয়ত সেই খামারির বিপদ আরোও বাড়িয়ে দিবে । ১ টা সমস্যায় যদি ৩০-৪০ টা সল্যুশন পাওয়া যায় তাহলে ব্যাপারটা হয়ে ওঠে “কোনটা রেখে কোনটা নিবো” এই টাইপের । সল্যুশনগুলার দিকেও একটু নজর দেই -কয়েকজন কমেন্ট করেছেন আমাশয় হয়েছে, আর বেশিরভাগই দিয়েছেন ট্রিটমেন্ট । কেউ এনপ্রোভিন দিতে বলেছেন, কেউ এনজাইম, কেউ কক্সিকিউর, আরেকজন এপ্রোলিয়াম, অন্যজন সিপ্রোসিন, কেউবা টলটাজরিল, কেউ রেনামাইসিন আবার কেউ কেউ সিপ্রোসিন, এপ্রোলিয়াম, রেনামাইসিন একসাথে চালাতে বলেছেন, সাথে এনজাইম ।  রুবেল নামের এক ভদ্রলোক দেখলাম কমেন্টে নিজের নাম্বার দিয়ে ফোন দিতে বললেন চিকিৎসার জন্য । খামারি সেজে আমি নিজেই ফোন দেই, দেখি তিনি কি বলেন । একই সমস্যার কথা বলে সমাধান চাইলাম, বললেন আয়রনের সমস্যা, এনটক্স দেন ২৪ ঘন্টা, ঠিক হয়ে যাবে। পরিচয় জানলাম, তিনি একজন খামারি।

আরেকজন খামারি তার মুরগির সমস্যার কথা লিখে গ্রুপে পোষ্ট দিয়েছেন, সমস্যাটা হলো মুরগির বয়স ২৩ দিন, ৯০০ মুরগির মাঝে ৫০-৬০ টা মুরগি মাথা উপর করে হা করে শ্বাস নিচ্ছে, কি করবেন । এই পোষ্টেও প্রায় ৫০ এর অধিক কমেন্ট ও সল্যুশন । কেউ বলছে ঠান্ডা লেগেছে, কেউ বলছে পেটে পানি জমেছে, কেউ বলছেন ফাঙ্গাসের সমস্যা আবার কেউ বলছেন রানীক্ষেত হতে পারে  আর একদল তো ফ্রি তে চিকিৎসা দিয়েছেন – কেউ ব্রডিল, কেউ টাইলোডক্স, কেউ সিপ্রোসিন, আরেকজন টিলমোকসিন ও ডক্সিসাইক্লিন, অন্যজন পালমোকেয়ার, লিভোফ্লক্সাসিন, এমোক্সাসিলিন, নাপা, ক্যালিক্স, টু প্লাস দিতে বললেন, কেউবা আবার মাইক্রোনিডের সাথে ডক্সিভেট দিতে বললেন ।

একটা সমস্যার জন্য যদি এতগুলা সল্যুশন হয় তাহলে খামারির অবস্থা কি হতে পারে ভাবা যায় !  আমাদের দেশে খুবই অবাক করা বিষয় যে, ভেটেরিনারিয়ানগন যে পরিমান ফ্রি তে চিকিৎসা দেন তা অন্য কোন দেশে আছে কিনা সন্দেহ । এমনও হয়েছে যে নিজের ফার্ম দেখতে গিয়েছি অন্য ফিড ব্যবহার করা পাশের খামারি তার মুরগি দেখানোর জন্য দাঁড়িয়েছিলেন ঘন্টারও বেশি সময় । এমনটা অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটে এবং ফ্রি তে চিকিৎসা দিচ্ছেন (কেউ কেউ স্বল্প ভিজিটে) এমন হাজার হাজার উদাহরণ দেওয়া যাবে । এছাড়া ফোনেও ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার ভালো সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন নিজের খামারকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন ?

মুরগির খাবার ছিটানোর অসংখ্য কারণ আছে, সত্যিকারের কারণ না জেনেই চিকিৎসা দেওয়াটা যেমন বোকামি তেমনি মুরগির প্রতি বড় ধরনের এক নিষ্ঠুরতা । মুখ হা করে শ্বাস নেওয়ার ক্ষেত্রেও একই কথা । এইসব ফেসবুক ডাক্তারদের থেকে সাবধান থাকা জরুরি । আমাদের স্মার্ট খামারি ভাইগন, আসুন আমরা শুধু ফেসবুকে পোষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে স্মার্টনেস না দেখিয়ে নিজেদের কাজের মাধ্যমে আরোও বেশি স্মার্ট হই…

 

ডাঃ খালিদ হোসাইন
সম্পাদক

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১২, ২০২২ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন
মুরগির বাচ্চার যত্ন নিতে যা করবেন
পোলট্রি

বর্তমানে খামার করে অনেকেই লাভবান হয়েছেন। এই শিল্পে আরো লাভবান হওয়ার জন্য দরকার খামারে আরো পরিচর্যা। আর তা দরকার মুরগির বাচ্চার শুরু বয়স থেকেই। মুরগির বাচ্চার যত্ন যত বেশি নিতে পারবেন খামারে তত লাভ বেশি হবে। তাই খামারিদের উচিত মুরগির বাচ্চার যত্ন নেয়ার প্রতি আরো মনোযোগী হওয়া।

মুরগির বাচ্চার যত্নে যা করতে হবে:
খামারে যে বাচ্চা আনা হয়েছে তার হ্যাচিং হয়েছে প্রায় (২০-২৪ ঘণ্টা পূর্বে) যোগাযোগ ব্যবস্থা ও হ্যাচারী থেকে খামারের দূরত্বের উপর সময় কম বেশি হতে পারে। আবার আনসোন্ড বাচ্চা প্রায় ২ দিনেরও বেশি সময় না খেয়ে থাকে।তাহলে বাচ্চা কিভাবে না খেয়ে বেঁচে থাকে? আসলে একদিনের বাচ্চার পেটে কুসুমের কিছু পরিমান জমা থাকে।যার ফলে বাচ্চা বেশ কিছু সময় না খেয়ে থাকতে পারে।তবে সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে বাচ্চা দূর্বল হতে থাকে। অনেক সময় দূরের পথ অতিক্রম করায় বাচ্চার ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা হয়ে থাকে।

ডিহাইড্রেশন লক্ষণ:
বাচ্চার পায়ের বিদ্যমান শিরাগুলো ফুলে ওঠে,নীলবর্ন ধারণ করে। পায়ে কোথাও কোথাও লাল রক্তজমাটের মত পরিলক্ষিত হয়।বাচ্চা তুলনামূলক কম নড়াচড়া করে।

জেনে রাখা দরকার যে, এমন ডিহাইড্রেশনে আক্রান্ত বাচ্চাকে গ্লুকোজ দেওয়া মোটেই উচিৎ নয়। যদি অধিকাংশ বাচ্চার এমন অবস্থা দেখা যায় তাহলে ঠান্ডা পানিতে ভিটামিন সি অথবা স্যালাইন দিতে হবে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তবে ভিটামিন খাওয়ানোতে সতর্কতার প্রয়োজন আছে।অধিক ভিটামিন প্রদান ডায়রিয়ার কারন হতে পারে।

একদিনের বাচ্চাকে এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয় যেন এর নাভি কাচা সমস্যা সমাধান হয়। যদি বাচ্চার এমন সমস্যা থেকে থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু বাচ্চার পেটে জমা থাকা কুসুম শুকানো জন্য কোন এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই,বা এক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক কাজও করে না। আলো বা তাপ দিয়েই পেটে জমা থাকা কুসুম শুকাতে হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২২ ৮:২৫ অপরাহ্ন
ডিম, মুরগি ও ১ দিন বয়সী বাচ্চার সর্বশেষ (সোমবার, ১১ এপ্রিল) পাইকারি দাম
পোলট্রি

পোল্ট্রি পণ্য (ডিম ও মুরগীর) আজকের পাইকারী মূল্য(টাকা) নিন্মরুপ:-
তারিখ:১১/০৪/২০২২ ইং

★এখানে বর্ণিত পোল্ট্রি পণ্যের মূল্য মূলত : পোল্ট্রি খামারিদের প্রাপ্ত মূল্য।

ইউনাইটেড এগ(সেল পয়েন্ট)
লাল ডিম=৮.০০
সাদা ডিম=৭.৫০

ডাম্পিং মার্কেট-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০৫
সাদা ডিম=৬.৩৫

গাজীপুর:-
লাল(বাদামী)ডিম=৬.৯৫
সাদা ডিম=৬.৩০
ব্রয়লার মুরগী=১২৮/ কেজি
কালবার্ড লাল=২০০/কেজি
কালবার্ড সাদা=/কেজি
সোনালী মুরগী=২৩০/ কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=২০-২৩
লেয়ার সাদা=৩০-৩২
ব্রয়লার=৩৫-৪০

ডায়মন্ডঃ-
লাল(বাদামী) বড় ডিম=৭.৩০
লাল(বাদামী) মাঝারি ডিম=৭.০৫

চট্টগ্রাম:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.২০
সাদা ডিম=৬.৮০
ব্রয়লার মুরগী=১৩৮/কেজি
কালবার্ড লাল=২০০/কেজি
সোনালী মুরগী=২৬০/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=২০-২২
লেয়ার সাদা=২৪-২৮
ব্রয়লার=৪২/৪৫

রাজশাহী:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০০
সাদা ডিম=৬.০০
ব্রয়লার মুরগী =/কেজি
সোনালী =/কেজি

খুলনা:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৪০
সাদা ডিম=৬.৯০

বরিশাল:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০০
ব্রয়লার মুরগী=১৩০/কেজি
কালবার্ড লাল=২২০/কেজি
সোনালী মুরগী=২৫০/কেজি বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =৪০-৪১
ব্রয়লার=২০

ময়মনসিংহ:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৯০
ব্রয়লার মুরগী=১২৭/ কেজি
সোনালী মুরগী=২৪০/কেজি

সিলেট=
লাল(বাদামী)ডিম=৭.৪০
সাদা ডিম=৬.৯০
ব্রয়লার মুরগী=১৩০/ কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =২০-২২
লেয়ার সাদা =
ব্রয়লার =৪০

[ খাদ্যের দাম কমানোর দাবি করছি]

রংপুর:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.১০
কাজী(রংপুর):-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.২২
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=
ব্রয়লার=
সোনালী হাইব্রিড=৩৩
সোনালী রেগুলার=২৮

বগুড়া :
লাল(বাদামী)ডিম=৭.১০
ব্রয়লার মুরগী=১২৫/কেজি
সোনালী মুরগী =২২৫/কেজি
কাজী(বগুড়া):-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.১২
বাচ্চার দর:-
সোনালী হাইব্রিড=৩৩
সোনালী রেগুলার=২৮

টাংগাইল :–
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০৫
সাদা ডিম=
ব্রয়লার মুরগী=/ কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি

কিশোরগঞ্জ:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৯০
ব্রয়লার মুরগী=/কেজি

নরসিংদী :-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০৫

সিরাজগঞ্জ :-
লাল(বাদামী) ডিম=
ব্রয়লার মুরগী=/কেজি
কালবার্ড লাল=/কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি

ফরিদপুর :-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৯০
কাজী(ফরিদপুর) :-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.২০
ব্রয়লার মুরগী=১৩০/কেজি
লেয়ার মুরগী=২০৫/কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=২০
ব্রয়লার=৩৮
সোনালী হাইব্রিড=৩৩
সোনালী রেগুলার=২৮

পাবনা :-
লাল(বাদামী)ডিম=৬.৭০
সাদা ডিম=৬.৩০

নোয়াখালী:-
লাল(বাদামী)ডিম=৭.১০
ব্রয়লার মুরগী=১৩৭/কেজ
কালবার্ড লাল=১৯০/কেজি
সোনালী মুরগী=২৬০/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =২০
লেয়ার সাদা =
ব্রয়লার =৪৪

পিরোজপুর (স্বরুপকাঠী:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৮০
সাদা ডিম=৬.৩০
ব্রয়লার মুরগী =/কেজি

যশোর :-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৭০

কুমিল্লা:-
লাল (বাদামী) ডিম=৭.১০
ব্রয়লার মুরগী=১৩৫/ কেজি
কালবার্ড লাল=২১৫/কেজি
সোনালী মুরগী=২৩০/কেজি

কক্সবাজার :-
লাল (বাদামী) ডিম=৬.৩০
সাদা ডিম=৬.০০
ব্রয়লার মুরগী =/কেজি
সোনালী মুরগী =/কেজি

একটি যৌথ উদ্যোগ: বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ (বি.পি.কে.আর.জে.পি) এবং পোল্ট্রি প্রফেশনাল’স বাংলাদেশ(পিপিবি)।

ধন্যবাদান্তে
মো:শিমুল হক রানা
যোগাযোগ:০১৮৫৫৯৪৪২৭০

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২২ ৪:১৫ অপরাহ্ন
প্রচন্ড গরমে পোল্ট্রির হিটস্ট্রোক এবং সমাধানের উপায়
পোলট্রি

সময়ের বৈরি আবহাওয়ার ফলে আমরা অনেক সময়েই সমস্যায় পড়ি। কিছু সমস্যা আছে যেগুলো আমাদের শুধু কষ্ট বা সাময়িক অস্বস্তি দিয়ে যায় আর কিছু আছে যা আমাদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতি করে থাকে। যেমন কাল বৈশাখি ঝড়ে আমাদের অর্থনৈতিক ভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়। আর শীতকালের তীব্র শীত আর গরমের প্রচন্ড গরম যে শুধু আমাদের জন্যই ক্ষতিকর তা নয়, তা আমাদের আশ্রয়ে পালন হওয়া গরু ছাগল, হাঁস মুরগী সবাই এর ভুক্তভুগী। তবে এদের মধ্যে বর্তমাণে বানিজ্যিক ভাবে পালন করা মুরগীর এই সমস্যা বেশি পরিলক্ষিত হয়।

কয়েকদিন থেকেই পত্র পত্রিকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মুরগী মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সুর্য্যের তাপমাত্রা বেশি আর পরিবেশের ভ্যাপসা ও অসনীয় গরমে তাদের মেটাবলিক হার বেড়ে যাচ্ছে। আর এত বেশি তাপমাত্রায় তাদের প্রধান অঙ্গ গুলো ভালভাবে কাজ করতে না পারায় মুরগী মারা যায়।

হিটস্ট্রোকের কারণঃ মানবদেহের সকল জৈবিক কার্যাবলী ঠিকমত সম্পর্ন হতে প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশের। আর এই পরিবেশের মধ্যে অন্যতম উপাদান হল তাপমাত্রা , চাপ ইত্যাদি। খুব কম তাপমাত্রা যেমন ভাল নয় ঠিক তেমনি বেশি তাপমাত্রা ও ভাল না। আর দ্রুত বর্ধনশীল মুরগীর ক্ষেত্রে এই সমস্যা তো আরো অনেক গুন বেশি। তারা এমনিতেই খুব কাতর হয়ে থাকে।

অতিরিক্ত তাপমাত্রায় মুরপগীর কিডনি, হার্ট ,ফুসফুস কাজ করতে না পারার কারনে স্ট্রোক করে থাকে। গাদাগাদী করে থাকায় এবং পানির কোন ঘাটতি থাকলে এই প্রকোপ বেড়ে যায় অনেকংশে।

মুরগীর তাপমাত্রা অসহনীয় হয়েছে বোঝার উপায়ঃ

মানুষ তার গরম লাগার কথা বলতে পারে,কিন্তু মুরগী তা পারেনা।

তাই তাদের কিছু বৈশিষ্ট দেখে বুঝতে হয় ফ্লকের তাপমাত্রা বেড়েছে-পানির পাত্রের উপর মুরগি হুমড়ী খেয়ে পড়ছে।

মুরগী গুলো যেদিকে একটূ ঠান্ডা পরিবেশ পাচ্ছে তার দিকে ছুটে যেতে থাকবে।

পাখা গুলো এলিয়ে দিয়ে ঝিমিয়েও যেতে পারে।

মুরগীর হার্ট রেট ও শ্বাসরেট বেড়ে যায় অনেকাংশে।

পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও এর প্রভাব: ঘর্মগ্রন্থি না থাকার কারণে মোরগ-মুরগির অতিরিক্ত গরম অসহ্য লাগে। এতেউত্পাদন ক্ষমতা ব্যাহত হয়। অতিরিক্ত তাপে এদের পানি গ্রহণ, শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে থাইরয়েড গ্রন্থিরআকার, রক্তচাপ, নাড়ির স্পন্দন, রক্তে ক্যালসিয়ামের সমতা, খাদ্য গ্রহণ, শরীরের ওজন ও ডিমের উত্পাদন হ্রাস পায়। ১৫ হতে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসতাপমাত্রায় এদের উত্পাদন সর্বোচ্চ। ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে প্রতি ডিগ্রিতাপমাত্রা বৃদ্ধিতে শতকরা ৪ ভাগ হারে পানি গ্রহণ বৃদ্ধি পায়। ২৪ ডিগ্রিসেলসিয়াস তাপমাত্রার পর হতে ডিমের সংখ্যা না কমলেও প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রাবৃদ্ধিতে ডিমের ওজন শতকরা এক ভাগ হারে কমে যায়। ২৬.৫ সেলসিয়াস ডিগ্রিতাপমাত্রার পর হতে মোরগ-মুরগির খাদ্যের রূপান্তর ক্ষমতা হ্রাস পায়। ২৭ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে প্রতি ডিগ্রি তাপ বৃদ্ধিতে ২ হতে ৪ শতাংশ খাবার গ্রহণকমে যায়। ৩৬ হতে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মোরগ-মুরগির জন্য অসহনীয়এবং ৩৮ ডিগ্রির পর মৃত্যু হার খুব বৃদ্ধি পায়।

হিটস্ট্রোক এড়ানোর জন্য স্বল্পকালীন প্রস্তুতিঃ হিট স্ট্রোক যেহেতু পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হয়ে থাকে। আর তা হল প্রাকৃতিক কারণ। এতে যেমন আমাদের হাত দেয়ার ক্ষমতা থাকেনা, কিন্তু একটু ভালভাবে চেষ্টা করলে এর মারাত্বক প্রভাব থেকে মুরগীকে রক্ষা করা যেতে পারে। বেশি তাপমাত্রা থাকাকালীন সময়ে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ করা যেতে পারে।

ফ্লকের তাপমাত্রা নিয়ত্রণের চেষ্টা করাঃ বাইরের তাপমাত্রা অনেক বেশি হলেও ফ্লকে মুরগীর জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রার ব্যবস্থা করা জরুরি। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিমাণে ফ্যানের ব্যবস্থা করা। এবং ভিতরের গরম বাইরে বের করার জন্য এক্সিট ফ্যান ব্যবহার করতে হবে। যদি তাপমাত্রা খুবই বেশি দেখা যায় তাহলে টিনের ছাদ হলে তার উপরে পানি রাখার মত কিছু হলেও ব্যবস্থার মাধ্যমে এর তাপমাত্রা নিয়ত্রন করা। গাছের ডাল অথচা টিনের উপর খড়ের চালের ব্যবস্থা করা।

লক্ষ রাখতে হবে ফিড : এ সময় মুরগির ফিড গ্রহণের পরিমাণ কমে যায়। সেই কারণে দিনের নির্দিষ্ট বেশি গরমের সময় ব্রিডার লেয়ারের ক্ষেত্রে ফিড না দেওয়াই ভালো। শুধু পানি খাবে। দিনের ঠাণ্ডা সময় যেমন ভোর ও সন্ধ্যার পর ফিড দিতে হবে।

এ সময় খামারে দেওয়া ফিডে বিশেষ লক্ষ রাখতে হবে, ফিডে যেন পুষ্টিমান সঠিক এবং বেশি থাকে। যেমন স্বাভাবিক ১০০ গ্রাম ফিডের পুষ্টি ৯০ গ্রাম ফিডে থাকতে হবে। সে কারণে ফিডে ব্যবহার করা প্রোটিনের ক্ষেত্রে অতি উচ্চমানের প্রোটিন ব্যবহার করতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে, এই প্রোটিনে প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড মিথুনিন, লাইসিন ঘাটতি আছে কি না? যদি ঘাটতি থাকে তাহলে বাড়তি অ্যামাইনো এসিড মেশাতে হবে।

খামারে রেডি ফিড (পিলেট ফিড) ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফিডে অ্যামাইনো এসিড মেশানোর উপায় থাকে না। সে ক্ষেত্রে পানির মাধ্যমে তরল মিথুনিন যেমন রেডিমেড এটি-৮৮ পানিতে খাওয়াতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে এক থেকে দুই মিলিলিটার দিতে হবে। এ ছাড়া অন্যান্য অ্যামাইনো এসিডের ঘাটতি পূরণের জন্য অ্যামাইনো লাইটস এবং অ্যামাইনো এসিড ও শক্তি সরবরাহের জন্য অ্যামাইনো-১৮ পানির সঙ্গে খাওয়াতে হবে।

হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ : গরমের সময় রক্ত চলাচল দ্রুততর হওয়ার জন্য হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায় ও কোনো কোনো সময় রক্ত জমাট হতে পারে। এই রক্ত জমাট হওয়াটাই হিটস্ট্রোক। এতে মুরগি মারা যেতে পারে। এ সময় এসপিরিন ও ভিটামিন-সিযুক্ত কোনো মিশ্রণ যেমন এন্টি স্ট্রেস প্রিমিক্স দিনের উষ্ণতম সময় যেমন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পানির মাধ্যমে খাওয়ালে হিটস্ট্রোকের পরিমাণ অনেক কমে যায়। এ ছাড়া ফিডেও ভিটামিন-সিযুক্ত প্রিমিক্স ব্যবহার করা যেতে পারে।

গরমের বাড়তি যত্ন : গরমে পোলট্রি খামারে বিশেষ যত্ন না নিলে ফ্লকে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এখনকার তাপজনিত ধকলে মুরগির দৈহিক ওজন কমে যাওয়াসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ডিম উৎপাদন কমে যায় এবং মোরগ-মুরগির মৃত্যুও হতে পারে। এ সময় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।

খামারে এক দিনের বাচ্চা আসার আগে পরিষ্কার ও ঠাণ্ডা পানির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে পানির সঙ্গে ভিটামিন সি, আখের গুড় অথবা ইলেকট্রোলাইটযুক্ত স্যালাইন পানির সঙ্গে দিতে হবে।

খামার শেডে বাতাসের অবাধ চলাচলের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। মুক্ত বাতাস শেড অভ্যন্তরের তাপমাত্রা শীতল রাখবে, সেই সঙ্গে অ্যামোনিয়াসহ অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাসের বিষক্রিয়াও মুক্ত রাখবে। শেডে সিলিং ফ্যানের পাশাপাশি এগজস্ট ফ্যানের ব্যবস্থা করতে হবে।

শেডে মোরগ-মুরগি যেন আরামদায়ক পরিবেশে বাস করতে পারে সেদিকে নজর দিতে হবে। অহেতুক এদের বিরক্ত করা যাবে না। প্রতিটি বড় মুরগিকে এক বর্গফুটের অধিক জায়গা দিতে হবে।

অধিক রোদে টিনের চালা অতিরিক্ত গরম হলে দিনে দুই-একবার চালায় পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। টিনের চালার নিচে চাটাই, হার্ডবোর্ড দিয়ে শিলিংয়ের (চাতাল) ব্যবস্থা করতে হবে।

লিটার ব্যবস্থাপনাঃ শেডের চারপাশে সপ্তাহে দুবার চুন ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ব্রয়লার লিটার ভোর কিংবা রাতে ওলটপালট করে দিতে হবে।

খাবার পাত্র ও পানির পাত্রসংখ্যা বাড়িয়ে দিতে হবে। পানির পাত্রে দিনে কমপক্ষে তিনবার পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।গরমের ধকলের কারণে মাইকোপ্লাজমা ও কলিব্যাসিলোসিস রোগের আক্রমণ বেড়ে যায়।সে কারণে এ সময় মুরগির স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মেনে চলা প্রয়োজন। বিশেষ করে ফিড ও পানিতে ভিটামিন-সি ও ভিটামিন-ই ব্যবহার করতে হবে।

গরমকালে বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় শেডের মেঝেয় অনেক সময় লিটার দ্রুত ভিজে যায়। যার ফলে রোগ আক্রমণও বেশি হয়। সে কারণে লিটারে পাউডার চুন ব্যবহার করতে হবে। এ সময় ফিডের বস্তা খোলা রাখা যাবে না। কারণ বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে ফিডে ছত্রাক বা মোল্ড জন্মায়, যা পোলট্রি খাদ্যের উপযুক্ত নয়

তাপজনিত ধকল প্রতিরোধে করণীয়: খামারের আশে পাশে ছায়াযুক্ত বৃক্ষ রোপণ এবং ঘর পূর্ব-পশ্চিমে হওয়া বাঞ্চনীয়। তবে আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনায় বায়োসিকিউরিটির কথা চিন্তা করেগাছপালা রোপণের প্রতি অনুত্সাহিত করা হয়ে থাকে। গরমে পোল্ট্রি শেডেপ্রত্যক্ষ সূর্যালোক পরা যাবে না। অত্যধিক গরম প্রতিরোধে প্রয়োজনে শেডেরছাদে/বা টিনের চালায় দিনে দু’তিন বার পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে।টিনের নিচে চাটাই/হার্ডবোর্ড দিয়ে সিলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক সময়মুরগি যখন হাঁ করে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয় তখন ঘরে সেপ্র মেশিন দিয়েকুয়াশার মত করে পানি ছিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে। পানির ড্রিংকার ও ফিডারেরসংখ্যা বাড়াতে হবে। ঘন ঘন ড্রিংকারের পানি পাল্টাতে হবে। গরমে বাতাসেরআর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে শেডের মেঝে অনেক সময় স্যাঁতসেঁতে হয়ে লিটারদ্রুত ভিজে যায়। ফলে রোগের আক্রমণও বাড়ে। সেজন্য প্রতিদিন সকালেব্রয়লার শেডের লিটার উলোট-পালোট করা প্রয়োজন। লিটারে গুঁড়ো চুন ব্যবহারকরলে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়। শেড হতে শেডের দূরত্ব ৩০ ফুটের অধিক হলে ভালহয়। শেডে মোরগ-মুরগির ঘনত্ব বেশি হলে তা কমিয়ে দিতে হবে। বাতাসের অবাধচলাচল শেডের ভেতরের তাপমাত্রা শীতল রাখতে সাহায্য করবে এবং পোল্ট্রির জন্যক্ষতিকর অ্যামোনিয়া গ্যাস মুক্ত রাখবে। শেডে স্টেন্ড ফ্যানের ব্যবস্থাকরতে হবে।

ঠান্ডা পানির সরবরাহ: ঠাণ্ডা ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে। যেহেতু তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে এদের খাদ্য গ্রহণ কমে যায়, সেহেতু প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ৮হতে ১০ ভাগ শক্তি কমিয়ে প্রোটিন, খনিজ লবণ ও ভিটামিন বাড়িয়ে দিতে হবে।প্রতি লিটার পানিতে ১০-১২ গ্রাম গ্লুকোজ ও মুরগি প্রতি ১০ গ্রাম ভিটামিন সি পানির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে ভাল ফল পাওয়া যায়। এছাড়া প্রাকৃতিক বিটেইনেধনাত্মক ও ঋনাত্মক আছে যা কোষের মধ্যে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে হিটস্ট্রোকের হাত থেকে এরা রক্ষা পায়। গরমে পোল্ট্রির অ্যামাইনো এসিডেরচাহিদা বেড়ে যায়। বিটেইনে মিথাইল মূলক বিদ্যমান, যা মিথিওনিন ও কলিনেরঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। গরমে প্রয়োজনে একদিনের বাচ্চার জন্য পানিতে আখেরগুড়, ভিটামিন সি অথবা ইলেকট্রোলাইট যুক্ত স্যালাইন পানি দিতে হবে।

দীর্ঘকালীন পরিকল্পনাঃ সুষ্ট পরিকল্পনা কাজের অর্ধেক। আর আবহাওয়ার কথা চিন্তা করে খামার এমন স্থানে স্থাপন করা দরকার যেন বৈরি আবহাওয়ায় ঐ স্থান সহায়ক হয়। শেডের চারপাশি কিছু গাছ লাগানো যেতে পারে, বিশেষত নিমের গাছ যেখান হতে বিশুদ্ধ বাতাস পাওয়ার পাশাপাশি জীবানূদের ধ্বংস করতেও সাহায্য করবে।

পর্যাপ্ত বায়ুচলাচলের ব্যবস্থা করে শেড নির্মাণ করতে হবে (যারা নতুন করে করবেন)।

খামারীভাইদের এই সময়ে একটু বিশেষ সচেতন থাকতে হবে। যেন হিটস্ট্রোকে মুরগী মারা না যায়। উপরের বিষয়গুলো খেয়াল করে মুরগীর যত্ন নিলে এর প্রকাপ অনেকাংশেই কমানো যাবে বলে আশাবাদী। এই সময় মুরগীর ভাল দাম পেয়ে লাভবাণ ও হওয়া যায় দ্রুত।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২২ ২:৩৩ অপরাহ্ন
১টি বাদামী ডিমে খামারিদের লাভ লোকসানের হিসাব
পোলট্রি

ডিম একটি সহজলভ্য ও উন্নতমানের আমিষজাতীয় খাদ্য; যাতে রয়েছে প্রাকৃতিক ভিটামিন, যা দেহগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সব ধরনের ডিমে রয়েছে অতি মূল্যবান ওমেগা-৩, যা হৃৎপিণ্ডকে কার্যকর রাখতে সাহায্য করে। তাই সুস্থ থাকতে হলে একজন মানুষকে নিয়মিত ১ টি করে ডিম খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সেই ১টি মুরগির ডিম উৎপাদনের জন্য একজন খামারিকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। সাধারণ জনগণ মনে করেন মুরগির ডিম উৎপাদন করে খামারিরা প্রচুর লাভ করে থাকেন। বর্তমান বাজারমূল্যে আসলেই কি মুরগির ডিম উৎপাদন করে একজন খামারি লাভ করতে পারেন? চলুন দেখে নেয়া যাক-

বর্তমানে ১টি বাদামী ডিমে খামারিদের লাভ লোকসানের হিসাব

হিসাব মিলিয়ে নিন প্রতি ডিমে (বাদামি) খরচ:


১) প্রতি ডিমে খাদ্য বাবত খরচ= ৫.৬৪ টাকা
২) প্রতি ডিমে পুলেট বাবত প্রতি ডিমে খরচ= ১.৯২
৩)প্রতি ডিমে দৈনিক অন্যান্য খরচ = ০.৪২ টাকা
৪) প্রতি ডিমে পরিবহন,ডিম নষ্ট/বাতিল/ভাঙা= ০.১২ টাকা
৫)প্রতি ডিমে খাঁচা বাবত (ডিপ্রিসিয়েশন) = ০.০৭ টাকা
৬) প্রতি ডিমে ঘর বাবত ( ডিপ্রিসিয়েশন) = ০.১৮ টাকা

=================================

বর্তমানে প্রতি বাদামি ডিমে উৎপাদন খরচ = ৮.৩৫ টাকা

১টি বাদামী ডিমের খামারিদের বিক্রয় মূল্য- ৬.৮০ টাকা


বিস্তারিত বিশ্লেষণ –

১ টি ডিম উৎপাদনে মুরগী প্রতি খাবার লাগে ১১৫ গ্রাম
১ কেজি খাবারের বর্তমান দাম ৪৯ টাকা
১ টা ডিম উৎপাদনে খাবার বাবত খরচ = ৫.৬৪ টাকা

প্রতিটি ডিম উৎপাদনে ( ভিটামিন মেডিসিন বিদ্যুৎ কর্মচারী বেতন ইত্যাদি বাবত) খরচ ০.৪২ টাকা

★★★ রোগ বালাই মৃত্যুহার বেশি, ডিমের পার্সেন্টেজ কম হলে খরচ আরো বেশি হবে।

ডিম পাড়ার আগে পর্যন্ত একটি পুলেট রেডি হতে বর্তমান বাজারে ৫৩০ টাকা খরচ হয়। এই টাকা/খরচ যদি প্রতি ডিমে ধরা হয় ( প্রতি মুরগী কাল করার আগ পর্যন্ত যদি ২৮০টি ডিম দেয়) পুলেট বাবত প্রতি ডিমে খরচ হয় ১.৯০ টাকা। পরিবহন, ডিম নষ্ট /বাতিল/ভাঙা ইত্যাদি হিসাব করলে প্রতি ডিমে খরচ ০.১২ টাকা যোগ হয়

খাঁচা বাবত প্রতি মুরগী তে ২০০ টাকা খরচ। যদি হিসাব করা হয় এই খাঁচার মেয়াদ ১০ বছর, তাহলে প্রতিবছর ২০ টাকা ( ডিপ্রিসিয়েশন), যদি বছরে ২৮০ ডিম পাড়ে একটি মুরগী তাহলে প্রতি ডিমে খাঁচার জন্য খরচ ০.০৭ টাকা ১০০০ মুরগির ঘর বানাতে যদি ৫০০০০০ টাকা খরচ হয় ( ঘরের মেয়াদ যদি ১০ বছর ধরা হয়) তাহলে প্রতি ডিমে ঘরের জন্য খরচ ০.১৮ টাকা।

এবার সরাসরি হিসাব মিলাই:


বিঃ দ্রঃ মৃত্যুহার, রোগবালাই এর জন্য চিকিৎসা ও খাদ্যের দাম যদি আরো বাড়ে, ডিম উৎপাদনের হার যদি কাংখিত % না পাওয়া যায় তাহলে উৎপাদন খরচ আরো বাড়বে। এবার একজন খামারি ভাবুন কত দামে একটি বাদামি ডিম বিক্রি করলে আপনি লাভ করতে পারবেন?

বর্তমানে পৃথিবীর সব দেশে ডিমের দাম অনেক বেশি কিন্তু আমাদের দেশে ফিডের দাম বাড়ে আর মুরগী পালনের জন্য দরকারী সব কিছুর দামে বাড়ে, ডিমের দাম বাড়ে না। খামার আর কয় দিন খামারী চালু রাখতে পারবে? কারো উত্তর জানা আছে??

লেখকঃ অঞ্জন মজুমদার
সমন্বয়ক, পোল্ট্রি প্রফেশনালস বাংলাদেশ (পিপিবি)

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১০, ২০২২ ৫:৪৮ অপরাহ্ন
ডিম, মুরগি ও ১ দিন বয়সী বাচ্চার সর্বশেষ (রবিবার, ১০ এপ্রিল) পাইকারি দাম
পোলট্রি

পোল্ট্রি পণ্য (ডিম ও মুরগীর) আজকের পাইকারী মূল্য(টাকা) নিন্মরুপ:-
তারিখ:১০/০৪/২০২২ ইং

★এখানে বর্ণিত পোল্ট্রি পণ্যের মূল্য মূলত : পোল্ট্রি খামারিদের প্রাপ্ত মূল্য।

ইউনাইটেড এগ(সেল পয়েন্ট)
লাল ডিম=৮.০০
সাদা ডিম=৭.৫০

ডাম্পিং মার্কেট-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০৫
সাদা ডিম=৬.৩৫

গাজীপুর:-
লাল(বাদামী)ডিম=৬.৯৫
সাদা ডিম=৬.৩০
ব্রয়লার মুরগী=১২৮/ কেজি
কালবার্ড লাল=২০০/কেজি
কালবার্ড সাদা=/কেজি
সোনালী মুরগী=২৩০/ কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=২০-২৩
লেয়ার সাদা=৩০-৩২
ব্রয়লার=৩৫-৪০

ডায়মন্ডঃ-
লাল(বাদামী) বড় ডিম=৭.৪০
লাল(বাদামী) মাঝারি ডিম=৭.১৫

চট্টগ্রাম:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.২০
সাদা ডিম=৬.৮০
ব্রয়লার মুরগী=১৩৭/কেজি
কালবার্ড লাল=২০৫/কেজি
সোনালী মুরগী=২৬০/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=১৮-২০
লেয়ার সাদা=২২-২৪
ব্রয়লার=৪২/৪৫

রাজশাহী:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০০
সাদা ডিম=৬.০০
ব্রয়লার মুরগী =/কেজি
সোনালী =/কেজি

খুলনা:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৪০
সাদা ডিম=৬.৯০

বরিশাল:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০০
ব্রয়লার মুরগী=১৩০/কেজি
কালবার্ড লাল=২২০/কেজি
সোনালী মুরগী=২৫০/কেজি বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =৪০-৪১
ব্রয়লার=২০

ময়মনসিংহ:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০০
ব্রয়লার মুরগী=১২৭/ কেজি
সোনালী মুরগী=২৩৫/কেজি

সিলেট=
লাল(বাদামী)ডিম=৭.৪০
সাদা ডিম=৬.৯০
ব্রয়লার মুরগী=১৩০/ কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =২০-২২
লেয়ার সাদা =
ব্রয়লার =৪০

[ খাদ্যের দাম কমানোর দাবি করছি]

রংপুর:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.১০
কাজী(রংপুর):-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.১৮
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=
ব্রয়লার=
সোনালী হাইব্রিড=৩৩
সোনালী রেগুলার=২৮

বগুড়া :
লাল(বাদামী)ডিম=৭.২০
ব্রয়লার মুরগী=১২৫/কেজি
সোনালী মুরগী =২২৫/কেজি
কাজী(বগুড়া):-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.২৩
বাচ্চার দর:-
সোনালী হাইব্রিড=৩৩
সোনালী রেগুলার=২৮

টাংগাইল :–
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০৫
সাদা ডিম=
ব্রয়লার মুরগী=/ কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি

কিশোরগঞ্জ:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০০
ব্রয়লার মুরগী=/কেজি

নরসিংদী :-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.১৫

সিরাজগঞ্জ :-
লাল(বাদামী) ডিম=
ব্রয়লার মুরগী=/কেজি
কালবার্ড লাল=/কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি

ফরিদপুর :-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.১০
কাজী(ফরিদপুর) :-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৩০
ব্রয়লার মুরগী=১৩০/কেজি
লেয়ার মুরগী=২০৫/কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=২০
ব্রয়লার=৩৮
সোনালী হাইব্রিড=৩৩
সোনালী রেগুলার=২৮

পাবনা :-
লাল(বাদামী)ডিম=৬.৮০
সাদা ডিম=৬.৪০

নোয়াখালী:-
লাল(বাদামী)ডিম=৭.০০
ব্রয়লার মুরগী=১৪০/কেজ
কালবার্ড লাল=২০০/কেজি
সোনালী মুরগী=২৭৫/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =২০
লেয়ার সাদা =
ব্রয়লার =৪৪

পিরোজপুর (স্বরুপকাঠী:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৮০
সাদা ডিম=৬.৩০
ব্রয়লার মুরগী =/কেজি

যশোর :-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৭০

কুমিল্লা:-
লাল (বাদামী) ডিম=৭.১০
ব্রয়লার মুরগী=১৩৫/ কেজি
কালবার্ড লাল=২১৫/কেজি
সোনালী মুরগী=২৩০/কেজি

কক্সবাজার :-
লাল (বাদামী) ডিম=৬.৩০
সাদা ডিম=৬.০০
ব্রয়লার মুরগী =/কেজি
সোনালী মুরগী =/কেজি

একটি যৌথ উদ্যোগ: বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ (বি.পি.কে.আর.জে.পি) এবং পোল্ট্রি প্রফেশনাল’স বাংলাদেশ(পিপিবি)।

ধন্যবাদান্তে
মো:শিমুল হক রানা
যোগাযোগ:০১৮৫৫৯৪৪২৭০

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৯, ২০২২ ৬:৪১ অপরাহ্ন
ডিম, মুরগি ও ১ দিন বয়সী বাচ্চার সর্বশেষ (শনিবার, ০৯ এপ্রিল) পাইকারি দাম
পোলট্রি

পোল্ট্রি পণ্য (ডিম ও মুরগীর) আজকের পাইকারী মূল্য(টাকা) নিন্মরুপ:-
তারিখ:০৯/০৪/২০২২ ইং

★এখানে বর্ণিত পোল্ট্রি পণ্যের মূল্য মূলত : পোল্ট্রি খামারিদের প্রাপ্ত মূল্য।

ইউনাইটেড এগ(সেল পয়েন্ট)
লাল ডিম=৮.০০
সাদা ডিম=৭.৫০

ডাম্পিং মার্কেট-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৮৫
সাদা ডিম=৬.১৫

গাজীপুর:-
লাল(বাদামী)ডিম=৬.৮৫
সাদা ডিম=৬.০৫
ব্রয়লার মুরগী=১৩০/ কেজি
কালবার্ড লাল=১৮৫/কেজি
কালবার্ড সাদা=/কেজি
সোনালী মুরগী=২৪০/ কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=২০-২২
লেয়ার সাদা=৩০-৩৫
ব্রয়লার=৪৬-৪৭

ডায়মন্ডঃ-
লাল(বাদামী) বড় ডিম=৭.৩০
লাল(বাদামী) মাঝারি ডিম=৭.০০

চট্টগ্রাম:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০০
সাদা ডিম=৬.৬০
ব্রয়লার মুরগী=১৪০/কেজি
কালবার্ড লাল=২০০/কেজি
সোনালী মুরগী=২৫৫/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=১৮-২২
লেয়ার সাদা=৩২-৩৪
ব্রয়লার=৪২/৪৬

রাজশাহী:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৯০
সাদা ডিম=৫.৯০
ব্রয়লার মুরগী =/কেজি
সোনালী =/কেজি

খুলনা:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৩০
সাদা ডিম=৬.৮০

বরিশাল:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০০
ব্রয়লার মুরগী=১৩০/কেজি
কালবার্ড লাল=২২০/কেজি
সোনালী মুরগী=২৫০/কেজি বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =৪০-৪১
ব্রয়লার=২০

ময়মনসিংহ:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৮৫
ব্রয়লার মুরগী=১২৫/ কেজি
সোনালী মুরগী=২৩০/কেজি

সিলেট=
লাল(বাদামী)ডিম=৭.৩০
সাদা ডিম=৬.৮০
ব্রয়লার মুরগী=১৩২/ কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =২০
লেয়ার সাদা =
ব্রয়লার =৪০

[ খাদ্যের দাম কমানোর দাবি করছি]

রংপুর:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০০
কাজী(রংপুর):-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.১৬
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=
ব্রয়লার=
সোনালী হাইব্রিড=৩৬
সোনালী রেগুলার=৩১

বগুড়া :
লাল(বাদামী)ডিম=৭.৩০
ব্রয়লার মুরগী=১২৫/কেজি
সোনালী মুরগী =২২৫/কেজি
কাজী(বগুড়া):-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৩৩
বাচ্চার দর:-
সোনালী হাইব্রিড=৩৬
সোনালী রেগুলার=৩১

টাংগাইল :–
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০৫
সাদা ডিম=
ব্রয়লার মুরগী=১২৫/১২৮ কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি

কিশোরগঞ্জ:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৯০
ব্রয়লার মুরগী=/কেজি

নরসিংদী :-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.১০

সিরাজগঞ্জ :-
লাল(বাদামী) ডিম=
ব্রয়লার মুরগী=/কেজি
কালবার্ড লাল=/কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি

ফরিদপুর :-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০০
কাজী(ফরিদপুর) :-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.২০
ব্রয়লার মুরগী=১৩০/কেজি
লেয়ার মুরগী=২০৫/কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=২৩
ব্রয়লার=৪৩
সোনালী হাইব্রিড=৩৬
সোনালী রেগুলার=৩১

পাবনা :-
লাল(বাদামী)ডিম=৬.৭৫
সাদা ডিম=৬.৩৫

নোয়াখালী:-
লাল(বাদামী)ডিম=
ব্রয়লার মুরগী=/কেজ
কালবার্ড লাল=/কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =
লেয়ার সাদা =
ব্রয়লার =

পিরোজপুর (স্বরুপকাঠী:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৮০
সাদা ডিম=৬.৩০
ব্রয়লার মুরগী =/কেজি

যশোর :-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৬০

কুমিল্লা:-
লাল (বাদামী) ডিম=৭.০০
ব্রয়লার মুরগী=১৩৭/ কেজি
কালবার্ড লাল=১৯০/কেজি
সোনালী মুরগী=২৩০/কেজি

কক্সবাজার :-
লাল (বাদামী) ডিম=৬.৩০
সাদা ডিম=৬.০০
ব্রয়লার মুরগী =/কেজি
সোনালী মুরগী =/কেজি

একটি যৌথ উদ্যোগ: বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ (বি.পি.কে.আর.জে.পি) এবং পোল্ট্রি প্রফেশনাল’স বাংলাদেশ(পিপিবি)।

ধন্যবাদান্তে
মো:শিমুল হক রানা
যোগাযোগ:০১৮৫৫৯৪৪২৭০

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৯, ২০২২ ৩:০২ অপরাহ্ন
দিনাজপুরে লোকসানে ব্যবসা গোটাচ্ছেন পোলট্রি খামারিরা
পোলট্রি

দফায় দফায় খাবারের মূল্যবৃদ্ধি, ডিম ও পোলট্রি মুরগি কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় লোকসানে ব্যবসা গোটাচ্ছেন দিনাজপুরের অনেক পোলট্রি খামারি। পুঁজি হারানোর ভয়ে ইতোমধ্যেই লোকসানে একেবারেই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন কয়েকশো পোলট্রি খামারি। করোনার ধাক্কা সামাল দিতে অনেকেই লোন করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে আরো বিপাকে পড়েছেন। বছর দুয়েক আগেও যেসকল পোল্ট্রি খামার বড় ছিলো সেগুলো ছোট করে ফেলেছেন খামারিরা।

ডিম এবং পোলট্রি মুরগির কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় এরইমধ্যে লোকসানের বোঝা কাঁধে নিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে জেলার শতাধিক পোলট্রি খামার। ফলে, কর্মহীন হয়ে পড়ছেন খামার সংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার শ্রমিক।

দিনাজপুর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় লেয়ার মুরগির খামার ১৯৭টি, ব্রয়লার মুরগির ৮৯৩টি, সোনালি মুরগির খামার ৭৮৬টি। সব মিলিয়ে জেলায় পোলট্রি খামার রয়েছে ১ হাজার ৮৭৬টি। তবে খামারিদের হিসাবে, এ সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। এসব খামারে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে ১ লাখ পর্যন্ত মুরগি রয়েছে।

সম্প্রতি পোলট্রি খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি একদিনের বাচ্চা, ভ্যাক্সিন,ভিটামিন, শ্রমিক ও বিদ্যুৎ খরচসহ অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও সে হারে বৃদ্ধি পায়নি পোলট্রি পণ্যের দাম। খরচ বেড়ে যাওয়ায় একটি ডিমের উৎপাদন খরচ দাঁড়িয়েছে সাড়ে আট টাকা। খামারিদের কাছ থেকে আড়তদারেরা প্রতিটি ডিম কিনছেন সাড়ে ছয় টাকায়। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি ডিমে তাঁদের লোকসান হচ্ছে দুই টাকা। এ কারণে মুরগি বিক্রি করে দিচ্ছেন খামারের মালিকেরা।

দিনাজপুর সদর উপজেলার সবচেয়ে বড় লেয়ার খামারি আবদুল আজীজ। তিন মাস আগে তাঁর খামারে মুরগি ছিল ৪২ হাজার। বর্তমানে আছে ২৭ হাজার। তাঁর খামারে কাজ করেন ১৪ জন শ্রমিক। কাঁচামাল কিনে নিজেরাই খাবার (ফিড) তৈরি করেন। দৈনিক ২ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ কেজি ফিড ছাড়াও ভ্যাকসিন, শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুৎ বিলসহ খামারে খরচ ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। বিপরীতে প্রতিদিন ডিম পাচ্ছেন ২৪ হাজার থেকে ২৪ হাজার ৫০০টি। বুধবার প্রতিটি ডিম ৭ টাকা দরে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। হিসাব অনুযায়ী, লোকসান গুনেছেন ১৭ হাজার টাকা।

মুস্তাহিদ আলী বলেন, তিন মাস আগে ভুট্টা কিনেছি প্রতি কেজি ২৩ টাকায়। সেই ভুট্টা বর্তমানে ৩৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া ২ হাজার ২০০ টাকার সয়াবিনের বস্তা (৫০ কেজি) ৩ হাজার ২০০ টাকা, রাইস ব্র্যান ১ হাজার ২০০ টাকার জায়গায় ২ হাজার ৫০০ টাকা, লাইমস্টোন ৪০০ টাকার বস্তা এখন ৬০০ টাকা। ওষুধ ও ভ্যাকসিনের দামও বেড়েছে।

দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেন বলেন, সম্প্রতি জেলায় পোলট্রি খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছু কিছু খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমরা নিজে থেকে তাঁদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। সরকার পোলট্রি শিল্প নিয়ে ভাবছে। শিগগিরই এ বিষয়ে একটি নীতিমালা হবে।

 

সূত্রঃ প্রথম আলো

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৯, ২০২২ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন
সোনালী মুরগির ডিম উৎপাদনে যা করবেন
পোলট্রি

আমাদের দেশে মুরগির মাংস এবং ডিমের চাহিদা ব্যাপক। এই মুরগির মাংস এবং ডিমের চাহিদা পূরণে গড়ে উঠেছে নানান মুরগির খামার। আর এসব খামারের মধ্যে অন্যতম হলো সোনালি মুরগির খামার। যা অনেক আগ থেকেই আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলে পালন করা হচ্ছে। এরমধ্যে অনেকে কেবল ডিমের চাহিদা পূরণেও এই সোনালি মুরগির খামার করে থাকেন।

ডিম উৎপাদনের জন্য সোনালী মুরগি পালনে যা করা জরুরীঃ

১। সোনালি মুরগি পালনের ক্ষেত্রে শুরুতেই মনে রাখতে হবে এটি একটি ব্যবসা। আর ব্যবসাকে হেলার চোখে দেখার কিছু নেই। সোনালী মুরগি পালনে উদাসীনতা দেখালে মুরগি পালনে লোকসান দেখা দিতে পারে। সেজন্য সোনালি মুরগি পালনের প্রতিটি পদক্ষেপ গুরুত্বের সাথে নিতে হবে।

২। সোনালীর ক্ষেত্রে ব্রূডিং এর সময় “এস্পারজিলোসিস” হবার অনেক সম্ভবনা থাকে। সেজন্য মুরগির ব্রূডিং কালে লিটারে তুঁতের পানি ছিটিয়ে ব্রূডিং করাতে হবে। এতে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

৩। সোনালি মুরগি পালনের ক্ষেত্রে অনেক খামারিরা ভ্যাকসিন প্রদান নিয়ে অনেকটা উদাসীনতা দেখায়। সময়মতো মুরগিকে ভ্যাকসিন দিনে না পারলে অনেক সময় খামারিদের লোকসানে পড়তে হয়। আর সেজন্য ভ্যাকসিনসূচী অনুযায়ী ভ্যাকসিন প্রদান করতে হবে।

৪। সোনালি মুরগি পালনের ক্ষেত্রে লেয়ার মুরগির মতোই আলোকসূচি মেনে চলতে হবে। লেয়ার মুরগির মতোই সোনালি মুরগিতে আলোক নিয়ম মানলে সবচেয়ে ভাল হয়।

৫। সোনালি মুরগি পালনের ক্ষেত্রে মুরগির বয়স ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ হলে পুরুষ ও স্ত্রী সোনালী মুরগীগুলোকে পৃথক করতে হবে। সাধারনত মুরগী গুলোর ঝুটি ও পালক দেখেই পুরুষ ও স্ত্রী সোনালী মুরগী চেনা যায়। যেহেতু আপনার উদ্দেশ্য ডিম উৎপাদন তাই পুরুষ গুলো রাখার কোন প্রয়োজন নেই।

৬। সোনালী মুরগি সাধারনত দিনে ৮০ থেকে ১০০ গ্রাম খাবার গ্রহন করে। অতিরিক্ত বা কম খাবার দেয়া কোনটিই ঠিক না। এক্ষেত্রে মোট খাদ্যের ৬০% সকালে দিয়ে দিতে হবে। আর বাকি ৪০% খাবার ২০% -২০% করে দুপুরে ও বিকেলে দিতে হবে।

৭। খামারের মুরগিগুলোর বয়স ১৪ থেকে ১৬ সপ্তাহ হলে মুরগীগুলোকে খাঁচায় তুলতে হবে। মেঝেতে মুরগিগুলোকে না রেখে খাঁচায় রাখলে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২২ ৭:৩০ অপরাহ্ন
ডিম, মুরগি ও ১ দিন বয়সী বাচ্চার সর্বশেষ (শুক্রবার, ৮ এপ্রিল) পাইকারি দাম
পোলট্রি

পোল্ট্রি পণ্য (ডিম ও মুরগীর) আজকের পাইকারী মূল্য(টাকা) নিন্মরুপ:-
তারিখ:০৮/০৪/২০২২ ইং

★এখানে বর্ণিত পোল্ট্রি পণ্যের মূল্য মূলত : পোল্ট্রি খামারিদের প্রাপ্ত মূল্য।

ইউনাইটেড এগ(সেল পয়েন্ট)
লাল ডিম=৭.৫০
সাদা ডিম=৭.০০

ডাম্পিং মার্কেট-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৬৫
সাদা ডিম=৫.৯৫

গাজীপুর:-
লাল(বাদামী)ডিম=৬.৬৫
সাদা ডিম=৫.৯০
ব্রয়লার মুরগী=১২৮/ কেজি
কালবার্ড লাল=১৮৫/কেজি
কালবার্ড সাদা=/কেজি
সোনালী মুরগী=২৪০/ কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=২০-২২
লেয়ার সাদা=৩০-৩৫
ব্রয়লার=৪৬-৪৭

ডায়মন্ডঃ-
লাল(বাদামী) বড় ডিম=
লাল(বাদামী) মাঝারি ডিম=

চট্টগ্রাম:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৭০
সাদা ডিম=৬.৩০
ব্রয়লার মুরগী=১৪৫/কেজি
কালবার্ড লাল=২১০/কেজি
সোনালী মুরগী=২৬০/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=২০
লেয়ার সাদা=৩২-৩৪
ব্রয়লার=৪৪/৪৮

রাজশাহী:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৮০
সাদা ডিম=৫.৮০
ব্রয়লার মুরগী =/কেজি
সোনালী =/কেজি

খুলনা:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৩০
সাদা ডিম=৬.৮০

বরিশাল:-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.০০
ব্রয়লার মুরগী=১৩০/কেজি
কালবার্ড লাল=২২০/কেজি
সোনালী মুরগী=২৫০/কেজি বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =৪০-৪১
ব্রয়লার=২০

ময়মনসিংহ:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৭০
ব্রয়লার মুরগী=১২৫/১২৮ কেজি
সোনালী মুরগী=২৪০/কেজি

সিলেট=
লাল(বাদামী)ডিম=৭.১০
সাদা ডিম=৬.৭০
ব্রয়লার মুরগী=১৩৭/ কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =১৮-২০
লেয়ার সাদা =
ব্রয়লার =৪০

[ খাদ্যের দাম কমানোর দাবি করছি]

রংপুর:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৮০
কাজী(রংপুর):-
লাল(বাদামী) ডিম=
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=
ব্রয়লার=
সোনালী হাইব্রিড=৩৬
সোনালী রেগুলার=৩১

বগুড়া :
লাল(বাদামী)ডিম=৬.৯৫
ব্রয়লার মুরগী=১৩০/কেজি
সোনালী মুরগী =২৩০/কেজি
কাজী(বগুড়া):-
লাল(বাদামী) ডিম=
বাচ্চার দর:-
সোনালী হাইব্রিড=৩৬
সোনালী রেগুলার=৩১

টাংগাইল :–
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৮০
সাদা ডিম=
ব্রয়লার মুরগী=/ কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি

কিশোরগঞ্জ:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৮০
ব্রয়লার মুরগী=/কেজি

নরসিংদী :-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৯৫

সিরাজগঞ্জ :-
লাল(বাদামী) ডিম=
ব্রয়লার মুরগী=/কেজি
কালবার্ড লাল=/কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি

ফরিদপুর :-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৮০
কাজী(ফরিদপুর) :-
লাল(বাদামী) ডিম=
ব্রয়লার মুরগী=১৩৪/কেজি
লেয়ার মুরগী=১৯০/কেজি
সোনালী মুরগী=/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল=২৩
ব্রয়লার=৪৩
সোনালী হাইব্রিড=৩৬
সোনালী রেগুলার=৩১

পাবনা :-
লাল(বাদামী)ডিম=৬.৭০
সাদা ডিম=৬.৩০

নোয়াখালী:-
লাল(বাদামী)ডিম=৬.৮০
ব্রয়লার মুরগী=১৪৫/কেজ
কালবার্ড লাল=১৮০/কেজি
সোনালী মুরগী=২৭৫/কেজি
বাচ্চার দর:-
লেয়ার লাল =২০
লেয়ার সাদা =
ব্রয়লার =৪৮

পিরোজপুর (স্বরুপকাঠী:-
লাল(বাদামী) ডিম=৬.৮০
সাদা ডিম=৬.৩০
ব্রয়লার মুরগী =/কেজি

যশোর :-
লাল(বাদামী) ডিম=৭.৬০

কুমিল্লা:-
লাল (বাদামী) ডিম=৬.৮০
ব্রয়লার মুরগী=১৪০/ কেজি
কালবার্ড লাল=১৯০/কেজি
সোনালী মুরগী=২৩০/কেজি

কক্সবাজার :-
লাল (বাদামী) ডিম=৬.২০
সাদা ডিম=৫.৯০
ব্রয়লার মুরগী =/কেজি
সোনালী মুরগী =/কেজি

একটি যৌথ উদ্যোগ: বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ (বি.পি.কে.আর.জে.পি) এবং পোল্ট্রি প্রফেশনাল’স বাংলাদেশ(পিপিবি)।

ধন্যবাদান্তে
মো:শিমুল হক রানা
যোগাযোগ:০১৮৫৫৯৪৪২৭০

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop